আমাদের রুখে দাঁড়াতেই হবে-
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১০
বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের ভীড় সে অর্থে খুবই সাম্প্রতিক একটা ঘটনা, হয়তো আজ থেকে ২০ বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিলো না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্নশাসিত হয়ে উঠবার আগে এখানের মেয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পেছনে পেছনে গিয়ে ক্লাশ রুমে ঢুকতেন, সেখান থেকে বের হয়ে আবার মেয়েদের কমন রুমের প্রবেশ করতেন, তারও আগে কোনো এক সময় ক্যাম্পাসে মেয়েদের সাথে ছেলেদের কথা বলা জরিমানযোগ্য অপরাধ ছিলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দেশের পরিস্থিতি এবং সামাজিক নৈতিকতা বদলে দেওয়া অনেক আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এই ক্যাম্পাসে, তবে একটা স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জাহাঙ্গীরনগর এগিয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে সংগঠিত যৌননীপিড়ন বিরোধী অন্দোলন হয়েছিলো জাহাঙ্গীরনগরে।
কতটুকু মরিয়া হলে মানুষ বিচ্ছিন্ন লোকালয়ে মোমবাতি জ্বেলে সারা রাত শকুনের থাবার নীচে শংকিত চড়াইয়ের মতো রাত জাগে? তবে উদ্যত বন্দুকের নল আর নির্যাতিত হওয়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা পালিয়ে যান নি, সারা রাত পরস্পর যুথবদ্ধ থেকে ভয়াল একটা রাত অতিক্রম করে তারা নিজেদের দাবীতে অবিচল ছিলেন বলেই আজ জাহাঙ্গীরনগর যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে সরব। এই আন্দোলনের পুরোধা তারাই। তারাই প্রথম কোণঠাসা অবস্থায় এসে উপলব্ধি করেছে শিক্ষাঙ্গনে নারী শিক্ষার্থীরা কতটা অসহায়।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজকাঠামোতে তাদের নীপিড়ন মেনে নেওয়ার সবক দেওয়া হয় পারিবারিক ভাবেই, তাদের নিজেদের নির্যাতনের যন্ত্রনা লুকিয়ে সমাজে ঘুরতে হয়, উচ্চতর মানসিকতার উঁচু শিক্ষাঙ্গনে এসেও তারা উন্নত চেতনাধারী মানুষ, তাদের পথপ্রদর্শক শিক্ষকদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়।
আন্দোলনের চুড়ান্ত পরিণতি কখনই পায় না, আন্দোলন ঝিমিয়ে যায়, সাময়িক একটা জয়ের মোলায়েম স্বাদ মুখে লেগে থাকে। মূলত আন্দোলন লক্ষ্য হারায়, আন্দোলন ব্যপকতা থেকে সীমিত পরিসরে চলে আসে, আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠে। যেকোনো সামাজিক আন্দোলন ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেলে ব্যক্তির অপসারণে সেই আন্দোলন মরে যায় , কিংবা ব্যক্তির পুনর্স্থাপনে সেই আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
যখন আমাদের প্রয়োজন একটা যৌন নীপিড়নবিরোধী নীতিমালা, যেখানে শিক্ষাঙ্গনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য একটা কাঠামো থাকবে, যেই কাঠামো সীমিত ভাবে হলেও ক্ষমতাসীনদের প্রভাববলয়ের বাইরে থাকবে, যেখানে গিয়ে একজন নিপীড়িত নারী নিজের কথা বলতে পারবেন, কোনো বস্তুগত প্রমাণ ব্যতিরকেই মিছিল মিটিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ব্যতিরকেই একজন নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত হবে।
একটা নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান থাকবে নিপীড়ক শিক্ষকের জন্য, যেখানে শিক্ষকের দলীয় রং, তার রাজনৈতিক আনতি, তিনি সন্ধ্যা রাতে ক্যান্টনমেন্ট কিংবা মগবাজার কিংবা ধানমন্ডি গিয়ে নিজের বিবেক বেচে আসেন কি না এইসব অশালীন বিবেচনা থাকবে না।
