somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আসেন নিজের অহং কোরবানি দেই মান-সম্মান, প্রতাপ এবং নিজের অহংকার তৃপ্ত করতে কতজন কত টাকা দামের গরু কিনলো? গতকাল এক বন্ধুরবাসায় গিয়েছিলাম,ফ্ল্যাট বাড়ীর গ্যারেজ গাড়ী সরিয়ে হয়েছে গোয়াল, সেখানে ৮টা গরু রাখা, বেশ চমৎকার স্বাস্থ্যবান গরু, সেখানে প্রায় ৮ লাখ টাকার গরু রাখা আছে, অন্য এক বাসার গ্যারেজে ৮ লাখ, এমন তিনটি বাসায় ২৫ লক্ষ টাকার গরু দেখে ফিরে আসলাম ১৫ মিনিটে।
বাজারে গরুর দাম চড়া, সবাইকেই গরু কোরবানি দিতে হবে। ফ্ল্যাটবাড়ীবহুল ধানমন্ডীর গ্যারেজ আর রাস্তায় এবার যদি গড়ে বাসাপ্রতি ১০ লক্ষ টাকার গরু হিসেব করি, শুধুমাত্র ধানমন্ডীতেই ২০০ কোটি টাকার গরু কুরবানি হচ্ছে আজ।

ঢাকা শহরের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা ফ্ল্যাটবাড়ীগুলোকে হিসেবে আনলে হয়তো দেখা যাবে ঢাকা শহরে আজ প্রায় ২০০০ কোটি টাকারও বেশী গরুই কুরবানি হয়েছে, সারা দেশ হিসেবে আনলে দেখা যাবে শুধুমাত্র পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতালিপ্ত মানুষেরা আজ ৫০০০ থেকে ৭০০০ কোটি টাকার গরু জবেহ করে ফেলবে।

কুরবানী ফরজ, সুন্নত না কি ওয়াজিব এ সংক্রান্ত আলোচনায় যাবো না, কেন না কা'বা চত্ত্বরে পশুবলীর উৎসব ইসলামের আবির্ভাবের আগেই ছিলো, বিভিন্ন প্রত্যাশায় কা'বার মুর্তিগুলোর সামনে মক্কার জনগণ পশু বলী দিতো, ধর্মবিবেচনায় মুহাম্মদ কিংবা কোরইশ গোত্রকে ইহুদি বলা হয় নি, ইহুদিদের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও কোরাইশ গোত্রকে যেহেতু ইহুদি কিংবা খ্রীষ্টান বলা হয় নি, ইবনে হিশামের বংশতালিকা অগ্রাহ্য করে বলা যায় কা'বার দরজার চাবি কোরাইশ গোত্রের হাতে আসবার আগে থেকেই কোরাইশ গোত্র আদতে খ্রীষ্টান কিংবা ইহুদি ছিলো না।

মক্কার স্থানীয় সংস্কৃতিতে কোরবানী, মানত পুরণের জন্য পশু বলী দেওয়ার রেওয়াজ চালু ছিলো, হজ্জ্বও ইসলামপূর্ব একটি রেওয়াজ, কিন্তু শৈশবের সংস্কৃতিকে অস্বীকার না করে মুহাম্মদ হজ্জ্ব কিংবা কোরবানিকে ইসলাম ধর্মের অঙ্গে পরিণত করেছেন, সেসব ইসলামের প্রাথমিক যুগে যে ইসলামের অঙ্গ ছিলো না এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য ঐতিহাসিকদের তরফ থেকেও পাওয়া যাবে।

হজ্জ্বের দুইমাস যুদ্ধবিহীন মক্কানগরে আবরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেই ব্যবসার জন্য মানুষজন আসতো, তারা হজ্জ্বের উদ্দেশ্য আসতো না কি শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে আসতো বিষয়টা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বাইয়্যাতের ঘটনাসূচি পাঠ করলে বুঝা যায় সে সময় মুহাম্মদ কুরবানি দেন নি। সম্ভবত মদীনায় হিজরত করে শাসনক্ষমতা গ্রহন করার পর যখন প্রথম বার মুহাম্মদ হজ্জ্বের মওশুমে প্রত্যাবর্তন করেন তখন সঙ্গীদের প্রয়োজন বিবেচনা করে হজ্জ্বের সমাপ্তিতে তিনি পশু কোরবানি দিয়েছেন, এবং পরবর্তীতে প্রতিবারই তিনি এ রীতি অনুসরণ করেছেন।
পরবর্তীতে যখন জুল হাজ্জ্ব মাসের হজ্জ্বের নির্দেশনা দেওয়া হলো, তখন ঈদুল আজহা উদযাপন শুরু হয়, এই পবিত্র উৎসবে নিজের ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি দেওয়ার প্রতিকী উদযাপনটি বর্তমানে পশুত্বপ্রকাশের অন্যতম উপকরণ হয়ে উঠেছে। উদযাপন, পরিবারের সকলকে নিয়ে একদিন উৎসব পালনের বাইরে এখন অপ্রয়োজনীয় খরচেরববিলাসিতা এবং প্রতিযোগিতায় পর্যবসিত হয়েছে কোরবানি।

অতিরিক্ত ভক্তি, অন্ধ আনুগত্য কিংবা প্রণত মানসিকতায় কোরবানীর পশুর বৈশিষ্ঠ্যও নির্ধারিত হয়েছে। সেরা বস্তুটিই তোমার মালিকের নামে উৎসর্গ করতে হবে, যেহেতু ইব্রাহিম তার প্রাণপ্রিয়পূত্রকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলো, সুতরাং প্রাণধিক প্রিয় বস্তুকেই কুরবানি দিতে হবে। এই রীতিটি বর্তমানে যেভাবে প্রযুক্ত হচ্ছে তাতে কুরবানীর স্পিরিট কি অক্ষুন্ন আছে? বাজার থেকে কয়েকলক্ষ টাকার সেরা গরু কিনে আনছে যে মানুষটি সে কি ঐ গরুটাকে তার প্রাণধিক প্রিয় মনে করে?

ঘটনাটি অন্য দিক থেকে ভাবলে মূলত কুরবানি দিচ্ছে গরীব মানুষেরা, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নয়, অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় তারা তাদের প্রিয় গবাদি পশুকে যে মুহূর্তে হাটে তুলছে সে মুহূর্তে তারা অন্তত কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে গরু কেনা ব্যক্তির চেয়ে বেশী কুরবানি দিচ্ছে, নিজের প্রিয় পশুকে কুরবানির উদ্দেশ্যে হাটে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিটা মুহূর্তেই সে নিজেই কুরবানি দিচ্ছে নিজেকে।

প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পশু জবেহ হবে আজকের দিনে, যদি দেশীয় উদ্যোগে দেশীয় সংস্থা পদ্মা সেতু তৈরি করে তাহলে এই পরিমাণ টাকায় দেশে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব, এমনটাই বিশেষজ্ঞদের অভিমত ।

যারা আজ এমন বিলাসিতা ও অহং এর প্রদর্শনীতে প্রতিযোগিতা করছেন তারা তাদের এই প্রদর্শনী মানসিকতা স্থগিত রেখে যদি সমুদয় অর্থই সরকারের পদ্মা সেতু ফান্ডে জমা দিতেন তাহলে এই শীতের মরশুমেই পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হতো, বিশ্বব্যংক, এবং অন্যান্য দেশের কাছ থেকে কোনো ঋণ না নিয়েই এ সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হতো।

আমার এক বন্ধু বলেছিলো দেশের অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষেরই উচিত ঈদ বর্জন করা, তার পরিবারও এ বছর ২ লক্ষ টাকার পশু কুরবানি দিবে, অন্য সবার অবস্থাও কম বেশী একই রকম, তারা ধরেই নিয়েই কোরবানি করাটা ফরজ, সুতরাং কোরবানী দিতেই হবে, তাদের উদ্দেশ্যেই বলি ,

কোনো উপায় না পাইলে বাল ফেলাইলেও কোরবানি হয়,

Narrated Abdullah ibn Amr ibn al-'As: The Prophet (peace_be_upon_him) said: I have been commanded to celebrate festival ('Id) on the day of sacrifice, which Allah, Most High, has appointed for this community. A man said: If I do not find except a she-goat or a she-camel borrowed for milk or other benefits, should I sacrifice it? He said: No, but you should clip your hair , and nails, trim your moustaches, and shave your pubes. This is all your sacrifice in the eyes of Allah, Most High.
সুনা'ন আবু দাউদ, ২৭৮৩ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29479312 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29479312 2011-11-07 14:20:06
নারীর শ্রম
কে দেবে আত্মস্যাৎকৃত শ্রমের মজুরি?

বিভিন্ন ভাষ্যে শ্রম শোষণ এবং শ্রম আত্মস্যাৎ এর অভিযোগ উত্থাপিত হয়, প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য মজুরি প্রদান, প্রচন্ড শ্রমঘন কাজের পরও উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পাওয়ার উপরে মালিকের লাভের অঙ্ক নির্ভর করে, খুব সরলীকৃত বক্তব্য এটা। যে সময়ে উপযুক্ত পারিশ্রমিক এবং শ্রমের মূল্য নির্ধারণের আলোচনা চলছে সে সময়ে শ্রমিকের জীবন ধারণ এবং সামান্য স্বচ্ছলতার প্রয়োজনীয়তাটুকু উপলব্ধ হয়েছিলো। কৃষি শ্রমিক এবং শিল্পশ্রমিকের সময়ে শুরু হওয়া আলোচনার মাঝে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের শ্রমিক না কি মালিক পক্ষের নিযুক্ত ভাড়াটে ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত সে সংক্রান্ত জটিলতাও ছিলো।

এই বিদ্যমান অস্পষ্টতা খোলাসা না করেই কার্ল মার্ক্স বিশ্বকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছিলেন, সেখানে শ্রমিক এবং মালিক'এর বাইরে পৃথক কোনো সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব নেই।[ Economic and Philosophical Manuscripts of 1844. Karl Marx] শ্রমিক শ্রম বেচতে বাজারে যায়, একেবারে সহায়সম্বলহীন শ্রমিক এবং সামান্য ভূসম্পত্তি থাকা শ্রমিকের ভেতরেও কার্যকত তফাত থাকে, জীবিকার প্রয়োজনে সহায়সম্বলহীন শ্রমিককে যেকোনো মূল্যেই জীবনের প্রয়োজনে শ্রম বেচতে হয় এবং অপরপক্ষের সে বাধ্যবাধকতা থাকে না।

জীবনের প্রয়োজনে শ্রম বেচবার বাধ্যবাধকতা কখনই শ্রমিককে উৎপাদনের চালকের আসনে বসায় না, এমন কি শ্রমিক যখন কারখানায় শ্রম দিচ্ছে সেখানেও সে নিজের প্রয়োজনটুকু মিটিয়ে যে পরিমাণ বাড়তি সম্পদ উতপাদন করছে সেটাই মালিকের মুনাফা। মুনাফালোভী মালিক শ্রমিককে শোষণ করছে প্রতিনিয়ত। মালিক যেহেতু একক প্রচেষ্টায় বৃহৎ উৎপাদনে যেতে পারবে না সুতরাং শ্রমিকের ক্ষমতা আছে নিজের অধিকার আদায়ে শ্রম প্রদান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার। মূলত অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এ কারণেই বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক হরতাল কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।

যে সময়ে কার্ল মার্ক্স অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সমাজ বিষয়ে নিজের বিশ্লেষণগুলো লিখছেন তখনও প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতা আজকের পর্যায়ে পৌঁছায় নি। সুতরাং শ্রমিকের শোষণ, মালিকের মুনাফা এবং মুনাফাকেন্দ্রীক কারখানাপরিচালনার নীতিগুলো তখনও কার্যকরি ছিলো, তবে বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে পরিস্থিতির ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটেছে, এ মুহূর্তে অব্যহত উৎপাদন বজায় রাখার স্বার্থে মালিককে শ্রমিকের উপস্থিতির উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে না, যন্ত্র এবং প্রযুক্তির দাপটে শ্রমিক অধিকারগুলো অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিন শিফটে শ্রমিক না রেখে ১০ জন ম্যাশিন অপারেটরকে উচ্চমূল্যে নিয়োগ দিয়ে ২৪ ঘন্টা উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব ,সদ্য বিকশিত যান্ত্রিক যুগে যেসব ধ্যান ধারণা প্রচলিত বাস্তবতার প্রেক্ষিতে গৃহীত হয়েছিলো সেসব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। উদ্বৃত শ্রম, আত্মস্যাৎকৃত শ্রমের সংজ্ঞা পরিবর্তিত হচ্ছে সময়ের প্রেক্ষিতে।

এ সময়েই নারীর উপেক্ষিত এবং অসংজ্ঞায়িত গেরোস্থালী শ্রমের পারিশ্রমিক বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই উপেক্ষিত, অসংজ্ঞায়িত গেরোস্থালী শ্রমের পারিশ্রমিক কোথা থেকে আসবে তা নিশ্চিত নয় তবে বিদ্যমান অর্থনীতিতে নারীর উপেক্ষিত ও অসংজ্ঞায়িত শ্রমঘন্টার মূল্য দেশের জিডিপির এক তৃতীয়াংশের বেশী, আরও অধিক পরিমাণে নারী শ্রমিকের উপস্থিতিতে নারীর উপেক্ষিত গেরোস্থালী শ্রম এবং মজুরিতে বিক্রিত শ্রমের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি বিদ্যমান মজুরি ও অন্যান্য বৈষম্য নিরসন করতে হবে এবং নারীদের পুরুষ সহকর্মীদের সমান বেতন প্রদান করতে হবে এই আন্দোলনে অবশেষে নারীরা বিজয়ী হয়েছে, এখন অনেক কর্মক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষ সহকর্মীর সমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু এরপরও ঘর গেরোস্থালী গুছিয়ে রাখবার দায়িত্বটাও তাদের পালন করতে হচ্ছে, বনা পারিশ্রমিকে পরিবারের জন্য শ্রম দেওয়া নারীর এই শ্রম উপেক্ষিত এবং সেটা খুবই গুরুত্বুপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নারী সন্তান ধারণ করে, আদিমকালে নারী উর্বরতা শক্তির বাহক হিসেবে পূজিত হতো শুধুমাত্র এ কারণেই, এখনও অন্যান্য সকল চাহিদা পূরন করা সম্ভব হলেও রাষ্ট্রের অব্যহত প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের জোগান দেয় নারীর গর্ভ। রাষ্ট্র গর্ভধারণের জন্য নারীকে কোনো পারিশ্রমিক দেয় না, সন্তান জন্মদানের পর তাকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব, তাকে লালন পালনের জন্য নারী কোনো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না, এইসব বিভিন্ন বিষয়ে নারীবাদী আলোচনা হচ্ছে।

মালিক এবং শ্রমিকে বিভাজিত মার্ক্সীয় ব্যবস্থা এর কোনো সমাধান দিয়ে যায় নি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুচকে নারীর অবদান পরিসংখ্যান এবং জরিপে সম্পূর্ণ উঠে আসে না বাস্তবতাটুকু মেনে নিয়েই প্রশ্নটা উত্থাপন করা যায়

নারীর দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য এই শ্রমের মূল্য যোগাবে কারা? মমতার সেবামূল্য অনির্ধারিত, প্রেম ভালোবাসা ও জৈবনিক চাহিদা ও তৃপ্তির মূল্যও অনির্ধারিত, সুতরাং এইসব বিমূর্ত ধারণার প্রেক্ষিতে প্রদত্ত শ্রমের মূল্য কত হওয়া বাঞ্ছনীয় সেটা কেউ নির্ধারণ করতে পারেন নি।

একজ নারী নেপথ্যে আছেন বলেই একজন শ্রমিক সকাল বেলা স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে কর্পোরেটের দাসত্ব করতে পারছেন, তার ছেলে মেয়ের লালন পালনের জন্য বাসায় নারী নিয়োজিত বলে আরও বেশী মনোযোগ দিয়ে তারা কারখানার সেবা করে যেতে পারছেন। এমন কথা বলে কোনো কারখানায় নিযুক্ত শ্রমিকের নিবেদিত শ্রমের পেছনে যে নারীর অবদান তার অনুপস্থিত শ্রমের মূল্য যোগাতে কতৃপক্ষকে বাধ্য করা যাবে না।

রাষ্ট্রের শ্রমিকের প্রয়োজন মেটাচ্ছে বলে রাষ্ট্র নিজের তহবিল থেকে নারীকে পারিশ্রমিক প্রদান করবেন এ ধারণাও প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। কিন্তু কাগজে কলমে, সেমিনারে এইসব শ্রমের অস্তিত্ব মেনে নেওয়া হয়েছে, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থা এর স্বীকৃতি দিয়েছে। শ্রমকে স্বীকৃতি দিলেই যে পারিশ্রমিক চিহ্নিত করা সম্ভব, সব সময় সেটা সঠিক নয়, নারীর শ্রমের মালিকানা নারীর কিন্তু তার ভোক্তা সমাজের সবাই, বিভিন্ন ভাবে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের প্রতিষ্ঠানগুলো এই শ্রমে লাভবান হলেও সেটার পারিশ্রমিক প্রদানের ভারটুকু কে বহন করবে তা অনির্ধারিত।

বস্তুত অনেক ধরণের জটিলতার ভেতরে পেট চুক্তি এবং মমত্ববোধের অলীক উপস্থিতিতে নারী যুগপত বেশ্যা এবং সেবিকা হয়ে গেরোস্থালী শ্রম দিয়ে যাবে অনির্ধারিত সময়। এখানে আত্মস্যাৎকৃত শ্রমগুলো, উদ্বৃত উৎপাদনগুলোকে কোনো পণ্যমূল্যে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না। বিভিন্ন সেমিনারে বক্তারা বড় গলায় বলবেন নারীর শ্রমের পরিমাণ কিন্তু সেই শ্রমের মজুরি নারী পাবে না। সেটা বিশাল একটা শূণ্যতার গর্ভে হারিয়ে যাবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29478609 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29478609 2011-11-05 23:28:12
জীবিত শামীম হুড এবং খুন হওয়া লোকমান হুড
একজন অপরাধী ও একজন ভালো মানুষ এমন একজন নায়ক গরীবের প্রয়োজনে সন্ত্রাস করে, বস্তিতে রবিন হুড সে সন্ত্রাসী তার লুণ্ঠিত সম্পদ বস্তির ছেলেবুড়োকে বিলিয়ে দিয়ে মহামানবে পরিণত এবং পুলিশ আসলে সবাই শ্রদ্ধা ও অনুগ্রহভাজন নিরবতার সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রাখে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে লুণ্ঠন এবং অপরাধকে মানবীয় প্রমাণের যে উদ্যোগ থাকে চিত্রনাট্যকারের সেটা পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে অধিকাংশের ভাষ্য হয়ে উঠে, ধনী মাত্রই দুর্নীতিবাজ, অপরাধী এবং অপরাধের উদ্যোক্তা নির্মাণের সময় অন্য কোনো ব্যতিক্রম থাকে না। অবধারিত ভাবেই একজন ধনী অপরাধীকে গরীব অপরাধী ঘায়েল করলে দর্শক সমাজ হাত তালি দিয়ে বলে বেশ হয়েছে, অপরাধীর উপযুক্ত বিচার হয়েছে।



শ্রেণীঘৃণা কিংবা অন্তর্গত হীনমন্যতা এবং প্রতিহিংসাপরায়নতা মিলে মিশে বাঙালী সমাজ মানসের দর্শণে অপরাধ সম্পর্কিত চেতনাগুলো একেবারে দুর্বল, যদিও অপরাধকে বিদ্যমান সামাজিক বাস্তবতায় সামাজিক স্থিরতা নির্মাণের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবেই চিহ্নিত করা অধিকতর যুক্তিসংগত এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটে এভাবেই অপরাধগুলো চিহ্নিত হয়েছে। সেসব নৈতিকতাবোধের ভিত্তিভুমি স্থানীয় সংস্কৃতি কিংবা ধর্মীয় অনুশাসন, সেসব অনুশাসনের প্রেক্ষিতে যেসব আচরণ অনাচরনীয় বিবেচিত হয়েছে, সে সামাজিক কাঠামোতে সেসব অপরাধই চিহ্নিত হতে হবে- এ যুক্তিটুকু মেনে নিতে অস্বীকার করছে অনেকেই।



অপরাধীকে রবিনহুড বানিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াটুকুর বর্তমাণ প্রকট উদাহরণ নরসিংদীর পৌর মেয়র, তিনি সন্ত্রাসী ছিলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্ত্রাসী বাহিনী লালন-পালন এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই, বরং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্ত্রাসীবাহিনী প্রতিপালন না করাটাই যেখানে ব্যতিক্রম বিবেচিত হয় সেখানে লোকমানের ব্যক্তিগত খুনের মামলাগুলো বিরোধী দলের সাজানো নাটক হিসেবে প্রতিহিংসামূলক বলে ফেলাটা সহজ। লোকমান মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথেই এইসব মামলার অভিযোগগুলো থেকে তার সম্মানসূচক অব্যাহতি মিলেছে, মৃত ব্যক্তি অপরাধী হলেও তার মৃত্যুকালীন স্মরণসভায় সেসব অপরাধের বৃত্তান্ত তুলে না ধরার অসভ্য লুকোচুরি মানসিকতা আমাদের মজ্জাগত।

তিনি নরসিংদীর উন্নয়নে ব্রতী ছিলেন, ব্যপক মাত্রায় দৃশ্যমাণ উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, রাস্তায় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে গোলচত্ত্বর বানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন মোড়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, ড্রেন আর কালভার্ট সংস্কার করেছেন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছেন। আমাদের সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশার সীমাটা এতটাই নীচে যে পৌর মেয়র হিসেবে তার দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা সংস্কার তিনি অব্যহত রেখেছেন বলেই তিনি মেয়র হিসেবে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। সাধারণ মানুষ তাকে রবিনহুড হিসেবেই দেখেছে, তার অপরাধসংশ্লিষ্ঠতা তার জনপ্রিয়তার বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি।

তারপর পরই মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় গডফাদার শামীম ওসমান, তিনি তার স্বভাবজাত ভাষায় সন্ত্রাসের হুমকি দিয়েছেন, এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় তার সন্ত্রাসী মানসিকতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সহৃদয় অবগতির কথাও অকপটে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী অবগত ছিলেন যে শামীম ওসমান চাইলেই যেকোনো সময় ভোট বুথ দখল করে নিতে পারতেন কিন্তু তিনি ভোট বুথ দখল না করার উদারতা দেখানোর প্রধানমন্ত্রী তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি পাঞ্জাবী খুলে জিন্সের প্যান্ট পরে সবার ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসবেন এমন স্পষ্ট উচ্চারণের পরও তাকে প্রধানমন্ত্রী বিন্দুমাত্র তিরস্কার করেন নি, তিনি বরং শামীম ওসমানের আনুগত্য প্রকাশের ধরণ দেখে মুগ্ধ, সুশীল সমাজ বিরোধিতা করলেও শামীম ওসমান চান জয় এসে রাজনীতির হাল ধরুক, শেখ মুজিব পরিবারের কেউ এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরলেই শুধুমাত্র তিনি আওয়ামী লীগের অনুগত থাকবেন মানসিকতা আপত্তিকর হলেও প্রধানমন্ত্রীর সনদপ্রাপ্ত প্রিয়পাত্র হিসেবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে শামীম ওসমানদের উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হবে।

অপরাধীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার মহোৎসব চলছে, রাজনৈতিক অপরাধীদের কোনো খুনের শাস্তি পেতে হচ্ছে না বরং তাদের সসম্মানে মুক্তি দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি করা হচ্ছে, ধুরন্ধর সন্ত্রাসী হাইকোর্টে গিয়ে আপীল করে মামলা বিচারাধীন, এখনও চুড়ান্ত রায় হয় নি সনদ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন, নির্বাচন কমিশন জেনে বুঝেও তাদেরই ছাড়পত্র দিতে বাধ্য, আইনের কোমল শেকল সকল অপরাধীদের নির্বিচার অপরাধের ছাড়পত্র দিয়েছে।

আমাদের আনুগত্য শুধুমাত্র রাজসিংহাসনের প্রতি, সেখানে যে ব্যক্তিই উপনিবেশ করুক না কেনো আমরা তার আজ্ঞাবহ অনুগত সেবক, কথাটি বলেছিলেন মুঘল সম্রাজ্যের স্থপতি বাবুর, তিনি ৫০০ বছর আগে যা উপলব্ধি করেছিলেন তা এখনও সমান ভাবে সত্য। আমরা ক্ষমতার অনুগত সেবক, সুতরাং শেষ দৃশ্যে কাউকে হত্যার পরপর আমাদের নৈতিকতার শিক্ষকেরা " খবরদার আইন নিজের হাত তুলে নিবেন না" বাক্যটা বলার আগে পর্যন্ত আমাদের অন্য কিছু করণীয় নেই।

