somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... অগভীর ভাবনা ১৩ উলঙ্গ পাগল এবং একজন সৎ মানুষ
সরকারী নীতিমালায় নির্বাহী বিভাগের উপরে আরও ক্ষমতা অর্পিত হচ্ছে, অর্থ্যাৎ সরকার এমন কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছে যার ফলশ্রুতিতে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের নামে আদতে সরকারী কর্মচারীদের হাতে প্রভুত ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতা, যেকোনো স্থানে আদালত বসিয়ে মামলা পরিচালনা করে অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করবার ক্ষমতা ছিলো ম্যাজিস্ট্রেটদের। তবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ফলে সেই ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। রোকনউদদৌল্লার বিপ্লবী ভাষণে এই ক্ষমতা আত্মস্যাতের বিষয়টাও প্রাধন্য পেয়েছিলো।

মূলত সরকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, সরকারী বিচারালয়ের বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগী হিসেবে নির্বাহী বিভাগের কতিপয় কর্মচারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলো। হাইকোর্ট- সুপ্রীম কোর্ট বিচারবিভাগ স্বাধীন করবার চুড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরে আর বাড়াবাড়ি করা সম্ভব হয় নি। আমার পরিচিত যেসব ম্যাজিস্ট্রেট ছিলো, তারা সবাই বিদ্রোহী সমাবেশে উপস্থিত ছিলো। রোকনউদদৌল্লা যেই বক্তব্য রেখেছিলো সেখানে সেটা স্পষ্টতই আদালত অবমাননা।

ম্যাজিস্ট্রেটদের সকল ক্ষমতা আত্মস্যাৎ হয় নি, কিছু পরিমাণ বিচারিক ক্ষমতা এখনও তারা ধারণ করে। জরিমানা করিবার অধিকার এখনও আছে তাদের, তবে যদি ২টা মামলার জরিমানা হয় তবে ৩য় মামলাটার জরিমানার টাকা আত্মস্যাৎ করে স্বয়ং বিচারক, এটাকে অবৈধ উপার্জন বলা যাবে না, এটা সহযোগিতামূলক মনোভাব।

নতুন করে ভোক্তা অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে, সেখানেও নির্বাহী বিভাগের কিছু মানুষকে অপরিসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, এমন কি ভোক্তার অভিযোগ যদি ভ্রান্ত প্রমাণিত হয় তবে ভোক্তারও শাস্তির বিধান আছে এখানে। এবং এর কতৃত্ব নির্বাহী বিভাগের হাতে অনেকাংশে, তারাই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দিবে আদৌ সেটা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন করেছে কি না। জামিন দিয়ে আর অহেতুক মামলা নিষ্পত্তি করে বিচারের নামে প্রহসন এবং অবৈধ উপার্জনের সুযোগ কমে যাওয়ার পরে এই ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে কিছু উপার্জনের পথ খুললো সরকারী কর্মকর্তাদের। তাদের আয় উপার্জন ভালো হোক।

মানবাধিকার সনদ আইনে বাস্তবায়িত হয়েছে, অবসর প্রাপ্ত কিংবা কর্মরত বিচারকের নেতৃত্বে নির্বাহী বিভাগের ৫ কর্মকর্তা এবং ২ জন সুশীল প্রতিনিধি এই মানবাধিকার কমিশনের কাজ দেখাশোনা করবেন। তারাই অভিযোগ তদন্ত করবেন এবং আদৌ উত্থাপিত অভিযোগ আমল যোগ্য কি না এটা নির্ধারণ করবেন। পুরোনো দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মতো নখদন্তহীন একটি মানবাধিকার কমিশন আমরা পেয়েছি, হয়তো আবারও একটা রাজনৈতিক পট পরিবর্তিত হলে মানবাধিকার কমিশনটিকেও ঢেলে সাজানো হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার এবং রাজনৈতিক সরকার এই মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন করবে না এবং এর ক্ষমতাকে যতভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় সেই চেষ্টাই করে যাবে।

দুর্নীতিগ্রস্থ হওয়ার নানাবিধ প্ররোচনা স্বত্তেও কিছু উজবুক কোনো এক মানসিক সমস্যার কারণে সততা প্রদর্শন করে, এইসব সৎ মানুষদের খাঁচায় ভর্তি করে সবাইকে দেখানোর ব্যবস্থা করা যায়। কেনো মানুষ অহেতুক সৎ থাকবে, সৎ থাকে শুধু বোকারা। কাস্টমস অফিসার চকলেট থেকে রঙ্গীন টিভি সব খায় , মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ফেন্সিডিল থেকে শুরু করে মদ সবই খায়। শুধু খায় না, খেয়ে খালি বোতলে পানি ভরে রাখে।

এমন একজন সৎ মানুষ ভীষণ কষ্টে সময় কাটাচ্ছে, শুধু এতটুকু আনন্দ নিয়ে যে সে জীবনে অন্তত দুই নাম্বারী করে নাই, অসত্য এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে সহায়সম্পদ হারিয়েছে।

আমি সেই উজবুক সৎ মানুষটার সাথে অনেক দিন কথা বলেছি। তার মানসিক গড়ন বুঝবার চেষ্টা করেছি। তবে বুঝতে পারি নি কেনো এই বিকার হলো তার। তার সাথে দেখা করবো বলেই বাসা থেকে বের হয়েছিলাম সকালে। অনেকটা পথ পেরিয়ে আসবার পরে মনে হলো একটু সিগারেট ধরানো প্রয়োজন। অনেকক্ষণ রাস্তায় আছি অথচ সিগারেট ধরাই নি, সিগারেটের দোকান খোঁজা শুরু করলাম। খুঁজে পাওয়া কঠিন তবে ১০ মিনিটের ভেতরে একটা খুঁজে পেলাম। সিগারেট ধরিয়ে সিএনজিতে উঠবার সময় দেখলাম চালকের মুখ গোমড়া। ভেতরের অসস্তিকে দমন করবার চেষ্টা করেও সিগারেট বিস্বাদ লাগে, ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সময় দেখলাম দৃশ্যটা।
এয়ারপোর্ট রোডে নেভী বীভৎস, কুৎসিত একটা ভাস্কর্য করেছে, এতটা জঘন্য কোনো ভাস্কর্য শহরের রাস্তায় থাকা উচিত নয়, তবে উত্তরা শহরের বাইরে, শহরের চেয়ে কমদামী, উনশহর, সেখানে হাঁটুলরা কি ভাস্কর্য বানাবে এটা নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। কূৎসিত সেই ভাস্কর্যের সামনে একটা উলঙ্গ পাগল দাঁড়িয়ে, তার পাশে টুপি মাথায় এক মানুষ রমজানের সাইনবোর্ড।

অসৎ হয়ে যাওয়ার যাবতীয় প্ররোচনা বিদ্যমান এমন বাস্তবতায় সেই মানুষটার সততা বিষয়ে আমার সংশয় নেই। সেই মানুষটাকে হঠাৎ করেই এই উলঙ্গ পাগলের তুল্য মনে হলো, ভেতরের সৎ মানুষটাকে নিরাবরন উন্মোচিত করতে যে পরিমান অকল্পনীয় সাহস এবং নির্বিকারত্ব প্রয়োজন, সৎ থাকবার কোনো প্রণোদনা না থাকলেও সেই মানুষটার এই নির্বিকার সাহস আছে, বিদ্যমান বাস্তবতাকে উপহাস করে নির্বিকার অনটন মেনে নেওয়ার পাগলামী আছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28839316 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28839316 2008-09-06 01:53:51
ধর্ম লিঙ্গাগ্রে ঝুলছে ইসলামী বিশারদদের উৎপাতে এমনিই সমস্যাতে থাকি, তবে এই মহান রমজান মাসে তাদের উৎপাত অসহনীয় রকম বেড়ে যায়, ইসলামি চিন্তাবিদদের চিন্তা আমাকে আক্রান্ত করে।

প্রতিবছরই ঢাকাকে রমজানে নতুন রূপে দেখি আর আঁতকে উঠি, প্রিয় ঢাকা দিন দিন ইসলামী বিশ্বের রাজধানী হয়ে যাচ্ছে, এখানে বসবাস করা ২০ লক্ষ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জীবনযাপনের ধারাবাহিকতা আহত হচ্ছে তবে ইসলামী চিন্তাবিদেরা এইসব মুর্তিপূজারীদের নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নয়, কাফিরদের বাঁচবার এবং নিজস্ব সংস্কৃতি যাপনের কোনো অধিকার বোধ হয় নেই বাংলাদেশে।

রাস্তা দিয়ে যেই ১০ জন মানুষ হেঁটে যায় তার ১ জন হিন্দু, রাস্তা দিয়ে যেই ১০০ জন মানুষ হেঁটে যায় তার একজন খ্রীষ্টান, এমন কি বাংলাদেশের রাস্তায় হেঁটে যাওয়া প্রতি হাজার মানুষের ভেতরে অন্তত ১২৫ জন মুসলিম নন, তবে সংখ্যাগুরুরা সব সময়ই সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতি চর্চার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

পূর্বেও বাংলাদেশে রমজান এসেছে, তবে এমন জঙ্গী রমজান বোধ হয় আসে নি, দিন দিন রমজানের জঙ্গীভাব বাড়ছে, মানুষের অসহিষ্ণুতার নিদর্শন হয়ে উঠছে আমাদের রমজান।
গতকাল গুলশানের রাস্তায় প্রকাশ্যে খাওয়ার জন্য দুই বিদেশী পর্যটককে পিটানো হলো, অবশ্যই জনগণের ধর্মীয় বোধ আক্রান্ত হতে পারে, মানুষ না খেয়ে পড়ে আছে সেখানে দুই বিদেশী রাস্তা দিয়ে খেতে খেতে যাবে এটা কেমন কথা।

বীর মুসলিম বাঙালী দুই পর্যটককে পিটিয়ে হাতের সুখ করেছে, তবে একই সাথে আমাদের ধর্মীয় সহনশীলতার ফাঁপা মুর্তিটি ভেঙে ফেলেছে। আমাদের ধর্মীয় সহনশীলতা কখনই ছিলো না, তবে কাঠমোল্লাদের প্রকোপ কম ছিলো, তারা বিবেচক মানুষদের তুলনায় কম ক্ষমতাশালী ছিলো বলেই তারা উৎপাত করতো না অহেতুক, তবে এখন কাঠমোল্লারাই সংখ্যাগরিষ্ট, তাই তারা যেখানে সেখানে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার উৎপাত করছে।

