আমি যে কারণে ল্যাম্পপোষ্টের আচরণ সমর্থন করছি না।
১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:০৮
ক্যাম্পাস ছেড়েছি অনেক দিন, তেমন নিয়মিত যোগাযোগ নেই ক্যাম্পাসের সাথে। হঠাৎ হঠাৎ অবসর থাকলে এক চক্কর দিয়ে আসি, এর বেশী ঘনিষ্ঠতা আদতে নেই আমার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বেশ বড় একটা বিষয়, এখানকার ছাত্রদের রাজনৈতিক অসচেতনতা এবং অতিরিক্ত রাজনৈতিক সচেতনতা সবই দেখে এসেছি। এবং খুব কম সংখ্যাক রাজনীতিনিষ্ঠ মানুষ আমি দেখেছি আমার বিগত ১৫ বছরের ক্যাম্পাস জীবনে। হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ রাজনীতিকে মানবসেবার একটা পন্থা হিসেবে গ্রহন করেছে।
মূলত রাজনীতি সমাজবদলের হাতিয়ার নয়, বরং নিজস্ব পরিচিতি এবং নিজস্ব পরিচয় নির্মাণের একটা পদ্ধতি। যারা তথাকথিত বুর্জোয়া রাজনীতির চর্চা করে, মানে মৃদু বিপ্লবী এবং অতি বিপ্লবী বামদের ভাষ্যমতে যারা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির উপজাত এবং সেই রাজনীতির লোভ ক্যাম্পাসে ছড়ায়, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে মূলত নিজের আর্থিক সুবিধা আদায়। এখানে রাজনীতি শুধুমাত্র উপার্জনের হাতিয়ার। তবে এর চেয়ে বড় কথা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির সবক নেওয়া রাজনীতিতে উচ্চাকাঙ্খী সকল মানুষের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা , বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর গণ্যমান্য নেতাদের আবাস এখানে , সুতরাং তাদের সরাসরি সংস্পর্শ্ব পাওয়া এবং ক্ষমতাসীন থাকলে অপরাধ করে নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়ে একটু নিশ্চিত থাকা যায়।
বামপন্থী দলগুলো সমাজ বদলের রাজনীতি করে, তারা বিভিন্ন উপাংশে বিভক্ত, মূলত এইসব রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্মাণ হয় পাঠচক্রে, কিংবা মুক্ত আলোচনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গুটিকয় ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে যাদের আমি সব সময়ই অতিবিপ্লবী বলতে চাই। বিপ্লব আসন্ন বিপ্লব হয়ে গেলো বিপ্লব এসে গেলো, এমন নেকড়ে বাঘ নেকড়ে বাঘের চিৎকার আমি তাদের কাছে গত ১০ বছরে অনেক বার শুনেছি। জনবিপ্লব, কিংবা গণবিপ্লব হয়ে যাবে যেকোনো মুহূর্তে, সেই মুহূর্তে দল এবং আদর্শের অবস্থা বিবেচনা করে যারা সঠিক পথে থাকবে তারাই রাজনীতিতে বলিষ্ট ভুমিকা রাখবে। এবং এই অতি বিপ্লবীগণ সেই সঠিক রাজনীতি করে বলেই তাদের অনুমাণ।
বিপ্লবের অতিউৎসাহ কিংবা এড্রোলনল গ্রন্থির অতিরিক্ত নিঃসরণ, যেকোনো এক কারণে এরা জীবনে উত্তেজনা চায়, সম্ভবত এদের নৈতিকতাবোধ এদের নেশাসক্ত হতে বাধা দেয় কিংবা এদের নেশা করবার মতো সঙ্গতি নেই, তাই এদের নেশার দৌড় বড়জোর গাঁজা, তবে এরা বিপ্লবাসক্ত এবং এদের এই অতিরিক্ত বিপ্লবী প্রবনতায় এরা হঠকারী আচরণ করেই থাকে।
বস্তুবাদী দর্শণ এবং রাজনৈতিক মতবাদ নিয়ে আলোচনা করছি না আমি, পার্টি পলিসি কিংবা থিসিস এন্টি থিসিস নিয়ে বিশাল বক্তৃতা দেওয়া সম্ভব না আমার পক্ষে। আমি সে লাইনের মানুষ না। আমার নিজস্ব পরিচিত অতিবিপ্লবীদের দেখে এটা আমার উপলব্ধি বলা যায়।
প্রতিটা বিপ্লব কিংবা বিদ্রোহের ক্ষেত্র নির্মাণ করতে হয়, সমাজে চাহিদা তৈরি হয়, বৈষম্যের একটা পর্যায় পর্যন্ত এটা সামাজিক মানুষ সহ্য করে, কিন্তু তাদের ভেতরে চাপা ক্ষোভ রয়েই যায়। রাজনৈতিক আন্দোলনের লক্ষ্য হলো এই চাপা ক্ষোভ, শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে মানুষের যে ঘৃণা সেটাকে উপলব্ধি করে জনসম্পৃক্ততার জায়গা তৈরি করা।
এবং পার্টি কিংবা সংগঠনের কাজটা আসলে একই সাথে এই ক্ষোভগুলোকে উপলব্ধি করা এবং সেই ক্ষোভ আর অসমতাগুলোকে আক্রান্ত মানুষদের জানানো। এবং তাদের পরিচালিত করা কিংবা তাদের প্রতিরোধ কিংবা প্রতিবাদের একটা আকৃতি দেওয়া। তবে মূল বক্তব্য কিন্তু সেই জনসম্পৃক্ততা তৈরির জায়গা।
অতিবিপ্লবী বামদের সব থিসিস এবং এন্টিথিসিসে এই জনসম্পৃক্ততা তৈরীর জায়গা নেই, বরং হারে রে রে করেপেন্সিল হাতে তেড়ে গেলেই পট পরিবর্তন হয়ে যাবে এমন দিবাস্বপ্নে বসবাস তাদের। তাদের উত্তেজনাহীনতা তাদের সবসময়ই এমন হঠকারী আচরণ করতে বাধ্য করে। এই হা রে রে রে রে রে করে তেড়ে যাওয়া অতিবিপ্লবীদের নিয়ে আমার সব সময়ই সংশয় আছে, তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং বুঝবার ক্ষমতা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।
২০০৭ সালের অগাস্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন সামরিক বাহিনীর সদস্য একজন ছাত্রকে থাপ্পড় মারবার ঘটনায় দেশ উত্তাল হলো, বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হলো, এবং সর্বপ্রথম একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী জনআন্দোলন সংগঠিত হলো। এরই ফলশ্রুতিতে ক্যাম্পাস থেকে আর্মি ক্যাম্প সরানো হয়, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক আটক হয়।
এটা সম্ভবত ২৩শে আগস্টের ঘটনা। তখনও ঠিক নিশ্চিত নয় আর্মি ক্যাম্প সরবে কিনা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর থেকে, মধুর ক্যান্টিনের সামনে বসে আছি, বরং আন্্দোলনের আঁচ গায়ে মাখছি, পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিক বন্ধুর সাথে আলোচনা করে বুঝতে চাইছি ঘটনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি।
রাজনৈতিক কর্মসুচী নিষিদ্ধ থাকায় আন্দোলন হচ্ছিলো সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে-
হঠাৎ করেই একদল মিছিল শুরু করলো, তখনও আদতে তেমন আলোচনা সম্পূর্ণ হয় নি। দাবিদাওয়ার কোনটা কোনটা মানা হবে এটাও ঠিক করা হয় নি। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী কিংবা অন্য কোনো একটা ব্যানারে মিছিল শুরু হওয়া মাত্রই আন্দোলনটি দ্বিধাবিভক্ত হলো। এখানেও সেই কতিপয় অতিবিপ্লবী ভাইদের উত্তেজিত রক্ত। ২৫ মিনিট পরে সব শান্ত হলো। কিন্তু আন্দোলন ঠিক জমলো না। আমিও বিফল মনোরথে ক্যাম্পাস ছাড়লাম/ কথা হচ্ছিলো তখন ছাত্রদলের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদকের সাথে, তার সাথে ছাত্র লীগের কোনো এক নেতা, যারা আদতে মারামারিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলো-
তাদের বক্তব্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কয়জন এখানে আছে, যারা আছে তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী। এবং এই যে মিছিল আর ব্যানার হাতে যে ১২জন মিছিল শুরু করলো শ্লোগান দিয়ে তারা যতটুকু করেছে আমরাও কি তার চেয়ে কম কিছু করেছি। আমাদের অন্তত সেই ক্রেডিট দিতে হবে। তা না দিয়ে আন্দোলন আত্মস্যাৎ করে নেওয়ার মানে হয় না।
সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ব্যনার বেশ শক্তিশালী এবং অরাজনৈতিক ব্যনার, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যানারের একটা আলাদা মূল্য আছে, সেই ব্যানার কিন্তু সবার উত্তরাধিকার, সেটা কতিপয় অবসাদে ভোগা উত্তেজনাখোর অতিবিপ্লবীর জন্য নির্ধারিত বিনোদন নয়।
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আন্দোলন বিষয়ে এখনও জনগণের সংশয় কাটে নি। মূলত বিশেষজ্ঞ পর্যায়েও এই সংশয়। তারা সবাই নির্দ্বিধায় মেনে নিচ্ছেন তাদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য নেই যার ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত করে এর প্রভাব সম্পর্কে ভবিষ্যতবানী করতে পারেন। মূল সমস্যা আদতে তথ্যহীনতা। মনিপুরের একজন অধ্যাপক মনিপুরে টিপাইমুখের সাম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন, তবে সেটাও অনুমাণ, প্রকল্পের বিস্তারিত জানা নেই, তবে যদি তার অনুমিত ঘটনাগুলো ঘটে তবে সেটা ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে ডেকে আনবে।
আমিও একমত এ বিষয়ে যদি অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ হয় এবং যদি পানি সেচ প্রকল্পেরজ ন্য অপসারণ করা হয় তবে সেটা ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে। কিন্তু সেটা কি আদৌ ঘটবে?
কি আছে এই ১৫০০ কোটি টাকারও বেশী টাকা ব্যায়ে নির্মীতব্য প্রকল্পে? আমাদের সরকার বলছে তথ্য নেই, ভারতীয় সরকার বলছে তথ্য সব প্রদান করা হয়েছে। এবং সবগুলো প্রকল্পের প্রভাব সম্পর্কিত ভবিষ্যতবানী কিন্তু টেস্ট মডেলের উপর ভিত্তি করে, কোন মৌসুমে কতটুকু পানি থাকবে বাংলাদেশে কতটুকু পানি আসবে, এসবই আসলে মডেল থেকে মেপে নেওয়া, নিয়মিত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মেপে নিয়ে সেটাকে দিয়ে বিভিন্ন ঢালে কতটুকু পানি প্রবাহিত হয়, প্রকৃতির ক্ষুদ্র একটা নিস্প্রাণ মডেলে এসব তথ্য উপাত্ত দিয়ে একটা সাম্ভাব্য পরিণতির কথা আমাদের কাছে আসে।
ধোঁয়াশা কথাবার্তায় সাধারণ মানুষের এখনও তেমন পক্ষ গ্রহনের অবস্থা শুরু হয় নি। সাধারণ মানুষ কোনো নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সমর্থন করবে কি না এটাও এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি, সেখানে পর্যাপ্ত তথ্যের জন্য দাবী জানানো একটা আন্দোলনের সূচনা হতে পারতো। জনগণের এ বিষয়ে তথ্য জানবার অধিকার আছে, কিন্তু জনগণ তেমন ভাবে তথ্য পাচ্ছে না।
আন্দোলনের এই পর্যায় শুধুমাত্র জনসচেতনতা নির্মানের পর্যায়, এখানে এখনও তেমন অবস্থা আসে নি। সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে এখনও অন্ধকারে, তারা ফারাক্কার প্রভাব দেখে আশংকিত তবে এখনও তাদের কাছে পরিস্কার নয় এটা কি শুধুমাত্র পানিবিদ্যুত প্রকল্প না কি এটা কোনো সেচ প্রকল্প?
