আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

ইবানের গোলক

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ দুপুর ২:০৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

অবশেষে মাথার উপরে ক্রমাগত চলতে থাকা গমগম শব্দটা থামলো।
লাবিব ক্যাকটাসের গোড়ায় ফুটো করে সেখান থেকে পানি ভরছিলেন চামড়ার থলিতে, ঘুর্ননরত চাকতিকে দেখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, আড়াল খোঁজার কথাও ভুলে যান। সম্বিত ফিরলো এই শব্দটা থামার পর। জায়গাটা তাইগ্রেসের 200 মাইল উত্তরে। বাবেল এখান থেকে 2 প্রহরের পথ, অবশ্য অশ্ব নিয়ে গেলে 1 প্রহরেরও কম লাগে। তিনি গরিব চাষি, অশ্ব কেনার মতো ক্ষমতা তার নেই। ফেরাতের অববাহিকাও এখান থেকে মাত্র 50 মাইল। প্রকৃতি উদার হাতে সাজিয়েছে তাদের বসতিকে, যব আর খজ্জুর ক্ষেত আছে তার। সেখানে ইয়ারুদ চাইলে ফসল ভালোই হয়, তবে তস্কর বেদুইনরা মাঝে মাঝে চলে আসে, বসতি লোপাট করে নিয়ে যায়, পেছনে যা কিছু থাকে সব আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে যায়। এই নিয়ে চার বার তাকে ঘর বানাতে হয়েছে, একেবারে শৈশবে বাপের সাথে কজ্জুর পাতার ছাউনি বানিয়েছিলো, সেবার বাপ তার বেচে গিয়েছিলো সামনের খন্দে লুকিয়ে, সেখানে তার মাও ছিলো, আর ছোটো বোন তরিফা।
এর 3 সন বাদে আবার বেদুইন এলো অশ্ব চালিয়ে, লাবিব যব ক্ষেতের আড়ালে ছিলেন ছোটো বোনটা তখন সদ্য ঋতুবতি হয়েছে, তাকে ধরে নিয়ে গেলো, শুনেছেন তাদের নিয়ে ওরা বেচে দেয় ইবানের বাজারে। বাবা ছিলেন মাঠে, ছোটোবোনটাকে বাচাতে এসেছিলেন সরকি নিয়ে, তাকে সেখানেই মেরে রেখে যায় বর্বরেরা।
এর 5 সন বাদে তিনি পছন্দ করে পাশের বসতি থেকে নিয়ে আসেন তার বউ সালিয়াকে। 5 কুটরি যব দিয়েছিলেন আর পালের সেরা সেরা 6টা ভেড়া। তার বউয়ের বাবা ইমরুল ছিলেন সে বসতির প্রধান। সে সুবাদে তারও খানিক প্রভাব প্রতিপত্তি হয় আশে পাশের বসতিতে।
হবে নাই বা কেনো। ইমরুলের বাহিনীতে 20জন অশ্বাহোরী ,তারা নিজের বসতি নয় আশে পাশের আরও 4 বসতিকে রক্ষা করেন। ব্যাবেলে বসে রাজা হিরোদ কিছুই করেন না, তিনি আছেন তার শখের খেয়াল নিয়ে, দ্্রাক্ষার সুরা আর ঝলসানো তিতিরের স্বাদে আপ্লুত তার প্রাসাদের অলিন্দে বসে কাশিদে প্রেমের সুর বাজান। বলা আছে আশে পাশের বসতিতে কোনো সুন্দরি বালার প্রথম রাত্রিযাপন হবে তার সাথে, তার সৈন্য বাহিনী যেবার ইমরুলের পাশের বসতি থেকে মেয়ে নিয়ে যেতে এলো ইমরুল তাদের হত্যা করে পুতে রাখেন ইতানের মাঠে।
এভাবেই তার সম্পর্কে বিভিন্ন উপকথার জন্ম নেয়। তাকে বর্শ ছুড়ে মারলে বর্শা তার আলখাল্লার সামনে এসে আপনিই থেমে যায়, তাকে আগুন মাখা তীর ছুড়লে সেটা মাঝপথে ছাই হয়ে যায়, এমন সত্য মিথ্যার মিশেল দেওয়া নান উপকথা।
লাবিব গেরস্থ, তাদের 3 ছেলে মেয়ে , লিজান, নামিন, কিশান বড় মেয়ে লিজানের বয়েস হয়েছে 8, সে বায়না ধরেছিলো তার সাথে যাবে ইশরাকের মেলায়। সেখানে দিনমান নানা আমোদ ,তিনি সাথে আনেন নি, এখন ঝোপের আড়ালে লুকাতে লুকাতে তার মনে হয় তিনি সিদ্ধান্তটা নিয়ে ভুল করেন নি। তার পিতৃমনের খচখচানি কমে যায়।

উজ্জল গোলক আকাশ ফুড়ে আচানক নেমে আসে
শিকারি বাজের মতো অতর্কিতে
2য় সূর্যের মতো স্থির আকাশে

কবি হিসেবে তার সামন্য সুনাম আছে লোকলয়ে। তিনি ঘটনাকে এভাবেই বয়ান করতে চান।
আমি শেকড়ের নির্যাস মশকে ভরছিলাম
হঠাৎ আকাশ ভেদ করে
বিদু্যতের মতো, শিকারি বাজের মতো
2য় সূর্য নেমে এলো ইবানের মাঠে।