রমজান আসলে আমার সামান্য সমস্যা হয়ই, সকালে উঠে সিগারেট টানতে টানতে বাইরে যাওয়া যায় না, এই সংস্কৃতি চর্চায় বাধাটা প্রাণে লাগে, অথচ যখন প্রথম ঢাকায় আসলাম তখন এইসব বালের ঝামেলা ছিলো না, দিব্যি রিকশায় সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে যাওয়া যেতে, গত ১৫ বছরে ঢাকা ক্রমশ আরও বেশী ধার্মীক এবং সতী হয়েছে,

গত বছর তার সকালে কিছু হোটেল খোলা পাওয়া যেতো, এবার দেখলাম এলাকার ছোটো ছোটো হোটেল আর চায়ের টং দোকান সকালে বন্ধ, বেশ্যার এক ফালি কাপড়ের আড়ালে রমজানের পবিত্রতা ঢাকা থাকতো টংয়ের দোকানে, মূলত রাস্তার সবাই দেখতো এখানে চা খাচ্ছে শ্রীকেরা, চা খাচ্ছে মধ্যবিত্ত মানুষেরা, তবে ঐ যে, বেশ্যাদের জন আলাদা কারাগার বানানো ঢাকা শহরে টংয়ের দোকানে রমজান মাসে পবিত্র বেশ্যাদের থেকে অপবিত্র বেশ্যাদের আড়াল করবার জন্য একটা সতীচ্ছদ লাগানো থাকে। টংয়ের দোকানের এপাশ থেকে ওপাশে দেখি, কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না। নিজেদের হঠাৎ করেই টানবাজারের বাসার ভাড়াটে মনে হয়। শালার ধর্ম- ধার্মিকের জোরজবরদস্তিতে স্বাভাবিক জীবনে ব্যঘাত ঘটবে নিয়মিত।

মেনে নিতেই হয়, সকালে আর সিগারেটের দোকান খোলা পাই না, খোলা পাই না যে হোটেলে প্রতিদিন সকালে বসে চা আর সিগারেট খাই, নাস্তা করি, সারাদিন অহেতুক ক্ষুধার্ত হয়ে ঘুরি, কোনো শপিং মলে ফুড সেন্টার খুঁজতে গেলে পবিত্র দোকানিরা প্রথম প্রশ্ন করে কেনো রোজা রাখেন নি।

এর উত্তরে অনেক কিছুই বলা যায়, তবে জঙ্গিঅধ্যুষিত ঢাকা শহরে সব উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না, আমার সাথে থাকা বন্ধুদের কয়েকজন ভিন্ন ধর্মের তারাও এই ধর্মীয় আগ্রাসনে আক্রান্ত হয়, আপনারা কেনো রোজা রাখেন না।

মিনমিন করে তারা উত্তর দেয় আমাদের রোজা নাই, আমরা অন্য ধর্মের- তখন তাদের নিশ্চিত চেহারায় একটা আলো ফুটে উঠে, ও বলে তারা জেরা থামায়।
এই অশালীন ও এবং এই অশালীন বোধধারী মানুষের কষে লাথি মারতে ইচ্ছা করে, এখন তো সুসময় যাচ্ছে, ঢাকা শহরের যে পরিবর্তন দেখছি তাতে এর পরে আমরা হিন্দু এই পরিচয়ও বিশ্বাস হবে না তাদের, তখন সবারই প্যান্টের চেন খুলে ধনের আগা দেখে নির্ধারণ করা হবে ধর্মপরিচয়।

ধর্ম শেষ পর্যন্ত লিঙ্গাগ্রে এসে ঝুলছে।

এই ২০ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে ধর্মীয় আগ্রাসনে খাওয়া বাদ দিয়ে ঘুরবে, সবাই রোজা রাখবে অনর্থক? বিবেচনাবোধহীন মানুষদের এসব প্রশ্ন করা অবান্তর, ধনের মাথায় চোখ রেখে ধর্ম পালন করা মানুষদের কথা থাক-

আমাদের বিজ্ঞ মানুষেরাও কম যায় না আসলে।


প্রতি বছর রমজানে আরও একটা উৎপাত থাকে চিকিৎসকদের উৎপাত, ইসলামী ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী চিকিৎসকেরা চমৎকার করে বলে ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখলে উপকার হয়।

এ কারণে অবশ্য তাদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে চাইলে তাদের জীবন যাপনের ধরণ বদলাতে হবে, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ব্যায়ামের সময়সূচী বদলাতে হবে, খাওয়ার রুটি বদলাতে হবে, বদলাতে হবে ঔষধ নেওয়া সময়সূচি, তবে ইসলামী বাঞ্চোতদের রোজা রাখাতেই হবে, মরে গেলে যাবে কিন্তু ধর্মকে উপরে রেখেই মরবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে শর্করার পরিমাণ কমে যায়, এই কমে যাওয়ার পরিমাণ যদি নির্দিষ্ট একটা মাত্রার নীচে চলে যায় তখন রোগী চিকিৎসকের সহায়তা ব্যতীত মৃত্যু বরণ করতে হবে। এ কারণে অবশ্য ইসলামী চিন্তাবিদেরা বলেছেন ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করতে পারবেন এতে রোজা ভাঙবে না।
অবশ্য রক্তপাতে রোজা ভেঙে যায়, এমন কি রজঃস্রাবের রক্ত ঝড়লেও রোজা ভেঙে যায়, কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগী যখন রক্ত পরীক্ষা করবেন তখন রোজা ভাঙবে না।

এবং অন্য একটা সমস্যা হলো রক্তের শর্করার পরিমাণ হঠাৎ করেই মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া, সে ক্ষেত্রেও এটা প্রাণঘাতী হতে পারে, এইসব পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শে রোজা রাখতে হবে।

শাররীক অসুস্থতায় রোজা রাখা ফরজ নয়, অনেক রকম নিয়মনীতি থাকলেও মানুষের অবস্থা বিবেচনা করে কিছু শিথিল নিয়মও আছে, তবে সুর্য্যের বালি গরম হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ধর্মীয় আকাশে বর্তমানে মোহাম্মদের চেয়েও অধিক ইসলামী চেতনাধারী মানুষেরা বসবাস করে,

এসবের একটা নিদান তারা দিয়েছেন ইসলামী তরিকা অনুসারে-

যদি শর্করার পরিমাণ অধিকা হয়ে যায় কিংবা আশংকাজনমকভাবে কমে যায় তবে তারা রোজা ভেঙে দিতে পারেন, উপদেশটা এমনই, কিন্তু এই রোজা ভাঙলেই হবে না এটা পরবর্তীতে কাজা রোজা রাখতে হবে।

রজঃস্রাব চলাকালীন সময়ে অপবিত্র নারীদের ধর্মপালনে স্পষ্ট বিধিনিষেধ আছে, এবং রমজান মাসের কয়েকটি রোজা এইসব নারীদের কাজা করতে হয়। ডায়াবেটিস রোগীরাও এই তালিকাভুক্ত,

বাঞ্চোত ডাক্টারদের আক্কেল দেখে মুর্ছা যাই, শালার ব্যাটারা যদি রোজা রেখেই তার প্রাণ সংশয় হয়, শর্করার পরিমাণ কমে যায় তাহলে কাজা রোজার সময় কি এই ঘটনা ঘটবে না?
নাকি রমজানের স্পেশাল ইফেক্ট এই শর্করা কমে যাওয়া। মানুষ পড়ে এত বেশী উজবুক হয় এটা এই ইসলামী উল্লুকদের সংস্পর্শে না আসলে বুঝতাম না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28838456 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28838456 2008-09-03 23:45:55
তারেক জিয়ার মুক্তিতে অগভীর অশালীন ভাবনা ১২
এত আশা নিয়ে শুরু করা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, দরকষাকষি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং মাইনাস টু ফর্মুলার অবসান হয়ে গেলো আজকে। অবশেষে তারেক জিয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছে, তার জামিনের শেষ অনুমতিপত্র আজ আদালত থেকে পৌঁছেছে জেলহাজতের মহাপরিচালকের হাতে।

বাংলাদেশে বসে অনেক কুৎসিত দৃশ্যই দেখতে হয়েছে এত দিন, তবে তারেক পড়ে গিয়ে কোমড়ে ব্যাথা পাওয়ার পর বিএনপি মহিলা দলের কুমারী অকুমারী মেয়েদের চোখের পানি দেখে অশালীন একটা ভাবনা মনে এসেছিলো। আসলেই তো তারেকের মাজা ভেঙে গেলে মহিলা দলের কর্মীনিদের কি হবে?

খালেদা জিয়া এখন সমঝোতায় সম্মত, গতকাল সাখাওয়াৎ হোসেন, এবং নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বিএনপির সাথে অতীত আচরণের জন্য। বাংলাদেশে টিকে থাকতে হলে সবাইকে আসলে বিএনপি আর আওয়ামীলীগের নেতাদের মন জুগিয়ে চলতে হয়। সে আর্মি মেজর আর বিগ্রেডিয়ার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক, সবাই একে একে রাজনৈতিক নেতাদের গোয়া চেটে যায়, আমাদের এই চাটাচাটিতেই আনন্দ।

তবুও জিল্লুর রহমানের আনন্দে ঝলমল মুখ দেখে নিজের বিষাদ লুকাতে পারি না। টিভিতে সংবাদ দেখে মা যখন বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একদম পঁচে গেছে তখন পঁচনের গন্ধটা নাকে লাগে না, আমি অনেক আগে থেকেই অনুমাণ করেছিলাম এমনটাই ঘটবে, শেষ পর্যন্ত পায়ে ধরে সেধেই বিএনপিকে নির্বাচনে রাজী করতে হবে এই সরকারকে। নিরাপদ এক্সিট কিংবা পলায়নের রাস্তা নির্মাণের জন্য হলেও এই মুক্তি আর জামিনের ছলের প্রয়োজন ছিলো।

আমার মা কোনো রাজনীতি সচেতন মানুষ না, বরং সরকারের নিয়মনীতি মেনে চলতে চান, এমন কি আমার এখনও ভোটার না হওয়ায় আমার উপরে খুব বিরক্ত মা বোধ হয় এবার আমার অনাগ্রহের কারণটা বুঝতে পারবে।

