আস্তিক ভাইদের জন্য- আসুন জ্ঞানালোচনা করি।
০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৪১
অহেতুক কোনো বিতর্কে জড়ানোর রুচি কিংবা আগ্রহ এখন পাই না। বোধ হয় একটা জড়তা চলে এসেছে। বয়েস বাড়ছে, ধীরে ধীরে শরীরের প্রতিক্রিয়া কমে যাচ্ছে- হঠাৎ আড্ডার আড়ালে এক বন্ধু ডেকে বললো, আচ্ছা দোস্তো মৃত্যু নিয়ে সায়েন্স কি বলে?
মৃত্যু বিষয়ে বিজ্ঞানের কিছু করনীয় আছে আদৌ? মৃত্যুকে বিলম্বিত এবং প্রলম্বিত করা ব্যতিত বিজ্ঞানের অবদান কতটুকু? আমাদের বয়েস বাড়ছে, আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়ছে, আমাদের বিচক্ষনতা বাড়ছে, আমরা আরও নিঁখুত সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারছি অভিজ্ঞতার কারণে। বয়েস বাড়ার এই ভালো দিকগুলোর বাইরে একটা নিশ্চিত পরিণতি রয়েছে, একদিন এই জীবনের অবসান হবে, অকস্মাৎ কিংবা ধুঁকে ধুঁকে। সুতরাং বন্ধু অহেতুক উদ্বেগ না দেখিয়ে বেঁচে থাকো।
তবে বন্ধুর প্রশ্নটা আরও একটু বেখাপ্পা, মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বিষয়ে প্রশ্ন। সে প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। সত্য স্বীকার করে নেওয়া ভালো। মৃত্যুর পরে আমরা বেহেশত দোজখে হুরপরী নিয়ে ভোগমত্ত জীবন যাপন করবো না কি আমরা পুড়ে ঝাঁঝড়া হবো এই বিষয়ে বিজ্ঞান কোনো সিদ্ধান্ত দেয় নি। এটা মূলত দার্শনিক সমস্যা। বিজ্ঞানের এখানে করনীয় কিছু নেই। তুই যেই বিশ্বাস নিয়ে জীবন যাপন করিস সেই বিশ্বাস নিয়েই তোর মৃত্যু পরবর্তী জীবনের ঘটনার অনুমাণ করবি। এইটুকুই বলা যায়, থিওলজিক্যাল কোনো ডিবেটে বেহেশত দোজখের অস্তিত্ব বিষয়ে নিঃসংশয় কোনো সমাধান বিজ্ঞান দেয় নি।
মৃত্যু আদতে কি? এই প্রশ্নের কোনো মীমাংসা এখনও হয় নি। আমরা কোনটাকে মৃত্যু বলবো? ধর্মবিশ্বাসী বন্ধুদের ধারণা রুহ যখন শরীর থেকে চলে যায়, যখন আজরাইল এসে রুহ নিয়ে চলে যায় তখন মানুষের মৃত্যু ঘটে।
বিতর্ক তেতে উঠে এই প্রশ্নেই আদতে। রুহ জাতীয় কোনো কিছুর অস্তিত্ব এখনও সঠিক ভাবে নির্ধারিত হয় নি। সুতরাং আমি রুহ জাতীয় কোনো কিছুর অস্তিত্ব মানতে নারাজ। আমি শুধু জানতে চাই মৃত্যু ঘটলে কি কি শাররীক প্রতিক্রিয়ায় বুঝা যায় আদতেই ব্যক্তিটি মৃত?
কতিপয় উদাহরণ দেওয়া যায়, হৃৎস্পন্দন থেমে গেলো। ফুসফুস বাতাস টানছে না, চোখের ভেতরে আলো ফেললেও সেটা আলোকসংবেদী আচরণ করছে না। অর্থ্যাৎ শরীরে সাড়া নেই, শরীরের নার্ভাস সিস্টেম কোলাপস করেছে। এই ঘটনাকে কি আমরা মৃত্যু বলবো?
বন্ধু রুহের অস্তিত্ব বিষয়ে বিজ্ঞানের গবেষণার বক্তব্য তুলে আনে। কোথাও কোনো এক বিজ্ঞানী রুহের অস্তিত্ব যাচাই করবার জন্য একটি কাঁচের ঘরে মৃত্যু পথযাত্রী একজনকে রেখেছিলো। যথা সময়ে সে মৃত্যু বরণ করে এবং সেই কাঁচের ঘরের একটা কোণা ফেটে রুহ চলে যায়।
এইসব বিশ্বাসী প্রলাপে আমার বিশ্বাস কম। তবে কেউ যদি এই গবেষণা সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানতে পারেন তবে তার তথ্য যাচাই করে রুহ বিষয়ক আলোচনা করা যায়।
বিজ্ঞা জ্ঞানী আস্তিকদের কাছেই আগ্রহ নিয়ে জানতে চাই বিষয়টা, নাস্তিক আমি এমন কোনো পরীক্ষার অকাট্য অস্তিত্ব জানি না। যেমন জানি না কবরের ভেতরে মাইক্রোফোন রেখে দিয়ে পাগল হয়ে যাওয়া গবেষকদের মনোমুগ্ধকর গল্পের সারবস্তু কতটুকু।
এইসব কতিপয় উল্লুক নিজেরা প্রচার করছে না কি এমন কোনো পরীক্ষা হয়েছে বাস্তবে?
