আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

প্রাতঃস্মরণীয় মানুষদের নিয়ে ভাবনা-

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩০

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে উঠা মানুষের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে উঠে। অবশ্য প্রাতঃকালে স্মরণ করবার মতো অনেক ব্যক্তিই রয়েছে। স্বরণীয় বরণীয় হয়ে উঠবার তালিকায় অনেকের নামই উঠে আসে।

প্রাতঃকৃত্যাদের সময়ে যাদের স্মরণ করতে হয় তাদের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। ঘোরতর উদারময়ের সময়ে স্মরণীয়দের তালিকায় থাকে যাবতীয় পাওনাদার, যাদের মুখ স্মরণে আসলেই কলজের পানি শুকিয়ে যায়, আবার কোষ্ঠকাঠিন্য কালে মনে পড়ে সকল দেনাদারের কথা। অন্যসব সময়ই অবশ্য আমার বাংলাদেশের সুশীল শ্রেণীর কথা মনে পড়ে। একমাত্র প্রাতঃকৃত্যের অবসরেই যাদের কথা ভাবি আমি।

স্মরণীয় বরণীয় হয়ে উঠবার রীতিতেও ভীষণ রকম বিবর্তন এসেছে গত এক দশকে। ইদানিং স্মরণীয় হয়ে উঠবার প্রথম শর্ত যৌণ আনতি। আপনি কি স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারবেন? অদুর ভবিষ্যতে কি আপনার প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে উঠবার কোনো সম্ভবনা বিদ্যমান। প্রশ্নের উত্তর বোধ হয় এখন এমনটাই হবে, যখন কেউ আপনার যৌণ আনতি নিয়ে সংশয়ী হয়ে ব্যপক নিরীক্ষা শেষে ঘোষণা করবে আসলে সমলিঙ্গের প্রতিই আপনার ন্যস্ততা অধিক , তাহলেও আপনি স্মরণীয় হয়ে উঠবার প্রথম বাধাটা ডিঙালেন। সক্রেটিস, আলেকজান্ডার, শেক্সপিয়ার, অস্কার ওয়াইল্ড, তালিকা দীর্ঘ হয় প্রতিদিনই। সকলেই নাকি সমলিঙ্গের প্রতি ব্যতিক্রমী আকর্ষণ বোধ করতো। পায়ুকামী হয়ে উঠাই প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে উঠবার প্রথম ধাপ।

ইদানিং ভীষণ রকম বিব্রত থাকি, পরিস্থিতি যেমন হয়েছে, এখন রাস্তায় মেয়ে তাকিয়ে থাকলে তেমন বড় কিছু মনে হয় না, বরং যখন কোনো ছেলেকে দেখি আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে, একটু ভয় পাই। শঙ্কিত হয়ে উঠি।

বিখ্যাত মানুষের যৌন আনতি নিয়ে অনেক রকম প্রশ্ন তোলা যায়, অনেক রকম গবেষণা শেষে যখন শেক্সপিয়ারকেও সমকামী চিহ্নিত করা হলো তখন মনে হলো যাবতীয় শিল্পগুণ পায়ুগামী। সেখানে ছেদন না করলে কোনো ভাবেই শিল্পরসোত্তীর্ণ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এমন মত্ত প্রচারণা শেষে ইদানিং ধারা হচ্ছে যাবতীয় সুশীল, কোমল, সৃষ্টিশীল মানবিক মানুষই আদতে কোনো না কোনো পর্যায়ে সমকামী। সমকামীতাই শিল্পসৃষ্টির প্রধান উপকরণ, কোনো রকম সমঝোতা করতে না চাওয়া স্যার এলটন জন, ফিসফাসে ধরা খাওয়া জর্জ মাইকেল, জীবন্ত কিংবদন্তি নাভ্রাতিলোভা, আমার বাসার সামনের হুজুর, সবাই আসলে সৃষ্টিশীল।

বাংলাদেশের শিল্পী সমাজে এখনও তেমনভাবে এই প্রথা শুরু হয় নি, দুষ্টু লোকে নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে বাজে কথা বললেও তাদের প্রকৃত আনতি এখনও অনির্ণীত। ক দিন আগেই গেলাম শিল্পকলা একাডেমী, অবশ্য আমার নিয়মিত পদচারণার জায়গা না এটা। আমি এইসব কলা খেজুর ডাব সমাবেশ এড়িয়ে চলি। সেখানে প্রায় মেয়ে হয়ে উঠা ওড়না কাঁখী যুবক ততোধিক কোমল স্বরে তার গত রাতে স্খলিত কবিতার পংক্তি শোনাচ্ছিলো, অত্যাধিক কোমল সেই কবিতার প্রেমরস সিক্ত ছিলো শিল্পকলা চত্তর। অনেক ধৈর্য্য ধরে তার এই কাকুতি মিনতি শুনে মেজাজ খিঁচরে যাওয়ার আগেই তার সাগ্রহদৃষ্টি আমার দিকে। আমি লজ্জিত এবং শঙ্কিত হয়েই ফেরত আসলাম তাড়াতাড়ি। তার প্রশ্ন বাতাসেই মিলিয়ে গেলো, উত্তর দেওয়ার সুযোগ হলো না।