ল্যাম্পপোষ্ট নামক অতিবিপ্লবী কিছু মানুষের দল হঠাৎ করেই উপলব্ধি করলো তাদের কিছু বলা প্রয়োজন। মানুষের মত থাকবে, সেটা জানানোর চাহিদাও থাকবে, ব্লগে যারা আছে তারা ছাড়া এটা নিয়ে ওয়াকিবহাল কিংবা আপাতওয়াকিবহাল মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে কম। ব্লগ লিখে অতিরিক্ত বিপ্লবী হয়ে উঠা কিংবা তথাকথিত বিপ্লবাসক্তি, কোনো এক অদ্ভুত কারণে তারা সিদ্ধান্ত নিলো তারা জনসম্পৃক্ততা তৈরী না করেই ভারতীয় দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করবে।
প্রতিটা আন্দোলনের কয়েকটা পর্যায় আছে, এইসব পর্যায় ধারাবাহিক ভাবে চর্চিত হতে হয়, হঠকারিতা মাঝে মাঝে ভালো ফল বয়ে আনে হয়তো তবে অধিকাংশ সময়ই এটা ফ্লপ করে এবং বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে, সিপাহী বিপ্লব কিংবা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব এসবের ব্যর্থতা এখানেই, তারা উপযুক্ত সময়ে হাতুড়ির ঘা বসাতে পারে নি, বরং যখন জনগণের সমর্থন থাকতো ভারত যখন শত্রু রাষ্ট্র চিহ্নিত হয়েযেতো সে সময়ে এই আন্দোলনের বিপক্ষে যাওয়ার মতো পত্রিকা পাওয়া যেতো না ।
ল্যাম্পপোষ্ট সেটা না করে যা করলো সেটা হঠকারিতা, এবং এখানে জনগণের সম্পৃক্ততা ছিলো না। রাষ্ট্র জনগণের প্রতিক্রিয়ায় বুঝেছে এই কতিপয় বিপ্লবাসক্ত যুবকের বিরুদ্দে শক্ত ব্যবস্থা নিলেও জনগণ সেটাকে প্রতিরোধ করবে না।
পুলিশ লাঠিপেটা করেছে, এবং এটাই স্বাভাবিক রীতি- যেকোনো দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করলে সাধারণত রাষ্ট্রীয় পুলিশ শক্ত হাতে বিক্ষোভ দমন করে, দুত অবধ্য এটা প্রায় সভ্যতার মতো প্রাচীন একটি রীতি, এখন আধুনিক রাষ্ট্রে দুতাবাসের নিরাপত্তাও তমনে অবশ্যপালনীয় একটি রীতি।
সেখানে কতিপয় বিপ্লবাসক্ত মানুষ গিয়ে হৈ হল্লা করলে রাষ্ট্রকে বাধ্য হয়েই কঠোর হতে হয়।
হঠাকারিতার ফলাফল সব সময় শুভ হয় না। এবং হঠকারী ব্যক্তি নিজেই নিজের হোগা মেরে বসে থাকে। ল্যাম্পপোষ্টের সদস্যদের অবস্থাও হয়েছে এমন।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: এটা কি আজকের ঘটনা?
এটা আলোচনায় আসছে যাচ্ছে গত ১৫ বছর ধরেই, কিন্তু যৌথ কমিশনের কর্মকর্তারা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো? তাদের কাছে তথ্য নেই- এই অপরাধের প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ কোথায় হওয়া উচিত? ভারতীয় দুড়াবাসের সামনে এই বিক্ষোভ হবে কেনো? ভারত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন শুরু করলে এই প্রতিবাদ হয়তো একটা বিষয় হতে পারতো। তবে এখনও কাজ শুরু হয় নি, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে, তথ্য আদানপ্রদান হবে, বিশ্লেষণ হবে, এবং চুক্তিপত্রে দস্তখত হবে। অনেকগুলো পর্যায় এবং পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে
বিপ্লবাসক্তি এই পর্যায়ে বর্জনীয়।
ইউনুস খান বলেছেন:
শোনেন রাসেল ভাই হঠাকারিতা, বিপ্লব, বিপ্লবাসক্ত, হোগা মারা প্রত্যেকটার আলাদা আলাদা সঙ্গা আছে........... ব্যাখ্যা আছে।আপনি এইভাবে বলতে পারেন না। আর আপনের এই কথায় বিপ্লবের কোন কিছুই দমন হবেনা।
৭১ এর ৭ই মার্চে আমরা বিপ্লব দেখেছি। ৯ মাসের যুদ্ধ দেখেছি। আমরা বিপ্লবের জাতি। আমাদের প্রয়োজনে আমরা বিপ্লব করতে শিখেছি।
লেখক বলেছেন: ইউনুস ভাই- এই আন্দোলন কয়েকটা বিবৃতির বাইরে কোথাও যাবে না। যদি অন্য কোথাও ম্যাস মুভমেন্টে সাধারণ মানুষ জড়িত না হয়, তবে এটা কয়েকজনের গরম বিবৃতির সংকলন হবে।
বিপ্লব কিংবা কার্যকর প্রতিরোধে এটা তেমন বড় কিছু হবে না।
ক্যাম্পাসে একটা অদ্ভুত বিষয় আছে,
"" মিছিলটা প্রথমে আমরাই করেছিলাম। ""
ল্যাম্পপোষ্টের প্রাপ্তি কিংবা আত্মতৃপ্তির বক্তব্য হবে এটাই। এখানে যারা আছে তাদের বিচার বিবেচনার উপরে পরিপূর্ন শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- এরা এই আন্দোলনের ক্ষমতা নিয়ে গুলশান লেকের একটা স্লাব নির্মাণ ঠেকাতে পারবে না।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
অনেক জিজ্ঞাসার উত্তর মিলল এই পোস্টে। ++++++++++++++++
অমাবশ্যার চামচিকা বলেছেন:
আমি কি বলবো কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। আপনি তো ভাই আমাকে ব্যাপক কনফিউশানে ফালাইয়া দিলেন।
লেখক বলেছেন: মিস্টি ছোটো হয়ে গেছে, আরও বড় মিস্টি চাই।
ইউনুস খান বলেছেন:
১৫ বছর আগে শুরু হইলেও এর ভয়াবহতটা এখন এসে বুঝা যাচ্ছে। আর কে কি বাল ছিড়লোনা হেইটা দেখার দরকার আমজনতার নাই। আমজনতা যদি বুঝে জিনিসটা দেশের জন্য ক্ষতিকর তাইলে সেই কন্ঠ, বিপ্লব কেউ ঠেকাতে পারেনা।ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হওয়ার দরকার ছিলো কারন তাইলে ভারত এবং ভারতের জনগণ বুঝবো বাংলাদেশে কিছু একটা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ টিপাইমুখ বাঁধ চায়না।
আরেকটা বিষয় হলো ভারতীয় দূতাবাসের সামনে হৈছে দেইখা বাংলাদেশের কোন কিছুই হয় নাই। ভারতরে তোয়াজ কইরা, বা বড় ভাইয়ের সম্মান দেখাইয়া কোন লাভ নেই। কেননা সুযোগ পাইলেই রক্ত শুষে নিবো।
লেখক বলেছেন: বিষয়টা ভারতে তেমন বড় কোনো সংবাদ হয় নি, বিশেষত ভারতের স্থানীয় পত্রিকাগুলোর ভেতরে আসামের একটি ইংরেজি পত্রিকা এবং অন্য একটি পত্রিকা এই নিউজ কভার করেছে, কিন্তু সর্বভারতীয় পত্রিকা কিংবা কোলকাতার পত্রিকাগুলো সম্ভবত ব্লাক আউট করেছে এই সংবাদ।
ভারতে তেমন বড় প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে নি ল্যাম্পপোষ্ট, বরং ভারতীয় দুতাবাস বলেছে তারা শুনেছে তাদের দুতাবাসের বাইরে কিছু গন্ডগোল হয়েছে।
ফেল্টুস বলেছেন:
টক শোতে বসে চায়ের কাপের পাছা গরম করে ফেলার মতো হয়ে গেলো! চালিয়ে যান।
ইউনুস খান বলেছেন:
ধরে নিলাম আপনার কথায় ঠিক। উনাদের কথায় গুলশানে একটা স্লাব নির্মাণও ঠেকবোনা। কিন্তু কেইবা জানে একদিন হয়তো এরাই অনেক মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারে।আরেকটা জিনিস বলতে ভুলে গেছিলাম ভারতীয় দূতাবাসের সামনে মিছিল হইয়া ভালো হইছে। কারন জিনিসটা ব্যাপক ভাবে মিডিয়া কাভারেজ হইছে। এক সময় আন্তর্জাতিক দরবারে এই মিডিয়া কাটিং কাজে লাগবে। দেইখেন।
মেটালিফেরাস বলেছেন:
মানতে পারলাম না। মাইনাস। এই ব্লগেই ডিটেইলস ইনফো আছে।
লেখক বলেছেন: তাই?
সাম্ভাব্য ক্ষতির বক্তব্য আছে, কিন্তু ভারত কি পানি অপসারণ করবে? পানিবিদ্যুতের জন্য বাঁধ নির্মাণ করবে?
এমন কোনো স্পষ্ট প্রোপোজাল নিয়ে আলোচনা নেই, অনেকগুলো যদি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, শেষও হয়েছে অনেকগুলো যদি দিয়ে।
যদি ভারত পানি আটকে রাখে এবং সেটা না ছাড়ে তবে কি হবে?
যদি ভুমিকম্প হয় এবং বাঁধ ধ্বসে যায় তবে কি হবে?
যদি ভারত সেচ প্রকল্পের জন্য পানি সরিয়ে নেয় তাহলে কি হবে?
এবং যদি ভারত বন্যা মৌসুমে হঠাৎ করেই স্লুইস গেট খুলে দেয় তাহলে বাংলাদেশের কি পরিস্থিতি হবে।
শেষ পর্যন্ত আলোচনা কিন্তু একটা অনুমাণের ভিত্তিতেই হয়েছে, সেটা হলো ভারত বারাক নদীতে বাধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে সম্ভবত এই পানি আসামের কোনো সেচ প্রকল্পে নিয়ে যাবে। এবং তাহলে বারাকের পানি প্রবাহ কমে যাবে, মরূকরণ শুরু হবে বাংলাদেশে-
এইসব তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে প্রোজেক্ট প্রোপোজাল অনেক বেশী জরুরী। ]
অতি বিপ্লবী হৌক আর যা হৌক -- তাদের উদ্দেশ্যটা বাংলাদেশের ভালোর জন্য ।
আর আপনার জানিনার পাল্লাটা ভর বাংলাদেশের দিকে হেলালে কেমন কয় ?
সেটাই এই পরিস্থিতিতে যৌক্তিক মনে হয় ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
অতিবিপ্লবীদের ছেড়াছাড়ি নিয়ে যা লিখেছেন সেটা সত্য ধরেই ।
লেখক বলেছেন: আন্দোলন বাংলাদেশের ভালোর জন্য মেনে নিলেও এটা পরবর্তীতে বড় কোনো আন্দোলনে দাঁড়াবে না। তাদের সীমিত মাত্রার প্রতিবাদ এবং এটাকে যেভাবে সফল ভাবে দমন করা গেলো , তাতে এই আন্দোলন বড় হতে হলে আরও বাড়তি কিছুর যোগান দিতে হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হলেও তখন বড় আন্দোলন দমানোর সর কারণ প্রশাসনের হাতেই থাকবে।
আট আনা বলেছেন:
মাইনাস। আমার আরো দুইখান নিক আছে, ওগুলা থিকাও মাইনাস দিয়া যাইতেসি। ঐগুলার পাসওয়ার্ড অবশ্য বাসায় আছে, এইজন্য একটু টাইম লাগবে।
লেখক বলেছেন: মাইনাসে আপত্তি নাই,
অন্যরকম বলেছেন:
পোস্টে প্লাস দিলাম...... আপনার অনেক কথার সাথে একমত! অতি বিপ্লবী মনোভাব অনেক সময় পুরা আন্দোলনের হোগা মাইরা দেয়। বিপ্লবের কিছু পর্যায় আছে, সেই পর্যায় অতিক্রম কইরা বিপ্লব হওন ভালা... অনেকটা সিসটেমেটিক বিপ্লব। কিন্তু আইডিয়ালিজম না থাকলে এই সিসটেমেটিক বিপ্লব সফল করা সম্ভব না। যার জন্য বিম্পি বা আম্লীগের আবালদের দিয়া এই দেশে আর বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্ন দেখা যাইব না।কিন্তু ল্যাম্পুস্টের যে বিদ্রোহ, সেইটাকে আমি বিপ্লবের চেয়ে বলব স্বস্ফুর্ত ক্ষোভের বহিপ্রকাশ। এই বহিপ্রকাশ ঘটানোর অধিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবারই আছে। প্রশ্ন হইতাছে দুতাবাসের সামনে এই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ সমীচিন কিনা! আমার মতে দুনিয়ার অনেক গণতানত্রিক দেশে দুতাবাসের সামনে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা ঘটছে। এইটাও সেরকম ব্যাতিক্রম কিছু না। বিকজ দ্যা ডিজারভ ইট!
