ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ- তুই রাজাকার -
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১৩
অন্তর্জালে আসবার পর থেকেই ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ দেখছি প্রতিদিনই। পরিস্থিতি অনেকাংশে সহনশীল এখন, পূর্বের মতো অতিরিক্ত শিবিরের উঠতি পোলাপাইন এখন এখানে তেমন স্বাধীনতাবিরোধী প্রচারণা চালায় না। সম্মিলিত সচেতনতা এবং ঐক্যবদ্ধতায় কিছু কিছু ব্লগারের ধারাবাহিক তৎপরতায় এটা ঘটেছে। তাদের সবাইকেই সম্মান করছি অন্তত নিরবিচ্ছিন্ন প্রতিরোধে একটা ওয়েব সাইটে এই যুদ্ধে জয়লাভের জন্য।
মূলত এই জয়ী হয়ে যাওয়ার পরে, কোনো সম্মুখশত্রু না থাকবার পরিণতিতে পরিস্থিতি এখন আরো ঘোলাটে। যুদ্ধংদেহী মানুষেরা সামান্য সংশয়েও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমেত লাফিয়ে পড়ছেন নাঙ্গা তরবারী নিয়ে মন্তব্যযুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টা ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশের জায়গাতে গিয়ে সমাপ্ত হচ্ছে। আজ বিষয়টা ব্যক্তিগত পর্যায়ের হানাহানিতে শেষ হলো ,রহমান হেনরি একটি পোষ্ট দিয়েছিলেন, সেটা কতৃপক্ষ কিংবা রহমান হেনরি মুছে দিয়েছেন। সেটার ফলশ্রুতিতে একটা অহংবোধের লড়াই শুরু হয়েছে রাঙা মিয়ার পোষ্টে। কে কার চেয়ে বেশী মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এটা প্রমাণের জন্য পরস্পরের মুখোশউম্মোচন প্রক্রিয়ায় গিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে এখানে।
কে কার চেয়ে বড় স্বাধীনতাকামী স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ এটা প্রমাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, হয়তো আমার ধারণা, হলোকে কতবেশী বিবেচক এটা প্রমাণের প্রচেষ্টা। লক্ষ্য মূলত একটাই স্বাধীনতার ইতিহাসের বিকৃতি রোধ করা এবং স্বাধীনতার লক্ষ্যকে অবিকৃত রেখে একটা বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বাস্তবের পৃথিবীতে বাংলাদেশ এখনও বসবাসঅযোগ্য একটা ইসলামোফোবিয়া আক্রান্ত দেশ। তবে মুখোশ খোলা, মুখোশ বন্ধ এইসব ব্যক্তিগত অহংবোধের জায়গা থেকে দেখে কার কতটুকু উপকার হয়?
অনেক দিন ধরেই এই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে ভেতরে। শেষ পর্যন্ত ব্লগ এবং এখানে একাউন্টে সমর্পিত লেখাগুলো ডায়েরির পাতাই, সেখানে প্রিয় বন্ধুর নামেও কুৎসা লিখা থাকতে পারে, ব্যক্তিগত সম্পর্কে এর প্রভাব পড়তেও হয়তো পারে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার জায়গা থেকে দেখলে।
কিন্তু অহেতুক অহংয়ের মত্ততা কেনো? আপনি স্বাধীনতাকামী, স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ, বিষয়টা আপনার নিজস্ব অভিমান, অহংকারের জায়গা। ব্লগে এই নিয়ে কথার তলোয়ার দিয়ে ঢিসুম ঢিসুম ভিস্কাও ভিস্কাও করে কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় স্বাধীনতার চেতনা?
যেই জায়গাটাতে অবদান রাখা সম্ভব সেটা নিজস্ব পরিমন্ডলের বাস্তব ভুমিতে সেখানে কে কতটুকু হৃদয়বান, কে কতটুকু হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখে এটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠা উচিত ছিলো আমার বিবেচনায়।
অহেতুক কুৎসা রটনা, এসবের প্রচার এবং প্রসারের বিপরীতে কিছু বাস্তব জীবনে করা উচিত। আজ এই ওয়েব সাইট নিষিদ্ধ ও রাজাকারমুক্ত হলো, রাজাকার সবগুলো নিক ব্যন হলো, তাতে কি এই বিশাল ভার্চুয়াল জগতে তাদের লিখবার এবং প্রকাশের জায়গাটা বন্ধ হয়ে যাবে?
