somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অগভীর ভাবনা ১৭ যৌনাচরণ বিষয়ক নীতিমালা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আধুনিক সমাজ ভোগবাদী সমাজ, সমাজ সম্পর্কে এমন বিশেষণ শুনলে থমকে যাই মাঝে মাঝে, আমাদের সভ্যতার ইতিহাস নানাবিধ দর্শণের মোড়কে ভোগবাদীতার ইতিহাস। ইহলৌকিক, পরলৌকিক, ঔশ্বরিক এবং যৌনবাদী কাঠামোর ভেতরে ভোগের লিপ্সা কার্যকর ছিলো সব সময়ের জন্যই। সব সময়ের জন্য হয়তো সত্য নয় তবে আমাদের বর্তমানের সভ্য বিশ্বের সব খানেই পুরুষতান্ত্রিক ভোগবাদীতার দৃষ্টান্তই চোখে পড়ে, নারীর ক্ষমতায়ন সে অর্থে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নেই।

শতকওয়ারী রাষ্ট্র, রাজ্য, সম্রাজ্য খতিয়ান খুলেও দেখা যায় সভ্যতার প্রচলিত ইতিহাসে নারী ভোগবাদীতা তেমন ভাবে দৃষ্টান্ত হিসেবে নেই, পৌরাণিক গাঁথায় কিছু ভোগবাদী নারীর অস্তিত্ব থাকলেও মূলত প্রতিটা সমাজ কাঠামোতেই ভোগবাদী পুরুষের উপস্থিতির তুলনায় তাদের উপস্থিতি নগন্য। নারী মূলত ভোগের উপকরণম সম্ভোগ যোগ্য জীবন্ত শরীর। সেই অর্থেই নারী পরিচিত হয় সমাজে। ভোগবাদীতাও তেমন আধুনিক ব্যধি নয় বরং সহস্রাব্দ প্রাচীন ক্ষত।

হিরোডেটাসের প্রথম প্রামণিক ইতিহাসের গল্পেও আমরা এমন নারীর উপস্থিতি দেখি মন্দির চত্ত্বরে। সেখানে তাদের বিবাহযোগ্যতার অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয় পুরুষের যৌনআকাঙ্খা নিবৃত করবার উপকরণ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার ক্ষমতা। অপরিচিত পুরুষের শষ্যাসঙ্গীনি হওয়ার জন্য আগ্রহ নিয়ে বসে থাকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাতঅব্ধি সেইসব নারীরা। তারা দেহের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে, সেখানে গিয়ে সামাজিক পুরুষেরা অর্থ দিয়ে তাকে ভোগ করবার অধিকার অর্জন করে। সুশ্রী, সুগঠিত তন্বীরা সহজেই পুরুষ পায় তবে হিরোডেটাস জানান কদাকার কুশ্রী নারীরা একটা সঙ্গমইচ্ছুক পুরুষের জন্য বছরের পর বছর মন্দির চত্ত্বরে অপেক্ষা করে।

হিরোডেটাস নয় বরং আমরা পুরুষের যৌন কামনার চিত্রায়ন দেখি এখানে, ভোগ্য নারীর যোগ্যতা তার তনু এবং তার মুখশ্রী। একই ইতিহাসের পুনারাবৃত্তি হয় বিংশ শতাব্দীর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। সেখানেও নারীরা শিক্ষকের বিবেচনায় যৌনাকাংক্ষার উদ্রেককারী হয়ে উঠে শাররীক গড়নে। সম্মানিত নাট্যকার সেলিম আল দীন তার সৃষ্টিশীলতায় সমাজে সম্মানিত হলেও তার নারী লিপ্সার অন্ধকার ইতিহাস ঢাকা পড়ে তার আলোকিত সামাজিক অস্তিত্বে। তাই নারীলিপ্সু হলেও সেলিম আল দীনকে নিয়ে সামাজিক মত্ততা মৃত্যুর পরেও চলতে থাকে, মৃত্যুর পরেও তার বাজারমূল্য কমে না, বরং সাম্প্রতিক মৃত্যু বইমেলা চত্ত্বরে তার প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত বইয়ের বিজ্ঞাপনে সহায়ক হয়ে উঠে।