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
এই বিষয়ে ব্লগের ইসলামিক পন্ডিতদের মতামত জানার আগ্রহ নিয়া বৈসা আছি। কাঁচের ঘরের কোণা ফেটে রুহ চলে যাওয়া সহজ কথা না।
নির্বাসিত বলেছেন:
মৃত্যু কি সেটা তো পরের কথা। আগে আলোচনা করা উচিৎ যে জীবন কি? এই প্রশ্নের উত্তরটিও এখনো বিজ্ঞান ঠিকভাবে দিতে পারেনি।
লেখক বলেছেন: জীবন নিয়ে আমরা পরে আলোচনা করি, আপাতত কাঁচ ভেঙে রুহ চলে যাওয়া আর কবরে মাইক্রোফোন লাগিয়ে গোরআযাব শুনে পাগল হয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী গবেষকদের নিয়ে সংশয়টা পরিস্কার হোক।
জীবন নিয়ে, যাপিত জীবন নিয়ে আলোচনা চলছেই।
আসলে সেই বাস্তব থিসিস এর কি রেজাল্ট তা আমার জানা নেই। আর যে ঘটনাগুলো বলেছেন, এগুলো আমিও শুনেছি। তবে আসলেই এমন কিছু ঘটেছিল কিনা তা আমার জানা নেই।
লেখক বলেছেন: সবাই কারো না কারো কাছে শুনেছে, কিন্তু কে এই তথ্যের যোগানদাতা? তার বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু?
এখন পর্যন্ত আমার জানা শোনা মানুষের ভেতরে যতটুকু পাওয়া গেলো- মসজিদে, আলেমের কাছে তারা শুনেছে, সেই আলেমও অন্য কোনো উৎস থেকে শুনেছে, নিশ্চিত বলতে পারে নি ঠিক কোন উৎস থেকে তথ্যটা এসেছে তাদের কাছে।
ত্রিভুজ বলেছেন:
১)
রুহ বলে কিছু আছে এটা একটা বিশ্বাস।
আবার রুহ বলে কিছু নাই, এটাও একটা বিশ্বাস।
২)
পরকালের অস্তিত্ব আছে, এটাও বিশ্বাস।
পরকালের অস্তত্ব নাই, এটাও বিশ্বাস।
আস্তিকরা এগুলো কোন যুক্তির নীরিখে যাচাই না করেই বিশ্বাস করে। কিন্তু নাস্তিকরা বলে যুক্তি ব্যতিত তারা কিছু বিশ্বাস করতে রাজী নয়। তাহলে প্রমান করার দায়টা কার?
লেখক বলেছেন: নাস্তিকেরা যুক্তি এবং প্রমাণ ব্যতিত কিছু বিশ্বাস করতে নারাজ, তাই যখন আস্তিকেরা এইসব প্রচারণা করে, এমন একটা পরীক্ষা হয়েছে, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে নাস্তিকেরা অনবগত , আস্তিকদের নিজস্ব বক্তব্যের এবং তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানানোর দায়টা চলে আসে। আস্তিকেরা এমন পলায়নমনোবৃত্তিসম্পন্ন এটা মেনে নিতে একটু সমস্যা হয়। ধর্মের নামে খাঁড়া আর তলোয়ার, বোমা আর পটকা নিয়ে বিনা প্রশ্নে যুক্তির ধার না ধেরেই ঝাপিয়ে পড়া আস্তিকেরা অন্তত একটা পরীক্ষার অস্তিত্বের কথা জানাচ্ছে। সেটা নিয়ে আগ্রহ আছে এবং সেটা খুঁজে না পেয়েই এই আলোচনার আয়োজন।
ত্রিভূজ এমন পরীক্ষার কথা শুনে থাকলে সেটা জানাও। কোথায় তথ্য পেয়েছো সেটাও জানাও।
লালমোহন ওরফে জটায়ু বলেছেন:
বেড়া দেন নাইলে ছাগলে মুখ দিচে
লেখক বলেছেন: তাহলে আর কি হবে, পুনরায় কেঁচে গন্ডুষ। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে বেহেশত দোযখের অস্তিত্ব বিষয়ে বিজ্ঞানের আলোচনায় আসা যেতে পারে পরবর্তীতে।
তবে দুজন বিশ্বাসীর বাইরেও বিশ্বাসীদের সারি অনেক লম্বা। তারা যদি সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসে ত্রিভূজের মতো নিশ্চিত করে তাহলে আমরা পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে পারি।
ত্রিভুজ বলেছেন:
আমি তো পরিক্ষাগুলো নিয়ে মন্তব্য করিনি। ওসব পরিক্ষার উপর আমারও আস্থা নেই। আদৌ হয়েছে কিনা তাতেও সন্দেহ আছে। মৃত্যুকে আমাদের ত্রিমাত্রিক জগত থেকে অনুধাবন করা নাও যেতে পারে। পরিক্ষার কথা বাদ দিন... আমি তো মূল প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছি।
আস্তিকের বিশ্বাস যুক্তিতে নির্ভর নয়। তাই আস্তিক সৃষ্টিকর্তা আছে প্রমাণীত না হলেও বিশ্বাস করে। কিন্তু নাস্তিকের বিশ্বাস তো যুক্তিনির্ভর! অন্তত তারা দাবী করে, তাহলে তারা কিভাবে বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা নাই? ওটা কে প্রমাণ করেছে? আপনার কাছে এধরনের কোন পরিক্ষা বা তার ফলাফলের খবর রয়েছে কি?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিষয়টা পরিস্কার করবার জন্য।