মেনে নিলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাধারণকারী ব্লগগুলোতে এইসব শিবিরের উৎপাত শেষ হয়ে গেলো কোনো এক অলৌকিক উপায়ে, কথার কথা আদতে এটা, এরপরও কি মানুষের অনেক ভেতরে লুকিয়ে থাকা ধর্মীয় বোধ এবং আত্মীয়তার টান মুছে ফেলা সম্ভব। মানুষের নিজস্ব ভাবনার জগতে যে বৈপিরিত্ব এবং কলুষতা সেটা কি মুছে ফেলা সম্ভব। এখনও অনেক প্রবীনই এই মত ধারণ করে- ৪৭এ দেশ ভাগ তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে, তারা এই দেশভাগ চায় নি। তারা অনেক কিছু হারিয়েছে তাদের জীবনে, তাদের এই কষ্ট কিংবা আক্ষেপ মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
তারা এই বাংলাদেশে বসেই তাদের শৈশবের ভারত উপমহাদেশের অস্তিত্বকে পুনরায় উজ্জীবিত হতে দেখতে চায়। ভারতে চলে যাওয়া বাংলাদেশী হিন্দুদের অনেকেই এই ক্ষত পুষে রাখে। এইসব টানের বিপরীতে কিছু মানুষ তাদের যৌবনে পাকিস্তানের জন্য লড়াই করেছে, তাদের জীবনের স্বপ্নের নাম পাকিস্তান,যেমন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করা মুক্তিযোদ্ধা যুবক তরুন প্রজন্ম বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছেন।
যুবক এবং প্রৌঢ়ের এই জেনারেশন গ্যাপে স্বপ্নে মোহে থাকা অধিকাংশ পাকিস্তান যোদ্ধাদের এই উপলব্ধিই হয় নি যে এই স্বাধীনতা আদতে তাদের চাওয়া স্বাধীন পাকিস্তানের স্বাধীনতা নয়। তবে পাকিস্তানের মোহ তারা কাটিয়ে উঠতে পারে নি।
তেমন ভাবেই নিষ্পেষিত এবং শোষিত পুর্বপাকিস্তানের যুবকেরাও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরেও উপলব্ধি করে নি সর্বাংশে যে তারা যে বাংলাদেশটা দেখছে এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াই তারা করে নি। তবে কেউ কেউ হতাশায় ভুগেছে, কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছে, ক্ষয়ে যাওয়া তারুণ্যের অবসাদ বাংলাদেশ দেখেছে। আদর্শ হারিয়ে উদভ্রান্ত যৌবন বাংলাদেশ দেখেছে, সেইসব যুবকেরা এখনও বৃদ্ধ। তারা এখনও আক্ষেপ করে এই বাংলাদেশ তারা চায় নি কখনও। তারাও পরিবর্তন চায়।
বাংলাদেশ পরিবর্তিত হোক এটাই সবার চাওয়া। মুক্তিযুদ্ধে সম্মানিত হামিদুল্লাহ যখন জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হয় তখন সেটা কোনো এক নিজস্ব স্বার্থচিন্তা থেকেই ঘটে। এমন স্বার্থচিন্তার খপ্পরে পড়ে মূলত স্বাধীনতার লক্ষ্যবিচ্যুত হয়ে আছি।