আমাদের নির্লজ্জতা এই পর্যায়েই পৌঁছেছে, ন্যাংটো ঘুরাঘুরি করলেও বিব্রত হই না, বরং যখন অন্য কেউ এসে বলে "ব্যাটা তুই ন্যাংটা", আমরা লজ্জায় মরে যাই, ক্ষুব্ধ হই। বিদেশী দুতাবাস থেকে এইসব নৈতিকতার সনদ প্রধানমন্ত্রীর সদর দফতর পর্যন্ত পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী হয়তো তার নিজের ইমেজ রক্ষার্থে কিছু বলবেন, তার আগে তার প্রতিক্রিয়া আশা করা বৃথা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29478230 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29478230 2011-11-05 08:17:32
জাগো'র প্রচারণাকে অভিনন্দন
নারি এবং পুরুষের ভেতরে বন্ধুত্ব না হোক পারস্পরিক সম্মান ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে এক ধরণের স্বাভাবিক সম্পর্কও যে সম্ভবপর এটা তাদের নিরেট মস্তিস্কে কখনও ঢুকে না। অধিকাংশ ধনীর সন্তান ইংলিশে মিডিয়ামে পড়ে, অধিকাংশ ধনীর সন্তান প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, তাদের বেলেল্লাপনা এবং ইতংবিতং শাররীক সম্পর্ক বিষয়ে কল্পনার রোমাঞ্চ এই মানুষেরা ত্যাগ করতে পারে না। এই রোমাঞ্চ নিয়েই তারা তাদের যৌনহতাশা এবং তাদের শ্রেনীঘৃণা প্রকাশ করে।

আজ জাগো ফাউন্ডেশনের ফান্ড রেইজিং ক্যাম্পেইনে অনেক কিশোর কিশোরী অংশগ্রহন করেছে, তাদের অধিকাংশই দারিদ্র দেখে নি, কৈশোর কিংবা তারুণ্যের আবেগে তারা ভেবেছে এভাবেই পৃথিবীটাকে বদলে দেওয়া সম্ভব, তারা বছরে একটা দিন পথশিশুদের বদলে নিজেরাই ফুলহাতে রাস্তায় নেমেছে, এবং তাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে তারা অন্তত সফল , যে মানুষগুলো আগে কখনও ফুল হাতে কিংবা সওদা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পথশিশুর দিক মুখ তুলেও তাকাতো না, তারা আজ আগ্রহ নিয়ে ফুল কিনেছে, তাদের স্বভাবের এই বৈপিরিত্য তারা হয়তো তাৎক্ষণিক উপলব্ধি করতে পারে নি কিন্তু আমাদের শ্রেণীবিভাজিত সমাজে আমরা দরিদ্রদের মানুষের মর্যাদা দেই না এই সত্যটুকু আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক আচরণেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সে বাস্তবতাটুকু চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে পেরেছে তারা।

আজ তারা সারা দিনে ফুল আর অন্যান্য সওদা বিক্রী করে যা পেয়েছে তা তারা গতবারের মতো পথশিশুদেরই ফেরত দিবে, সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা প্রচারণাটাও হয়তো সফল হবে। গতবারও তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলো, তবে তা তেমনভাবে প্রচারমাধ্যমে আসে নি।

গত দুই দিন ধরে পত্রিকায় নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমানের মৃত্যুর ধারাবাহিক বিলাপ চলছে, তারা মৃত্যুর বিভিন্নমুখী আবেগী উপস্থাপন, পরিচিতজনের বিলাপ এবং সাধারণের বিক্ষোভের সাথে রাজনৈতিক অন্তর্কোন্দলের সংবাদগুলো উপস্থাপিত হচ্ছে প্রতিটি পত্রিকায়। লোকমান নরসিংদির দৃশ্যমাণ উন্নয়নের জন্য যথাসাধ্য করেছেন, তার উদ্যোগ এবং আন্তরিকতার ফলাফল হিসেবে তিনি দুই বার শ্রেষ্ঠ পৌর মেয়রের স্বর্ণপদক জিতেছেন। স্বর্ণপদক তার উন্নয়ন প্রয়াসের মৃদু স্বীকৃতি।

তবে একই সাথে চমৎকারভাবে আড়াল করে দেওয়া হয়েছে একদা ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবেই রাজনীতিতে উত্থান ঘটেছিলো তার, অস্ত্রের সক্রিয় ব্যবহার পরবর্তীতে না করলেও তার পেছনে একটা সন্ত্রাসের দাগ রয়েই গেছে। প্রথম আলো গডফাদার শামীম ওসমানের বিরুদ্ধাচারণের সাথে সাথে লোকমানের মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসায় মূলত জনগণের ভাবনাটুকুই কিংবা জনগণের ধারণার অন্তসার:শূণ্যতাটুকুই প্রকাশ করেছে।

আমাদের ভাবনার অগভীরতায় আমরা যেভাবে দৃশ্যমান উন্নয়নের ঝলক দেখে অতীত ভুলে যাই, আমরা যেভাবে একজন সন্ত্রাসীকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে আশাবাদী হয়ে উঠি তিনি জনদরদী হয়ে উঠবেন, তিনি শিক্ষিত রুচিসম্মত আচরণ করবেন, এই ধরণের চলমাণ বিভ্রান্তি নিয়েই আমাদের বসবাস।

সেই মানসিকতার মানুষজনেরাই ব্লগে ঘুরাঘুরি করে, তারাই যৌনকাতর হয়ে এইসব ধনীর দুলালদের সাময়িক দারিদ্রের অভিনয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে, আমি বরং উল্টো এতে আশার ঝলক দেখি।

নিজেকে বদলে পরিবর্তন শুরু করতে হয়, এরা অভাব দারিদ্র দেখে নি, যেসব প্রতিষ্ঠানে এরা পড়ছে তা ব্যয়বহুল এবং নিজেদের পয়সায় এরা টি শার্ট ছাপিয়ে জার্সি বানিয়ে প্রচারনায় নেমেছে, এরা পথশিশুর অভিনয় করছে, এবং বেশ চমৎকার শোভন আচরণ করেছে। তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অন্য সকল কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণীদের মতো প্রেম ভালোবাসা আছে, তারা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমিক প্রেমিকার সাথে ঘনিষ্ট হয়, চুমু খায়, প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে , কিন্তু সেটা তাদের ব্যক্তিগত জীবনযাপনের গল্প।

এদের ভেতরে ততটা ছ্যুৎমার্গ নেই, এরা বন্ধুর হাত ধরলে ভাবে না এই বুঝি বন্ধু তাকে নিয়ে বিছানায় যাবে, কিন্তু অন্য সবাই এইসব দেখে পরবর্তী নীল আলোর যৌনদৃশ্যটা কল্পনা করে শীর্ষসুখের শীৎকারসমেত ব্লগ লিখে ফেলে। যারা এখনও নিজেদের ভেতর থেকে এই যৌনকাতর যৌন অভিলিপ্সাটুকু কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ, যাদের কোনো মেয়ের হাত ধরলেই কল্পনা পিছলে এখনও মেয়ের বুকের দিকে ছুটে যায় তারা এর বাইরে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া অনুমাণ করতে ব্যর্থ হবে।

আমার জন্মের পর পৃথিবীতে আরও ২৭৫ কোটি মানুষ জন্মেছে, তারা আগামী ১০ বছরের ভেতরেই তরুণ হয়ে উঠবে, এইসব তরুণেরাই পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, এরাই সমাজটাকে বদলে দিতে চায়, তারাই সকল অতীতের কুসংস্কার এবং বিকৃত ভাবনাকে দুরে সরিয়ে দিতে চায়, এদের দিকেই আশাবাদী হয়ে তাকাতে হয়। তবে এইসব তরুণদের অনেকেরই অপশিক্ষা কিংবা কুশিক্ষায় ভাবনা যৌনাঙ্গের গোড়ায় আটকে আছে, তারা শিশ্নের বাইরে কিছু ভাবতে পারছে না, সেইসব তরুণেরা আরও অনেক কালই এমনই যৌনশিহরণে ভুগে ভুগে শীর্ণ হয়ে যাবে, অন্য সবাই সুস্থ স্বাভাবিক কল্পনা নিয়ে জীবনযাপন করবে, তারা পরিবর্তনের হাল ধরে একটা সুন্দর পৃথিবীর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের।

আজকের জাগোর কিশোর কিশোরীদের ফুল বিক্রী এবং পথশিশুর অভিনয়টা হয়তো রাতারাতি সবকিছুই বদলে দিবে না, কিন্তু এর মাধ্যমে তারা সমাজের অসাম্যের বিরুদ্ধাচারণ করছে, তারা অসাম্যটাকে স্বীকৃতি দিয়ে পরিবর্তনে উদ্যোগী হয়ে উঠছে এই পাওয়াটুকু কম নয়।

এরা ক্যান্সারাক্রান্ত শিশুদের জন্যও কাজ করছে, এরা বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ এইসব শিশুদের সাথে বিকেল সন্ধ্যা কাটিয়ে আসে, সেইসব হাইপ্রোফাইল সামাজিক উদ্যোগগুলো পত্রিকায় আসে না, এইসব না করে তারা কেনো ফুটপাতের বাচ্চাদের হাগু সাফসুতারা করছে না, কেনো তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পতিতাদের হয়ে একদিন খদ্দেরসেবা করছে না জাতীয় আবাল আব্দার যারা করছেন তাদের লোকদেখানো সমাজকল্যান উদ্যোগের নেপথ্যেও কোনো না কোনো বদভাবনা আছে।

যে মানুষ এখনও নিজের ভেতরের পশুটা দমন করতে পারে নি, যে মানুষ নিজের রিপুর ভারে আগাতে পারছে না, সে মানুষ মানবকল্যানে আন্তরিক ভাবে কাজ করতে পারবে না, দেখা যাবে দরিদ্র কোনো নারীর সুঠাম শরীর দেখে সমাজকল্যানের নামে সেও একটা সময় নিজের যৌন অভিলাষ চরিতার্থ করবে যেমনটা ঘটে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্বিপাকে, ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে যারা অনেক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, পাওয়া গিয়েছে ৮৮ র বন্যায়। এইসব মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজ কল্যান করার বদলে আমি বরং জাগোর সাথে থাকটে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবো। অন্তত তারা এইসব সামাজিক গলদভাবনার যুপকাষ্ঠে এখনও বলি হয়ে যায় নি।

ধন্যবাদ এইসব কিশোর কিশোরীদের। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29477784 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29477784 2011-11-04 01:32:29
গণ আন্দোলন
শীতল যুদ্ধের শুরুতে যখন কম্যুনিস্ট শুদ্ধি অভিযান শুরু হলো কর্পোরেট আমেরিকায় তখনও সেখানে এমন নগ্ন লোভের প্রদর্শনী শুরু হয় নি, যুদ্ধোত্তর বিশ্বে আণবিক শক্তির দাপটে পূঁজিবাদের স্বপ্নগুলো উজ্জ্বল হচ্ছিলো, এর অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বগুলো, পূঁজিবাদের ব্যর্থতাগুলো তখনও প্রকট হয়ে উঠে নি, যদি প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত হয়ে যায় তবে সবাই সেবার মাণ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা করবে, সবাই সবার সামর্থ্যের সেরাটা ঢেলে দিবে, এভাবেই সবাই লাভবান হবে, সেবাখাত আরও উন্নত হবে পূঁজিবাদের এসব বিশ্বাসগুলো তৃতীয় বিশ্বের অর্থনৈতিক পটভূমিতে ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন জনমুখী আইনে যদিও পশ্চিমাবিশ্বে পূঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ততটা প্রকটভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় নি, কিন্তু রাষ্ট্রের দুর্বল তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি মূলত পূঁজিবাদের সকল গলদকেই আরও প্রকট করে তুলেছে।

রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনমুখীতা ছেড়ে কর্পোরেট সম্মিলনী প্রক্রিয়াগুলোতে ভোক্তা অধিকার কতটুকু সংকুচিত হতে পারে তার একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে তৃতীয় বিশ্বে বাজার ব্যবস্থাপনা। সেখানে মধ্যসত্ত্বভোগীরাই উন্মুক্ত পূঁজিবাজারের সবটুকু সুফল ভোগ করে এবং এভাবেই তারা সরবরাহ এবং বিপণন প্রক্রিয়ায় আরও বেশী নিয়ন্ত্রন অর্জন করে, বিভিন্ন ধাপে ও পর্যায়ে দালালদের খপ্পরে পরে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চাহিদা পুরণে সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলো থেকে যে পরিমাণ অর্থ ঋণ করেছে তাতে প্রতিটি ব্যাংকের সঞ্চয় তলানিতে পৌঁছেছে, এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংক কিংবা আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার কাছে অর্থ ঋণের দেনদরবার করছে বাংলাদেশ। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো মুক্তবাজার অর্থনীতির গলদগুলো নিয়ন্ত্রনে রাখতে গিয়ে নিজের সংরক্ষণশীল হয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন সেবাখাতেই রাষ্ট্রের অংশগ্রহন বাড়িয়ে নিচ্ছে, এভাবেই ক্রমশ তারা জনকল্যানমুখী অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য এইসব বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর পরামর্শ একটাই বাজার উন্মুক্ত করে দাও, উন্মুক্ত বাজারে অন্য সকল উৎপাদকের চাপে যদি দেশীয় শিল্প ধ্বংস পায় ক্ষতি নেই, এভাবেই বাংলাদেশের অর্থনীতি কিংবা ব্যবসাগুলো আমদানীমুখী হয়েছে এবং আরও বেশী আমদানীনির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে আমদানীকারকদের জন্য বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা রেখেছিলো বাংলাদেশ,সেসব সুবিধা গ্রহন করে অনেক প্রতিষ্ঠানই ক্রমশঃ ফুলে ফেঁপে উঠেছে, আমদানী নির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাদের কেউ কেউ এখন উদ্যোক্তা এবং উৎপাদক হয়েছেন তবে দেশে তেমন শিল্প অবকাঠামো গড়ে উঠছে না। ব্যপক মাত্রায় শিল্পায়নে দেশের অর্থনীতিতে যেমন প্রাণচাঞ্চল্য আসতো, আমদানী নির্ভর বাজারে দেশের অর্থনীতিতে তেমন প্রাণ নেই।

বাংলাদেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠে নি, এখনও বাংলাদেশ সরকারী পর্যায়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানী করে, গম, তেল, চিনি, ডাল, সবই আসলে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানী করি আমরা। সামনে সে আমদানীর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে, একই সাথে খাদ্যপণ্য রপ্তানীতে রক্ষণশীল অবস্থান নেওয়ায় বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দেশজ উৎপাদন লবন আর ঘাস, দেশীর উপাদানে দেশজ কারখানায় উৎপাদিত আয়োডিনযুক্ত লবন দিয়ে ঘাস খেয়েও কারো কারো মেধা দিব্যি খুলেছে, কিন্তু অধিকাংশ ব্যক্তিই ঘাস খেয়ে হজম করতে পারে নি।

আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের সর্বমোট পরিমাণ হঠাৎ করে পরিমাপ করা সম্ভব না, তবে সরকারী হিসেবে মেনে নিলে বলতে হবে আমাদের বৈদেশিক আমদানীর ৫০ শতাংশই জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানী আমদানীতে ব্যয় হয়। আমরা গত অর্থ বছরে প্রায় ৪০০০০ কোটি টাকার পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন অকটেন আমদানী করেছি, বিশ্বের বাজারে জ্বালানী তেলের দাম বাড়ছে, সরকার এ বছর ৫০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানী আমদানী করতে বাধ্য হবে। ১৯৭৪ সালে যখন হঠাৎ করেই তেল ঊৎপাদনকারী দেশগুলো তেলের মূল্য দ্বিগূণ বাড়িয়ে দিলো তখন বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চেয়ে বেশী টাকা বাংলাদেশকে ঋণ করতে হয়েছিলো জ্বালানী তেলের চাহিদা পুরণে, এবারও পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়েছে। অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা, এখনও অর্থ বছরের তিন চতুর্থাংশ বাকী, এর ভেতরে এই অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় সরকারকে বাধ্য হয়েই ঋণ দাতা দেশগুলোর পরামর্শ মেনে নিয়েই জ্বালানী তেলে ভর্তুকি কমাতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মূল্য বৃদ্ধিত নেপথ্য আঘাতটুকু আমাদের জনগণের দুর্বল কাঁধে না ফেললে সরকার নিজেকে দেউনিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হবে, সরকারী ঋণের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে, বিভিন্ন লোভ এবং ইনসেন্টিভ দিয়েও কালো টাকা ফাঁপা অর্থনীতিতে প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না, আর সরকার পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে প্রতিদিন।

বাংলাদেশে জ্বালানী তেলের দাম বাড়ালে সকল সেবা খাতেই এর বিরুপ প্রভাব পরে, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে না, উপার্জন বাড়ছে না, রাষ্ট্র যদি এ অবস্থায় বাজারে বেশী টাকা ছাড়ে সেটা ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে মুল্যস্ফ্রীতি বাড়াবে, এ অবস্থায় মুদ্রা সংকোচন নীতি গ্রহন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এত কিছু করেও আসলে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় যদিও সকল সেবাখাতে সরকারের দায়িত্বশীল অংশগ্রহনের দাবী জানানো নেহায়েত বালখিল্যতা মনে হতে পারে কিন্তু রাষ্ট্রের ব্যপক অংশগ্রহন ব্যতীত জনগণের চলমান দুর্ভোগ হ্রাসের বিকল্প কোনো পদ্ধতি নেই।

ঋণ দাতা দেশগুলোর পরামর্শ মেনে নিয়ে বল্গাবিহীন মুক্তকচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশ সরকার বাজার নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ, বর্তমানের বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রতিটি ঘোষণা এবং বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় যেভাবে বাজারে পণ্যমূল্য বাড়ে তাতে নিশ্চিত বলা যায় বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রনে নেই। সেটা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতিজনিত গলদ বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্রমাগত উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে

এবং রাষ্ট্র তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকাও যথাযথ পালন করতে ব্যর্থ, এই ব্যর্থতার ভুক্তভোগী হচ্ছে জনগণ। মুল্যস্ফ্রীতি নিয়ন্ত্রণের একটা কার্যকর পদ্ধতি হতে পারতো বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়া, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সরকারের ন্যুনতম অংশগ্রহন বাজারে পণ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রনে সরকারের ব্যর্থতাটুকুই প্রকাশ করেছে।
বাজার নিয়ন্ত্রন করতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে, সরকারের নীতি কিংবা সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বাজারে পণ্যের আনাগোনা এবং তাদের বিক্রয়মূল্য নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না।

এ অবস্থায় সরকারবিরোধী আন্দোলন না করে সরকারের অধিকতর দায়িত্বশীল অংশগ্রহন নিশ্চিত করার নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত।

যদি বৃহৎ জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের রাজনীতিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হয় তবে সরকার হঠিয়ে দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর বদলে আরও দায়িত্বশীল হয়ে সরকারকে বাজার ব্যবস্থাপনায় অধিকতর নিয়োজিত করতে হবে। দেশের বিপণন ব্যবস্থায় ফড়িয়ে দালালের আধিপত্য কমিয়ে এনে সেখানে সরকার পরিচালিত ও সরকার নিয়ন্ত্রিত বিপণন ব্যবস্থা শুরু করতে হবে, দেশের আভ্যন্তরীণ মূল্যবৈষম্যে যেভাবে উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে ঘাটতি অঞ্চলে পণ্য পরিচালন ব্যবস্থায় ফড়িয়া দালালদের কারণে পণ্য মূল্যে বিশাল একটি ব্যবধান তৈরি হয় সরকারী নিয়ন্ত্রনে তেমনটা সম্ভব হবে না।

সরকার নিছক তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকা থেকে সরে এসে কার্যকরী অংশীদার হলে প্রতিটি সেবাখাতেই দক্ষ ব্যবস্থাপনায় আরও অধিকতর সাফল্যের সাথে সেবা প্রদান করা সম্ভব, মুক্তবাজার অর্থনীতির উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় সেবাখাতগুলোকে নির্বিচার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাগণ অতি দ্রুতই তাদের শীর্ণ অর্থনৈতিক যোগানে বাধ্য হয়েই বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন, মাত্র ১৫ বছর আগে যেখানে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য আমদানীতে নিয়োজিত ছিলেন প্রায় হাজার খানেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখন সেটার ৯৫ শতাংশই মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানী হয়। গত ১৫ বছরে দেশের বাজারের আকার বেড়েছে, কিন্তু সরকারের অংশগ্রহন কমেছে প্রতিদিনই।

শিক্ষা খাতের মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাজেটের অংকে বরাদ্দ বাড়লেও সর্বমোট বাজেটের শতকরা হিসেবে শিক্ষাখাতে ব্য্যবরাদ্দের পরিমাণ কমেছে। স্বাস্থ্যখাত, পরিবহন খাত, স্থানীয় উন্নয়ন খাত, সকল খাতেই সরকারের অংশগ্রহনের পরিমাণ কমেছে এবং একই সাথে রাজনৈতিক লুণ্ঠন প্রক্রিয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থের অধিকাংশই লুটপাট হয়ে প্রকৃত বরাদ্দের অতি সামান্য অংশই আদতে জনগণের কল্যানে ব্যয় হচ্ছে।

নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে উন্মুক্ত বাজারে সরকার নির্বাচনী ব্যয়এর যোগানদাতা কর্পোরেটদের স্বার্থ সংরক্ষণেই অধিকতর আগ্রহী, সুতরাং সরকারকে আরও বেশী দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে বাধ্য করতে হবে, রাজনৈতিক আদর্শ, আনতি, অভিলক্ষ্য,বিভেদ ভুলে মুক্তবাজার অর্থনীতির পাগলা ঘোড়ায় ল্যাজের বাঁধন থেকে ছাড়িয়ে আনবার আন্দোলন এ মূহুর্তের গণআন্দোলন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29461639 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29461639 2011-10-07 16:51:23
বাংলাদেশ যেখানে সেক্যুলার রাষ্ট্রে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করে ধর্মপুরুত
সুফীদের প্রচারিত ইসলামে ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণের কঠোরতা ছিলো না, যারা দীর্ঘ সময় পূর্ব বঙ্গ এবং উপমহাদেশ শাসন করেছে তাদের অধিকাংশ সম্রাটই শুধুমাত্র মুসলমানদের বিভিন্ন বিরোধ ও ঝুটঝামেলা মীমাংসার জন্য ইসলামি বিধান অনুসরণ করেছেন, বৌদ্ধ থেকে ধর্মান্তরিত মুসলীম কিংবা নিম্ন শ্রেণীর ধর্মান্তরিত মুসলীমদের ইসলামী অনুশাসন পালনে বাধ্য করেন নি তারা, তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে কোনো নতুন ধর্মাচার কিংবা জীবনাচার তারা প্রবিষ্ট করেন নি। আমাদের পূর্ববঙ্গের মুসলমানগণ কার্যত নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিচ্যুত হয় নি, ইসলামের আগমণে এদের পীর ফরিক পয়গম্বরের তালিকায় নতুন নতুন নাম সংযুক্ত হয়েছে, তাদের আদিম বিশ্বাস থেকে তারা বিন্দুমাত্র পশ্চাতসরণ করে নি।

দিল্লীতে যখন ঘোষিত হলো ইংরেজ শাসনের ফলে ভারত অনৈসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে সেখানে জুম্মার নামাজ হারাম, সে সময়ে সে মতবাদের অনুসারী ব্যক্তিরা পূর্ববঙ্গে এসে ঘোষণা করলেন এটা দারুল হার্ব, এখানে প্রথাগত ধর্মাচার পালন করা অনুচিত। শুক্রবারে জুম্মা পড়া উচিত কি অনুচিত এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাহাস হয়েছে, দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে, অমীমাংসিত এইসব বিতর্কে সাধারণ মানুষের ধর্মভাবনা আলোড়িত হয়েছে, মসজিদে শুক্রবারের জামাতে লোকসংখ্যা বেড়েছে।

একই সময়ে পাঞ্জাবে ইংরেজ এবং শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পূর্ববঙ্গীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা গিয়েছে শহীদ হতে। এই যুদ্ধে সহায়তার জন্য প্রতিটি পরিবারেই মুষ্ঠিভিক্ষার ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে, জেহাদে নিয়মিত সৈন্য সরবরাহ করলেও নেতৃত্ব পর্যায়ের মতদ্বৈততায় এখানেও জেহাদ শুরু হয় নি, সুতরাং বলা যায় দিল্লীর অনুশাসনের চেয়ে পূর্ব বঙ্গের মানুষজন ফারায়েজী আন্দোলনে আলোড়িত হয়েছে বেশী। হাজী শরীয়তুল্লাহর ফারায়েজী আন্দোলন স্থানীয় মোল্লাতন্ত্রকে সুসংগঠিত করেছে, ধর্মউদাসীন পুর্ব বংলার মুসলমানেরা মোল্লাদের নিজেদের নেতা বানিয়ে নিয়েছিলো, অধিকাংশ ব্যক্তিই যেহেতু ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতো না সুতরাং সেখানে স্বল্পশিক্ষিত মসজিদের ইমাম এবং অশুদ্ধভাবে কোরান পড়তে পারা মোল্লা পুরুতেরাই পীরের আসনে বসেছিলেন।

