কবিতাময়
১১ ই মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৮
সবাই ঘটা করে শতক বক্তৃতা দেয়, আমিও কয়েক খন্ডে শতক বক্তৃতা দিবো ঠিক করেছি, তবে কিছু কথা না বললেই নয়, আমি লিখি আমার আনন্দে, কেউ পড়লো কি পড়লো না, এইটা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথ্যা নেই, মন্তব্য, প্রশংসাবানী যা পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি, উল্কার ছাই আমি, কোনো এক কালে নিয়মিত চর্চা ছিলো সাহিত্যের এখন তেমন মানসিক শক্তি নেই, আর বড় মাপের লেখা লিখতে অনেক পরিশ্রম, আন্দালিফের গদ্য লিখতে গিয়ে বুঝছি বিষয়টা গোদের উপর বিষ ফোড়ার মতো হয়ে যাচ্ছে, যদিও এখানে আমার কবিতা দেওয়া হয় নাই তেমন, মানে আমি যেগুলোকে কোনো এক কালে কবিতা বলতাম তেমন কবিতা এখানে দেওয়া হয় নি, আজ কয়েকটা কবিতা দিবো, অনেক দিন আগে লেখা কবিতা, তখন ভিতরে রোমান্টিসিজম ছিলো, যাকে বলে বুক ভরা প্রেম ভালোবাসা, এবং সাথে একটা প্রেমিকা ছিলো, যাকে কল্পনায় নির্মান করেছিলাম, অনেক অনেক দিন ধরে নির্মিত সেই প্রেমিকার প্রতি কাতরতা স্পষ্ট হয়ে গেলো, যা কখনই প্রকাশ করতে চাই নি সেসব গোপন প্রেমের দলিল ঘাটাঘাটি হয়ে গেলে কারও এই মুহূর্তে ক্ষতির কোনো সম্ভবনা নেই, আমরা সেই সব বিপজ্জনক দিন পার হয়ে এসেছি।
এটা 99 এ লেখা একটা কবিতা-
শিরোনাম ছিলো, নাকি আমার ওসব ইচ্ছে হতেও নেই
আমারও তো ইচ্ছে করে
তুমি আমার পাশেই বসো
চুপটি করে।
গেরস্থালীর ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ উঠে
চালধোয়া হাত গন্ধ লাগাও
আমার ঠোঁটে।
ইচ্ছে করে সবটা সময় কুনসুটিতে
মেতেই থাকি তোমায় নিয়ে
দিনে রাতে
মান অভিমান রাগ অনুরাগ
সবটা নিয়ে
তুমি আমার পাশেই থাকো
আমার হয়ে।
তোমার কাছেই বেড়াতে আসি
তোমার বুকেই শীতল পাটি
বিছিয়ে বসি
ইচ্ছে করে তোমার চুলে
হরেক রকম মেঘের আলো
সাজিয়ে দেই সন্ধ্যে হলে।
দিনে রাতে এমন ওমন
ইচ্ছে করে নানা রকম
ইচ্ছে করে এটুকুই
শুধু আর কিছু নয়
নাকি আমার ওসব ইচ্ছে হতেও নেই ।।
পরবর্তি কবিতার বিষয়বস্তু খুবই সামান্য, আমার চমৎকার একদল বন্ধু আছে যাদের সবাই সেন্ট গ্রাগরির ছাত্র, সে সুবাদে ওদের স্কুলে অনেক দিন বিকালে গিয়ে খেলাধুলা হয়েছে, সেখানে একটা চার্চ আছে, কোনো এক দিন বিকালে আমি সেই চার্চে বসে ছিলাম, সেখান থেকে প্রার্থনার আগে আগে আমাকে চলে যেতে বলা হয়, মর্মাহত হয়েছিলাম,
গীর্জার উঁচু ছাদ
বাইবেল, ক্রুশবিদ্ধ যূশুর স্মিত হাসি
প্রণত নান
প্রার্থনারত রূপসী তরুনী, জানলাগলে আসা বিকেলের
একটুকরো বিহবল রোদ
আর একজন সংকীর্ন মানুষ.........
উপাসনালয়গুলো সব তাদের দখলে
তারা, ধর্মের বোসাতি করে যারা
যারা মানুষের মধ্যে
গড়ে তুলে বিচ্ছিন্নতার প্রাচীর
যারা মানুষের মধ্যে গড়ে তুলে
কখনও জাতিয়তা, কখনও ধর্ম
কখনও বা দেশ কাল ভূমির প্রাচীর.....
