somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিল্পাঙ্গন কোলাজ

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীটা বিয়াপক আমোদের জায়গা, মাঝে মাঝে দুনিয়া দেখে এমনটাই মনে হয়।

কত পদের মানুষ আর কতপদের অনুভব, কত অনুভাবনা, কত সংঘর্ষ, কত সমঝোতা, কিন্তু রাতের বালিশে ঠিকই একই মৃত্যুভয় চেপে ঘুমানো। খাওয়া বসা ঘুম, রতিক্রিয়া- প্রাত্যকৃত্য করে আচামন একই পানিতে।

অবশ্য পানি কিংবা জল যে পাত্রেই যাক না কেনো পানীয় জলের চরিত্র বদলায় না। তবে দীর্ঘ সময়ে খোলা পাত্রে রাখাও ঠিক না, হয় পচে যায় কিংবা ডেঙ্গু মশার চাষাবাদ হয়। সুতরাং রেখে ঢেকে চেপেচুপে রাখাটাই দস্তুর।

আমাদের অন্তর্জালিক যোগাযোগের জায়গাটাতে কিছু ভালো জিনিষ আছেই। অনেক ন্যাংটো মেয়ের ছবি মিনিমাংনা পাওয়া যায় ,তারা একই ঠিকানায় পাশাপাশি বসবাস করে, কিন্তু কারো সাথে কারো ছোঁয়াও লাগে না, কি বলে ওটাকে ডেজিগনেশন আলাদা। কিন্তু সেই একই জগতে ঘোরাঘুরি করা মানুষের মনোমালিন্য স্বাভাবিক।

ক্ষমতা বলয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা কিংবা নতুন ঘাঁটি দখল করে নিজের ভাবনার বীর্য রেখে আসা, কোনো দিন উর্বর ভাবনায় হয়তো নতুন দর্শণ ফলবে। রাজনৈতিক প্রভাব এবং দখলের রাজনৈতিক রুপটা বাস্তবের ভুমি থেকে উঠে সরাসরি ঢুকে পড়েছে অন্তর্জালে। সেখানেও একই দখল সংস্কৃতি কাজ করে, সম্মিলিত চাপে পেরেশান করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টা নেহায়েত নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা জগতের কাছে।

অন্তর্জালে আরও অনেক ভালো বিষয়ের ভেতরে রয়েছে শিক্ষা উপকরণের সহজপ্রাপ্যতা, যদিও বাংলাদেশে থেকে অনেক উপকরণই পাওয়া সহজ নয়, তবে বাংলাদেশে থেকে দুটো জায়গা ফ্রি যাওয়া যায়, ফেইথফ্রিডম আর উইকিপিডিয়া। এই দুই জ্ঞানভান্ডারে সিক্ত মনীষিদের যন্ত্রনায় অস্থির হতে হয় সময় সময়।

তারা অন্তঃসারবিহীন প্রবন্ধ ফেঁদে বসে, মাঝে মাঝেই সম্পাদনার চাপে ভুল কিছু চলে আসে, তবে মনীষিদের জ্ঞানে রস নেই, প্রাণ নেই, প্রণোদনা নেই।
নিস্প্রাণ একটা খোলস ধরে রাখা, আঁটোসাঁটো পোশাকের যন্ত্রনা চেপে স্মিতহাসি ।

মানুষের রকমফের অনেক রকম হতে পারে ,তবে কিছু কিছু উদাহরণ এমনও হয়, ধরা যাক কোথাও ছাগলের কথা চলছে, সে নিজেই গলায় রশি বেঁধে কাঠাল গাছের তলায় ঘাঁটি গাড়বে আর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবে। আবার যদি বলা হয় অন্য কোনো ছাগলের প্রসঙ্গে আলোচনা করছি তবে মনোকষ্টে ভুগবে।

চৈতন্যোদয় হওয়া সম্ভব নয়, সব সময়ই চৈতন্য দেব হুঁশে থাকে না, কৃষ্ণপ্রেমে মদির হয়ে তিনি সর্বদা ডোমের চত্তরে পা রাখেন, এবং এর পরেই আবার সম্বিত ফিরে পেলে তিনি সার্ফে পা কেচে রোদ্দুরে শুকাতে দেন, সুশীল চৈতন্য আরও ভয়ঙ্কর, অবশ্য সুশীলতা আমার কাছে সার্কাসের ট্রপিজের মতো ভারসাম্য রক্ষার দুরহ কৌশল মনে হয়। ভারকেন্দ্র, অভিমুখ, অভিলক্ষ এবং নিবির নিবিষ্ট মনোযোগ লাগে।

রামকৃষ্ণের মতো জলে ভাসা হাঁস হয়ে থাকা সুশীলের নিয়তি। অনেক নৌকায় পা রেখে সবগুলো নৌকাকে টালমাটাল না করে নির্বিঘ্নে জলপারাপার কৌশল সহজে সম্ভব না, তবে চেষ্টা করলেই নির্বিকারত্ব অর্জন সম্ভব। কিন্তু সুশীল আধুনিক হয়ে উঠা আরও কঠিন কাজ। আধুনিক হয়ে উঠবার প্রথম শর্ত সুশীলতা ভঙ্গ করা, যে অর্থে সুশীলতা সমাজমান্যতা চায় সে অর্থে আধুনিক সমাজকৃষ্টিমান্যতাকে অস্বীকার করে।

তাই বাংলাদেশে সুশীলতার অশালীন বাঁদরামি চোখে পড়ে, গোত্র এবং উপগোত্র, দল উপদল, দলীয় এবং উপদলীয় কোন্দল চোখে পড়ে, এবং সবাই সবার পিঠ চুলকে দিতে চায়।

ফুলস্লীভের শার্ট পড়া মান্য সুশীলের শার্টের হাতা সময়ে সময়ে উপরে উঠে গেলে চোখে পড়ে আঁচড়ের দাগ। সামাজিক সুশীলের চরিত্র উপলব্ধি করাই কঠিন, কে কখন কার পিঠ চুলকায় আর কে কখন কাকে খামচি দেয় বলা কঠিন। তাই যখন সুশীল নিজের উত্তরীয় খুলে অন্তর্বাসের অন্তর্গত হয়ে নিজের সহজ জীবন যাপনে প্রবেশ করে, যখন তার উপরের আবরন খসে যায় তখনই তার শরীর জুড়ে দেখা যায় খোঁস পাচড়া আর আঁচরের দাগ, সেও ম্যানিকিউর করা নখের পরিচ্ছদ খুলে ফেলে শ্বাপদের নখর লাগায়, তারপর প্রাণপণে আঁচরাতে থাকে।

৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×