মাংসের নাচুনি দেখে যে দুস্থকে সাহায্য করতে চায় সে অনায়াসে হতে পারতো বেশ্যার দালাল।
২৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৯:২৮
দুস্থ মানবতার সেবায় ও সাহায্যে যারা এগিয়ে আসে না সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তারা মানবাকৃতির প্রাণীমাত্র। এসব প্রাণীরাই বন্যা-খরা-ঝড়-জলাঙ্কা সংক্রান্ত জনগনের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায় না।
তাদের থেকে টাকা আদায় করতে হলে রূপবান-রূপবতীর নাচেরগানেরবাজনার ও অভিনয়ের কিংবা ম্যাজিক শোর ব্যবস্থা করতে হয়। এমন কি অনুষ্ঠানের আয়োজনে ত্রানের অর্থ সংগ্রহে আমি একটি অমানবিক বীভিৎসা দেখি। এ যেনো সদ্য যুবতি বিধবা স্বামীর কাফন-দাফনের টাকা ভিক্ষার জন্য হাত পাতলে যদি ভিক্ষাদাতা বলে যে আগে আমাকে দেহদান কর, তাহলে শুধু কাফনের টাকা নয় আরো বেশী টাকা দেব-প্রস্তাবের মতো পাসরের বীভৎস রুচির পরিচায়ক।
আহমেদ শরীফের ডায়েরী- ১১.০৭.৯৫
বর্তমানে এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের কারণে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ এবং সে জন্য বিভিন্ন বিনোদন অনুষ্ঠানের আয়োজন। কেউ নিজের সদিচ্ছায় অর্থ প্রদান করতে আগ্রহী নয়, বরং বিনোদনবাবদ যে মাসিক বরাদ্দ থাকে সচ্ছল মানুষের তার একাংশ এই বিনোদনের ছলে মানবসেবায় প্রদানের উদ্যোগটাকে একই পাল্লায় মাপা যায় সম্ভবত।
মানবহিতোষ্যি সাধু মানুষ কেউ নয়, প্রচারণার দায়িত্ব নিয়ে আগে যেমন চাদর হাতে ধরে ত্রান সংগ্রহে বের হয়ে যেতো মানুষ, গণ সংগীত গাইতে গাইতে তারা নিজেদের মানবিক দায়িত্ব পালন করতো এবং আশেপাশের সবাইকে জানিয়ে দিতো কোথাও কেউ তার সাহায্যের সামান্যের অর্থের জন্য অপেক্ষা করে আছে, গৃহবাসী রমণীরা নিজেদের হাতের বালা, ভাঁড়ার থেকে আনাজ ও বাজারের খুচরো জমিয়ে তোলা তহবিল অকুণ্ঠচিত্তে সেখানে প্রদান করতেন,
আমি এইসব মানবিক উদ্যোগগুলোকে সেভাবেই দেখতে চাই। যদিও এইসব ত্রানের মিছিলে কেউ কোমড় দুলিয়ে নাচতো না, কিংবা নিজের বক্ষের ঝাঁকুনিতে কাউকে যৌনপরিতৃপ্তি দিতো না এরপরও মানুষ নিজের মানবিকতার বোধ থেকেই অর্থ দিতো। ইদানিং মানুষের কামুকতা বেড়েছে, সুতরাং আরও মাংসল বিনোদন চায়।
তাদের জয় হোক, যদি মাংসের নাচুনি দেখে কেউ তৃপ্ত হয়ে দুস্থকে ত্রান দেয়, সে পতিতাবৃত্তির প্রসারেও জড়িয়ে পড়তে পারে অনায়াসে।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মুরুববী বলেছেন:
গ্রাম্য ছেলে বলেছেন:
ভালো লেখা। শুভ কামনা।।
সাদা মনের মানুষ বলেছেন:
তাইতো এতোসব তো ভেবে দেখিনি
ফালতু মিয়া বলেছেন:
হইতেও পারে, তবে নাও হইতে পারে। কারণ এখনও কিছু মানুষ আছে যারা অমানুষ না।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
এহ, একদম মনের কথাটা বলে দিয়েছেন ভাই। এসব নিয়ে ভাবি। লেখার সাহস পাই না। কারণ, ভাষার এত শক্ত গাঁথুনী নেই আমার।++++++
ত্রিভুজ বলেছেন:
একটু আগে একটা পোস্টে আপনার কিছু মন্তব্য পড়ার পর এই পোস্টটার সাথে আপনাকে মেলাতে পারছি না....আপনার ভাবনার সাথে একমত। প্রিয় পোস্টে রাখলাম..