লেখক বলেছেন: এই রাইতে মিষ্টির নেশা লাইগ্যা গেলো। এখন কোথাও যাওয়ার উপায় নাই। কাইলকা সন্দেশ খাইতেই হইবো।
অপরিচিত_আবির বলেছেন:
@অন্যরকম - হয়তো তাদের ক্ষোভ প্রকাশের তরিকা ঠিক ছিল না, কিন্তু তাদের এই কান্ডটার জন্য দেশের অনেক মানুষ যারা এতাদিন অচেতন ছিল, তারা আজ টিপাইমুখের ব্যাপারে সচেতন হতে শুরু করেছে। আমি আমার আশেপাশের অনেক বন্ধুদের কথা বলতে পারি যারা পত্রিকায় ল্যাম্পপোস্টের ওপর নির্যঅতনের খবর পড়বার পরই প্রথম টিপাইমুখ সম্পর্কে আগ্রহী হয়। যদি আমাদের সম্মিলিত আন্দোলনে টিপাইমুখ বাঁধ ঠেকানো সম্ভব হয়(সুদূর স্বপ্ন) তাহলে কি একদিন আমরা সকলেই মনে মনে সেদিনের ঐ মার খাওয়া বিপ্লবীদের ধন্যবাদ জানাবো না?
কখনও মানব কখনও দানব বলেছেন:
খুইত বাইর করার এই কাজটা আপ্নেরা ভাল পারেন। নিজেও কিছু কর্বেননা, আর কেউ কর্লেও তারে টাইন্যা নামাইবেন। ভাল , চালায়া যান। মাইনাস দিলাম।
অ্যামাটার বলেছেন:
লেখাটা পড়তাম না, কিন্তু ফিউশন যেভাবে সবখানে গিয়ে লিঙ্ক দিয়ে আসছে, নাজানি কি এমন মতিচুড়ের লাড্ডু! তাই কষ্টে-শৃষ্টে গিললাম।পুরাটাতেই ইনিয়ে বিনিয়ে ঐ হাবিজাবি তত্বকথা। যা হোক, তাত্বিক বিতর্কে যাব না; আর করেও বিশেষ লাভ নাই।
আসলে মাসখানেক আগেও আমি এই টিপাইমুখ বিষয়ে পুরাই অজ্ঞ ছিলাম। ড্যাম হলেই বা কি ক্ষতি হবে? ব্যারাজ হলে? দুইটার পার্থক্য কি? তাহলে দেশে যে ব্যারাজ গুলো আছে, সেটাতে কি ক্ষতি হচ্ছে না? তিস্তা ব্যারাজ তো অনেকবার দেখেছি, স্লুইসগেট খোলা-লাগানোও দেখেছি, তাহলে পুরো বিষয়টা কি? একটা ধোঁয়াশার মধ্যে ছিলাম।
এরপরই গুতাগুতি শুরু করলাম, আসলে হচ্ছে টা কি? এটাকি নিছকই একটা হুজুগ, নাকি আসলেই যাহা রটেছে, তাহার কিছুটা বটেছে??
খুবএকটা বেশি বেগ পেতে হয়নি, মাউস তাড়িয়ে আর কিবোর্ড টিপেই অনেকটা পরিষ্কার এখন।
সমস্যা হচ্ছে, আপনার মত কিছু লোক এখনও যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারছে, সেটা বেশীরভাগ মানুষের এই সাময়িক অজ্ঞতার সুযোগ নিয়েই।
এইটা দেখেন; click this link
লেখক বলেছেন: পরিবেশগত বিপর্যয়ের তথ্য এবং আলোচনা আরও ভালো আছে
Click This Link
এখানে।
আমিও একই কথাই বলছি পরিবেশগত প্রভাবের কথা যেভাবে বলা আছে সেখানে তাতে তেমন বড় কোনো আশংকার কথা নেই, বরং আশাবাদের কথা আছে, ব্যারেজ নির্মানের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে কি না সেটাও বলা নেই, এটাও হাওয়ার উপরে রুটি ভাজার মতো বিষয়।
যদি হয় তাহলে তার সাম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে?
আট আনা বলেছেন:
ঢাকা ভার্সিটির রাজনীতি, বিপ্লব, ল্যাম্পপোষ্ট, আন্দোলনের পদ্ধতি --- এইসব নিয়া যা খুশি বলেন, আপত্তি নাই।কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব আছে বলে টিপাইমুখের বিরোধিতা না করার হাস্যকর এবং ছেলেমানুষী যুক্তি ( অন্তত এইক্ষেত্রে ) এর কারনে মাইনাস দিয়েছি। ক্রিকেটে বেনিফিট অব ডাউট ব্যাটসম্যানের পক্ষে যায় কেন বলেন তো? কারণ আন্দাজে নেয়া ভুল ডিসিশন টার জন্য ব্যাটসম্যানের ক্ষতিটাই বেশী। এক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ক্ষতি। যেখানে ওদের বাধ সংক্রান্ত অতীত ইতিহাসও বাংলাদেশের ক্ষতির কথাই বলে।
সর্বোপরি, আপনি বাংলাদেশী হয়ে ওদের স্বার্থ দেখবেন কেন? অন্য দেশের ক্ষতি করেও আমি বাংলাদেশের স্বার্থ দেখব। সেখানে নিজের ক্ষতির রিস্ক নিয়ে অন্যের সুবিধা দেখলে মাইনাসই পাবেন।
লেখক বলেছেন: বিরোধিতা করা হাস্যকর নয়, বরং বিরোধিতা কিংবা বিক্ষোভের জায়গা চিহ্নিত করাটাকে হঠকারী মনে হয়েছে।
সেটা প্রেসক্লাবের সামনে হলে কেউ লাঠি হাতে তাড়া করতো না, একটা শান্তিপূর্ণ প্রেসরিলিজ দিতে পারতো ল্যাম্পপোষ্ট, সচিবালয়ের সামনে গিয়ে এটা করলেও তেমন সমস্যা হতো না।
সেই বিক্ষোভ প্রকাশের স্থান নির্বাচনকে আমার হঠকারীতা মনে হয়েছে এমন এটা নিয়ে আমার তেমন সংশয় নেই।
অন্যরকম বলেছেন:
@ অপরিচিত_ আবির, আপনার কথায় আমিও একমত! ল্যাম্পোস্টের আন্দোলনকে আমি বিপ্লব না বলে ক্ষোভের বহিপ্রকাশই বলব! আর হাজার হাজার প্রথম আলু পড়া লোকজন অন্তত টিপাইমুখ নিয়া জানতে পারবো যারা এতদিন জানতো না। লেখকের বিপ্লব সংক্রান্ত সিসটেমেটিক ফেইজের ধারনার সাথে আমি একমত কিন্তু ল্যাম্পোস্টের ব্যাপারে আমি তাঁর মনোভাবের সশ্রদ্ধভাবে দ্বিমত প্রকাশ করছি। এই সংগঠনের দূতাবাস ঘেরাওকে বিপ্লব বলা যাবে না কোন মতেই.....!
পড়ুয়া_পড়ুয়া বলেছেন:
উদ্দেশ্যমূলক পোস্ট । জোরসে মাইনাস ।
শয়তান বলেছেন:
এক একজন এক এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে । এটাই স্বাভাবিক । তবে সংখ্যাগরিষ্টতাকে অবহেলা নিষ্চই করতে পারেন না ।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
একমত। পোস্টে প্লাসও দিলাম। ল্যাম্পপোস্টের কোনো কর্মীরে বুকে হাত দিয়া বলতে বলেন ভারতীয় দুতাবাসের সামনে তারা বিক্ষোভ দেখাইতে গেছে কি টিপাইমুখ ইস্যুতে নাকি লালগড়ে মাওবাদীদের উপর দমনপীড়নের (তাদের ভাষায় সংগ্রামী জনগনের উপর ইন্ডিয়া রাষ্ট্রের নির্যাতন) প্রতিবাদ করতে। টিপাইমুখ ছিলো সেকেন্ডারি ইস্যু। এইখানে কমরেডশীপ আগে এবং জাতীয় স্বার্থ দ্বিতীয় স্থানে। নগদে প্রমাণ কইরা দিবো। কিন্তু হায়, এই সত্যিটা স্বীকার করলে কি জাত যায়? নাকি বিপ্লবে আঁচ কমে। শুধু মাত্র এই অসততার জন্যই ল্যাম্পপোস্ট আমার কাছে মর্যাদা হারাইছে। মনে হইতেছে স্রেফ পিঠ বাচানোর জন্য তারা এখন বলতেছে তারা টিপাইমুখ বাধের বিরোধিতা করতে সেখানে গেছে। মাঝখান দিয়া... থাক। কি হবে আর এইসব বইলা। ব্লগে বিপ্লব দীর্ঘজীবি হউক। ব্লগে শোষিতের জয় হোক। স্বচ্ছ মডারেশন চাই।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
এই পোস্টটা পড়েন । এই লোকের একটা পোস্ট ফান কইরা কপি পেস্ট মাইরা আমি আরেকটু হইলে আলেকজান্ডার ডেনড্রাইটের রেকর্ড ভাঙতে নিছিলাম। ব্লগ বিপ্লবীরা পুরা লিঞ্চ মব গঠন করছে এমন অবস্থা। তাই এইটা আর দিতে সাহস করি নাই। তবে যেই প্রথম আলোর প্রতিবেদন নিয়া এত চিল্লাচিল্লি, সেইখানে আমি চাকুরী না করলেও দুইজন বিশিষ্ট ব্লগার সেইখানে উচ্চপদেই কর্মরত। শওকত হোসেন মাসুম ভাই কিংবা ফারুক ওয়াসিফরে বলেন সেই প্রতিবেদক কিংবা জয়নাল হাজারীর হাতে নির্যাতনের শিকার এবং জঙ্গীবাদ নিয়া দারুণ সব রিপোর্ট করা টিপুর কাছ থেকে ল্যাম্পপোস্টের দাবীনামার কাগজ নিতে। কোন সোর্সে তারা নিউজ করছে সেইটা না জানাইলেও ওইটার একটা স্ক্যান প্রিন্ট দিলেও দুধ কা দুধ পানি কা পানি হয়ে যাবে। তাও না হইলে যেই লিংক দিলাম, সেইখানে দুইটা ফোন নাম্বার আছে মন্তব্যের ঘরে। ফোন কইরা শিউর হন। আমি, রাসেল, নুরুজ্জামান মানিক অনেকের কাছেই ল্যাম্পপোস্টের সেই এসএমএসটা আছে। বটমলাইন : সত্যি স্বীকার করলে ইজ্জত যায় না। কিন্তু এই যে ক্ষুদ্র হইলেও নৈতিক অসততা, এইজন্য তারা আমার কাছে হিরোর মর্যাদা পাইতেছে না। বরং এই চিত্রনাট্যে আমার কাছে তাদের কমেডিয়ান মনে হইতেছে।
ধীবর বলেছেন:
রাসেল, আপনি তো ভাই আনকোড়া ব্লগার নন। টিপাইমুখ বাধের বিরুদ্ধে প্রচুর লেখা আছে এই ব্লগেই। আর তথ্য উপাত্ত যে গুলি দেয়া হয়েছে, তার বিরোধিতা করলে চাইলে, তার পাল্টা তথ্য উপাত্ত দেয়া প্রয়োজন। আপনার লেখায় যার অনুপস্থিতি রয়েছে। তাই স্বভাবতই, এই লেখাটিকে অনেকটা ভারতের পক্ষ্যে সাফাই গাইবার মত মনে হচ্ছে। ধরেই নিচ্ছি, গণসম্পৃত্ততার অভাবে সিপাই বিপ্লব সাফল্যের মুখ দেখেনি। পলাশির যুদ্ধের পরাজয়ের ইতিহাসও সেই হিসেবে একই কারণে একক ফলাফল। মানে সাধারণ জনগণের অসচেতনতার কারণে স্বাধীনতার অস্ত এবং বিপ্লবের অসফল পরিণতি।
আমরা মানে সাধারণ জনগণ কি খুব সচেতন? বাকি সব প্রসংগ না হয় বাদই দিলাম। পরিবেশ সংক্রান্ত আমাদের সচেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে, এই সবের মাধ্যমে।
১। অবাধে বৃক্ষ নিধন
২। যত্র তত্র আবর্জনা নিক্ষেপ
৩। বেগ চাপলেই প্যান্টের জিপার খুলে জল বিয়োগ
৪। থুথু/ পানের পিক নিক্ষেপ
যেখানে আমরা দেশের পরিবেশ সম্বন্ধে এত অসচেতন সেখানে বিদেশের মাটিতে এক অজ পাড়া গায়ে পরিবেশ ধবংসি একটি প্রকল্প নিয়ে স্বভাবতই আমাদের কোন চেতনা থাকার কথা না।
আর জোর একটা ঘা না খেলে, এই অন্ধত্ব কিংবা উদাসীনতার সমাপ্তি ঘটানো সম্ভব না। ল্যাম্পপোস্ট এই ঘা দেবার কাজটিই করেছে, হোক না সেটা জনসম্পৃত্ততা বিহীন কিছু অতি বিপ্লবীয় কাজ। এই সামান্য কাজটুকুই যাদের করার কথা, তারা তো মুখে কুলুপ দিয়ে বসে ছিলেন। কেউ কেউ তো আগ বাড়িয়ে ভারত সরকারের মুখপাত্রের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। আর এই বিক্ষোভের পর সেই নতজানুরা আর একই ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে দুবার ভাববেন। আর এখানেই ল্যাম্পপোস্টের সাফল্য।
সবাই টিপাইমুখ বাধের কথা বললেও, যেটা এড়িয়ে যাচ্ছেন, বা জানতে চাচ্ছেন না, সেটা হলো ফুলের তলি ব্যারাজ। টিপাইমুখ বাধ হলো ট্রয়ের ঘোড়া আর ফুলের তলি ব্যারেজ হলো লুকিয়ে থাকা ঘাতকদল। আশা করি আপনার ভুল ভাঙ্গবে।
দুঃখিত এ লেখায় নিরপেক্ষ বা পজেটিভ রেটিং দেয়া সম্ভব হলো না।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
২৭০ জন এম.পি নিয়ে যে দল ক্ষমতায় তারা প্রায় নাম না জানা একটা স;গঠনের ৭০ জন কর্মীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করতে গিয়ে মাথা ফাটিয়ে রক্ত বের করেছে, মেয়েদের কাপড় ধরে টানা-টানিও করেছে| ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল মুজিব আমলে, পুরাটা স;সদ ছিল আওয়ামীলীগের তার পরও একটা মিছিল মিটি; দেখলেই লাল বাহিনী, নীল বাহিনী,রক্ষী বাহিনী, যুবলীগ বাহিনী, ছাত্রলীগ বাহিনী লেলিয়ে দেয়া হ্ত|
দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন চরমপন্থা এটা কোথায় পেয়েছেন..?? বাকশালী বইতে....??