নারীর জন্য যুদ্ধ যাত্রার ইতিহাসেও পুরুষতান্ত্রিকতা দেখি। নারী নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার ঘটনাকে নেহায়েত বালখিল্যতা ভাবা সভ্য নাবিকদের সাথে গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের শহরগুলোর দীর্ঘস্থায়ী নারী লুটের লড়াই চলে। এরই একটা ধারাবাহিকতায় ট্রয়ের যুদ্ধ বাধে। ট্রয়ের যুদ্ধকে এভাবেই চিহ্নিত করেন হেরোডেটাস। ঠিক এমন ভাবেই সকল সমাজেই নারীকে ভোগের অধিকার অর্জনের জন্য পুরুষতান্ত্রিক লড়াই চলে। সেটা ব্যক্তিগত পর্যায়ের কুৎসা রটনা এবং মহল্লা থেকে শহর অব্ধি ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও জন্ম দেয়।

বিষয়টা নারীদের জন্য সম্মানজনক না হলেও এটাই আমাদের নির্মিত ইতিহাসের ভাষ্য। ভোগ্যপন্য নারীর দুরাবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় নাকি আদিম সমাজে নারী আরও বেশী অসহায়ত্বের শিকার কিংবা সামন্ততান্ত্রিক সময়ে নারী ভোগ্যপন্য হিসেবে সবচেয়ে দুরহ সময় কাটিয়েছে এটা দার্শণিক অবস্থানের প্রশ্ন।

মধ্যযুগে সম্মানিত নাইটের যৌনসঙ্গী হওয়া এবং স্ত্রী হওয়ার জন্য উন্মুখ নারীর কমতি ছিলো না। আদিম সমাজেও বীর এবং দক্ষ শিকারীর গৃহসঙ্গী এবং যৌনসঙ্গী হওয়ার বাসনাসিক্ত রমনীর কমতি ছিলো না। তারা পারস্পরিক সংঘাতে লিপ্ত হয়ে পুরুষের অধিকার অর্জনের বাসনায়।

কিংবা আধুনিক সমাজে যেখানে প্রতিষ্ঠিত ,আলোচিত এবং সমালোচিত, সৃষ্টিশীল মানুষের যৌন সঙ্গ কামনা করে নারীর ভোগউন্মুখ হয়ে উঠবার উদাহরণও রয়েছে।

এটা সামাজিক প্রেষণা নাকি নারীর আকাঙ্খা? মানবীয় সভ্যতা এবং মানসিকতা বিশ্লেষণ করা কিংবা মানুষকে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব না- বরং আমার নিজস্ব বিশ্বাস হলো সামাজিক কাঠামো সমাজ মানস নির্মাণ করে। নারীর নারী হয়ে উঠা কিংবা পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠা সে অর্থে সামাজিক স্থিতিশীলতার কামনা। সমাজের ক্ষমতা কাঠামো তার স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতার জন্য অগ্রসর ভাবনাকে সমর্থন করলেও সেটাওসীমিত অর্থে যৌনাঙ্গভিত্তিক ভাবনাকাঠামোর উপরেই নির্মিত হয়। আলাদা করে কোনো মানবিক সমাজ নির্মিত হয় না।

সাম্যবাদী সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া কিংবা দীর্ঘসময় সমাজতান্ত্রিক গুরুতের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকা বলকান রাষ্ট্রগুলোতেও নারী নারী অর্থেই উপস্থিত থাকে, মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।


