সহায়তা- একটি প্রস্তাব- আলোচনার জন্য-
০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৪
প্রায়ই আমি একটা কথা ভাবি- আমাদের সাধারণ মানুষের ভেতরে পরোপোকারের নেশা আছে, আমরা সবাইকেই আমাদের সীমিত সাধ্যানুসারে সহায়তা করতে চাই, তবে আমাদের নিজস্ব সমন্বয়হীনতা এবং প্রতিটা বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার অভিঘাত সীমিত বলেই সম্ভবত ততটা কার্যকর হয়ে উঠে না আমাদের নিজস্ব প্রচেষ্টাগুলো।
একটা অভিমত কিংবা প্রস্তাবনা আমি তুলছি, সবাই আলোচনা করে নির্ধারণ করা যাক এমন একটা উদ্যোগ নেওয়া সম্ভবপর হবে কি না- তবে এগুলো তেমন অভিনব কোনো প্রস্তাবনা নয়, বরং সীমিত আকারে, কিছু কিছু দল এসব কাজ করছে, সুতরাং একেবারে র্যাডিক্যাল কিছু আমি প্রস্তাব করছি না।
একটি স্বেচ্ছাশ্রম ও সদিচ্ছামূলক সংগঠন তৈরি করা- যারা বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা প্রদান করবে-
এনজিও দারিদ্র ও মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে ব্যবসা করছে- যেহেতু সেটা আমি চাই না, সুতরাং নির্দিষ্ট কোনো অবকাঠামো তৈরির আগে আমার নিজের প্রস্তাবনায় আমি কি কি চাইছি আর কি কি চাইছি না তা স্পষ্ট করে বলে ফেলা ভালো।
আমি চাইছি না কোনো এনজিও তৈরি হোক, যারা মানুষের অসহায়ত্ব এবং দৈনন্দিন চাহিদা নিয়ে ব্যবসা করবে, সুতরাং এই সহায়তা প্রকল্প আর্থিক লেনদেনে জড়িত হবে না। এই সংগঠন কিংবা দলের কোনো সদস্যই পারিশ্রমিক পাবে না। তারা নিজের উদ্বৃত্ত সময়ের একটা অংশ সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করতে চাইলে তারা জড়িত হতে পারে এখানে।
এটা ইহলৌকিক বিষয়াদি নিয়ে কাজ করবে, অর্থ্যাৎ কাউকে ধর্মপালনে উৎসাহ দেওয়া কিংবা ধর্ম পালনএ নিরুৎসাহিত করা কিংবা কাউকে নুরানী, কেতাবি পদ্ধতিতে কোরাণ পড়তে শেখানো কিংবা সঠিক নিয়মে নামাজ পরতে শেখানো জাতীয় উজবুকি মানবহিতৈষী আচরণ এর সদস্যরা করবে না। এটা বস্তুবাদী পৃথিবী ধরে নিয়ে শুধুমাত্র মানুষের ইহলৌকিক জীবনে কাজে লাগে এমন পরামর্শ এবং সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবে এড় সদস্যরা।
কোন আয়াত কতবার পড়ে পেটে ফুঁ দিলে আমাশয় সারে কিংবা অনিদ্রা যায়, কোন আয়াত পড়ে সঙ্গম করলে পূত্র সন্তান লাভ হয়- এইসব ফালতু পরামর্শ নয়, বরং আমাশয় হলে ফুটানো পানি খাওয়া এবং উপযুক্তো ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আসবে এর সদস্যরা।
এটার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। সুতরাং এখান থেকে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহনের চেষ্টা নিরুৎসাহিত করা হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে, সেটা তাবলীগি ধাঁচে না, মন চাইলো, ঘাড়ে তোষক বালিশ তুলে সংসারের দায় দায়িত্ব ভুলে ৪০ দিনের জন্য মসজিদে মসজিদে ঘুরে আসুন নামাজ পড়ি আল্লাহর নাম নেই জাতীয় কাজকারবারে আমার বিশ্বাস নেই, তেমনই ঘৃণ্য এই জনসেবার পেছনে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করবার বাসনা।