পরবর্তীতে ফারায়েজী আন্দোলনের সাথে আহলে হাদীস আন্দোলনও বেগবান হয়, বিভিন্ন স্থানীয় ইমাম এবং পীরের অনুসারীগণ বিভিন্ন তরিকা প্রচার করেছেন পূর্ব বাংলায়। গুরুমুখী বিদ্যানুসারী বাঙালী পীরানুসারী হয়ে জীবন যাপন করেছে। যদিও সৎকর্মসংক্রান্ত বোধ ও বিচার এদের ছিলো তদাপিও এদের সেসব সৎকর্ম ও সদাচারের উদ্দীপনা এসেছে পীরের নির্দেশনায়।

ধর্মউদাসীন পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা প্রতিবেশী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সুখে শান্তিতেই বসবাস করছিলো, হিন্দুদের পূজাপার্বনেও তারা অংশগ্রহন করছিলো, ধর্মীয় স্বাতন্ত্রতার বিকারে তাদের সাংস্কৃতিক জীবনকে তছনছ করে দিলো অল্প শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত ইমাম ও মোল্লাগণ। ধর্মীয় বিশুদ্ধতার বানী যত বেশী জোরদার হলো তত বেশী সাম্প্রদায়িক বিচ্ছিন্নতা বাড়লো, প্রতিবেশীদের সাথে তুলনীয় নিয়মিত জীবনযাপনের অভ্যাসগুলো কিংবা যা বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মনির্বিশেষে যা চর্চিত হয়ে আসছিলো দীর্ঘদিন, মুসলিম হয়ে উঠবার তীব্রচাপে সেসব জীবনযাপন ও সংস্কৃতিবিসর্জন দিলো বাংলার মুসলীম। গত ১৫০ বছরের ইসলামী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসরণের ধারাবাহিকতা এতই প্রচন্ড ইদানিং উদ্ভট উদ্ভট আরবী শব্দ নাম হিসেবে উঠে আসছে আমাদের পরিবারগুলোতে। নামের আগে মোহাম্মদ কিংবা পরে আহম্মদ লাগানোর রীতিও সেসময় থেকে শুরু, মুসলীম নাম হবে আরবি ফার্সি উর্দুতে এই সংস্কৃতি চর্চা করতে গিয়ে ইদানিং বাচ্চাদের নামকরণে কোরান হাদিস আর আরবিতে সুন্দর নামের বই ঘাঁটে বাঙালী মুসলিম।

পূর্ব বাংলার মুসলিমদের আদাব-লবজে মুসলীম হয়ে উঠবার তীব্র বিকার এবং "বাংলা ভাষা সংস্কৃতের দুহিতা " ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজদের ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং তাদের কর্মচারীদের হাতে বিকলাঙ্গ বাংলা ভাষা সংস্কৃতাকীর্ণ হয়ে উঠবার প্রতিবাদে মুসলমানী বাংলা চালু করে সেটাই মুসলমানদের লবজ বানানোর প্রচারণা এখনও সমাজকে বিভক্ত করে রেখেছে।

সাম্প্রদায়িকতার প্রভাবে সাংস্কৃতিক এবং ভাষিক বিচ্ছিন্নতার উন্মাদনা এবং সমাজের উপরতলার আশরাফ মুসলমানদের নিজেদের রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের কুকুর লড়াইয়ে বলি হয়েছে আমাদের সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য। আশরাফ এবং আতরাফের লড়াই অনেকাংশেই সামাজিক প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিলো, যদিও অর্থে বিত্তে আশরাফগণের প্রতিপত্তী সীমিত ছিলো কিন্তু তাদের বংশগৌরব এবং তাদের সম্ভ্রান্ত পূর্বপুরুষের রক্তের তেজ তখনও তীব্র ছিলো, এরা অপরাপর আতরাফ ঘরে নিজেদের মেয়ে বিয়ে দিতো না।

যেহেতু বংশ গৌরবে আতরাফ কখনই আশরাফ সমকক্ষ হতে পারবে না কিংবা তারা আশরাফ সমাজের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল বাঙালী আতরাফ আশরাফীদের অনুসরণ করা শুরু করে, তাদের মাতৃভাষা বাংলা ছিলো না, তারা উর্দু ফার্সীদের নিজেদের ভেতরে বাতচিত করতো, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা পাওয়ার পর এরাও উর্দু-ফার্সীর চর্চা শুরু করলো, বাংলা অন্ত্যজ জনের ভাষা হিসেবে পরিগণিত হলো।

আশরাফদের সাংস্কৃতিক অনুসরণে থেমে ছিলো না সামাজিক প্রতিষ্ঠার লড়াই বরং অতিশীঘ্রই সেটা হয়ে দাঁড়ালো পারিবারিক পদবী পরিবর্তনের লড়াই। ১৯০১ সালের আদম শুমারীতে দেখা গেলো ১৮৯১ এর আদমশুমারীতে যারা নিজেদের খন্দকার দাবি করছিলো তারা নিজেদের শেখ দাবি করছে, মুসলীম প্রধান একটি জেলায় মোট অধিবাসীদের ৮০% এর বেশী নিজেদের শেখ হিসেবে দাবি করলো, তাদের ধারণা ছিলো সরকার বাহাদুর সমাজে কার কতটা গুরুত্ব সেটা নির্ধারণের জন্যই এই আদম শুমারী প্রকল্প গ্রহন করেছে , সুতরাং ১৯০১ সালের রাজনৈতিক সামাজিক বাস্তবতা হলো এসময় সনাতম ধর্মাবলম্বী অনেকই নিজেদের বর্ণ পরিবর্তন করলো, অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল মুসলমানেরাও শেখ সৈয়দ পাঠান হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়া শুরু করলো।

একজন ডেপুটি কালেকটর বেশ রসিকতা করেই বলেছেন বাংলাদের প্রত্যন্ত একটি জেলায় যে পরিমাণ শেখের বসবাস খোদ আরবের সম্পূর্ণ এলাকায় এত বেশী শেখ নেই , এদের অধিকাংশই এখানে জন্ম নেওয়া সাধারণ মানুষ, যাদের কারোই পূর্বপুরুষ আরবমুল্লুক থেকে এদেশে আসে নি। এটা খুবই আশ্চর্য বিষয় হবে যদি তারা বিশেষত এই স্থানটিকেই হিজরতের জন্য মনোনীত করে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ শেখই এভাবে সামাজিক প্রতিষ্ঠালোভী শেখ। তাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা, তাদের আশরাফী চাল এবং আশরাফীদের রাজনৈতিক ইচ্ছা অনিচ্ছায় নিজেদের মানসিক সমর্পনের প্রভাবে বাংলাদেশে খুব অল্প সময়েই মুসলীম লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছিলো। এরাই নির্বোধের মতো ব্যালটে সিল মেরে পাকিস্তান কায়েম করেছিলো, পাকিস্তান জন্ম নিয়েছিলো উদ্ভট একটি দেশ হিসেবে।

পাকিস্তানের বিচ্ছিন্ন দুটো অংশের ভেতরে কোনো সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ছিলো না, ভাষা ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতিবিহিত বিচ্ছিন্ন একটি রাষ্ট্র শুধুমাত্র ধর্মীয় ঐক্যের ভিত্তিতেই বাস্তবায়িত হয়েছে এটা বিশেষজ্ঞদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। পাকিস্তানের ব্যর্থতা একটি বিষয়ই নিশ্চিত করেছে ধর্মীয় সম্প্রীতিতে একটা সম্প্রদায় গঠিত হতে পারে, কোনো জাতি নির্মিত হতে পারে না। ধর্ম জাতীয়তাবোধের উপকরণ হিসেবে তেমন পোক্ত কিছু নয়। ভাষা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য যতটা সহজে জাতিয়তাবোধের জন্ম দেয় ধর্ম তেমনভাবে জাতীয়তাবোধের জন্ম দিতে পারে না। ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের ২৪ বছর মূলত ধর্মীয় জাতীয়তাবোধ নির্মাণের প্রক্রিয়া বিষয়ে চলমার পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। ধর্মবিপন্ন জিগির তুললেই পাকিস্তান কায়েম করা মুসলীম লীগের পান্ডাদের স্বদেশী জাতীয়তাবোধ নিশ্চিহ্ন হয়ে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবোধের উন্মাদনা বৃদ্ধি পেতো।

সমাজের উপরের তলায় শিক্ষার প্রসার ঘটে বেশী, সমাজের উপর তলার আলোড়ন তেমন ভাবে সমাজের নীচের তলায় পৌঁছায় না, ঔপনিবেশিক শাসনামলে সমাজের উপরতলার মুসলমান, তাদের ইংরেজদের আনুকল্য পাওয়ার লোভ লালসা এবং নিজেদের উপমহাদেশের তাবত মুসলমানদের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপিত করার সময়ও তাদের সাথে নিম্নস্তরের মানুষের সামাজিক যোগাযোগ ছিলো না। সামাজিক স্তরায়নের প্রভাবেই উপরতলার মুসলমানেরা নিম্ন স্তরের মুসলমানেদের হীন ভাবতো, তাদের ভাবনার কোনো অনুরণন পৌঁছায় নি নীচের তলায়। নিম্ন স্তরের মুসলমানেরা উদ্দীপ্ত হয়েছে স্থানীয় অল্প শিক্ষিত মোল্লাদের প্রচারণায়।

পাকিস্তানের ২৪ বছরে শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত এবং ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত রাজনৈতিক এলিটগণ যখন পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে অগ্রহনযোগ্য ফতোয়া দিলেন তাদের এই উপলব্ধিটুকু সমাজের নিম্নস্তরে সঞ্চারিত হয় নি। ৭০ এর নির্বাচনে পূর্ব বাংলার জনগণ ধর্মনির্বিশেষেই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং স্বাধীকারের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মীগণ সমাজের মোল্লাতন্ত্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ধর্মীয় বৈষম্যমুক্ত সেক্যুলার রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চেয়েছেন, তাদের উপলব্ধি নিম্ন স্তরে সঞ্চারণের দায়িত্ব ছিলো রাজনৈতিক কর্মীদের, এদের অনীহা কিংবা অযোগ্যতায় ক্ষুদ্রতম কিংবা গ্রামপর্যায়ে নেতৃত্ব তখনও মোল্লাতন্ত্রের হাতেই ছিলো।

আমরা কাগজে কলমে সেক্যুলার রাষ্ট্র হয়ে উঠবার ঘোষণা দিয়েও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে মোল্লাতন্ত্র কিংবা সাম্প্রদায়িকতা উচ্ছেদ করতে পারি নি। রাষ্ট্র সেক্যুলার হয়ে গিয়েও মুসলমান হতে বাধ্য হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব, পীর-মোল্লা-মাশায়েখদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ এবং মানুষের ধর্মীয় অনুভুতির তরলতা মোল্লাতন্ত্রের হা্ত থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব কেড়ে নিতে পারে নি। সেক্যুলার সমাজ নির্মাণের প্রধানতম বাধা এই স্থানীয় নেতৃত্বকাঠামো।

হয়তো আমাদের মুসলমান হয়ে উঠবার লড়াইয়ের ভ্রান্তি ছিলো আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের বাতিক। আমরা মাদ্রাসা স্থাপন ও মসজিদ নির্মাণে পূণ্য খুঁজেছি, সমাজ সংস্কার এবং সেক্যুলার প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ততটা আগ্রহী হয়ে উঠতে পারি নি, আমাদের মাদ্রাসাশিক্ষিত মানুষেরাই গ্রামপর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে, মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়নের ব্যর্থতায় আমাদের এইসব স্থানীয় নেতারা এখনও উনবিংশ শতকে মুসলমানী বাংলার রচিত এবং সাম্প্রদায়িকতাআচ্ছন্ন ধর্মবিশ্লেষণ পড়ে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদান করেন, তাদের কাছে মানুষের সাম্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী হিন্দুদের সাথে নিজেদের সাংস্কৃতিক বিভেদ রেখাটা আরও স্পষ্ট করে তুলবার তাগিদ।


পূর্ব বাংলার মুসলিমদের আদাব-লবজে মুসলীম হয়ে উঠবার তীব্র বিকার , অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পিছিয়ে পরে সমাজের উপর তলার মুসলমানদের ইংরেজানুকল্য পাওয়ার তীব্র ব্যকুলতা, কিয়দংশে খ্রীষ্টান মিশনারীদের ধর্মান্তকরণ ও খ্রীষ্টের বানী সম্প্রচারের আগ্রহে হিন্দু-মুসলীম ধর্মবিরোধী প্রচারণা, শাসক ইংরেজের ভ্রান্তি এবং তাদের প্রশ্রয়ে সংস্কৃতাকীর্ণ আধুনিক বাংলা ভাষার প্রসার এবং এসবের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় মোল্লাতন্ত্রের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ আন্দোলন ভাষায় সাম্প্রদায়িক বিভাজন রেখা স্পষ্ট করেছিলো।

আশরাফ বংশীয় মুসলীম নেতাগন স্থানীয় মোল্লাতন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন, তারা অধিকাংশ সময়েই নিজেদের স্থানীয় মুসলমানন্দের মুখপত্র ঘোষণা করেছেন যদিও নিম্ন স্তরের মুসলমানদের সাথে এদের কোনো সামাজিক যোগাযোগ ছিলো না।

এই শুণ্যস্থানটুকু কেউই পুরণ করতে পারেন নি, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যুবকেরা শহুরে হয়ে উঠেছে, অগ্রজদের মতো ধর্মউদাসীন হয়েছে, তারা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি জানিয়েছে কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতাকাঠামো থেকে মোল্লাতন্ত্রকে উচ্ছেদ করতে পারে নি।

বাংলাদেশের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। যদি ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি মেনে জীবন যাপন করতে হয় তবে শুক্রবারের খুৎবা দিতে হবে শেখ হাসিনার নামে। ধর্মনিরপেক্ষতার জিগির তোলা আওয়ামীলীগের কার্যকর কোনো ধর্মীয় অঙ্গ সংগঠন নেই, ওলামা লীগ, ঈমাম লীগ তেমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়নে অনাগ্রহ, ওলামা লীগের নেতাদের ভেতরেও রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব, তাদের ব্যর্থতা এবং উচ্চস্তরের মানুষদের জনবিছিন্নতা সব মিলিয়ে আমাদের রাষ্ট্র আরও বেশী ইসলামপন্থী হয় উঠবে, আমাদের এই অন্ধকারযাত্রা শেষ হওয়ার নয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29438229 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29438229 2011-08-25 04:55:56
পাকিস্তানের সাথে পাল্লা
ভারত, চীনের জিডিপি প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ করে বাড়ছে, আমাদের জিডিপি বাড়ছে প্রায় ৬ শতাংশ হারে, গৃহযুদ্ধে বিক্ষত শ্রীলঙ্কাও কোনো কোনো বিচারে আমাদের তুলনায় এগিয়ে। প্রায় ১৬ বছর গৃহযুদ্ধ সামলেও তারা নিজেদের কোমর সোজা করে সটান দাঁড়িয়ে আইএমএফের নীতির বিরোধিতা করতে পেরেছে, আমাদের ৪০ বছরের স্বাধীনতার কোনো সময়েই আমরা তেমন আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে কিছু বলতে পারি নি, আমাদের বাজেটের বহর বেড়েছে, লক্ষকোটি টাকার বাজেটেও মাত্র ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া আইএমএফ আর এডিবির সামনে আমরা নতজানু হয়ে তাদের নীতিনির্ধারকদের কাছে মাথা বেচে দিয়ে আমাদের উন্নয়নকর্মসূচি সাজিয়েছি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আর্থিক অনিময়ের কারণে এবং স্বজনপ্রীতি ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতার অভিযোগে আমাদের প্রতিশ্রুত অর্থসহায়তা প্রদান করে নি, বিষয়টা আমাদের জন্য লজ্জাজনক হলেও আমরা সে লজ্জা মেনে নিয়েই তাদের নীতিনির্ধারকদের কিংবা পরামর্শকদের পরামর্শ নিয়েই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করতে চাইছি।

আমাদের বয়স্ক শিক্ষার হার ৪০ শতাংশ কিন্তু মানসম্মত শিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যা শতকরা ৩০ শতাংশের বেশী হবে না। সরকার থেকে দাবী করা হয়েছিলো আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শত শতাংশে পৌঁছেছে , তবে খনা হিসেব করে দেখা গেলো সে দাবী মিথ্যা, জাতিসংঘ বলেছিলো আমাদের দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশী, সদ্যসমাপ্ত আদমশুমারী অনুসারে আমাদের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৫ লক্ষ, তবে চুড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বরের শেষে, সরকার জাতিসংঘের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলো, পরে জাতিসংঘ নিজ উদ্যোগেই নিজেদের অনুমাণকে ভ্রান্ত স্বীকার করে বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের ফলাফল মেনে নিয়েছে, পরবর্তীতে দেখা গেলো সরকারী আদমশুমারীর হিসাব প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বয়ং সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য-সদস্যাগণ। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ ফলাফল গ্রহনযোগ্য মনে করছেন না, গ্রহনযোগ্য ভাবছেন না অর্থমন্ত্রী, এমন কি তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন কোনো কোনো মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন তাদের বাসায় আদমশুমারীর স্বেচ্ছাসেবকেরা আসেন নি। তিনি বিভিন্ন রকম অনুমাণ করে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সর্বমোট জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশী হতে পারে। মতিয়া চৌধুরী অবশ্য বলেছেন যদি জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৫ লক্ষ হয় তবে দেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই, অথচ তিনি নিশ্চিত করেছেন দেশের খাদ্যসঞ্চয়ের পরিমাণ আশানূরুপ নয়।

আমাদের ভাবমুর্তি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মিথ্যা প্রবঞ্চনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের উদোম হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিলো না কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণমুক্তির সংগ্রাম করে স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের বিভিন্ন অগ্রগতি পরিমাপের একক এখনও পাকিস্তান, ঔপনিবেশিকতাকে আমরা এখনও ঝেড়ে ফেলতে পারি নি। ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন-শোষণের ঐতিহ্য মেনে নিয়ে আমরা প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়ের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করতে পেরে আহ্লদে আটখানা হই, আমাদের জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয় পাকিস্তানকে ছুঁয়েছে কিংবা ছুঁয়ে ফেলতে পারে এই সম্ভবনা দেখে আমরা আহ্লাদিত, আমাদের স্বাধীনতার সুফল আমরা পাচ্ছি।

পাকিস্তানের মতো সামন্তবাদী রক্ষণশীল নির্বোধ দেশের সাথে বাংলাদেশের অগ্রগতির তুলনা করে আনন্দিত হওয়া নিছকই মুর্খতা। একদা পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছিলো পূর্ব পাকিস্তানের অর্থ সম্পদ আত্মস্যাৎ করে, সেঈ আভ্যন্তরীন বাজার হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশানুরুপ হয় নি। ভারতের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী সামরিক বৈরিতা, ভারতিবিরোধিতার রাজনীতি ও সামরিক নীতি, সামরিক ব্যয় এবং অন্যান্য ফাঁপা আস্ফালনের ধকল সামলাতে গিয়ে তারা দেশের দরিদ্র জনগণের জীবনযাপনের মান উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে, এমন কি তাদের জিডিপি গ্রোথও স্থবির হয়ে গিয়েছে, একই সাথে সে দেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থান ও পৃষ্টপোষকতা, আন্তঃগোত্রীয় কোন্দল, মোহাজের এবং স্থানীয় অধিবাসীদের পারস্পরিক বৈরিতা, আন্তঃধর্মীয় সংঘাত, সব মিলিয়ে দেশটির পরিস্থিতি মোটেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির কোনো সংবেদ প্রদান করে না, পাকিস্তানে গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে, অতিরিক্ত বিদেশমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় জনগণের কল্যান বয়ে আনতে পারে নি, এমন একটা দেশের সাথে নিজের দেশের তুলনা করা দেশের অপমান এ সত্যটা উপলব্ধি করতে চান নি আমাদের জ্ঞানীগুনী মানুষেরা।

স্বাধীনতার আগে আগে যেমন সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলো মানুষ সে স্বপ্নের রঙ ফিকে হয়ে এসছে সময়ের সাথে, আমরা পাকিস্তানকে অনুকরণ করেছি, তাদের ব্যর্থ সকল পরিকল্পনা আমরা নিজেদের দেশে বাস্তবায়ন করে দেখেছি ফলাফল একই, আমাদের দেশেও সেসব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।

স্বাধীনতার আগে আমাদের পশ্চাতপদতার একটা অজুহাত ছিলো, আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদের উপরে আমাদের অধিকার ছিলো না, আমরা আমাদের সম্পদ স্থানীয় অধিবাসীদের কল্যানে ব্যয় করতে পারছি না, আমাদের কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, আমরা নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেলেই দেশটা সোনার বাংলা হয়ে যাবে, আমাদের আয়বৈষম্য হ্রাস পাবে, আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে,

আমরা অসংখ্য প্রাণবিসর্জন দিয়ে স্বাধীন হয়েছি, পাকিস্তান হারিয়েছে তার কামধেনু, তারা গত ৪০ বছর ধরেই অর্থনৈতিক ভাবে, সামাজিক ভাবে পিছিয়েছে, পেছাতে পেছাতে তারা এখন আমাদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে, এটা একটা মাত্র বিষয়ই নিশ্চিত করে আমাদের সামাজিক অগ্রগতি আশানূরুপ হয় নি, আমাদের অগ্রগতি হয় নি এবং তারা ক্রমশ পিছিয়েছে বলে ৪০ বছর পরে হিসেব কষে আমাদের জ্ঞানীবিজ্ঞজনেরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারছেন পাকিস্তানকে অবশেষে আমরা পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। কিন্তু তারা আমাদের বলছেন না আমারা এগুতে পারি নি, তারা পিছিয়ে আমাদের সাথে এসেছিলো, এখন আরও পিছিয়েছে, এটা আমাদের স্থবিরতার নিদর্শন, আমাদের অগ্রগতির নিদর্শন নয়।

ক্রমশঃ পিছিয়ে পরা একটি দেশের সাথে নিজেদের তুলনা করে নিজেদের অপমান করে যারা যারা আনন্দিত তাদের আনন্দে ব্যাঘাত ঘটানোর ইচ্ছে আমার নেই। আমার লজ্জা একটাই আমরা এ সত্য স্বীকার করতে চাইছি না যে আমরা স্বাধীন হয়েও নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পদের ঊপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন পেয়েও আমাদের জনগণকে স্বাধীনতার সুফল দিতে ব্যর্থ।

আমাদের সামাজিক অস্থিরতা, আমাদের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আমাদের অন্যান্য ব্যর্থতার তালিকা দীর্ঘায়িত করা যায়, সেটা আমাদের ব্যর্থতা, আমরা নিজেদের সেভাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি, আমাদের সাথে থাকা অন্যান্য স্বল্প আয়ের দেশগুলোও এগিয়ে গিয়েছে, আমরা তাদের সাথে নিজেদের অগ্রগতির তুলনা করে লজ্জিত না হয়ে পাকিস্তানকে সবদিক দিয়ে হারিয়ে আনদে নৃত্য করছি বিষয়টা নেহায়েত পাগলামি, কিন্তু পাকিস্তানকে হারানোর কঠিন সংকল্পে আমরা আমাদের ঐতিহ্য হারিয়েছি, এই ক্ষতিটুকু কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। আমরা এভাবে এগুতে থাকলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বর্বরতার দিক দিয়েও পাকিস্তানকে হারিয়ে দিতে পারি, আমাদের এখনকার সংকল্প বোধ হয় তেমনই, সে কারণেই আমাদের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও আমরা উদাসীন। আমি আশাবাদী অচিরেই আমাদের এখানে গ্রামের সম্মান রক্ষায় গ্রামের কোনো নারীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণ করা হবে, সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধর্ষিতার বিচার চায় না অনেক পরিবার, আমরা সেই ট্রেন লাইন ধরে এগুনো শুরু করেছি, আশা করছি ব্যর্থতার সবকটা স্টেশন অতিক্রম করে আমরা নিজেরাও পিছিয়ে পড়ার দিক দিয়ে পাকিস্তানের সাথে পাল্লা দিবো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29421225 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29421225 2011-07-28 01:24:08
প্রধানমন্ত্রীর সুবিবেচক কন্যাকে অভিনন্দন
" অটিস্টিক শিশুরা সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।"
"ভাষা অথবা অভিব্যক্তির মাধ্যমে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অটিস্টিক শিশুদের দক্ষতার কমতি দেখা যায়।"
"অটিস্টিক শিশু অহেতুক বা উদ্দেশ্যহীনভাবে একই আচরণ বারবার করতে থাকে। "