অকস্ম্যাৎ গীর্জার উঁচু ছাদ
স্পর্শ করে ভূমি
প্রণত নানা
প্রার্থনারত রূপসি তরূনী
বাইবেল
ক্রুশবিদ্ধ যীশুর স্মিত হাসি
আর বিকেলের সাহসি রোদ্দুরের উপর
জমাট অন্ধকারের থাবা
ক্রুশবিদ্ধ ইশ্বরের ক্রান্দন
স্পর্শ করে আমি চিৎকার করে বলতে চাই
" আমিও মানুষ
আমার কোনো ধর্ম নেই
জাতিয়তা নেই
দেশ নেই
আমি নির্বাসিত একজন মানুষ
শুধু এক জন মানুষ.......
আমার আশ্রয় নেই
আমার উপাস্য নেই
আমার সব আলো চুরি গেছে
আজ এ মুহূর্তে আমি নিঃস্ব
আমার দেবার মতো কিছু নেই
মানুষ সংকীর্নতায় অবরূদ্ধ করেছে আমাকে
আমার জন্মপত্রে লেখা বাবার নাম
আমার নামের আগে জুড়ে দেওয়া এক টুকরো শব্দ
আমার ইশ্বর
এ মুহূর্তে বন্দ ী....
সংকীর্ন মানউষ আমার শুভ্রতা
আমার শুন্যতা
সব কিছুই নিজের ভিতরে লুকিয়ে রেখেছে
আমি ক্রুশবিদ্ধ ইশ্বরের ক্রন্দন
স্পর্শ করে বলতে চেয়েছি
ধর্ম কিংবা জাতিয়তা
ভাষআা কিংবা সংসক্বরতি
কখনই বিচ্ছিন্ন করতে পারে না
মানুষের কাছ থেকে মানুষকে
রক্তের ভেতর থেকে রক্তকে
বিচ্ছিনণ করতে পারে না
পাখীর আকাশ আর মাঠে র বাতাস
গন্ধ আর আলো
কখনও বন্দি থাকে না
মানুষের হাহাকার
মানউষের আর্তনাদ
মানুষের ইশ্বর
মানুষের মধ্যে মিশে থাকে
কেউ আলাদা করতে পারে না কখনও..
আজ আমি ফিরে যাবো ফিরে যেতে হবে
আবু আবার ফিরে আসব একডিন
সবকিছু বদলে দেওয়ার সময় এসেছে
রক্তের ভেতর থেকে আবর্জনা
উচ্ছারনের ভেতর থেকে দ্্বিধা
সংস্কৃতির ভেতর থেকে সংকীর্নতা
আলোর ভেতর থেকে লুষতা
উপড়ে দেবার সময় এসেছে
তাই
এ মুহূর্তে যখন
গীর্জার উঁচু ছাদ স্পর্শ করেছে ভূমি
প্রণত নান
প্রার্থনারত রূপসী তরূনি
শেষ বিকেলের একটুকরো
বিহবল সাহসী রোদ্দুর
আর একজন সংকীর্ন মানুষ
গীর্জার ঘন্টাধ্বনির অসম্ভব অনুরণন
ক্রুশবিদ্ধ ইশ্বরের কানে
ইশ্বর জেগে উঠেন
ইশ্বর নেমে আসেন মানুষের উঠোনে
এটুকুই সত্য
বাকি সব কথার ফানুস
রোদ্দুরে অন্ধকার থাবা
কড়িকাঠে ঝোলে ইশ্বরের ক্রুশ .......
যাই হোক সবার মতো এত সাবলীল বক্তিমে দেওয়ার ক্ষমতা নেই, যারা এ পর্যন্ত পড়েছে ধৈর্য ধরে তাদের অভিনন্দন।
প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
ঐ মিয়া আমারে ছড়াবিদ্ধ করো ক্যানো? তাও ভালো ছড়রাবিদ্ধ করলে আরও ক্ষতি হতো।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
ইউ মিয়া আমার অলটাইম ফেভ দের একজন, খালি গলাটা একটু ভালো হইত গিটার বাদনের মতো, তাইলে আ বাংলাদেশি প্রেয়ার নামে গানটায় সুরটা আমিই দিতাম। ব্যাট আপ ফর ইউর সেঞ্চুরি- ও আমার কাজ তো হাততালি!