তবে সকল রাজনৈতিক মতবাদের মানুষের জন্য এই সংগঠন উন্মুক্ত থাকবে- মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাস তার মানবহিতৈষী আচরণে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
এটার কোনো নেতা থাকবে না, এমন কি কোনো নির্ধারিত জনসেবা ও সহায়তার সময় থাকবে না, যার যে সময়ে সুবিধা হয় তারা তার নিজস্ব সুযোগ ও সময় অনুসারে তার নিজের দায়িত্বে এই সেবার কাজটা করবে। কোনো নির্দিষ্ট লোকালয়কে আমরা সহায়তা করতে চাইছি না, বরং সবাই নিজের আশেপাশের এলাকায় ঘুরে নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে, তার উপযুক্ত সেবা কোনটা হতে পারে।
সহায়তা -
স্বাস্থ্য ও জীবন যাপনের পরিবেশ উন্নয়ন
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
আইনি সহায়তা
একদল মেডিক্যাল স্টুডেন্ট কিংবা একজন ডাক্তার তার আশে পাশের কোনো একটা দরিদ্র জনবসতিতে নির্দিষ্ট একটা দিনের নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘন্টা বসে তাদের চেক আপ করলেন, উপযুক্ত ঔষধ লিখে দিলেন, যদি তার সামর্থ্যে কুলায় কিছু ঔষধও দিলেন, আর যদি ঔষধ স্বল্পতা থাকে, তাহলে সেটা কিভাবে ম্যানেজ করতে হবে সেটার সহায়তা চাইলেন অন্য একদলের কাছে।
নেশা ও মানসিক সমস্যাও প্রকট দরিদ্র জনবসতিতে- সেখানে নেশাভিত্তিক অপরাধে জড়িয়ে পড়া মানুষ আছে, নির্যাতিত নারী পুরুষ আছে, যাদের আইনী সহায়তা প্রয়োজন এবং আইনি পরামর্শ প্রয়োজন, কোনো উকিল কিংবা এডভোকেট কিংবা আইনের শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট একটা সময়ে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দিলো কিংবা তাদের সমস্যাগুলো শুনলো এবং অভিযোগ দায়েক করা সহ এইসব আইনী দিকগুলো দেখলো-
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য একটা নির্ধারিত অবকাঠামো প্রয়োজন, এই মুহূর্তে সেটা বলা সম্ভব হচ্ছে না প্রশিক্ষণ কিংবা শিক্ষা তারা কিভাবে দিতে পারে, তবে শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহায়তা দিতে পারে কেউ কেউ, কেউ নিজের অবসর সময়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও পান্ডিত্ব্য দিয়ে অনগ্রসর কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীকে পড়া দেখিয়ে দিতে পারেন,
আমাদের সহায়তা করবার অনেক উপায় আছে, মানুষের চাহিদাও অনেক রকম, প্রতিটা এলাকার নিজস্ব ধাঁচের সমস্যা এবং এটার সমাধানের উপায় সে স্থানের স্বেচ্ছাসেবীকেই খুঁজে নিতে হবে।
তবে কেউ যদি নিজের বাসার একটা ঘরে কাউকে কম্পিউটারে প্রশিক্ষিত করতে চায়, সেটা একজন হোক, ১০ জন হোক, সংখ্যাটা মূল বিবেচ্য নয়, যদি একজনকে সহায়তা করে তার অর্থনৈতিক শ্রেণী উত্তোরনে সহায়তা করতে পারি, যদি তাকে আর একটু ভালোভাবে বাঁচতে সহায়তা করতে পারি, সেটাই হবে একজনের বড় পাওয়া।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ইতিবাচক কোনো প্রস্তবনা এখনও আসলো না। এটাই সবচেয়ে স্বাভাবিক পরিণতি এইসব লেখার।
যীশূ বলেছেন:
ভাবতে ভালোই লাগে।
দিনযাপন বলেছেন:
পুরো পরিকল্পনার সাথে আগাগোড়া সহমত।কিন্তু,যে কোন ধরনের কার্যক্রম কে গতিশীল এবং সফল করতে কাউকে না কাউকে নেতৃত্ব নিতেই হয়।নেতা ছাড়া যে কোন ধরনের উদ্যোগ ই সমন্বয়হীনতার কবলে পড়তে বাধ্য।আমরা কি করব,কখন করব সেটা ঠিক করা থাকলে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ই যদি সবসময় চলমান থাকে যে কেউ তার সময় এবং সুযোগ অনুযায়ী পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
লেখক বলেছেন: নেতৃত্ব কোনো কেন্দ্রীয় জায়গা থেকেই তৈরি হতে হবে এমন নয়, শ্রীমঙ্গলের একদল ছেলে কি করবে সেটা আমি ঢাকায় বসে নিয়ন্ত্রন কিংবা নির্ধারণ করতে পারবো না। শ্রীমঙ্গলের স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেরাই নিজেদের নেতা নির্মাণ করবে, তারাই নিজেদের কর্মকান্ডকে সমন্বয় করবে।
তারা যদি নিজেরা চায় কোন একটা নিজস্ব অর্গানাইজেশন তৈরি করবে, সেখানে দল নেতা, সদস্য এইসব আমলাতন্ত্র ঠিক করবে, সেটা সেই একদল মানুষকেই ঠিক করতে হবে।
স্বেচ্ছাসেবক এবং অর্থনৈতিক ভাবে হীন একজন হিসেবে আমি নিজে জানি যদি আমাকে কোনো জায়গায় গিয়ে কোনো কিছু সমন্বয় করতে হয়, সেটার জন্য নির্ধারিত অর্থ সংস্থান, সেখানে অবস্থান এবং অন্যান্য বিষয়াদি দেখে তাৎক্ষণিক কিংবা একটা সপ্তাহের ভেতরেই সমাধান দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নেতৃত্ব তৈরি এবং সমন্বয় সম্ভব একমাত্র তখনই যখন প্রচুর অর্থ আছে এই উদ্যোগের পেছনে। এটা একেবারে অনর্থনৈতিক পরিকল্পনা। মানুষের শুভবোধের বাইরে এবং মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় এই চাওয়ার বাইরে এখানে অন্য কোনো প্রণোদনা নেই।
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
ভালো প্রস্তাব। কিন্তু আমার কেন যেনো মনে হয় আমরা একটু বেশী আবেগপ্রবন। আবেগের ঠেলায় যা করার করে ফেলি। একটু দেরী হলেই ধৈর্য্য থাকে না। সেটা পারিবারিক, সামাজিক অথবা রাষ্ট্রীয় সবকিছুতেই।
লেখক বলেছেন: আবেগে যতটুকু হয় সেটাতে বেশিদুর আগানো যায় না।
একদিন, দুই দিন, তিন দিন ভালো লাগে, এরপর নিজের সময়, নিজের প্রায়োরিটি এইসব ভাবনাও মাথায় আসে, তবে কোনো একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ছুটলে সেটা আবেগ থেকে দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার জায়গায় পৌঁছে গেলে তখন এইসব ধৈর্য্য ও অন্যান্য বিষয় আসবে।
শুরু করতে হবে আগে। বৃহত কোনো প্রলোভন না থাকলে নবকুমারদের পাওয়া কঠিন। শুভ একটা লেখায় লিখেছে, তাবলীগের মানুষেরা ঘাড়ে বোঁচকা নিয়ে ৩ দিনের চিল্লায় চলে যেতে পারে কিন্তু ত্রান নিয়ে আক্রান্ত জনপদে যাওয়ার জন্য তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না।
মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লা আল্লা হাঁক দিলে সেটা আল্লা মিয়া কিভাবে দেখবে?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















আলোচনা হোক এবং খুব ইতিবাচক কিছু প্রস্তবনা আসুক যাতে করে এর একটা গ্রহণযোগ্য ফরম্যাট দাঁড়িয়ে যায়।