বাংলাদেশে "‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিস ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড সাউথ এশিয়া’ সেমিনার উদ্বোধন করতে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি, তিনি ভারতের অটিজম একশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক , অন্যদিকে অটিজম-সংক্রান্ত বাংলাদেশ জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির প্রধান সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, তিনি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যাগ্রস্তদের প্রাতিষ্ঠানিক বিশেষায়িত শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের কাজে প্রশিক্ষিত।

উদ্যোগটি মহৎ, বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে বলেছেন অটিজম আক্রান্ত শিশুদের কষ্ট লাঘবে এবং তাদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও আইনি পরিকাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাংলাদেশ। বর্তমানের পরিসংখ্যানে বিশ্বের সকল শিশুর প্রায় ১ শতাংশ অটিজমআক্রান্ত, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়, অন্যান্য দেশে অটিজময়াক্রান্ত শিশুরা বিশেষায়িত স্কুলে পড়াশোনা করে দীর্ঘ প্রশিক্ষণে নিজেকে সমাজের সাথে মানিয়ে নিতে শিখে, কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন, এখানে অটিজম আক্রান্ত শিশুরা বড় হয় রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়। প্রধানমন্ত্রীকন্যা যদিও বাংলাদেশের অটিজমবিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রধান কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অটিস্টিক সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী।

সায়মা হোসেনের পরামর্শে তার অটিজম বিষয়ক অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে তিনি উপলব্ধি করতে পারবেন তিনি কতদিন থেকেই আসলে অটিজমআক্রান্ত ব্যক্তিদের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

অটিস্টিক শিশু অহেতুক কিংবা উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে একই আচরণ বারবার করতে থাকে এবং তার নিয়মিত রুটিনের বাইরে যেকোনো ঘটনা ঘটলে তারা বিরক্ত হয়, ক্ষেত্র বিশেষে সহিংস হতে পারে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরও মানসিক গঠম এমনটাই, তারা দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের পরেও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষমতা অর্জন করতে পারে নি, তারা উদ্দেশ্যবিহীনভাবে অকারণে চাঁদাবাজি ,টেন্ডারবাজী এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অব্যহত রেখেছে, তাদের এই অভ্যস্ত রুটিন বাধাগ্রস্ত হলে তারা সহিংস হয়ে উঠে এবং রুটিনে বত্যয় ঘটানো ব্যক্তির উপরে চড়াও হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন আচরণ প্রাণঘাতীও হয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের অব্যহত অনবরত সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে দলটির অভিভাবকত্ব গ্রহন করতে অসম্মত হয়েছিলেন, তখন অনশন করে, কাকুতি মিনতি করে তাকে সভানেত্রীর পদে বহাল রাখে ছাত্রলীগের অটিস্টিক নেতারা।

অটিস্টিক শিশুদের পিতা মাতা ও পরিচিত মানুষদের অটিস্টিক শিশুর সাথে কি ধরণের আচরণ করতে হবে তা শেখানো হয়, অন্যান্য দেশে শিশুর ঘনিষ্ঠ জনদের মানসিক বিশেষজ্ঞগণ এ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিলেও বাংলাদেশ যেহেতু বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলোর অন্যতম তাই এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ভার গ্রহন করেছে বাংলাদেশের পুলিশ, তারা সাধারণ মানুষদের ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অভ্যস্ত হতে বলছে এবং নিজেদের নিষ্ক্রিয়তায় সেটা প্রমাণও করছে। তারা আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গ্রহন করেন না। মানুষ এভাবে নিজেরাও অটিস্টিক হয়ে উঠছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিকই এখন অটিজম আক্রান্ত শিশুর মতো কারো চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন না, তারা চোখ লুকিয়ে বেরান। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল আমাদের সমস্যা ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন, তিনি বিদেশী বিশেষজ্ঞ আমাদের আধি- ব্যধি তিনিই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবেন। সে কারণেই তিনি তার মাতাকে অটিজম বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে চাপ প্রদান করছেন, অটিস্টিক নাগরিকদের প্রধানমন্ত্রীকে নিশ্চিত ভাবেই অটিস্টিক মানসিকতা বুঝতে হবে।
[ আমার আক্ষেপ একটাই আমাদের এসকল জনকল্যানমুখী বিষয়গুলোতে বাংলাদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের অপ্রতুলতা, আমাদের দেশে কি অটিজম বিশেষজ্ঞের অভাব ? প্রধানমন্ত্রীতনয়াকে কেনো কানাডা থেকে ছুটে এসে এ কমিটির দায়িত্বভার গ্রহন করতে হবে? আমাদের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রবাসী, আমাদের আইটি বিশেষজ্ঞ ও উপেদেষ্টা প্রবাসী, আমাদের অটিজম বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভানেত্রী প্রবাসী, আমাদের দেশে তাহলে আছে কি? ] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29420503 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29420503 2011-07-27 00:01:02
সাবধান বিপ্লব আসছে
রাষ্ট্রপতি নিকটঅতীতে তার করুণার ডালা খুলে নওগাঁর একদল আওয়ামী লীগ কর্মীর অপরাধ মার্জনা করেছিলেন, অন্য একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা রাষ্ট্রপতির মহানুভবতা উদযাপন করেছিলো, গতকালও তেমন ঘটেছে লক্ষীপুরে, বিপ্লবকে ফাঁসী দেওয়ায় দেশের বিচারব্যবস্থাই কলংকিত হয়েছিলো এমনটাই বলেছেন লক্ষীপুরের পৌরমেয়র আবু তাহের, ১৯৯৬-২০০১ সালের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত সন্ত্রাসের ঘটনায় যাদের নাম নিয়মিতই সংবাদ শিরোণাম হয়েছে তাদের একজন ছিলেন তিনি। তিনি এবং তার তিন পুত্রই পেশীশক্তিতে সন্ত্রস্ত রেখেছেন লক্ষীপুরের বাসিন্দাদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সংবিধান জঞ্জালমুক্ত হয়েছে, তার সরকার ৩৫ বছর পরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছে, এই জঞ্জালমুক্ত সংবিধানই রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে যেকোনো অপরাধ মার্জনার সুযোগ দিয়েছে, যদিও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন আইনী প্রক্রিয়া মেনে বিপ্লবের অপরাধ মার্জনা ঘটে নি কিন্তু বাস্তবতা হলো বিপ্লব বর্তমানে অপরাধী নন। বিপ্লবের নামে অন্য যেসব হত্যা মামলা ছিলো সেসব মামলার বাদীরা উদ্বিগ্ন হতে পারেন, ভাবতে পারেন তাদের প্রাণ রক্ষায় নুরল ইসলামের স্ত্রী পরিবারের মতো তাদেরও লক্ষীপুরের বসতি ছেড়ে আসতে হবে। একে একে লক্ষীপুরের সকল বাসিন্দা জেলাত্যাগ করলে আবু তাহের তার তিন সন্ত্রাসী পূত্র এবং তাদের সহচরদের নিয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়।

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন, বলেছেন তার আইনী দায়বদ্ধতার কথা, কিন্তু তিনি বাংলাদেশের সকল আইন কানুনের উর্ধ্বে, শুধু তাই না, তার নির্বাচনী এলাকার সকল ছাত্রলীগ কর্মীই আইনের উর্ধ্বে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপালগঞ্জের নেতা কর্মীদের দাপটে অন্য সবার জীবনযাপন দুরহ হয়ে যায়, ক্ষমতা হাতে আসলে বাংলাদেশের উত্থানরহিত সকল ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নিয়মিত সালসা সেবন করেন, দেশী বিদেশী পুরুষত্ববর্ধক ঔষধ সেবন করে সেসবের কার্যকারীতা পরীক্ষা করেন তাদের উদ্যত শিশ্ন শিশু, কিশোরী যুবতী বৃদ্ধার যৌণাঙ্গ ছেদন করলে কিংবা তারা যদি সদলবলে ধর্ষণ করে তাদের হত্যাও করেন এদের বিরুদ্ধে কোনো থানাই মামলা নিতে চায় না। এবারের ঘটনাগুলোও এর ব্যতিক্রম নয়, ভিকারুন্নেসার ধর্ষক শিক্ষক গোপালগঞ্জের, ঢাকা শহরের ২১টি থানার প্রধন অফিসার গোপাল্পগঞ্জের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃদলীয় কোন্দলে ক্ষমতার হানাহানিতে লিপ্ত বিবাদমান গ্রুপগুলোর একটি গোপালগঞ্জের, তাদের পেশীশক্তির দাপট সবখানেই।

সংবিধান সংশোধিত হয়েছে, আমিনি ও ইসলামমনস্ক দলগুলো এর প্রতিবাদ করেছে, হরতাল করেছে, পরম করুণাময় আল্লাহতা'লার প্রতি অবিচল ভক্তি, আস্থা এবং পরম করুণাময়ের নামে শুরু হওয়া সংবিধানে স্বাধীনতার চেতনার আঁচ লেগেছে, বিসমিল্লাহ হঠাৎ করেই পরিবর্তিত হয়েছে, এখন সংবিধানের ৪৯তম ধারার শুরুতে আছে বিসমেজিল্লুর, পরমকরুণাময় জিল্লুর রহমানএর নাম নিয়েই এখন ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা কর্মীরা তাদের অপরাধ শুরু করে, বিসমিজিল্লুরের প্রতিবাদে বাংলাদেশে হরতাল হবে না।

লক্ষীপুরের সকল বাসিন্দাদের প্রতি সহানুভুতি, তারা আসন্ন বিপ্লবের আগমনে ভীত-শঙ্কিত, শঙ্কিত আমরাও, উদ্যত অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের খুন করতে ছুটে আসছে বিপ্লব। আমাদের তারুণ্যের চোখে এখনও বিপ্লবের স্বপ্ন আছে কিন্তু রাষ্ট্রপতির করুণাসিঞ্জিত বিপ্লবের হাতে খুন হয়ে যাচ্ছে আমাদের নিরপরাধ নাগরিকেরা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29419867 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29419867 2011-07-25 23:42:24
ধর্ষণ গণমাধ্যমে
সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন, নারীকে যৌনহয়রানি এবং নারী অবমাননার ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে উঠে আসছে, গণমাধ্যমে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটার সাথে চাটনি হিসেবে ধর্ষণের আনুমানিক বিবরণ থাকে, এভাবে আরেকদফা শ্লীলতাহানী ঘটে ধর্ষিতার, দুঃস্বপ্নের মতো অনিশ্চিত একটি দিনের শুরুতে পত্রিকা খুলে আরও বীভৎস ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এমন সীমিত যৌনশিহরণ পাঠককে চনমনে রাখতে পারে এমন ভাবনায় হয়তো সম্পাদকগণ এভাবে সংবাদ পরিবেশন অনুমোদন করেন , কালের কণ্ঠের সম্পাদক এবং লেখক ইমদাদুল হক মিলন ভিকারুন্নেসার আক্রান্ত মেয়েটির ঘটনা উপস্থাপন করতে গিয়ে আরেক দফা মেয়েটার শ্লীলতাহানি করেছেন তার কলামে, সেটা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ হয় নি, ভিকারুন্নেসার ঘটনা যেভাবে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে তা সংশ্লিষ্ঠ কারোই ভালো লাগে নি, ধর্ষিতার অসহায়ত্ব প্রকট করতে চেয়ে তাকে কিভাবে ধর্ষণ করা হলো তার আনুমাণিক বিবরণে ইমদাদুল হক মিলন একটা পর্যায়ে বাকসংযম প্রদর্শণ করেছেন, প্রথম আলোর রিপোর্টের একটা অংশ জুড়ে মেয়েটার পোশাকের বর্ননা থাকায় মনে হয়েছে পোশাকেই ধর্ষণের উস্কানি ছিলো।

ভিকারুন্নেসার আক্রান্ত মেয়েটির প্রতি সহানুভুতি এবং নিজেদের আন্দোলনের সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে ফেসবুক গ্রুপ তৈরি হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ঠ আন্দোলনকারীরা গণমাধ্যমে ধর্ষিতার এমন অশালীন উপস্থাপনে নিজেদের ক্ষোভ স্পষ্ট প্রকাশ করলেও সম্ভবত সেটা বিডিনিউজের সম্পাদকের নজরে পড়ে নি, তারা

ধর্ষিতার সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে লিখেছে "
গত ২৮ মে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার পাশে 'এফ' ব্লকে ৬ নম্বর রোডের ৩৫৯ নম্বর বাসায় একতলা ভবনের একটি কক্ষে ওই স্কুলের ১০ম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে হাত বেঁধে, মুখে ওড়না গুঁজে ধর্ষণ করেন পরিমল।"

গণমাধ্যমে যখন ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশিত হয় তখন পুরুষতান্ত্রিক গণমাধ্যম মেয়েটির দুর্বলতা এবং ধর্ষকের আগ্রাসনকে পাশাপাশি তুলে আনতে চান, সেখানে সে কারণেই সংবাদভাষ্যে উপস্থাপিত হয় মেয়েটির ক্ষীণ প্রতিরোধের সংবাদ, মেয়েটি প্রতিবাদ করতে চেয়েচে, নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছে, হাত পা ছোড়াছুড়ি করেছে, ধর্ষক অধিকতর শক্তিশালী বলেই মেয়েটির সক্রিয় প্রতিরোধের পরেও ধর্ষণ হয়েছে, সুতরাং অসহায় মেয়েটির করুণা প্রাপ্য,

একই ভাবে বিভিন্ন সংবাদভাষ্যে নারী নিগ্রহের সংবাদ উপস্থাপিত হওয়ার সময় বিভিন্ন শব্দের প্রায়োগিক অর্থও বদলে গিয়েছে, সুতরাং "হাত পা বেঁধে", "মুখে কাপড় গুজে", "ঘরের দরজা বন্ধ করে", "অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে", "নিভৃতে", "প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়ার পর","রাতের অন্ধকারে ", "মুখ চেপে ধরে", "একদল যুবক অস্ত্রের মুখে ভয় ভীতি প্রদর্শণ করে", "পরিবারের সদস্যদের আটকে রেখে" ধর্ষণ করতে পারে।

একজন অসভ্য যুবক " উত্যক্ত করে", "মেয়েটিকে কুপ্রস্তাব দেয়", সেই কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় মেয়েটি আক্রান্ত হয়। এই কুপ্রস্তাবও শাররীক সম্পর্ক স্থাপনের মন্ত্রনা হতে পারে, এমন কি হুমকিও হতে পারে, কিন্তু "কুপ্রস্তাব" শব্দটির অন্য সকল আভিধানিক অর্থ বিলুপ্ত হয়ে গণমাধ্যমের কলয়ানে কুপ্রস্তাব নিছক শাররীক হয়ে উঠেছে,
একই ভাবে "অনৈতিক সম্পর্ক", কিংবা "অনৈতিক কার্যকলাপ" শব্দগুলোর অনৈতিকতাও নিছক শাররীক এবং আরও স্পষ্ট করে বললে শাররীক সম্পর্ক স্থাপন সম্পর্কিত বক্তব্য। আমাদের সমাজে সতী, সভ্য মেয়েদের শাররীক সম্পর্ক বিষয়ক জড়তা এবং সাংবাদিকদের নিজস্ব অনুধাবন এই দুই শব্দেই সীমাবদ্ধ।

আজও পত্রিকায় সংবাদ এসেছে একজন আত্মহত্যা করেছেন, তার সাথে "জোরপূর্বক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সেটার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে অন্য সবাইকে দেখানোর" পর মেয়েটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। পুলিশের এসআইও এমন অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্ররোচনা দিয়ে এবং হুমকি প্রদর্শণ করে বহিস্কৃত হয়েছে,

পরিমল, এসআই, রাজশাহীদের পঞ্চাশোর্ধ একজন আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণ করে তার নগ্ন মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা মানুষগুলো আমাদের চারপাশেই ঘুরছে, সভ্যতা নারীর আব্রু ও শাররীক বিশুদ্ধতায় অপরিসীম গুরুত্ব আরোপ করে নারীকে সামাজিকবিকলাঙ্গ করছে কি না তা নিশ্চিত বলা না গেলেও এটুকু বলা যায় নারীর শরীর পুরুষের আধিপত্য প্রকাশের মাধ্যম হয়েছে, অনেক দিন থেকেই পুরুষ নিজের ক্ষমতা এবং আধিপত্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে নারীর শরীর, নারী পুরুষের মর্জমফিক না চললে তাকে শাররীক নির্যাতন করা হয়, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে স্বামী সবান্ধব স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এখানে, এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মানুষ খুব সাধারণ ভাবে বলছে সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে বলেই এমন ঘটছে, নৈতিকতাও একই রকমভাবে যৌনাঙ্গ নির্ভর শব্দ হয়ে উঠতে পারে অচিরেই কিন্তু সরকার কি তার দায়িত্ব পালনে আন্তরিক?

সরকারী কর্মকর্তা যখন ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, যখন অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত হন উচ্চপর্যায়ের কুটনৈতিক কর্মকর্তা, যখন ত্রান ও সামাজিক কল্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত দ্বিতীয় তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তারাও সহযোগিতার বিনিময়ে সাহায্য চাইতে আসা নারীদের শাররীক ভাবে লাঞ্ছিত করেন সেসব ক্ষেত্রে সরকার তেমন ত্বরিত প্রতিক্রিয়া দেখায় না, তাদের চারিত্রিক সনদ, তাদের পুলিশ এনকোয়ারী এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক দাবি পুরণ করেই নিয়োগ দেওয়া হয়, এইসব " সেক্সুয়াল অফেন্ডার" কিভাবে এত যাচাই বাছাি প্রক্রিয়া অতিক্রম করে সরকারী চাকুরীতে নিযুক্ত হতে পারে? সরকারকে এই দায়টুকু স্বীকার করতে হবে।

দুটো জেলার বিভিন্ন থানায় পুলিশ কিশোর কিশোরীদের মোবাইল আটক করা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোবাইলের সীম দেওয়ার নিয়ম নেই, এবং এইসব কিশোর কিশোরী বিভিন্ন যৌনাপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও ধারণ এবং মোবাইলে বিভিন্ন অনৈতিক ভিডিও বহন ও সম্প্রচারের অভিযোগ তাদের মোবাইল জব্দ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার অভিভাবকদের হাতে মোবাইল ফেরত দিয়েছেন, কিন্তু যারা মোবাইলে এমন সম্মত ও অসম্মত সঙ্গমদৃশ্য ধারণ করছে কিংবা নিজেদের একান্ত সময়ের ভিডিওচিত্র ধারণ করছে তাদের সবাই কি অপ্রাপ্ত বয়স্ক?

আজকে যে মেয়েটি আত্মহত্যা করলো সেই যুবক প্রাপ্ত বয়স্ক, অনলাইনে ফিসফাসের মতো প্রচারিত হচ্ছে অরুণ চৌধুরী এবং কোনো এক টিভিঅভিনেত্রীর ভিডিওচিত্র, অরুন চৌধুরী এবং সেই টিভিঅভিনেত্রীর ভিডিওটি এ আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয় কিন্তু এমন টিভিঅভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সময়ের ভিডিওচিত্র এর আগেও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব ভিডিওচিত্র যারা ধারণ করেছে তাদের সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক।
আমরা যদি প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতার প্রমাণ রাখতে ব্যর্থ হই তার প্রতিক্রিয়ায় সরকার কি সংশ্লিষ্ট প্রাযুক্তিক সুবিধা বাতিল করতে পারেন?

অরুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেটা ঘটনাটির একটি ডাইমেনশন মাত্র, অরুন চৌধুরী যদি কোনো সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে অভিনেত্রীকে লাঞ্ছিত করেন সেটা এক ধরণের অপরাধ, যদি এটি তাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ঘটে সেটা অন্য ধরণের নৈতিক সংকট। ব্যক্তিগত জীবনযাপনে স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বস্ততার প্রতিক্রিয়ায় তাদের দাম্পত্যজীবনের সংকটগুলো মিডিয়ায় উঠে আসা বাঞ্ছনীয় নয়, কিন্তু তাদের এই ভিডিওচিত্র ধারণ করা কোন ভিত্তিতে অবৈধ কিংবা অশালীন অনৈতিক বিবেচিত হবে না?

যে ব্যক্তি এই ভিডিওচিত্র ধারণ করেছেন তিনিও প্রাপ্তবয়স্ক, যদি তার মনে হতো অভিনেত্রী আক্রান্ত, তিনি নিজের ভয়েআরিজম চরিতার্থ করে ভিডিওচিত্র ধারণ না করে বরং মেয়েটিকে সহযোগিতা করতে যেতেন, তিনি যদি মনে করতেন অরুন চৌধুরী নৈতিক অপরাধ করেছেন, সম্পর্কের বিশ্বস্ততাকে অসম্মান করেছেন, তিনি সেই ভিডিওচিত্র বিভিন্নজনকে সরবরাহ না করে বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকেই দেখাতেন, তিনি হয়তো অরুণ চৌধুরির দ্বিচারিতা তুলে ধরতে পেরেছেন কিন্তু একই সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীকেও সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন, সেই সামাজিক নিগৃহনের ফলশ্রুতিতে তারও অভিযুক্ত হওয়ার কথা কিন্তু তাকে কেউ অনৈতিকতার দায়ে অভিযুক্ত করছে না, তার আচরণকে কেউই অগ্রহনযোগ্য মনে করছে না।

এভাবেই নিজের নৈতিকতার বিভ্রান্তিতে আমাদের নারীনিগৃহনের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে প্রচারিত হলেও কোনটি নারীর সামাজিক শ্লিলতাহানী কোনটি নারীর উপরে শাররীক আগ্রাসণ, কোনটির প্রভাব কতটুকু পরতে পারে আক্রান্তের উপরে সেসব বিবেচনা না করে অবিবেচকের মতো আচরণ করছে গণমাধ্যমগুলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29416595 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29416595 2011-07-20 17:55:39
ফোরামে ফোরামে যারা
তারা এইসব আলোচনা শুরু করে একাত্তরের প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাই জাতীয় প্রস্তাবনা দিয়ে কিংবা আরও কৌশলী হলে সেটায় নিজের অবস্থান নিরপেক্ষ রাখতে গিয়েই তারা প্রথমেই একাত্তরে জামায়াতের দালালীর অভিযোগটা স্বীকার করে নেন। আরপর তাদের সরল আলোচনা শুরু হয়, সেখানে মন্তব্যের কলামে তাদের বিভিন্ন সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়, এইসব সমর্থক গোষ্ঠী তাদের বিজ্ঞ মতামত প্রকাশ করে মন্তব্যের কলামে, সেখানে তারা জানায় লেখাটা যথেষ্ট তথ্যসমৃদ্ধ এবং এভাবেই প্রকৃত ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হবে/ বিভিন্ন উৎসাহব্যাঞ্জক মন্তব্যের শেষে যারা জামায়াতের সমর্থকদের বিরোধিতা করে তাদের সবাইকে অশিষ্ঠ, গালিবাজ বলবেন, তাদের অযৌক্তিক আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করবেন।


দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতায় এটুকু বলা যায় বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে যারা জামায়াতের একাত্তরের ভুমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তারা সবাই একাত্তরে জামায়াতের দালালীর ইতিহাস সম্পর্কে অবগত এবং এ বিষয়ে তারা যথেষ্ট সচেতন। তারা সচেতন ভাবেই জামায়াতের এই ভুমিকা বিষয়ে অন্যান্যদের বিরোধিতাকে প্রতিরোধ করতে চান। তাদের আলোচনা শুরু হয় দালাল আইন দিয়ে, এবারও তাদের ধারণা ছিলো তাদের দালালীর অভিযোগের বিচার হবে দালাল আইনে, কিন্তু সরকার আন্তর্জাতিক আইনে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করায় তাদের একটু এগিয়ে গিয়ে শুরু করতে হচ্ছে। তারা সে কারণে এখন যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞা পড়ছেন।

দালাল আইনে বিচার হওয়া যুক্তিযুক্ত এ প্রস্তাবনা একটা পর্যায়ে দিয়ে তাদের যুক্তির ধারাগুলো হবে দালাল আইন রদ করেছেন বঙ্গবন্ধু, গত দুই বছরে ছাত্র শিবির এবং ছাত্রী সংঘ ছাত্রলীগের চেয়ে বেশীবার বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করেছে এ কারণেই। সুতরাং তাদের নেতাদের দালালীর অভিযোগ এখন ধোপে টিকবে না। এই যুক্তির পরবর্তি ধাপ হবে শুধুমাত্র জামায়াত নয় বরং অন্যান্য অনেকেই তো পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর দালালি করেছে, শুধুমাত্র জামায়াতকেই কেনো সকল দালালীর অপবাদ হজম করতে হবে, তারা এই অভিযোগে আক্রান্ত বোধ করেন, তাদের মনে হয় ঘরশুদ্ধ মানুষ তাদের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে, সে হাত থেকে একাত্তরের বাংলাদেশে নিহত সাধারণ নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝড়ছে।

