আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

অনুবাদ করতে চাইছিলাম কিন্তু ও জিনিষ আমার জন্য না,

০২ রা মে, ২০০৬ ভোর ৫:৫৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

1996এ নোবেল বিজয়ী পোলিশ কবির কবিতা শুনেছিলাম কোনো একদিন , কয়েকটা ছবি তৎক্ষণাত তীরের মতো বিঁধে গেলো মগজে, আমি অনেক বার ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছি, মাঝে কবিতা থেকে নির্বাসন নিয়েছিলাম, লিখি নি বলতে গেলে কিছুই গত 5 /6 বছরে হয়তো ক্ষনিক আবেগে একটা দুইটা ছন্দ মেলানো আবেগ লিখেছি, আর নতুন নেশায় পড়ে গান লেখার চেষ্টা করেছি কিছু দিন, কখনই সমাপ্ত করতে পারি নি, লেখালেখি বলতে এই, চিন্তা করেছিলাম বেশ কিছু কবিতার অনুবাদ করবো, কিন্তু অনুবাদী কবিতা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না, আমার বিবাদী ভাবনায় শব্দের স্থানচু্যতি হয়, ভাবাশ্রিত কবিতা হতে পারে কিন্তু অক্ষর মেপে, ছন্দে চেপে কবিতার প্রথাগত অনুবাদ সম্ভব হবে না আমাকে দিয়ে,
এটাও অনুবাদের একটা ব্যার্থ চেষ্টা বলা যায়, কবিতাটা পড়ে ভালো লেগেছে এমনও বলবো না, আমার ইংরেজি জঘন্য, আর কবিতা পড়ার সময় বারবার অভিধানের শরনাপন্ন হওয়া কবিতা আস্বাদনের সঠিক পন্থা নয়, সুতরাং এটা সেই মতো ঠেকে ঠেকে পড়া একটা কবিতা যার কিছু অংশ আমার ভালো লেগেছে,
প্রথম কবিতাটা অপেক্ষকৃত সরল, এই কবির কবিতা আমি যে কয়টা শুনেছি খুব সাধারন শব্দ দিয়ে সাজানো, এবং শিথিল, কোথাও জোড় জবরদস্তি নেই,

তিনটি অদ্ভুত শব্দ
----------------
সে মুহূর্তে আমি ভবিষ্যত উচ্চারন করি
শব্দ অতীত হয়ে যায়

যখন আমি নিরবতা উচ্চারন করি
নৈঃশব্দ ভেঙেচুড়ে যায়

যখন আমি বলি এটা কিছুই না
শুন্য তা থেকে অবয়ব জন্ম নেয়।

--------------------
লক্ষনীয় হলো লেখার আনন্দ কবিতায় একটা শব্দ হরিণী বন্দি হয়েছিলো শব্দ জঙ্গলে, কবিতার আঁকাবাঁকা শরীরে তার সাবলীল বিচরন তবু সে কবিতার আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে থাকে, আমি ভাবলাম তাকে বিস্তৃর্নপ্রান্তর দেবো, দেবো বৃক্ষছায়া, নির্জন ঝরনা দেবো, গাছের কচিপাতা দেবো করপুটে সাজিয়ে, কিন্তু আমার এই শব্দ হরিনী আত্মরক্ষা জানে না, জানে না উপদ্্রুত জঙ্গলে বেঁচে থাকার কায়দা কানুন, অস্তিত্বের সংগ্রাম শিখে নি সে, কবির মতো অহিংস অসহায় হরিণীকে আমি অবশেষে শব্দজঙ্গলে বন্দি রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম,
অবশ্য এটা আক্ষরিক অনুবাদ হবে না, সুতরাং মূল কবিতার সাথে এটার মিল খুঁজতে চাওয়া বোকামি,
লেখার আনন্দ
------------
শব্দ উপদ্্রুত জঙ্গলে বন্দি কেনো শব্দ হরিণ?
ঝর্ণার সঞ্জিবনী জলের আয়নায় টলটলে নরোম মুখচ্ছবি আঁকা হয় শব্দে
নরোম মুখ নুইয়ে জলপান রত,
শঙ্কিত মাথা তুলে তাকায়,
কান খাড়া করে বাতাস শুঁকে দেখে, কোনো অদৃশ্য শিকারীর গন্ধ ঘাঁই মারে নাসিকায় তার,
আমার দক্ষ আঙ্গুলে বুননে
উপমার শীর্ণ জাল ছুড়ে তাকে বন্দি করতে পারি
কিংবা শব্দের তীক্ষণ বর্শায় তাকে গেঁথে ফেলতে পারি আমি যোকোনো মুহূর্তে
কালির প্রতিটি ফোঁটায় অজস্র ক্ষত্রিয়ের জন্ম, তাদের তূণভর্তি তীর হস্তে ধনুক, মৃগয়ায় এসেছে এই শব্দ জঙ্গলে , বন্দি করতে চায় অমলধবল এই কোমল হরিণ কলমলিখিত বেড়াজালে,
আতঃপর উল্লাসিত টংকারে গেঁথে ফেলবে তার কোমল হৃদয়
কিন্তু তারা জানে না
এখানে যে ছবি আঁকা থাকে সে ছবির অদৃশ্য ইশ্বর আমি
একটা চোখের পলক আমি মহাকালের মতো দীর্ঘকরে দিতে পারি
এই বনে আমার ইঙ্গিত ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না,
হরিণের ধাবন্ত খুরে কোনো ঘাস নুয়ে যায় না জ্যামুক্ত সব তীর অনন্তকাল ঝুলে থাকে শুন্যে
আমার ইচ্ছাধীন শব্দে বাস্তবতা বিনির্মিত হয়