আপাতত এখানে আলোচনাটা এই পরীক্ষার তথ্য যাচাইয়ের জন্যই বরাদ্দ থাকুক।
যৌক্তিক অস্তিত্ব- অনস্তিত্বের আলোচনা অন্য কোনো লেখায় হবে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
মৃত্যুর সংজ্ঞা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। ব্যাপারটা জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত। আধুনিক বিজ্ঞানের কোন সমস্যা সামনে এলে এর প্রথম বিশ্লেষণ শুরু হয় সরল কাঠামো থেকে। জীববিজ্ঞানীরা এই ক্ষেত্রে এককোষী ব্যাক্টেরিয়ার দিকে কাজ করেন। মজার ব্যাপার ব্যাক্টেরিয়াকে কখন মৃত বলব তা নিয়েও মতভেদ আছে। অর্থাৎ ব্যাক্টেরিয়ার মৃত্যুও আমরা এখন পর্যন্ত সংজ্ঞায়িত করতে পারিনি। সাধারনত একটা ব্যাক্টেরিয়াকে জীবিত বলা হয় তখন যখন সেটা বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। সেই হিসেবের এর মৃত্যুকে সংজ্ঞায়িত করা হয় , Irreversable loss of reproduction capacity হিসেবে। তবে, এমন অবস্থায়ও ব্যক্টেরিয়া পাওয়া যায় যখন সে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, কিন্তু অন্য সব জৈবিক কার্যক্রম চালিয়ে নেবার ক্ষমতা রাখে। সেই অবস্থাকে বলা হয় Viable but non culturable। তাই অনেকেই Irreversable loss of reproduction capacity কে মৃত্যু বলতে নারাজ। কিন্তু এ নিয়েও মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলছেন, Non culturable কারন আমরা Culture করতে সক্ষম নই। বিতর্ক চলছেই। বহুকোষী জীবের ক্ষেত্রেও আছে একই রকম বিতর্ক। আপনি যেই যেই উদাহরন তুলে ধরলেন সেগুলো অবশ্যই মৃত্যু। কিন্তু তার ভিত্তিকে সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছে না। শরীরে সাড়া নেই, শরীরের নার্ভাস সিস্টেম কোলাপস কিন্তু দৈবক্রমে কিভাবে যেন বেঁচে উঠেছ, ডাক্তারাও অবাক। এমন উদাহরন পাওয়া যায়। অতএব, মৃত্যু সম্পর্কে আপনাকে কেউ নিশ্চিত ধারণা দিতে পারছে না।
রুহ নামক কিছু আদৌ আছে কিনা তার কোন প্রমান নাই। অতএব, আপনি রুহ কনসেপ্টে বিশ্বাস নাও করতে পারেন। আবার,
আবার রুহ নামক কিছু নেই তারও প্রমান নাই। অতএব, আপনি চাইলে বিশ্বাস করতেও পারেন। বিজ্ঞানের গভীরে ঢুকলে জীবনের অনেক অনেক রহস্য সমাধান হয়। আবার রহস্য সমাধান হতে হতে এমন সব প্রশ্ন সৃষ্টিকরে যে সমাধান হয়ে যাওয়া রহস্যগুলো আবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এটাই বিজ্ঞানের মজা। মলিকুলার বায়োলজি পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল জীবন কতই সহজ, যুক্তি দিয়ে বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। আবার ভাইরাসের মলিকুলার বায়োলজি পড়তে গিয়ে মনে হয়ে ছিল কোন প্রকার মহান সৃষ্টিকর্তার ছোঁয়া ছাড়া এ এমনি এমনি ভাইরাসের বিবর্তন হচ্ছে চিন্তাকরাই অযৌক্তি।
ব্যাপারগুলো এমনি, এগুলোর মাঝে আপনি কিভাবে চলবেন তা নিজের বিশ্বাসে ভিত্তিতে নির্বাচন করা ছাড়া উপায় নেই। তবে জানার আগ্রহ থাকতে হবে। হকিংন্সের "ব্রিফ স্টোরি অফ টাইম" পড়েই নিজেকে মহাকাশ বিজ্ঞানী জাতীয় কিছু মনে করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বোকামি। জানতে হবে, জানতে হবে....................একদিন দেখবেন কিছুই জানা হল না, সময় শেষ। তখনই উত্তর পাবেন হয়ত, কিন্তু কাউকে জানাতে পারবেন না।
আপনার পোস্টে কমেন্ট করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু লিখতে লিখতে নিজের মাথাই কেমন ঘুর ঘুর শুরু হল। ধন্যবাদ, ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: কনসেপ্ট বিষয়টাই দার্শণিক অবস্থানজনিত। মূলত যেই পরীক্ষার কথা আস্তিকদের জবানীতে জানলাম, সেটা বিষয়ে না পড়ে, কিংবা সেটার অস্তিত্বকে একেবারে নাকচ না করে দিয়ে অন্য কোনো কনসেপ্ট গ্রহন করাও একটু ক্লেশকর।
যদি পরীক্ষাগারে প্রমাণিত না হয় রুহের অস্তিত্ব, তবে এই মিথ্যা প্রচারণাটা অব্যহত রাখার কারণটা কি হতে পারে?