আমি আশাহত হই নি মোটেও তবে আমার মা আশাহত ,তার আশা ছিলো হয়তো অনেক দিন পরে দেশের দুর্নীতিবাজদের উচিত শিক্ষা হবে, তবে এমনটা যে বাংলাদেশের বাস্তবতা নয় তা প্রতি ৫ বছর পর পর ভোট দিয়ে নাগরিক কর্তব্য পালন করা মাকে বুঝানো যাবে না। বুঝানো যাবে না নির্দিষ্ট একটা দলের প্রতি আনুগত্য এবং অন্ধ ভক্তি সব সময়ই আমাদের আতঙ্কিত করে রাখে, একদল অমানুষকে আমাদের নেতা হিসেবে মেনে নিতে হয়, তাদের তাবেদারী হয়ে দাঁড়ায় আমাদের অন্যতম বিনোদন।

তারেক জিয়ার মাজার হাড় ভেঙে যাওয়ায় ক্রন্দসী বিএনপি মহিলা দলের কর্মীদের কান্না দেখে যেমন অশালীন লেগেছিলো আর কালো চশমা পড়া জিল্লুর হোসেনের হাসি মুখ দেখে তেমনও অশালীন অনুভুতি হলো।

জিল্লুর হোসেন কি চেটে আসলেন? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28838342 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28838342 2008-09-03 19:32:42
আশরাফুলকে চটকানা দিয়ে টিমের বাইরে ফেলে দেওয়া দরকার।
বাংলাদেশ দলের ভেতরেও একই রকম ভাববাদী সংক্রামন বিদ্যমান, তারাও পরাজিত হতেই ভালোবাসে, সন্তসুলভ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ম্যাচ শেষে উপলব্ধি করে ক্রিকেট কেনো যেকোনো খেলায় এক দল জয়ী হয়ম এক দল পরাজিত হবে, খেলার নিয়মেই হার জিত থাকবেই, এটাতে বিষন্ন হওয়ার কিছু নেই, উদযাপন করতে হবে পরাজয়ও, তাই খেলার শেষে তাদের চেহারায় বিন্দুমাত্র বিমর্ষতা থাকে না, বরং তারা পরাজয়ের গ্লানি ভুলেই পুরুস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানেই হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠতে পারে।

আমাদের উদাসীনতা, আমাদের প্রশ্রয় এবং আমাদের জাববদিহিতাহীনতা বাংলাদেশ দলের বিদেশ সফরগুলোতে পরাজয়ের লজ্জায় নীচু করে দিলেও যারা আমাদের সম্মিলিত প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামে তাদের চেহারায় কোনো ভাবান্তর নেই, তারা সব সময়ই একই রকম উদাসীন, জয়ের চেষ্টাই নেই, পরাজয় থেকে শেখবার আগ্রহ নেই, প্রতিটা ব্যাটসম্যান একই রকম ভুল বার বার করে যাবে, ভুল থেকে শিখবে না, তারাই বাংলাদেশের মূল স্টার, একই রকম চরিত্র বাংলাদেশে ভোটারের তারাও বার বার ভুল প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে এবং আবার সুযোগ পেলে আবারও সেই একই ভুল করবে আনন্দিত চিত্তে।

ডারউইনের মাঠ একটু স্লো, সেখানে স্লো বোলাররাই সব সময় প্রাধান্য বিস্তার করে, টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া আশরাফুল হয়তো ভেবেছিলো তাদের আসলে পেস বোলিংয়ে সমস্যা, স্লো বোলারদের ভালো মতোই খেলতে পারে তারা।
তবে বাংলাদেশ দল যেকোনো ব্যাটিং সহায়ক পীচকেও ভেজা গ্রীষ্মের ইংলিশ সিমিং পীচ বানিয়ে খেলে, তাই সকাল বেলা যখন বাংলাদেশের পেস বোলারদের জিহ্বা ঝুলে গেলো , যখন মাশরাফী ১০ ওভার খেটেও একটা উইকেট ঝুলিতে পুরতে পারলো না তখন অস্ট্রেলিয়ার সমস্যা হয়েছে বাংলাদেশের স্পীনারদের খেলতে, স্লো পীচে বল আরও একটু ধীরে আসে, এই সময়ের হের ফেরেও ব্যাটসম্যানদের ভুল হয়ে যায়,
তবে দুপুরে যখন পীচ থেকে সব আদ্রতা মুছে গেছে তখন পীচে সীমারদের কিছুই করবার থাকে না,
উষ্ণঅঞ্চলের পীচ তেমন ভাবে বোলিং সহায়ক হয়ে উঠে না এ কারণেই। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং রিপোর্ট কার্ড দেখলে বিষয়টা অদ্ভুত বোধ হবে, তাদের অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলারদের খেলতে সমস্যা হয়েছে, তাই স্পীনারদের উপরে চড়াও হতে গিয়ে খুব দ্রুতই আউট হয়ে গিয়েছে।

ডারউইনের পীচেই প্রথম টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সফরে, ২০০৩ সালে, অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ, বাংলাদেশ সেই টেস্টে পরাজিত হয় ইনিংসের ব্যবধানে, এবং এই টেস্টে ২৬.১ ওভার বল করে ৮৬ রানে ম্যাকগিল নিয়েছিলো ৭টা উইকেট, যদিও প্রথম দিনে ৪২.২ ওভারে অল আউট হওয়ার সময় ২৯ ওভার বল করে পেসারত্রয়ী নিয়েছিলেন ৮ উইকেট মাত্র ৭০ রানে।

বাংলাদেশের ওয়ান ডে রেকর্ডও এখানে তেমনই খারাপ, অবশ্য বাংলাদেশের ওয়ান ডে রেকর্ড এমনিই খুব খারাপ, ক্লাশের সবচেয়ে খারাপ ছাত্রের রিপোর্ট কার্ড দেখতে যেমন রুচি হয় না তেমনই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচে জয় পরাজয়ের তালিকা দেখতেও রুচি হয় না, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ টেস্টেখেলুরে দেশগুলোর বিপক্ষে জয় পেয়েছে মাত্র ৭টি ম্যাচে, এবং এই তালিকায় নাম আছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে ডারউইনের প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে বাংলাদেশে হেরেছিলো ১১২ রানে, ৪৭ ওভার ব্যাট করে করেছিলো ১৪২ রান, সর্বোচ্চ রান করেছিলো অলক কাপালি।

ডারউইন মাঠে ওয়ান ডে হয়েছে মোট ২টি, দুটোই খেলেছে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ১১২ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৮০ রানের পরাজয়, দুটি ম্যাচই খেলেছে এমন খেলোয়ার বাংলাদেশ দলে ৩ জন, অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, প্রথম ম্যাচে ৪ রানের পরে এই ম্যাচে করেছে ৫ রান, অলক কাপালী প্রথম ম্যাচে ৪৯ রান করবার পরে এই ম্যাচে ১২ রান করে রান আউট হয়েছে,

ম্যাচ শেষে আশরাফুলের প্রতিক্রিয়া যথারীতি সন্তসুলভ, অবশ্য বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা এই সন্তসুলভ মানসিকতা, আশরাফুল বলেছে, যদি ম্যাচের প্রথম ২০ ওভারেই আপনি ৫টি উইকেট হারান তবে ম্যাচে ফিরে আসা অনেক কঠিন, এই আউট হওয়া ব্যটসম্যানের তালিকায় ছিলো তামিম, আশরাফুল ,মেহরাব, সাকিব, কাপালি, তবে এই বিশাল পরাজয়ে কি বাংলাদেশ দল অনুতপ্ত?

বাংলাদেশ দলের পরাজয়ে অনুতপ্ত হওয়ার কোনো নজির নেই, বাংলাদেশ দল মানেই সন্তসুলভ মনোভাবের ১৫ জন পর্যটক, যারা অপেশাদার এবং যাদের ভেতরে এখনও পেশাদারী মনোভাব তৈরি হয় নি। তারা জয়- পরাজয়কে একই ভাবে দেখে, পেশাদারী দলগুলোও অবশ্য জয়ী হতে হতে এখন তেমন ভাবে জয় উদযাপন করে না, তাদের কাছে এই নিস্পৃহতার শিক্ষাটা নিয়েছে বাংলাদেশ, তাই প্রতি ম্যাচে লজ্জাজনক পরাজয়ের পরেও তাদের এই বিষয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যায় না, আগের ম্যাচের চেয়ে ভালো করবার চেষ্টা করবো, আমরা ভালো খেলবো, ভালো করবো, ৫০ ওভার টিকে থাকলে পরাজয়ের ব্যবধান আরও কমতো, এইসব রোমাঞ্ছিত অবাঞ্ছিত কথার পয়মালে ভেজা থাকে বাংলাদেশের ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলন এবং ম্যাচের আগের বিকেলের সংবাদ সম্মেলন।

দেশপ্রেমের মতো কঠোর শব্দ টেনে না এনেও বলা যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যে সমস্যা সেটা বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা- গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করবার বোধটাই জন্ম হয় না অধিকাংশ জনপ্রতিনিধির, বাংলাদেশের খেলোয়ারেরা যে বাংলাদেশের সম্মিলিত জনতার মুখপত্র, প্রতিটা বাংলাদেশী যে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে একটা সুখের, আনন্দে ভেসে যাওয়ার মতো সংবাদের জন্য, বাংলাদেশের প্রতিদিনের পরাজিত মানুষেরা যে একদিন অন্তত এই ১৫ জনের কাঁধে ভর করে জয়ী হতে চায় এক দিন, একদিন অন্তত জয়ের স্বাদ পেতে চায় পরাজয়ের আলুনি খেয়ে বিরক্ত বাংলাদেশের মানুষেরা, এই বোধটুকু কখনই জন্মায় না এইসব মেগাস্টারদের, তারা এনার্জি ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনে লৌড়ালৌড়ি করে, তারা সব তেল না খেয়ে বিশেষ একটি কোম্পানির তেল খায়, এইসব ফাজলামি করে বেড়ানো দলটির অপেশাদারিত্র শুধুমাত্র খেলার মাঠে, বিশেষ করে জাতীয় দলের হয়ে খেলবার সময় তাদের অপেশাদিরত্বের চুড়ান্ত সীমা দেখা যায়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিকেরাও অবশ্য গণমানুষের কাছে একই অপরাধে দোষি, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ প্রশ্রয় দিয়ে চায়, তাদের অপরিসীম প্রশ্রয়ে দেশে দুর্নীতির চাষাবাদ হয়, সেই দেশের সোনার ছেলেরা বাইরে গিয়ে জঘন্য ভাবে পরাজিত হলেও হাসি মুখেই এই পরাজয় মেনে নেয় বাংলাদেশ, প্রশ্রয় দিয়ে বলে আশরাফুলের সব আছে, আশরাফুল নিজের দিনে বিশ্বের সেরা ব্যটসম্যান, তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট ব্যক্তিগত খেলা নয়, দলীয় খেলা, একজন সুপারস্টার যে দলকে কিছু দিতে পারে না, তার চেয়ে ১১জন নিবেদিত প্রাণ খেলোয়ার যারা সম্মিলিত ভাবে দেশকে কিছু দিতে পারে এমন খেলোয়ারদের মাঠে চাই আমি।