তবে উপমহাদেশে ইদানিংকার মূল চর্চা অবশ্য পায়ুকামনা নয় বরং উপমহাদেশীয় রীতি পাছায় আঙ্গুল দেওয়া। পাছায় আঙ্গুল দেওয়ার আনন্দে বুঁদ হয়ে থাকা যাবতীয় শিল্প গবেষকদের দেখলে বিরক্ত লাগে এখন।

অবশ্য এখন নয়, অনেক দিন ধরেই মূল আলোচ্য বিষয় অন্তত ওড়নাকাঁখী সুশীলদের ভেতরে কবিগুরু আদতেই কাদম্বরীর প্রেমে মত্ত ছিলেন কি না,
দেওর ভাবীর কেচ্ছাকাহিনী, ঐ শালা রবীন্দ্রনাথ, ভাবীর সাথে লটরপটর। এই বোধ নিয়েও অনেক আলোচনা চলে, তবে কোনো আলোচনাই শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথকে খারিজ করে দেয় না। কিন্তু গবেষণা চলতেই থাকে, ঢাক ঢাক গুরগুর চলতেই থাকে, একদল মানসিক অনুপ্রেরণার মন্ত্র সাজান অন্য দল এটাকে বরখাস্ত করে অন্য কোনো শরিরী প্রেমের উপাখ্যান সামনে নিয়ে আসেন। কবিগুরু ধন্য অন্তত তার স্মরণীয় হয়ে উঠবার জন্য তাকে সমকামীতার লেবাস পড়তে হয় নি, কিংবা তথাকথিত চলতি চলের সমকামীতা তদন্তগ্রুপ গুরু রবীন্দ্রনাথকে নিস্কৃতি দিয়েছে।

যদি কাদম্বরীর সাথে রবীন্দ্রনাথের শাররীক প্রেম হয়ে থাকে, হলোই বা সমস্যা কি? এই নিয়ে দিস্তা দিস্তা পাতা খরচের প্রয়োজন কোথায়? শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের এই প্রেম কিংবা কাম নির্ধারণ ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথকে কোনো নতুন অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে? যাবতীয় জীবনিকার এবং নিজস্ব উপলব্ধি নির্মাণ করে এটাকে কোনো একটা পরিণতি দিয়ে লাভ কি? মৃত রবীন্দ্রনাথের পায়ুতে আঙ্গুল বাজিয়ে কার লাভ? কার ক্ষতি?

আমরা অবশ্য সামাজিক নিষিদ্ধ উচ্চারণের তালিকায় রেখেছি শব্দগুলোকে। বিবাহবহির্ভুত প্রেম, শরিরী সম্পর্ক, কামাসক্ততা এবং কামলিপ্সা।
আমরা অনেক রকম রেখে ঢেকে উচ্চারণ করি অত্যন্ত আমোদের সাথে, আরে বাবা বুঝলেন না ঐ যে ঐ মেয়েটার ওর সাথেই তো---- মানে বুঝে নেন, এর বেশী কিছু বলবো না আমি।

নজরুলের বহুগামীতা নিয়ে বিতর্ক নেই, তার প্রতিভার মতোই বহুগামি তার প্রেম, কামজ সম্পর্ক স্থাপনে সেই অবরুদ্ধ শতকেও তার তুলনা ছিলো না। বরং রোমান্টিক হয়ে উঠবার প্রথম এবং প্রধানতম শর্ত অন্তত গত শতকেও ছিলো নারীর প্রতি সীমাহীন কামবোধ, নারী গমন এবং নারীআসক্তি। সেটাই এই শতকে এসে লিঙ্গ বদলে ফেললো অবলীলায়। এখন রোমান্টিক হয়ে উঠা আমার বিচারে তেমন রুচিকর নয়।

বিতর্ক নেই রুদ্রের বহুগামীতা নিয়ে। কিংবা আবুলা হাসান, তারা বহুগামী, পতিতাবিলাসী কবি। হুমায়ুন আযাদের কবিতা ঘাটলেও দেখা যায় অন্তত ৫ জন রমনীর সাথে তার শরীরি ঘনিষ্ঠতা বর্তমান ছিলো কিংবা সাময়িক হলেও তার সাথে ভিন্ন ভিন্ন ৫ জন রমনীর শাররীক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিলো।

লালসা এবং লিপ্সা মোটামুটি একই রকম অর্থ বহন করে, প্রতিভাবানদের সাফল্যের লিপ্সা এবং নারীর প্রতি লালসা বোধ হয় পাশাপাশি চলে। পারস্পরিক সম্মতিতে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে আমার তেমন আপত্তি নেই, তবে আমি নিজস্ব ভাবনায় এমন বহুগামীতাকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। অন্তত সঙ্গমের মতো ভয়াবহ ঘনিষ্ঠতার পূর্বে যতটুকু বিশ্বস্ততা আমি আশা করি ঠিক ততটুকু ঘনিষ্ঠতা এবং বিশ্বাস স্থাপনের জায়গা তৈরি করতে হলে আমাকে অনেক বেশী ছাড় দিয়ে ভাবতে হয়। আমি ভাবনায় এখনও একগামী।