তার নিজস্ব নিপীড়ক পরিচয়ের বাইরে অন্য কোনো পরিচয় সেখানে গ্রাহ্য হবে না, সাদা কিংবা গোলাপী কিংবা লাল কিংবা সবুজ, যে রংয়ের দলের উর্দি চড়িয়ে তিনি ক্যাম্পাসে ঘুরেন না কেনো, সিনেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে তিনি কোন দলের ভোটার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, এইসব বিবেচনা করে দলীয় ছাত্রসন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হতে হবে না অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের।
জাহাঙ্গীরনগরের যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনের পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, সেখানেও একটা দাবি ছিলো অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারন তবে অন্যতম দাবি ছিলো একটা যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা প্রনয়ন এবং এর বাস্তবায়ন।
এমন একটা নীতিমালার খসরা দেওয়া হয়েছে একযুগ হয়ে গেলো।
ধুলো জমছে স্মৃতিতে- যৌন নীপিড়ন বিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ জাহাঙ্গীরনগরের নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের ভেতরে স্বর জন্মেছে, সম্মিলিত জনসচেতনতায় ভাষা পেয়েছে মুক- তারা আজ বলতে পারে অবলীলায় তাদের উপরে নির্যাতনের যাতনা। তারা অপমান- অবমাননার প্রতিকার চাইতে পারে। তারা নিজস্ব যন্ত্রনার বিষ পান করেও ভবিষ্যত নারীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের মিছিলে যুক্ত হয়।
তবে যৌন নীপিড়ন বিরোধী নীতিমালার অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি এমন - নির্যাতিত ছাত্রী সব সময়ই নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারছেন না, তাদের নিজের উপরে নির্যাতনের গল্প সবাইকে মাইক লাগিয়ে শোনাতে হচ্ছে, সভ্য সমাজে এটা কোনো ভাবেই কাম্য হতে পারে না।
মানবাধিকার সনদ, নারী সনদ সবখানেই একটা বিধি বিদ্যমান, পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোতে নারীদের উপরে সহিংসতা এবং যৌন নিপীড়নের বাস্তবতা ভুলে না গিয়ে তারা একটা চমৎকার বিধিমালা যুক্ত করেছে, নির্যাতিত নিজের অভিজ্ঞতা এবং অভিযোগ নির্দিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে প্রকাশ করবে এবং এই গোপনীয়তা এবং অভিযোগ তদন্ত চালাকালীন সময়ে এবং পরবর্তীতেও যদি নির্যাতিতের আইনী প্রতিরক্ষা এবং শাররীক নিরাপত্তার প্রয়োজন হয় রাষ্ট্র এই কাঠামো প্রদান করতে আইনগত ভাবে বাধ্য। বাংলাদেশ এই সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে,
আমি এখনও বিশ্বাস করি যুথবদ্ধ প্রতিরোধব্যতীত নিপীড়িত মানুষের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই, কখনই ছিলো না আদতে। সামাজিক ক্ষমতায়নের নিয়মটাই এমন ক্ষমতার কানা গলি আর অন্ধ করিডোরে নিপীড়িত মানুষ বিচ্ছিন্ন নিজের যাতনা পান করে। সব সময়ই কোনো না কোনো উপায়ে তাদের নির্বাসিত দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন রাখবার প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকে ক্ষমতাসীন মানুষেরা।
সামাজিক ক্ষমতার কারণেই সম্ভবত অধস্তনকে নির্বিচার নিপীড়ণের অধিকার জন্মে যায় বাংলাদেশে। আমাদের সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতায় আমরা মধ্যযুগের ইউরোপের তুলনায় খুব বেশী এগিয়েছি এমনও না।
