আমার ভেতরে কোথাও না কোথাও একটা সুশীল ঘাপটি মেরে আছে, তাকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি, আশৈশব যেসব নীতিকথা শুনে বড় হয়েছি, সেইসব নীতিকথার প্রভাবেই হয়তো যেকোনো নিষেধাজ্ঞাকে মান্য করতে শিখেছি।
অবশ্য শোভনতার সীমা অতিক্রম করে অশোভন হয়ে উঠবার জায়গাতে গেলে নিজেকে অশোভন করে তোলার বিকল্প নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তখন লড়াই ছাড়া বিকল্প থাকে না, কিন্তু মরিয়া হয়ে উঠবার আগ পর্যন্ত আমি আইনানুগ মানুষ। নিয়মিত আইন মেনে চলি।
রাস্তার বাম পাশ দিয়ে হাঁটবেন, সুতরাং আমি রাস্তার বাম পাশ ঘেঁষে চলবার চেষ্টা করি। ট্রাফিক আইন মান্য করে চলবার চেষ্টা করা কঠিন বাংলাদেশ, এখানে ট্রাফিক হিসেবে জন্তু এবং মানুষ এবং মাঝামাঝি সবকিছুই রাস্তায় থাকে, তাদের নিজস্ব নিয়ম এবং নিজস্ব নিয়মের উপেক্ষাকে মাথায় রেখে রাস্তায় চলতে হয়। এরপরও যখন শিখলাম সবুজ বাতি জ্বললে আর ওয়াক সাইন জ্বললে রাস্তা পার হওয়ার নিয়ম, তখন থেকেই ট্রাফিক বাতি দেখে রাস্তা পারাপারের চেষ্টা,
ঢাকা শহরে ওভার ব্রীজ করেছে, তার পাশে লেখা নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য ওভারব্রীজ ব্যবহার করুন। আমি নিয়ম মেনে ওভার ব্রীজে উঠি, ওভার ব্রীজেই রাস্তা পারাপার করি।
হঠাৎ করেই নিয়ম হলো প্রকাশ্যে ধুমপান নিষেধ, টিএসসির বারান্দায় নিয়মিত সিগারেট টানতাম, সেখানে ধুমপান নিষিদ্ধ হওয়ার পরে আমি টিএসসি ছাড়লাম, কিন্তু টিএসসির ভেতরে সিগারেট টানবার অসস্তি কাটাতে পারলাম না।
আমাদের নিয়মিত সময় কাটানো একটা জায়গা ছিলো সোহওয়ার্দি উদ্যান আর রমনা পার্ক, আমরা সেখানের ব্রেঞ্চে বসে প্রেম দেখতাম, বিড়ি ফুকতাম, সোহওয়ার্দি এখনও বদলায় নি, কিন্তু রমনায় দেখলাম নোটিশ লাগানো, এখানে ধুমপান নিষেধ, অবশ্য লিখিত থাকলেই যে ভেতরের দৃশ্য এমন হবে তা না, সুতরাং আমি নিয়মিতই দেখে রমনা পার্কে চমৎকার সিগারেট টানছে মানুষ, আমি সিগারেট ভর্তি প্যাকেট নিয়ে বসে থাকি, হেঁটে হেঁটে গেটের বাইরে এসে সিগারেট ধরাই, সেটা শেষ হলে যদি ভেতরে যাওয়ার আগ্রহ থাকে তবে ঢুকি নইলে আর ঢুকতে ইচ্ছা করে না।
সুশীলতার প্রকোপ এতটা বেড়েছে এটা বুঝলাম পরশু। অনেক দিন পর সকালে হোটেলে ঢুকলাম নাস্তা করতে, এটা নিত্য দিনের নিয়ম, আমি সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন এখানে নাস্তা করি, মাঝে বেশ কিছু দিন যাওয়া হয় নি, এবার গিয়ে নাস্তা করছি, নাস্তা শেষ হলো, চায়ের কথা বলবার পরে ম্যাচিয়ার মামা বললো এখানে সিগারেট ধরানো যাবে না,
চোখ তুলে দেখি অন্তত ৭২ ফন্টে নোটিশ ঝুলছে, ধুমপান নিষেধ। চায়ের সাথে সিগারেটের লোভটা দমন করে বাইরে আসি সিগারেট ধরাই।
পরদিন দেখা হলো আরেক জনের সাথে- সে আমাকে বললো- আপনার ব্রান্ড কি?
বললাম এখানে সিগারেট ধরানো নিষেধ-
আরে রাখেন মিয়া- ফস করে সিগারেট ধরানোর পরে নাকে মুখে ধোঁয়া ছেড়ে বললো।
আমি বিদায় নিয়ে রাস্তায় সিগারেট ধরালাম।
মাথার ভেতর থেকে সুশীলতার ভুত না তাড়ালে বিপদে পড়বো বুঝতেছি, কিন্তু ঘাড় থেকে নামানো যাচ্ছে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

