somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণতন্ত্র স্বাগতম

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ আনন্দে কাঁদে, দুঃখে কাঁদে, কাঁদে আশ্চর্য হলে। নির্মমতায় কাঁদে, মমতায় কাঁদে।ব্যর্থতা- সাফল্যে কাঁদে। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে কাঁদে, কাঁদে প্রিয়জনের বিয়োগেও। আশ্চর্য দুই চোখ আর এর অশ্রু, কত আবেগ প্রকাশ করে, কত আবেগ প্রশমিত করে।
সব কান্নাই সব আবেগকে প্রকাশ করতে পারে না। বড় কোনো প্রকাৃতিক দুর্বিপাকে সব হারানো মানুষ হাহাকার করে, আর্তনাদ করে, অবরুদ্ধ কান্নায় ভেঙে পড়ে না। উর্ধাকাশের তাকিয়ে অসহায় তাকিয়ে থাকে বিস্মিত হয়ে। যিনি দেন তিনি কত সহজেই সব কিছু দেন, আবার যখন সব কিছু মুছে নিয়ে যান তখন এমন কি প্রিয়জনের চিহ্নটুকুও থাকে না জমিনে।

এই জমিনে একদিন আমার বসত আছিলো বুঝলি, ঐ যে , বলে নদীর মাঝ খানে আঙ্গুল দেখিয়ে ফোঁকলা দাতে হাসেন বৃদ্ধা, কিন্তুন নদি খায়া ফেললো একদিন, উপরওয়ালার মর্জি, তিনি কখন কি নিয়ে যাবেন বুঝা যায় না।

এই হাসিতে বিষাদ লুকানো থাকে, ছেলেবেলা লুকানো থাকে এই হাসির পরতে পরতে। ডাঙর নদীর কথা কইয়ে লাভ নাই খুঁড়ো, যাও দেখো ঐ পার কি মচ্ছব বইসছে। করিমুদ্দির চরে চরক মেলা হচ্ছে গত দুই বছর ধরেই।

আমার ছেলেটা, আমার ছেলেটা, মেলার শেষ বেলায় ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কাঁদে সেলিনা। হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ছেলে ধরা ধরে নিয়ে গেলো, নাকি বস্তায় ভরে বিদেশে পাঠায়া দিলো এই আশংকা থেকে মুক্তি পেয়ে পরিতৃপ্তির কান্না কাঁদে, ছেলের পিঠে ছদ্ম দুইটা কিল বসিয়ে হাসে আর কাঁদে। আর কখনই যাবি না আঁচল ছেড়ে। মা ছেলে দুজনেই কাঁদে, মমতায় আদ্র হয় চোখ।

অসহায়ত্বের কান্না কাঁদছে লোকটি, এটাকে হাহাকার বলা যাবে না, নির্ব্যক্ত অভিমান থাকে হাহাকারে। নিজের অসহায়ত্বের বয়ান থাকে নিরাকারের কাছে, পরম শক্তিশালী কারো কাছে অনুযোগের কান্না কাঁদে দুর্বিপাকে, তবে এই কান্না তেমন কান্না নয়। এই কান্না অবদমিত কান্না, চেপে রাখা কান্নার সাথে হাহাকার বুকের ভেতর দিয়ে বুদবুদ হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।

লোকটা তার ফলের ঝুড়ি নিয়ে বসে আছে নির্মম ইট কাঠের কারাগার, এই শহরের এক উঁচু অট্টালিকার সামনে। সে কাঁদছে না, বরং প্রাণপনে চেষ্টা করছে কান্নাকে লুকাতে। তবে এই কান্না অপমান আর অসহায়ত্বের কান্না। স্বজাতির কাছে প্রতারিত হওয়ার কান্না এটা। ক্ষমতাবানদের সামনে ক্ষমতাহীনেরা যেভাবে বিলাপ করে এ কান্না তেমন বিলাপ।