( এই ভারতীয় দূতাবাসকে জামাই আদর করতে গিয়ে মুজিব আমলে প্রায় ১ ডজন জাসদ কর্মীকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছিল, পত্রিকায় সেই মৃতদেহ এখনো চোখে ভাসে)
লেখক বলেছেন: আপনে একটু খবর নিয়া দেখেন, কোথায় কি পরিস্থিতিতে দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়, এবং সেটা কারা করে।
লেখক বলেছেন: এই ভারতীয় দূতাবাসকে জামাই আদর করতে গিয়ে মুজিব আমলে প্রায় ১ ডজন জাসদ কর্মীকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছিল,
আমার ধারণা যদি আপনিও দেশের প্রশাসনে থাকেন, তবে আপনিও একই সিদ্ধান্ত নিতেন।
কোনো বন্দীকে মুক্ত করতে গিয়ে কোনো রাষ্ট্রদুতকে জিম্মি করতে যাওয়া কিংবা তুলে এনে দরকষাকষির একটা উদ্যোগ নেওয়াটা কতটুকু সঠিক পন্থা?
ভারতীয় রাষ্ট্রদুতকএ অপহরণ করবার রোমান্টিক আইডিয়া ব্যর্থ হয়েছে সেটা মনে হয় শাপে বর হয়েছে না কি ক্লান্ত ভাই?
বল বীর বলেছেন:
কখনও মানব কখনও দানব বলেছেন: খুইত বাইর করার এই কাজটা আপ্নেরা ভাল পারেন। নিজেও কিছু কর্বেননা, আর কেউ কর্লেও তারে টাইন্যা নামাইবেন। ভাল , চালায়া যান। মাইনাস দিলাম।
** বিডিআর বিদ্রোহে জামাত সহ জঙ্গি জড়িত।
** টিপাইমুখ নিয়ে প্রতিবাদ লালগড়ের মাওবাদীদের কাজ।
এটা কি ঠিক, বলা যায় আওয়ামীলীগের সংশয় কাটেনি।
ল্যাম্পপোস্ট অতিবিপ্লবী হতে পারে তাই বলে তাদের উথ্থাপিত দাবীকে অস্বীকার করা যায় না, 'জনগণের সংশয় কাটাতে' তারা উচিত কাজটাই করেছে।
লেখক বলেছেন: নাজিম সমস্যাটা স্পষ্টতার-
টিপাইমুখ বহুমুখী পানি বিদ্যুত প্রকল্প বিষয়ে যে মতামত আছে কিংবা তথ্য আছে, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে কিংবা যা সরবরাহ করা হয়েছে, সেখানে কিন্তু বাঁধের ক্ষতিকর কোনো প্রভাব বলা নেই। বরং অনেকটা ভালো কথা বলা আছে- সেই প্রতিবেদন যদি বিশ্বাসযোগ্য হয় তাহলে টিপাইমুখ নিয়ে আন্দোলনের কিছু নেই।
http://www.amarblog.com/ehhamida/68004
এইখানে কিংবা আমার আগের কোনো এক লেখায় লিংক দেওয়া আছে, ওখানেও ভালো ভালো কথাই বলা আছে শুধু-
আওয়ামী লীগ নয় এখনও বিএনপি কিংবা জামায়াতের সংশয়ও কাটে নি। বিএনপি কিংবা জামায়াত রাজনৈতিক একটা অস্ত্র হিসেবে এটা নিয়ে মাতামাতি করছে, তাদের আচরণেও স্পষ্টতা নেই। তারা নির্দ্বিধায় যদি বলতো শালার এইটা অবশ্যই খারাপ এবং এটা নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত অন্তত ১ লাখ মানুষ নেমে যেতো রাস্তায়।
বিএনপি এখনও নেতা পর্যায় থেকে কর্মী পর্যায়ে এমন আন্দোলনের ডাক দেয় নি, বিবৃতির বাইরে কিছুই করছে না কোনো রাজনৈতিক দল।
রোহান বলেছেন:
ভালো পোষ্ট। +
যীশূ বলেছেন:
রাসেল ভাই, তোমার বিশ্লেষণগুলা দারুন। সমর্থন করি। তারপরেও বলবো, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোটাকে লেখায় সন্মান দেখানো উচিত ছিলো। সেটা হয়তো ভুল জায়গায় হয়েছে, ভুল ভাবে হয়েছে। তবুও কোন মানুষের আবেগকে (যদি তা সৎ হয়) অশ্রদ্ধা করাটা মনেহয় ঠিক না।
লেখক বলেছেন: বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ নিয়ে আমার মূল বক্তব্য কিন্তু একটাই- এটাকে গণমাধ্যমের সামনে আনবার প্রচেষ্টা হিসেবে যা ঘটেছে সেটা হঠকারিতা। বাংলাদেশের ভারতীয় দুতাবাসের কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ বিষয়টাই অস্বীকার করে বলেছে তারা জেনেছে তাদের দুতাবাসের বাইরে সামান্য গন্ডগোল হয়েছে। সেটা ভিন্ন বিষয় বলতে পারি।
আমার কাছে এই বিক্ষোভ নিয়ে যে এসএমএস আছে সেটা কিন্তু অন্য বক্তব্য সম্বলিত, তবে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না আমি। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি যদি হঠকারী না হতো, তবে এইসব ঝঞ্ঝাটের বাইরে থেকে তারা আরও কার্যকর প্রতিরোধে অংশ নিতে পারতো , নিজেদের বোকামির জন্য তারা এখন পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।
একজন গাছের এক ডালে বসে সেই ডাল করাত দিয়ে কেটে যদি মাটিতে পড়ে যায়, তাকে উদ্ভাবক ভাবতে আমার মন সায় দেয় না। এখানেও একই ঘটনা, ল্যাম্পপোষ্টের সদস্যদের উপরে পুলিশি নির্যাতনকে আমি সমর্থন করছি না, তাদের আটক করে রাখবার বিষয়টাও অন্যায় মনে হচ্ছে কিন্তু এই সম্পূর্ণ আন্দোলনের প্রক্রিয়াটাই সেই গাছের ডালে বসে সেই ডাল করাত দিয়ে কাটার মতো,
হঠকারিতা কিংবা বোকামি করে আটক মানুষগুলোর মুক্তির মিছিলে আমি নেই। আমি সেই সম্পূর্ণ উপজাত আন্দোলনকে সমর্থনের কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছি না।
বাঙ্গাল বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম, লিঙ্কসহ লেখাটা সংরক্ষনের জন্য। সরকার ও ভারত সরকার ক্যানো ডিটেইলস শেয়ার না দিয়া...ঢাক ঢাক গুড়্গুড় করতেছে বুঝতাছি না।লেখকে থাঙ্কু, প্লাস মাইনাস পড়ে দিব।
সাইলেন্সার বলেছেন:
অনেক বিষয়ে একমত।
ব্লগে কেউ একজন মন্তব্য করেছেন, জেএমবি যদি টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে সোচ্চার হয় তাহলে নাকি তাদেরকেও সমর্থন করতে হবে!!!!!!!!!!!!!
ভাইরে, আমরা খালি তর্কের খাতিরে কত উল্টাপাল্টা কথা বলি!
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারকে আমার মনে হয় ইতিহাসের মীর কাশেমের মত। মীর কাশেম ছিলেন মীর জাফরের জামাতা যিনি ইংরেজদের কাছ থেকে ক্ষমতা চেয়ে নিয়েছিলেন এই বলে যে মীর জাফর তাদের যেসব দাবী পুরোন করতে পারছে না সে তা পুরোন করবে। আর তার অনুগত দেশপ্রেমীক সেনা কর্মকর্তাদের বুঝিয়েছিল যে একবার ক্ষমতা পেলে ইংরেজদের মেরে তাড়িয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করা হবে।ঠিক একইভাবে শেখ হাসিনা কানের চিকিৎসার কথা বলে আমেরীকা গিয়ে এটাই বলেছিল যে তত্বাবধায়ক সরকার পরাশক্তির স্থানীয় এজেন্ট ভারতকে যা দিতে পারছে না তাকে ক্ষমতায় বসালে সে তার সবকিছুই দিয়ে দেবে। সে সম্ভবত আওয়ামী লীগের জনসম্পৃক্ত অংশের নেতৃবৃন্দকে যারা তত্বাবধায়ক সরকারের নির্যাতেনর স্বীকার হয়েছেন তাদের এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে শান্ত রেখেছিল যে একবার ক্ষমতায় যেতে পারলে সব ক্ষতি পুশিয়ে নেয়া যাবে।
ইতিহাসের মীর কাশেম ইংরেজদের হাত ধরে ক্ষমতায় গিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দু:সাহস দেখিয়েছিলেন কিন্তু বিজয়ী হতে পারেন নি। বর্তমান সরকার পরাশক্তির বদান্যতায় ক্ষমতায় এসে তাদের একজন সামান্য রাস্ট্রদুতের অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদ করারমত সহাসও দেখাতে পারছে না। এরা কীভাবে আগ্রাসী ভারতকে ঠেকাবে? মীর জাফরকে দেশপ্রেমীক হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল প্রায় দু'শ বছর - শুধু ইংরেজরাই নয় এ'দেশের অনেক মানুষও সেই সুরে সুর মিলিয়েছিল। ইংরেজদের 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' উপাধীও দিয়েছিল এ'দেশেরই মানুষ।
আপনার এই লেখা পড়ে মনে হচ্ছে এখনও আগ্রাসী ভারতের পক্ষে তাদের দাবি দাওয়ার যৌক্তিকতার পক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব হবে না। আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিতে কে মীর জাফর আর কারা তাদের চাটুকার হিসেবে চিহ্নিত হবে তা সময়ই বলে দেবে।
লেখক বলেছেন: ঠিক তাই,
এসেসমেন্ট রিপোর্ট পড়ে আপনি ল্যাম্পপোষ্ট ঠেঙাতে রাস্তায় নেমে যাবেন। এসেসমেন্ট রিপোর্টে এমন ভাবেই এটার উপকারিতা বর্ণনা করা আছে। আমি তো শুধু ব্লগে নিজের মতামত লিখলাম, সেটা আপনার মতামতের সাথে মিলে নি, এটাকে এত বড় ইস্যু বানানোর কিছু নেই, এইটা দিয়া খুব বেশী কিছু হয় না, একটা মাইনাস দিয়া আপনার মন খুশী হলে সেটুকুই লাভ বলা যায়।
একজন সুখীমানুষ বলেছেন:
পড়ুয়া_পড়ুয়া বলেছেন: উদ্দেশ্যমূলক পোস্ট । জোরসে মাইনাস ।
কনফিফউজড বলেছেন:
সালার দালাল কুতাকার।
সুফিয়ান ডট কম বলেছেন:
বাম অভিজ্ঞতা শিরনামে একটা লেখা দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছিলাম। সময়ের অভাবে লিখতে পারছি না। যাইহোক আমার লেখার বক্তব্যই আপনি বলে দিয়েছেন।
ভারত বিরোধিতা করতে গেয়ে আমদের কয়েকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। ভারত বিরোধীতায় এমন কাউকে কি সঙ্গী করা যুক্তিযুক্ত হবে যা পরবর্তীতে আমাদের রাস্ট্রের জন্য বিপদ জনক হবে?