বস্তুত একজন সানোয়ার পর্যাপ্ত অকাট্য প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে গেলে এমন হতাশা তৈরি হয় না, বরং একটা শঙ্কা তৈরি হয়। এই দানবকে আমরা ছেড়ে দিচ্ছি, কোনো না কোনো কারণে, যদিও ধর্ষিত হওয়ার ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা ধর্ষিতার পক্ষে সম্ভব হয় না, যদিও যৌন হয়রানির চলচিত্র তৈরি করবে এমন মানসিকতা নিয়ে শিক্ষার্থী শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে না, এমন কি পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো একটা না একটা অজুহাত তৈরি করেই রাখে সব সময়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পন্থাটা নিয়মতান্ত্রিক হওয়া উচিত। নিপীড়ক ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করে নিয়ম, নিয়মের ফাঁক ফোকর দিয়েই নিপীড়ক মুক্তি পায়।
আমাদের করনীয়:
যৌন নীপিড়ন বিরোধী নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না, এক যুগের পুরোনো দাবি বাস্তবায়নের জন্য এখনও সময় ক্ষেপন শুধুমাত্র আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর নির্যাতনের সহায়ক হয়ে উঠবে।
নির্যাতিত শিক্ষার্থী বিচ্ছিন্ন কেউ নয়, যদি আজ আমরা আওয়াজ না তুলি তবে পরবর্তীতে এমনই কোনো শিশ্নবাজ শিক্ষকের হাতে নির্যাতিত হবে আমাদের পরিচিত জন,
আগুণ নিয়ন্ত্রনযোগ্য থাকতে থাকতেই সেটা নেভানোর ব্যবস্থা করা উচিত, নইলে সে আগুণে ঘর পুড়বে, হয়তো পরবর্তী নির্যাতিত শিক্ষার্থী হতে পারে আপনার মেয়ে, আপনার প্রিয় ছোটো বোন।
আমরা যতটুকু করতে পারি, যে যার নিজস্ব অবস্থানে থেকেই সামাজিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে পারি।
এটার শুধুমাত্র একজন ছাত্রীকে আহত করে না, এটার প্রভাব সামাজিক। শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষ আক্রান্ত হয় না যৌন নিপীড়নে বরং এর অভিঘাত ছড়িয়ে যায় সম্পূর্ণ সমাজে।
যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার খসরা তৈরি করা আছে, সেটা প্রচারের ব্যবস্থা নিতে পারি আমরা।
আমরা একই সাথে বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান, ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আবেদন করতে পারি, তারা যেনো নিজের অবস্থানে থেকে জোর দাবি জানান যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের।
আমরা বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের কর্মীদের কাছে যেতে পারি। আমরা সবাই মিলে উচ্চকিত হলে এই দাবি বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নির্মান সম্ভব হবে।
যদি আমরা আজ প্রতিরোধ না করি তবে ভবিষ্যতে আমাদের কন্যার নির্যাতিত অস্তিত্বের শব বয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের কাঁধে। আমাদের পালানোর পথ নেই, আমাদের রুখে দাঁড়াতেই হবে।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
আমাদের অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে।
লেখক বলেছেন: আসলে যা বলতে চাইলাম সেটা বলা হয়ে উঠলো না, লোড শেডিং আর ঝড়ের পরে যতটুকু মনে আসলো তাতে লেখাটা শুধুমাত্র যন্ত্রনাদায়ক অনুভুতি হয়ে থাকলো।
যারা যারা নীপিড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তাদের নিয়ে আমরা একদিন বসতে পারি , কি পন্থায় জনসচেতনতা তৈরি করলে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন সম্ভবপর হবে এটা নিয়ে সবারই কিছু না কিছু মত আছে। সবার কথা সবার জানা প্রয়োজন।
আমাদের পরিচিত মানুষদের ভেতরে সাংবাদিক আছে, আছে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, রয়েছে মানবাধিকার কর্মী, রয়েছে নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী।