ত্রিভুজ বলেছেন:
ঠিক আছে, আমি তাহলে ঐ আলোচনাটা কন্টিনিউ করার জন্য আলাদা একটা পোস্ট দেই। আপনার বিস্তারিত আলোচনা সেখানে আশা করবো...
আপনাকেও ধন্যবাদ এই বিষয়ক আলোচনা করার ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য।
নির্বাসিত বলেছেন:
যেহেতু জীবনের প্রস্থান মানেই মৃত্যু, তাই জীবনকে সংজ্ঞাবদ্ধ করতে পারলে মৃত্যুর সংজ্ঞাটিও পাওয়া যাবে। এই প্রসংগে বলি যে অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ আর্টিফিসিয়াল ডিএনএ তৈরী করেছেন, এখন তারা এগোচ্ছেন যে কৃত্রিমভাবে জীবন তৈরী করা যায় কিনা। যদি তারা সফল হন, তাহলে বোঝা যাবে যে জীবন সৃষ্টিতে কোন অলৌকিক অস্তিত্বের প্রয়োজন আছে কিনা।এ ব্যাপারে তথ্য পাবেন এখানে।
আর কাঁচের ঘর ফেটে রূহ বার হয় কিনা, সেটা যে কতবড় গাঁজাখুরী গল্প তা একটা বাচ্চাও বুঝতে পারবে।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
কাঁচের ঘরের কোণা ফেটে রুহ চলে গেছে.. নিজের চোখে সেই ফাঁটা কোণা দেখলেও বিশ্বাস করবো না । রুহ/প্রাণ এর সাথে বস্তুগত কোন ধারনা মিলবেনা বলেই আমি মনে করি... মৃত্যুর ব্যাপারটা আমি বুঝতে চেষ্টা করি ডাইমেনশন চেইন্জের সাথে তুলনা করে । জানিনা, পরিচিত পৃথিবী কত মাত্রায় আছে... দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, সময়, কৌনিকতা... এরকম আরো কি কি যেন বিজ্ঞানীরা বলেছে...
মৃত্যু হতে পারে, একসেট মাত্রা থেকে একটা অস্তিত্বের অন্য মাত্রায় চলে যাওয়া... যেমন, একটা দ্বিমাত্রিক ক্ষেত্র থেকে ত্রিমাত্রিক ক্ষেত্রে চলে যাওয়া অথবা ত্রিমাত্রিক ক্ষেত্র থেকে চতুর্মাত্রিক ক্ষেত্রে চলে যাওয়া...
"পরকাল" নামের জগৎটা আমাদের বর্তমানকালের জগতের সাথে ভিন্ন মাত্রায় অবস্থিত হতেই পারে...
আর , দুই বা ততোধিক মাত্রার স্থানের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্ভব, যদি বিজ্ঞান সেই পর্যায়ের উন্নত অবস্থায় যেতে পারে.. "মাইক্রোফোন কবরে রাখা" টাইপের হাস্যকর পর্যায়ের বিজ্ঞানের পক্ষে সেটা সম্ভব না হওয়াই স্বাভাবিক....
লেখক বলেছেন: মৃত্যু বিষয়টাই জটিল, এখনও সর্বজনসম্মত একটা নিশ্চিত মৃত্যু হলো না। অন্তত মৃত্যুকে প্রলম্বিত করা যাচ্ছে। কৃত্রিম উপায়ে অনেক প্রত্যঙ্গকে সচল রাখাও সম্ভব হচ্ছে। লাইফ সাপোর্ট ছাড়া যারা মৃত তাদের লাইফ সাপোর্ট প্রক্রিয়া চালু রাখবার জন্য অনেক পয়সাও খরচ করছে। এই নিয়ে আদালতে মামলাও হচ্ছে। বিষয়টা দার্শণিক সমস্যা তৈরি করেছে ব্যপক পরিসরে।
এস্কিমো বলেছেন:
আস্তিকরা এই বিষয়ে কি বলে তা তো সবাই মোটামুটি জানি - নাস্তিকদের তত্ত্বটা জানতে চাই @ফিউশন ফাইভ
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
কাঁচের ঘর ফেটে রূহ বার হবার মত গাজাখুড়ি (আমার তাই মনে হয়, তবে এই বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না) ব্যাপার নিয়ে আলোচনা অর্থহীন বলেই মনে হয়। তাই উঠাই নি। তবে হ্যা, পরীক্ষাগারে প্রমান সব কিছু প্রমান করবার অবস্থায় আমরা এখনও পৌছি নাই। আমরা মহাকর্ষ বলের কথা জানি। কিন্তু এর উৎস কি তা জানি না। বস্তুর ভর থাকলেই মহাকর্ষ থাকে, কিন্তু কেন? আপাততঃ কোন উত্তর নাই। গ্রাভিটন নামের একটা পার্টিকেলের কথা বলা হয়, সেটা আজতক নাকি পাওয়া সম্ভব হয় নি। (আমি যতদূর জানি, আমি ফিজিক্সের ছাত্র নই)
রুহ ব্যাপারটা আপাততঃ উপলব্ধি পর্যন্ত সীমিত। জৈবিক পদার্থে নির্মিত শরীর সিম্পলি লাশে পরিনত হয়। লাশ আর মানুষের মাঝের যেই গ্যাপটা রয়ে যায়, সেখানেই রুহ জিনিসটার উপলব্ধি আমাদের ওপর কাজ করে। এই উপলব্ধি জিনিসটাও আবার সেই জৈবিক ক্রিয়ারই ফসল হয়ত। একমাত্র বিশ্বাস ছাড়া, অন্য কোন কিছুকে একেবারে বাদ দিয়ে দেওয়া, আবার একেবারে শক্ত করে ধরা উভয়ই খুব কঠিন। হয়ত বলা হবে বিশ্বাস ব্যাপারটা মানসিক দোষ। কথা উঠে মনটা কি? কোথাও কোথাও উত্তর পাওয়া যায় মনটা জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই না। আবার এর ব্যতিক্রমও হয়ত পাওয়া যায়।
আমার মনে হচ্ছে যা বলতে চাইলাম, সেটা সাজিয়ে বলত পারলাম না। কি আর করা!!