তাদের পরবর্তী ট্রাম্পকার্ড হলো বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কারা কারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাথে করমর্দন করেছেন সেসব ছবি আপলোড করা। এইসব তারা ট্রফির মতো সাজিয়ে রাখে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ফাইলে, তাদের কম্পিউটারের মাই পিকচার ফোল্ডারে এইসব ছবি সাজানো থাকে, তারা বিভিন্ন পিয়ার শেয়ারিং সাইটে গিয়ে এইসব বিনিময় করে কি না আমার জানা নেই, কিংবা তাদের কোনো সেন্ট্রাল কমান্ড থেকে এইসব ছবি সরবরাহ করা হয় কি না সেটাও আমার জানা নেই,শাহ হান্নানের ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের অংশ হিসেবে হয়তো অনুগত শিক্ষিত জামায়াত কর্মীদের এইসব পেন ড্রাইভে সরবরাহ করা হয়েছে।


আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যারা নতুন কোনো ফোরামের অস্তিত্ব জানলেই সেখানে জামায়াতের একাত্তরের ভুমিকাকে ডিফেন্ড করতে উপস্থিত হন তারা যথেষ্ট আশাবাদী, তারা প্রতিবার প্যান্ডোরার বাস্কটা খুলে দিয়ে ধারণা করেন এবার হয়তো ফোরামের মানুষজন জামায়াতের প্রতি সহানুভুতি বোধ করবে, কিন্তু প্রতিবারই দেখা যায় কেউ না কেউ ইতিহাসের পাতা খুলে জামায়াতের দালালীর বিষয়গুলোকে সবার সামনে তুলে ধরছে। এমনটা হওয়াটাই স্বাভাবিক, মসজিদে মাজারে গিয়ে দশ কোটি টাকার সিন্নি দিলেও ইতিহাসের বইয়ের পাতাগুলোতে আলাদা কোনো তথ্য হাজির হয়ে যাবে না রাতারাতি এই বিষয়টা সম্পর্কেও আমি যথেষ্ট নিশ্চিত কিন্তু এরপরও যারা বিভিন্ন ফোরামে জামায়াতের ভুমিকাকে যারা ডিফেন্ড করতে চায় তাদের জামায়াতী অধ্যাবস্যয়ের কারণটা উপলব্ধি করতে পারি নি আমি।

আলোচনার সর্বশেষ পর্যায়ে যখন এইসব যুক্তি হাজির হয় যে আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে রাজনৈতিক মিতরতা গড়ে তুলেছিলো সুতরাং জামায়াতের নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করা সমচীন নয় তখন বলতেই হয়

আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে একত্রিত হয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে করেছে এটা ঐতিহাসিক ভাবে সত্য,

একই সাথে এটাও সত্য যে জামায়াতের শীর্ষপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সংযুক্ত ছিলো, তারা শুধুমাত্র নৈতিক ভাবে এটা সমর্থন করেনি বরং তারা সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেছে একাত্তরের বর্বরতায় এবং প্রয়োজনে নিজেদের প্রচেষ্টায় এবং ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগে স্বাধীনতা সংগ্রামের সপক্ষের মানুষদের হত্যার উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতালিপ্সায় যা করেছে সেটার সাথে এ বিষয়গুলোকে সম্পৃক্ত করতে চাওয়াটা কিংবা এটার সাথে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কারণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিষয়টা ট্যাগ করতে চাইলে রাজনৈতিক ভাবে বিচার করে বলা যায় ,

আওয়ামী লীগ জামায়াতকে কাছে টানতে চাইছে কিন্তু জামায়াত খালেদা জিয়ার আঁচলের তলা থেকে বের হতে চাইছে না বলে তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল, তাদের রাজনৈতিক অভিলিপ্সা রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জন করা কিংবা সরকার গঠন করা। জামায়াত যেমন ধর্ম বেচে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়, আওয়ামী লীগও বিএনপি ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিপক্ষের লোকজনের সাথে রাজনৈতিক মিত্রতা গড়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়। এ কাজের জন্য তারা অনেক ধরণের নষ্টামি করবে, সেটা রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতালোভী চরিত্র।

তারা বিভিন্ন বক্তৃতায় যতটা না নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল হিসেবে স্বীক্রিতি দিতে চায় জামায়াত তার চেয়ে বেশী জোর গলায় তাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায়। জামায়াত মরিয়া হয়েই তাদের হাতে একাত্তর তুলে দিতে চায়, তাদের দাবী
আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের দল

আওয়ামী লীগকে মুক্তিযোদ্ধাদের দল বলে গুরুত্বপূর্ণ করে তুললে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুত্বটা হ্রাস পায় কিছুটা। তারা তখন দাবী করতে পারে তাদের রাজনৈতিক ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ, সুতরাং তারা স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল নয়।

গণতান্ত্রিক ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার সনদ পাওয়া আওয়ামী লীগকে পাকিস্তানের প্রশাসন পরিচালনার স্বীকৃতি দিতে না চাওয়ার বিভিন্ন ছলচাতুরিতে গড়ে ওঠা অসহযোগ আন্দোলনের একটা পর্যায়ে জনগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবী উত্থাপন করে, তাদের শ্লোগান এবং মনঃস্তাত্ত্বিক বদলের ধরণটা উপলব্ধি করতে পারে নি জামায়াত, এটা একটা ঐতিহাসিক সত্য, তারা একাত্তরের অধিকাংশ সময়ই জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে গিয়ে এদেশের সাধারণ জনগণের স্বাধীনতা লড়াইয়ের বিরোধিতা করেছে, তারা স্বাধীনতা সংগ্রামকে বাধাগ্রস্ত করেছে কিংবা পাকিস্তানীদের নৈতিক সমর্থন দিয়েছে এমন নয় বরং তারা এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে প্রতিহত করতে চেয়েছে।

জনগণের স্বাধীনতার আকাংক্ষার বিরুদ্ধাচারণের ক্ষমতা ছিলো না আওয়ামী লীগের, তারা বাধ্য হয়েই জনগণের পাশে থেকে জনগণকে দিক নির্দেশনা দিয়ে জনগণের মুক্তির সংগ্রাম পরিচালনায় সহযোগিতা করেছে, কিন্তু মূল অংশগ্রহনকারী শক্তি ছিলো জনগণ, তাদের উপরে যেমন নির্মম অত্যাচার হয়েছে, শুধুমাত্র বাংলা ভাষী হওয়ার কারণে তাদের যেমন মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে, যেমন ভাবে কল্পিত খায়েশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রামের পর গ্রাম জ্বালানো হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কিংবা তাদের তাবেদারদের প্রতি কোনো মমত্ববোধ অবশিষ্ট ছিলো না।

আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে ক্ষমতার লোভে জনগণের দাবীর সাথে, জনগণের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ, কিন্তু সেটা আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত, সম্মিলিত ভুল, সেটার সাথে দেশের সাধারণ জনগণের আকাঙ্খা আর প্রত্যাশাকে মিলিয়ে ফেলবার কোনো কারণ নেই, জনগণ সব সময়ই এই অবিচারের বিচার দাবী করেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও জনগণ বিচারের দাবি থেকে পিছু সরে আসে নি। আওয়ামী লীগ এইসব জনগণের দাবির প্রতি লক্ষ্য রেখেই নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গিকার অন্তর্ভুক্ত করছে, সেতা জনগণের দাবীর জয়, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রকাশ নয় সেটা। এটা বুঝতে হলে জনগণের সাথে একাত্মতা থাকতে হবে, জনগণের প্রাণস্পন্দন বুঝতে হবে, এটা বুঝতে আইন্সটাইন হতে হয় না , চোখ কান খোলা রাখলেই সেটা স্পষ্ট বুঝা যায়।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29389116 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29389116 2011-05-31 17:02:49
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ এবং জামায়াতে ইসলামীর পদক্ষেপ এর আগের লেখাটা কোনো কারণে মুছে গিয়েছে কিংবা কেউ ইচ্ছা করেই মুছে দিয়েছে। বিষয়টা বিব্রতকর
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্তর্জাতিক অপরাধ(ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে, প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে।
সে সুপারিশগুলোর ভেতরে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ(ট্রাইব্যুনাল) আইনে

যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার আরও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনাল আইন ও এর সদস্যদের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ অভিযুক্তদের সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণ বিচারক ও সরকারপক্ষের আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের পাঁচ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এই বিশেষ আদালতে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী " আল বদর" বাহিনী গঠনের কথা স্বীকার করেছেন , তিনি স্বীকার করেছেন আল বদর বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে যুক্ত ছিলো।

একাত্তরে দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের ঢাকা মহানগর শাখার প্রধান আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ অবশ্য তদন্ত কমিটির কাছে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন নি।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদী মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিজের নাম পরিবর্তন করলেও তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগ স্বীকার করেন নি।

অভিযুক্তদের স্বজন ও উকিলদের উপস্থিতিতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সে সময়ে তাদের উপরে শাররীক নির্যাতন করা হয় নি। অন্তত স্বীকারোক্তি গ্রহনের প্রক্রিয়ায় মতিউর রহমান নিজামীর উপরে কোনো শাররীক নির্যাতন করা হয় নি, তিনি তার সামনে উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তার আল বদর বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ঠতার স্বীকৃতি প্রদান করেছেন, তার সামনে উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি স্বীকার করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে আল বদর বাহিনীর সংশ্লিষ্ঠতা ছিলো।

গত বছর ২৩শে জুন যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডসে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি হিউম্যান রাইটস গ্রুপ এর সহায়তায় ‘ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ : আন্তর্জাতিক মান বিচার’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে অল পার্টি পার্লামেন্টারি হিউম্যান রাইটস গ্রুপ স্বীকার করে তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এমন একটি গ্রুপের সহায়তায় তারা বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে হাউজ অব লর্ডসে সেমিনারটি আয়োজন করেছে

জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতাদের কেউই মানবাধিকারবিরোধী কোনো তৎপরতায় জড়িত নন। আওয়ামী লীগ একান্তই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার কৌশল হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজেদের সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগের আইনী মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও ওয়ার ক্রাইম বিষয়ে অভিজ্ঞ তিন আইনজীবী প্যানেলকে মনোনীত করেছে জামায়াতে ইসলামী।

এই তিনি জন আইনজীবী হলেন এল আর স্টিভেন কে, টবি ক্যাডম্যান এবং জন কমেহ । টবি ক্যাডম্যান অবশ্য হাউস অফ লর্ডসে অনুষ্ঠিত সেমিনারেও তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন।

গত বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশে মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষ একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেও কয়েকজন আইনজীবী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবেই জামায়াতে ইসলামীকে অভিযুক্ত করছে এমন অভিযোগ উত্থাপন করেন।


জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক ভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে তাদের সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগ মোকাবেলা করতে গিয়ে নির্দিষ্ট যে অবস্থান নিয়েছে তার ভিত্তিতেই তাদের বর্তমানের ভারপ্রাপ্ত আমির এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের বিভিন্ন বক্তারা রাজনৈতিক কর্মী সমাবেশে কিংবা গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করছেন, এরই ধারাবাহিকতায় পল্টনের একটি রেস্তোরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ বলেছেন

‘৪০ বছর আগের হাড়গোড় জোগাড় করে টেবিলে আনা হয়। এই হাড্ডি কোনটা কার বাপের, তা কে ঠিক করবে? এগুলো যে নিজামী-মুজাহিদ করেছেন, তা কি হাড্ডির গায়ে লেখা আছে?’

তারা অন্তত এটুকু প্রমাণ করতে চাইছেন তারা একক ভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ঠ ছিলেন না, মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের অনেক নির্বাচিত এমএনএ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং তাদের অনেককেই দালাল আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো, তারা এভাবে বিষয়টিকে উপস্থাপন করার ফলে আওয়ামী লীগ যে রাজনৈতিক ভাবেই জামায়াতে ইসলামীকে হয়রানি করতে চাইছে এমনটা প্রতিভাত হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সদস্য ইয়াহিয়া খানের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা বন্ধ করা এবং নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছিলেন, তাদের এ তৎপরতার বিবরণ পাওয়া যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিভিন্ন টেলিগ্রামে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন টেলিগ্রামে আওয়ামী লীগের এম এন এ'দের পরামর্শ, গণহত্যা বিষয়ে তাদের উদ্বেগ এবং গণহত্যা বন্ধে কি ধরণের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছনীয় সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শও তারা দিয়েছেন ইয়াহিয়া খানকে। তাদের সকল পরামর্শের প্রধানতম বক্তব্য ছিলো "শেখ মুজিবর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাকে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে, তিনি যদি শিথিল ফেডারেশনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তাহলে ছয় দফার ভিত্তিতে তেমন শিথিল ফেডারেশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এখানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরতা বন্ধ করতে হবে।

কোলকাতা থেকে যে কয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলারের আলোচনা হয় তারাও গণহত্যা বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহন দাবী করেছিলেন এবং বিদেশী পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছিলেন। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত আচরণ করবে এমনটাই তাদের প্রত্যাশা ছিলো, বিদেশী পর্যবেক্ষক দল ১৯৭১ এ বাংলাদেশের ১২টি জেলায় ভ্রমন করে তাদের প্রতিবেদনে লিখেছিলেন এখানে গুরুতর ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এমন তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ১৯৭১ এ পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পর্যায়ে আওয়ামী লীগের এম এন এ এবং পূর্ব পাকিস্তান আইন সভায় নির্বাচিত সকল সদস্যদের শেখ মুজিবের মুক্তি এবং গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ঐক্যমত ছিলো এমনটা নিঃসংশয়ে বলা যাবে না তবে অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই ছয় দফার ভিত্তিতে শিথিল ফেডারেশন গঠনের প্রশ্নে একমত ছিলেন। তাদের সকলের ভেতরেই গণহত্যা নিরসনে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহনের দাবিটা উচ্চকিত ছিলো।

তবে এটুকু নিঃসংশয়ে বলা যায় পূর্ব পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী ছয় দফার ভিত্তিতে শিথিল ফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব থেকে পিছু হটেছিলেন ১৯৭১ এর এপ্রিল মাসেই, এর পর থেকেই তারা দলগত ভাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করবার উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় মূলত জামায়াতে ইসলামীর অনুগত কর্মীদের নিয়েই আল বদর বাহিনী গঠিত হয়, তাদের ট্রেনিং ক্যাম্পে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র মজলিসের নেতা গিয়ে বক্তৃতা প্রদান করছেন এবং দুস্কৃতিকারীদের দমন করে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আল বদরের প্রশিক্ষিত সদস্যদের উদ্বুব্ধ করেছেন।

জামায়ত মনোনীত বিদেশী আইনজীবিদের দুই জন টবি ক্যাডম্যান এবং জন কমেহ ফেব্রুয়ারী মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বিষয়ক এম্ব্যাসেডর-এট-লার্জ স্টিফেন যে র‍্যাপের সাথে সাক্ষাত করেন, এ বছর ১৩ই জানুয়ারী স্টিফেন র‍্যাপ এসেছিলেন বাংলাদেশে , সে সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে মতবিনময়ের সময় জানান

যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটেছে ১৯৭১ সালে। আর এ অপরাধের বিচারে আইন হয়েছে ১৯৭৩ সালে। ২০০৯ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য। আইসিসির রোম সংবিধি অনুসমর্থন করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আইন দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে হবে। এ জন্য ১৯৭৩ সালে প্রণীত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বিচারটির রাজনৈতিকরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেন

বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকেই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আমি বলতে চাই, বিচার যেন সুষ্ঠু হয়। একজন ব্যক্তি কোনো সংগঠনের সঙ্গে অতীতে জড়িত ছিলেন বা এখন আছেন, সে বিবেচনায় নয়, ব্যক্তিগতভাবে তিনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি-না তা বিচারের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

তিনি বাংলাদেশে পুনরায় এসেছিলেন গত ১লা মে, সে সময় প্রথম আলোর কার্যালয়ে তার সাথে মতবিনিময়ের সময় তাকে জানান হয় ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চায় বাংলাদেশ। তবে এই সুযোগে কোনো দেশের এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আইনজীবীগণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার কাছেই অভিযোগ উত্থাপন করছে তাদের প্রতি রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই আওয়ামী লীগ তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকবার অভিযোগ উত্থাপন করেছে, এবং তারা এভাবেই রাজনৈতিক দমন নীতি পরিচালনা করছে। সেসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কিংবা যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বিভিন্ন কমিটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের বিভিন্ন পরামর্শ পাঠাচ্ছেন। সেসব ক্ষেত্রে সুপারিশে বিচারটি যেনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়নতার নিদর্শন না হয়ে উঠে সেটা নিশ্চিত করবার পরামর্শ আছে।

জামায়াতে ইসলামী তদন্ত কমিটির সদস্য মনোনয়নে আপত্তি জানিয়েছেন, তাদের ধারণা এইসব তদন্ত কমিটির সদস্যের জামায়াতে ইসলামীর প্রতি অহেতুক রাজনৈতিক বিদ্বেষ রয়েছে, তাদের অভিযোগ এই অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আদালতের প্রধান বিচারকও এমনই রাজনৈতিক ধারণার বশবর্তী হয়েই তাদের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হবেন। সুতরাং তারা এটা নিরসনে দুটো পরামর্শ প্রদান করেছে কিংবা তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রস্তাবিত সুপারিশে এই বিষয়গুলো উঠে আসছে
প্রথমত মনোনীত বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রতি অনাস্থা প্রকাশের সুযোগ এবং অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনাল আইন ও এর সদস্যদের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ , একই সাথে তারা সেসব সদস্যদের প্রশিক্ষণের দাবিও উত্থাপন করছেন। যেনো তারা নিরপেক্ষ থেকে তাদের মতামত কিংবা রায় প্রদান করতে পারেন।

এই অভিযোগ রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে গিয়ে তারা আওয়ামী লীগের কর্মী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকবার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তারা হুমকি দিয়েছেন প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের ভেতরে যারা যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সম্প্ররক্ত ছিলো তাদের তালিকাও প্রণয়ন করা হবে।

তাদের দাবী ১৯৭১ এ তারা একক ভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিলেন না, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তাদের সাথে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন, তারা একক ভাবে নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মীদের দিয়ে আল বদর বাহিনী তৈরি করেছিলেন কিন্তু সে সময় রাজাকার বাহিনীরও উপস্থিতি ছিলো এখানে।

১৯৭১ সালে অক্টোবর/নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের একজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে বিশেষ প্রতিবেদন পাঠানোর সময় তার বক্তব্যে বলেছিলেন বিভিন্ন জেনা শহর ও মফঃস্বল থেকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়ে রেজাকার ও অন্যান্য আধা সামরিক বাহিনীর হাতে সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব সমর্পন করবার পর সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো উপযুক্ত কতৃপক্ষে কাছে জবাবদিহিতার প্রয়োজন না থাকায় স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার কিংবা এমন পদস্থ যেকেউ সামান্য অভিযোগেই যেকোনো কাউকেই হত্যা করতে পারে।এমন হত্যাকান্ডের পরিমাণ বৃদ্ধিতে তিনি সামগ্রীক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রেজাকার বাহিনীতে অনেকেই পয়সার লোভে যোগ দিলেও আল বদর আল শামস বাহিনী গঠিত হয়েছিলো রাজনৈতিক বিবেচনায়, সেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সুপারিশেই কর্মী নিয়োগ করা হতো। সেসব ইতিহাসের পাতা উলটে দেখা প্রয়োজন।

আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তাতে আমাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আমাদের বিচারকদের যোগ্যতা এমন কি আমাদের তদন্ত কমিটির সদস্যদের নিরপেক্ষতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং সরকারের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও আমাদের গোচরে আসে নি।

হাইকোর্টের বিচারকই বিশেষ আদালতের বিচারক নিযুক্ত হয়েছেন , তদন্ত কমিটির বেসামরিক সদস্যদের বাইরে যারা তদন্ত কাজ পরিচালনা করছেন তারা সবাই প্রশাসনের সদস্য। জামায়াতে ইসলামী একই সাথে বিচার বিভাগ এবং এ দেশের প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাছাড়া তাদের কল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্ঠতাত অভিযোগ স্পর্শ্ব করছে এখানে থেকে যেতে বাধ্য হওয়া ৬ কোটি মানুষকে। যারা এখানে বসবাস করেছেন, প্রাণভয়ে পালিয়েছেন,তাদের সবাই সরাসরি প্রতিরোধ যুদ্ধে লিপ্ত হন নাই, জামায়াতে ইসলামীর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগটা তাদের বিরুদ্ধেও যায়, বেসামরিক প্রশাসনের সদস্য হিসেবে যারা ৯ মাস বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাদের সবার বিরুদ্ধেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে মদত দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেছে জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিকরণের প্রক্রিয়ায় জামায়াত আশা করছে আওয়ামী লীগ বিব্রত হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন নেতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগ উত্থাপিত হতে পারে, ব্যক্তিগত ভাবে অনেক ব্যক্তিকেই সে সময়ে পরস্ব হরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা সম্ভব। লুটপাট এবং লুণ্ঠনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হবে তাদের বিচারের বন্দোবস্তও করতে হবে এই আদালতকে। এই আদালত নৈতিক ভাবে দলমত নির্বিশেষে মানবতাবিরোধী যেকোনো অপরাধের বিচার করতে দায়বদ্ধ, সুতরাং জামায়াতে ইসলামী যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকবার অভিযোগ উত্থাপন করবে এবং এর সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবে আদালতে তাদের সবার বিরুদ্ধেই মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকবার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা উচিত এবং জামায়াতের উচিত আদালতকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করা।

জামায়াত নিজেদের নেতাদের বিচার রুখতে অযথা রাজনৈতিক বক্তৃতা না দিয়ে তাদের ভাষ্যমতে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ও অরাজনৈতিক লোকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তার প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রাখুক , তারা সেসব উপস্থাপন করলে যদি আদালত সেসব অভিযোগ আমলে না নেন তখন এ বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে।

তার আগ পর্যন্ত এ বিচার বিভাগকে কোনো রকম রাজনৈতিক বিতর্কের মুখোমুখি করে এদের আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কিংবা এদের কর্মকান্ডে কোনো রকম আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ন্যায়বিচারের স্বার্থেই পরিহার করা উচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন নেতা কিংবা তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উত্থাপিত হতে পারে এমন সম্ভবনায় কি আওয়ামী লীগ এ বিচার প্রক্রিয়া থেকে পিছু সরে আসবে? যে তরুনেরা মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচারের দাবিতে ২০০৮এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছিলো, সেসব তরুনেরা বিভিন্ন ভাবেই ১৯৭১ এ ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ন্যায়বিচার দাবী করছে, সেসব পরিবার এই বিচার হওয়ার সম্ভবনায় আশায় বুক বেধেছেন আওয়ামী লীগ সরকার কি তাদের সবার সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করবেন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29384211 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29384211 2011-05-20 15:09:55
নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্রের নিরপরাধ পুলিশ
রাষ্ট্র জন্কল্যানমুখী না হলে রাষ্ট্র জনরোষ নিয়ন্ত্রন করতে চায়, সে জনরোষ নিয়ন্ত্রনে সশস্ত্র সহায়তা দেয় পুলিশ। মরিয়া মানুষ পুলিশপিটিয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কখনও কখনও। দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ একইভাবে রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ততার দলিল হিসেবেই সাধারণ মানুষের কাছে যায়, তারা ঘুষের বখরা চায়, মাদক ব্যবসার পূঁজি এবং নিরাপত্তা দেয় পুলিশ, জনগণের বন্ধু না হয়ে পুলিশ নির্যাতনের যন্ত্র হয়ে উঠবার পর থেকে মানুষ পুলিশের কাছে যেতে আগ্রহী নয় বরং তাদের কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে চায়।

কাহারোল বীরগঞ্জের সাধারণ মানুষও এমনটাই চায়। তারা প্রতিবাদী হয়েছিলো ডাকাতির ঘটনায়। সে ডাকাতি করেছে পুলিশ সদস্যগণ। যদিও তারা উর্দির সম্মান রেখেছে, উর্দিবিহীন সাদা পোশাকে তারা ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হাতে, গ্রামবাসী তাদের আটক করেছে, অন্তরীন করে রেখেছে এবং চেয়েছে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল আচরন করুক, পুলিশের বড় কর্মকর্তাগণ জবাবদিহিতায় আগ্রহী নন তারা পুলিশ দিয়ে জনরোষ দমনের চেষ্টা করেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে তারা ডাকাত দলের সদস্য পুলিশদের উদ্ধার করতে আসা অন্যান্য পুলিশদেরও আটক করে রেখেছে।

সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ পুলিশ যখন সাধারণ জনগণকে আরও নিরাপত্তাহীন কওরে, যখন তারা সাধারণ গ্রামবাসী সর্বস্ব হরণ করতে চায় তারা সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ করবে এটাই স্বাভাবিক। নির্যাতনপ্রবন পুলিশের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, উপেক্ষা এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, সেই ক্ষোভ এক সাথে উগড়ে দিয়েছে কাহারোলের মানুষ।