বিপদজনক এ জন্য বলছি, চীনপন্হী অনেক দলের সাথে পূর্ববাংলা কানেকশন আছে এটা ক্যাম্পাসে ওপেন সিক্রেট। ক্যাম্পাস জুড়ে পুর্ববাংলার পোস্টার কারা মারে এটাও ওপেন সিক্রেট।
বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশলোক পূর্ববাংলা সমর্থন করে না। কিন্তু ল্যাম্পোস্ট কে সমর্থন করছে শুধু ঝোকের মাথায় ।
ভারত বিরোধীতা> টিপাইমুখ বাধ বিরোধীতা> পক্ষে থাকুন ভালো কথা কিন্তু এই অন্দোলনে কোন ডাকাতকে সঙ্গী কর্লে পরে সেটা আরও মাথা ব্যাথার কারন হবে।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
প্লাস, ল্যাম্পপোস্ট স্যবোটাজ করছে আন্দোলনটারে।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
কনফিফউজড বলেছেন: সালার দালাল কুতাকার।
মাছিমারা কেরানি বলেছেন:
ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা শুকনা। মহানন্দা বা করতোয়া কে আপনি দেখেছেন কিনা যানিনা, সেগুলো এখন ধুধু বালির মাঠ। ভারত বাধ দেবে আর আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবোনা, যারা এখনো এ ধারনা নিয়ে আছেন, দয়া করে এই নদী গুলো দেখে যান।আমাদের দেশ এর তিন প্রধান নদী, পদ্মা, মেঘনা আর যমুনা। পদ্মা অলরেডি ডেড, মেঘনার ফাসির প্রস্তুতি চলছে টিপাইমুখে। বাকি থাকলো যমুনা, হ্য়তো এবার তার পালা আসছে।
ল্যাম্পপোষ্ট অন্তত প্রকাশ্যে এই নদী হত্যার প্রতিবাদ করার সাহস দেখিয়েছে। তাদের কে দেখে আমাদের বাকিদের লজ্জা হওয়া উচিৎ।
লেখক বলেছেন: নদী হত্যার ঘটনা কম ঘটছে না বাংলাদেশে, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, তুরাগ এই নদীগুলোর স্লো পয়জনিং নিয়ে ল্যাম্পপোষ্টের অবস্থান নেই কোথাও। এটা ল্যাম্পপোষ্ট নদীর প্রতি ভাব ভালোবাসা থেকে করে নি, সেটা করবার একটা উদ্দেশ্য ছিলো গণমাধ্যমে সাড়া ফেলানো, মিস ফায়ার করছে প্রক্রিয়াটা, পুলিশ বেশ কঠোর হয়েই দমন করছে আন্দোলনটাকে।
মিডিয়ায় আসছে এই সংবাদ, তবে বৈশ্বিক সাড়া পড়ে নি। সেটা নিয়ে সম্পাদকীয় লেখা হয় নি, ভারতের অধিকাংশ সংবাদপত্র বিষয়টাকে ব্লাক আউট করছে,
যেসব দেশে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেশী তাদের সংবাদপত্র এর একটা ছোটো অংশ ছাপিয়েছে, তবে সেটা খুব বেশী গুরুত্ব পায় নি।
বাংলাদেশের সীমান্তে কোথাও নদীর উপরে বাঁধ হলে সেটা নিয়ে আহাজারি করবার মতো বিশ্ববিবেক নেই। অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় আন্দোলন শুরু করা যায়, গ্রীনপিসের মতো কিছু অতিরিক্ত প্রকৃতি প্রেমিক সংগঠন আছে, তাদের ডাক দিলে তারা কাপড় চোপড় খুলে টিপাইমুখের প্রস্তাবিত বাঁধের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, এটা বিশ্বজুড়ে হাইলাইটের হবে।
আপনিও করতে পারেন। মাছি মারা শেষ হলে একটা লুঙ্গি আর গামছা নিয়ে টিপাই মুখে রওনা দেন।
লুঙ্গিতে নক্সীকাঁথার মতো সেলাই করে লিখবেন টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করো, ভারতীয় আগ্রাসন মানবো না মানি না, এই রকম ৪০টা লুঙ্গী নিয়া টিপাইমুখে গিয়ে লুঙ্গী মাথায় তুলে খাঁড়ায়া থাকেন, এইটা ব্যপক আলোচনার জন্ম দিবে, ইট উইল সার্ভ ইয়োর পার্পাস।
সুফিয়ান ডট কম বলেছেন:
৩৮ নং কমেন্টের জবাব ঝা ঝা....বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষার পাড় দখল করে সরু নালা বানিয়ে দিচ্ছে অথচ এই নিয়ে যারা কোনদিন একটি কথাও বলে নি, আজ তারা নদীর জন্য জীবন দিয়ে দিচ্ছে ...... আসলে মিডিয়া কভারেজই ছিল মূল উদ্দেশ্য। আর এইসব দল সম্পর্কে যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে সেখান থেকে নিশ্চিত বলতে পারি এতগুলো দৈনিকের শিরোনাম হতে পেরে তারা খুশিই হয়েছে।
হাসান বায়েজীদ বলেছেন:
১০০০ ভাগ সহমত, সম্ভব হৈলে ৫০০ প্লাস একাই দিতাম..
আলমগীর কুমকুম বলেছেন:
অতিরিক্ত বিপ্লবাসক্তি অবশ্যই বর্জনীয়। কথা হইলো ভারত পানি আটকে রাখতে চায় এবং তা যদি না ছাড়তে না চায় তাহলে এইসব বিপ্লবটিপ্লবের মাধ্যমে ভারতের একগাছি বাল উৎপাটনও সম্ভব নয়।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
মা.মা.কেরানীর মন্তব্যের জবাবে যা বললেন তার তীব্র প্রতিবাদ। চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে ওইভাবে দাড়াইয়া থাকা বিপজ্জনক।
লেখক বলেছেন: আমি সীমান্তের ঐপাড়ে খাড়াইতে বলছিলাম।
মনিপুরী কিংবা মিজোরামের মানুষও এইরম খারাপ??
চন্দন বলেছেন:
ভারতীয় দালালীর জন্য কষে মাইনাস
লেখক বলেছেন: আশা ছিলো ১০০ মাইনাস পাবো, কিন্তু পাইলাম না। আমার নিজের রেকর্ড মনে হয় ৫৬টা মাইনাস, সেখানে এখনও পৌঁছায় নি।
বাকী বিল্লাহ বলেছেন:
আগেপরের মত যথারীতি রাসেল ভাইয়ের কথার সারবস্তু'র সাথে একমত, তবে আক্রমনাত্মক শব্দগুলির সাথে না। ল্যাম্পপোস্টের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত। সিডর এর পরে শরণখোলায় ছাত্র ইউনিয়ন-কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যৌথভাবে ত্রাণকাজে অংশ নিয়েছিল তারা। সপ্তাহদুয়েক একই সাথে বসবাস, শয়ন, আড্ডা এবং মর্মান্তিক সব অভিজ্ঞতা আমাদের ঘনিষ্ঠ করে তোলে। টিপাইমুখ বাধ নিয়ে একটু আক্রমনাত্মক হওয়ার প্রয়োজন আমি নিজেই অনুভব করছিলাম। এমনকি পার্টির(সিপিবি) সমঝে চলো নীতি আমার অত ভাল লাগছিল না। সে হিসেবে ল্যাম্পপোস্টের বিপ্লবাত্মক এ্যটেম্প আমার ভালই লাগার কথা। কিন্তু শুধু সেন্টুর বশে বিপ্লবীপনার অতীত ইতিহাস হুট করে এসে একটা দেয়াল তুলে দিল।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতীয় বেনিয়া বা শাষকদের প্রকৃত বন্ধু আমাদের এখানকার ভারত বিদ্বেষীরা। বিএনপি-জামাত বা ইসলামী শাসনতন্ত্রের মত দলগুলো ভারতীয় স্বার্থের প্রকৃত বন্ধু একথা আশা করি ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে হবে না। আজকে যখন টিপাইমুখের মত জ্যান্ত আগুন আমাদের মুখের সামনে তখন সমস্যার প্রকৃত মোকাবেলা ও রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি ঘোলাটে অধ্যয়ের পূনরাবৃত্তি মুখোমুখি হয়ে আমাদের সামনে তখন শুধু বিপ্লবী জোশ দিয়ে তা উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা সংগত হবে না। ফরহাদ মজহার হয়ত এখনই বগল বাজাচ্ছেন, জেহাদী আর বিপ্লবীদের ঐক্য এই হল বলে-
আসল সমস্যা হচ্ছে সাবেক পিকিঙ পন্থা ও তাদের অনুসারী, বন্ধু চরমপণথীদের নিয়ে। পুরো ইতিহাসে তারা এখনো একবারের জন্যেও দ্বায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পেরেছেন এমনটি ঘটেনি। সুতরাং পরিস্থিতি ভালমত কেচিয়ে গেলে তাদের ভয়ংকর বিপ্লবী ইগো রক্ষায় !ভারতের বিরুদ্ধে তারা যে জেহাদীদের সাথে প্যাক হবেন না সে নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। ৭১'এ আমেরিকা আর তার একই পক্ষে ছিলেন কিনা!!
লেখক বলেছেন: অতীত নিয়ে আলোচনার অবকাশ এখানে নেই।
ভারতীয় দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করবার ফলাফল হিসেবে যা এসেছে সেটা স্বখাতসলিলে ডুবে মরা না কি বাংলাদেশী সরকারের ভারত মৈত্রীর প্রমাণ- এই অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আদতে।
আমার নিজস্ব ধারণা এটা বাংলাদেশের সরকারের ভারত মৈত্রীর তুলনায় নিজস্ব আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের স্থান নির্বাচনের ত্রুটি সংক্রান্ত জটিলতা।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ল্যাম্পপোস্ট যে কতটা সফল, এই লেখা তা বুঝিয়ে দিল। ক্রসফায়ারের এই দেশে দেখি লিখেও ক্রসফায়ারের চল শুরু হয়েছে। গুড।
লেখক বলেছেন: আন্দোলনের প্রকৃতি এবং বিষয়বস্তু নিয়ে মতপার্থক্য থাকাটা অসম্ভব কিছু না। তবে এই অবস্থান ক্রস ফায়ারের সাথে তুল্য হওয়ার মতো বড় কিছু না।
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
তাইলে আর কি করবেন? একটা ল্যাপটপ কিন্না ইন্ডিয়া যান গা। পারলে আপনার মত দালালগুলারেও নিয়া যাইয়েন। হের পর আপনাগো দাবি মাইন্না নিলে সবডি মিল্লা টিপাইমুখ বাধের ওপর বইসা বইসা বলগিং কব্বেন। লেখক বলেছেন: এইটা খারাপ আইডিয়া না, কিন্তু ট্রাভেল এক্সপেন্স আসবে কোথা থেকে?
