গান শোনা হয় না অনেক দিন, আজ হঠাৎ করেই একটু খুঁজে দেখলাম চন্দ্রগ্রহনের গান রাখা আছে কম্পিউটারে, কার কাছ থেকে পেয়েছি তাও জানি না। আছে যখন শুনতে কোনো বারণ নেই, সুতরাং চন্দ্রগ্রহনের গান শোনা শুরু করলাম, এবং অতঃপর-
তথাকথিত বিকল্প ধারার ছবিতে এই ধরনের সস্তা এবং জঘন্য গান এবং এমন দেহকাতরতা থাকে এটা ধারণা ছিলো না, আমার তথাকথিত বিকল্প ধারার ছবি সম্পর্কে ধারণা ছিলো এখানে জীবনঘনিষ্ঠতা প্রকাশের জন্য অহেতুক একটা বিছানার দৃশ্য থাকবে, সেখানে বিকলাঙ্গ প্রেমিকের মতো পরস্পরের শরীর ধের মোচরা মোচরি করবে পাত্র-পাত্রীরা, তারা ঠিক খোলামেলা প্রেম করতে পারবে না এমন কি যোগ্যতা না থাকায় তারা এই নিজের চেহারায় সেই শাররীক প্রেমানুভুতিও ফুটিয়ে তুলতে পারবে না, বরং সমস্ত চিত্রায়নটাই উৎকট একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই ধারা থেকে আরও একটু বাণিজ্যিক ধারায় ঢুকে যাচ্ছে বিকল্প ধারা, হিন্দি ছবির মতো দুই দুইটা আইটেম সং গাইছে কৃষ্ণকলি- বাংলাদেশের সুনিতি চৌধান।
ছবিতে কৃষ্ণকলির মনে হয় ৩টা গান আছে, দে দোল দে দোল দোলা, কোন বাঁশরী গভীর রাতে, আর কোন শহরে যাবি রে মন।
দে দোল দে দোল দোলা দে দোল দে দোল দোলা বিষের জ্বালা, এই গানটাই মনে হয় চন্দ্রগ্রহনের ট্রেলারে বাজতো সারাক্ষণ , এমন কি রাস্তায় বের হলেও এই দোলাদোলির যন্ত্রনায় একটা অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম, তবে এর পরের অংশ কখনই চলতি পথে শোনা হয় নি। আজ শুনলাম, শুনে মনে হলো এখনও রুনা লায়লাই সেরা, চটুল গান কিংবা এইসব প্রায় আদিরসাত্মক গানের জন্য রুনা লায়লার বিকল্প নেই।
দে দোল দে দোল দোলা- নিশি রাইতে আমারে আইসা চুদো আমন্ত্রনের গান। কামার্ত যুবতীর কামনিবৃতি পুরুষের ধর্ম, তবে ছবিটা দেখা না থাকায় বোধগম্য হলো না উঠতি বয়েস আমার শরীরে জ্বালা টাইপ গানের প্রয়োজন কিছু ছিলো। তবে বিষয়টা নিয়েও আসলে তেমন কিছুই বলার নেই, কামার্ত যুবতীর কামনির্বানের হাহাকার শুনলে সেটা নির্জনে হলে খারাপ লাগতো না হয়তো তবে একটা সময়ে প্রতি দিনই এই কামার্ত যুবতীর কামনিবৃতির কাতর অনুনয় সবাই শুনছে এবং সেটা নিয়ে কোনো কথা হয় নি বিষয়টাই আশ্চর্য লেগেছে।
কৃষ্ণকলির গাওয়া প্রায় একই রকম আরও একটা আদিরসাত্মক গান আছে এই ছবিতেই- কোন বাঁশরী গভীর রাতে দিলো ফুঁক বাঁশীতে- প্রথম অংশটুকু শুনেই একটু বিরক্ত হলাম, বাঁশরী যদিও নিজেই নিজের পাছায় ফুঁ দিয়ে আওয়াজ তুলে না এরপরও মেনে নেওয়া গেলো বাঁশরী যৌবনের জ্বালায় অস্থির হয়েই এই কাজ করে শরীরে ভীষণ কামজ্বর এনেছে ডেপো ছুকরির। তাল আর মাত্রা মেলানোর জন্য অহেতুক ডিং ডারিংরিন ডিংরারিংরিং উচ্চারণ এবং সেই সাথে কণ্ঠে মৃদু শীৎকার আনবার প্রচেষ্টা নিয়ে গানটাকে যাত্রার শেষ রাতের গানের রুপ দিয়েছে।
