দুস্থ মানবতার সেবায় ও সাহায্যে যারা এগিয়ে আসে না সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তারা মানবাকৃতির প্রাণীমাত্র। এসব প্রাণীরাই বন্যা-খরা-ঝড়-জলাঙ্কা সংক্রান্ত জনগনের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায় না।
তাদের থেকে টাকা আদায় করতে হলে রূপবান-রূপবতীর নাচেরগানেরবাজনার ও অভিনয়ের কিংবা ম্যাজিক শোর ব্যবস্থা করতে হয়। এমন কি অনুষ্ঠানের আয়োজনে ত্রানের অর্থ সংগ্রহে আমি একটি অমানবিক বীভিৎসা দেখি। এ যেনো সদ্য যুবতি বিধবা স্বামীর কাফন-দাফনের টাকা ভিক্ষার জন্য হাত পাতলে যদি ভিক্ষাদাতা বলে যে আগে আমাকে দেহদান কর, তাহলে শুধু কাফনের টাকা নয় আরো বেশী টাকা দেব-প্রস্তাবের মতো পাসরের বীভৎস রুচির পরিচায়ক।
আহমেদ শরীফের ডায়েরী- ১১.০৭.৯৫
বর্তমানে এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের কারণে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ এবং সে জন্য বিভিন্ন বিনোদন অনুষ্ঠানের আয়োজন। কেউ নিজের সদিচ্ছায় অর্থ প্রদান করতে আগ্রহী নয়, বরং বিনোদনবাবদ যে মাসিক বরাদ্দ থাকে সচ্ছল মানুষের তার একাংশ এই বিনোদনের ছলে মানবসেবায় প্রদানের উদ্যোগটাকে একই পাল্লায় মাপা যায় সম্ভবত।
মানবহিতোষ্যি সাধু মানুষ কেউ নয়, প্রচারণার দায়িত্ব নিয়ে আগে যেমন চাদর হাতে ধরে ত্রান সংগ্রহে বের হয়ে যেতো মানুষ, গণ সংগীত গাইতে গাইতে তারা নিজেদের মানবিক দায়িত্ব পালন করতো এবং আশেপাশের সবাইকে জানিয়ে দিতো কোথাও কেউ তার সাহায্যের সামান্যের অর্থের জন্য অপেক্ষা করে আছে, গৃহবাসী রমণীরা নিজেদের হাতের বালা, ভাঁড়ার থেকে আনাজ ও বাজারের খুচরো জমিয়ে তোলা তহবিল অকুণ্ঠচিত্তে সেখানে প্রদান করতেন,
আমি এইসব মানবিক উদ্যোগগুলোকে সেভাবেই দেখতে চাই। যদিও এইসব ত্রানের মিছিলে কেউ কোমড় দুলিয়ে নাচতো না, কিংবা নিজের বক্ষের ঝাঁকুনিতে কাউকে যৌনপরিতৃপ্তি দিতো না এরপরও মানুষ নিজের মানবিকতার বোধ থেকেই অর্থ দিতো। ইদানিং মানুষের কামুকতা বেড়েছে, সুতরাং আরও মাংসল বিনোদন চায়।
তাদের জয় হোক, যদি মাংসের নাচুনি দেখে কেউ তৃপ্ত হয়ে দুস্থকে ত্রান দেয়, সে পতিতাবৃত্তির প্রসারেও জড়িয়ে পড়তে পারে অনায়াসে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