তারা পুলিশের ভ্যান অগ্নিদদ্ধ করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে টহল পুলিশের গাড়ী, তাদের উপরে গুলি চালানো হলে তারা পালটা প্রতিক্রিয়ায় থানায় হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এসবই ঘটিয়েছে তারা কারণ পুলিশের কর্মকর্তাগণ স্বাভাবিক জবাবদিহিতার সংস্কৃতিতে অভ্যন্ত নন বিধায়। তারা যদি সংঘাতের বদলে সংলাপে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন তাহলে এমন অঘটন ঘটতো না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী এবং এই মন্ত্রনালয়ের অন্যান্য ব্যক্তিরা এইসব দায় দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী, লিমনের গুলিবিদ্ধ পায়ে সাথে তারাও তাদের জবাবদিহিতার আগ্রহ ছেঁটে ফেলেছেন, লিমন আহত অবস্থায় নিরপরাধ হয়েও জেলে অন্তরীণ, আর কাহারোলের ডাকাত পুলিশের সাথে সংঘাতে লিপ্ত সাধারণ মরীয়া মানুষ এখন ভয়ংকর সন্ত্রাসী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের আসামী।

সাহারা খাতুন কখনও এইসব দায়িত্ব গ্রহন করতে চান নি, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের বিবৃতি দিয়েছেন, প্রমাণ করতে চেয়েছেন রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র অবনতি হয় নি, আর পত্রিকায় সব সময়ই সরকারবিরোধী সংবাদ ছাপা হয়, সে কারণে দেশজুড়ে ছাত্রলীগের এবং যুবলীগের নেতা কর্মীদের ভেতরে টেন্ডারের বখরা নিয়ে যুদ্ধ, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং খুনের বিষয়গুলো তার চোখে পড়ে না, তার চোখে পড়ে না নির্বাচিত সাংসদ সরকারী কর্মচারী লাঞ্ছনা করছেন, আমাদের সকল নিরাপত্তা বলয় ধ্বসে পচে গলে পড়লেও সরকারী খাতায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকে। রাষ্ট্র চোঙা ফুঁকে জানান দেয় দেশের সবাই নিরাপদে এবং আনন্দে আছে। রাষ্ট্র চোঙা ফুঁকে বলে দেশের প্রান্তিক দারিদ্র কমেছে, মানুষ ভালোমন্দ খাচ্ছে এবং তারা সুখে আছে।

কাহারোলের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত দল রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র খুঁজে পেয়েছে, কিভাবে এত স্বল্প সময়ে এতগুলো এলাকা গভীর রাতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছে তদন্ত দল। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ইচ্ছা করেই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে, আমরা অতীর প্রেসনোটসগুলোর মতো এবারও হয়তো এমনই ভাষ্য পাবো

একটি চিহ্নিত মহল ইচ্ছাকৃত ভাবেই শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিলো, দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনী তাদের এই চক্রান্তে বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন চালানো হয়। এভাবেই দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে এই চিহ্নিত মহল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।

কাহারোলের সাধারণ মানুষ জানে কোনটা সত্কারনিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিতে অনিচ্ছুক সরকার আরও বেশী নির্যাতন প্রবণ হয়ে উঠবে এবং স্থানীয় জনগণের বিরুদ্ধে থানায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করবে। এই মামলার আসামী হবে অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার ব্যক্তি, তাদের হাতে থাকবে বিভিন্ন রকম ধারালো অস্ত্র, তারা অগ্নি সংযোগ করবেন, পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিবেন, এবং অবধারিত ভাবে আগামী কয়েক সপ্তাহ তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকবেন।

এইসব অজ্ঞাতনামাদের দলে ঢুকে পড়বে লিমন,আমাদের রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর অসভ্য সদস্যরা এ প্রয়োজনেই এইসব অজ্ঞাতনামা মামলার দলিলগুলো সংরক্ষণ করেন। যখনই পুলিশ কিংবা র‍্যাবের হাতে কোনো নিরপরাধ মানুষ নির্যাতিত হয় এবং এর বিরুদ্ধে জনরোষ গর্জে উঠে তখন এমন অজ্ঞাতসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামীদের একজন হিসেবে নির্যাতিতকে চিহ্নিত করে দেখানো হয় তার বিরুদ্ধে থানায় অনেক আগে থেকেই অনেকগুলো মামলা ছিলো, নির্যাতিত ব্যক্তি আসলে একজন ভয়ংকর সমাজবিরোধী এবং সাংঘাতিক বড় অপরাধী।

অসংখ্য নির্যাতিত নিরপরাধ মানুষের ক্ষোভ মিশে ছিলো কাহারোল বীরগঞ্জের ঘটনায়, এর আগেও সেখানে ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশ ধরা পড়েছে, সেসব কারণকে নির্মূল করতে হবে , অহেতুক নিজের পিঠ বাঁচানো তদন্ত প্রতিবেদন নয় এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এর বাইরে নির্যাতনপ্রবন রাষ্ট্রের কাছে অন্য কিছুই চাওয়া নেই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29375716 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29375716 2011-05-05 16:19:12
পুষ্পিতার চার পর্বের লেখা পড়ে ভুমিকাঃ বিডিনিউজে জনৈক পুষ্পিতা চার পর্বের একটি লেখা লিখেছেন, প্রারম্ভিক পর্যায়ে সেখানে যুদ্ধাপরাধীর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছিলো, এর পর সেখানে দালাল আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ এসেছে, পরবর্তী পর্যায়ে এসেছে শেখ মুজিবের সাধারণ ক্ষমা এবং এরপর আরও অনেক আলোচনা, সেটার মন্তব্য লিখতে গিয়ে আরও বিস্তারিত লিখতে হলো]

আপনার ব্যপক তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটা পড়লাম, খুব বেশী মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি নি স্বীকার করে নিচ্ছি। তবে সূচনা পর্বে আপনি যুদ্ধাপরাধীদের সংজ্ঞা দিয়েছেন, চমৎকার সংজ্ঞা নিঃসন্দেহে, তবে ২০০৯ সালের ২৫শে মার্চ যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবনা পাশ হয়েছে সেটা

“মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ”

বিচারের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, আমাদের গণমাধ্যম বিষয়টিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে কিংবা পপুলার জার্গনে বিষয়টা যুদ্ধকালীন সময়ের অপরাধ বিবেচিত হচ্ছে বলেই স্বাভাবিক ভাবে এটাকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বলা হচ্ছে, যাই হোক আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা দিয়েই আলোচনা শুরু করতে পারি

“মানবতাবিরোধী অপরাধ”, “শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ” এই বিষয়টা আদতে কি, Crimes against humanity:

murder, extermination, enslavement, deportation, and other inhumane acts committed against civilian populations, before or during the war; or persecutions on political, racial or religious grounds in execution of or in connection with any crime within the jurisdiction of the Tribunal, whether or not in violation of the domestic law of the country where perpetrated.

আমরা বিচারের প্রেক্ষাপট এখনও নির্ধারণ করি নি, শুধু সংজ্ঞা দিয়েই শুরু করেছি,
প্রশ্ন হলো ১৯৭১ সালে এমন কোনো অপরাধ বাংলাদেশের ভূখন্ডে ঘটেছিলো কি না,
সেসবের বিবরণ কোথাও পাওয়া যাবে কি না,
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসরণে এটা ঘটেছিলো কি না,
কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় এটার ব্যপকতা বৃদ্ধি পেয়েছিলো কি না

বাংলাদেশে কি মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো
যদি হয়ে থাকে, এটার ব্যপকতা কতটুকু ছিলো
যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তারা কি কোথাও সাক্ষ্য দিয়েছেন
১৯৭১ সালে বিশ্বের গণমাধ্যমে এবং মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে কি এমন কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আপাতত আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদের যা জানা প্রয়োজন মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কাউকে দোষারোপ করা হয়েছে কি না। যদি বিশ্বে কোথাও কাউকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় তাদের অপরাধের ধরণ কেমন ছিলো।
জ্যা পিয়েরী বেম্বা গ্মবো [Jean-Pierre Bemba Gombo] কঙ্গোর উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি, তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আটক করা হয়েছে, তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন না, কিংবা তিনি কোনো সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন না, তার সশস্ত্র রাজনৈতিক সমর্থকদের নেতা হিসেবে এবং তার উস্কানীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তাকে আটক করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো ১৯৭১ এর বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কি এমন কোনো রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের অস্তিত্ব ছিলো তাদের নেতৃত্বে ছিলো কারা এবং তাদের দেওয়া বিবৃতি কেমন ছিলো


জার্মেইন ক্যাটাঙ্গা [ Germain Katanga ] কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা সশস্ত্র সংগ্রাম করছে তাদের নেতা। তার বিরুদ্ধে নিরপরাধ বেসমরিক লোকজনকে হত্যা, ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে এবং সে অপরাধে তার বিচার শুরু হয়েছে ২০০৯ সালের ২৪শে নভেম্বব।



প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কি এমন হত্যা ও ধর্ষণ কিংবা নারীর শ্লীলতাহানি এবং তাদের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে


সলেমন মোরেল [ Salomon Morel] একজন সুবিধাবাদী চরিত্র, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অধিকৃত পোলান্ডে নিজেদের ডাকাত দল তৈরি করে আশেপাশের মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করেছিলেন, পরবর্তীতে পোলান্ড মুক্ত হলে তিনি সোভিয়েত রাশিয়ার অনুগ্রহভাজন হয়ে একটি বন্দীশালার দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে আটককৃত বন্দীদের উপরে নির্যাতন চালান এবং তাদের হত্যা করেন।
তিনি যে অপরাধ করেছিলেন ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালে ১৯৯৪ সালে সে অপরাধের দায়ে তার বিচার দাবি করে Poland's Institute of National Remembrance of war crimes and crimes against humanity
তার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে বিচার সমাপ্ত হয় এবং তাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় ১৯৯৫ সালে, ইসরাইলের বাধার মুখে তাকে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হয় নি।
২০০৭ সালে তার মৃত্যু হয়

প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোনো ব্যক্তি কি এমন দস্যুতা এবং আটককৃত বন্দী কিংবা সন্দেহভাজনদের নির্যাতন ও হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় অনুহ্য রেখে তাদের কমান্ডারদের চিহ্নিত করা সম্ভব এখন পরাজিত পাকিস্তানী জেনারেল এ এ কে নিয়াজী কি বলেছেন এদের বিষয়ে


মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন আরও রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং তাদের সহযোগীগন, বিচার দীর্ঘায়িত হয়েছে, অনেক সময়ই অভিযুক্ত আটোক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া অব্যহত থেকেছে।

অবশ্যই আবুল মনসুর আহমেদ চান নি এদেশে যারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলো কিংবা তাদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্ররোচনায় কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার করেছিলো তাদের এভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। অলি আহাদও তেমনটা চান নি, আপনি যাদের কথা উদ্ধৃত করেছেন তারাও হয়তো কয়েকটি গুরুতর অপরাধ ব্যতিরকে অন্য সকল চুনোপুটি অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতি ছিলেন। কিন্তু তারা সরাসরি আক্রান্ত ছিলেন না, আবুল মনসুর আহমেদ তার নিজের বাসায় কাটিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ সময়টাতেই, তার পূত্র মাহফুজ আনাম ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করলেও তিনি এর আঁচে আক্রান্ত হন নি কিংবা নির্যাতিত হন নি।

যারা আক্রান্ত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন এবং যাদের উপরে অন্যায়ের প্রতিকার এখনও হয় নি, তারা কি ক্ষমা করেছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সেনাদের কিংবা তাদের এ দেশীয় দোসরদের

রাষ্ট্রপ্রধান, অবৈধ শাসক কি সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন সেটা মেনে নেওয়ার দায়িত্ব কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই নাগরিকের। তারা তাদের উপরে সংঘটিত অপরাধের বিচার চাইতেই পারেন, সময়, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনটাই এই বিচারের দাবির বিরুদ্ধে চলে গেলে সেটাকে প্রতিহত করে আক্রান্তের জন্য ন্যায় বিচার দাবী করা সচেতন নাগরিকের কর্তব্য, সেখানে কোনো রাজনৈতি্ক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিষ্পেষণের অভিযোগ উত্থাপন করা আপত্তিকর, কারণ তারা এই রাজণৈতিক দলের কর্মী, নেতা ও সমর্থক হিসেবেই ১৯৭১ এ এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধে লিপ্ত ছিলেন এমনটাই আক্রান্তদের অভিযোগ, সেটার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা নিছক অপরাধী, কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা আদর্শের সৈনিক নন।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29373862 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29373862 2011-05-02 20:10:20
বিবাহ বহির্ভুত আলোচনা
আমাদের ঔপনিবেশিক তোষণমানসিকতার এমন উৎকৃষ্ট উদাহরণ অন্য কিছুই হতে পারে না। ব্রিটিশ বণিক আমাদের পুন মেরেছে দীর্ঘ তিন শ বছর, সেই তিন শ বছরের পুন মারার সুখস্মৃতি আমরা ভুলেছি এমন না, বরংআমরা পশ্চিমে সেজদা দি, আমাদের কেবলা শেষ পর্যন্ত লন্ডন আর নিউ ইয়র্ক,

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কংকালের উজ্জ্বলতা ম্রিয়মান, কমনওয়েলথ সুবাদে এখনও সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কলোনিগুলো একত্রিত, সেসব দেখে রানী এলিজাবেথ, তার পূত্র এবং তার নাতি আনন্দিত হতে পারেন নিশ্চিত ভাবেই, এই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারের দায়িত্ব বাংলাদেশের কোনো না কোনো ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া গ্রহন করেছে, চ্যানেল আই দেখলাম এই উপলক্ষ্যে শফিক রেহমানকে ডেকে এনেছে বিশেষ অতিথি হিসেবে, তিনি তার রাজকীয় বিয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করবেন হয়তো।

আমাদের রাজানুগত্য প্রকাশের অন্য কোনো পন্থা কি ছিলো না, ইংল্যান্ডের পোশাকী রাজতন্ত্র তাদের ঐতিহ্যের প্রেরণা, আমাদের রাষ্ট্রপতিশাসিত রাষ্ট্রপরিচালনা ব্যবস্থায় তেমন স্থায়ী রাষ্ট্রপতির বন্দোবস্ত নেই কিন্তু আকারে প্রকারে এরা একই রকম, আমাদের ইয়াজুদ্দি আর ব্রিটেনের এলিজাবেথের ক্ষমতার সীমা একই রকম, ইয়াজুদ্দির ছেলের বিয়েতে কয়টা ক্যামেরা দৌড়ায়, আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদের ছেলের বিয়েতে কয়টা টিভি চ্যানেল ছিলো, কিন্তু সাদা চামড়ার উইলিয়াম আর কেটের বিয়ার অনুষ্ঠানে ঠিকই হাজির হচ্ছে বাংলাদেশের টিভির ক্যামেরা, সেখানে হাস্যমুখী অভিবাদনের জবাবে প্রজাগণ তোমাদের দেখে অতীব আনন্দিত হলাম বলবেন হয়তো ভবিষ্যতের রাজা, আমরা বিনয়ে আনন্দে গলে গলে যাবো।

সাহসী সাংবাদিকতা দেখাতে বাংলাদেশের টিভি ক্যামেরা কি উইলিয়ামের বাসর ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে জিজ্ঞাসা করবে " রাজপূত্র এই যে বাসর ঘরে ঢুকছেন এতে আপনার অনুভুতি কি"

সম্পাদক, সম্পাদকদের ঘনিষ্ট মানুষ, আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে যারা আছেন তাদের সবারই কোনো না কোনো ভাবে ব্রিটিশ তোষণের প্রয়োজনীয়তা আছে, তারা দীর্ঘ দিন শোষণ করেছেন এবং আমাদের ক্ষমতাসীনেরা সেই সাদা চামড়ার চোদন খেয়ে আনন্দিত হয়েছেন , কিন্তু সা্ধারণ মানুষদের এই অশ্লীল অর্গি দেখানোর মানে কি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29371748 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29371748 2011-04-29 13:36:02
দস্যুতা বিষয়ে কয়েকছত্র
লুটতরাজ করে সম্পদাহরণের অনেক নিদর্শন পাওয়া যাবে, কিন্তু ডাকাতদের রাষ্ট্রবিরোধী হয়ে উঠবার সময়টুকুও আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে, আমাদের সন্ত্রাসবাদী ঊপনিবেশবিরোধী আন্দোলনকেও বর্তমানের বিবেচনায় তস্করবৃত্তি হিসেবে অভিহিত করা যায়, সোমালিয়ার জলসদ্যুরাও দেশপ্রেমিক বিবেচিত হচ্ছে।

আমরা আক্রান্ত, আমাদের জাহাজ আটক করে নিয়ে যাওয়া শত কোটি টাকার বিনিময়ে আমাদের কয়েকটা পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে, সে টাকায় হাসছে সোমালিয়ার শিশুরা, সবাই জিতছে, উপকূলে পসরা সাজিয়ে বসে থাকা রমনী যারা এইসব জলদস্যুদের রসদ জোগায়, সেইসব চোরাকারবারী যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্রান্ডের জিনিষ পত্র বিক্রী করছে জাহাজের আটক ব্যক্তিদের কাছে, সেইসব জলদস্যু যারা কয়েক শত মাইল সমুদ্রে স্পীড বোটে টহল দেয়, আর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে ধরে নিয়ে আসে মাছ ধরা জাহাজ আর পণ্যবাহী জাহাজ আর সেসব জাহাজের নাবিকদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে তাদের অপরাধী ভাবতে সমস্যা নেই কোনও , কিন্তু তারাও দেশের মানুষের কাছে বেশ বড় বীর, হয়তো তারা সমুদ্রে নিহত হলে বীর প্রতীক উপাধি পায়, পাবে কিংবা সেলুনে যাদের বড় বড় পোষ্টার শোভা পায় আর যাদের বীরত্বের গল্প ঘুরে ফিরে ছেলে বুড়োদের কণ্ঠে, লিটলজন আর ব্ল্যাকিব্ল্যাক যখন দেশপূজ্য বীর হয়ে যায় তখন নিজের দেশের দিকে তাকালে মনে হয় আমরা কি সোমালিয়ার চেয়ে ভালো আছি

আমাদের নির্বাচিত সাংসদদের অপরাধপ্রবনতা, অনুগত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বড়সর তস্কর দল তৈরি করা এবং তাদের দিয়ে বিরুদ্ধমত দমন এবং নির্বাচনে পেশীর জোরে নির্বাচিত দেশপ্রেমিক হয়ে যাওয়ার এই স্বাভাবিক বাস্তবতাগুলো মেনে নিলে বলতে হবে এখানেও লুণ্ঠক পূজিত হয়। আমরা অযথাই বিদেশী ডাকাতদের গালাগালি করি, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে আমাদের জনমত নেই, হুদাই মার্কিন ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বড় বড় বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি গরম করি

একদল কালো পোশাকধারী দস্যু আইনের তোয়াক্কা না করে যখন যাকে ইচ্ছা তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করছে, জখম করছে, তাদের নিয়ে মধ্যবিত্তের চুলকানীর শেষ নেই, তারাই দেশের সন্ত্রাস নির্মূল করছে, তাদের দৃশ্যমান সাফল্য গাঁথা হ্যাকার মীর্জাকে দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা, বাড্ডায় দেশী মদের ঠেকে গিয়ে স্পিরিট জব্দ করা, খাদ্যে ভেজাল অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা করা, এভাবেই রাষ্ট্রের রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখছে র‍্যাব। সন্ত্রাস কমেছে এমন পরিসংখ্যান কি কেউ দেখাতে পারবে

রাজনৈতিক খুনের পরিমাণ কমে নি, দেশে প্রতিবছর আগে যে পরিমাণ মানুষ খুন হতো, র‍্যাবের বিভিন্ন দুর্ধর্ষ অভিযানের পর সেই খুনের হারও কমে নি, মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে, এখন গভীর রাতে দরজায় কেউ ধাক্কা দিলে মানুষ চিন্তিত হয়, ভাবে আজ কে এলো দরোজায়, ডাকাত, রাজনৈতিক দলের ক্যাডার না র‍্যাব, এরা সবাই বেশ সাহসিকতার সাথে দরজায় লাথি দিতে পারে।

গৃহস্বামী মাঝ রাতে চোখ ডলতে ডলতে দরজায় এসে গান ধরেন, কে তুমি এলে ওগো আমারও দ্বারে,

সন্ত্রাস নির্মুলের জন্য বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে জন্ম নিলেও র‍্যাব এখন বহুমুখী ভুমিকা পালন করছে, টয়লেট পরিস্কার করা থেকে শুরু কওরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ী বহরের ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করা র‍্যাবের দায়িত্ব ও কর্ম পরিসর বেশ বড়, মাল্টিটাস্কিং যেকোনো কিছুর দক্ষতাই সময়ের সাথে কমে, র‍্যাবের দক্ষতা এভাবেই আশংকাজনক কমে গেছে, আগের মতো শার্প শুটারও নেই তাদের, অধিকাংশই তারা সামরিক বাহিনীর সদস্য, সে কারণেই হয়তো তাদের ধারণা তাদের মতো অন্য সবার বুদ্ধি হাঁটুতে , তারা হাঁটুতে গুলি করে অবাক হচ্ছে, যা শালা এ তো মরলো না মাথায় গুলি লেগেও, আর হাটুতে গুলিবিদ্ধ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হাসপাতালের বেডে শুয়ে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ করছেন, র‍্যাবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ করছেন, র‍্যাব ভাবছে গুলিটা মাথায় না লাগলেও কাছ ঘেষে গেছে বলেই লোকটা ঠিকমতো ভাবতে পারছে না, তারা প্রতিবেদন দিচ্ছে ঃ মুলত নামের মিলের জন্যই আমরা তাকে গুলি করেছি, সে ঘটনার শিকার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29368180 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29368180 2011-04-24 00:10:46
শ্রীজাতের সঙ্গে কাতিউশার গল্প
কবিতার মানচিত্র বদলাচ্ছে ধীরে ধীরে, বাংলা কবিতায় যুগের হাওয়া হানা দিচ্ছে, অস্থির সময় আমাদের ভাবনাগুলোও বিক্ষিপ্ত দিন দিন, একটা কিছুতে দীর্ঘ সময় মনোনিবেশ কষ্টকর খুব। ব্যস্ত হাতে চ্যানেল বদলাতে বদলাতে আমাদের অবসর কেটে যায় আর সেইসব নির্লিপ্ত অবসরে শ্রীজাতের কবিতা চলে আসে,

আমাকে দ্যাখে টিভি
চোখ রাঙায়, চোখ নামায়,হাসে।

রাত বাড়লে, রোজ
আমার ঘরে দেয়াল থেকে ঝাঁপায় টিকটিকি

টিভিও তাকে কপাৎ ক'রে খায়

রিমোট হাতে সামনে বসে মুগ্ধ আমি দেখি
কীভাবে ঐ একরত্তি প্রানী
ডাইনো হয়ে যায়

অবশ্য শ্রীজাতের পাতে না উঠবারও সমুহ সম্ভবনা ছিলো, যদি ভুলে কয়েকটা পাতা উলটে যেতো, তবে শ্রীজাত আমার বগলে চেপে চট্টগ্রামে বন্ধুর বাসা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতো না। আমি খুব বেশী মুগ্ধ হয়ে অন্তত কবিতার বই কিনি নি অনেক দিন, শুক্রবারের সন্ধ্যায় যখন পুরোনো বইয়ের খোঁজে আন্দারকিল্লায় যাবো মনে করলাম, তখনও জানতাম না আমার এই ভ্রমনের শেষে আমি শ্রীজাতকে বগলদাবা করে ঘরে ফিরবো।

নিতান্ত ঠাট্টায় যখন বন্ধুকে বললাম এ বার পহেলা বৈশাখের বন্ধে তোর বাসায় যেতে পারি যদি তুই টিকেট পাঠাস তখনও জানতাম না ও ঠিকই পরের দিন সকালে মোবাইলে টিকেট কেটে পাঠিয়ে দিবে, কষ্ট করে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে টিকেট কাউন্টার থেকে নানান কসরত করে টিকেটটা হাতে পেলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। তারপর রাতে ব্যাগ গুছিয়ে পিচ্চিকে নিয়ে সোজা চট্টগ্রামে, ডিসিহিলে বর্ষবরণ দেখবো। বন্ধুর বাসা থেকে হাঁটা পথ, শুধু একটা ট্রাফিক সিগন্যাল, সেটার সামনেই ডিসিহিল আর সেখানেই সকালটা কাটাবো। চট্টগ্রামের চারুকলার শিক্ষার্থীরা চমৎকার মুখোশ বানিয়েছে, সেই সব মুখোশের আড়ালে দৈনন্দিনের অপ্রাপ্তি আর হেরে যাওয়া মুখ লুকিয়ে সবাই উল্লসিত বর্ষবরণ করতে যাবে,

