আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

আজকের দিন-

১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৪৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

দুপুরে বাংলাদেশের খেলা দেখছিলাম। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আশরাফুলের ক্যাপ্টেন্সি খুব খারাপ হয় নি, একটা ভুল সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে তৃতীয় পাওয়ার প্লে ১৬ থেকে ২০ ওভারের সময় নিয়ে নিলে ভালো হতো, আর অন্য একটা ভুল হয়েছে শাহাদাতকে বোলিং করিয়ে যাওয়া।

সাকিব খারাপ করছিলো না, তার সাথে নাসিমও মোটের উপর চাপে রেখেছিলো, কিন্তু শাহাদাতের লাইন লেংথের উপরে তার নিয়ন্ত্রনহীনতা সব সময়ই বিব্রতকর। বিশেষত যখন ওভারপীচ বোলিং করতে গিয়ে লেগ স্টাম্পের বাইরে বল দিচ্ছিলো।

শেষ পাওয়ার প্লের আগেই মাশরাফির ওভার শেষ। হয়তো আশরাফুলের মনে হয়েছিলো নিউজিল্যান্ডের লেজ ছেঁটে ফেলা যাবে, তবে অতিআক্রমনাত্মক হয়ে উঠবার অবস্থায় বাংলাদেশ ছিলো না। শাহাদাত স্লগ ওভারে বল করবার উপযুক্ত নয়। রাজ্জাক অনেক দিন ধরেই শেষ ওভার করছে বাংলাদেশের পক্ষে। তবে আজ রাজ্জাকের কিছুই করার ছিলো না। জ্যাকব ওরাম , নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহুর অধিকারী, অনায়াসে বলগুলো সীমানাছাড়া করছে, শেষ ওভারে রান এসেছে ২৩ কিংবা ২৪। মূলত শেষ ১০ ওভারেই বাংলাদেশ খেলা থেকে ছিটকে গেছে।

ব্যাটিংয়ের শুরুটা যথারীতি হতাশাজনক। তামিম হয়তো খুব ভালো, তবে আমার কখনই নির্ভরযোগ্য মনে হয় না ওকে। জুনায়েদের খেলা আমার পছন্দে। তার দেখে খেলা এবং একটা পার্টনারশীপ তৈরি করার প্রচেষ্টা যখন ভেস্তে গেলো মুশফিকুরের বোকামিতে তখন সামান্য শঙ্কা জাগলেও আশরাফুলের দায়িত্বশীল হয়ে খেলতে চাওয়ার প্রচেষ্টা দেখে আশাবাদী ছিলাম।
খেলা অবশ্য এই পর্যন্তই দেখতে পেরেছি। এরপরেই ১ ঘন্টার লোড শেডিং এবং যখন পুনরায় বিদ্যুৎ আসলো তখন বাংলাদেশ হারের প্রতীক্ষা করছে।
ইত্যবসরে লাঞ্চব্রেকের সময়ে দেখছিলাম বিটিভি ওয়ার্ল্ড।

বাংলাদেশের সরকারী প্রচারযন্ত্র দেখাটা সাংঘাতিক ধৈর্য্যের বিষয়। আজকে যা দেখলাম সেটা মূলত সংগীত অনুষ্ঠান। উৎসাহ দেওয়ার সংগীত অনুষ্ঠান মূলত। উপস্থাপনার ছিলো সারা যাকের। মহিলাকে আমি পছন্দ করি না তার বাচনভঙ্গি এবং আর এক্সপ্রেসনের জন্য। এরপরও উপস্থাপক হিসেবে তার উৎসাহমূলক মন্তব্যগুলো ভালো লেগেছে।
গান গাইতে এসেছিলো শাওন, যদিও এই মেয়ে/মহিলা/কেনো গান গায় আমি বুঝি না। এমন যন্ত্রনাদায়ক গায়িকা অনেক আছে বাংলাদেশে তবে এমন সেলিব্রেটি স্টুপিড বোধ হয় নেই। প্রথম দর্শনেই মনে হলো বেচারা মিল্ফ ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। তার পোশাক পরিচ্ছদ এবং তার ফ্যাশন সেন্স জঘন্য। তার চেহারার ভঙ্গি এবং গান গাওয়ার ভঙ্গি দেখলে অনেকেই অনেক মন্তব্য করে ফেলতে পারে। আমি আপাতত তেমন প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মন্তব্যে যেতে চাইছি না।