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
বাকী বিল্লাহরে ঝাজা, বহুদিন পর আইসাই ফাটায়া দিলেন। একজেক্টলি দ্যাটস দ্য পয়েন্ট। হযরত ফরহাদ মাজহার (রা.) বগল বাজাইতেছে, আর মুরিদানরা ডুগডুগি বাজায়া নাচতেছে। বিপ্লবী-জেহাদী ঐক্য ব্লগে অলরেডি হয়া গেছে
সুফিয়ান ডট কম বলেছেন:
@ পিয়াল ভাই ..... হাচা কথা, জামাত আর চাইনিজ বামেরা আইজ ব্লগে গুরুগম্ভীর আলাপ চালায় ভারতীয় সম্প্রসারন বাদ, পুজিবাদ এইসব নিয়া। এইগুলা অতি বুদ্ধিজীবি হইতে গিয়ে আসলে ভাড় হইতেসে।
মাছিমারা কেরানি বলেছেন:
"বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, তুরাগ এই নদীগুলোর স্লো পয়জনিং নিয়ে ল্যাম্পপোষ্টের অবস্থান নেই কোথাও। " : কেন, সেখানে তো আমাদের সুশীল সমাজ অবস্থান করছেন। আমাদের সুশিল সমাজ এই নদী গুলোর পাড় গত অনেক বছর ধরেই উদ্ধার করার আন্দোলন করছেন, আবার তাদের আশির্বাদ পাওয়া কেউ নদী দখল করলে চোখ বন্ধ করে থাকছেন। প্রথম আলো পড়লেই তাদের কর্মকান্ডের বিস্তারিত বিবরন পাবেন। দুঃখের বিষয়, এই গোষ্ঠিটি টিপাইমুখ এর ব্যপারে একেবারেই নিরব, এটা আপনি আমি সবাই জানি। তাই ল্যাম্পপোষ্ট এর মত প্রায় অখ্যাত একটা সংগঠন যখন আপনার, আমার এই প্রিয় ভুমির নাব্যতা ও উর্বরতা রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে নামে, তাকে শ্রদ্ধা করতেই হয়।
আর কোন দেশ এর দুতাবাস এর সামনে বিক্ষোভ দেখানো স্বীকৃত একটি পন্থা। নিকট অতীতেই এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে, তার অনেকগুলোই "অতিসভ্য" পশ্চিমা বিশ্বে।
এটাও সত্য, যুগে যুগে আপনার মত পিছু টানা লোক সব আন্দোলনের বা সংগ্রামের সময় সব সমাজেই ছিলো। আমাদের মহান মু্ক্তিযুদ্ধে যারা যোগ দিয়েছিলেন, তাদেরকে নছিহত করতেও আপনার পূর্বসুরী রা ছিলেন। তাদের কথা শুনলে আজও বাংলাদেশ স্বাধীন হতোনা।
আর সবশেষে আপনার অসভ্য ইশারার জবাবে বলতে হয়, আমাদের চারপাশে তো অনেকেই (বিশেষত: অনেক বুদ্ধিজিবী) ভারতের ভার্চুয়াল রক্ষিতা বনে গেছেন, আমরা অন্তত না হই।
মনে করুন, ভবিষ্যতে কোন এক সময়, আপনার ছেলে আপনাকে সিলেট বা কুমিল্লার মরুভুমিতে দাড়িয়ে জিগ্গেস করলো, বাবা দেশের ওই সর্বনাশ এর সময় তুমি কোথায় ছিলে? এর উত্তরে কি আপনি এই ব্লগটা দেখাবেন?
--- হঠকারিতা মাঝে মাঝে ভালো ফল বয়ে আনে হয়তো তবে অধিকাংশ সময়ই এটা ফ্লপ করে এবং বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে,
সিপাহী বিপ্লব কিংবা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব এসবের ব্যর্থতা এখানেই, তারা উপযুক্ত সময়ে হাতুড়ির ঘা বসাতে পারে নি, বরং যখন জনগণের সমর্থন থাকতো ভারত যখন শত্রু রাষ্ট্র চিহ্নিত হয়েযেতো সে সময়ে এই আন্দোলনের বিপক্ষে যাওয়ার মতো পত্রিকা পাওয়া যেতো না ।
-------------- রাষ্ট্র জনগণের প্রতিক্রিয়ায় বুঝেছে এই কতিপয় বিপ্লবাসক্ত যুবকের বিরুদ্দে শক্ত ব্যবস্থা নিলেও জনগণ সেটাকে প্রতিরোধ করবে না।
----------- দুত অবধ্য এটা প্রায় সভ্যতার মতো প্রাচীন একটি রীতি, এখন আধুনিক রাষ্ট্রে দুতাবাসের নিরাপত্তাও তমনে অবশ্যপালনীয় একটি রীতি।
তার সাথে আছে তাদের দাবীর উদ্ভটতা!!! টিপাইমূখের সাথে ওপার বাংলার লালগড়ের বিষয় গুলিয়ে ফেলায়.. অনেকেই দ্বিধান্বিত!!!
আপনার বিশ্লষনে ভাবনার বিষয় আছে। ভাল লাগলো।
কিন্তু গণহারে মাইনাস??? ঘটনা কি?
++
ফারা তন্বী বলেছেন:
এইখানে কমেন্ট করতে ভয় পাই। মোট কথা আমি লেখক ভাইজান রেই ভয় পাই।স্রেফ বোলবো সুফির সাথে একমত(কমেন্ট ৩৫,৩৯)।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
লেখা ভালো লেগেছে। আন্দোলনের কৃতিত্বদখলের পাশাপাশি, যারা নিজস্ব মতবাদ/স্বার্থোদ্ধারের পাঁয়তারা করতেছে তাদেরও চিনে রাখা দরকার। ভারত/পাকি/জামাতী ইস্যুগুলাতে খুব সহজেই আমাদের ধৈর্য চলে যায়, আর আমরা গালাগালি শুরু করি। এটা বেশ আশ্চর্যের না হলেও মজার। কবে বাংলাদেশের পক্ষে বলে কোন ভারতীয় বাংলাদেশের দালাল গালি খাবে? (কথাটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও মনে আসলো)
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
আমাদের মুক্তযুদ্বের সময় জামাতীরা বলতো দেশ দুই ভাগ হওয়া খুবই খারাপ! একত্রে পাকিস্হান কত শক্তিশালী....!!!ফারাক্কার ভয়াবহ সর্বনাশ দেখেও একটি দল ঠিক জামাতের ৭১ এর ভূমিকায় নেমেছে, টিপাই মুখ নিয়ে|
জামাত যদি ৭১ এ রাজাকার হয়, টিপাই মুখকে সমর্থন কারী দলটি সে খেতাব ২০০৯ এ এসে অর্জন করেছে|
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
লেখক বলেছেন:
আপনে একটু খবর নিয়া দেখেন, কোথায় কি পরিস্থিতিতে দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়, এবং সেটা কারা করে।
============
এইতো ভাল পয়েন্টে এসেছেন|
১| ইরাকের আক্রমনের প্রতিবাদে ইউরোপ,কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া,এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্হিত আমেরিকান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে| কেউ বলেনি বিক্ষোভকারীরা চরম পন্হী|
২| সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে কানাডিয়ান মহিলা সা;বাদিক গ্রেফতার ও পরে হাসপাতালে মারা যান, কানাডায় অবস্হিত ইরান দূতাবাসের সামনে দিনের পর দিন আন্দোলন হয়েছে, কেউ বলেনি বিক্ষোভকারীরা চরম পন্হী|
৩| সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নির্বাচনের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্হিত ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে|কেউ বলেনি বিক্ষোভকারীরা চরম পন্হী|
৪| শ্রীল;কা সরকার টামিলদের বিরুদ্বে যে অভিযান চালায় তার বন্ধের দাবীতে আমেরিকান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়, একদিন নয়, লাগাতার| কেউ বলেনি বিক্ষোভকারীরা চরম পন্হী|
৫| তিব্বতীয়রা আমেরিকা-কানাডা-ইউরোপে চায়নিজ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে| কেউ বলেনি বিক্ষোভকারীরা চরম পন্হী|
সারা বিশ্বে বর; রাস্তা-ঘাটে আন্দোলন করে জনগণকে কষ্ট না দিয়ে সবসময় স;স্লিষ্ট দূতাবাসের সামনেই প্ল্য-কার্ড,ব্যানার, ফেষ্টুন নিয়ে মাইক দিয়ে দাবী-দাওয়া প্রকাশ করা হয়, শুধু তাই নয় অনেকেতো লেপ-তোষক নিয়ে দূতাবাসের সামনে শুয়ে থাকে দিনভর| আর তাদেরকে পাহারা দেয় পুলিশ| যতক্ষন না কোন ধ্ব;সাত্মক কোন কিছু করা হয়, পুলিশের কাজ হয় নীরব দর্শকের ভূমিকা|
দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা হাজারটা লিখতে পারবো, সব ঘটেছে গনতণ্ত্রের মা-বাপ ইউরোপ-আমেরিকা-কানাডাতেই|
কেউ বলেনি বিক্ষোভকারীরা চরম পন্হী|
আপনি আমাকে খবর নিতে বলেছেন, খবর নিয়ে আপনাকে জানালাম|
আর আপনি সহ যারা নীজ দেশের সর্বনাশ করেও "ভারত মাতাকে" খুশি করার জন্য এত চেষ্টা করেন যাচ্ছেন তাদের ব্যাপারে একটু খোজখবর দেন, শুনতে বড়ই মন চায়, কী মধু দালালীতে.....??
লেখক বলেছেন: নতুন চলছে চীনের কোনো একটি প্রদেশে যুদ্ধ চলছে কিংবা গণহত্যা চলছে সেটার দাবীতে দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভ করছে চীনের নাগরিকেরা।
ইরাণী দুড়াবাসের সামনে বিক্ষোভ করছে ইরানী নাগরিকেরা।
বিভিন্ন দেশের আমেরিকান দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে ইরাকীরা।
তিব্বতীরা চীনের দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে।
আমিও একই কথা বলছি, এখানে যদি মনিপুরের মানুষেরা বিক্ষোভ করতো তাহলেও কথা ছিলো।
এমন কি ২৪শে জুন কতিপয় ভারতীয় নাগরিক ভারতীয় দুড়াবাসের সামনে বিক্ষভ করেছে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের পুলিশ তাদের আটকও করেছিলো। সেটা অবশ্য অন্য একটা ইস্যুতে।
সরকার সেলিম বলেছেন:
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: আমাদের মুক্তযুদ্বের সময় জামাতীরা বলতো দেশ দুই ভাগ হওয়া খুবই খারাপ! একত্রে পাকিস্হান কত শক্তিশালী....!!!ফারাক্কার ভয়াবহ সর্বনাশ দেখেও একটি দল ঠিক জামাতের ৭১ এর ভূমিকায় নেমেছে, টিপাই মুখ নিয়ে|
জামাত যদি ৭১ এ রাজাকার হয়, টিপাই মুখকে সমর্থন কারী দলটি সে খেতাব ২০০৯ এ এসে অর্জন করেছে|..
.........................................
সহমত
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
ল্যামপোষ্টের আচরণ আমার কাছে অন্তত হঠকারি মনে হচ্ছেনা আর আপনার কাছে হঠকারী মনে হলে তার দ্বায় সরকারের।কথায় বলে "ঘরপোড়া গরু সিদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়"।শুধু এই প্রবাদ মাথায় রেখেই কোন কিছু না পড়েই টিপাইমুখের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যাওয়া যায়। সেখানে সরকার যখন ভারসাম্যহীন কথাবার্তা বলছে, দেশের মুখপাত্র মিডিয়াও নিশ্চুপ তখন কেউ কেউ এমনপন্থায় প্রতিবাদ করলে সেটাকে আমি মোটেই হঠকারী মনে করিনা।
আওয়ামি সমর্থকদের সুযোগসন্ধানী মন্তব্য পোষ্টের বিতর্কের (অন্তত যেটুকু হতে পারতো)জায়গাটুকুও যৌক্তিক অবস্থান হারিয়েছে।
মনির হাসান বলেছেন:
রাসেল ভাই , চমৎকার অ্যানালাইসিস ... যদিও আমার দৃষ্টি ভঙ্গিটা আলাদা ... ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলেই মহাসিন্ধু হয় ।
বিপ্লব একদিনে হয়না, সিপাহী বিপ্লবের মত ছোটখাট, ভুলভাল বিপ্লবই মহাবিপ্লবের জন্ম দেয় ।
(অ.ট. ক্যামন আছেন ?)