সেই তালিকায় কখনই আশরাফুল কিংবা তামিম নেই, আমি চাই বাংলাদেশ এর পরের ম্যাচে আশরাফুল এবং তামিমকে বাদ দিয়ে খেলতে নামুক, অপেশাদারিত্ব বিবেচনা করলে এই দুই জন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বেশী অপেশাদারিত্বমূলক মনোভাবের খেলোয়ার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28836708 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28836708 2008-08-30 16:43:20
হাক মাওলা, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান আর তোমার লীলা বুঝা ভার।
সামহোয়্যারে প্রথম এ বিষয়ে পোষ্ট করেছিলেন অনৃন্য, তিনি বৃহঃস্পতি বার সমকালে প্রকাশিত একটি খবরের লিংক দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করেন।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কৌশিক আরও একটা পোষ্ট দিয়েছিলো গতকাল, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমরা আজকে কুমিল্লা যাবো, যদি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় তবে প্রতিরোধ করবো আর যদি সম্ভব না হয়, অন্তত নিজস্ব চোখে দেখে আসবো গ্রাম্য সালিশ এবং দোররা মারবার ঘটনা।

ঘটনা সে রকম ঘটে নি, সন্ধ্যায় পড়লাম মাসুম ভাইয়ের পোষ্ট, এরপরে কৌশিক জানালো বিষয়টার সমাধান হয়েছে, প্রথম আলোর প্রতিনিধি বাশার ভাই জানিয়েছেন একজন বাদ দিয়ে সব মোল্লাই সেই এলাকা ছেড়ে ভেগেছেন। এবং বাকি অংশটুকু অবশ্য মাসুম ভাইয়ের পোষ্টের বক্তব্যের মতোই।

আজ সকালে যখন বাশারের পাঠানো রিপোর্ট পড়লাম তখন একটু আশ্চর্য হলাম, সেখানে মাসুম ভাইয়ের নিশ্চিত কথাগুলো নেই, বরং আশার বানী আছে,মুরাদনগর থানার ওসি মোঃ শাহ আলম বকাউল প্রথম আলোকে জানিয়েছেন তাকে আজ কোনোভাবেই দোররা মারতে দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে ঐ মহিলাকে পুলিশি হেফাজতে এনে রাখা হবে।

রিপোর্ট পড়বার পরে যেই ভাবনাটা মাথায় আসে তা হলো প্রথম আলো প্রকাশিত হয়েছে রাত ১২টার সময়, তখন কোনোভাবেই আজকের দইন, শুক্রবার বলবার সামর্থ্য নেই পুলিশ কর্মকর্তার, কিন্তু রিপোর্টের ভাষায় বিষয়টা এমনভাবে এসেছে যে বাশার সাহেব রিপোর্টটি সকাল বেলাই পাঠিয়েছেন, এবং কোনো এক অজানা মন্ত্রে সেটা প্রতিটা ছাপানো পত্রিকায় চলে গিয়েছে। প্রথম আলোর এই মারেফতি কারিগরি শিখতে হবে, কিভাবে প্রকাশিত হওয়ার ৮ ঘন্টা পরে যখন মফস্বলের মানুষটি পত্রিকা খুলছেন তিনি জানছেন শুক্রবার সকালেই, যে আজ কোনোভাবেই তাকে দোররা মারতে দেওয়া হবে না।

প্রথম আলোর অনুগত পাঠকের কমতি নেই, তাদের একজন তপন চৌধুরি মাসুম ভাইয়ের পোষ্টে বলেছেন: এইরকমই হয়, সবাই পালায়া যায়৷ তাদের খুজে বের করে জেল হোক৷ আজ ঐ খবরটা প্রথম আলোর ১ম পাতায় না হলে এত দ্রুত ঘটনা ঘটত না৷
------------------------



তপন চৌধুরির বক্তব্য পইড়া হাসতে হাসতে নীচে পইড়া গেলাম, সীট বেল্ট বান্ধি নাই, খুব চোট পাইছি।



প্রথম আলোর রিপোর্ট সকালে পইড়া ভাবলাম একবার মাসুম ভাইরে ফোন দিবো, মাসুম ভাই এইটা দিছে ২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩৬ , আর তপন চৌধুরি ২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪০ মিনিটে , এসে বললেন এই মহান সংবাদ, প্রথম আলোর ভালোর সঙ্গে গতায়তের গল্প।

গতকালের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় এই রিপোর্ট আসে নাই। এইটা আরও একটা দুই নাম্বারির চেষ্টা। আইজকার পত্রিকায় বিশেষ রিপোর্ট চোদাইবো মামারা, তাদের রিপোর্টের কারণে এই অনর্থ ঘটতে পারে নাই, বন্ধুসভার পাবলিকের নামও দিতে পারে এইখানে। আমি ঠিক জানি না প্রথম আলো এই বুদ্ধিবৃত্তিক জুয়াচুরি কিভাবে করবে, তবে অন্য সব দিনের মতো আজকের দৈনিকেও দেখা যাবে প্রথম আলোর প্রকৃষ্ট তৎপরতায় নিরীহ একজন স্বামীহারা গৃহবধু দোররার হাত থেকে বেঁচেছেন।

আমি ইন্টারনেট এডিশন খুজছি, তবে এখনও সেটা প্রকাশিত হয় নি ইন্টারনেটে।

হাক মাওলা, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান আর তোমার লীলা বুঝা ভার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28836520 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28836520 2008-08-30 02:01:31
অগভীর ভাবনা ১১ - প্রনয়ের আহ্লাদে মন উড়ঊড়ু
আজ কথা হচ্ছিলো তারেকের সাম্ভাব্য মুক্তির তারিখ নিয়ে, আপাতত উপায়ান্তর নেই এই সরকারের, জনগণ মোটেও তাদের উপস্থিতি বরদাস্ত করছে না, তারা অনভিপ্রেত বিবেচিত হচ্ছে, এক কালের প্রতাপশালী মাননীয় ১১জনের গলায় এখন আর বাঘের হুংকার শোনা যাচ্ছে না বরং সেখানে বিড়ালেই মিঁউ মিঁউ স্বর।

নির্বাচন কমিশনারত্রয় অনেক রকম ফাঁপা আশার বেলুন ফুলিয়েছিলেন গত ১৮ মাসে, আমরা এইভাবে সেইভাবে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চাই, সবাই তাদের নির্ধারিত রোড ম্যাপ ছেড়ে পাশের ভাঙাচোরা রাস্তা ডিঙিয়ে আল ভেঙে এখন কাদার উপর দিয়ে হাঁটছেন, অবশ্যই নির্বাচন হবে, নির্বাচন নিয়ে সংশয় নেই।

যদি রাজনৈতিক দল নির্বাচন করতে না চায় তবে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী নামিয়ে নির্বাচন হবে, বন্দুক মাথায় ঠেকিয়েই নির্বাচনে রাজী করবে মইন উ আহমেদ, তারও নির্ধারিত মেয়াদ শেষ, বরং বদান্যতায় নিজের প্রভাব খাটিয়েই তিনি তার অবসর কাল এক বছর পিছিয়ে দিয়েছেন।

এই ১৮ মাসে দেশে দুর্নীতি বন্ধ ছিলো না, একটা দিনের জন্যও বন্ধ ছিলো না, মাননীয় সচিবেরা ঘুষ নিয়েছেন বর্ধিত হারে, তাদের ঝুঁকি নিয়ে ভাবতে হয়েছে, একই সময়ে সামরিক বাহিনীকে ঘুষের বখরা দিতে হয়েছে। তাদের শক্তি বেশী, তাদের খাঁই বেশী, সুতরাং সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বেড়েছে।

গত ১৮ মাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানটি ছিলো সামরিক বাহিনী, এবং সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষগুলো সবই সেনা সদস্য।

যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন, যার হাতেই ক্ষমতা যায় সেই দুর্নীতিগ্রস্থ হয়, দুর্নীতি নিয়ে হাসান মশহুদ দিন রাত এককরে প্রচারানা চালান, রাস্তার মোড়ে মোড়ে বেতনভুক জরপি কর্মীদের দিয়ে গণসাক্ষর সংগ্রহ করেন, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব গড়তে স্কুলে গিয়ে শপথ পাঠ করান।

মজমায় মজমায় সয়লাব দেশ, সবাই কিছু না কিছু বেচতে চাইছে এই সময়টাতে। সুশীল সমাজ নিয়মিত আইনের শাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের রুপরেখা বেচতে চাইলো, তারা এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যর্থতার জন্য কিয়দংশে দায়ী। জ্বি হুজুর স্বভাবের কারণেই তারা এই সরকারের ভুল পদক্ষেপগুলো বিপক্ষে কিছু বলতে পারে নি, তবে অধিকাংশ দায়ই অবশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিজের। যেখানে কোনো সংসদ নেই, সেখানে দেশের মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরবার কোনো প্রতিনিধি নেই রাষ্ট্রের কাছে, এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতো সংবাদপত্র- তবে সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রনের ১০১ ছুতা তৈরি করে মূলত সংবাদমাধ্যমের ক্ষমতাকে অকার্যকর করে রেখেছে তারা।

এই সরকারের বিপক্ষে কিছু লেখা যাবে না, এই সরকারকে হেয় করে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না, এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না যা এই সরকারের কর্মতৎপরতাকে বাধগ্রস্থ করে। সংবাদ মাধ্যমে এই সরকারের মাননীয় উপদেষ্টাসমুহ এবং এর পেছনে ছায়া হয়ে স্থির সামরিক বাহিনীকে নিয়ে কোনো কটাক্ষ, ব্যঙ্গ কিংবা স্যাটায়র ছাপা যাবে না- তাদের ভুলের সমালোচনা করা যাবে না-

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো এই অলিখিত নীতিমালা মেনে নিয়েছে, ব্যতিক্রম একজনই নুরুল কবির, তাকে কোনোভাবেই দমাতে না পেরে অবশেষে নিউ এজের মালিককে আটক করা হয়েছে।