দেহের খাঁচার অন্তর পাখী ছটরফটর ছটর ফটর করে- একা একাই কেমনে দেখাই প্রেমের জ্বালায় মরে, আমার এক যৌবন গত- পারি না একাকী পারি না থাকিতে রে।
যদিও এইসব প্রায় মুজরা ধাঁচের গান নিয়ে আমার আপত্তি করবার কিছু নেই, তবে চলচিত্র অশ্লীলতামুক্ত করবার আন্দোলনের ফলাফল কি হলো? তথাকথিত নির্মাতা যারা এফডিসিকে গভীর রাতে পর্ণো ইন্ড্রাস্টি বানিয়ে ফেলেছিলো, যাদের পিছনে হন্যে হয়ে ঘুরছে র্যাব, তাদের এইসব দ্ব্যার্থক গান এবং তাদের চিত্রায়নের জন্যই ছবিগুলো অশ্লীল ছিলো, তবে কৃষ্ণকলির এই গান সরাসরি মুজরাউৎসৃত-
কৃষ্ণকলি অহেতুক গলায় মিহি টান দেয় আর সুরটা ঠিক লাগবার আগেই গলা ভেঙে যায়, হঠাৎ করে মনে হয় কেউ নেশার ঘোরে গান গাইছে, আমি কৃষ্ণকলির গান শুনি না আগে, এই পরিচিতির পরে পরবর্তীতে হাতে পায়ে এসে ধরলে কৃষ্ণকলির গান শুনবার কথা বিবেচনা করতে পারি।
ছবির সংগীত পরিচালনা করেছে মনে হয় টুটুল আর হাবিব, ছবির হাবিবের গানটা আর বাউল গানটাই শুনবার যোগ্য, মূলত মনের জোড়ে চলছে দেহো গানটা চমৎকার হতে হতেও প্রত্যাশা পুরণ না করে থেমে যায় , সুন্দর গান হয়ে উঠবার সম্ভবনাটুকু খুন হয়ে যায়, একই কথা বলা যায় তোমারে দেখি লো পরাণ ও ভরিয়া গানটার ক্ষেত্রেও-
অবশ্য গানগুলো সুর আর সংগীত নিয়ে আপত্তি নেই, গানের গীতিকার ঠিক ততটা দিতো পারে নি যতটা দিলে এটা চিরনবীন গান হয়ে যেতে পারতো ।
হাবিবের কথা নতুন করে বলবার কিছু নেই, এ আর রহমানকে অনুসরণ করে হাবিব, সুতরাং তার গানে কিছুটা এ আর রহমানের ছাপ পাওয়া যায়, টুটুল অনেকের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা পায়, কিছুটা পুরোনো হিন্দি ছবির সুর, কিছুটা সেন্টিমেন্টাল রক ,কিছুটা মাইকেল জ্যাকসন- সব মিলিয়ে একটা মিশ্র সুর- টুটুলের করা এর আগের ছবির গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলাম, তবে এই ছবিতে চুরি করা সুরগুলো ঠিক মতো পরস্পরের সাথে মিশে নি।
তবে ছবিতে কোনো উপযোগীতা আছে কি না জানি না, তবে এই ছবির সেরা গান
একের সাথে এক মিলে যে এক হয়েছে যোগের ফলে-
না পেলে সেই পরশ পাথর এই হিসাব তো মিলবে না তোর
যন্ত্রে কলে, বা কৌশলে ।
গানটা যদি জামান নামের বাউলই গেয়ে থাকে তবে তার শুনবার আগ্রহ রয়েই গেলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