সবাই যে যার জায়গা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে অবশ্যই নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনের দাবি পুরণ হবে।
মখআলমগীর বলেছেন:
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: আমাদের অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে।
দুরের পাখি বলেছেন:
একমত্
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
প্লাস দিছি কিন্তু। এইবার কিছু কথা বলি। বাঙালি বিদেশীদের থেকে আর কিছু না শিখুক দুইটা জিনিস খুব ভাল শিখে নিয়েছে, এক নীতিমালা দুই তদন্ত কমিটি। আরে ভাই বাংলাদেশে এমন কোন আইন আছে যাতে বলে যৌন নির্যাতন করা যাবে? বা বলা আছে য বিশেষ দলের লোক হলে যৌন নির্যাতন লিগাল?? নীতিমালা ধুয়ে কি পানি খাবে লোকে যদি তা বাস্তবায়নের পন্থা না থাকে। যদি কমিটি বলে যৌন নির্যাতন হয়ই নাই, তখন কিসের নীতি মালা কিসের কি। জানেন তো আইন নাকি স্ত্রী লিঙ্গ, তাতে সব সময় ফাক থাকে।
সিস্টেমের সেই দোষটা খুজে বের করতে হবে যার ফলে যৌন নির্যাতনকারি বের হয়ে যাচ্ছে। তা সেই দোষটা হচ্ছে শিক্ষকদের মূল্যবোধের অভাব। সেইটা আর যাই হোক কোন আইন দিয়ে শোধরানো যাবে না। অন্য কিছু ভাবতে হবে।
লেখক বলেছেন: ক্যাম্পাসে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যেখানে নির্যাতিত শিক্ষার্থী অভিযোগ জানাতে পারে।
বিদেশীদের অনুকরণে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি সত্য- তবে নীতিমালার সাথে শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ রাখবার পন্থা শিখতে পারি নি।
আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আমি জানি না, তবে প্রতিটা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পুলিশী ব্যবস্থা আছে, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিজস্ব অভিযোগ জানানোর জন্য প্রশাসনিক একটা কাঠামো আছে, সেখানে জনসচেতনতামুলক প্রচারণা চলে,
কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষকের ঘরে গেলে দরজা হাট করে খুলে রাখতে হবে এই বিধিও বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে, বলা আছে নিজস্ব ক্লাশের ছাত্রীর ঘনিষ্ট হওয়া যাবে না।
বাংলাদেশে এমন কোনো যৌননিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা নেই, এমন কি বলা নেই যদি সম্মানিত শিক্ষক যিনি ধর্ষকামী প্রমাণিত হন তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
অহেতুক নিজের স্বজাত্যবোধ এবং জাতীয়তাবাদী মানসিকতার প্রকাশ না ঘটিয়ে আমাদের বিদ্যমান বাস্তবতার দিকে নজর রাখলে ভালো হতো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত মেয়েদের অভিযোগ শুনবার কোনো কাঠামো নেই, জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা বলতে পারবে তাদের উপরে কোনো হয়রানির ঘটনা ঘটলে সেটা তারা ঠিক কোন ক্যাম্পাস পুলিশকে জানাতে পারে কিংবা ছাত্র-ছাত্রীদের দায়িত্বে নিয়োজিত এবং নির্যাতনপর্যবেক্ষক কোন ব্যক্তিকে তারা অবহিত করতে পারেন।
অবশ্য যদি যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার খসরা না পড়ে থাকেন তাহলে কিছু বলার নেই।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ঢাবি সম্পর্কে আপনি বলছেন, "তারও আগে কোনো এক সময় ক্যাম্পাসে মেয়েদের সাথে ছেলেদের কথা বলা জরিমানযোগ্য অপরাধ ছিলো"। রেফারেন্স প্লিজ ছেলেরা মেয়েরা মিশতা সেটা ঠিক আছে, কিন্তু জরিমানা!!!