লেখকের কালির দোয়াত
হতে পারে আব এ হায়াত
সে দোয়াতে কলম ডুবিয়ে
কবি তার মনের খেয়ালে
অমরত্ব লিখে রাখে
সময়ের জীর্ণদেয়ালে।




 

প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা  বিভাগে ।

 

  • ১২ টি মন্তব্য
  • ৩৬৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০২ রা মে, ২০০৬ দুপুর ১২:০৫
comment by: সবুজ বলেছেন: বাপস!!! মাফ চাই ভাই । আপনার কবিতাটা পড়ে বুঝতেছি শব্দের মিহি-রঙিন জাল কেমন।
খুব চমৎকার লাগছে।
২. ০২ রা মে, ২০০৬ দুপুর ১২:০৫
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এই মুহূর্তে বিশেষণ খুজে পাচ্ছি না, যেগুলো পাচ্ছি তা কম ঠেকছে- তবে কবির নামটা মিস করলাম মনে হচ্ছে!
৩. ০২ রা মে, ২০০৬ দুপুর ১:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: চমৎকার!!!
৪. ০২ রা মে, ২০০৬ বিকাল ৩:০৫
comment by: শমিত বলেছেন: রাসেল, আমি তিন চারটি বাংলা ওয়েবজিনের সঙ্গে যুক্ত আর নিজেও ছোটো একটা বাংলা সাহিত্য বিষয়ক ওয়েবসাইট চালাই । আপনার এই লেখাটি সহ কিছু লেখা প্রকাশ করতে চাইলে কি সেটাকে চুলকানি মনে করবেন?
৫. ০২ রা মে, ২০০৬ বিকাল ৩:০৫
comment by: শমিত বলেছেন: চমৎকার লাগলো ।

কবির নাম সম্ভবত: SZYMBORSKA ।
৬. ০২ রা মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: কবির নামের বাংলা লিখতে পারি নাই, সম্ভবত সঠিক উচ্চারন ও জানা নেই আমার।
যদি ছাপাতে চান আপত্তি নেই কিন্তু মুল কবির কবিতার সাথে এই কবিতার দূরত্ব এত বেশী সেই কবিতার অননুবাদ হিসেবে ছাপালে দিদি মা টাইপ কবি আমাকে ধাওয়া করতে পারে, অবশ্য এখনও নিজের পদযুগলের উপর ভরসা আছে আমার ঝাড়ে লৌড় দিলে আমারে দিদি মা দঃরতে পারবে না.. আর যদি ছাপাতে হয় তাহলে সম্পুর্নটাই ছাপানো বাঞ্চনীয়, মানে কবিতার অনুবাদের চেয়ে অনুবাদের প্রেক্ষিত আমার নিজের পছন্দ।
৭. ০৪ ঠা মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: শমিত বলেছেন: যেমন কখনো 'গাংুলি' লিখতে চাই না , লিখতে চাই 'গানগুলি'!
৮. ০৪ ঠা মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: মুছে দিলাম,
৯. ০৪ ঠা মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: শমিত বলেছেন: পরিপ্রেক্ষিথীন - পরিপ্রেক্ষিতহীন হওয়া উচিৎ ।
১০. ০৪ ঠা মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: শমিত বলেছেন: থাংকু !
১১. ০৪ ঠা মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: শমিত বলেছেন: আমিও সম্পূর্ণ লেখাটির কথাই ভাবছিলাম । পরিপ্রেক্ষিথীন লেখা আামার নুংকুহীন পুরুষের মতো লাগে ।

আপনি যদি উপরের মেল অ্যাড্রেসে মেল করেন আর ঐ মেল অ্যাড্রেস সমন্বিত মন্তব্যটি মুছে ফ্যালেন তাহলে ভালো হয় ।
১২. ০৪ ঠা মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ফোনেটিক এর মজাই এখানে আমি মাঝে মাঝে সঠিক বানান লিখলেও ঝুর লিখতে চাই না লিখতে চাই জহুর।

 

 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১২৪৪৯৩