আমাদের তারুণ্যে যারা বিপ্লব বিপ্লব বলে মাথা কুটে মরতো তাদের অনেকেই এখন সংসারী, যাদের চোখে সমাজ বদলের স্বপ্ন ছিলো, ছিলো প্রয়োজনে যেকোনো পরিস্থিতিতেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার বাসনা তারা এখন নিজেদের স্ফীতোদর সামলাতেই গলদঘর্ম, আমাদের কাঙ্খিত বিপ্লব আসে নি, এসেছে লক্ষীপুরের বিপ্লব, এসেছে সংবাদ শিরোণাম হয়ে, অতীতেও বিপ্লব সংবাদ শিরোণাম ছিলো যখন লক্ষীপুরের নুরূল ইসলামকে টুকরো টুকরো করে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো নদীতে, সে পরিবারের এজহারে আর আহাজারিতে বিপ্লবের নাম এসেছে, আমাদের পরম করুণাময় রাষ্ট্রপতি তার অপরাধ মার্জনা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি নিকটঅতীতে তার করুণার ডালা খুলে নওগাঁর একদল আওয়ামী লীগ কর্মীর অপরাধ মার্জনা করেছিলেন, অন্য একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা রাষ্ট্রপতির মহানুভবতা উদযাপন করেছিলো, গতকালও তেমন ঘটেছে লক্ষীপুরে, বিপ্লবকে ফাঁসী দেওয়ায় দেশের বিচারব্যবস্থাই কলংকিত হয়েছিলো এমনটাই বলেছেন লক্ষীপুরের পৌরমেয়র আবু তাহের, ১৯৯৬-২০০১ সালের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত সন্ত্রাসের ঘটনায় যাদের নাম নিয়মিতই সংবাদ শিরোণাম হয়েছে তাদের একজন ছিলেন তিনি। তিনি এবং তার তিন পুত্রই পেশীশক্তিতে সন্ত্রস্ত রেখেছেন লক্ষীপুরের বাসিন্দাদের।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সংবিধান জঞ্জালমুক্ত হয়েছে, তার সরকার ৩৫ বছর পরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছে, এই জঞ্জালমুক্ত সংবিধানই রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে যেকোনো অপরাধ মার্জনার সুযোগ দিয়েছে, যদিও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন আইনী প্রক্রিয়া মেনে বিপ্লবের অপরাধ মার্জনা ঘটে নি কিন্তু বাস্তবতা হলো বিপ্লব বর্তমানে অপরাধী নন। বিপ্লবের নামে অন্য যেসব হত্যা মামলা ছিলো সেসব মামলার বাদীরা উদ্বিগ্ন হতে পারেন, ভাবতে পারেন তাদের প্রাণ রক্ষায় নুরল ইসলামের স্ত্রী পরিবারের মতো তাদেরও লক্ষীপুরের বসতি ছেড়ে আসতে হবে। একে একে লক্ষীপুরের সকল বাসিন্দা জেলাত্যাগ করলে আবু তাহের তার তিন সন্ত্রাসী পূত্র এবং তাদের সহচরদের নিয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন, বলেছেন তার আইনী দায়বদ্ধতার কথা, কিন্তু তিনি বাংলাদেশের সকল আইন কানুনের উর্ধ্বে, শুধু তাই না, তার নির্বাচনী এলাকার সকল ছাত্রলীগ কর্মীই আইনের উর্ধ্বে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপালগঞ্জের নেতা কর্মীদের দাপটে অন্য সবার জীবনযাপন দুরহ হয়ে যায়, ক্ষমতা হাতে আসলে বাংলাদেশের উত্থানরহিত সকল ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নিয়মিত সালসা সেবন করেন, দেশী বিদেশী পুরুষত্ববর্ধক ঔষধ সেবন করে সেসবের কার্যকারীতা পরীক্ষা করেন তাদের উদ্যত শিশ্ন শিশু, কিশোরী যুবতী বৃদ্ধার যৌণাঙ্গ ছেদন করলে কিংবা তারা যদি সদলবলে ধর্ষণ করে তাদের হত্যাও করেন এদের বিরুদ্ধে কোনো থানাই মামলা নিতে চায় না। এবারের ঘটনাগুলোও এর ব্যতিক্রম নয়, ভিকারুন্নেসার ধর্ষক শিক্ষক গোপালগঞ্জের, ঢাকা শহরের ২১টি থানার প্রধন অফিসার গোপাল্পগঞ্জের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃদলীয় কোন্দলে ক্ষমতার হানাহানিতে লিপ্ত বিবাদমান গ্রুপগুলোর একটি গোপালগঞ্জের, তাদের পেশীশক্তির দাপট সবখানেই।
সংবিধান সংশোধিত হয়েছে, আমিনি ও ইসলামমনস্ক দলগুলো এর প্রতিবাদ করেছে, হরতাল করেছে, পরম করুণাময় আল্লাহতা'লার প্রতি অবিচল ভক্তি, আস্থা এবং পরম করুণাময়ের নামে শুরু হওয়া সংবিধানে স্বাধীনতার চেতনার আঁচ লেগেছে, বিসমিল্লাহ হঠাৎ করেই পরিবর্তিত হয়েছে, এখন সংবিধানের ৪৯তম ধারার শুরুতে আছে বিসমেজিল্লুর, পরমকরুণাময় জিল্লুর রহমানএর নাম নিয়েই এখন ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা কর্মীরা তাদের অপরাধ শুরু করে, বিসমিজিল্লুরের প্রতিবাদে বাংলাদেশে হরতাল হবে না।
লক্ষীপুরের সকল বাসিন্দাদের প্রতি সহানুভুতি, তারা আসন্ন বিপ্লবের আগমনে ভীত-শঙ্কিত, শঙ্কিত আমরাও, উদ্যত অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের খুন করতে ছুটে আসছে বিপ্লব। আমাদের তারুণ্যের চোখে এখনও বিপ্লবের স্বপ্ন আছে কিন্তু রাষ্ট্রপতির করুণাসিঞ্জিত বিপ্লবের হাতে খুন হয়ে যাচ্ছে আমাদের নিরপরাধ নাগরিকেরা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