আমি ভিন্ন ভাবে বিষয়টা দেখতে চাই। যেই পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সমর্পন আমি আশা করি সেই বিশ্বাস এবং সমর্পন কি নারীলিপ্সু কবিদের আছে? ইদানিং কবি হওয়াও বহুগামীতার নিশ্চিত সনদ বিবেচিত হয়, কবি হয়ে উঠবার একটা ফ্যাশনও চালু হয়েছে বাজারে। তারা প্রকৃতিগত ভাবেই কামুক হলেও এটাকে সুশীল সমাজে উপস্থাপনের জন্য এরা এলেবেলে কবিতা লিখে বাজার মাতাতে চায়। শেলী কিংবা বায়রণ হয়ে উঠা এইসব মানুষদের জন্য অতিরিক্ত শব্দ বরাদ্দ করা উচিত হবে না।

মহিলা কবিদের ঠিক কবি মনে হয় না আমার। দেবযানী কিংবা মল্লিকা যে অর্থে কবি সে অর্থে তেমন শক্তিশালী মহিলা কবি আমি দেখি না, তাই মূলত কবি পুরুষাকার নিয়েই আছে ভাবনায়। সুতরাং সেইসব কবিদের সহধর্মীনি থাকে, যারা কবিদের ধর্ম ধারণ করে, কিন্তু কবিদের লিপ্সা কিংবা লালসা কি তাদের স্পর্শ্ব করে? তারাও কি বহুগামী হয়ে উঠতে চায়? তারাও কি একই রকম মুক্ত জীবন বাঞ্ছা করে?


তারা নিজস্ব জীবনে কিভাবে মূল্যায়ন করে এই বহুগামীতাকে? কবিপত্নীদের লেখক হয়ে উঠবার সম্ভবনা কম, তারা মূলত উপগ্রহ কিংবা গলগ্রহের মতোই কবির চারপাশ পরিভ্রমন করে, তাদের কবিস্মৃতিচারণের অধিকাংশ অংশ জুড়েই তার কোমলতা এবং তার সৃষ্টিশীল মননের বর্ননা থাকে, যৌনউপেক্ষা কিংবা যৌনাকর্ষণ হারিয়ে ফেলা নিছক সঙ্গীনি হয়ে উঠা মুহূর্তগুলো কখনই প্রকাশ্য হয়ে উঠে নি। যেমন অনায়াসে তসলিমা রুদ্রের বহুগামিতাকে মেনে নিয়ে প্রশ্রয় দিয়ে যায় তেমন অকপট গ্রহের ফের মেনে নিয়েই কি কবিপত্নীরা জীবন যাপন করে? সম্পর্কে বিশ্বস্ততা থাকবে না, এবং কবি উদার মনেই অনেককেই একই সাথে হৃদয়ে সমান আসন দিয়ে সম্ভোগ করবেন, এবং বিখ্যাত হয়ে উঠা মানুষের যৌনবিকারে আক্রান্ত হবে তার সকল প্রেমিকা, এমনটাই কি স্বাভাবিক পরিণতি?

এটাই কি স্বাভাবিক, ভোগী হয়ে উঠাই কবি হওয়ার প্রধান শর্ত?

[ কবিপত্নীদের কবিকে নিয়ে লেখা স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের বিবরণ দিলে বাধিত হইবো। ]

 

 

  • ৪ টি মন্তব্য
  • ১৮৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০৮
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
টক ঝাল মিষ্টি !
আবার মজারও বটে ।

বিশেষত ওড়না কাঁখী যুবতী..থুড়ি...যুবকের দৃষ্টির বিষয়টি বেশ মজার ।
২. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৬
comment by: ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: যথারীতি ভাবনার মশলা দিলো লেখাটি। ধন্যবাদ।
৩. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৫
comment by: তরু_ বলেছেন: আমি আপনার ব্লগ পড়ে মুগ্ধ ... আমি ছাড়া আরো অনেকে পড়ে মুগ্ধ হবেন... কি বলবেন আমাদের ?
এতটা আধুনিক এখনও হতে পারি নাই তাই স্মরণীয় হবার সম্ভাবনাও নেই।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:২২

লেখক বলেছেন: আপনাদের কি বলবো এইটা জানি না। তবে আমার আনতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে আমি বিপাকে পড়বো। অন্তত আণতিগত বিবেচনায় বিখ্যাত এবং প্রাতঃস্বরণীয় হয়ে উঠবার সম্ভবনা কম।

লেখা ভালো লাগা সাময়িক একটা বিষয়, আজ ভালো লাগছে, পরদিন ভালো লাগবে না, দীর্ঘ সময় মাদারীর খেল দেখতে চালো লাগে না।

 



 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১১২৮৫৯