অরুপের ছবি দেখে অনুপ্রানীত হয়ে।
০৭ ই মে, ২০০৬ সকাল ৮:৩২
পৌরাণিক যুগের কথা তখন কেবলমাত্র কাঁচা ডিমের কুসুমের মতো মহাবিশ্বটা দানাবাধছে, সূর্যটা তৈরি হয়েছে কিন্তু ওর চারপাশে এত গ্রহ নক্ষত্রের ভীড় তৈরি হয় নি, পৃথিবীর শাসন করতেন আখলাস নামের এক নৃপতি, তার ভয়ে হাতি চড়াই পাখি এক বিছানায় শুতো, বিড়াল সকাল বেলা কুকুরের ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে বলতো বন্ধু এক কাপ কফি হয়ে যাক, অবশ্য আপনাদের যেমন ধারনা আখলাস মোটেও মানুষ ছিলো না , তখনও আদমের কাঁদামাটি পাওয়া যায় নাই, আজেংগুং, মহাবিশ্বের স্রষ্টা তখন এখ দল বুদ্ধিমান গাধা তৈরি করেছিলেন, গাধারাই তখন সৃষ্টির সেরা জীব, তারা আকাশে ফুচকি মেরে দেখতো, যেই সময়ের কথা বলছি তখন যেহেতু মহাবিশ্ব এতটা ছড়িয়ে পরেনি তারাগুলো মানে যেই কয়টা তারা তৈরি করেছিলেন আজেংগুং সবগুলোই আঙ্গুলে গুনে শেষ করে ফেলা যেতো, তো তখন খালি চোখে আকাশ দেখতো সব প্রানী, আখলাসের মনে আছে, প্রধান মহাকাশমন্ত্রি ইয়াগাবা মেষ একদিন আশ্চর্য হয়ে বললো রাজসভায় জানেন মহারাজ গত রাতে শালার গোবরে পিছলা খেয়ে ছেচরে গেলাম কয়েক হাত, বিষম ব্যাথা পেয়েছি, কিন্তু চোখ তুলে দেখি উপরে মিটমিট করে কি জানি জ্বলছে, ভাবলাম সর্ষে ফুল দেখছি চোখে, ভালো করে চোখ রগড়ে দেখি না মিটমিট করে জ্বলছে ,ওটা জোনাকি পোকা না, জোনাকি পোকা আমি চিনি, ওটা এই পৃথিবীর জিনিষ নয় ওটা পৃথিবীর বাইরের জিনিষ, ওটা আমাকে ইশারা দিয়েছে বলেছে এই তারা যতদিন থাকবে ততদিন রাজার রাজ্যজয়ের বাসনা কমবে না, সব কিছুতেই প্রধান হবে এই তারা থাকার সময়টাতে রাজা,
রাজা খুবই আনন্দিত, তিনি মহান ইয়াগাবা মেষ এর নামানুসারে এই তারাটার নাম রাখেন মেষ, এবং এর পর সবার পিছলা খেয়ে পড়ার বাতিক বেড়ে যায়, এবং এদের কেউ কেউ নতুন তারা নজরবন্দি করে রাজসভায় গিয়ে 2 পয়সা রোজগার করে। বুন্দালিশ বৃষ যে তারাটা দেখেন ওটার নাম হয় বৃষ, একুরিয়ামের ভিতর থেকে একদম্পতি মৎস্যযুগল চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভুলভাল বকছিলো, এমন সময় চাঁদের কোনায় নজর দিয়ে দেখে একটা নতুন তারা জ্বলজ্বল করছে, এই মৎস্যদম্পতির প্যাশন হয়ে যায় চাঁদের আশপাশ দেখা, এবং একে একে এরা দেখে ফেলে 5টা নতুন তারা, প্রথমটা দেখার সময় মৎস্যদম্পতির তুমুল প্রেম চলছিলো, তাই সেই তারার নামকরন করে তারা মিথুন,
পরবর্তি সপ্তাহে এক জন ডুবে মরতে বসেছিলো পানিতে, সেই সময় মৎস্যপুরুষ গিয়ে ঠোকর দেয়, তার ধারনা হয়েছিলো ঐ পাপিষ্ঠ তার বউয়ের সাথে পরকিয়া করতে এসেছে, এই যাওয়ার পথে তার পিঠ বেঁকে হয়েছিলো ধনুকের মতো, এই অবস্থায় দেখা তারাটিকে তারা বলে ধনুক,