প্রথম গান যা শুনলাম, আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা বেড়ার ফাঁকে, হুমায়ুন আহমেদের লিখিত গান। এই ভদ্রলোক অভার রেটেড নয় শুধু ভেরি মাচ অভার রেটেড নির্মাতা। চিত্রপরিচালক,/নাটকনির্মাতা/সংগীতকার। এরপরও হুমায়ুন স্যার বলে গলে যাওয়া অভিনেতাদের দেখে মনে হয় হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিগত কোনো ক্যারিশমা নিশ্চিত আছে। এতগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে দিয়ে নির্বোধের মতো আচরণ করিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না।

কে সংগীতকার আমি জানি না, তবে শাওন যেভাবে কোঁতাতে কোঁতাতে জোৎস্না অবগাহন করছিলো তাতে জোৎস্নাবিষয়ক যাবতীয় রোমান্টিসিজম শরীরের নীচের অংশে গিয়ে জমা হচ্ছিলো। চোখ বন্ধ করে মুখটা সামান্য ফাঁক করে যখন হাত বাড়িয়ে ডাকছিলো জোৎস্না তখন আমার অন্য কিছু বাড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছাও হচ্ছিলো সেই সাথে।

এরপরের গানটা শুনে পিত্তি জ্বলে গেলো। রাধারমনের ভ্রমর কইয়ো গিয়া গানটির নির্মম ধর্ষণ দেখেছি ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের হাতে, এরপরও সেখানেও গানটা তেমন অগ্রহনযোগ্য মনে হয় নি, তবে শাওন মেয়ে হয়ে যেমন ধর্ষণ করলো তাতে আশ্চর্যই হলাম।

আমি কখনই পিট স্যাম্প্রাসের ভক্ত না, টেনিসে আমি বরং আগাসী, নাদাল আর বেকারের ভক্ত। খেলা যখন নিখুঁত গাণিতিক প্রক্রিয়া হয়ে যায় তখন সেটা উপভোগ্য থাকে না। কম্পিউটারের সাথে খেললে একটা সময় বুঝা যায় এই খেলাটা অর্থহীন সময় কাটানো। স্যাম্প্রাসের খেলায় এমন নিস্প্রাণ ভঙ্গি ছিলো, সেখানে অনেক বিশুদ্ধতা থাকলেও আবেগ ছিলো না। শাওনের গানের বিষয়েও আমার মন্তব্য এমনটাই হবে। বেচারার গানে হয়তো সুরের উত্থানপতন তেমন প্রকাশ্য না হলেও সীমিত গায়কীশক্তিতে হয়তো তেমন তাল লয়ের সমস্যা ছিলো না। কিন্তু সেই গানে কোনো আবেগ ছিলো না। এইসব লোক গানের প্রাণ এই গায়কী আবেগ। মাথার কেশও দুই ভাগ করি রাখিতাম বান্ধিয়ারে ভ্রমর কইয়ো গিয়া- এই অংশটুকু শুনলে আমার লোম খাঁড়া হয়ে যায়। অদ্ভুত এক উপমা এটা। তবে সেই শাওনের ঘন নীল ট্রান্সপারেন্ট শাড়ী, সেই সাথে প্রকাশ্য তার মসৃন চর্বিদার পেট এবং বয়স্ক হয়ে ওঠা চেহারায় সেই আবেগ প্রকাশিত হয় না, প্রকাশিত হয় না তার সংকোচভারাক্রান্ত কণ্ঠে।

শাওনের ধর্ষণই শেষ নয়, এরপরে গাইলো যে সে অনেক আগে বাংলাছবিতে অভিনয় করতো, হারজিত ছবির একজন অভিনেতা। যদি আমার অনুমান ভুল না হয় তবে এইম বলে একটা ব্যন্ডের গায়কও ছিলো এই পাব্লিক। সে গাইলো লাকি ভাইয়ের আমায় ডেকো না।

আমি আমাদের অনেক আড্ডায় খোলা গলায় একটা গীটার দিয়ে বন্ধুদের এই গান গাইতে শুনেছি। খোলা ছাদের নীচে আমাদের গানের আড্ডার একটা পরিচিত গান ছিলো এটা। তবে বয়স্ক এবং কিশোর কণ্ঠের অধিকারী এই মানুষটা যখন আমায় ডেকো না গানটা গাওয়া শুরু করলো, মনে হলো শুওরের বাচ্চার গলায় পাড়া দিয়ে থামাই। প্রিয় গানের ধর্ষণ সব সময়ই মর্মান্তিক।