লেখক বলেছেন: ১৯২১ কিংবা ১৯২৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় বিধিতে এমনটাই ছিলো, যদি ক্যাম্পাসে কোনো মেয়ের সাথে কোনো ছেলেকে কথা বলতে দেখা যায় তবে অভিযুক্ত ছেলেকে ২৫ পয়সা জরিমানা করা হবে।
বোধ হয় এখনও এই আইনটা বলবত আছে। আমি নিশ্চিত না। জামাল ভাস্কর কিংবা সেই সময়ের আন্দোলনকারীদের কাছে এই তথ্য থাকবে। ধারা সমেত।
কৌশিক বলেছেন:
ক্যাম্পাসে গার্লফ্রেন্ডের সাথে পাশাপাশি হাত ধরে বসে থাকার কারণে প্রক্টর আমাদের দুজনকে থানা পর্যন্ত নিয়েছিল। এই দশকেই।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
আমাদের সম্ভাব্য সকল প্রতিরোধের ঐক্য আর বাস্তবায়নের জন্যই এই পাটাতনকে ব্যবহার করে যোগাযোগ করা সম্ভব বলে মনে করি। আবার নিজেদের যোগাযোগের মানুষদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি এই নিপীড়ণের খবর। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা একটা শক্তিশালী প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারে।
কৌশিক ভাই যে কেন হ্যালমেট খুল্লোঃ-p
যাক লেখা ভালো লাগলো (যদিও ইয়া বিশাল)
+
ডগরোজ বলেছেন:
আমি আপনার সঙ্গে একমত।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
সেই প্রক্টর সম্ভবত লাথি খেয়ে তার পোস্ট হারিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম না কি যেন নাম ছিল, আনোয়ারুল্লাহ চৌ এর সময়ের!! আপনি কি তার কথাই বলছেন@ কৌশিক।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখন এই আন্দোলনের আয়োজকেরা দেখা করতে গিয়েছিলো আহমেদ ছফার সাথে, ছফার বক্তব্য কিছুটা বিকৃত হতে পারে স্মৃতিভ্রষ্টতায় তবে মূলত আয়োজকদের দাবি ছিলো একটি সাক্ষর এবং একটি লেখার, এর উত্তরে আহমেদ ছফার বক্তব্য ছিলোআমাকে একটা লাঠি দিয়ো, আর ইতরগুলোকে দেখিয়ে দিয়ো, এইসব ইতরদের বিরুদ্ধে লিখে লাভ নেই, লাঠি দিয়ে পিটাতে হবে।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
এখন পেটানোরই সময়।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
বুঝলাম, নীতিমালা প্রণিত হল। তারপর......... বাস্তবায়ন করবে কে? তারাই কি নয়, যাদের তদন্তে জাবির শিক্ষক সাহেব রেহাই পেলেন। যদি বাইরের লোকও আনা হয় তাতেই বা লাভ কি। যিনি আসবেন তিনি ঐ শিক্ষদেরই ঘনিষ্ট হবেন, নির্যাতিত ছাত্রির কখনই নয়। নীতিমালার পেছনে সময় ঢালার পরে, ঘুরে ফিরে সমাধানের একটা উপায়ই বের হবে। তা হল রাস্তায় গাড়ী ভাঙ্গা। নইলে কেউ কারো কথা শুনবে না।
এই ক্ষেত্রে সব থেকে ভাল সমাধান হচ্ছে ছাত্র সংগঠনকে শক্তিশালী ও কার্যক্ষম করা। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী যদি ছাত্র সংগঠনের সত্যিকারের অঙ্গ হয় তখনই ছাত্রীদের নিরাপত্তা আসবে।ফালতু নীতিমালার পেছনে সময় নষ্ট না করে ছাত্র ছাত্রীদের সাংগঠনিক দিক শক্ত ও অর্থবহ করার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
বিষয়টা হচ্ছে এই আন্দোলন কিভাবে চলবে তার পদ্ধতি কী হবে তার রাজনৈতিকরণটুকু কোন পর্যায়ে যাবে , এসব নির্ধারন ।আন্দোলন দুই পর্যায়ে চলতে পারে ।
১. শিক্ষার্থীদের আন্দোলন , যেটি ক্যাম্পাসে শুরু হবে বলে আমি বিশ্বাস করি ।
২. নাগরিক আন্দোলন ।
নাগরিক আন্দোলনের প্লাটফরম আর কেউ গড়ে দেবে . এই আশায় বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে ।
তাই আশা করি আমাদের মাঝ থেকেই উদ্যোগ উঠে আসুক । ব্লগে জাবির অনেক প্রাক্তন ছাত্র ও ছাত্রনেতারা আছেন । তারা শুরু করতে পারেন । জোগালি দেয়ার জন্য আমরাও পাশে থাকব ।
পারভেজ বলেছেন:
একমত
মখআলমগীর বলেছেন:
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ঢাবি সম্পর্কে আপনি বলছেন, "তারও আগে কোনো এক সময় ক্যাম্পাসে মেয়েদের সাথে ছেলেদের কথা বলা জরিমানযোগ্য অপরাধ ছিলো"। রেফারেন্স প্লিজ ছেলেরা মেয়েরা মিশতা সেটা ঠিক আছে, কিন্তু জরিমানা!!!