যাই হোক তখন আজেংগুংয়ের অবসরকাল চলছিলো, তার হাতে কোনো কাজ নেই বিশেষ, তাই তিনি নিয়মিতই একটা দুইটা বাতি ঝুলাতেন তার প্রাসাদে, সেখানে নিকষ অন্ধকার, এমন কি তিনি একবার চিৎকার করে বলেছিলেন, লেট দেয়ার বি লাইট, এই কথা শুনার পরঅনেকগুলো জোানকি তৈরি হয় এবং এই জোনাকিগুলো তার প্রাসাদ ছেড়ে চলে যায়, সুতরাং তাকে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিলো বাতির জন্য, তখন তিনি তেলের প্রদীপ জ্বালাতেন, এই প্রদীপগুলো অক্ষয় শিখা অনির্বান ছিলো, একবার জ্বালালে আর নিভতো না, কিন্তু এত বড়, এত বড় প্রাসাদ আজেংগুংয়ের সে এত প্রদীপেও অন্ধকার ঘুচে না।
গত কয়েকদিন ধরেই তার পানির পাইপে ফাটল ধরেছে, টাট্টিঘর উপচে পড়ছে পানিতে, তিনি তার সূরম্য টাট্টিঘর ছেড়ে মাঝে মাঝে ঝোপে চিপায় যাচ্ছেন, পেটাট খুব ভোগাচ্ছে, ডাইলপুরি আর সিঙ্গারা খাওয়ার ফল এটা, সেই পানির 2টা ধারা উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে আর ঝোপের কাছে জমা হচ্ছে, অন্য ধরাগুলো তার প্রাসাদের নিচ দিয়ে চুইয়ে পড়ছে, সেই চুইয়ে পড়া পানি দিয়েই নীল নদ আর ইউফ্রেতাসের সৃষ্টি হয়। যাই হোক আজেংগুং ঠিক করলেন আখলাসকে একটা নির্দেশ নামা পাঠাতে হবে, তিনি কিছু দিন ছুটি নিবেন ভাবছেন নতুন একটা কিছু সৃষ্টির বাসনা চেপেছে তার ভিতরে তিনি এই তাগিদটা অনুভব করেন মাঝে মাঝেই, গেলবার হনুমানের মডেল বানিয়েছিলেন তিনি, ল্যাজ দুলাতো গাছে বসে তিনি একমনে হনুমানের মডেল তৈরি করছেন এই সময় হনুমান সশব্দে বায়ুত্যাগ করলো, বোধ হয় ফুড পয়জনিং, ভীষন দুর্গন্ধ, কিন্তু তার ধ্যানের সময়ে এমন আচমকা আওয়াজে চমকে উঠায় ঐ মডেলের ল্যাজ খসে গেলো, তিনি মডেলটাকে দেখে ভাবলেন ভালোই হয়েছে, তাকে নন্দনকাননে রেখে বললেন নাচো, ল্যাজকাটা হনুমানের মডেল থপথপিয়ে নাচা শুরু করলো, অবশ্য অনেক দিন আগের কথা, এখন ওদের বংশবৃদ্ধি হয়েছে, হনুমানদের সাথে প্রায়ই বিবাদ লেগে যায়, হনুমান অনেক দিন ধরে আছে এই বাগানে একটু বুদ্ধিও খুলেছে, এই ত্যাদোর লয়াজকাটা শিপাঞ্জিদের তাড়াতে সারাক্ষন হাতে একটা লাঠি নিয়ে নিয়ে ঘুরে, এই লাঠি দেখে এক শিপাঞ্জি বললো ওদের সাথে পারবে কিভাবে ওদের তো তিন হাত আমাদের দুটি মাত্র হাত আমরা কি শক্তইতে ওদের সাথে পারি, এই কথাবার্তা তার গোপন গ্রামোফোনে রেকর্ড হয়েছিলো বলেই তিনি এমনটা বলতে পারছেন, যাই হোক এই লয়াজকাটা বানর দেখে তার নতুন একটা মডেল মনে এসেছে, যদি আরও সোজা করে দেওয়া হয় মাথাটা আর পায়ের পেশিতে একটু বেশি শক্তি দিলে বলিষ্ঠ একটা মুর্তি হবে, তিনি ঘরে সাজিয়ে রাখবেন, কিন্তু আখলাসের জন্য এসব সৃষ্টিশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই, যখন তখন চিৎকার করে ধ্যান ভঙ্গ করে, তিনি মনোযোগ দিতেই পারছেন না, এই প্রচেষ্টায় তিনি গরিলা, বেবুন অনেক মডেল তৈরি করেছেন কিন্তউ সবগুলোর পায়ের পেশীতে জোড় কম, তাই তিনি এবার নির্দেশ জারি করবেন, কঠিন নির্দেশ, তাকে আগামি 3 দিন কোনো রকম ডাকাডাকি করা যাবে না, বরং এই 3 দিন কি করতে হবে তা লিখে দিয়েছেন তিনি ওটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে আখলাসকে।