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
মূলত যেই পরীক্ষার কথা আস্তিকদের জবানীতে জানলাম, সেটা বিষয়ে না পড়ে, কিংবা সেটার অস্তিত্বকে একেবারে নাকচ না করে দিয়ে অন্য কোনো কনসেপ্ট গ্রহন করাও একটু ক্লেশকর।এহেন দুষ্টলোকের ধর্মকথায় কান দিয়ে তা বিশ্বাস করা বা পাত্তা দেওয়া বিপদজনক হতে পারে
অ্যামাটার বলেছেন:
বিবর্তনবাদী বলেছেন:........রুহ নামক কিছু আদৌ আছে কিনা তার কোন প্রমান নাই।---অর্থাৎ, বৈজ্ঞানিক যুক্তি দ্বারা রুহ-এর অস্তিত্ব বা অলীকতা প্রমাণ করা সম্ভন না।
এখন আসুন কিছুটা আধ্যাতিক দিক থেকে চিন্তা করি,
দেখুন, টিকটিকির লেজটা কাটা পড়লে সে কিন্তু দিব্যি বেঁচে থাকে, বরং পরে আবার নতূনকরে লেজ গজায়। এইযে আপনি, আপনার অস্তিত্ব, বা আপনার চিন্তাশক্তির কেন্দ্র কোথায়? সাহিত্যের ভাষায় এটাকে মন বলে নির্দেশ করলেও জীবদেহে মন বলে তো কোন অঙ্গ পাওয়া যায় নি...হয়ত বলবেন মস্তিস্ক...আপনার যদি দুটো পা কিংবা হাত কাটা যায়, সেটা আপনার অস্তিত্বের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না, এমনকি এখন তো বৃক্ক, ফুসফুস, চক্ষু(কর্ণিয়া), হৃৎপিন্ড; প্রায় সকল প্রত্যঙ্গ-ই তো প্রতিস্থাপন হচ্ছে, একদিন হয়ত মস্তিস্ক-ও প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে...তো ধরুন, কোন কারণে একে একে আপনার দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্য নির্দিষ্ট কোন একজনের দেহ থেকে প্রতিস্থাপন করা হল, তবে একে একে...ঠিক একই ভাবে আপনার অঙ্গগুলো তার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হল...এরপর ধরুন আপনি সুস্থ হয়ে উঠলেন...আপনার সমস্ত শরীর; চেহারা সুরৎ...সব-ই আপনার ডোনারের, একইভাবে ডোনারের সব কিছু ধরুন আপনার...তখন কি আপনি আপনার ডোনারে কনভার্ট হয়ে যাবেন? অন্তত দুয়ে দুয়ে চার হিসেবে তো তাই বলে; যদি তা না হয়, তাহলে কোন সে অদৃশ্য শক্তির অস্তিত্ব, যার বলে আপনি একজন ইউনিক নামুষ...আপনার 'আমিত্ব' অক্ষুন্ন থাকল??
আমার মনে হয় এ'ধরণের একটা পরীক্ষা থেকে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন খুব বেশি দূরে নয়...