সে অর্থে রেঁনেসাপূর্ব ইউরোপ মহাদেশে নারীর অবস্থান এবং সামাজিক নারীর ছবিটা রেঁনেসার পর পর আমূল বদলে যায় এমনও না। বরং সমাজ খুবই ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিত ভাবেই পরিবর্তিত হয়। মানুষের মননশীলতা বৃদ্ধি পায়, মানুষ আরও বেশী মানবিক হয়ে উঠবার প্রচেষ্টা করে। এই প্রয়াসটা অব্যহত থাকে, সামাজিক বিবর্তন আমাদের চোখে সহসা ধরা পড়ে না, বরং একটা দশক কিংবা একটা শতক পার হওয়ার পরে আমরা দেখি সামাজিক মূল্যবোধগুলো আকাশ পাতাল বদলে গেছে।

এমনটা সচারাচর ঘটে না আদতে, সামাজিক নারী সামাজিক নারীই থাকে, তার মানব হয়ে উঠবার পথ উন্মুক্ত হয় না, তবে তার স্বাধীনতার পরিধি বাড়ে।

ভোগবাদী সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগে যখন নারী শুধুমাত্র ভোগের উপকরণ তখন তার নিরাপত্তা বিধান করবার জন্য তার অধিপতি পুরুষ শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দিতো, হয়তো রাজকন্য তেমন অর্থে ভোগের শিকার হতো না কিন্তু কৃষককন্যার নিয়তি বাধা ছিলো গণধর্ষণ কিংবা জোরপূর্বক সংগমের বাস্তবতায়। পিতার দায় থকে স্বামীর দায় হওয়ার সময়েই সামাজিক নারী বলিষ্ট পুরুষের সঙ্গীনি হওয়ার বাঞ্ছা ধারণ করতো।

নারী নিজস্ব কারণে বহুভোগ্যা হয়ে উঠতে পারে এবং অনেক মানুষের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে আনন্দ পেতে পারে এমন সম্ভবনা থাকলেও সামাজিক নারীর বিষয়ে উত্তরাধিকারী নিশ্চিত করবার সামাজিক প্রক্রিয়াটিতে নারীকে মনোগ্যামিস্ট করে রাখবার একটা সামাজিক চাপ ছিলো, এবং এই চাপটা এখনও বিদ্যমান।

আমরা বাংলাদেশে কতটুকু এগিয়েছি? ইউরোপ আলোকিত হওয়ার একটা পর্যায়ে নারীর দায়িত্বে নিয়োজিত পুরুষের দাবিতেই ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নকে নিরুৎসাহিত এবং সামাজিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আদিম যু্দ্ধবাজ সমাজে যখন যুদ্ধলব্ধ নারী এবং সম্পদে যোদ্ধাদের যথেচ্ছাচারের অধিকার নিশ্চিত ছিলো, সেটা মধ্যযুগে এসে কিছুটা পরিশীলিত রুপ পেলো। আমরা জানলাম অন্যের অধিকারভুক্ত নারীদের তাদের অনিচ্ছায় শয্যাসঙ্গীনি করা গুরুতর অপরাধ।

তবে ধর্ষণের সংজ্ঞাও সময়ের সাথে বদলেছে। নারী নিজস্ব প্রয়োজনে এবং সামাজিক প্রয়োজনে ধর্ষণের সংজ্ঞাকে আরও ব্যপক করেছে। এবং স্পষ্ট অনুপ্রবেশ এবং প্ররোচনা দুটোই যৌনহয়রানিমূলক আচরণ স্বীকৃত হয়েছে।

সামাজিক পরিশীলিত মননের প্রয়োজন আছে। তবে তারও আগে প্রয়োজন স্বীকৃতি, ঠিক কোনটা নারির অধিকার এবং কোথায় এর সীমানা শেষ হয়েছে এটা নারীর নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই জানা প্রয়োজন।

যদিও পুরুষও যৌন নির্যাতিত হয়, কখনও পুরুষের দ্বারা এবং খুব সীমিত সময়ে নারীর দ্বারা পুরুষের যৌন নির্যাতন সংগঠিত হয়, তবে মূলত ধর্ষণ এবং যৌনহয়রানী মূলত নারীদের উপরে সহিংসতার একটা মাধ্যম। আমরাও ধর্ষণকে এমন ভাবেই ভাবতে অভ্যস্ত আপাতত।