সমালোচনাবিহীন ভুলগুলো সংযুক্ত হতে হতে এমন একটা অবস্থানে এসেছে যখন ব্যবসায়িক স্বার্থে কর্পোরেট সংবাদ প্রকাশনা সংস্থা মূলত সরকারের প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। বিটিভি যখন সাহেব বিবি গোলামের বাস্ক ছিলো তখন সেটাকে সবাই অপবাদ দিয়েছে, এরপরে সেটা বিবি গোলামের বাস্ক হলো, এরপর এটা বাপবেটি চ্যালাদের বাস্ক হলো, জোট সরকারের আমলে এটা হলো বিবি গোলাম আর দেঁড়েল ছাগলদের লাফালাফি দেখানোর বায়োস্কোপ। সেখানে ১১ই জানুয়ারীর পরে বিটিভি মূলত ১১ সাংবিধানিক উৎপাত আর এক বাইট্যা বুইড়ার তেলেসমাতি দেখানোর বায়োস্কোপ।
বর্তমানে কর্পোরেট সাংবাদিকতার ব্যবসায়িক মনোভাব চরম ভাবে প্রকাশিত, যখন দেশের মানুষ এইসব তেলেসমাতি, হিং টিং ছটকে ঘৃণা করছে তখন এরাই সমালোচনায় আকাশ কাঁপিয়ে ফেলছে, এখন কর্পোরেট মিডিয়া সবচেয়ে বড় তত্ত্বাবধায়ক সংস্কারক। তারা জ্বালাময়ী কলাম প্রকাশ করছে,

সামরিক ব্যটনের ভয়ে যেসব কলমবাজের বীচি এতদিন কপালের টিপ হয়ে ছিলো, তারা সবাই বীচিকে স্বস্থানে স্থাপন করে বিরাট সব বিপ্লবী সেজে বসে আছে। শক্ত মাটিতে বেড়াল হাগে না, তবে মাটি নরম হলে হেগে নষ্ট করে ফেলে, কর্পোরেট চরিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর প্রচার সংখ্যার শীর্ষে থাকা সংবাদপত্রগুলোর মন্তব্য আর সম্পদকীয় পাতা এইসব মেকুরের গুয়ে মাখামাখি।

তবে এই ১১ই জানুয়ারীর অভিশাপের পরে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ভুমিকা পালন করেছে নির্বাচিত আপীল বিভাগের বিচারকেরা। অবশ্য আপীল বিভাগ ছেড়ে বাধ্য হয়েই কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন, আইনের অবমাননা যখন সহ্য হয় না তখন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করাই বাঞ্ছনীয়, এই পদত্যাগী নিরপেক্ষ?? মানুষদের ভেতরে ইসলামীভাবাপন্ন মানুষেরাও আছে। যখন নারী অধিকার নিয়ে একটা জঘন্য পরিস্থিতি তৈরি হলো সে সময়ে আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিতে বিভিন্ন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিলো, সামরিক পদলেহনের এই জঘন্য আচরণের পরেও আশা করা যায় পরবর্তী সময়ে যখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য কয়েকজন ভবঘুরে সং প্রয়োজন হবে, যখন ১১টা জোকারের প্রয়োজন হবে দেশের তখন এদের নেতৃত্বে থাকবে এইসব পা চাটা কুকুরের দলের এক সদস্য।

বর্তমানে সরকার সমঝোতামূলক ভাবনা ভাবছে, নির্বাচন কমিশন আপোষের সুরে বীনা বাজাচ্ছে, তাই নিবন্ধন শর্ত শিথিল থেকে শিথিলতর করা হচ্ছে, এ কারণেই রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভাবেই জামিন দেওয়ার বন্দোবস্ত হচ্ছে, ১ বছর আগেই যেখানে জরুরী আইনের গালগল্প চুদিয়ে সামরিক সরকারের সুশীল মুখপত্র ১১ উল্লুক বলেছিলো জরুরী বিধিমালার অন্তর্গত মামলাগুলো জামিন অযোগ্য, সেই মামলাগুলো থেকেই ক্রমশ জামিন পেয়ে বুক ফুলিয়ে বের হয়ে আসছে লালু, ফালু, সালুরা। থুতু মাটিতে ফেলে সেই থুতু চেটে খাওয়ার কদর্য দৃশ্য সচারাচর দেখা যায় না, তবে সংবাদপত্র এবং টিভি সংবাদে নিয়মিত এই কদর্য দৃশ্য প্রচারিত হচ্ছে, জিল্লুর রহমান কিছুটা বিরক্ত হলেও এখনও সেই হাসিমুখ অমলিন, তিনি কিছুটা টেনে টেনে বলছেন আমরাও পরিবর্তন চাই, রাজনৈতিক সংলাপে আমরাও আগ্রহী।

এই আলোচিত রাজনৈতিক সংলাপ নিয়ে কোনো ঝামেলা হতো না যদি ১ বছর আগেই এই শুভবোধ জন্মাতো উজবুকদের। তাহলে হয়তো আমাদের এখন ২ দিনে তারেকের ১১ মামলায় জামিন পাওয়ার দৃশ্য দেখতে হতো না।

তরেকের উপরে নির্যাতন অন্যায় হয়েছে, তবে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং ক্ষমতার কারণে তারেক এবং অন্য সব রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা যেভাবে বিভিন্ন নামী হাসপাতালের কেবিনে অবকাশ যাপন করেছেন তেমন সুযোগ কি সাধারণ মানুষেরা পেয়েছে। এই অন্যায়টুকু মেনে নিতে পারি না আমি। সাংসদ হওয়ার জন্য কারাগারে বিশেষ সুবিধা কিংবা ডিভিশন পাওয়ার যোগ্যতা নেই এইসব অপরাধীদের। তাদের অপরাধের মাত্রা ডিভিশনের সময় বিবেচিত হয় নি,

আমাদের হাইকোর্টের ক্ষমতাশালী বাগ্মী উকিলদের দেখে লজ্জা লাগে আমার, তারাই অপরাধীকে জামিন দেওয়ার বিভিন্ন আইনি ফাঁকফোঁকর খুঁজে হয়রান এবং রাতের অনুষ্ঠানে তারাই বলছেন দেশটা দুর্নীতির কারণে উচ্ছন্নে গিয়েছে।

যেখানে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার জন্য ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হয় একজন মানুষ, সেখানে কোট টাকা ঘুষ নিয়েও সেনাবাহিনীর মেজরেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, সেখানে মাসুদ মিয়া ৩ মাসে ৫ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে গুরুতর অপরাধ দমন কমিটি থেকে সসম্মানে অপসারিত হয়ে কোনো এক দেশের দুতাবাসের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চলে যান। তার টিকি কেনো হোগার ফেলে দেওয়া বালও কেউ ছোঁয়ার সাহস দেখালো না, সংবাদ পত্রগুলোতে রিপোর্ট পাঠিয়েও লাভ নেই, সামরিক বাহিনীর সাথে গুরুতর প্রণয়লীলায় মগ্ন কর্পোরেট সংবাদপত্র সম্পাদকেরা এইসব প্রতিবেদন দিয়ে হোগা মুছে ফ্ল্যাশ করে ফেলে দিবেন।

দুর্নীতি কমে নি, বরং আরও বেশী জাঁকিয়ে বসেছে। এক তারেক জামিন পেয়ে বের হয়ে আসাটা তেমন ভয়ংকর ঘটনা না, বরং সবচেয়ে ভয়ংকর হলো তারেক যখন জেলে যায় তখন সে এক ছ্যাচরা অপরাধী, এখন বিএনপি যুবতী দলের অশ্রুতে ধুঁয়ে মুছে গেছে তার ছ্যাঁচরামির ইতিহাস, তার জামিনের খবরে অনেকের আনন্দাশ্রু ঝড়বে, এবং অনেকের অনেক স্থান আবেগে ভিজে যাবে, সেই সব ভিজে যাওয়া মানুষদের কল্যানে একজন অপরাধী শেষ পর্যন্ত নায়ক হয়ে বের হয়ে আসবে কারাগার থেকে।

এই আশংকায় নীল হয়ে থাকা মানুষটাকে কোনো আশাবাদ জানাতে পারলাম না, বললাম তারেকের অবস্থা বিশেষ সুবিধা না, সেরে উঠতে হয়তো বছর দুই লাগবে, তবে সে ফিরে আসবে, এইবার তাকে ঠেকানোর কেউ নেই, কোনো আইন তার কোনো বাল স্পর্শ্ব করতে পারবে না। আমাদের সম্মিলিত পরাজয়ের বেদনায় আমরা অবশ্য মুষড়ে পড়ি নি মোটেও।
অন্তত অচেনা ধর্ষকের কাছ থেকে নিস্কৃতি পেয়ে আমরা চেনা নাগরের হোগা মারা খাবো, এই আনন্দে, আহ্লাদে মেতে আছি সারা দিন। মনটা কেমন উড়ুউড়ু।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28836068 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28836068 2008-08-28 21:18:41
আলোকিত জীবন
আয়েশা আদুবিয়া আমেরিকার একজন মুসলিম মহিলা। তিনি একজন পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করেন। স্বামী স্ত্রী দু'জনেই নিউইয়র্কে আমদানি-রফতানির ব্যবসা করেন। আয়েশা আদুবিয়া মিস্টারস ইন ইসলামের সদস্য। এই সংস্খার প্রতিষ্ঠাতা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। এই সংস্খা মুসলিম মেয়ে এবং মহিলাদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভুতি জাগ্রত করার এবং অমুসলিম সমাজের মহিলাদের মধ্যে ধর্মীয় প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করে।

সংগ্রাম কয়েক দিন সম্পাদকীয়তে ঘোষণা করেছে দেশের যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে, নাইট ক্লাবের বেলেল্লাপনায় সামাজিক অনুশাসন ধ্বসে যাচ্ছে। আমাদের যুব ও তরুন সমাজ ইসলামের আলো থেকে মুখ ফিরিয়ে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে চলে যাচ্ছে দেখে আমিও হতাশ। ফ্রি মিক্সিং কখনও যুব সমাজকে ভাল কিছু শেখায় না। আধুনিকতার নামে অসভ্যতা কেবল স্বার্থপরতাই শেখায়, দেশ গড়তে নয়। মুক্তিযুদ্ধে যাদের খেসারত দিতে হয়েছে তারা জানেন কত ত্যাগ আর পরিশ্রমে এ দেশটা গড়া। সেই দেশের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে হলে যুব সমাজকেই সততার সাথে আগামী দিনের নেতৃত্বে দিতে হবে। যুব সমাজ, তরুণ সমাজ আধুনিক হবার প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসকে ভঙ্গ করছে।

আয়েশার উপলব্ধি, মুসলিম দেশের নারীদের চলাফেরা আমাকে হতাশ করেছ। । আমি দেখেছি, মুসলিম দেশের মেয়েরা পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণ করছে। তারা নিজেদের আধুনিক প্রমাণ করার জন্য পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুসরণ করছে। পাশ্চাত্যের মেয়েদের অনুসরণে পোশাক পরিধান করছে।