অসম্মানিত হীনমন্যতার অভিশাপ বয়ে নিয়ে বেড়ানো বাংলাদেশের ক্ষয়িষ্ণু আত্মসম্মান যদি এর সম্পূর্ণ ইসলামী করণে সম্ভবপর হতো তবে বাংলাদেশের মানুষ এটাই মেনে নিতো। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ইসলামি বাংলাদেশের কাঠামো এখনও মেনে নেয় নি। তবে একই সাথে এটাও সত্য- যাদের বচনামৃতে আমরা স্বাধীনতা দেখি, আমাদের মাননিয় লোলচর্ম বৃদ্ধবুদ্ধিজীবি তাদের স্বার্থপরতা এবং লেজুরবৃত্তি এবং অন্ধত্বের কুফলও ভোগ করছি আমরা।
আদর্শচ্যুত কবি আল মাহমুদ বখে যাওয়া কবিদের মতোই একাত্তরের করুণ সুর গেয়ে দিব্যি মেয়ে নিয়ে ফুর্তিফার্তা করেছেন। তবে একই অভিযোগ অনেকের বিরুদ্ধেই আছে। তারাও সীমান্তের অনেক দুরে থেকে পারস্পরিক আড্ডায় চায়ের কাপ চুমুক দিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং সুবিধালোভি এবং সুবিধাভোগী এইসব পাপোষ মানুষেরাই একদিন বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রুপরেখা নামক প্রচারনা চালিয়েছেন।
তাদের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি, একে গ্রহন তাকে বর্জন, তাদের তাবেদারী, তাদের তহবিল তছরুপ এবং তাদের নিজের পকেটে টু পাইস মিলে মিশে একটা জঘন্য স্বাধীনতা যুদ্ধের নয় মাসের গল্প আমাদের সামনে উঠে আসছে।
এক কোনোটাই মিথ্যা নয় আবার কোনোটাই সর্বাংশে সত্য নয়। ব্যবহারযোগ্যতা বিবেচনা করলে এই ব্যবহারবিধিটা রাজনৈতিক। ইসলামিক বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি দেখি না এমন কি এতে আমি বাংলাদেশের কোনো মঙ্গল দেখি না। তবে আমার এই দেখা এবং না দেখা, আমার ধর্মীয় চাদরের অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া বাংলাদেশ না দেখতে চাওয়ার সক্রিয় অবদান এখানে শিবির পোন্দানো কিংবা যা তোর মাকে চুদি, তুই বেজন্মার জাত বলে শেষ হয়ে যায় না। এইসব আমলনামায় বড় কিছু যোগ করে না। ভার্চুয়ালী আজ এই সাইটে ওকে ব্যন করা হলো, তাকে ব্যন করা হলো, ব্লগস্পটে গিয়ে শিবিরের গ্রুপকে ব্যন করবে কারা? কারা প্যাঁচালিতে গিয়ে এদের ব্যান করবে।
আমরা তথাকথিত স্বাধীনতা যুদ্ধের ভার্চুয়াল যোদ্ধারা সামহোয়্যার রণাঙ্গনে নেচে কুদে বিনোদন দিচ্ছি, এ তার হোগা মেরে ফাটিয়ে ফেলছি তার মায়ের ভোদার ভেতরে ঘোড়ার আস্তাবল বানাচ্ছি। একে রাজাকার তাকে স্বাধীনতাবিরোধী উপাধি দিচ্ছি- এবং শেষ পর্যন্ত অন্তর্কলহে লিপ্ত হচ্ছি। আজ সবার মুখোশ খুলে দিবো, সবাই ওদের মুখোশ চিনে রাখুক জাতীয় আচরণও আদতে অন্তর্কলহের নিদর্শন।
অহংবোধের লড়াই এবং পারস্পরিক ধাক্কাধাক্কিতে মূলত এই ফোরামকে স্বাধীন বাংলাদেশের ভুখন্ড বানিয়ে রাখা যাবে না দীর্ঘ ক্ষণ। বাংলাদেশের সামাজিক রাজনীতিতে যেভাবে ইসলামবাদ ঢুকেছে, তার প্রতিফলন এখানে ঘটবে। আজ দশজনকে রাজাকার বলা হবে। তাদের ব্যন করা হবে। পরের সপ্তাহে আরও দশ জন আসবে। এইভাবে আসতেই থাকবে বছর বছর। প্যাট্রোলিং করে কতদিন অনুপ্রবেশ রদ করা সম্ভব। মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ছাড়া, এইসব রোবট এবং গাইডেড ধার্মিকদের নিজস্ব অন্ধত্ব মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধ না করলে এই অন্তর্জালিক লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সম্ভবনা কম। আমি বলবো একেবারেই নেই।