মধ্যযুগের ইউরোপের সাথে বাংলাদেশের তুলনাটা টানতেই হচ্ছে, এখনও বাংলাদেশে কঠোর নারী সহিংসতা বিরোধী আইন থাকলেও সামাজিক মননে এখনও সেই পরিশীলতার চর্চা শুরু হয় নি, কিংবা সামাজিক নারীর কাঠামোতে নারীর ভোগযোগ্যতা নিয়ে কোনো সংশয় উত্থাপিত হয় নি এখনও।

যৌক্তিক অবস্থান বিবেচনা করলে আমি নারীর উপরে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কিন্তু নারীর প্রতি যৌন কামনার উন্মেষ এবং নারী শরীর দেখে আমার নিজস্ব যৌনকল্পনার জায়গাটা সব সময়ই উপস্থিত । সম্ভোগকল্পনা নিজের সাথে দ্বিচারিতা এমনটাও বিশ্বাস করি না। কাউকে দেখে যৌনভাবে আকৃষ্ট হওয়াটা দোষনীয় নয়, তবে কামনা চরিতার্থ করবার পন্থা নিয়েই মূলত সমস্যা।

যৌন কামনা জীবের সহজাত প্রবৃত্তি ধরে নিলে নারী এবং পুরুষের যৌন কামনা নিবৃতির প্রক্রিয়া এবং পন্থা নানাভাবে বিশ্লেষিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এখানে পুরুষ তার ক্ষমতা এবং প্রভাব দিয়ে নারীকে যৌন কামনা নিবৃতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে আবার নারীও নিজের যৌন কামনা এবং সামাজিক ক্ষমতা বৃদ্ধির উপকরণ হিসেবে যৌনতার প্রলোভন এবং যৌনকামনা নিবৃতিকে ব্যবহার করতে পারে, উভয় রকমের ব্যবহারকে নিরত করবার জন্যও একটা যৌনা নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বর্তমান সময়ে এই যৌন নিপীড়নের বিরোধিতায় সামাজিক সচেতনতা গড়ে উঠেছে । এখন আদতে একটা যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা উত্থাপন এবং এর বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

আদিম যুগেও নারী পুরুষের যৌনলিপ্সাকে নানাভাবে ব্যবহার করেছে সেই প্রবনতা এখনও অব্যহত। ঠিক তেমন ভাবেই পুরুষও নিজের যৌনলিপ্সা পুরণে নারীকে ব্যবহার করেছে যৌনকামনা নিবৃতির জন্য, তাদের বহুগামীতা এবং বহুভোগ্য হয়ে উঠবার সামাজিক প্ররোচনাও এসেছে ঠিক সে কারণেই। এবং প্রায় অধিকাংশ সময়েই সামাজিক ক্ষমতাধারী পুরুষেরাই বহুগামীতা এবং বহুভোগ্য হয়ে উঠবার প্রবণতা ধারণ করেছে।

প্রতিটা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সেবা প্রদানের অঙ্গীকার আছে। সেখানে কর্মরত মানুষদের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে, যৌন বিনোদন এবং যৌন কামনা নিবৃত করা ঠিক সেই প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে না। অবশ্য এমনও সমাজস্বীকৃত প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের দায়িত্ব যৌন সেবা প্রদান, সেইসব প্রতিষ্ঠানকে আমি বিবেচনার বাইরে রাখছি কারণ শিক্ষাঙ্গন কোনো অর্থেই এমন কোনো সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়। শিক্ষাঙ্গন কিংবা কর্মক্ষেত্র যেখানেই নারীর উপস্থিতি রয়েছে সেখানে নারীর যৌন হয়রানি নিষিদ্ধ করবার জন্য একটা প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রয়োজন।