অতিথি বলেছেন:
অভিনন্দন। শতকের উদযাপন কবিতা উৎসব দিয়ে করলেন। তা এতো দু:খ কেন? একটু হাসির ঝোল দিলে হতো না, ঝোল ছাড়া ভাত একদম মুখে রুচে না... ভাল থাকুন।
অতিথি বলেছেন:
একটু রাজনৈতিক কারন আছে, এই যে শতকিয়া পোষ্টে কবিতা ঝাড়লাম, সবাই শতকের শুভেচ্ছা দিবো কবিতার বিচার করবো না, এই সুযোগটা ছাড়ি কেমনে,
অতিথি বলেছেন:
হুমম কথা সত্য, এক বার চিন্তা করেছিলাম কবিতার বই ছাপাবো, খুঁজে খুঁজে দেখলাম জোড়াতালি দিয়ে 40টার মতো হয়, এর পর সেই চিন্তা বাদ দিছি,একটু রয়ে সয়ে ছাড়বো আর কি, 40টা কবিতা দেওয়া হয়ে গেলে তো আর রহস্য থাকবে না,
অতিথি বলেছেন:
কয়েক প্রস্থ কবিতা ও কাহিনী ঝেড়ে দেন রাসেল।জীবনভর কবিতা লিখেও তো শ' খানেক কবিতা লিখতে পারেন নি (নিরেট অনুমান)। ব্লগে তো পোস্ট শতপূর্ণ হলো। এই বা কম কিসে?
শতকের অভিনন্দন।
হযবরল বলেছেন:
প্রেম এবং প্রেমিকা কল্পনাতেই থাকে , থাকুক সেখানে । বাস্তবে থাকে কবিতা। আরো কবিতা নামান। আমরা একটা শতকবিতীয়া অভিনন্দন জানাই। শতকীয়া অভিনন্দন।
অতিথি বলেছেন:
কি কমু..তুমি পচাইতে শুরু করলা বইলাই ব্লগে থাইকা গেলাম ।তখনই বুঝছিলাম পচান্তিস না , তুমি জেনুইন কবি (কপি না তোমার কবিতা সম্পর্কে আমার বক্তব্য একটাই লেখা ছাইড়া দেওয়ার তো মানে হয় না । তোমার হাতে যেইটা আছে সেইটা তুমি চাইলেও খেদাইতে পারবানা । প্রথম কবিতায় তো টৈটুম্বুর প্রেম ।আমি সারাজীবনে প্রেমের কবিতা লিখছি বইলা মনে পড়ে না । আর এখন তো বয়স শেষ । তোমার বহুমুখী প্রতিভার সমবায় সমিতির জয় হউক ! খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, নারায়ে তকবীর, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, দুনিয়ার মজদুর এক হও নাড়াই করো...
অতিথি বলেছেন:
একটা চিকন ভালোলাগার ব্যথা বয়ে গেলো - ইনজেকশনের মত। লেখার স্পর্শ এমন যে একটুকরো তুলো ঠেসে ধরতে হলো অবশেষে। আপনাকে শতকিয়া নামতায় ততোধিক শুভেচ্ছা। কেউ ভালোবাসার কথা বললে মনটা আদ্র হয়ে যায়। মনে হয় টান দিয়ে চোখটাও না হয় খুলে ফেলি। কেউ দেখবে না লাল চোখ। আঙগুল দিয়ে অশ্রু ঝড়ে না - তাই রক্ষে।
অতিথি বলেছেন:
প্রথমে অভিনন্দন। একরাশ শুভেচ্ছা। (দেরীতে চোখে পড়লো)।আপনার দুটো কবিতাই অসাধারন। আমি নিজেও সেন্ট গ্রেগরীর ছাত্র। ঐ চার্চটিকে নিয়ে আমার স্মৃতি জড়িত। এখানে কবিতাটির বিষয়বস্তু যদিও বেদনার, মমর্াহত অনুভূতির।
নির্বিবাদে আমি এই ব্লগে যাদের লেখা ও মেধার প্রশংসা করতে কৃপন নই, আপনি তাদের ভিতরে একজন। আপনার কাছ থেকে অনেক বড় মাপের কাজ আশা করছি।
অপেক্ষায় থাকলাম কোন এক শীতের
বিকেলে, সন্ধা নেমে আসা ঢাকাই বইমেলায় আপনার কোন এক বই হাতে নিয়ে মনে পড়ে যাবে এই ব্লগে আপনাদের পাশা থাকার একরাশ স্মৃতির। সিরিয়াসলি লিখবেন কিন্তু। বিষয় ব্যাপার না।
আপনার গুনমুদ্ধ।
অতিথি বলেছেন:
হুমম সবাই কে ধন্যবাদ, চামের উপর 2টা কবিতা নামায়া দিলাম।
লাল মিয়া বলেছেন:
ডাবল চালান আইজকাই



















অনেক বিরক্তি, রাগ, বন্ধুতা আর শ্রদ্ধা রইল!
পদার্থবিদ আকাশ ছেড়ে
গদ্য লেখে
কামড়ে ছিড়ে চিৎকারে সব
স্বপ্ন দেখে
স্বপ্নগুলো জেগে উঠুক
নতুন ভোরে
পদার্থবিদ এগিয়ে চলো
বেদম জোরে!