তিনি মশার ল্যাজে বেঁধে পাঠালেন নির্দেশ নামা, খুব ভারি গ্রন্থ যেতে যেতে মশার ল্যাজ খসে গেলো, এবং উপর থেকে আখলাসের বাগানে পড়লো এক পুস্তক, এই পুস্তক পেয়ে আখলাস মহাআনন্দিত, এত দিনে একটা কিছু পেলাম, সেখানে প্রথম পাতায় লেখা আজাংগুংয়ের নামে, যিনি বিজ্ঞ মডেলবাজ, তিনি সবার প্রতিরূপ তৈরি করে রেখেছেন তার বাগানে এমন কি আখলাসের প=রতিরূপরও ওখানে আছে, আগামি কয়েকদইন আখলাসের মূর্তির উপরে কিছু সংশোধন করতে হবে তাই এই সময়টাতে যেনো আখলাস তাকে ডাকাডাকি করে বিরক্ত না করে, বরং এই সময়টাতে তাকে যা যা করতে হবে
কালপুরুষ বলে একটা মানুষ দক্ষিনের আকাশে উদিত হবে, ওর হাতে থাকবে ধনুক, কোমরের কৌপিন আর তাতে ছুড়ি গাঁথা থাকবে, সেই কৌপিনের সাথে থাকবে সুরম্য বন্ধনী, কোমর বন্ধনী খসে পড়লে যেনো তাকে খবর দেওয়া হয়, যেদিন কোমরবন্ধনী খসে পড়বে সেই দিন পৃথিবীর মহাদুর্যোগময়দিন, ধনুক থেকে চমকে তীর ছুটে যাবে, সেই তীরের মাথায় থাকলে আগুন, এবং সেই আগুনে পৃথিবী ধংস হয়ে যাবে, এই খবর শুনে আখলাসের গলা শুকিয়ে কাঠ, সে সব নাগরিককে ডেকে মহাসমাবেশ করে, সেখানে ঘোষনা দেয় আজ থেকে তোমরা সবাই কোনো কাজ করতে পারবা না, শুধু আকাশের দিকে তাকায়া থাকবা, যেকোনো দিন দক্ষিন আকাশে এক ধনূর্ধারি আষসবে ,তার চোখে আগুন ধকধক করবে, তার কোমরে থাকবে উজ্জল বন্ধনী, কিন্তু সাবধান তাকে দেখতে পেলেই খবর দিও আমাকে, কারন ঐ কোমর বন্ধনীর দিকে খেয়াল রাখবে ভালো করে,যেই দিন ঐ বন্ধনী খসে যাবে পৃথিবীর ইতিহাসে ঐটাই শেষ দিন। \
এই খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই পৃথিবী জুড়ে সাজসাজ রব, সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে পথ চলে।
এমনই এক দিনে আখলাস আকাশের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে হাটছিলো, হঠাৎ দেখলো চারপাশ অন্ধকার, পায়ের নীচে মাটি সরে গেছে, এবং তার একটা পা গভীর ভাবে ঢুকে গেছে মাটির ভিতরে, অবশ্য আখলাস বিন্দুমাত্র ঘাবরায় নি, সে মোবাইলের কি প্যাডে তিন পায়ে এস এম এস লিখে, তার পর কম্পিউটার নিয়ে হিসাব কষতে বসে ঠিক কোন কোণে লাফ দিলে এই গর্ত থেকে বের হওয়া যাবে , যাই হোক সব হিসাব শেষে যখন লাফ দেওয়ার পালা তখন তখনই বাধলো গন্ডগোল, একদউষ্ট কাক ইয়ে করে দিলো,
মেজাজ খারাপ করে আখলাস গালি বকলো ইউ এ্যাস হোল, সান ওব এ বীচ, আমার মাথার উপরে ইয়ে করে দাও জানো আমি কেঠা?