প্রাথমিক পর্যয়ে মনে হচ্ছিলো তার সমস্যাটা কি, পরে যখন সে হারজিত সিনেমার গানটা গাইলো, তখন বুঝলাম প্রায় পৌঢ়ত্বের সীমায় পৌঁছে যাওয়া গায়কের গলা এখনও কিশোরের মতো মিনমিনে। সেখানে তারুণ্যের উচ্ছাস নেই, সেখানে বয়সোচিত গাম্ভীর্য নেই। যুবক কিংবা বয়স্কদের গলায় আলাদা একটা ভারিক্কি থাকে, আলাদা একটা পৌরুষ থাকে গলায়। সেটা কিশোরের রিনরিনে গলা নয়। আর এ কারণেই হয়তো মিনমিনে বেড়ালের মতো টার গাওয়া গানটা উপভোগ করতে পারলাম না।
দ্রুত পালিয়ে গেলাম বাংলাদেশের খেলায়। এই অবসরে শুনলাম শাওন নিজের আনন্দের জন্য গান গায়। এটা শুনেই ভালো লাগলো, নিজের আনন্দের জন্য কৃত কাজগুলো জনসমক্ষে করাটা মাঝে মাঝে জনপীড়ন হয়ে যায়। দুটি ক্যাসেট বের করবার পরে হয়তো শাওনের এই উপলব্ধিটা আসা জরুরী। হুমায়ুন আহমেদ বৃদ্ধ বয়েসে যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন, তার নিজের আনন্দের জন্য শাওন গান গাইলে ক্ষতি নেই, কিন্তু নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রজাউৎপীড়ণের এই কৌশল নির্ধারণের জন্য হুমায়ুন আহমেদের নিন্দা জানাই।

 

 

  • ৫ টি মন্তব্য
  • ১৯৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫০
comment by: আরিফ থেকে আনা বলেছেন: ১৬৮/৯ রানের সময় একটা রান আউট আপিল না করার কারণে মিস হয়। পরে রিপ্লাইতে পরিস্কার দেখা যায় এটা রানআউট
১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০১

লেখক বলেছেন: দেখছি, কিন্তু করার কিছুই নাই। দোষটা কারোই না, সবাই স্ট্যাম্পের লাইনের অনেক বাইরে ছিলো।

২. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৬
comment by: হোসেইন বলেছেন: খিকজ ।
৩. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২১
comment by: আশীফ এন্তাজ রবি বলেছেন: .....দ্রুত পালিয়ে গেলাম বাংলাদেশের খেলায়। এই অবসরে শুনলাম শাওন নিজের আনন্দের জন্য গান গায়। এটা শুনেই ভালো লাগলো, নিজের আনন্দের জন্য কৃত কাজগুলো জনসমক্ষে করাটা মাঝে মাঝে জনপীড়ন হয়ে যায়। দুটি ক্যাসেট বের করবার পরে হয়তো শাওনের এই উপলব্ধিটা আসা জরুরী। হুমায়ুন আহমেদ বৃদ্ধ বয়েসে যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন, তার নিজের আনন্দের জন্য শাওন গান গাইলে ক্ষতি নেই, কিন্তু নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রজাউৎপীড়ণের এই কৌশল নির্ধারণের জন্য হুমায়ুন আহমেদের নিন্দা জানাই।....

দারুন ...
৪. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৫৫
comment by: এরশাদ বাদশা বলেছেন: তার চেহারার ভঙ্গি এবং গান গাওয়ার ভঙ্গি দেখলে অনেকেই অনেক মন্তব্য করে ফেলতে পারে। আমি আপাতত তেমন প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মন্তব্যে যেতে চাইছি না।


তবে শাওন যেভাবে কোঁতাতে কোঁতাতে জোৎস্না অবগাহন করছিলো তাতে জোৎস্নাবিষয়ক যাবতীয় রোমান্টিসিজম শরীরের নীচের অংশে গিয়ে জমা হচ্ছিলো। চোখ বন্ধ করে মুখটা সামান্য ফাঁক করে যখন হাত বাড়িয়ে ডাকছিলো জোৎস্না তখন আমার অন্য কিছু বাড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছাও হচ্ছিলো সেই সাথে।

;) :P :D



পোস্টটা কিন্তু জবরদস্ত!!!!

 



 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১১২৮১৮