সেই নীতিমালাই নির্ধারণ করে দেবে সেই সেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষেরা পারস্পরিক এবং সেবা নিতে আসা মানুষদের সাথে ঠিক কি ধরণের আচরণ করতে বাধ্য, সেই প্রতিষ্ঠানের সেবার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটা মানুষের স্বাধীনতার সীমানা চিহ্নিত থাকবে।

শিক্ষাঙ্গনে পুরুষ শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীকে যৌন প্ররোচনা দেওয়া নারীদের আচরণও তেমন ভাবেই নীতিমালা বহির্ভুত আচরণ হবে, অর্থ্যাৎ শুধু নারীর জন্য প্রযোজ্য কোনো নীতিমালা নয় বরং আরও ব্যপক একটা নীতিমালা প্রয়োজন।

অধিকার স্বীকৃত হলে, স্বাধীনতার পরিসীমা চিহ্নিত থাকলে মানুষ সীমা লঙ্ঘন করলে সেটা নিশ্চিত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত এমন একটা নীতিমালা রয়েছে, সেখানে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি মূলক কোনো আচরণকে দমন করা হয়, এমন কি অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির যোগ্যতা হারায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রদের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রহন করতে আগ্রহী নয়।

যৌন সদাচারণ প্রত্যাশিত সামাজিক মানুষের কাছে, যেহেতু সামাজিক ভাবেই এটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে সুতরাং একটা নীতিমালা শুধুমাত্র কোন কোন আচরণ নারীর প্রতি পুরুষের আধিপত্যবাদকে চিহ্নিত করবে , কোন আচরণকে যৌন হয়রানি বিবেচিত হবে এবং কোনটা নিছক ঠাট্টা বিবেচিত হবে, এই মাত্রাগুলো নির্ধারিত হয়ে থাকা প্রয়োজন। একটা কাঠামো প্রয়োজন যেখানে প্রত্যক্ষ এবং নিশ্চিত প্রমাণের জন্য নির্যাতিত হওয়ার দলিল সমর্পনের প্রয়োজন নেই।

গতকাল একজনের মন্তব্য পড়লাম, সেটা যথেষ্ট অবমাননাকর। একটি প্রতিষ্ঠানের সবাইকেই যৌনাগ্রাসী চিহ্নিত করা হয়েছে। এবং এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীদের নিয়ে সামাজিক মননে এমন ভাবনা বিদ্যমান, এমন ভাবনা বিদ্যমান ইডেন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে, এমন মনোভাবনা বিদ্যমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিষয়ে। সুতরাং প্রতিষ্ঠান হিসেবেও তাদের নিজস্ব প্রয়োজনেই একটা নীতিমালা প্রণয়ন করা অবশ্য কর্তব্য হয়ে গিয়েছে।

যৌন হয়রানি মূলক না হলেও একটা সাম্প্রতিক ঘটনা:

প্রতিটা সামাজিক প্রতিষ্ঠানেই সেটা বিশ্বের যে গোলার্ধেই অবস্থিত হোক না কেনো এইসব নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। নানাবিধ উদাহরনও আছে এসব ঘটনার। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সাক্ষ্য রয়েছে, ভারতের একটি স্কুলের কমিটি সেই স্কুলের দুজন শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করেছে সম্প্রতি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ক্লাশের ছাত্রছাত্রীদের হোম ওয়ার্ক করতে দিয়ে শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত কক্ষে বসে কামলীলার চর্চা করতো। যৌন কামনা নিবৃতিতে তাদের উভয়েরই সম্মতি ছিলো, তবে সেটা স্কুলের পরিচালনার কাজে নিয়োজিত মানুষদের পছন্দনীয় নয়, স্কুল কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সেবা প্রদানের অঙ্গীকার রয়েছে। সেই নির্ধারিত সেবা প্রদানের জন্যই তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তাদের নিজস্ব যৌনতার চর্চা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার ভেতরে করা বাঞ্চনীয় নয় মোটেও।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৪০
১৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×