তবে নিতান্ত আলস্যে কিংবা অনভ্যাসেই সকালটা বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে কাটালাম, পরের দিন দুপুরটা পার্কি বীচে কাটিয়ে যখন ফিরলাম তখন সন্ধ্যে প্রায়। চট্টগ্রামে বই কিনবে কি, চট্টগ্রামের মানুষের এত পড়ার অভ্যাস নেই। বন্ধুর কথা কেড়ে নিয়ে বললাম সেটাই তো ভালো, যেহেতু পড়বার অভ্যাস নেই তাই ঢাকার মতো বই খুজতে গিয়ে না পাওয়ার সম্ভবনা কম।

আন্দারকিল্লা বন্ধ শুক্রবার। সুতরাং চেরাগ আলী মাজারের সামনে একটা বইয়ের দোকানে ঢুকলাম, শ্রীজাতের এর আগের দুইটা পড়া কবিতার একটা ভালো লেগেছিলো, অন্যটা টানে নি, আর শ্রীজাতের বই কেনা উচিত হবে কি না এই নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বও ছিলো, তাই তাক থেকে বই নামিয়ে পূর্বের অভ্যাসেই একটা পাতা উলটে কবিতা পড়া ধরলাম, কবিতাগুলোর কোনো শিরোণাম নেই, কাতিউশার গল্পের প্রথম যে কবিতা পড়লাম সেটাই ভালো লাগলো বলে শ্রীজাতের বগল দাবা হওয়ার সম্ভবনাও বাড়লো

মা যখন কাদে,
আমি অন্য ঘরে বসে থাকি।
মায়ের কান্না'র শব্দ সাত সমুদ্র পার করে
পৌঁছায় আমার কাছে। শুনি।

মায়ের কান্নার গন্ধ হাজারটা মশলার ঝাঁঝ ফুঁড়ে
আছড়ায় আমার মুখে। শুঁকি ।

মায়ের কান্নার শপর্শ্ব রোদে মেলা জামা থেকে
টপটপ ঝরে পড়ে। ছুঁই।

শুনি, শুকি, ছুঁই .।.।.।

শুধু দরজা ফাঁক করে ভেঙে পড়া মা'র দিকে
তাকাতে পারি না।
ভয় হয় ।

মা যখন কাঁদে,
আমি অন্য ঘরে বসে থাকি।

তারপর আবারও পাতা উল্টাই কিছু না দেখেই, আর তখন ভবিতব্যের মতো শ্রীজাতের ঠিকানা হয় আমার বগল

এ মালিক, সে পরিচারিকা
মাঝরাতে পার করে স্ত্রী সন্তান সমাজ পরিখা

ওদের মিলন হলো বিছানার পাঁচ ফুট ওপরে
মিলিত শরীর দুটো শূণ্যে ভেসে থাকে, শূণ্যে ঘোরে

নীচে মেঝে। পৃথিবী। বাস্তব
এই প্রৌঢ় ফিরে গিয়ে আগুণ লাগাবে ঘরে
পুড়ে ছাই হয়ে যাবে সব

এখন, মিলন শেষে, সাইকেল চালাচ্ছে সে
মাঠ কামড়ে পড়ে আছে মরা জ্যোৎস্না । চাঁদের পদবি।

আহুতি আহুতি চাই
আহুতি আহুতি
মনে পড়ে স্যাক্রিফাইস, তারাকোভস্কির শেষ ছবি।

কবিতার ধরণ কি বদলেছে খুব, নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়। বাসা ফিরে কবিতার বই শেষ করে মনে হয় এসব কবিতা নয় শব্দের স্ন্যাপশট। একটা একটা করে শব্দ জুড়ে জুড়ে একটা ছবি, সে ছবির সাথে পরের ছবিটাও আলতোভাবে সংযুক্ত, আমাদের রোজকার জীবনযাপনের এক একটা স্ন্যাপশট পাশাপাশি সাজিয়ে দেওয়া দৃশ্যটার ভেতরে উপস্থাপনের অভিনবত্ব আছে, এইসব আলতোভাবে যুক্ত শব্দস্ন্যাপশটগুলোর আলাদা আলাদা চিত্রায়ন সম্ভব কিন্তু সেটা কি কবিতা হয়ে উঠতে পারতো, অসারবিস্তার শুধু কলেবর বাড়ায়, তাতে কবিতার মান বাড়ে না।

শমিত দা'র সাথে মাঝে মাঝেই কথা হয় ফেসবুকে, তাকে একদিন বললাম, শমিত দা এখন আর বড় কবিতা লেখার ধৈর্য্য পাই না, ১৪০ ক্যারেক্টারে কবিতা লিখি, মোবাইলের ম্যাসেজে এর বেশী সুযোগ দেয় না, বরং এই সীমিত চৌহদ্দিতে নিজের ভাবনা গছিয়ে দেওয়ার লড়াইটাই উপভোগ্য বেশী।

শমিত দা বললো আমার টুইটারে আসো, আমিও এখন ১৪০ ক্যারেক্টারে লিখছি, এর বেশী লিখতে ভালো লাগে না। আমি শমিত দার টুইটারে গিয়ে দেখি সেখানে আগে থেকেই শব্দসংকোচ আর শব্দ সংকোচন। তার নতুন আঁকা ছবি আর ফটোগ্রাফের কোলাজ দেখি, তারপর ভুলে যাই আসলেই এখন ভাবনা সংকোচনের দিনসমাগত। শ্রীজাত পুনরায় মনে করিয়ে দিলো, এভাবেই কবিতা এঁকে রাখতে হয়।

শহরের ম্যানহোলে উঁকি মারা চাঁদ , রাস্তায় খিস্তি করা বাস কন্ডাক্টর , কামিনীকাঞ্চনলোভী বিদেশী পরামর্শক, ড্রিলিং করে তেল খুজতে আসা বিদেশী কোম্পানী সবার সাথে বোঝা পরার সময় থেকে যায়।


এখনও অটোয়। 'বাড়িতে ঢুকি নি।'
'তুমি পরে কোরো। 'আপনি কেমন '
' রাস্তায় আছি' 'রাতে কথা হবে। '

সেলফোনে কারা পেয়েছে আমাকে
তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিই
অটোর আওয়াজ, ট্রামে ঘড়ঘড়
পুলিশের চোখ, মুড়ির গন্ধ

এক মুহুর্তে তাদের সঙ্গে
সিগন্যাল দিয়ে জোড়া কলকাতা

এখনও বাড়িতে ঢুকিনি যেহেতু
সেলফোনে যারা পেয়েছে আমাকে
তাদের সঙ্গে একজোট হয়ে
হাতে পায়ে ধরে কথাগুলো সব
রাতের দিকেই ঠেলে দিই .।.।.।।

বন্ধুর ঠাট্টা কিংবা বন্ধুকন্যার আহ্লাদী চোখ, ছেলের ক্লান্তি আর উচ্ছ্বাস সব গেঁথে রাখি রাতের বালিশে, আর ছেলে ঘুমানোর পর গেরস্ত হওয়ার প্রাণপন প্রচেষ্টায় ব্যস্ত বন্ধুর সাথে শেষ রাতের আলাপনে চলে আসে বুদ্ধিমত্তা, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, আমরা লোড শেডিং এ বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞা খুঁজি, আদতে বুদ্ধিমত্তা কি

পরপর ধারাবাহিক ভাবে কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারা নিম্নস্তরের প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তার ক্ররত্রিম পরিমাপ, তবে সেখান থেকেই চলে আসে ভাবনাটা, এমন ধারাবাহিক কিছু নির্দেশনার স্মৃতি ব্যবহার করে নতুন কোনো পরিস্থিতিতে নতুন কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারাটা বুদ্ধিমত্তা, অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের সমস্যাগুলোর সমাধান খোঁজা, কিন্তু সেখানেই আটকে থাকে আলোচনা, মূলত লক্ষ্যটা সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া, কেউ যদি পঞ্চাশধাপ পেরিয়ে কষ্টে সৃষ্টে একটা সমস্যার সমাধান করে সে বেশী বুদ্ধিমান না কি যে একই সমস্যা মাত্র পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করলো সে বেশী বুদ্ধিমান, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কি আমাদের বুদ্ধিমান চিহ্নিত করে না কি এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিই বুদ্ধিমত্তার অংশ, আমরা জানি না, আলোচনা হয়তো আরও ঘুরতে পারতো ভাবনার অলিগলিতে, কিন্তু সারা দিনের ক্লান্তি এসে বাগড়া দেয় আর আমি শেষ বারের মতো পাতা উলটে কাতিউশার গল্প পড়ি

উল্কা পড়ে যেসব জায়গায়
গরম বাড়ে, অনেক বড় বড়
গর্ত হয়ে যায়

চমকে ওঠে গবেষণার দিন
দু মাস পর পরিধি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে থাকে
প্যাকেট , ক্যান, বোতল, ন্যাপকিন

পাপড়ি ম্যালে ' প্রহিবিটেড জোন'
হিসেব থেকে বোঝা যায় না ঠিক কে পতন ঘটিয়েছিল
অভিমান না মধ্যাকর্ষণ

উল্কা পড়ে যেসব জায়গায়,
আস্তে আস্তে নাগরদোলা, রেস্টুরেন্ট বসে,
ক্লাউন করে খায়

কার্নিভাল কামড়ে ধরে মাটি
উইক এন্ডে আমরা যাই
টিকেট কেটে গর্তে নেমে হাঁটি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29365554 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29365554 2011-04-19 16:30:41
খেলায় পাকিস্তানকে সমর্থন করা কে কিভাবে দেখছেন
পাকিস্তান বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশে সম্ভবত একটা "মোরাল ডিলেমা" ঘটে যেতো, কোন দেশকে সমর্থন করবে বাঙ্গালীরা এটা নিয়ে একটা দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগতো , কিন্তু সেই সংশয় এবং কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে বাঙ্গালী দর্শকদের মুক্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, তাদের পরাজয়ে পাকিস্তান দিবসে অনুষ্ঠিত খেলায় বাংলাদেশীদের সম্পূর্ন সমর্থন পেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এমন আন্তরিক সমর্থনের জন্য পাকিস্তানের ক্রিকেটার এবং তাদের দেশের অনেকেই বাংলাদেশের দর্শকদের অভিবাদন জানিয়েছেন, ধন্যবাদ দিয়েছেন, তারা বলেছেন তাদের কখনই মনে হয় নি তারা বিদেশে খেলছেন, বরং তারা এক দিক থেকে বলতে গেলে হোম টিম এডভান্টেজ পেয়েছেন।

বাংলাদেশের মানুষেরা যদি অন্য কোনো দেশকে সমর্থন করে , ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারত কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা, সেটা কারো চোখেই আপত্তিকর নয়, সেটার সাথে জাতীয়তাবাদী আবেগ জড়িত থাকে না, সেটা ভালো দলকে সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া কিন্তু যদি সেটা পাকিস্তান হয় তাহলে সেখানে রাজনীতি চলে আসে, এই বিষয়টা এক ধরণের দ্বিচারিতা বললেও বলা যায় কিন্তু সেটা নিয়ে আদৌ উদ্বিগ্ন নন এই মুহুর্তে যারা বাংলাদেশী দর্শকদের এই মানসিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

ফুটবলে বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশী মানুষ ব্রাজিল আর্জেন্টিনা এবং ইতালীর সমর্থক, এই বিশাল বিস্তারের কোথাও হয়তো স্পেন পর্তুগাল আছে কিন্তু সেখানে জাপান কিংবা কোরিয়ার উপস্থিতি কম। ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা ওপরাধের পর্যায়ে পরে না এখানে, শৈল্পিক ফুটবলের দোহাই দিয়ে ল্যাটিন ফুটবলকে সমর্থন করা, স্পীডি ফুটবলের কথা বলে ইংল্যান্ড কিংবা জার্মানীকে সমর্থন করার পেছনে খেলাটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় । এবার বিশ্বকাপে আমার পছন্দনীয় ইউ এস এ ফুটবলের লড়াকু ফুটবল আমার ভালো লেগেছে, যদিও সমর্থনের পাল্লাটাতে অনেক দলই ছিলো। সেটা আমার নিজের কার খেলা দেখতে ভালো লাগে সেটার বিবেচনায় তৈরি।

এটার সাথে আমি কোনো রাজনৈতিক কারণ যুক্ত করি না, খেলা এবং রাজনীতির ভেতরে যোগাযোগ খুজতে না চাওয়া আমি বেশ আনন্দ নিয়ে অন্য একটা "মোরাল ডিলেমা" দেখবার অপেক্ষায় ছিলাম। শিবসেনার রাজনৈতিক হুমকি দেওয়ার পর যারা পাকিস্তানকে যেকোনো মূল্যে অপছন্দ করতে আগ্রহী তাদের জবান থেকে আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে বিবৃতির অপেক্ষা করছিলাম , তারা শিব সেনার এই হুমকিকে কিভাবে দেখছেন,সেটা কি সমর্থন যোগ্য, পাকিস্তান বিরোধিতার কারণে তারা কি শিবসেনাকে সমর্থন দিবেন না কি এই সম্পূর্ণ বিষয়টাতে খেলার ভেতরে রাজনীতি টেনে আনবার দায়ে ধর্মান্ধ একটি দলকে অপছন্দ করবেন

তাদের কোনো বিবৃতি চোখে পড়ে নি আমার, হয়তো তার শিবসেনা কিংবা বিজেপির এই হুংকারকে অগ্রহনযোগ্য মনে করেছেন কিংবা তাদের সাথে শিবসেনার মিল খুজে পেয়ে ভারতেও আমাদের একদল বন্ধু আছে ভেবে উৎফুল্ল হয়েছেন। ভারত পাকিস্তানের কাউকেই খেলা দেখতে যাওয়ার অনুমতি দিতে চাইছিলো না, বোমা হামলা এবং রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে এই ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করলে সেটা সমর্থনযোগ্য কিন্ত সেটা গ্রহনযোগ্য হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন, এই একটি ধারণাকে শক্তিশালী হতে দিলে মানুষের শুভবোধের উপরে আস্থাহীনতাকেই প্রকট বৈশিষ্ঠ হিসেবে দেখতে হয়।

পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সমর্থন জানানো নিয়ে একজন সাবেক সচিব ব্যপক গালমন্দ করেছেন জাতীয়তাবাদী অবস্থান থেকে, আজ হাসান ফেরদৌস নিউ ইয়র্ক থেকে শোভন ভাষায় এর নিন্দা জানিয়েছেন প্রথম আলোতে। বাংলাদেশের যুবকেরা বন্দে মাতরম গাইলে সেটা যখন আপত্তিকর বিবেচিত হয় না সেখানে কেউ পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত জানলে কেনো আপত্তিকর হয়ে উঠে জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টা নিয়া যেই আদর্শিক সংকট সেটাকে কে কিভাবে মোকাবেলা করে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29359199 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29359199 2011-04-08 14:00:18
উপাসনা ব্লগিং বুবস প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক ব্লগ প্রতিযোগীতায় সামহোয়ারইন এর ব্লগার ইমন জুবায়ের কে ভোট দিন

এই মুহূর্তে সামহোয়্যার ইনের শীর্ষে ঝুলে আছে ভোটচাই বিজ্ঞাপন, ইমন জুবায়েরের পক্ষে ভোট চাওয়া এই পোষ্ট শীর্ষে ঝুলানোর কোনো স্বজনপ্রীতিকর ব্যাখ্যা হয়তো কতৃপক্ষের আছে, সচেতনতা কিংবা সবাইকে জানানোর বিষয়টাও হয়তো সামনে আসবে, কিন্তু এই শিরোণাম সেটাকে মোটেও সম্মানজনক কিছু করছে না।
আত্মসম্মানবোধ থাকলে স্বয়ং ইমন জুবায়ের এসেই অনুরোধ করতেন এই পোষ্ট শীর্ষে থেকে নামিয়ে দিতে কিন্তু তিনি সেটাকে উপভোগ করছেন, লজ্জা কিংবা ব্রীড়ার কারণে চুপ আছেন না কি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লোভে অন্ধ এবং মান সম্মান বিসর্জন দিয়েছেন





অন লাইন ভোটিং প্রচারণায় বাঙালিরা এগিয়ে আছে অন্যদের চেয়ে। প্রায় পাচ বছর সুন্দরবন এবং কক্সেসবাজারকে সেরা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে শুরু হওয়া ভোটিং ম্যাশিনের জড়তা এখন কাটে নি। আমরা ভোট দানে অত্যুৎসাহী এবং নিবেদিত প্রাণ। প্রায় উপাসনার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছি আমরা অন লাইন ভোটাভুটিকে। সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য করতে বাংলাদেশ থেকে যতগুলো ই মেইল আইডি খোলা হয়েছিলো সেসবের কতগুলো এখন একটিভ সে পরিসংখ্যান আমার জানা নেই তবে ই স্প্যামিং এর মতো প্রতিদিন দশটি বিশটি ইমেইল আইডি খুলে সুন্দরবনকে সেরা করবার আগ্রহকে বাঁকা চোখে দেখলে সেটা তারুণ্যের দেশপ্রেমের প্রতি কটাক্ষ বিবেচিত হতে পারে, আমাদের নিজের দেশকে সেরা দেখতে চাওয়ার আগ্রহকে আমাদের স্বীকৃতিবিহীন অস্তিত্বের জন্য অন্যতম প্রধান অনুঘটক কিংবা উদ্দীপনাও বলা যেতো, যে কারণে ইউনুস দেশের মুখ উজ্জ্বল করবার গরিমায় প্রশ্নাতীত একটি অবস্থানে নিজেকে স্থাপন করতে পেরেছে।

লাক্স চ্যানেল আই ফটোসুন্দরী, ক্লোজ আপ মিউজিক ট্যালেন্ট হান্ট কিংবা বিভিন্ন চ্যানেলের তারকা নির্মাণের ব্যধী আক্রান্ত সময়ে আমাদের এসেমেস ভোটিং অভ্যস্ততা, মেইল আর অন লাইন ভোটিং এর সাথেই বেড়েছে, আমরা এখন জনমত, গণমত সবই নির্মাণ করতে পারি।

গত বছর বেস্ট অফ ব্লগস প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলো জার্মাণ রেডিও, ডয়েচে ভেল, গতবার সেরা ব্লগার হয়েছিলো আলী মাহমেদ শুভ, এ বছর নতুন প্রতিযোগিতায় অসংখ্য বাংলা ব্লগের জয়জয়াকার। এই ব্লগ প্রতিযোগিতা কি শেষ পর্যন্ত ইগোর লড়াই হয়ে যাবে, আমি নিশ্চিত না এখনই। ইমন জুবায়েরের তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ, সাবরিনার ব্লগ কিংবা মাসুম ভাইয়ের ব্লগের মাণ খারাপ এটা বলা যাবে না। আইরিন সুলতানা কিংবা অন্য যারা আছে তারাও যে খুব বাজে এমনও না।

তবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে সোশ্যাল ক্যাম্পেইন ক্যাটাগরিতে পিয়াল ভাই। পিয়াল ভাই দীর্ঘ দিন ধরেই একটা ইস্যু নিয়েই জনসচেতনতা গড়ে তুলছেন, তার এক একটা ব্লগের পেছনে যে পরিমাণ নিষ্ঠা আর পরিশ্রম জড়িয়ে আছে সেটা বাদ দিলেও শুধু লিখবার ক্ষমতা বিবেচনা করলেও তিনি বাংলা ব্লগের সেরা একজন ব্লগার।

ব্লগার হিসেবে সেরা বাংলা ব্লগার এখন পর্যন্ত আরিফ জেবতিক।তার ব্লগের রাজনৈতিক উপাদান এবং অরাজনৈতিক উপাদান এবং তার কৌতুকবোধ ও পরিমিতিবোধের সাথে তার আবেগ উৎপাদনের স্বকীয় ক্ষমতার কারণে তাকেও সেরা ব্লগারের তালিকায় রাখা যায় অনায়াসে।

এছাড়াও আরও দুইটি ক্যাটাগরীতে বাংলাভাষার ব্লগ এগিয়ে আছে। বাংলা ভাষার ব্লগের কম্যুনিটিবোধ কিংবা বিচ্ছিন্ন ব্লগিং থেকে যাত্রা শুরু না করায় কম্যুনিটি ব্লগের একজন হিসেবেই ব্লগিং করার কারণে বাংলা ভাষার ব্লগারদের পারস্পরিক পরিচিতি এবং মান অভিমাণ ও ইগোর লড়াই প্রচন্ড। সেটা এই প্রতিযোগিতায় অন্যতম নির্ণায়ক হয়ে উঠবে এমনটাই আমার অনুমাণ। বাংলা ভাষার একটা ব্লগ সেরা ব্লগের পুরস্কার পাক, বাংলা ভাষী একজন সেরা ব্লগার হোয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা থেকে কম্যুনিটি ব্লগের সদস্যরা সবাই বাঙলা ভাষার ব্লগারদের ভোট দিচ্ছেন। এবং একই সাথে দৈনিক একটি ভোট প্রদানের সুযোগকেও কাজে লাগিয়ে এটাকে নিয়মিত উপাসনার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন কেউ কেউ।

ভোট চাওয়ার পোষ্টার ছাপায় নি কেউই, যারা এই মুহুর্তে সেরা ব্লগার তাদের কেউই তেমন আত্মসম্মানবিবর্জিত কেউ নন, তাদের স্বকীয় অবস্থান এবং ব্যক্তিত্বের কারণে তারা এইসব হ্যাংলামি করবেন না। মনোনীত সেরা ব্লগারদের তালিকা এবং তাদের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ দেখে আমার মনে হচ্ছে এটা ইগোর লড়াই হয়ে যাবে একটা পর্যায়ে, বহুভাগে বিভাজিত বাংলা ব্লগের আভ্যন্তরীণ বিভাজন রেখাটুকু উন্মুক্ত করে দিবে এই প্রতিযোগিতা একটা পর্যায়ে। আর ব্যক্তিগত ফ্যান বেইস ফলাফল নির্ধারণে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে, সচলের অনুগত ফ্যানবেইস ততটা মজবুত নয় এটা দেখা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে আমু সামুর ভেতরে একটা প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে।

সবই আমার অনুমাণ, যেকোনো কিছুর ভেতরে নিয়মের ভেতরে থেকেই যতটুকু করা যায় ততটুকু করতে পারঙ্গম আমরা। আমাদের নিজস্ব আবেগে আমরা যেকোনো প্রতিযোগিতার নিয়মনীতিকে ঠুনকো বানিয়ে দিতে পারি। আমার জানা ছিলো না দৈনিক একটা করে ভোট দিয়ে মতামত ম্যানিপুলেশনের কোনো সুযোগ আছে, কিন্তু দেখা গেলো এমন একটা ফাঁকি রয়ে গেছে এখানে।

যারা সেরা ব্লগার তাদের এমন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন কতটুকু আমি জানি না, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে সেটা আমাদের সঙ্ঘবদ্ধতাকে আরও বলিষ্ঠ করবে কিন্তু এভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং প্রচারণার জোরে সেরা ব্লগার হলে সেই পুরস্কার কি খুব বেশী অমলিন থাকবে ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29356936 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29356936 2011-04-04 17:24:00
উই হ্যাভ বলস
যেহেতু রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলামকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব না সে কারণে সকল ধর্মকেই বিশিষ্ট অবস্থান দিয়ে সকল ধর্মকেই রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার পথে যাত্রা করা সম্ভব। , কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং কলেমা আমাদের কলবে কলবে এই প্রমাণ রাস্তা জুড়ে নিশান লাগিয়ে সবাইকে জানান দেওয়া অনর্থক।।

হোটেল সোনারগাঁও এর সামনে ৭টা রিকশা সাজানো, হঠাৎ করে দেখে চমকে উঠলাম, ঢাকা শহরের অবৈধ রিকশা, সিএনজি এইসবের ভাগার পুরানা এয়ারপোর্ট, সেখানে হাজার হাজার এমন জিনিষ ফেলে রাখা, সেখান থেকে ৭টা রিকশা তুলে এখানে রাখা হয়েছে কেন না কোনো না কোনো শহরসজ্জ্বা পরিকল্পক মনে করেছেন রিকশা আমাদের স্বদেশী সংস্কৃতির অন্যতম অনুসর্গ।

সেই রিকশার পেছনে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, জাতীয় ফল, জাতীয় বৃক্ষ , জাতীয় পাখী এবং জাতীয় পশুর ছবি সাঁটানো, তবে রিকশার উদ্দেশ্য কিন্তু সেইসব জাতীয় পরিচয়চিহ্ন তুলে ধরবার নয়, বরং বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীতে রিকশার পেছনে জাতীয় ফলক সজিয়ে বিশ্ববাসিকে আমন্ত্রন জানাচ্ছে বিশ্বকাপের মহোৎসবে যোগদানের জন্য

