এই মেইল যদি ৭জনকে ফরওয়ার্ড করো তবে তোমার ভাগ্য খুলে যাবে, এই মেইল যদি ৭০ জনকে পাঠাও তাহলে তোমার মনের চাওয়া পূর্ণ হবে, ইশ্বরের গুণগান, করিমুল্লাহ আর সলিমুল্লাহ নামের মাহত্ব্য এবং এর চমৎকারিত্ব বিষয়ে প্রচুর মেইল আমি নিয়মিত পাই বন্ধুদের মারফতে।
আমার নিজের মনস্কামনা পুরণ হওয়ার জন্য এমন অধিভৌতিক পন্থা আমার নিজস্ব পছন্দের তালিকায় নেই বলে আমার নিজস্ব ঠিকানাবহিতে যাদের নাম তালিকা লিপিবদ্ধ আছে, তাদের সবাইকে এসব পাঠাতে পারি না।
এরপরও আমার কাছে আসবার বিরাম নেই, আমার অনেক বন্ধু, স্কুল এবং কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের, সবাই নয়, তবে কেউ কেউ অতিরিক্ত ইশ্বরভক্ত হয়ে উঠেছে, তাদের নিয়ে বিব্রত হতে হয়।
তাদের মুখের উপরে বলতে পারি না, এইসব বালছাল করে মনস্কামনা পুরণ হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই , এটা বুঝবার মতো বুদ্ধি যার কিংবা যাদের নেই, তাদের সাথে এইসব আলোচনা করে বন্ধুত্বা নষ্ট করা উচিত হবে কি না এটা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকি সব সময়।
যাই হোক, এইসব বিশ্বের আশ্চর্য ঘটনা, ইশ্বর নামের মাহত্ব্যের বাইরে কিছু মেইল আসে, সেসবে উজবুকদের উদ্ভব কোথায় আমি জানি না। যেমন- কোকাকোলা শব্দের ইশ্বর অবমাননা, কোকোকলা বর্জন করুন। ওপেরাহ উইনফ্রে শো বয়কট করুন, লিভাইস বয়কট করুন। ড্যানিশ পণ্য বয়কট করুন জাতীয় রাজনৈতিক বক্তব্য সম্বলিত মেইল নিয়মিত আসলে চিন্তিত হই, ঠিক কাদের বন্ধু তালিকা কিংবা ঠিকানা তালিকায় আমার নাম লিপিবদ্ধ আছে। এইসব একটিভিস্টদের যন্ত্রনায় ইদানিং কোনো ফরওয়ার্ডেড ম্যাসেজ দেখলেই মুছে ফেলি।
তবে আজকে একটা মেইল খুললাম, এমন একজনের মেইল, যার সাথে আমার মাত্র একদিনের পরিচয়, এবং আমি যে তার এড্রেস বুকে উঠে গেছি- এই ধারণা আমার ছিলো না। মেইলের প্রসঙ্গ ছিলো, ধোলাইখালের কোনো এক চিপায় পেপসি তৈরি হয়।
মানুষের অনেক কাজ, অনেক সময়, অপচয় করবার মতো, বিশ্বের অতীব আশ্চর্য ঘটনা, এই সুন্দর দৃশ্য না দেখলে জীবন বৃথা জাতীয় মেইল না, বরং খাদ্যবস্তু বিষয়ে সাবধান বানী, এবং দেখে প্রথমে যা বুঝলাম, কোকোকোলা, এবং অন্যান্য পণ্য বর্জনের মেইলের মতো- এই মেইলের উৎপত্তিও মধ্যপ্রাচে, এমন কি যেকোনো উজবুকও একটু দেখলেই এটা বুঝতে পারবে।
কিন্তু এই উজবুক কিংবা তাকে যে বাংলাদেশী উজবুক এটা ফরওয়ার্ড করেছে, তারা ধোলাইখাল শব্দটা দেখেই পাগলের মতো জনসচেতনতা তৈরি করছে।
এমন কি বোতলের গায়ের লেবেল বড় বড় আরবি হরফ দেখে কিংবা বোতল যারা পরিস্কার করছে তাদের চেহারা ছবি দেখেও বুঝে নি, কিংবা যে দোকানের ছবি দেওয়া আছে, দেয়ালের পেছনে যে মানুষটার ছবি ঝুলছে, এইসব দেখেও বুঝে নি যে এটা আদতে বাংলাদেশের কোনো দৃশ্য নয়।
সুতরাং আমি পড়লাম, পেপসী কিভাবে তৈরী হচ্ছে ধোলাইখালের গোপন কারখানায়, এবং মানুষ সেটা খাচ্ছে, কীটনাশক, বালাই নাশক, দাদ পাঁচড়ার মলম হিসেবে পেপসী কোকের ব্যবহার প্রকাশের জন্য কোনো না কোনো রাজনীতি আছে।
বাংলাদেশে পেপসি বর্জনের রাজনীতির পেছনে কি? তাবানী বেভারেজ কোম্পানী, যাদের মালিকানা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের, তাদের বিরোধিতা?
ট্রান্সকমের বিরোধিতা?
যে কারণেই হোক না কেনো। এইসব ফালতু পাব্লিকের যন্ত্রনায় ইদানিং জীবনযাপন অসম্ভব যন্ত্নার হয়ে যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে যারা এইসব জনসচেতনতা বাড়িয়ে জীবন যাপন করে কিংবা নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতা পুরণের চেষ্টা করে, তাদের মাঝ রাস্তায় নিয়ে আচ্ছা মতো চাবকানো দরকার, পাবলিক ন্যুইসেন্স কিংবা স্প্যামিংয়ের জন্য কোনো না কোনো বরাদ্দ শাস্তি দেওয়া উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


