somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেক দিন পরে জয়নাল

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুঃস্বপ্নের ঘোর থেকে মুক্তি পাওয়ার মতো সস্তির কিছু নেই, ঘুম থকে উঠে গলার কাছটা শুকনো লাগে, তেষ্টায় ছাতি ফেটে যাবে এমন অনুভুতি নিয়েই গ্লাস গ্লাস পানি খাওয়া।
নেহায়েত সাধারণ স্বপ্নের ঘটনাগুলো খুব আচকমাই সহিংস হয়ে যায়, পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শরীর কুঁকরে যায়, হয়তো অনেক ভেতরে আমিও অনুভব করি আমাদের কোনো কিছুই উন্মুক্ত করা উচিত হচ্ছে না, কোথাও কেউ না কেউ আমাদের পর্যবেক্ষণ করছে, তবে আড়ালের মানুষটিকে আমরা চিনি না কেউই।

স্বপ্নটা আদতে কেমন ছিলো, কোথা থেকে শুরু মনে করতে পারি না, অনেক স্মৃতি ঘেটে মনে হলো আদতে আমি যেখানে শুয়ে ছিলাম সেটা একটা বাসা- অবশ্য বাসা ছাড়া অন্য কোথাও গিয়ে শুয়ে থাকাও সম্ভব না, তেমন রোমাঞ্চপ্রিয় হয়ে উঠতে পারলাম কোথায়?

শহরের চারপাশে উঁচু উঁচু বাসা উঠে যাচ্ছে, নেহায়েত বারান্দায় দাঁড়ালেই অন্য বাড়ীর হেঁশেলের খবর রাখা সম্ভব এখন। সুতরাং উঠতে বসতে প্রতিবেশীর উৎসুক চোখ নজরে আসবে এমনটাই স্বাভাবিক। তাই সামনের বাসায় প্রতিবেশীর দৃষ্টি দেখে আশ্চর্য লাগে না মোটেও।

তখন সময়টা কত ঠিক মনে নেই, অনেক রাতে ঘুমাতে গিয়েছি এইটুকু মনে পড়ছে, মনে পড়ছে সবাই কোনো একটা কাজে জেগে আছে, তবে ঘুম ভেঙে মনে পড়ে হাতের কাছে কোনো ঘড়ি নেই, কয়টা বাজে আমি ঠিক জানি না, বরং একটা অসস্তি নিয়েই জেগে উঠেছি, কেউ একজন দেখছে, অনেকক্ষণ ধরেই দেখছে। মানুষের দৃষ্টির একটা স্পর্শ থাকে, সেই স্পর্শ অনাকাংক্ষিত হলে শরীরে কাঁটার মতো বিধে।

অসস্তির উৎস খুঁজতে চারপাশে তাকাই, এমন কি জানালা দিয়ে সামনে তাকাই, তেমন ব্যতিক্রম কিছুই চোখে পড়ে না, তবে অসস্তি যায় না, তখনই মনে হলো সাদামতো কিছু একটা দেখলাম। ঠিক মতো দৃষ্টি স্থির করে তাকাতেই দেখি সেই মুখোশ অপসৃয়মান, ছুটে চলে যাচ্ছে।

কেনো একটা ঝুল বারান্দা থেকে সেই মুখোশ আমাকে দেখে আমি জানি না, পরিবারের সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে সবিশেষ চিন্তিত হয়েই মাথার ভেতরে অনেক কিছুই ঘুরতে থাকে। প্রশ্নের উত্তর কিছুতেই মিলছে না, কেনো?

প্রতিবেশীর চেহারা মনে করবার চেষ্টা করি, তার সাথে কোথাও কখন কোনো মনোমালিন্য হয়েছে আমার? আমি কোনো বড় ধরণের অপরাধ করে লুকিয়ে আছি? কেনো এভাবে ঝুল বারান্দায় লুকিয়ে তাকিয়ে থাকা?
তখনই অন্য রকম আওয়াজ হয় চারপাশে, জানো না এখন কয়টা বাজে?

ঐ যে ঐ ঘরের সামনে দেখো, হঠাৎ মনে হলো আমি ঠিক ঘরের বিছানায় শুয়ে নেই, শুয়ে আছি খোলা বারান্দায়, এমন কি আমার মাথার উপরের ছাদ কোনো এক যাদুমন্ত্রে বিলীন হয়ে যায়, আমি উদোম আকাশের নীচে পড়ে থাকি, অবশ্য আমার অবস্থার পরিবর্তন হয় না, আমি উঁচু একটা ভবনের উন্মুক্ত আকাশের নীচে পড়ে আছি। আশেপাশে কেউ নেই, আরও আশংকার কথা হলো সেই ভবনের সিঁড়িঘরের কাছে সাংঘাতিক কিছু একটা ঘটেছে।

সবাই চিৎকার করছে, উৎসুক নজরে সেই সিঁড়িঘরের সামনের অবস্থা বুঝবার চেষ্টা করছে, কানে আসলো, কি বলো এখন বাজে ১টা ঘড়িতে দেখো, ঠিক বলেছি না না বাজে এখন ৩টার বেশী।

কেনো ৩টা, কেনো এই রাতে আমাকে উৎসুক চোখে দেখছে প্রতিবেশী, কেনো নজরে নজরে রাখছে আমি বুঝতে পারি না। হঠাৎ প্রতিবেশীর উঁচু ভবনটা হারিয়ে যায় নজর থেকে, একটা সবুজ পাঞ্জাবী পড়া মানুষ ছাদের পাশ থেকে মাথা তুলে তাকায়। আমি শক্ত হয়ে যাওয়া শরীরেই তার দিকে তাকাই,

বলবেন মেঝেটা যেনো ডিসটেম্পার করে দিয়ে যায়, রবং উঠে গরমের দিন তো। মেঝে ফেটে যাচ্ছে। নীচে অনেক কোলাহল, অনেকগুলো কণ্ঠই সেই সবুজ পাঞ্জাবীকে সমর্থন করে। ঠিক ঠিক মেঝে ডিসটেম্পার করে দিতে হবে।

এখন যতটা আশ্চর্য লাগছে ভাবতে তখন তেমনটা লাগে নি। মনে হচ্ছিলো ঠিকই তো মেঝেটাও ডিসটেম্পার না করলে সত্যি সত্যি গরমে কিছু ক্ষতি হয়ে যাবে।

অবশ্য এই সবের কোনোটারই হিসাব মেলে না, হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙে গেলো। মোবাইলের আওয়াজটা অপরিচিত লাগলেও আপাতত এই মোবাইল ধরেই দুঃস্বপ্নের পুল সেরাত পার হয়ে জেগে উঠলাম, ধীরে ধীরে জেগে উঠলাম, পরিচিত মানুষ কণ্ঠ ঠাওর করতে পেরে ভালো লাগলো, অন্তত এখনও এই অন্ধকারে আমি একা নেই, খুব দুরে হলেও কেউ একজন আমার সাথেই জেগে আছে, আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×