জামায়াত শিবিরদের রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করে রাজনৈতিক ভাবেই নিশ্চিহ্ন করতে হবে। সেই যুদ্ধে জয়ী হতে পারলে অবশেষে সেদিন আসবে যেদিন এই লড়াই সমাপ্ত হবে। তখন সেইসব ভারতের প্রেমে মশগুল বৃদ্ধদের মতো কতিপয় প্রাক্তন জামাতীদের মগজে এইসব ইসলামী বাংলাদেশের স্বপ্ন হয়তো আমৃত্যু থেকে যাবে কিন্ত অবসরের জাবর কাটবার মতোই তারা এইসব স্বপ্ন দেখে আত্মপ্রসাদের ভুগবে এবং নিজের ভেতরে এই বাসনা নিয়ে কবরে যাবে-
তবে এটা সম্ভবপর হবে যদি আমরা জামায়াতকে রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রতিহত করে তাদের নিশ্চিহ্ন করতে পারি।
অন্তর্জাল ঠিকানা নিবন্ধন করতে পয়সা খুঁজে, এখানে কোন ওয়েব সাইটের কনটেন্ট কি হবে এটা নিয়ে ভাববার সময় কোথায়? মেজর ডালিমেরলেখা অন্তর্জালে ছড়িয়ে আছে। এই লেখাগুলোকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা সম্ভব? বিশাল অন্তর্জালিক জগতে কোথায় কে কোন স্বাধীনতাবিরোধী বাক্য কিংবা নিবন্ধ লুকিয়ে রেখে সেসব খুঁজে খুঁজে মুছে ফেলানো রীতিমতো অসম্ভব একটা প্রয়াস। সুতরাং আমাদের বিকল্প একটা উপায় নির্ধারণ করতে হবে। এবং এই বিকল্প উপায় নির্ধারণ করবার দক্ষতার উপরে নির্ভর করে আমাদের চুড়ান্ত বিজয়।
রহমান হেনরী বলেছেন:
... এতা বড় পোস্ট পড়তে না পারার জন্র দুঃখিত ..... যাই করেন আর যাই লেখেন, জামাত-শিবিরের বিপক্ষে যায় এমন কিছু লিঘবেন না, ব্যান খাইবেন ; এইটা জামাতিদের ব্লগ ___
না বুইঝা আমি কিন্ত্ত ১ম পাতায় ঢোকা থেকে আজই (ঈদের দিন) ব্যান খাইছি...
সাবধান !
রহমান হেনরী বলেছেন:
শেষ অংশের সংশোধনী -------------------
.. যাই করেন আর যাই লেখেন, জামাত-শিবিরের বিপক্ষে যায় এমন কিছু লিখবেন না, ব্যান খাইবেন ; এইটা জামাতিদের ব্লগ ___
না বুইঝা আমি কিন্ত্ত ১ম পাতায় ঢোকা থেকে আজই (ঈদের দিন) ব্যান খাইছি...
সাবধান !
রহমান হেনরী বলেছেন:
একটা মজার বিষয় লক্ষ করলাম, রাজাকারদের পোস্টগুলোতে মন্তব্য দেবার অনুমতি আমার/ (নাকি আমাদের ?) নেই ।
ব্যান খাওয়ার অনেক আগেই ... মানে ২রা অক্টোবর বিকেল ৩:০০টা থেকেই তাদের কোনও পোস্ট এ আমি মন্তব্র করতে পারছিলাম না ...
লেখা উঠলো, সরি ইউ আর নট এরাউড টু কমেন্ট দিজ ব্লগ ...
কী কুদরতি ব্যাপার রে বাবা ....