ক্ষমতাবানের অস্ত্র থাকে, আইনের জোর থাকে, থাকে নিয়মিত লেঠেল বাহিনী। তারা সন্ত্রস্ত করে রাখে পুরো জনপদ, মানুষ ভয়ে কাঁদতে ভুলে যায়, মানুষের চোখের পানি চোখের অলিন্দে এসে শুকিয়ে যায় ভয়। তারা কান্না চুরি করতে শিখে যায় প্রতিদিনই। প্রতিদিনই তারা কান্না চুরি করে লুকিয়ে রাখে কোনো গোপন প্রকোষ্টে।

তবে সব কান্না গোপন প্রকোষ্টে জমা থাকে না, বরং সিন্দুকের আগল গলে মাঝে মাঝে বের হয়ে আসে। আমি লোকটাকে দেখি। লোকটার অবরুদ্ধ অবদমিত কান্না বোধ হয় সহানুভুতির অপেক্ষায় ছিলো।

এই কান্না নিরাপদ প্রকাশের পথ খুঁজে, এই কান্না বুকের ভিতরে নিয়ে ঘুরছে যারা তারা বুঝে কতটা চাপ হয়ে বসে থাকে বুকের পাথর।

আমি- আর কোনো শব্দ শোনা যায় না লোকটার মুখে থেকে। বয়স্ক একজন মানুষ সম্পূর্ণ অকারণে রাস্তায় বসে বিলাপ করবে এমনও না, কোনো একটা কারণ নিশ্চিত আছে, এই প্রবল ভীতি এবং কান্না লুকিয়ে রাখবার কোনো কারণ নিশ্চিত আছে।

প্রচন্ড ভয়ে মানুষটা নিজের কান্না লুকিয়ে রাখতে চাইছে প্রাণপনে, কোনো অভিযোগ করবার সাহস পাচ্ছে না। এমন কি নিজের কাছেও নিজের নিরাপত্তা নিজের জীবন আর প্রিয় পরিজনের মায়া প্রবল হলে মানুষ সচারাচর ঘাঁটাতে চায় না।

হয়তো লোকটা হিস্টেরিক , হয়তো লোকটা তার অতীত মনে করে কাঁদে, এই নির্মম শহরে অনেক দিন পরে নির্বাচন এসেছে। নির্বাচনের সুযোগে বের হয়ে এসেছে সব শ্বাপদেরা। তারা যুথবদ্ধ হয়ে নৌকা আর ধানের শীষের মিছিল করে।

এ্যঁই শ্লোগান কেমন জমছিলো।
ভালোই জমছিলো ওস্তাদ।
জমলে তো ভালো। ২৯ তারিখে বুঝন যাইবো কে কি করছোস।

এরা এতদিন ঘাপটি মেরে ছিলো হয়তো। তবে আজ সন্ধ্যায় মিছিল শেষ করে যাওয়ার পথে এই ফেরীওয়ালা ফল বিক্রেতার সারাদিনের উপার্জন হাতিয়ে নিয়ে গেছে তারা। অবশ্য পৃথিবী শক্তিমানের ভক্ত। তাদের সংঘবদ্ধতার শক্তি আছে। তারা যাওয়ার আগে শাসিয়ে গেছে, অবশ্য শাসানোর প্রয়োজন ছিলো না, এই ফেরীওয়ালা এই গলিতে নতুন। এখানের মানুষকেও চিনে না সে। প্রতিহিংসা কিংবা প্রতিশোধের আকাঙ্খা নেই তার। শুধু কিছুটা আক্ষেপ আছে এই বিলাপের সাথে,

যদি, যদি শুধু মাত্র একটু আগে বুঝতে পারতো, এই মিছিল শেষ হওয়ার পরে যখন সবাই যে যার রাস্তায় চলে যাচ্ছে, তখন এই মিছিলের সামনে থাকবার দুর্মতি যদি তার না হতো,

যদি, যদি শুধুমাত্র এইটুকু বুঝতে পারতো-

এই কান্না সহানুভুতি খুঁজে , খুঁজে আশ্বাস। আর তাই বহুতল অট্টালিকার দারোয়ানের টেবিলের উপরে ঝুঁকে কাঁদতে থাকে। কিংবা তার এই উদগত কান্নাকে দমানোর চেষ্টা করতে থাকে প্রাণপনে।

গণতন্ত্র স্বাগতম- স্বাগতম নির্বাচন।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×