অবশ্যই আমাদের ইসলামী আকিদা মেনে পোশাক পরিধান করতে হবে। একজন মুসলিম নারীকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে ইসলামের সৈন্দর্য্য, ইসলাম নারীকে যে অধিকার দিয়েছে, সেটা উপলব্ধি করেই পাশ্চাত্যের দেশের নারীরা ইসলাম গ্রহন করছে, সেখানে মুসলিম দেশগুলোর ইংরেজি সংবাদপত্র মুসলিম মেয়েদের বেপর্দা, বেআব্রু জীবনযাপন করতে শেখায়।

আয়েশা আদুবিয়া মুসলিম দেশসমূহের ইংরেজি সংবাদপত্রের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে এ সকল সংবাদপত্রই ছেলেমেয়েদের মনে সন্দেহ সংশয় তৈরি করছে। মুসলিম বিশ্বে পাশ্চাত্যের প্রভাবে প্রভাবিত নারীরা নারীদের অধিকারের কথা বলেন। অধিকার দাবি করে। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে যে এসব অধিকার দাবির আড়ালে প্রকৃতপক্ষে তারা ইসলাম থেকে পলায়নের পথ খুঁজছে। পাশ্চাত্যের নারীরা নিজেদের নির্বুদ্ধিতার কারণে যে পথ গ্রহণ করেছে এবং যেপথ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজছে মুসলিম বিশ্বের আধুনিক নারীরা কি সেই পথেই যেতে চায়?

প্রকৃত ইসলাম শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের অধিকার সচেতন হয়ে উঠতে হবে নারীকে।

ইসলামের মনগড়া ব্যাখ্যা না করে বরং ইসলাম নারীদের যে অধিকার দিয়েছে এবং নারীদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছে সেই সকল বিষয়ে আগামী দিনের বংশধরদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়। এ মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যত বংশধরদের গড়ে তোলা যায়। একটি জাতির ভবিষ্যত এসব বংশধরদের উপর নির্ভরশীল। এই দায়িত্ব উপেক্ষা করার মতো নয় এবং এই দায়িত্ব তুচ্ছ এবং ক্ষুদ্র নয়। আল্লাহ নারীদের এতো বড় দায়িত্ব দিয়েছেন এজন্য নারীদের দায়িত্ব পুরুষদের দেয়া হয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য যে অধিকার প্রয়োজন সেই অধিকার অবশ্যই দাবি করবেন। কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে এর বাইরে যাবেন না। এর বাইরে রয়েছে ধূ ধূ মরীচিকা। নারীর মর্যাদা ও সৌন্দর্য তার পুরুষালি আচরণ প্রকাশের মধ্যে নয় বরং ফিতরাতের নীতি অনুযায়ী নারী হয়ে থাকার মধ্যেই রয়েছে তার সৌন্দর্য। নারীদের ভালোভাবে শিক্ষা দিন যেন তারা আদর্শ মা হতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28835725 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28835725 2008-08-27 20:41:17
অহেতুক ভাবনা
রাস্তার অন্য পাশের সব দোকানের ঝাঁপ ফেলা, সব দোকান বন্ধ, মঙ্গল বার ছাড়া এমন দৃশ্য দেখা যায় না, অনেক রকম জটিল হিসাব করে নিশ্চিত হলাম আজ সোম বার, মঙ্গল বার হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই। হাঁটতে হাঁটতে যখন টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সামনে আসলাম তখন গাড়ী পুড়ে সারা, এক প্লাটুন জঙ্গি পুলিশ নির্বোধের মতো দাঁড়িয়ে আছে, রাস্তার অন্য পাশে পোড়া গাড়ীর সামনে আরও কয়েকজন ভীড় করে আছে।

ইদানিং পুলিশ দেখলে কৌতুহল সংবরণ করতে হচ্ছে, পুলিশের ট্রাক রেকর্ড আরও খারাপ হচ্ছে দিন দিন, বেমওকা কখন কোথায় ফাঁসিয়ে দিবে বলা যায় না, নিশ্চিত হলাম কান্ডটা ঘটিয়েছে ঢাকা কলেজের ছেলেরা, তবে কেনো এটাই জানি না।

এত ভাবনায় কাম নাই, রাস্তায় পোড়া গাড়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে ব্যরিকেড, রিকশাওয়ালাকে বললাম কি রে ভাই কি সমস্যা ?

কইতাম পারি না, এই দিকে বিশাল জ্যাম হইছে।
উল্টা একটা ঝাড়ি দিলাম, মিয়া কি করো এইসব খবর রাখো না।
টিএসসির সামনে আরও একটা পোড়া গাড়ীর অবশিষ্টাংশ খুবলে নিয়ে যাচ্ছে মানুষ। কিছু একটা ঘটেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে গরম খবর বলতে মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক বাধ্যতামূলক ছুটিতে গিয়েছে, তবে এই আন্দোলন যারা করে তাদের চরিত্র সম্পর্কে ধারণা থেকেই বলতে পারি এরা অন্তত রাস্তায় নেমে গাড়ী পোড়াবে না, ঘটনা ভিন্ন রকম কিছু।

বাতাসে গুজব ঈদের বন্ধের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৩ মাসের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হবে। অবশ্য যারাই ক্ষমতায় থাকে তারাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রন করতে চায়।
নির্বাচিত সরকার আসলে অনুগত ক্যাডারেরা হল দখল করে আর বাধ্যগত শিক্ষকেরা দলীয় প্রধানের পা চেটে সরকারী ভবনে গিয়ে বসে থাকে। ম্যাডামের চামড়া সুন্দর আর আপার হাসি সুন্দর খোশ গল্প করে। এবং এই সুযোগেই উপাচার্য বদল হয়ে যায়। নীল আর সাদা হয় ক্যাম্পাস রাজনৈতিক দলের কল্যানে।

সামরিক সমর্থিত সরকারও প্রথম ক্ষমতা দখল করেই একই নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর কতৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রন রাখতে চাইলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য আছে, রাজনৈতিক ঐতিহ্য, এখান থেকেই আন্দোলন জন্ম নেয়। তাই এখানেই মিনি ক্যান্টনমেন্ট বসিয়ে জিমের মাঠে হাওয়া খায় সৈন্যরা। তাদের জন্যই অবশ্য জিমনাসিয়ামের টয়লেট সংস্কার হয়েছে।

এখানে যেকোনো বিদ্রোহ কিংবা রাজনীতির উন্মেষ দমন করবার পবিত্র বাসনা নিয়েই সেনাবাহিনী অপেক্ষা করে জিমের মাঠে। সেখান থেকেই আগুণ জ্বলে, অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় গ্যারিসন না, সেখানে কেনো সৈন্যসামন্ত নিয়ে মেজরসাব বসে থাকবে, এমন কি এখানে যুদ্ধকালীন অবস্থা নেই, এরপরও ক্যাম্পাসে মিলিটারির উপস্থিতি আমারও জঘন্য লাগে।
অবশ্য ২৩শে আগস্ট থেকে পরিস্থিতি বদলেছে, এখন সৈন্যসামন্ত নিয়ে আর গ্যারিসন সাজে নেই বিশ্ববিদ্যালয়, তবে কাছেপিঠেই র‌্যাব ৩ এর একটা আস্তানা বসেছে। ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলেও মিলিটারিসমর্থিত সরকারের ক্যাম্পাসের উপরে দখলদারিত্ব ছাড়বার বাসনা নেই।

কেনো প্রয়োজন এই যুদ্ধযুদ্ধ সাজের? ক্যাম্পাসের লাগোয়া বিডিআর ক্যাম্প, সেখানে থেকেই তো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়। যাই হোক এইসব ভাবনা ভাবতে ভাবতেই দেখি, ৩ নেতার কবরের সামনে প্রাইমারি শিক্ষকদের প্রতিকী অনশনের সমাবেশ। একজন শিক্ষক নেতা ভাষণ দিচ্ছেন,

একতার বিকল্প নাই, আমরা একতা ভাঙলাম তো আমরা ছোটো হয়ে গেলাম, আমরা শেষ।

এইসব ভাষণ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না, প্রাইমারী শিক্ষকদের একটু সম্মান প্রাপ্য। কোনো মতে বাসা ফিরে এসেও হিসাব মিলে না, ক্যাম্পাসে গাড়ী পোড়ালো, সেখানে উপস্থিত ৩টা টিভি চ্যানেলের গাড়ী, ঘটনা কি?

ঘটনা জেনে অবাক হলাম, যুবরাজ টয়লেটে পড়ে আহত হয়েছে, সেই সংবাদে উত্তেজিত ছাত্রদল রাস্তায় গাড়ী ভেঙেছে, গাড়ী পুড়িয়েছে। ভুল সময়ে ভুল স্থানে থাকা গাড়ী আর গাড়ীর মালিকের জন্য সমবেদনা।

ঘটনা এখানে থেমে থাকলেই ভালো হতো, তবে ঘটনা শেষ হয় না, কিছুক্ষণ পরেই জানলাম গাড়ী পোড়ানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে একজন গুরুতর আহত হয়েছে, এবং হাসপাতালে মারা গিয়েছে।

মৃত্যু কতটা সহজ, এই মানুষটা কখনও ভেবেছিলো এমন অকালে তার মৃত্যু হবে, বাংলাদেশের মানুষ এখন এইসব ঝামেলা এড়িয়ে বাঁচতে চায়, একটু পরিস্থিতি গোলমেলে দেখলেই তারা রাস্তা ছেড়ে সরে যায়, অহেতুক জনরোষ কিংবা সাধারণ গুন্ডাদের উন্মাদনার শিকার হতে চায় না, মানুষ দিন দিন পাষন্ড হয়ে যাচ্ছে, এবং একই রকম উদ্ভট উদ্ভট ঘটনায় আলগোছে মানুষ মেরে ফেলবার ঘটনাও ঘটছে প্রচুর।

মোবাইল চুরির অভিযোগে একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেললো কয়েকজন, ছিনতাইয়ের অভিযোগে একজনকে পুড়িয়ে মেরে ফেললো, ২ টাকা বাকির জন্য মানুষকে খুন করে ফেললো একজন, প্রেমিকের সাথে অবৈধ সহবাসের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেললো একজন, এইসব অস্থিরতার ভেতরেও মানুষ সচেতন ভাবে বাঁচতে চায়। তাই জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু নাড়া দেয় ভীষণ ভাবে।