তিনি ঝোপে আড়াল থেকে দেখেন, উজ্জল গোলকের ভেতর থেকে ঝোলানো একটা মই নেমে আসে, মাথার উপরে চিকন চিকন দুটো শিং, লতার মতো ঝুলে থাকে, চৌকোনা শিরস্ত্রান, আলাদা করে হাত পা নেই, অদ্ভুত পরিধেয় তার।
হাতে ছোটো একটা ঝুড়ি,
তিনি ইশারায় তাকে ডাকেন, লাবিব স্থানুর মতো দাড়িয়ে তামাশা দেখে, তার পর গম গম শব্দ আসে শুন্য থেকে
হে ইয়ারুদের উপাসক, তুমি আমার সামনে আইস, তোমার সাকিন বয়ান করো।
ঘাবরে যান লাবিব। তিনি অশায়ের মতো পিছু হটে যেতে চান, ক্যাকটাসের কাঁটায় ক্ষত বিক্ষত তবু পালাতে চান।
একটা আলোর ঝলক, এর পর কিছু মনে নেই তার, জ্ঞান ফিরলে নিজেকে আবিস্কার করেন ইবানের মাঠে, পাশে অসংখ্য সুতো বের হওয়া একটা বল। তিনি ভয়ে ভয়ে গোলক স্পর্শ করেন, সামনে উজ্জল পর্দা তৈরি হয়, সেখানে তারই মতো একজনের ছবি। ভয়ে তিনি ছুড়ে মারেন গোলকটিকে,
তার পর উর্ধশ্বাস ছুটেন বসতির দিকে।
যেতে যেতে কয়েকবার থামেন, ইমরুলকে খবর দিতে হবে, জানাতে সবাইকে, তিনি ছন্দ রচনা করতে করতে এক লোকালয় থেকে অন্য লোকালয়ে সদ্যজাত অভিজ্ঞতা বয়ান করতে করতে সন্ধ্যায় ইমরুলের সাথে দেখা করেন।

তাকে সবিস্তারে খুলে বলেন সব ঘটনা। ইমরূল শুনে বলেন, তুমি 10জন অশ্বাহোরী নিয়ে যাও ইবানের মাঠে, আমাকে গোলক এনে দাও।

এর পরে চাঁদে, ইমরূল হিরোদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন, তার আলোকবিচ্ছুরি গোলকের আলোকে আলোকিত হয়ে উঠে ফেরাতের দু কুল, জনসমুদ্্র তার অঙ্গুলি হেলনে উঠে বসে, তিনি মহান ইমরূল নামে পরিচিত হন, এবং লাবিব তার প্রধান মন্ত্রনাদাতা হিসেবে মহৎ লাবিব নামে পরিচিত হন।
এবং প্রায় 5 বর্ষা শেষে, তাদের দুজনকে নিয়ে অনেক উপকথা ছড়িয়ে পরে ফেরাত-তািগ্রস অববাহিকায়, তাদের নিয়ে অনেক মনোহর কাব্য রচিত হয়, এবং তারা ইতিহাসের অংশ হিসেবে আরবের রূপকথা হয়ে যান।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: M  বিভাগে ।

 

  • ৯ টি মন্তব্য
  • ৪১৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: ল্যাংগোট জুটবে তো? এদিকে আমার কাছা ছিড়ে গেছে, ওদিন ঝোপের আড়ালে, মানে আশেপাশে সভ্যতা ছিলো না আর তেলেভাজার বিষম প্রকোপ ছিলো, যাই হোক ঘটনার শেষাংশ আমার ছেড়া কাছা।
২. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: রাসেল বাছা, তুই এ কী শুরু করিলি? তোকে দিয়েই আমার মুখফোড়নামা লিখাবো ভাবছি। পেটে ভাতে লেগে পড়বি গামছা গলায় দিয়ে। পারবি নাহ বেটা?
৩. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
comment by: রাজিব বলেছেন: চমৎকার লেখা। এ ধরনের লেখা আরো চাই। আপনি শাহনামা নিয়ে লেখেন না কেন?
৪. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাই শাহনামাতো নিজে বানাতে পারবো না। এটাতো নিজের বানানো চরিত্র।
৫. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: আচ্ছা, কৈফিয়তের ভালো বাংলা কী আছে? জবাবদিহিও তো ফারসী .. ..।
৬. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: সারসে, কারে কৈফিয়ত দিতে হবে বাংলায়?
কারনদর্শানো
তবে খুব চালু বাংলা না এটা।
সুন্দর বাংলা খুজতে হলে সময় দিতে হবে
৭. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: বুঝলি মুখা, সাধে কি আমি অরে দিয়া ওপেন করাইতে চাইছি? ... বেটা হেব্ভি কড়্রা মাল... আমাগো ইজ্জতের ভবিষ্য ৎ বুঝলি মামু?
৮. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৮:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: সাধু সাধূ রাসেল ! আমি প্রীত !
না হে গোধুলী, আইলাম মোটে । পেঠে দেই কিছু কঠিন, কিছু তরল, তবে সামলে । সকালে কাম !
৯. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৮:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: অই রাসেল ভাই বাকীরা কই? হালারা কি সব মাল খাইয়া টাল হইয়া পইরা গেছে নাকি?

 

 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১২৪৪২৬