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
এ্যামাটারের আগমনে আলোচনা আরোও উপাদেয় রূপ পাইলো । রেসিজম ইন্টাররেশিয়াল ম্যারেইজ নিয়ে পুস্টটা তাড়াতাড়ি দেন এ্যামাটার ।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
অ্যামাটার বলেছেন: আমার মনে হয় এ'ধরণের একটা পরীক্ষা থেকে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন খুব বেশি দূরে নয়... অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নাই।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
বুঝা যাইতেছে, আস্তিকদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিজ্ঞানকে আরও কিছু বাইর করতে হইবো। স্বাভাবিক গতিতে জগত সংসারের নতুন নতুন ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিব আর আমাগো ধর্মীয় আবাল যাকের-শমশেরগং তার উপরে হামলে পড়বো।এগুলান (আবাল মতলববাজ ধর্মীয় পন্ডিতগন) বিজ্ঞানের আপাতঃ ব্যাখ্যাতীত বিষয়গুলি দিয়া যেমন ঘোল পাকায় , তেমনি বিজ্ঞানের অর্জনগুলিও তাগো গ্রন্থে খুইজা পায়।
এরেই বুঝি কয় নেপোয় মারে দই বা গাছেরটা আর তলারটা খাওয়া।
মানুষের বিকার, সংস্কার, দুঃস্বপ্ন, আবেগ, বিশ্বাসের ব্যাখ্যাও বিজ্ঞান দেয় তার নিয়ন্ত্রিত গন্ডিতে থেকে। আর তাতে আবেগিত, বিকার-সংস্কারগ্রস্থ মানব সন্তান সস্তুষ্ট না হইলে বিজ্ঞান নিরুপায়।
সত্যেন্দ্র ছাতু বলেছেন:
"রূহ বলে কিছু নাই এটা একটা বিশ্বাস" কেন?@ছাগুরাম
আস্তমেয়ে বলেছেন:
সব আস্তিকদের হয়ে ঢালাও ভাবে কিছু বলতে পারবো না, শুধু ইসলামের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামের পারসপেক্টিভের কথাই বলি। কোরআনে আল্লাহ, পরকাল, নবুয়াত, বেহেস্ত, দোযখ, এগুলো নিয়ে কথা বলার সময় এগুলোকে রেফার করা হয় 'গায়েব' বলে। ইসলামে বিশ্বাসের ভিত্তিই হচ্ছে 'গায়েব'। গায়েবের কোন কিছু এই পৃথিবীর জীবনে থেকে স্পর্শ করা যাবে না, দেখা যাবে না, শোনা যাবে না, গন্ধ পাওয়া যাবে না, স্বাদ নেয়া যাবে না, ওজন করা যাবে না, কোন ভাবেই 'ডিটেক্ট' করা যাবে না (এটাই সাধারন নিয়ম, নবী রাসুলদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)। করা গেলে, সেটা আর 'গায়েব' থাকে না। তখন আর বিশ্বাসী হওয়া না হওয়ার কোন মানে নেই। যা দেখা যায়, শোনা যায়, পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায়, তার উপর বিশ্বাস 'স্থাপনের' দরকার নাই।
বিজ্ঞান কখনও এমন কিছু আবিষ্কার করবে না, যা দিয়ে গায়েবের কিছু দেখা যায়, ডিটেক্ট করা যায়। করলে, সেটা আর 'গায়েব' থাকলো না, বিশ্বাসের পরীক্ষা তখন অর্থহীন! বিজ্ঞান অনেক কিছু আবিষ্কার করবে, বস্তুজগতের পুরাটাই হয়তো আবিষ্কার করে ফেলবে, কিন্তু কখনও এমন কিছুই আবিষ্কার করবে না, যাতে গায়েব, স্রষ্টা, রুহ, ডিসাইসিভলি [গাঢ়]'প্রমান'[/গাঢ়] করা যায়।
অপবাকের একটা পোস্টে প্রশ্ন ছিল স্রষ্টা কি করে মানুষকে ইনফ্লুয়েন্স করেন, ইনফ্রারেড টাইপের কিছু দিয়ে? তাইলে তো তা ডিটেক্ট করতে পারা উচিত।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, এই আমাদের চেনা পরিচিত জগত (পৃথিবী, শরীর, আউটার স্টেইস ইত্যাদি) স্রষ্টার বৃহত্তর সৃষ্টির একটা সাবসেট মাত্র। এই সাবসেটের নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, স্রষ্টার তৈরি কিছু বাঁধা নিয়ম আছে। বৃহত্তর সাবসেটের ব্যাপ্তি আরও অনেক বেশি, সীমাবদ্ধতা নেই। স্রষ্টার আমাদের ইনফ্লুয়েন্স করতে ইনফ্রারেড যেমন দরকার নাই, তেমন রুহ বের হওয়ার জন্য কাঁচের দেয়াল ভাঙার দরকার নাই, বা কবরের আজাব দেয়ার জন্য মাইক্রোফোনে শুনতে পারার মত শব্দ সৃষ্টির দরকার নাই।
এভাবেই ইসলাম এগুলো ডিফাইন করে। এটা নিয়ে তর্কের অবকাশ নাই, কারন গায়েবের প্রতি প্বিশ্বাস হচ্ছে বিশ্বাসী হওয়ার শর্ত। এই থিওরী অভারঅল মেইক সেন্স করলে মানুষ বিশ্বাসী হয়, না করলে হয় না, এই তো।
(সন্ধ্যাবাতির পাসওয়ার্ড রিট্রিভ করতে পারছি না, তাই এখান থেকে।)
লেখক বলেছেন: এই বিশ্বাসগুলো পরস্পরের সাথে বিপরীত সুঁতায় গাঁথা হয়ে গেলো। জিব্রিল অদৃশ্য হয়েও মুহাম্মদের ভেতরে কোনো না কোনো ভাবে ভাবনার জন্ম দিতে পারতো- ভাবনাউদ্দীপ্ত করবার প্রক্রিয়া ভাষা এবং অন্যান্য শরীরতাত্ত্বিক বিষয়াদি এর সাথে সংযুক্ত- সেই সব উদ্দীপনাপ্রদানকারী বিষয়গুলোকে কিভাবে প্রভাবিত করতো জিব্রিল?