মানুষটা জানতোও না মৃত্যু ওত পেতে আছে, তার পথের পাশে যেখানে কোনো ভাবেই কল্পনা করা যায় নি একদল ছাত্র হঠাৎ একটি সিএনজি করা গাড়ীত আগুণ জ্বালাবে, সেই সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হবে, এবং বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের একটা টুকরো এসে বিধে যাবে বুকে, আমিও কাছাকাছি সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলাম, এই অঘটন আমার সাথেও ঘটতে পারতো, বলা যায় না আমার নিস্পৃহতার ভেতরেও মাঝে মাঝে অহেতুক কৌতুহল চলে আসে, সে রকম কোনো কৌতুহলে আমার মৃত্যু হওয়াটাও বিচিত্র কিছু ছিলো না।

এমন অঘটনে মৃত মানুষটার জন্য শোকগ্রস্ত হয়েছিলাম, একজনের কথার পাল্টা জবাবে তার উষ্মা বুঝতে পারলাম। খবরটা দেখেছেন-

আমি অবসর সময়ে পেপার নাকের ডগায় লাগিয়ে রাখি, আমার কাছে অনেক খবরই গুরুত্বপূর্ণ- মানুষটাকে খুন করলো চোরটার জন্য। সবকয়টাকে ফাঁসি দেওয়া দরকার।

আমি বললাম কাকে ফাঁসি দিবেন, কিভাবে দিবেন?
মানুষটা এতটা উত্তেজিত হয়ে যাবে বুঝতে পারি না, ধরে ৫০টাকেই ফাঁসি দিয়ে দেওয়া দরকার, ইতরের দল,

আমি মিনমিন করে বলতে চাইলাম বিষয়টা সম্পূর্ণটাই দুর্ঘটনা,
এইটা দুর্ঘটনা মনে হইলো আপনার কাছে, সিলিন্ডারে আগুণ ধরায়া দিলে ঐটা বিস্ফোরিত হবে না তো কি হবে?

আমি যুক্তির কাছে পরাস্ত হই, যেই চাপে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা থাকে, সেটা যদি সাধারন সময়েও বিস্ফোরিত হয় তবে আশে পাশে নরক হয়ে যাবে, সাধারন চাপের ১০০০ গুন বেশী চাপে গ্যাস ঢুকানো হয়, কম্প্রেশনের মাত্রা তেমন না হলে সম্ভব না গ্যাসে গাড়ী চালানো। এক একটা সিলিন্ডারের টুকরা কমপক্ষে ১৫০০ মিটার প্রতি সেকেন্ডে ছুটে যাবে বিস্ফোরণের পরে, দুরপাল্লার রাইফেলের গুলির গতি এর কাছাকাছি, এবং এটা অন্তত ৫০ মিটার বৃত্তের সবকিছু ঝাঁঝরা করে ফেলবে। গ্রেনেডের মতো মারাত্মক একটা বিস্ফোরক পিঠে ঝুলিয়ে গ্যাসচালিত যানবাহন ঘুরছে শহরে।

তবে শেষ পর্যন্ত যারা সিলিন্ডারে আগুণ জ্বালিয়েছে তাদের ফাঁসির দাবির চেয়ে তাদের শনাক্ত করবার উপায়টা নিয়েই চিন্তিত হই, আমিও চাই আসলে এই মানুষগুলোর শাস্তি হোক, একজন মানুষ অতর্কিতে মরে যাবে কোনো এক কুখ্যাত মানুষের মাথায় সামান্য ছড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে?

সারাদিন এমন সান্তনা ছিলো মনে, তারেক জিয়ার আঘাত তেমন মারাত্মক নয়, বরং পরিস্থিতিকে ঘোলা করতে অহেতুক গুজব রটানো হয়েছে, জামায়াতের কোলে বসে হোগা মারা খাওয়া দেলোয়ার বোকাচোদা উত্তেজিত হয়ে অনেক বিপ্লবী কথা বলে, সারাক্ষণ মাল টেনে যাওয়া এই মাতালের কথা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত না, তারেক জিয়ার কিছু হলে দাবানল জ্বলে উঠবে এমন হুমকি শুনে মনে হয় ন্যাম ভবনে গিয়ে ছাগলটাকে পাতলা বেত দিয়ে আগাপাশতলা পিটাই।

রাজনীতিবিদ এবং আটক ব্যবসায়ী সবাই জেল হাজতে যাওয়ার পরে গুরুতর আহত হয়ে যায়, তারা হাসপাতালে বিলাসী অবকাশে মগ্ন, তাদের দেখতে যাচ্ছে সাংবাদিক, বড় বড় হাসপাতালের বিট শুরু হয়েছে প্রতিটা সংবাদপত্রে।

সব দৈনিকের খবরেই দেখলাম আঘাত গুরুতর কিছু না, পড়ে মাথা ছড়ে গেছে, পিঠে আর কপালে আঘাত লেগেছে, মাথা সামান্য ফুলে গেছে, তবে সংগ্রামের হেড লাইন দেখে ভরকে গেলাম, আরে ঘটনা কি?

তারেক জিয়াকে ইসিইউতে রাখা হয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে, ৪৮ ঘন্টার আগে কিছু বলা সম্ভব না, গুজবের মাত্রা কতটা? এই একটা দৈনিক পড়েই যাবতীয় জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানো উজবুকের কমতি নেই, তাদের সবাই জানবে আগামী ৪৮ ঘন্টার ভেতরে তারেক জিয়া মরেও যেতে পারে, এবং সংবাদটার ভেতরে জোবাঈদার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে তাকে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ঘটনার শেষ।

সংগ্রামের দোসর নয়া দিগন্তে না কি প্রকাশিত হয়েছে তারেক জিয়া পঙ্গু হয়ে যাবে গতকাল বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে, শালার সাংবাদিকতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি ৩ মাসের জন্য বাধ্যতামূলক বন্ধ হয়ে যায় তবে এখানের ২৮ হাজার ছাত্রের কি হবে, এখন কলা ভবনে কমবেশী ৬ থেকে ১ বছরের সেশন জট, আর বিজ্ঞান বিভাগে সেটা ১ বছর থেকে ১৫ মাস, এই ৩ মাসের অহেতুক বন্ধে হয়তো জীবন থেকে ২ বছর হাওয়া হয়ে যাবে অনেকের। অবশ্য আমাদের শাসক মহলের এতে মাথা ব্যথা নেই। তাদের ক্ষমতার ছড়ি নির্বিঘ্নে পিঠে চালাতে পারলেই তারা খুশী।

ছাত্রদলের হামলায় নিহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু অনভিপ্রেত এবং এরজন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানাই, তবে এর সাথে ছাত্র দলের নির্বুদ্ধিতার নিন্দা জানাই, তাদের এই অহেতুক আচরণের কারণেই পুনরায় কিছু মানুষ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে কলাম লিখবে, তারাই শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতির কলুষমুক্ত রাখতে জোর দাবি জানাবে, এবং তারাই শিক্ষকদের দলীয় দুর্গন্ধা মাখা কলাম ছাপাবে, বিশেষজ্ঞের মতামত হিসেবে শিক্ষকের রাজনৈতিক বক্তব্য ছাপাবে।

ছাত্র রাজনীতি এইসব পাতি নেতাদের জীবিকার একটা উপায়, হয়তো ছাত্রদল নিজের পেটে নিজেই লাথি মারলো। এবং একই সাথে ৩ মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখবার দাবিটার যৌক্তিকতাও প্রমাণ করলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28835297 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28835297 2008-08-26 20:08:17
মিজাজ বিলা সুনিত পলের লিখা পড়ে। Click This Link

এই লেখাটা পড়বার পর থেকেই ভাবনা বিক্ষিপ্ত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যতটা গালি দেওয়া সম্ভব দিয়েও গায়ের ঝাল মিটছে না, একবার মনে হলো এটার প্রতিবাদ করা প্রয়োজন, তবে গ্লোবাল পলিটিসিয়ান সাইট ই মেইল ফিডব্যাক নেয়, সরাসরি বলবার উপায় নেই, সেখানে ই মেইল করবো হয়তো তবে তার আগে নিজের গা জ্বলুনি কমিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

সুনিতা পল এই লেখায় বিশিষ্ট ইহুদিপ্রেমী ভুমিকায় অবতীর্ণ, বাংলাদেশ ইসরাইলকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয় নি, যদিও ইসরাইল অন্য সব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের স্বীকৃতিও চাইছে অনেক দিন ধরে, তবে বাংলাদেশ এখনও সেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে ইসরাইলের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে নি।

তাইওয়ানকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয় নি চীনের চাপে, তাইওয়ান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চেয়েছিলো তবে চীন এখনও তাইওয়ানকে নিজেদের তালুক ভাবে, সেখানে নির্বাচন হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অস্থায়ী অবস্থান গ্রহন করে, তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক মহরা চালায়- এবং সুনিতা পলের অভিযোগ মতো ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এর সদস্য দেশগুলোর ভেতরে ইরাক, ইরান সিরিয়ার উপরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করবার চেষ্টা করে, ইরাকে অনেক দিন অর্থনৈতিক অবরোধ ছিলো, ইরানে অন্তত ১ বছর আগেও পরমাণু অস্ত্র প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক অবরোধ ছিলো, তবে সুনিতা পল এইসব নিয়ে না লিখে বাংলাদেশকে সম্মানিত করবার প্রচেষ্টা করলেন কেনো?

