somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়নাল -পলায়নের সিদ্ধান্ত ০১

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পোষ মানে না পাখী আমার পোষ মানে না
খাঁচার পাখী খাঁচায় থেকেও বশ মানে না

সে যে উড়াল দিয়ে পালাতে চায়
সে যে উড়াল দিয়ে পালাতে চায়
খাঁচার আকাশ ভাল্লাগে না ও তার খাঁচার আকাশ ভাল্লাগে না।

সদর ঘাটের প্লাটুনে বসে জয়নাল দেখছিলো বৃদ্ধকে, দোতারা বাজিয়ে গান গাইছে, সাথে একটা ছোটো ছেলে হাতে ডুগডুগি, তাল দিচ্ছে আর গলা মেলাচ্ছে বৃদ্ধের সাথে।

মনটা বিক্ষিপ্ত অনেক কারণেই। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, শহর ছেড়ে চলে যেতেখবে কয়েক দিনের জন্য। অবশ্য দেশের পরিস্থিতি বদলে গেছে। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সময় এখন। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা ছাড়বে শীঘ্রই। যাওয়ার আগে হঠাৎ করেই আন্তঃকলহ বেড়ে গেছে, পরবর্তি কয়েকটা মাস কোনো রাজনৈতিক তদবিরের জোর থাকবে না জেনেই হয়তো নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের শেষ সুযোগটা ছাড়ছে না কেউ।

বগার কাছে গিয়ে কোনো লাভ হয় নি আদতে, তবে বল্টুর সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো না। অন্তত কয়েকটা বিষয় পরিস্কার হলো। আপাতত গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে ওকে। এর বাইরে অন্য কোন পথ খোলা নাই। কিন্তু যাওয়ার জায়গা সীমিত। ভারতে গিয়ে লুকিয়ে থাকা যায় এই কয়েক মাস, পরিস্থিতি বদল হলে নিরাপদে ফিরে আসা যাবে, কিন্তু এত দিন নাজনীনের সাথে দেখা না করে থাকা সম্ভব না।

কিশোরগঞ্জে গিয়ে মোখলেস ভাইয়ের সাথে কাটানো যায় এই সময়টা। তবে তাকে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই জয়নালের। কেনো শহর আর পড়াশোনা ছেড়ে এই ৪ মাস সে কাটাবে ওখানে? একটা জুতসই উত্তর খুঁজে বের করতে হবে তাকে।

পুরানো ঢাকার গলি, জ্যাম, মানুষের কোলাহল ফেলে বুড়িগঙ্গার নোংরা আবর্জনাই আপাতত একমাত্র এলাকা যেখানে তাকে হঠাৎ কোনো ঝামেলার চিন্তা করতে হবে না। হোন্ডাটা নবাববাড়ীর সামনে রেখে সিগারেটের দোকানীকে বলে এসেছে দেখে রাখতে।

ঘাটের এইপারে সমস্যা কম কিন্তু নদীর ঐ পাড়ে বিস্তর ঝামেলা চলছে, লালবাগ আর হাজারি বাগের মানুষদের ভেতরে চামড়ার ঝুট নিয়ে সমস্যা। কামরাঙ্গীর চরে সেই দোলা লাগে, সেখানেও লাশ পড়ে। আধিপত্য আর বশ্যতার মন্ত্র সব খানেই একই ভাবে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকারক যেকোনো উপাদানই আগাছার মতো নির্মূল করে ফেলা হয়।

অন্ত্যজ এবং সমাজবহির্ভূত হলেও সম্মিলিত ভাবে তারাও একটা প্রতিষ্ঠানের অংশ, সমাজের বিরোধী প্রতিষ্ঠান এমন না, সমাজের প্রয়োজনেই এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। সমাজই এমন প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সহায়তা করে এবং এইসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখে।

তবে পরিবেশটা নির্মম, অবশ্য সমাজ প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রীক ভাবে নির্মম। মোখলেস ভাইয়ের সাথে আলোচনার অধিকাংশই সময়ই নির্বাক শ্রোতার ভুমিকাই ছিলো বেশী। তার কথাগুলো ফেলে দেওয়ার মতো নয়, গত ২ বছরে এটা অনেকবারই উপলব্ধি করেছে জয়নাল। অন্তত আমাদের প্রচলিত সমাজে এইসব উপেক্ষা আর ছদ্মসম্মানের বিভ্রান্তি চলমান।

তিলপা পাড়ায় এক ছেলেকে দেখিয়ে মোখলেস ভাই বললো এই ছেলেটাকে চিনে রাখো, ওর নাম সুলেমান। বলতে পারো এই এলাকায় ওর কথার উপরে কেউ কথা বলবার সাহস রাখে না। সবাই ওকে সমীহ করে চলে। এলাকার যত দোকানদার, সে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ব্যবসা করুক আর রাস্তায় মাদুর পেতে ব্যবসা করুক সুলেমান যাওয়ার সময়ে সবাই সালাম দেয়।

মুকুট ছাড়া রাজার মতো সুলেমানের প্রতি এই সমীহ কিন্তু তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ হয়, বরং তার ধ্বংস করবার ক্ষমতা তার সহিংসতার প্রতি সম্মান।
মানুষ ঝামেলা এড়াতে চায়, মানুষ নিরাপত্তা চায় নিয়মিত। অন্তত সুলেমান পুলিশের চেয়ে বড়, সে এখানে মানুষদের নিরাপত্তা দিচ্ছে, তার নির্মমতা দিয়েই সে এই নিরাপত্তা প্রদান করে, ঐ যে হোটেলটা দেখতেছো, ক্যাফে রুস্তম, ঐখানে এক মেয়ের ব্যাগ নিয়ে দৌড়ি দিছিলো এক ছোকরা। সুলেমান সেখানেই ছেলেটাকে খুন করলো। দোকান কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ ছিলো, তবে অজ্ঞাতনামা খুনীকে কেউ শনাক্ত করে নি।

সুলেমান নির্মম, তবে মানুষ তাকে দেখলে ভরসা পায়, একই সাথে তার দুর্বীনিত চেহারাকে ঘৃণা করে। এই সামাজিক ঘৃনাই তার একমাত্র প্রাপ্তি। সমাজ তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারে না, তাই তাকে উপেক্ষা করে, কিন্তু অবজ্ঞা করে না।, অবজ্ঞার পরিণতি মৃত্যু।

পরিস্থিতি বদলাবে, একদিন অন্য কোনো সুলেমান তৈরি হবে এখানে, সেই এই সুলেমানের কতৃত্বকে ছিনতাই করবে, সুলেমানও একদিন রাস্তায় লাশ হয়ে পড়ে থাকবে। এবং সেই দিন তাকে যে খুন করলো সেই মানুষটাকেও কেউ শনাক্ত করবে না, মেরুদন্ডহীন মানুষেরা নতুন ভীতির কারণ খুঁজে নিবে কিন্তু সম্মিলিত ভাবে এর প্রতিরোধ করবে না। যুথবদ্ধতার শক্তিকে উপলব্ধি করবার ক্ষমতা নেই এইসব শহুরে মানুষদের। তারা নিজস্ব জীবনের খাঁচার বন্দী।


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৫২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×