.....এই আইন এখনও আছে, সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে বিধিমালা পাইতে পারেন, আর বা হইলে সরাসরি প্রক্টরের আপিসে চইলা যান
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
অবশ্যই ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তা কিভাবে তা হয়ত আল্লাহ জানে। লেখক বলেছেন: আল্লাহর উপরে ইদানিং অনেক চাপ, এত কিছু তাকে জানতে হইতেছে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ধন্যবাদ@রাসেন ও মখআলমগীর
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
স্থায়ী যৌননিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা দরকার। কিন্তু সেই নীতিমালা কাজ করবে না যদি বর্তমান শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি থাকে। ছানোয়ার আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত। কিন্তু একজন শিক্ষকে তো রাজনীতি করার কথা ছিল না। সে রাজনীতি করে বলেই সে জানে তার পেছনে অনেক বড় খুটির জোর আছে। আর যার খুটির জোর আছে সে তো অপকর্ম করবেই। তাই প্রথমেই দরকার এই খুটিটাকে উপড়ে ফেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজনীতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
কৌশিক বলেছেন:
যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার খসরা তৈরি করা আছে, সেটা প্রচারের ব্যবস্থা নিতে পারি আমরাeta dorkar ekhon
লেখক বলেছেন: ভাস্কর দা'র কাছে থাকতে পারে। আমার নিজের কাছে নেই-
ফারুক ওয়াসিফের কাছেও থাকতে পারে, তবে সে এখানে নেই।
ফিরাখ রাইয়ান সুহান বলেছেন:
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, একটা অবোধ প্রাণীও খামচি দেয়ার চেষ্টা করে। সুশীল সমাজের নীতিমালার মুখে আমি পেশাব করি। কিছু ইতর জানোয়ার আছে, তারা শুধু একটা ভাষাই বোঝে। যেমনটা বুজেছেন বরকতুল্লাহ ভুলু।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
আমাদের রুখে দাঁড়াতেই হবে
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
সবচে' বেশী জরুরী বোধহয়, মেয়েদেরকে এই সাহসটা দেয়া যে, তারা যদি রুখে দাঁড়াতে পারে, নিজেদের নির্যাতনের কাহিনী লুকোচাপা না দিয়ে যদি প্রতিবাদী হতে পারে, তো প্রয়োজনীয় শক্তি নিয়ে তাদেরকে সাহায্য করা যাবে ।
কাওকে জানিয়ে কিছুই হবেনা, বা ঠিক কাকে জানালে এই লজ্জার খানিকটা হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়, এই ব্যাপারটিইতো মেয়েদের কাছে পরিস্কার না ।
আর নীতিমালার বাস্তবায়নটা কিভাবে হতে পারে, সেটিতে জোড়ালো দৃষ্টি দেয়া উচিত।
সবচে' ভালো হতো যদি আহমদ ছফার সেই লাঠির বাস্তব প্রয়োগ দেখানো যেতো ।
শিক্ষক নামের কুত্তাটা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট-এ পার পায়া গেল, এই খবর জানার পর থেকে, তদন্ত কমিটির এইসব শুকরের পাল আর সারমেয় শিক্ষকের মুখে হিসু করে দেবার তীব্র বাসনা জাগছে ।
ছাত্ররা এতো কিছু করে, এই শিক্ষকদের ধইরা পিটাইনা ক্যান, কেউ একটু বলতে পারেন ?
বিগব্যাং বলেছেন:
"যদি আমরা আজ প্রতিরোধ না করি তবে ভবিষ্যতে আমাদের কন্যার নির্যাতিত অস্তিত্বের শব বয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের কাঁধে। আমাদের পালানোর পথ নেই, আমাদের রুখে দাঁড়াতেই হবে।"সমর্থন...