লেখক বলেছেন: নাহ এইটা পার্সোনাল চয়েজ এর বিষয়। আপনি চাইলে আমাকেও আপনার ব্লগে ব্যন করে রাখতে পারেন। তখন আমিও একই রকম নোটিশ পাবো।
আমার ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। আমি মন্তব্য করার অধিকার পাই। তবে সব সময়ই সেই মন্তব্যগুলো প্রকাশিত হয় না। মডারেশন কিউতে জমা হয়। এবং সম্মানিত ইসলামপ্রেমীরা সেটা মুছে দেন।
আপনি যদি এমন কিছু চান তাহলে কোনো এক জায়গায় গিয়ে কাজটা করতে হয়, সেটা কতৃপক্ষ কিংবা অভিজ্ঞ পোড়খাওয়া ব্লগারের কাছে জানতে হবে। আমি এইসব বিষয়ে নাদান।
আমার একটা ভুল ধারণা ছিলো আপনি মুছে দিয়েছেন আপনার ব্লগটা। এখন আপনার মন্তব্যে জানলাম বিষয়টা কতৃপক্ষের কারসাজি। এখানে কতৃপক্ষ একটা নির্দিষ্ট নিয়মেই ব্যন করে ফেলে অতিরিক্ত অশালীন গালাগালি করলে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হাসিব। বেচারার একটা সাধারণ নিকও অনেক দিন কোমায় আছে। কেনো কোমায় আছে, কেনো এই মৃত্বত অবস্থা থেকে কোনো দিকে যাচ্ছে না এটার উত্তরও কতৃপক্ষ এখনও দেয় নি। তবে এইসব রহস্যময়তা বাদ দিলে সাধারণ মানুষদের জন্য নিয়মাবলী ব্যন খাওয়া, এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে থাকবার পরে পুনরায় বিশ্বাসী গৃহপালিত হয়ে উঠার ভেতরে সীমাবদ্ধ। সাধু কিংবা শয়তান এদের জন্য ভিন্ন বিবেচনা। হাসিবের কোমাপ্রাপ্ত নিকটি সাধু কি শয়তান এটার ব্যখ্যা কতৃপক্ষ ভালো জানেন।
আপনি আপনার ব্লগের উপরে লাগানো ট্রাফিক বাত্তি দেখে আপনার অবস্থা বুঝতে পারবেন।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
নতুন অনেক পাবলিক দেখছি হুটহাট যারেতারে রাজাকার ডাইকা বসে ।
শয়তান বলেছেন:
কে পি টেস্টারের সংখ্যাও এখন অনেক
কাজী এবি..মনসুর বলেছেন:
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: নতুন অনেক পাবলিক দেখছি হুটহাট যারেতারে রাজাকার ডাইকা বসে । একমত ।
ইয়র্কার বলেছেন:
দুঃখজনক পোস্ট।চেনা এ-টীমার কাউরে এখনতক রাজাকার এবং ড়াজাকার (যারা আস্তমেয়েদেরকে বুকে আগলে রাখে) ছাড়া আর কাউরে রাজাকার ডাকতে দেখি নাই।
'বাংলাদেশে সংসদে মইত্যা যায়, সেইডা না ঠেকাইয়া ব্লগে ক্যান?' এই জাতীয় প্রশ্ন অনেককে করতে দেখেছি। এক্ষেত্রে আমার নীতি: যার আয়ত্তে যেখানে সম্ভব সেখানে রাজাকার প্রতিরোধ করা হোক। মইত্যা ফ্লাগ লাগাইয়া সংসদে যাবে বলে ব্লগের রাজাকারদেরকে গালি দেওয়া যাবে না - এইডা কোনোদিন অ্যাক্সেপ্টেবল কনসেপ্ট বইলা মনে হয় নাই।
কামরু বাঁদরের পুত্র ওয়ামিকে পর্যন্ত এখানে ব্যান করা হয়েছে, এরপরেও রাসেলের মত অভিজ্ঞ ব্লগারের মুখে যদি শুনতে হয়, এই অন্তর্জালিক লড়াইয়ে বিজয়ের কোনো চান্স নাই, তাইলে সেইটা চিন্তার বিষয় হয়ে পড়ে। আমার ব্যক্তিগত মত, যদিও মতটা ব্লগার রাসেলের ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না, তারপরেও তিনি যদি একটু ঠান্ডা মাথায় আরেকবার চিন্তা করেন, এই জাতীয় পোস্ট কার উপকারে যায়, তাইলে ভালো হয়, খুব ভালো।
আর অন্তর্কলহ? কার সাথে? আস্তমেয়ে যাদেরকে নিরন্তর ভাবতে শেখায়(উদাহরণ দিলাম না), সেইসব মুক্তিযোদ্ধার সাথে?