লেখক বলেছেন: তর্কের উদ্দেশ্যে তর্ক হলে সেটা আগ্রহ নিয়ে করা যায়, যখন ঝোঁকটা থাকে হোগায় আঙ্গুল দেওয়ার তখন তর্ক নিয়া আগ্রহ আমার কম।
আমার একটা মতামত চাইছিলো, আমি দিলাম, বিষয়টাতে এর বেশী কিছু নাই।
নাসিম কাদের বলেছেন:
অন্যধাচের লিখা ।
কিন্তু দান করার জন্য এই সব অনুষ্ঠানে কেউ অংশগ্রহণ করে বলে আমার মনে হয় না। এই অনুষ্ঠানগুলোতে যারা অংশগ্রহণ করে, দানের উদ্দেশ্যে না হলেও সেখানে তারা স্বাভাবিকভাবেই অংশ নিত বলেই বরং মনে হয়।
অনুষ্ঠানটাই আসলে তাদের আকর্ষণ, দানটা না। দান করার সদিচ্ছা থাকলে খেমটা নাচের প্রয়োচন হয় না।
লেখক বলেছেন: সেটার জন্য প্রচারণা লাগে। একটা শহরের ব্যপ্তি বেড়েছে, মিডিয়া সাহায্যের আবেদনজাতীয় আহ্বান প্রথম পাতায় রাখে না, চ্যানেলে যে সময় সহায়তার আবেদন জানানো হয়, সেটাও উৎকট একটা সময়।
যদি কেউ না জানে তাহলে সহায়তা করবে কিভাবে?
তবে এটার জন্য বাদ্য বাজিয়ে কোমর ঝাঁকিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে হলে বিষয়টার সাথে আহমেদ শরীফের উপলব্ধি মিলে যায়।
শাহারিয়ার আহমেদ বলেছেন:
অসাধারন লেখা। +
শয়তান বলেছেন:
সময়টা খুব খারাপ ।লেখাটা পড়ে ওয়েবে বহুল প্রচারিত একটা ভিডিওর কথা মনে পরলো । গাড়ি যাত্রির কাছে হাত পেতেছে বোরকায় ঢাকা এক কিশোরী । গাড়ি যাত্রি কিছু টাকা দিলো বটে তবে বিনিময়ে কিশোরীর বুকে হাত রাখতে দিতে হল।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
+ আহমদ শরীফ স্যারের ডায়েরী থেকে কোট করার জন্য ।+ আপনার নিজের মতামতের জন্য ।
আর সেখানে যদি নর্তকীর মহৎ উদ্দেশ্য জানার পর দর্শকও যা দেয়া উচিত তার চেয়ে বেশী টাকা দেয়, তাহলে কি দর্শকের সেই অতিরিক্ত প্রদত্ত অর্থটাও "নাচের শরীর দেখার লোভজনিত" প্রদান হয়, নাকি "নর্তকীর মহৎ উদ্দেশ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত" প্রদান হয়?
লেখক বলেছেন: নর্তকী হয়তো নিজে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই কাজটা করছে- কিন্তু এই কাজটা করবার জন্য তাকে অন্য আরও অনেক সাম্ভাব্য অনুদানদাতাকে বিনোদিত করতে হচ্ছে-
আহমেদ শরীফের বক্তব্য ঠিক এ জায়গাটাতেই- নর্তকী ভাড়া করে ত্রান তোলা নয় বরং একদল মানুষ নিজের বিনোদনের খরচটাই বিনোদিত হয়ে ত্রান তহবিলে দিচ্ছে এটার বিরোধিতা করে।
দর্শক নজরানা দেয় মুজরায় কিংবা যাত্রা পালায়, কিন্তু টিকেট কেটে সমাজ সেবা প্রকল্পে দর্শক অতিরিক্ত অর্থ দেয় না। ঈদের জামাতে মাদ্রাসার ছেলেরা গামছা ঝুলিয়ে ঘুরে, তবে যখন কনসার্ট হয় তখন কেউ এমন গামছা ঝুলিয়ে ত্রানের অর্থ সংগ্রহ করে না।
স্বপ্নকথক বলেছেন:
চরম পোস্ট!
জেনারেলিসিমো বলেছেন:
জনস্বার্থে ঠেলা।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















তাই বুঝি আজ মানুষ আর্ত-পীড়িতকেও দান করতেও গিয়েও নি:স্বার্থ হতে পারেনা। প্রতিটি ঘটনাই আজ মানুষের কাছে বানিজ্যিক। প্রতিটি দানের বিপরীতে কিছু না কিছু দৃশ্যমান (ট্যান্জিবল) প্রাপ্তির হিসেব মেলাতে চায়। মানবতা আজ যেন ক্যাপিটালিজমের শিকার। ঘুর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসাক্রান্ত পীড়িত মানুষকে কিছু দান করতে আপত্তি নেই, তবে বিনিময়ে নিজে কি পাচ্ছে তা নিশ্চিত হতে চায়।