ত্রিভুজ বলেছেন:
+
একবাল হুসেন বলেছেন:
আপনারা কি করে নিশ্চিত হচ্ছেন যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ভুল?
মনজুরুল হক বলেছেন:
অনেক পরে এসে খেই থাকছেনা।নীতিমালা(খসড়া/চূড়ান্ত),তদন্ত কমিটি শব্দদুটির ওপর আমার বিন্দু পরিমানে আস্থা নেই,কেননা মাথামোটা খবিশ,পেটমোটা আমলা আর হাটুতে ঘিলুঅলা জনাবদের নিয়েই এষ্টাবলিশমেন্ট।সেই তাদের হাতে নীতিমালা,তদন্তরিপোর্টের কী দশা হয় তা অজস্রবার দেখেছি।
যদি কোন এ্যাকশন প্ল্যান থাকে তো বলুন । সঙ্গে আছি।
রুবেল শাহ বলেছেন:
এ দায়িত্ব কে নেব........ আমি তুমি আমরা কেউ........... ?আমার তো মনে হয় আমাদের মাঝ থকে কেউ এগিয়ে আসবেনা.........
রাগ ইমন বলেছেন:
নীতিমালাকে এত ফালতু ভাবার কোন কারন নাই। নীতিমালা , আরও ভালো করে বললে, আইন তৈরী করাটা , আইন প্রয়োগের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। নইলে বার বার শুনতে হবে, "সংবিধানে তো এই ধরনের কিছু লেখা নাই, থাকলে ব্যবস্থা নিতাম"। দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব এড়ানোর ফোকর গলিটা না দেওয়ার জন্যই নীতিমালা/আইন এর একটি স্থায়ী , আদালতে ব্যবহারযোগ্য রূপ প্রয়োজন। বর্ণমালা না থাকলে বক্তব্য লিখবেন কি দিয়ে ? তবে প্রয়োগের জন্য পিটানো বা রক্তক্ষয় ছাড়া আর কোন পথ নাই , সাধারনত থাকে না । কেউ কি জানেন তথাকথিত ফ্রিডমের দেশ আমেরিকায় কবে থেকে নারীরা ভোটের অধিকার পেয়েছেন? সেই ভোটের অধিকার যোগাড় করতে তাদের কত বছর ধরে কি পরিমাণ লড়াই করতে হয়েছে ? একটা ছবি আছে মনে হয় , নামটা মনে পড়ছে না। দুঃখ প্রকাশ করছি, রেফারেন্স খোঁজার সময় নাই।
আইন তৈরী আর তার প্রয়োগে "বাধ্য" করার লড়াইটা সকলের অংশগ্রহনে পাশাপাশি করা দরকার। এই লড়াই স্বাধীনতার লড়াই এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রয়োজনে শত্রুকে হত্যা এখানে শুধু গ্রহনযোগ্য নয়, অনিবার্য ।
আপনার নিজের কন্যাটিকে খুন করতে না চাইলে , অন্যের কন্যাকে হত্যার প্রতিবাদে সামিল হোন । যৌন নির্যাতন মানে হত্যাই, ধীরে ধীরে বছরের পর বছর ধরে মরে যেতে হয় যাকে, সেই নির্যাতিত নারীটি আপনার মা হতে পারে, হতে পারে আপনার ভবিষ্যত কন্যা ।
তারিন১৯৭৫ বলেছেন:
বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু শিক্ষক কেন ছাত্রদের দারা যৌণ নিপীড়ন হচ্ছে না? আমরা পত্রিকায় অনেক দেখেছি। বিতর্ক করতে আমি লিখছি না, আসলে যতদিন পর্যন্ত আমরা একে অপরকে সন্মান করতে শিখবনা ততদিন এই সব চলতে থাকবে। আর একটা কথা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনীতি বাদ করে দিতে হবে। রাজনীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়। যাতে করে কেউ কোন অপরাধ করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে।


