ইয়র্কার বলেছেন:
আরেকটা তথ্য দেই। রাঙা মীয়ার পোস্টে মুক্তিযোদ্ধা সেজে রাঙা মীয়াকে আক্রমণ করা কয়েকটি নিক মোটামুটি পরিচিত জামাতি নিক। হেনরি সাহেবও জামাতি নিক হতে পারে। হেনরির পোস্টে রাঙা মীয়াকে আক্রমণের কাজটা হেনরি করেছে, হাসিব না। রিভার্সটা কে কখন খেলে, সেইটা না বুঝে এ-টীমের ওপর রাগ থাকলে সেইটা কেউ ঝেড়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ না। প্রতিপক্ষ শিবির এই চান্সটা নেয়। আপনি যাদেরকে অন্তর্কলহের অপরপক্ষ ভাবতেছেন - (উদাহরণ দিলাম না) - তারা ছাগুপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে সুযোগ দিতে সিদ্ধহস্ত।
লেখক বলেছেন: ইয়র্কার মাঝে মাঝে আমি একটা বিষয় ভেবে অবাক হই- আমি এখানে অন্তর্জালিক অহংয়ের লড়াই নিয়ে আলোচনা করছিলাম- সেখানে রাঙা মিয়ার পোষ্টে গিয়ে আমি অনুরোধ করেছিলাম বিষয়টা সমাপ্ত হয়েছে আপনার লেখা মুছে দিয়ে প্রতিক্রিয়াও স্থগিত করেন। তবে সেখানে তার বক্তব্য পড়ে বুঝলাম তিনি অহংবোধের সমস্যাকাতর, তার অহংবোধে লেগেছে এই বিষয়টা যে তাকে কেউ রাজাকার বলেছে।
রাঙা মিয়া এটিমের সদস্য না হলেও তেমন কিছু না, হেনরি রিভার্সখেলা জামাতের নিক হলেও তেমন সমস্যা না। সমস্যা ডায়েরির পাতা এবং অহংবোধ এবং এই বিষয়ক গুঁতাগুঁতির।
এটিমের উপরে আমি রাগ করে থাকবো কেনো? এই একটা বিষয় নিয়ে সবিশেষ চিন্তিত থাকি সব সময়ই- রাজাকার চিহ্নিত করনের প্রক্রিয়া এবং ট্যাগিংয়ের পদ্ধতি আমার অপছন্দ- এটিম যখন এই ট্যাগিংয়ের বিপরীতে এসে বলে তখন অন্য একটা অপসত্যও হয়তো সামনে চলে আসতে পারে, এখানে রাজাকারচিহ্নিত করণ এবং মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করণের কাজটা এটিমই নিয়ন্ত্রন করে- রাজাকারচিহ্নিত করা এবং মুক্তিযোদ্ধাচিহ্নিত করার সামহোয়্যারের নিবন্ধিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান এটিম- এই সত্যটা যদি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা থাকে তবে বিষয়টা এটিমের উপরে রাগ করে থাকবার অবস্থানে থাকবে না, গোঁয়ারদের সাথে যৌক্তিক আলোচনা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চালানো যায়।
ধীবর বলেছেন:
লেখকের বেশির ভাগ যুক্তির সাথেই সহমত পোষন করছি। তবে কিছু অশ্লিল শব্দের ব্যাবহার না করলেও হতো। দয়া করে জামাত এ ইসলামির সাথে ইসলামকে ঘুলিয়ে ফেলবেন না।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র পরিবেশক এবং সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এ-টিম এই অবস্থান।যুক্তির একমাত্র অনুসিদ্ধান্ত এটিম ভুল করছে না- রাজাকারচিহ্নিত করতে এবং রাজাকারসমমনা মানুষদের চিহ্নিত করতে।
বাপের কালে একবার ঘি খেয়েছিলাম এখনও চুটকি বাজাতে পারি না, আঙ্গুল পিছলে যায় ধড়নের ইয়র্কারের বক্তব্য পড়ে তাকে অনুরোধ করতে পারি পুনরায় বিবেচনা করবার জন্য কিংবা পুনরায় লেখাটা পড়বার জন্য। পূর্বতন অনুসিদ্ধান্ত এবং প্রাকঅনুমান পঠনকে বিকৃত করে, বিকৃত একটা অনুভব প্রকাশ করে।
সামহোয়্যার ইনের এই জগতটাই বাংলাদেশ, এবং এটাই মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর এক্স- এখানে জেনারেল, মেজর জেনারেল, পদাতিক, স্ক্রোয়াড্রন লিডার সমেত একটি পূর্ণাঙ্গ যোদ্ধা টিম উপস্থিত , তারাই মেজর ওসমানীর নির্দেশ লড়াই করছে। অন্তর্জাল সামহোয়্যারের কয়েক গিগা বাইট অঞ্চলে সীমিত নয়।
সামহোয়্যারে ওয়ামি ব্যন- ওয়ামীর ব্লগস্পট কি বন্ধ? ওয়ামি সামহোয়্যারে ব্যন বলে সে অন্তর্জালে লিখছে না, কিংবা তথ্যপ্রমাদ ঘটাতে পারছে না অন্তর্জালের শত শত ওয়েব সাইটে?