এমন কি যখন নবী রসুল ছাড়া অন্য কেউ ইশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারবে না বলা হয় তখন তারা কোরাণের ভাষ্যমতে সাধারণ মানুষ থাকে না। তাদের অনুভবও সাধারণ মানুষের থাকে না। বরং কথাটা অনেক বেশী আদিবাসী বিশ্বাসের হয়ে যায়। যেই সমাজের প্রযুক্তিতে অনগ্রসর মানুষেরা ধারণা করে অলৌকিকত্ব শুধুমাত্র গুণীনের স্বকীয় বৈশিষ্ঠ্যের প্রকাশ।
পঞ্চ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভব ছাড়াও আমরা অনেক কিছুর উপস্থিতি নির্ধারণ করি- পঞ্চ ইন্দ্রিয় কোনো কিছুর উপস্থিতিকে নিশ্চিত করতে পারে না। প্রযুক্তি অনেক অগ্রসর হয়ে যাচ্ছে, তবে বিশ্বাস বিষয়টাই এমন।
সেখানে যুক্তি নেই, আত্মসমর্পন আছে। মূলত বক্তব্যটা এখানেই ছিলো। প্রশ্নবিহীন আনুগত্য এবং আত্মসমর্পন আস্তিকতা। এই বিশ্বাসকে বৈজ্ঞানিক কোনো পন্থায় যাচাই করা কিংবা এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে ধর্মীয় পুস্তকে বিজ্ঞানের খোঁজ খবর নেওয়া অর্থহীন।
বিশ্বাসের প্রতি সম্মান রেখে অন্য কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলাম না। শর্তহীন বিশ্বাস না করলে যেহেতু আস্তিকতা থাকে না, সুতরাং আমি নিঃশর্তবিশ্বাস স্থাপন করতে না পারার ব্যর্থতায় সীমানার অন্যপারে।
আস্তমেয়ে বলেছেন:
আমার স্টেইটমেন্টটা একটু বদলে দেই, সামান্য ভুল ছিল, কিংবা ক্ল্যারিফিকেশন দরকার। নবী রাসুল ছাড়াও মানুষ ওই জগত দেখতে পারবে, যদি আল্লাহ চায়। খাজা খিজিরের কথা বলা আছে কুরআনে, যিনি নবী ছিলেন না, কিন্তু ডিভাইন ইন্সপায়রেশন ছিলো তাঁর। আল্লাহকে যেভাবে ইসলাম ডিফাইন করেছে, সেটা মোটামোটি ফুলপ্রুফ। ৯৯টা নামের কয়েকটা পাশাপাশি বসিয়ে পাওয়া যায়, তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন, নিজেস্ব সূক্ষ্ম (সাটল, লাতীফ) পদ্ধতিতে। টু গুড টু বি ট্রু মনে হতে পারে একজন বাইরের মানুষের কাছে। কিন্তু সেটাই স্রষ্টা, এবং সেই স্রষ্টার প্রতিই বিশ্বাস এনেছি আমি।"প্রশ্নবিহীন আনুগত্য"-- বাক্যাংশটা পুরাপুরি ঠিক না।
পুরা মানবজাতি সম্মিলিত ভাবে বিশ্ব জগতের রহস্য উম্মোচনের চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত এমন কিছু বের হয় নি, যাতে স্রষ্টার অস্তিত্বের সম্ভবনা ডিসাইসিভলি বাতিল করে দেয়া যায়। আর বিজ্ঞান আসলে এই প্রশ্নটা ট্যাকেলও করবে না, এটা বিজ্ঞানের কাজ না। বিজ্ঞানের কাজ শুধু বস্তুজগত নিয়ে। বৈজ্ঞানিক হাইপোথিসিস হওয়ার শর্তই হচ্ছে, সেটা এমন কিছু নিয়ে হতে হবে, যা 'ভুল প্রমান' করা যায়। স্রষ্টাকে যেভাবে ডিফাইন করা হয়েছে ইসলামে, তাতে তিনি কখনও বিজ্ঞানের গবেষনার বিষয় হতে পারে না, ফিলোসফিটা পুরাপুরি অন্য রকম। বিজ্ঞান জ্ঞানের একটা শাখা, কিন্তু একমাত্র শাখা না।
বিজ্ঞান জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হলেও, আসলে বিজ্ঞান পূর্ণতা দেয় না। মায়ের ভালোবাসা কি? অক্সিটসিন নামের একটা হরমোন। মায়ের প্রতি ভালোবাসা কি? স্রেফ ইমপ্রিন্টিং। খাবারের সোর্সের প্রতি আনুগত্য। মানুষের ন্যায় অন্যায় বোধ কি? ফ্রন্টাল লোবের এক খাবলা নিউরন। কনশাসনেস কি? রাইট ইনফারোটেম্পোরাল লোব। কিংবা দুই হেমিস্ফেয়ারের নিউরোনগুলোর যুদ্ধ।
খুব বেশি ডিডাকটিভ।
আমি বিজ্ঞান খুব ভালোবাসি। নিউরনদের সম্মিলিত কাজ কর্ম আমাকে ভীষণ রকমের আপ্লুত করে। বিজ্ঞানীদের কোন টাকা পয়সা নাই, কিন্তু বিজ্ঞান ছাড়া আমার ভবিষ্যত জীবন আমি চিন্তাও করতে পারি না। কিন্তু যখন কোরানে পড়ি, 'তোমরা কোন কোন নির্দশনকে অস্বীকার করবে?', তখন বুঝি,
বিশ্বাস প্রক্রিয়াটা প্রশ্নাতীত হতে হবে না, কিন্তু প্রশ্নের উত্তরে আসার প্রক্রিয়াটা বিজ্ঞান থেকে অন্য রকম। ঘোষনা দিয়েই স্রেফ কিছু 'নিদর্শন' দেয়া হয়েছে, বিন্দুগুলো একসাথে জোড়া লাগিয়ে একটা সম্পূর্ণ চিত্র তৈরি করে আমাদের সামনে থালাতে পরিবেশন করা হবে, সেরকম প্রতিজ্ঞা আল্লাহ নিজেও করেন নি, তিনি করেন না।
চিন্তা করতে হবে বিজ্ঞান নামের ডিডাকশনালিস্ট বক্সটার বাইরে থেকে।
আর কিছু না হোক, মা আমাকে ভালোবাসে স্রেফ অক্সিটসিনের জন্যই, কিংবা স্পিসিশ কনজারভেশনের চিন্তাধারা থেকে... আমি সত্যিই সেভাবে ভেবে শান্তি পাই না, এবং সেটাকে একমাত্র সত্য মনে হয় না। সেটা একটা প্রক্রিয়ার অংশ, হ্যা অবশ্যই, কিন্তু সম্পূর্ণ সত্য না। শেষ মেষ প্রশ্নাতীত আত্মসমর্পন না, বরং আমার কাছে যেই প্রশ্নের উত্তর সবচেয়ে বেশি সঠিক মনে হচ্ছে, সেটার প্রতি 'সৎ' থাকা, তাই না?