লেখক বলেছেন: দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হওয়াটা আসলে তেমন বড় কিছু না। সামনে পেছনে সবাই একটা সময়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে যাবে। পক্ষ আর পন্থা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে।
ভালো আছি,
অপেক্ষা করছি, শুনলাম আমাকে না কি ল্যাপটপ আর ভারতের টিকেট দিবে ভারতীয় দুতাবাস থেকে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ভাবতে ভালই লাগে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগে বুদ্ধিজীবিরাই দালালী করত, এখন আবজাব ব্লগাররাও সেই চান্স পাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: হুমম, ভারতভ্রমনের পয়সা উঠাতে পারছি না, ভাবছি এই পারফর্মেন্সে খুশী হয়ে যদি পিনাক কিছু দেয়, তাহলে ভারতে ঘুরে আসলাম।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
লেখক বলেছেন:নতুন চলছে চীনের কোনো একটি প্রদেশে যুদ্ধ চলছে কিংবা গণহত্যা চলছে সেটার দাবীতে দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভ করছে চীনের নাগরিকেরা।
ইরাণী দুড়াবাসের সামনে বিক্ষোভ করছে ইরানী নাগরিকেরা।
বিভিন্ন দেশের আমেরিকান দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে ইরাকীরা।
তিব্বতীরা চীনের দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে।
আমিও একই কথা বলছি, এখানে যদি মনিপুরের মানুষেরা বিক্ষোভ করতো তাহলেও কথা ছিলো।
================
আপনি ভুল বলেছেন| সেই সব আন্দোলনে অর্ধেকেরও বেশী লোক বিদেশী, সাদা|
আরও একটু বলি শ্রীল;কাতে কানাডীয় দুতাবাসের সামনে কানাডার বিরুদ্বে আন্দোলন করেছে সি;হলীরা, কানাডার কোন লোক নয়|
আর বাধে ক্ষতি হবে বা;লাদেশের, ভারতীয়রা কেন এখানে আন্দোলন করবে....??
সারা বিশ্বে বর; রাস্তা-ঘাটে আন্দোলন করে জনগণকে কষ্ট না দিয়ে সবসময় স;স্লিষ্ট দূতাবাসের সামনেই প্ল্য-কার্ড,ব্যানার, ফেষ্টুন নিয়ে মাইক দিয়ে দাবী-দাওয়া প্রকাশ করা হয়, শুধু তাই নয় অনেকেতো লেপ-তোষক নিয়ে দূতাবাসের সামনে শুয়ে থাকে দিনভর| আর তাদেরকে পাহারা দেয় পুলিশ| যতক্ষন না কোন ধ্ব;সাত্মক কোন কিছু করা হয়, পুলিশের কাজ হয় নীরব দর্শকের ভূমিকা|
ড্যুড, লিসেন এন্ড লার্ন |
যে কোন দেশের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন গনতান্ত্রিক অধিকার এব; সব গণতান্ত্রিক দেশেই এটা হয়েছে যুগে যুগে|
শুধু সমস্যা দালালীয় গণতন্ত্রের ব;লাদেশে...!
আপনি একদিকে টিপাইমুখ বাঁধের সমর্থক অন্যদিকে আপনার আবার নিজস্ব একটা বিপ্লবের আকাঙ্খা ও পদ্ধতি-বিষয়ক ভাবনা আছে। যেখানে দাড়িয়ে আপনি দেখছেন, আপনার মনে হচ্ছে ল্যম্পপোষ্ট হঠকারি। সমস্যা হলো ল্যম্পপোষ্টের তৎপরতা (সে সঠিক-বেঠিক, হঠকারি-বিপ্লবী যাই হোক), এ'আপনাকে যে দুই বিষয়কে (বাঁধের সমর্থক আবার নিজস্ব বিপ্লবীবোধ) নিয়ে আপনি ভালই ছিলেন, ঘর করছিলেন, এ'দুইয়ের কোন বিরোধ আছে বলে আপাত মনে হচ্ছিল না এই শান্তি শান্তি অবস্হায় থাকতে দেয় নি, দিচ্ছে না। দুইয়ের মধ্যে যে আসলে ঠোকাঠুকি ও ভালো বিরোধ-সংঘাত আছে আপনার অবস্হানের সেই আপাত ভারসাম্যে ল্যাম্পপোষ্ট আঘাত করেছে। যে ঠুনকো ভারসাম্য করে সংঘাতকে চাপা দিয়ে রাখতে পেরেছিলেন, টের পাচ্ছিলেন না, দেখা যাচ্ছিল না - ল্যাম্পপোষ্টের তৎপরতার সামাজিক প্রভাব একে উদোম করে সংঘাতটা প্রকাশ করে দিয়েছে। ল্যাম্পপোষ্টের তৎপরতার, ছোট্ট কাজের তাৎপর্য এখানেই। আমাদের প্রায়-নিস্তরঙ্গ সমাজের চিন্তার স্হবিরতার সুযোগ নিয়ে আমরা যার যেমন, করে খাওয়ার জীবন যাপন করছিলাম, বিজনেস এজ ইউজুয়ালে চালিয়ে যেতে পারছিলাম - ল্যাম্পপোষ্টের তৎপরতা নিঃসন্দেহে এদের শান্তি নষ্ট করেছে। আমাদের সমাজ (আপাতত এখানে ব্লগ সমাজ) যেন সমাজের শত্রু-মিত্রের ভেদাভেদের কোন না কোন পক্ষে অবশ্যই অবস্হান নেয়, ভেদ-লাইনের উপর দাড়িয়ে অবস্হান লুকানোর সুযোগ না পায় - আমাদের সবাইকে একাজে বাধ্য করেছে। এখন সিদ্ধান্ত যার যার; কে কোন পক্ষ নেবে। বিচারের ভার নিজের নিজের - স্বার্থ মোতাবেক।
শেখ মুজিবের ছয় দফা আমাদেরকে সমাজের বিভিন্ন কোণায় ধাপে ধাপে এভাবেই পক্ষ নিতে পোলারাইজেশনে বাধ্য করেছিল। যদিও আমাদের বেশির ভাগের কাছেই কাজটা সহজ ছিল না। কারণ এর মাত্র বিশ বছর আগেই আমরা না বুঝেছিলাম - ইসলামের মধ্যস্হতায় আমরা উভয়ে মুসলমান বলে সে বাস্তবতার সুযোগে দুই পাকিস্তান ভুখন্ডের জনগোষ্ঠি একটা এ্যালায়েন্স করে একটা রাষ্ট্র কায়েম করেছিলাম। ফলে আমাদের অনেকের কষ্ট হয়েছিল ছয় দফার দাবির সমর্থক হতে। কারণ যদিও দাবির মধ্যে সরাসরি আলাদা হবার কোন কথা কোথ্থাও নাই। কিন্তু আলাদা হিসাব-কিতাব, আয়-ইনকামে কার কী অবদান সে ভিত্তিতে বরাদ্দ-বাজেটের কথা তোলা হয়েছিল। এমনকি আলাদা কারেন্সি। সবার মনে শঙ্কা জেগেছিল যদি এভাবে বিরোধ মীমাংসায় সফল না হওয়া যায়, ফেল করে - তাহলে কী হবে? এসব চিন্তা করে, বাঙালি মুসলমানের আবার বাঙালি বলে আত্ম-পরিচয়ের পক্ষে দাঁড়াতে, বিকাশ ঘটাতে এটাকে সমাধানের পথ বলে মেনে নিতে বহু কষ্ট হয়েছিল। অনেকের কাছে বিভ্রান্ত মনে হয়েছিল। ঠিক ভাগ চাননি কিন্তু শেখ মুজিবকে নেতা মেনে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরের অবস্হা আমাদের শেষ সব্বাইকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। আর নির্ভাগ ফেলে রাখতে, থাকতে দেয়নি। যারা পারেনি এদেরকেই আমরা মুসলিম লীগার বা জামাতে ইসলামি বলে চিনি। ওদেরকেও পক্ষ নিতে হয়েছিল বলে ওরাও সশস্ত্র হয়েই প্রতিরোধে নেমে পরেছিল। কাউকে ছাড়েনি, কারও নিস্তার হয়নি। পক্ষে অথবা বিপক্ষে যেতে হয়েছিল, নিরপেক্ষতার কোন পাটাতন অবশিষ্ট ছিল না। ইতিহাস এভাবেই পথ করে নিয়ে আগায়।
আমার এই ভাগাভাগির কথা আপাতত ব্লগ-জগতকে নিয়েই। রাসেল... যদি ব্লগার না হত হয়ত এতটা গভীরে ভাগাভাগির ভিতরে তাঁর না পড়লেও চলত। তবে এটা মানতে হবে, রাসেল... সেনসেটিভ। তাই সে ল্যাম্পপোষ্টের জ্বরে আক্রান্ত; পক্ষে অথবা বিপক্ষে।
রাসেল... কে আমি টিপাইমুখ বাঁধের সমর্থক - বলেছি। বলেছি এটাই তার বাকি সব অবস্হানের কারণ, অবস্হানের কেন্দ্র, ল্যাম্পপোষ্টের আচরণ নয়। অনেকে আমার একথা মানতে আপত্তি করতে পারেন।
রাসেল নিজেকে স্পষ্ট করতে পেরেছে, (১৭ নম্বর মন্তব্যে তাঁর জবাব দেখুন) এখানে। বলছেন,
"আমিও একই কথাই বলছি পরিবেশগত প্রভাবের কথা যেভাবে বলা আছে সেখানে তাতে তেমন বড় কোনো আশংকার কথা নেই, বরং আশাবাদের কথা আছে, ব্যারেজ নির্মানের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে কি না সেটাও বলা নেই, এটাও হাওয়ার উপরে রুটি ভাজার মতো বিষয়"।
উপরে মন্তব্যকারী প্রথম আলো ব্লগের একটা রেফারেন্স দিয়েছিল। খুব শক্ত কোন যুক্তি নয়। তবে রাসেল... যেখানে বারবার তাঁর যুক্তি শানাচ্ছিল এই বলে যে,
"ভারত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন শুরু করলে এই প্রতিবাদ হয়তো একটা বিষয় হতে পারতো। তবে এখনও কাজ শুরু হয় নি, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে, তথ্য আদানপ্রদান হবে, বিশ্লেষণ হবে, এবং চুক্তিপত্রে দস্তখত হবে। অনেকগুলো পর্যায় এবং পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে"
অথবা
"এমন কোনো স্পষ্ট প্রোপোজাল নিয়ে আলোচনা নেই, অনেকগুলো যদি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, শেষও হয়েছে অনেকগুলো যদি দিয়ে"।
অর্থাৎ - ভারত সিদ্ধান্ত নেয় নি, তথ্য নাই, চুক্তি নাই, স্পষ্ট প্রোপোজাল নাই, বাঁধের কোন কাজ শুরু হয় নাই - (অনেকটাই মন্ত্রী রমেশের কথার মত তবে আরও গুছিয়ে) সব তর্ক-বিতর্ক নাকি "যদি"র উপরে চলছে ইত্যাদি যুক্তির উপর রাসেল... দাড়িয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছিল। কিন্তু মন্তব্যকারি ইনটারনেট ঘেটেই মৌলিক তথ্য দিয়ে প্রমাণ করলো - টেন্ডার হয়ে এই প্রকল্পের কাজও NEEPCO জিতেছে, ফলে প্রকল্প আর কেবল প্রস্তাবের (প্রস্তাব মানে স্পষ্টতই স্পষ্ট প্রোপোজাল) জায়গায় নাই - এবার রাসেল... এক স্টেপ ব্যক ফুটে খেলেছে। বলছে,
"পরিবেশগত প্রভাবের তেমন বড় কোনো আশংকা নাই, বরং আশাবাদের কথা আছে, ব্যারেজ নির্মানের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে কি না সেটাও বলা নেই, এটাও হাওয়ার উপরে রুটি ভাজার মতো বিষয়"।
এটা নব্বুই এর দশকে বুশের কিয়োটো (বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের দুনিয়া তাতানোর আকামের বিরুদ্ধে ) প্রটোকলে স্বাক্ষর না করার যুক্তির মত। বুশের কাছে আমেরিকান শিল্প ব্যবসায়ীদের দেয়া যুক্তি ছিল আরও বিশ বছর পরে এসব ভাবা যেতে পারে। দুনিয়া তাতছে আর একটু তাতায় নেই - এতে ইউরোপ, চীন জাপানের চেয়ে শিল্পে আমাদের আগিয়ে থাকা নিশ্চিত করে নেই তার পর দেখা যাবে। শিল্প প্লান্টের সাথে পরিবেশ রিসাইক্লিং এর খরচ জুড়ে দিলে আমাদের মুনাফা কমে যাবে। "তার চেয়ে দুনিয়া জাহান্নামে যাক আগে কামায় লই, পরে দেখা যাইব"। আমরা তাই প্রচার হতে দেখেছিলাম, "পরিবেশগত প্রভাবের তেমন বড় কোনো আশংকা নাই, আমেরিকান শিল্পের উন্নতি হবে, কত লোক কাজ পাবে বরং আশাবাদের কথা আছে"। একই রকম আশাবাদ, অবশ্যই। কাজেই আশাবাদ দেখা টিপাইমুখ বাঁধের সমর্থক রাসেল... এটাই ওর অবস্হানের কেন্দ্র, ল্যাম্পপোষ্টের আচরণ নয় - এর স্বাক্ষর ওর নিজের পোষ্ট।