দুঃখজনক কূপমুন্ডকতা। জামায়াতকে কোলে তুলে রাখা এবং জামায়াতকে মাটিতে ফেলে পাড়ানো, সবগুলোই সম্ভব, দেশের ভুখন্ড থেকে জামায়াতকে রাজনৈতিক ভাবে নিশ্চিহ্ন করতে না পারলে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গিগাবাইটের বিশাল অন্তর্জাল জগতের ট্রিলিয়ন ওয়েব সাইটে প্যাট্রোলিং করে কোথায় মুক্তিযুদ্ধের তথ্য বিকৃত করা হলো, কোন কোন জায়গায় এইসব জামায়াতের ছানাপোনারা নিজেদের বক্তব্য পেশ করছে- কোন ট্যাগে বক্তব্য পেশ করছে এটা জানবে গুগুল সার্চ ইঞ্জিন। তবে এটিমের মহান গেরিলা যোদ্ধারা তার কতটুকু রোধ করতে পারবে।
প্রশ্নটা সেখানে গিয়েই থামে- অন্তর্জাল যখন সামহোয়্যারের সীমানায় এসে এখানে চৌকি দেওয়ার কাজটাকেই বাংলাদেশকে নিরাপদ রাখবার পদ্ধতি বিবেচিত হয় তখন বিষয়টাকে হাস্যকর বলবো না দুঃখজনক বলবো এই নিয়ে শব্দসংকটে পড়তে হয়।
রাঙামিয়া কিংবা হেনরি এবং তাদের ভেতরের বিবাদ অন্তর্কলহ অহংবোধের ভেতরের লড়াই অন্তর্জালিক বন্ধু খোঁজার পদ্ধতি এবং শত্রুচিহ্নিত করবার পদ্ধতি সবমিলিয়ে লড়াইটা কিবোর্ডকেন্দ্রীক হয়ে উঠার জায়গাটাতে মনোযোগ না রেখে বলছিলাম বাস্তবের ভুমিতে যা ঘটছে- সেটারই প্রতিফলন ঘটবে অন্তর্জালিক জগতে। বাস্তবের মানুষগুলোই তাদের রাজনৈতিক ভাবনা ও চেতনাসমেত অন্তর্জালে ঘুরছে। মুক্তমঞ্চ সামহোয়্যার ইন ব্লগ নয়, প্রযুক্তির সুবিধায় আরও অনেক জায়গা আছে যেখানেও মতপ্রকাশ সম্ভব। সামহোয়্যারে নিশ্চিত ভাবেই মত প্রকাশ করা যাচ্ছে না একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত- তাই সেক্টর এক্স মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন আত্মতৃপ্তির জায়গাটা কোথায়?
