somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঙ্গুরের জুস- ---- -- -

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সময় ছিলো যখন এলাকায় কাউকে দেখতাম আঙ্গুর ,কমলা কিংবা আপেল হাতে বুঝে নিতাম এলাকায় কেউ গুরুতর অসুস্থ, তার যেকোনো মুহূর্তেই মৃত্যু হতে পারে। গুরুতর অসুস্থতার সাথে আঙ্গুর এবং আপেলের যোগাযোগ আমাকে অনেক দিন তাড়া করেছে।

আমি এখনও ঠিক আপেল খেতে সচ্ছন্দ্যবোধ করি না, বরং নিজেকে অসুস্থ মনে হয়। তবে সল্প সংসার জীবনের শুরু থেকে শেষ অব্ধি নিয়মিত আঙ্গুর খেয়ে এটার সাথে মৃত্যুর সম্পৃক্ততা কমিয়ে এটাকে জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলেছিলাম।

তখনও আসলে প্যাকেটের জুস আমার তেমন ভালো লাগতো না। যদিও প্যাকেট জুসের দাম আসল ফলের তুলনায় অনেক কম তবে টাটকা জিনিষের স্বাদই আলাদা। প্যাকেটের জুস খেতে ভালো লাগে না এখনও। অনেক অদল-বদলের পরে একটা মিক্সড ফ্রুট জুস খেয়ে তৃপ্তি পেয়েছিলাম, ট্রপিকানার কোনো একটা জুস, পেয়ারা, আঙ্গুর আর পাইনআপেল ছিলো মনে হয়।

তখনও অবশ্য অনেক কিছুই বুঝতাম না, এখনও যে বুঝি সে দাবি করবো না। একদিন সকালে ম্যানহাটনের কোনো একটা হোটেলে গেলাম সকালের নাস্তা করবো। মেনুকার্ড খুলে অনেক খুঁজে একটা অর্ডার দিলাম, গ্রীক মামলেট উইথ টমেটো এন্ড চিলি। সেই সাথে ফ্রেশ অরেঞ্জ জুস। তেমন নামের হোটেল না, ইউনিফর্ম পড়া বেয়ারা আছে, বেয়ারার বুকে মনোগ্রামও লাগানো আছে, কিন্তু পানি আর জুস সেল্ফ সার্ভিস, মামু এক গ্লাস পানি লাগাও বললেও কোনো শালা আসবার সম্ভবনা নেই। সুবোধ বালকের মতো গেলাম কাউন্টারে, গিয়ে অরেঞ্জ জুস চাওয়া মাত্রই ফ্রেশ অরেঞ্জ জুস ঢেলে দিলো ট্রপিকানার প্যাকেট থেকে। একটা ট্রপিকানার প্যাকেট তখন ১ ডলার, ফ্রেশ অরেঞ্জ জুসের এক গ্লাস ২ ডলার। রাগে মাথার চুল ছিড়বারও উপায় নেই।

এরপরে অনেক প্রতীক্ষার পরে আসলো গ্রীক মামলেট উইথ টমেটো এন্ড চিলি- শালার- টমেটো দিয়ে ডিম ভাজা, পিয়াজ মরিচ দিয়ে আমরা যা করি, সেটাই, এমন জিনিষ আমি এমনিই বাসায় রান্না করে খেয়েছি, তবে তখনও জানতাম না এটার এমন বাহারী নাম আছে।

এইসব প্রতারণার ইতিহাস বুকে নিয়েই আমার জীবন যাপন। আজ বিকেলে হঠাৎ করেই ছেলের খেয়াল হলো আঙ্গুর খাবে। অতএব ছেলে নিয়েই গেলাম বাজারে, একটা সময় ঢাকা শহরের রাস্তায় ফেরি করে আঙ্গুর বিক্রী হতো, তখনও ৮টাকায় ১০০ গ্রাম আঙ্গুর পাওয়া যেতো। বিশ্বব্যাপী মন্দার সময়েও আঙ্গুরের দাম তেমন বাড়ে নি। আশা ছিলো আঙ্গুর কিনে ফেলবো।

দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞাসা করেই বুকে ধাক্কা লাগলো- মামা কেজি ২৮০ টাকা। আমি চোখ গোল গোল করে আঙ্গুর দেখি। আগে মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে দেখবার জন্য মানুষ আঙ্গুর হাতে যেতো তবে বর্তমানের আক্রার বাজারে আঙ্গুর কিনতে গিয়ে শহীদ হতে হবে। পাকিস্তান আমলে আঙ্গুরের দাম ছিলো অত্যাধিক বেশী, তখন পাকিস্তান থেকে প্লেনে করে আঙ্গুর আসতো । পরিমাণে অল্প আসতো তাই দাম ছিলো আকাশ ছোঁয়া, এ কারণেই মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা থাকতো একটু আখরোট, আঙ্গুর মোসাম্বি খেয়ে মারা যাবো।

এখন ভারত থেকে হরদম আঙ্গুর আসছে। প্রচুর পরিমাণে আসছে। ভারতের বাজারে এখনও আঙ্গুর ৬০ টাকা কেজির বেশী না, তবে কেনো এমন মূল্যউলম্ফন। জানা নেই।

শখের তোলা আশি টাকা, তাই পাশের দোকানে জিজ্ঞাসা করলাম, একই আঙ্গুর ২৬০ টাকা। তার পাশের দোকানে ২০০ টাকা একটা ২৭০ টাকা একটা আর ২৮০ টাকা একটা।
এক পোয়া আঙ্গুর কিনে মনের দুঃখে বাসায় আসলাম।

তবে আঙ্গুর নাম শুনে ছেলে যতটা আগ্রহী ছিলো, বাস্তবের আঙ্গুর দেখে ততটাই বেজার। আঙ্গুরের ভেতরের বীচি বাছতে গিয়ে আঙ্গুরই উজার করে ফেললো। সুতরাং পুনরায় বাজারে ছুটলাম, উদ্দেশ্য আঙ্গুরের জুস কিনে ফেলবো। যদি পছন্দ করে তবে আবার কেনা যাবে।

দোকানে গিয়ে খুঁজে খুঁজে অনেক ভাবনা চিন্তা করে, এক্সপায়ার ডেট দেখে কিনে আনলাম মিক্সড জুস, আঙ্গুর আর আম- এনে সুন্দর করে ছেলের সামনে রাখলাম।

প্রথম চুমুক দেওয়ার পরে ছেলের চেহারা একটু বিকৃত হলো- তার পরের চুমুকে আরও বেশী, তৃতীয় বার চুমুক দেওয়ার পরে আর খাবে না। আমি চুমুক দিয়ে দেখলাম বিষয়টা অখাদ্য- ছেলে তাও ৩ চুমুক পর্যন্ত গিয়েছে, আমার প্রথম চুমুকেই আগ্রহ শেষ।

তবে একদিয়ে দুই দুই বার ধরা খাওয়ার পরে একটু ক্ষিপ্ত হয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছি শালার যা থাকে কপালে আগামী প্রতি দিনই সকালে এক গ্লাস করে জুস খাবো।

তবে শপথ রাখা মনে হয় না সম্ভব হবে, বিষাক্ত স্বাদ জুসের।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×