তথ্যের অবাধ প্রবাহ অন্তর্জালে, তবে তথ্যের যাচাই বাছাই করবার সময় কোথায়, বাংলাদেশ সরকার সুনিতা পলের লেখার বিরোধিতা করবে এমন তৎপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর নয়, কিংবা বাংলাদেশের তথ্য দপ্তর, আমি ঠিক জানি না সুনিতা পলের এই প্রচারণার প্রতিবাদ কুটনৈতিক ভাবে করা উচিত না কি এটা তথ্যবিকৃতি বলে এটার প্রতিবাদ করা উচিত।

ইহুদিবিদ্বেষী বাংলাদেশ পরিচয় তুলে ধরে যখন সুনীতা পল আব্দার করেন এ কারণে বাংলাদেশের পন্য বর্জন করা উচিত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর নীতিমালা গ্রহন করা উচিত তখন মাগীর হোগার কাপড় তুলে মনে হয় বিছুটি পাতা লাগিয়ে দি।

বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে বর্ণবাদের কারণে কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক রাখে নি, এখনও যেহেতু বাংলাদেশ ইসরাইলকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয় নি তাই ইসরাইলের অস্তিত্ব সম্পর্কে উদাসীন বাংলাদেশ, যখন বাংলাদেশ এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিবে তখন সুনিতা পল কোনো অভিযোগ আনলে আমি মানতে পারতাম, বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয় ভাবে অস্তিত্ববিহীন একটা ভুখন্ডের জন্য সুনিতা পলের মায়া কান্না আর বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের মদদদাতা রাষ্ট্র, হামাস এবং অন্যান্য জঙ্গী দলগুলোর প্রতি সহানুভুতিশীল একটা রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা এবং এমন দাবি করা যে বাংলাদেশের সাথে বৈদেশিক বাণিজ্যে আসলে ইসলামী শয়তানের উপকৃত হবে এবং বাংলাদেশ ইহুদিবাদ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সেমেটিকদের শত্রু দাবিটা করবার সময় এই চুতমারানী মহিলার কি মনে হয় নি, ক্রিশ্চায়িনিটি সেমিটিজমের একটা রুপ হলেই ইসলামিজম সেমিটিজমের আরেকটা রুপ, বাংলাদেশ এন্টিসেমেটিক আদর্শ ধারণ করে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28834954 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/28834954 2008-08-25 23:31:37
অগভীর ভাবনা ১০ বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন নিয়ে মাতামাতি চলছে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে আইন জারি করতে হয়। অবশ্য এমনটা হওয়াটাই উচিত, বাংলাদেশের তথ্য প্রবাহের চিত্র তেমন সুবিধার না।

যেকোনো বড় দুর্ঘটনা কিংবা অঘটনে যখনই কোনো কতৃপক্ষস্থানীয় ব্যক্তি অভিযুক্ত হয় তখনই এই তথ্য তছরুপের ঘটনা ঘটতে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিলো তিনি মেয়েদের প্রতি অতিরিক্ত স্নেহপ্রবন। তিনি ফার্স্ট ক্লাশ করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মেয়েদের কোমল স্থান ব্যবহার করে থাকেন। এই নিয়ে একটা আন্দোলন হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তাকে অনেক দিন বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার পরে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এবং এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নির্যাতনের শেষ ঘটনা নয়, বরং প্রতি বছরই অভিযোগ উঠে, অভিযুক্ত শিক্ষক সব সময়ই রাজনৈতিক বিবেচনায় পার পেয়ে যান। এবারও একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, মনোবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক সুন্দরী এবং একটু স্বাস্থবতী মেয়েদের প্রতি নেকনজর প্রদান করেন, তাদের কেউ কেউ তার যৌনচেতনায় মারাত্মক দোলা দিয়ে যায়, নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হন সেই শিক্ষক। মানুষের যৌনকল্পনা থাকে, সেই যৌনকল্পনা বাস্তবায়নের খায়েশও থাকে ১৬ আনার উপরে ১৮ আনা, তবে যখন সামান্য ক্ষমতা যুক্ত হয় এই কল্পনা বাস্তবায়নের সাথে, তখন শুধুমাত্র যৌনকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতার ব্যবহার একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রীর জীবন বিপন্ন করে।

যেমনটা জাহাঙ্গীরনগরের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ এবং প্রতিরোধে এগিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তারা অনেক বেশী সচেতন এবং অনেক বেশী লড়াকু একটা সংস্কৃতি ধারণ করে নিজেদের ভেতরে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে, যেখানে সবাই তথ্য প্রবাহ নিয়ে বড় বড় সেমিনারে বক্তৃতা করে, সেখানেই যেকোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রবনতা নেই। ২৩শে জুলাই ২০০২ ঘটে যাওয়া অঘটনের প্রতিবেদন ছাত্র-ছাত্রীরা জানাতে পারে নি, জানতে পারে নি ৯৭ এ শাহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যৌন নির্যাতনের উপরে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন।

মনোবিজ্ঞানের শিক্ষকেরা অর্থকরী গবেষণা করে নির্ধারণ করতে পারেন, এটা কি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের প্রভাব না কি এটা সার্বজনীন একটা বিষয়, শুধুমাত্র যৌনকাতর শিক্ষকেরাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি পায়?

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের কারণেই কি সেখানে যৌন নির্যাতনের ঘটনার হার বেশী? সেখানে নিয়মিত বিরতিতেই অভিযোগ উত্থাপিত হয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে-

শুধুমাত্র যৌনাকাতর হওয়াই কি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিবেচিত হওয়ার অন্যতম যোগ্যতা? আমি জানি না, তবে সেখানেও গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন অন্ধকারে।

তদন্ত প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসবার দায়িত্ব পালন করে সংবাদমাধ্যম, তবে তারাও নিয়ন্ত্রিত তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাসী। তারা কোনো তথ্যই আদতে প্রকাশ করতে চায় না, বরং তথ্য চেপে ধরে রাখে।

প্রথম আলোর ভান্ডারে এবং সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার ভান্ডারে প্রায় সব রাজনৈতিকের গোপন জীবনের প্রতিবেদন আছে, এবং মিলিটারি সমর্থক সরকারের পথ চলা নির্বিঘ্ন রাখতেই সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রতিলিপি সংগ্রহের সুযোগ হয়েছে প্রথম আলোর। এই প্রতিবেদনগুলো বিভিন্ন সময়ে হয়রানি এবং ব্ল্যাক মেইলিং এ ব্যবহৃত হয়েছে।
এই লেখাটার ধাঁচটাও প্রথম আলোর মতোই হলো। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেই দায়বদ্ধতাবিহীনতার ছাপ পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে দায়সারা গোছে বলা হয়, দায়িত্বশীল মহল মনে করে, কতিপয় সরকারী সংস্থার মতে, এমন জলে ভাসা তথ্য দেখে প্রতিবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করা যেতে পারে আবার এটাও কোনো একটা ষড়যন্ত্রতন্ত্র এমনটাও মনে হতে পারে।


তথ্য অধিকার আইনে একটা ধারা আছে, যেখানে যেকোনো সংস্থা তথ্য প্রদানে অসম্মতি জানাতে পারে, আর্থিক আয় ব্যয়ের হিসাব, কর্মচারীদের স্বচ্ছতা, কতৃপক্ষের স্বচ্ছতা, এবং যেকোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো তথ্য জানতে চাইতে পারে, এবং কতৃপক্ষও ব্যক্তির দাবি পুরণে নির্ধারিত সময় গ্রহন করবে, তবে যদি উল্লেখিত তথ্য রাষ্ট্র এবং জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়, কিংবা অতিরিক্ত সংবেদনশীল সামরিক তথ্য- তবে কতৃপক্ষ সেই তথ্য প্রদানে বাধ্য নন।

বাংলাদেশের অসচ্ছ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে আছে এর প্রশাসন এবং এর সামরিক সংস্থা, প্রশাসনের যেকোনো তথ্য অবমুক্ত করবার কোনো আগ্রহ না থাকলেই সেই তথ্যকে জনগুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে দেওয়া যেতে পারে, তথ্যের প্রকৃতি নির্ধারণ করবে কারা?

তথ্য তছরুপের ঘটনা কমবে না, তবে মানুষ কিছুটা আশাবাদী হতে পারে, হয়তো তার নিজস্ব স্থানীয় জন প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকারের আয় ব্যয়ের হিসাব এবং সেখানে নিয়োগ এবং ছাটাইয়ের তথ্যগুলো এবং এর নেপথ্য কারণ তারা জানতেই পারে, এই স্থানীয় সরকার পর্যায়ে আদতে তেমন জনগুরুত্বপূর্ণ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ তথ্যগুলো থাকে না।

আমাদের তথ্যের অবাধ প্রবাহ প্রয়োজন, তবে তথ্যও মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিকর। আজ সকালের সংবাদ পত্রে প্রথম আলো কার্যালয়ে বিদ্যুত বিষয়ক সেমিনারের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ম তামিম সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক টিভি স্টার এবং বর্তমানের দর্জিখানার মালিক আনিসুল হকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ছিলেন আরও বিশেষজ্ঞ মানুষেরা। তারা বিভিন্ন মতামত প্রদান করেছেন, মতামত প্রদান করতেই পারেন,

আনিসুল হক বলেছেন " অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে বিদ্যুৎ থাকতে হবে। কীভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, এ ব্যপারে আমাদের একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। সমস্যা আছে , তা স্বত্ত্বেও আগাতে হবে।রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিজীবিদের জন্য অনেক কিছু করা যাচ্ছে না। আসুন উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশের কথা এখন একটু কম ভাবি।"

অধ্যাপক রেজোয়ান খান, যিনি প্রাক্তন বুয়েটের শিক্ষক এবং বর্তমানে ইউআইইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তিনি বলেছেন বর্তমান মূল্য কাঠামোয় বেসরকারী খাত থেকে মানসম্পন্ন বিদ্যুত পাওয়া যাবে না। সৌর বায়ু প্রভৃতি বিকল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দামও অতি উচ্চ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

পেন্ডেকার এনার্জির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন বড় মাপের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিকল্প নেই, তবে এই ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের সামর্থ্য নেই দেশীয় উদ্যোক্তাদের, দেশীয় ব্যংকগুলোও এত অর্থ জোগাতে সমর্থ নয়, বিদ্যুত উৎপাদনে কয়লাই বিকল্প জ্বালানী, তাই অতিদ্রুত কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এসবের সাথে বিশেষ জ্বালানী উপদেষ্টা তামিমের বক্তব্যটাও পড়তে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানী সংস্থান সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি, যদি আজই ১০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়া গেলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে আর এক ঘনমিটার গ্যাসও দেওয়া উচিত নয়।

এখানে বক্তব্যগুলো বিশ্লেষনের পরে একটা সাধারণ চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়, ভবিষ্যতে কয়লাই হবে বিদ্যূৎ উৎপাদনের অন্যতম জ্বালানি, একটা কয়লানীতি অতিদ্রুত তৈরি করতে হবে, যদি নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়াও যায়, সেখান থেকে গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া অনুচিত হবে, অর্থ্যাৎ আমাদের নতুন যেসব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হবে সেগুলো হবে কয়লাজ্বালানীভিত্তিক।

আনিসুল হক বলেছেন কতিপয় বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিকের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে, আমাদের পরিবেশের কথা না ভেবে উন্নয়নের কথা ভাবা উচিত।

বক্তব্যগুলোর নেপথ্যে আলাদা একটা গল্প আছে, একটা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়,

ফুলবাড়ীর রক্তের সাথে বঞ্চন