রাঙা মিয়াকে আক্রমন করা এবং না করা, রাঙা মিয়ার গোয়ার্তুমি এবং হেনরির মত্ততা অন্তত যতটুকু সময় এই লেখার আগে আমি দেখেছি তাতে অহংবোধের সমস্যা ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা চোখে পড়লো না। আমি সবার চেয়ে বড় হ্যাডম, আমিই টপ চেতনাধারী আমার চেয়ে বড় শিবিরবিদ্বেষী আর কেউ নেই, শিবিরের প্রতি সামান্য অনুকম্পা প্রকাশ করলেই তার হোগা মারি, তার পুটকিতে এই করি সেই করি হেনরির মাতলামিও দেখলাম,
রাঙা মিয়াকে অনুরোধ করার সূত্রে এই লেখার সুচনা- এখানে প্রতিপক্ষ এটিম এটা ধরে নিয়ে আলোচনায় চলে আসা অন্তত আমাকে প্রতিপক্ষের ভুমিকা নামিয়ে আনা বিব্রতকর অন্তত আমার জন্য বিব্রতকর। আমি এটিমের প্রতিপক্ষ না, আমি জামায়াতের প্রতিপক্ষও না- এটা আমার পর্যবেক্ষণ জনিত অনুভব-
মূলত সামহোয়্যারে চিহ্নিত রাজাকারগুলো সেভাবে বিকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সামনে না নিয়ে আসলেও এখন কে কার চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা সাজবে এই যেমন খুশী সাজো প্রতিযোগিতা চলছে। এবং লক্ষ্য এক থাকলেও আপাতত এই মানুষগুলোর নিজেদের ভেতরে অহংবোধের সমস্যা। অনেকগুলো হ্যাডম ভাবা মানুষ পাশাপাশি থাকলে তাদের অন্তর্জালিক অহং পারস্পরিক গুঁতাগুঁতি করে।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
রাজাকাররের বাচ্চারা কে কোথায় হাইগা ভরাইতেছে সেইটা আটকানো যাইবো না, কিন্তু এইখানে গলা টিপ্যা ধরতে অসুবিধা কি?আর অন্তর্জালিক অহং পারস্পরিক গুঁতাগুঁতি করে সব সময় ছিল (৭১ও) এই অজুহাতে রাজাকার বাচ্চাদের গনহারে পোংগানো তে দ্বিধাগ্রস্থতা বাঞ্জনীয় নয়।
লেখক বলেছেন: এইখানে গলা টিপ্যা ধরে রাখছে। এখন এইখানে দম নিতে পারতেছে না রাজাকাররা, রাজাকারদের মুমূর্ষু অবস্থায় কে কতবড় হ্যাডম এইনিয়া অহংবোধের ধাক্কাধাক্কি।
এইখানে গলা টিপ্যা ধরতে সমস্যা এমনটা বলি নাই। বলছি এইটা ধারাবাহিক একটা প্রক্রিয়া- আজ ১০জনকে কাল ২০ জনকে পরশু ১৫জনকে চিহ্নিত করা হবে, কিন্তু এদের আগমন রদ করা যাবে না। এরা আসবেই চুপিচুপি কিংবা স্বদর্পেই আসবে। তবে তাদের উৎপাদন এবং বংশবিস্তার রোধ করবার জন্য বাস্তবের ভুমিতেই রাজনৈতিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।
বেয়াকুফ বলেছেন:
সহমত @ দ্বিতীয়নাম।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
সহমত।ব্যাপারটা অনেকটা রাজনৈতিক চেতনার চেয়ে অহংবোধের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।
রহমান হেনরী ব্যাপারটা আমাকে বেশ হতাশ করেছে।উনি বুশের ইয়েস/নো নীতিতে গতকালের পোষ্ট লিখেছেন।কেউ তার বক্তব্যের বিরোধীতা নয়,এমনকি আলোচনা করতে চাইলেই ব্যাপক গালাগালি সহ রাজাকার উপাধী দিয়েছেন।যে কোন আলোচনায় এই ধরনের অবস্থানকে মতাদর্শিক নার্সিসিজম ছাড়া আর কিছু বলার অবকাশ নাই।
এই রকম হলে ব্লগের মতে ইন্টার্যাকটিভ মিডিয়াতে লেখার দরকার কি?
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
জামায়াত শিবিরদের রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করে রাজনৈতিক ভাবেই নিশ্চিহ্ন করতে হবে।...এই দৃঢ়তা ভালো লেগেছে....
(সহমত)
নজরুল কবীর বলেছেন:
রাসেল, আপনার মূল পোষ্টের সঙ্গে সহমত।বাচ্চা পোষ্ট বিষয়ে কথা আছে। পরে আরেকটি পোষ্ট লিখে আমার মতামত জানাবো।ভালো থাকুন, ভালো লিখুন।



















ভাল মন্দ বলব না , এখন দেখা যায় অনেকে এটার উল্টা মতলব ধরে।
আপনাকে শুভেচ্ছা ।
আপনার লেখা আমার ভাল লাগে তবে মন্তব্য করি না।আজ করলাম।