লেখক বলেছেন: সব কিছুর বাইরে গিয়ে মায়ের ভালোবাসায় তেমন কোনো অলৌকিকত্ব নেই। প্রজাতির বিবর্তনে টিকে থাকবার সম্ভবনা, বিবর্তিত হয়ে আরও বেশী পরিবেশ উপযোগী হয়ে উঠবার সম্ভবনা এবং এর সাথে উপযোগী বিষয়াদি এখানে থাকে।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টা বাঁচবার লড়াই। সেই বাঁচবার লড়াইয়ে প্রাণী মাত্রই পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। রক্তারক্তির এই জগতটাতে মানুষ হিসেবে নিজের অনন্যতা বিশ্বাস করাটা একটা দার্শণিক অবস্থান।
এই দার্শণিক অবস্থানের কারণেই মায়ের ভালোবাসায় অন্য কিছুর অস্তিত্ব খুঁজবার প্রয়াস। মাতৃস্নেহ, পিতৃস্নেহ সবই প্রাকৃতিক এবং সামাজিক প্রয়োজনেই উদ্ভব হয়। মানে বিষয়টা আমার নিজস্ব উপসংহার- সমাজ যদি বিবর্তিত হয়ে ব্যক্তিমানুষকে সৃজন করতে শুরু করে তবে মাতৃস্নেহও পরিবর্তিত হবে। মানবিকতার বোধগুলোও পরিবর্তিত হবে।
নগর সভ্যতা এবং গ্রাম সভ্যতার মানুষের ভেতরে প্রকট সামাজিক পার্থক্য আছে, সামাজিক অনুশাসনের পার্থক্য আছে। অনুভুতির পার্থক্য আছে।
এইসব পার্থক্য কেনো তৈরি হয় এইটা যাচাই করে দেখতে গেলে আরও পরিস্কার করে ধরা পড়বে এই পরিবেশ ও সামাজিকতার প্রভাবগুলো।
যাই হোক, কেউ যদি আবেগী হয়ে কিছু বিশ্বাস করতে চায় তবে তার বিশ্বাসকে কাঁচি ছুড়ির নীচে এনে ব্যবচ্ছেদ করবার প্রয়োজন নেই।
ভালো-মানুষ বলেছেন:
ছাগ ছাগিরা বিজ্ঞান খুবই ভালোবাসে - এটাই বাস্তবতা।
শয়তান বলেছেন:
ভালো-মানুষ বলেছেন: ছাগ ছাগিরা বিজ্ঞান খুবই ভালোবাসে - এটাই বাস্তবতা।
নূহান বলেছেন:
শয়তান বলেছেন: ভালো-মানুষ বলেছেন: ছাগ ছাগিরা বিজ্ঞান খুবই ভালোবাসে - এটাই বাস্তবতা।
ভালো-মানুষ বলেছেন:
আমার কথার ইকো কৈরা লাভ নাই। ছাগ-ছাগীর কথা মাইনা চলেন, আখেরে লাভ হইবেক। লক্ষ্য করেন, বিজ্ঞানের আলোচনা আইলেই ছাগ-ছাগির মুখে মায়ের ভালোবাসা আর E=MC2 এক লাইনে পইরা যায়। আমরা কি তাইলে ধৈরা নিব, আইনস্টাইনে ছাগীর মত কৈরা আম্মারে বালাবাসতো না?
ঝাতি ঝানতে চায়।
ধূসড় পৃথিবী বলেছেন:
"মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বিষয়ে প্রশ্ন। সে প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। সত্য স্বীকার করে নেওয়া ভালো। মৃত্যুর পরে আমরা বেহেশত দোজখে হুরপরী নিয়ে ভোগমত্ত জীবন যাপন করবো না কি আমরা পুড়ে ঝাঁঝড়া হবো এই বিষয়ে বিজ্ঞান কোনো সিদ্ধান্ত দেয় নি।"---একমত। জানিনা না মানা পর্যন্ত জানার চেষ্টা শুরু করা যায়না।রুহ এর ধর্মমত নিয়ে কিছু বলার নেই, কিন্তু আত্মা ব্যপারটা মানি। অন্তত অনুভব করি বলব।নিজেকে শুধু একটা বায়োলজিকাল কম্পোনেন্ট মানতে মন নারাজ।


