টিপাইমুখ নিয়ে IUCN এর ডঃ আইনুন নিশাতের একটা সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল প্রথম আলো তে। ব্লগে কোথায় এটার রেফারেন্স চোখে পরেনি। বাংলাদেশের পক্ষে অনেক শক্ত টেকনিক্যাল যুক্তিগুলো ওখানে আছে। জানি না রাসেল... দেখেছেন কী না।
অনেক বড় হয়ে গেছে, শেষ করতে হবে। রাসেলের বিপ্লব বা আন্দোলনের প্রতি যে ঝোঁক আপাত আকুলতা আছে, এটাকে গুরুত্ব দিতে রাসেল নিজেই না করেছে। জানাচ্ছে "আমি সে লাইনের মানুষ না"। দেখুন মূল পোষ্টে বলছে,
"বস্তুবাদী দর্শণ এবং রাজনৈতিক মতবাদ নিয়ে আলোচনা করছি না আমি, পার্টি পলিসি কিংবা থিসিস এন্টি থিসিস নিয়ে বিশাল বক্তৃতা দেওয়া সম্ভব না আমার পক্ষে। আমি সে লাইনের মানুষ না। আমার নিজস্ব পরিচিত অতিবিপ্লবীদের দেখে এটা আমার উপলব্ধি বলা যায়"।
"বরং যখন জনগণের সমর্থন থাকতো ভারত যখন শত্রু রাষ্ট্র চিহ্নিত হয়েযেতো সে সময়ে এই আন্দোলনের বিপক্ষে যাওয়ার মতো পত্রিকা পাওয়া যেতো না"।
কাজেই তাঁর বিপ্লবের ভাবনা পথ পদ্ধতি, হঠকারি বলা নিয়ে আর কথা সময় নষ্ট করছি না।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: পি মুন্সী যখন আমাকে একটা পক্ষে ফেলে দিয়ে নিশ্চিত ভাবেই ব্লগ থেকে বিদায় নিলেন তখন আসলে আমার ফিরতি জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
পি মুন্সী অবশ্য অনেক খোঁজ খবর রাখেন, তার এন্টেনা ভালো, অনেক ছবি, অনেক চ্যানেল সেখানে সংবাদ সম্প্রচার করে। তবে নিপকোর ২০০৯-২০১০ সালের মেমোরেন্ডাম ওফ আন্ডারস্ট্যান্ডিংটি দেখলাম। এখনও প্রোজেক্ট ক্লিয়ারেন্স নেই। সিসিইএ এপ্রুভালের জন্য অপেক্ষা করছে এই প্রোজেক্ট।
হাওয়ার উপরে তাওয়া ঘুরিয়ে রুটি না ভেজে বরং একটু আলোচনাগুলো খতিয়ে দেখেন। আইনুন নিশাতের সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তার বক্তব্যটি মনে আছে, নাকি রুটি ভাজতে গিয়ে মাথা থেকে সেই শেষাংশ খসে পড়েছে পি মুন্সী সাহেব।
টিপাইমুখ নিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ জন সাক্ষাৎকার দিয়েছে, এবং সকলের সকল আশংকার শেষাংশ ছিলো বিস্তারিত বলা যাবে প্রোজেক্ট প্রোপোজাল হাতে পেলে।
এইসব নিয়ে পি মুন্সীর মাথা ব্যথা নেই তেমন, তিনি আমাকে একটা অবস্থান দিয়ে আনন্দিত। আমিও অবশ্য আনন্দিত। অন্তত আমার একটা জায়গা খুঁজে পেলাম।
টেন্ডার হয়ে এই প্রকল্পের কাজও NEEPCO জিতেছে, তবে এখন অর্থ সংস্থান হয় নি এই প্রকল্পের, ঢাক ঢোল পিটিয়ে মানমোহন সিং প্রোজেক্টের উদ্বোধন করে আসলেও এখনও নির্মাণ শুরু হয় নি,পরিবেশের উপরে ক্ষতিকর হবে না, এমন একটা অনুমোদন তারা পেয়েছে। তবে গত ৫ বছরেও তারা কাজ শুরু করবার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পায় নি।
http://www.amarblog.com/ehhamida/68190
আপনার অনেক জ্ঞান, আপনি জ্ঞানের মধুতে আষ্টেপৃষ্টে আটকে আছেন। তবে বেশী মধু শরীরের জন্য ভালো না, শুধু উত্তেজনা বাড়ায়। এখন আপনার আসলে টিপাইমুখ বাঁধ কিংবা পানি বিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে না ভেবে গোমুখাসন নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। সেটা করলে হয়তো নিজের মধুর উত্তেজনা কমাতে পারবেন। আর তা সম্ভব না হলে হাতে লিখে ফেলেন, হাবিব মহাজন পরম গুনীজন একটা চমৎকার কথা বলেছিলেন, তীব্র যৌনাকাঙ্খাই অসহনীয় মাথা ব্যথার কারণ। বারাক নদী নয় আরও সংকীর্ণ কিছু খুঁজে মাথা ঠান্ডা করেন ভাইটি।
আপনাকে ধন্যবাদ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
অমি রহমান পিয়াল বলছেন,-
"হযরত ফরহাদ মাজহার (রা.) বগল বাজাইতেছে, আর মুরিদানরা ডুগডুগি বাজায়া নাচতেছে। বিপ্লবী-জেহাদী ঐক্য ব্লগে অলরেডি হয়া গেছে"
পিয়াল ভাই, আমি (আপনার ভাষায়) হযরত ফরহাদ মাজহার এর মুরিদান না, এখন আপনার 'জেহাদী' ট্যাগিং থেকে মুক্তি পাওনের তরিকাটা যদি একটু বলতেন !
সবাক বলেছেন:
জনসম্পৃক্ততা তৈরি করে আপনি এ পর্যন্ত কয়টা আন্দোলনে শরীক হয়েছেন? আর এখানে "জন" সম্পৃক্ততা বিষয়টির রূপ কেমন? এ ধরনের শব্দের প্রায়োগিকতা কতটুকু যথার্ত অন্তত টিপাই'র বেলায়। ডাল, ভাত এসব বিষয় একটু আলাদা, নাকি? টিপাই একটু ব্যতিক্রম।
সমালোচক হওয়াটা খুব সহজ। মানুষকে পঁচানোর ক্ষমতা থাকলেই সমালোচক হওয়া যায় ( যা দেখতেছি)। আপনার সে ক্ষমতা আছে। তাই এখন কেবল বিরোধিতার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামলেই হলো।
উত্তরাধুনিকতা নাকি ছাতামাতা নিয়ে একটু পড়েছিলাম। এ লেখায় লেখককে খানিকটা ওই রকম মনে হয়েছিলো। আসলে অপরিপক্ক আচার বা মতবাদ যে কতটুকু বিপদজনক হতে পারে তা এ লেখা পড়ে খুব ভালোভাবে বুঝা যায়।
সবাক বলেছেন:
ল্যাম্পপোস্টের মতো প্রচেষ্টাকে এখনই গলাটিপে না ধরলে ট্রেন্ডবাজি দিনদিন হুমকির মুখে যাবে। তাই প্রতিটি মাধ্যমে এ ধরনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করতেই হবে। নইলে দালালির আর সুযোগ থাকে না।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
আ.রা.শি আপনে এইখানে উদাহরণ না। কিন্তু আমার ২২ ও ২৩ নম্বর কমেন্ট দুইটা নিয়া কেউ কিছু বললো না। এইটাই আফসুস
এসব কি হচ্ছে ! বলেছেন:
ল্যাম্পোস্ট সংগঠনের ব্যাপারে আমারও কিছুটা সন্দেহ আছে যেটা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ গুলো দিয়া জাস্টিফাই করা ঠিক হবে। কিন্তু টিপাইমুখ নিয়া কনফিউশান তৈরী করার চেষ্টা জঘন্য। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষনের মাঝে একটা জাতীয় ইস্যু নিয়ে আসাটা ব্যাপক সন্দেহজনক।বাঁধটা করাই হচ্ছে এর থেকে অস্বাভাবিক পরিমান পানি প্রত্যাহার করে নিজেদের বিভিন্ন কাজে প্রয়োগের জন্য। বৃষ্টি মওসুমে হয়তো বড় কোনো প্রভাব না দেখা দিলেও শুষ্ক মওসুমে এর প্রভাব চোখে পড়ার মত হবেই। আর নদীর গতিপথ পরিবর্তনজনিত রিস্কতো থাকছেই।
উনি হয়তো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওজন দিয়ে টিপাইমুখকের ব্যাপারে কনফিউশান তৈরির অপচেষ্টা করছেন, কিন্তু উনার ভাল করেই জানা আছে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর সম্মতি নিয়াই ফারাক্কার মত মরন ফাঁদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
মনে হচ্ছে লেখকের মত ব্যক্তিরাই বঙ্গবন্ধুকে তখন ভারতের ফারাক্কা বাঁধ টেস্টের ব্যাপারে কনফিউজড করে সম্মতি আদায়ের ব্যবস্থা করেছিল।
রাজর্ষী বলেছেন:
ল্যাম্প পোস্টের ব্যাপারে কিন্তু থাকতে পারে। কিন্তু টিপাই না হলে ভালো হয় এই ব্যাপারে কিন্তু নাই। সেটা ড্যাম বা ব্যরেজ যাই হোক। সো যেমনেই হোক এটা ঠেকায়া দিতে হবে। কিন্তু আপনাগো অবস্থা দেইখা মনে হচ্ছে সেটা সম্ভব না। হাহ
ছু-মন্তর বলেছেন:
দালালী পোষ্ট। মাইনাস।
লেখক বলেছেন: যৌক্তিকতার বদলে যখন মানুষ আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, তখন সেটার চুড়ান্ত বিপর্যয় না দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো। এই উন্মাদনা কমুক, এরপরে আশুকর্তব্যাদি পরিস্কার হয়ে যাবে।
১ সপ্তাহ সময় দাও, এরপরে পুনরায় আমার এই লেখা পড়ে মন্তব্য করো। এই এক সপ্তাহে এই উন্মাদনা কিংবা আবেগের ডায়ারিয়া থামবে। এরপরে আসবে রিফাত হাসান তার সারমর্ম পোষ্ট নিয়ে, সে সময়ের জন্য অপেক্ষা করাই ভালো।
অন্য যে কথাটা বলা উচিত, প্রথম আলোর তথ্য খুব বেশী মিথ্যা নয়- এটা ফারুক ওয়াসিফও জানে ভালো করে।
সবাক বলেছেন:
@ অমি পিয়াল
হিরো হওয়ার জন্য মো: নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, মান্নান ভুঁইয়া, হান্নান শাহ আর শিবিরের পোলাপানগুলান আন্দোলন করে। মনে হয় ল্যাম্পপোস্ট এ ধরনের আন্দোলনের সাথে জড়িত নয়। সবকিছুকে রাশেদ খাঁন মেনন আর হাসানুল হক ইনুরে দিয়া বিচরাইলে হইবো না।
প্রথম আলো বলেন আর আওয়ামীলীগই বলেন, যার বগলের বাঁশিই বাজান না কেন? দালালি বিষয়টা অত ক্লাসিক না।
লেখক বলেছেন: গামছা কত নিলো?
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন:
রমেশ চন্দ্র ও সুরন্জিত সেন দেখি ব্লগেও আয়া পড়ছে......আর কত দেখবো মাবুদ দালালের সিনটমস?!|!|!
দে চুম্মা মাবুদ দে চুম্মা....
সাদী বলেছেন:
চমৎকার একটা পোষ্ট। আমি আপনার সাথে একমত। তবে সব ঘটনারই দুইটা দিক থাকে। কিছু মনুষের জন্য ভাল হইছে। কিছু লোকের চোখ খুলছে।
ফুলপাতা বলেছেন:
আমি নিশ্চিত, অরপি'র আন্দোলনের অভিজ্ঞতা আছে। এই অভিজ্ঞতা কতটা দামি তা সবার পক্ষে বোঝা সম্ভব না। যা হোক, সোজা তথা..... টিমুবা চাই না। চাই না। চাই না।তবে..................
ল্যাম্পপোস্টকেও চাই না। চাই না। চাই না। শালা সুই হইয়া ঢোকে ফাল হইয়া বের হয়।
অরপি : একটা সফল আন্দোলন চাই!! কিভাবে হবে তা ভেবে কূল পাই না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















উনাদের এই হটকারিতায় আজকে পত্রিকায়, ব্লগে, বা বাইরে অনেককে টিপাইমুখী বাঁধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখেছি।
উনাদের এই হটকারিতার জন্যই আজকে টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে অনেককেই সত্যটা জানতে দেখেছি, জানাতে চেষ্টা করতে দেখেছি।
এইগুলা মনে বাদ গেছে।