ছবি পরিচিতি
গর্তে পড়ার আগ মুহুর্তে স্পাই ক্যামেরায় তোলা ছবি, যদিও দেখে মনে হচ্ছে আখলাস মাটির দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু ভুল ধারনা, চোখ কেতাব পাওয়ার পর থেকেই কপালে উঠে গিয়েছিলো তাই নীচের দিকে আর চোখ পড়টো না
অন্য ছবিটা আজেংগুংয়ের বাগান থেকে কুড়িয়ে পাওয়া, এটার অলংকরন করেছেন জনৈক বিজ্ঞ দ্্বপদী, নাম তিন বাহুর হনুমান,
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
নতুন বলেছেন:
রাসেল ভাই খুব লম্বা হইয়া গেছে লেখাটা ..............
অতিথি বলেছেন:
দুঃখিত ভাই লেখার সময় বুঝতে পারি না লম্বা না ছোটো হয়েছে, অনেক সময় নিয়ে লিখলে যা হয়, পোষ্ট করার পর বুঝি অনাবশ্যক লম্বা হয়ে গেছে তখন সংশোধনের উপায় নাই।
অতিথি বলেছেন:
লেখার দৈঘর্্য পরিমাপ করা যায় না স্কেলে; এটা মানের ফিতায় মাপতে হয়। পুরো 3 মিনিট কয়েক সেকেন্ড আমিতো বেশ চমক-এ ছিলাম বিষয়ের অভিনবত্বে, লেখার চমৎকারিত্বে! ব্রাভো বৎস!!আমার অবাক লাগে আপনার এত চমৎকার লেখার হাতটা কিভাবে তৈরী হলো। লিখে যান বেশী বেশী।
ধন্যবাদ! চমৎকার একটা লেখা উপহার দেয়ার জন্য।
অতিথি বলেছেন:
রাসেল,হাসি থামাতে পারছি না। মাঝে মাঝে বানরের উপদ্রব লেখকদের জন্য লেখার রসদ জোগাড় করে। বড়ো করে লেখে ভালই করেছেন, তা নাহলে ইন্টারনেট কানেকশনের পড়তা উঠে আসত না। মাঝে মাঝে মনে হয় আপনি, হিমু ও মুখফোঁড়কে স্যাটায়ার লেখার জন্য আনঅফিসিয়াল পজিশনটা পোক্ত করতে বলি। কারণ, আপনাদের বিপরীতে আর কাওকে চোখে পড়ে না। হা হা। ধন্যবাদ।
কালপুরুষ বলেছেন:
রাসেল (8 ডট) ঃরাশিফলের নেংটিটা এই ভাবে কি কেউ খোলে
হাসতে হাসতে ঝুলে গ্যাছে আমার গোপন থলে
ভাগ্যিস আমার লুংগিটা ধরেছিলাম খামচি দিয়ে
নইলে সবাই বেইজ্জতিটা দেখত কত মজা নিয়ে


