সেখান থেকে একটু দুরেই সুন্দরবন, চিত্রল হরিণ সপরিবারে মধ্যাহ্ন ভোজনে ব্যস্ত, গত সাফ গেমসে সোনার গাঁও মোড়ে দুটো বাঘের মুর্তি বানানো হয়েছিলো, সেটাও বিডিনিউজের বিজ্ঞাপনের দিকে ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে থাকে, বাংলার বাঘ আর বাংলার বাঘ্রশাবকের শরীরের একটাই অসংগতি, তাদের শরীরের তুলনায় মাথাটা ছোটো, আমাদের আশরাফুলের মতো বাঘের ছানার মাথাও ছোটো, ঘিলু কম, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটে নি বাঘের। মাথামোটা অকৃতজ্ঞ বাঘ আমাদের জাতীয় পশু , তারা বাংলা ভাষার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ভারতে অভিবাসী হয়ে যাচ্ছে।

সেখান থেকে রাস্তার দিকে তাকালে দেখা যাবে নৌক, সমস্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় নৌকা ফেলানো, এত এত নুহের কিস্তি সাজানো ঢাকা শহরে, কিন্তু সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য নুহের কিস্তির ব্যবহার কোন উজবুকের মাথা থেকে আসলো সেটা আমার জানা নেই। আমি ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে বুঝলাম এটা বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের দেওয়া মেসেজ, আগামী ২০৫০ সালের ভেতরেই বাংলাদেশের বেশ বড় একটা অংশ তলিয়ে যাবে , বৈশ্বিক উষ্ণতাবৃদ্ধির কারণে জলবায়ু তহবিলে বাংলাদেশের বেশ অংকের টাকা পাওনা, সেটা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এই আয়োজন, প্রতিটি রাস্তায় নৌকার সামনে সাল লেখা থাকবে, যদি জলবায়ু তহবিলের অর্থ না পাই ২০৩০ সালে এই রাস্তা পর্যন্ত তলিয়ে যাবে, সেটা গিয়ে ঠেকবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে, সেখানে লেখা থাকবে ২০৫০ সালের ভেতরে বাংলাদেশ তলিয়ে যাওয়ার পর গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসবার জন্য মার্সিডিজ বেঞ্জের বদলে প্রধামন্ত্রীকে এই কিস্তি ব্যবহার করতে হবে। আমাদের নৌবাহিনী তখন হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের পুলিশ আর ট্রাফিকেরা ঢাকা শহরের রাস্তায় নৌকার চলাচল নিয়ন্ত্রন করবেন, লাল বাতি আর সবুজ বাতির সিগন্যাল মেনে নৌকা চলবে শহরে

আর সন্ধ্যার ঢাকার রাস্তা দেখলে মনে হয় হঠাৎ করেই কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি, চারপাশে লাল নীল বাতি সাজানো, আর আরও আশ্চর্য এবং লজ্জাস্কর বিষয় হলো শেরাটন থেকে মিরপুর স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তার অনেকাংশ জুড়েই রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টে একজোড়া আলোকিত বীচি ঝুলিয়ে রেখেছে দামাল ছেলেরা। বিদেশী নাগরিকেরা ল্যাম্পপোষ্ট দেখেই বুঝবে আর কিছু না হোক, দিজ বাঙ্গালী গাইজ হ্যাভ বলস, নো ওয়ান্ডার দে লিভ ইন দা মোস্ট ডেন্সলী পপুলেটেড এরিয়া ইন দিস হোল ওয়ার্ল্ড। যদি হার্ণিয়া অপারেশন করে ঢাকা শহরের সমস্ত ল্যাম্পপোষ্ট জুড়ে ঝুলে থাকা এই বড় বড় বীচে ফেলে দেওয়া যেতো তাহলে ঢাকা শহরের সৈন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি পেতো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29328395 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29328395 2011-02-17 12:13:44
একটা নোবেল প্রাপ্তির সুখবর
দেশের দুটো গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদনের উপসংহারে বলেছে " দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করবার চক্রান্তে লিপ্ত আছে বিদেশী রাষ্ট্রের এজেন্টগণ।" তবে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী বলেছেন 'কোনো চক্রান্তেই এ দেশের গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করা সম্ভব হবে না।'

আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ 'জনকল্যানে নিবেদিত প্রাণ', তাদের একাংশ পেশাজীবী রাজনীতিবিদ, অর্থ্যাৎ রাজনীতিই তাদের রুটি রুজির উৎস, তারা জনকল্যানের কথা ভেবে এত সময় ব্যয় করেন যে অন্য কোনো পেশায় মনোনিবেশ করে তারা নিজেদের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করে উঠতে পারেন না।

তারা যখন বিবৃতি দেন তখন তারা পরস্পরকে দোষারোপ করেন, রাজনীতিবিদগণ পরস্পরকে সেলসম্যান মনে করেন, তাদের জীবনের একটাই উদ্দেশ্য, এই দেশটাকে বিক্রী করে দেওয়া, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল এবং ভারতের উদ্দেশ্যসফল করতে ব্যতিব্যস্ত রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের সাথে পাকিস্তানের দালালদের পরিচয়ও আমরা জানি, আমরা প্রতিদিনই তথ্য অবমুক্তি আন্দোলনের সুবাদে জানতে পারি কোনো রাজনৈতিক দলই আসলে বিশ্বাসযোগ্য নয়, আমাদের দেশটা যেকোনো সময়ই বিদেশী কোনো দেশের কাছে বিক্রী হয়ে যেতে পারে, সাবঅল্টার্ন পোমো মানুষেরা চাইছে দেশটা যদি বিক্রী হয়ে যায় তাহলে সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রী হলে ভালো, সেখানে যেতে ভিসার বাধ্যবাধকতা থাকবে না তখন।

আমাদের সমাজতন্ত্রী রাজনীতিবিদদের পূত্র-কন্যারা কেউই এখন সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় কিংবা চীনে যাচ্ছেন না, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন কিংবা তাদের জীবিকা ও বসতি সেখানে। হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ, সবারই পূত্র-কন্যাদের বসতি আটলান্টিকের ওপারে, এপারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন রাজনীতিবিদগণের পূত্র-কন্যারা। প্রাক্তন বিলাতের বিভিন্ন শহরেও তারা আছেন, ইঙ্গ-মার্কিনীদের কাছে দেশটা বিক্রী হয়ে গেলে সবচেয়ে ভালো থাকবেন তারাই, তাদের পূত্র-কন্যার সাথে মোলাকাতের জন্য তখন আর ভিসার আবেদন করতে হবে না।

এইসব রাজনীতিবিদগণের চোখ এয়ারপোর্টের স্ক্যানিং মেশিনের চেয়ে শক্তিশালী, তারা অনেক সাধারণ ঘটনার ভেতরেও ষড়যন্ত্রের নীলনকশা খুঁজে পান, তারা যেকোনো বক্তব্যেই রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের গন্ধ পান, গত ২ বছর ধরে আওয়ামি লীগের নেতা-কর্মীদের নাকে শুধু একটাই গন্ধ আসে, তাদের চোকহ মেললেই তারা দেখেন রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, তাদের শরীর ও চেতনা একলক্ষ্যেই নিবেদিত, যেকোনো মূল্যে স্বাধীনতার চেতনা রক্ষা করতে হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে বিরোধী দল, জামায়াত যার অন্যতম সহযোগী গত ২ বছরে যা যা করেছে তার বিভিন্ন তালিকা আমাদের সরকারী দলের নেতাকর্মীরা প্রদান করেছেন, তারা খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে, সিন্ডিকেট করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তারা শেয়ারবাজার হস্তক্ষেপ করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে, তারা সীমান্তে গিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে, এবং সেসব ষড়যন্ত্রের গন্ধ আমাদের স্বদেশপ্রেমীদের নাকের ফুটো এঁড়াতে পারে নি। তারা ঠিকই কুকুরের মতো গন্ধ শুঁকে বুঝে ফেলেছেন কার বক্তব্যের নেপথ্য কি গন্ধ লুকানো।

আজ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে ডেইলি স্টার লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছেন, মনে হলো আমাদের রাজনীতিবিদদের প্রতিভার অবমূল্যায়ন করছি আমরা, আমাদের উচিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তাদের মানবকল্যানমূলক কোনো পেশায় নিয়োজিত করা।

ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠির উত্থানের ফলে বিশ্বের প্রতিটি দেশের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিদিন, প্রতিদিনই আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ, আর আমরা আমাদের প্রধানতম নিরাপত্তা বলয়ের সমুচিত ব্যবহারে কার্পন্য করছি, তাদের বিনা বেতনের পেশাজীবী রাজনীতিবিদ হিসেবে স্বদেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রেখে বিশ্বের অকল্যান ডেকে আনছি, অথচ তাদের এই সহজাত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা অনেক বেশী বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করতে পারতাম।

আমাদের বিশেষ রাষ্ট্রীয় কমিটি গঠন করে এইসব গন্ধশুঁকিয়ে দক্ষ মানুষদের বৈশ্বিক মানবতার কল্যানে নিয়োগ করা উচিত। আমাদের তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তির অধিকারী এইসব রাজনীতিবিদদের আমরা এয়ারপো্র্টে নিয়োগ দিবো, এদের নিয়োগ দিবো বিশ্বের বিভিন্ন কনটেইনার সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থার কেরানী হিসেবে, তাদের দিয়েই এয়ারপোর্টে স্ক্যানিং করবো, আকাশপথে যাতায়তের নিরাপত্তাহীনতায় প্রতিটি ট্রান্স আটলান্টিক ফ্লাইটেই দুজন নিরাপত্তা রক্ষীকে বহন করতে হয়, এমন অসংখ্য মুল্যবান অপচয় একেবারেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব আমাদের রাজনীতিবিদদের এইসব কাজে নিয়োগ দিলে।

তারা গন্ধ শুঁকেই বলে দিতে পারবেন কোন কার্গোটাতে বিস্ফোরক লুকানো, কোন মানুষটার ভেতরে বিমান হামলার ক্ষীণ ভাবনা চলমান সেটাও তারা বলে দিতে পারেন, তারা রাস্তায় নেমে দু দিকে দৃষ্টি দিলেই বলে দিতে পারেন কারা কারা মানবতাবিরোধী চক্রান্ত লিপ্ত, এইসব সুপারম্যানদের দেশের অকল্যানে নিয়োজিত না রেখে আমরা যদি বিদেশে পাঠিয়ে দিতে পারি তাহলে আমাদের বৈদেশিক মূদ্রা ও সম্মানের অভাব কখনও হবে না।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি গত দু বছর ধরেই বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের গন্ধ শুঁকে শুঁকে নিদ্রাবিহীন রাত্রিযাপন করছেন তাকে প্রধানমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে যদি আমরা বোমাহমলাপ্রবন যেকোনো দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগী করে ফেলতে পারি তাহলে সেসব দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে, এমন কি মানবকল্যানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবার জন্য তিনি প্রার্থিত নোবেলও পেয়ে যেতে পারেন। ইউনুসের মতো দরিদ্র মানুষকে ক্রমশ খুন করে নয় বরং অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে পাওয়া এই নোবেল আমাদের অত্যন্ত সম্মানজনক অর্জন হবে , আসুন আমরা দলে দলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ইলেক্ট্রনিক এবং বেয়ারিং চিঠিতে আবেদন জানাই, তিনি এইসব গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে প্রধানমন্ত্রীত্বে অব্যহতি দিয়ে আমাদের নোবেলপ্রাপ্তির সম্ভবনা বৃদ্ধি করুন। সবাইকে সহযোগিতার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29324960 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29324960 2011-02-12 13:30:43
রক্তের প্রয়োজন গ্রুপ - AB+
যোগাযোগ- ০১১৯ ১১৯ ৩৬২৩]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29193643 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29193643 2010-07-06 14:05:08
মাননীয় নির্বোধ সাংবাদিকেরা যুদ্ধাপরাধীর তালিকা বিনির্মাণে একটু দায়িত্ববোধের পরিচয় রাখুন, অন্তত তদন্ত কমিটিকে সময় দিন
নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতার সাথে আন্তরিকতার মিশেল ঘটলে এই তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে কোনো সংশয় তৈরী হওয়ার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত ভাবে আমি তদন্ত কমিটির কাউকেই চিনি না বলে নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না, তবে তারা ৭১এর যুবক, সুতরাং তাদের আন্তরিকতা প্রশ্নে সংশয় নেই আমার।

আন্তর্জাতিক একটা রীতি বিদ্যমান, এখানে আদালতের রায়ে দোষী সব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী স্বীকৃতি দেওয়া মূলত বিচারের রায়কে প্রভাবিত করবার মতো একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং সংবাদ মাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষদের এ বিষয়ে আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। তারা , বিশেষত প্রথম আলো- ডেইলী স্টার, এবং আমাদের সময়, স্কুপ নিউজ এবং ব্রেকিং নিউজের তাড়নায় তাড়া করছেন এই তদন্ত কমিটির সদস্যদের। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এক সপ্তাহও হয় নি। তাদের সংগৃহীত তথ্য উপাত্ত যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ এবং একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হবে। তবে আমাদের প্রথম আলো-ডেইলী স্টার এবং আমাদের টিভি মিডিয়ার সাংবাদিকদের সে সময় কোথায়? তারা বাসর রাতে সতীচ্ছদ ছিন্ন হওয়ার আগেই আশা করে বসে থাকেন সন্তান হবে এবং সন্তানের জন্য তারা ওয়াকিং প্যাড কিনে রেখেছেন। বিবেচনাবোধের এমন ঘাটতি অন্য কোনো দেশের মিডিয়ায় দেখা যায় না। টাইমের একটি রিপোর্টের জন্য দুজন সাংবাদিক ৪ বছর খেটেছেন, এবং অবশেষে তারা পঞ্চম বছরে এসে তাদের রিপোর্ট প্রদান করেছেন, বাংলাদেশের তদন্ত কমিটির কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার জন্য খানিকটা সময়তো দিতে হবে তাদের। প্রতিনিয়ত টিভিক্যামেরার তাড়া খেয়ে তারা কতটুকু অগ্রগতির সংবাদ জানাতে পারবেন? তাদের তো পড়তে হবে, বিবেচনা করতে হবে, একটা গ্রহনযোগ্য অভিযোগ পত্র দাখিল করতে হবে। বিষয়টার অনেক আনুসাঙ্গিক বিষয়াদি আছে, আবেগের বশবর্তী হয়ে একটি ফালতু ট্রায়াল করে তো লাভ নেই।

কম্বোডিয়ায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিলো ২০০৫ সালে, সে তদন্ত কমিটি ২০০৮ সালে এসে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করতে পেরেছে। অনেক রকম অন্তর্ঘাত ছিলো সেখানে, ক্ষমতাসীনেরা আন্তরিক ছিলো না, কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আলাদা, এখানে সরকার আন্তরিক, তবে আন্তরিকতার অভাব মিডিয়া এবং বিরোধী দলের। মিডিয়া কিংবা আরও স্পষ্ট করে বললে মিডিয়ার অত্যাধিক বাড়াবাড়ী বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে এমনটাই আমার অনুমান। মিডিয়াকে আরও সংযত ভুমিকা পালন করতে হবে। ফলপ্রত্যাশা করা এবং সুন্দর সমাপ্তির আশা করা আশাবাদী মানুষের কাজ, তবে মিডিয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত হয়ে মিডিয়াকে আরও বেশী সংযত এবং সংহত আচরণ করতে শিখতে হবে। এবং যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের মিডিয়া সম্পাদকদের ডেকে স্পষ্ট জানানো উচিত তারা কোথায় তাদের সীমারেখা অতিক্রম করছে।

পাপ্পারাজ্জির ভুমিকায় দেখতে চাইছি না আমি সাংবাদিকদের। বরং তাদের মানুষের প্রতি সহানুভুতিশীল একদল সংবাদপত্র কর্মী হিসেবে ভাবতেই আমি সাচ্ছন্দ্য বোধ করবো। তারা পাপারাজ্জির মতো তদন্ত কমিটির সদস্যদের পেছনে ধাওয়া না করে অন্য কোনো উপায়ে সংবাদ সংগ্রহ করে তাদের ব্রেকিং নিউজের পাতা ভরিয়ে তুলুন সমস্যা নেই, কিন্তু একটা সীমারেখা বজায় রাখা প্রয়োজন।

যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছিলাম আগে, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এলজিআরডি মন্ত্রী এবং সরকারের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের বক্তব্যের সমন্বয়হীনতা এত বেশী প্রকট যে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলো। এখনও সে সমন্বয়হীনতা কাটে নি। তদন্তকমিটি গঠিত হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের ধারা হওয়া উচিত ছিলো তদন্ত কমিটি নিজেদের কাজ করছে, তারা তদন্ত শেষে যা সিদ্ধান্ত দিবে, যেভাবে অভিযোগপত্র সাজাবে, সে সাজানো অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল কাজ করবে, ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পরে তাদের বক্তব্য প্রকাশের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং তারা যদি হ্যান ত্যান বলে একে তাকে যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা দেন কিংবা সাংবাদিকদের এমন সব প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং সেটা যখন দৈনিকে ছাপা হয় তখন সাধারণ মানুষের ভেতরে সংশয় তৈরি হয়।

বিএনপি আজ তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, জামায়াত ঘোষণা দিয়ে প্রতিহত করবার, এইসব ক্ষেত্রে তদন্তকমিটি ব্যতিত অন্য যেকোনো ব্যক্তির আলটপকা মন্তব্য কিংবা এখতিয়ারবহির্ভুত মন্তব্য শুধু সংশয় বৃদ্দি করবে এবং তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এবং এমনটা চলতে থাকলে স্বয়ং বিচারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

৩৯ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করেছে সুবিচার এবং ন্যায় বিচারের। সামান্য কয়েকজন নির্বোধ এবং অশোভন সাংবাদিক এবং একই রকম নির্বোধ জননেতাদের অহেতুক বাক্যব্যয়ে সেই ন্যায়বিচার যদি হুমকির মুখোমুখি হয় সেটা হবে আরও বেশী দুঃখজনক।

সুতরাং একটা প্রস্তাব পাঠানো যায়, সেটা প্রধানমন্ত্রী[ ইদানিং বাংলাদেশের যে অবস্থা এবং সরকারের আন্তবিভাগীয় সংযোগের যে দুরাবস্থা, তাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ব্যতিত কোনো কিছু করা কঠিন] দেশের সকল সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের সংবাদের সম্পাদকদের ডেকে ব্যখ্যা করে বলবেন, তিনি সুন্দর করে তাদের সীমারেখা জানিয়ে দিবেন, এবং একই সাথে তিনি আইনমন্ত্রী,উপআইনমন্ত্রী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং তার উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিবেন যেনো তারা যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে যেকোনো সাংবাদিকদের প্রশ্নের একটা মাত্র উত্তর প্রদান করেন, তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে, তারাই অভিযোগ গঠন করবেন এবং তারাই জানাবেন কাকে কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সম্পাদকদের ডেকে অনুরোধ করবেন যেনো তারা এমন নিউজহান্ট করতে গিয়ে খোদ ট্রাইব্যুনালকে হত্যা না করে, সুতরাং সরকার ট্রাইব্যুনালের জন্য একজন মিডিয়া করেসপন্ডেন্স নিয়োগ দিবেন এবং সে করেসপন্ডেন্সের কাছেই যুদ্ধাপরাধের যাবতীয় এনকোয়ারী করবে সাংবাদিকগণ। যদি কোনো সাংবাদিক এই নির্ধারিত সীমারেখার বাইরে গিয়ে কোনো আচরণ করেন তবে সেটা আইনবহির্ভুত গণ্য হবে। এবং এটাকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রন করা হবে। এই মেসেজটা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

সংকট হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা নিয়ে, তদন্ত কমিটির সদস্যগন সাধারণ মানুষ, তবে তাদের উপরে আরও বড় একটি দায়িত্বের বোঝা রয়েছে, তাদের যেকোনো ভ্রান্তি কিংবা মানবীয় ভুল একজন সাম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির সনদ হয়ে যেতে পারে, অভিযোগ যথাযথ না হলে আদালত এমন কি নিশ্চিত খুনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও দায়মুক্ত করে দিতে পারেন, সুতরাং তাদের আরও বেশী মনোযোগী হয়ে কাজ করবার নির্বিঘ্ন পরিবেশের ব্যবস্থা করে দেওয়া আমাদের সকলের কর্তব্য। সাংবাদিকগণ নিজেদের মনমতো তালিকা নিয়ে হাজির হচ্ছেন এবং সে তালিকা প্রকাশ করছেন নিজেদের দৈনিকে। এক একটা সংখ্যা জানিয়ে দিচ্ছেন এবং সেটা ব্রেকিং নি্উজ কিংবা এমন কিছু একটা হিসেবে ছাপা হচ্ছে। এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ বিষয়ে সরকারের নির্লিপ্ততা আমাকে আরও বেশী বিভ্রান্ত করছে।

দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতার নজির দেখেছি অনেক, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝা সাংবাদিক এবং একই সাথে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হওয়া রাজনীতিবিদদের এই সম্মিলন দেখে নিজেই চিন্তিত আদৌ বিচারের কাঠগড়ায় কাউকে আনা সম্ভব হবে কি না। সুতরাং সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটু দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29128064 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29128064 2010-04-03 00:33:42
জামায়াতের নেতাদের পূত্র-কন্যা যারা এখন অনলাইন ফোরামে লিখেন তাদের প্রতি আহ্বান
বাবা হিসেবে তারা ১৯৭১ এ নিজের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত বলেই সম্ভবত সরাসরি বলতে পারেন নি তাদের কৃত অপরাধের কথা। কাদের মোল্লার ছেলে কি নিজের পিতার অপরাধের প্রতিরোধে তার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবে? আমি জানি না, তবে কাদের মোল্লা যখন প্রেসক্লাবে বললো মুক্তিযোদ্ধাদের নারীদের লোভে যুদ্ধ করেছে তখন সেই ছেলে কি বাবার কথার প্রতিবাদ করেছিলো? আমি জানি না। আমার সাথে তার দেখা হয় নি এরপর।

কামরুজ্জামানের ছেলে অভিমান করেছিলো, তার বাবাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ধাওয়া করায়। নিজের ক্ষোভ সে প্রকাশ করেছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের কুত্তার বাচ্চা বলে, বিষয়টা আলোড়ণ সৃষ্টি করলেও কতিপয় ডানপন্থি অনলাইন বুদ্ধিজীবি তাদের সমর্থন করেছিলো। ফারজানা মাহবুব সেদিন ওয়ামীর সমর্থনে বলেছিলো পিতার অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ আবেগান্ধ হয়ে এমন কিছু বলে ফেলতেই পারে।

আরিল কিংবা জানা'র অবশ্য এতে সমস্যা হয় নি। তার ব্যবসা টিকে আছে বহাল তবিয়তে। সামহোয়্যার কলেবরে বেড়েছে, সামহোয়্যারে বেড়েছে জামাতএর প্রচারণা, শুয়োরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করেছে কেউ কেউ। সামহোয়্যারের নিজস্ব নীতি কিংবা সুযোগসন্ধানী নীতিপরিবর্তনকে মেনে নেওয়ার আগ্রহ আমার নেই।

যে সত্য আমরা এতদিন জানতাম, জামায়াত এত দিন সে সত্য প্রকাশ করে নি। তারা বিভিন্ন পর্যালোচনা করছিলো কিংবা তাদের মজলিশে সুরার সুরাসক্ত নেতাগণ বিভিন্ন বিষয়াদি পর্যালোচনা করে অবশেষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ১৯৭১ এ রাজনৈতিক কারণে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। সে রাজনৈতিক কারণটা অবশ্য উল্লেখ করে নি তারা। তবে মুসলিম উম্মাহ এবং পাকিস্তানের অখন্ডতা বিষয়ে কোনো বক্তব্য জড়িত থাকবে এর সাথে।

পাকিস্তানকে ইসলামিক ইডিওলজিক্যাল রাষ্ট্র বিবেচনা করে পাকিস্তানী অসাম্প্রদায়িক জাতিয়তাবাদের বদলে মুসলীম জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণাটা ব্যর্থ হয়েছে বলেই বাংলাদেশের জন্মটা অবসম্ভাবী হয়ে উঠেছিলো। পাকিস্তানের একদল রাজনীতিবিদ বলেছিলেন পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার পুরাতন খান্দানী মুসলিম রাষ্ট্র সমুহ ইসলাম রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় আল্লাহ এই কাজে পাকিস্তানকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই বিবেচনায় পাকিস্তানই মুসলিম দুনিয়ার একমাত্র যোগ্য নেতা। সুতরাং তারা করাচিতে " মোতেমারে- আলমে ইসলাম ডাকিয়া সারা বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রসমুহকে সরকারী লেভেলে সম্মিলনী প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে সে আহ্বানে সাড়া দেয় নি উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রসমুহ। তারা তুর্কী সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সাথে নিজেদের স্থানীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে নিজেদের স্বাধীন ভুখন্ড সৃষ্টি করেছিলেন। যদিও মিশর-সিরিয়া- ইরাক- জর্ডান- সৈদি আরব- সকল স্থানের যুবকনেতারা একই লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়বার জন্য প্যান আরব ঐক্য গড়েছিলেন, তবে পরবর্তী সময়ে, বিশেষত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তাদের নিজস্ব স্বদেশী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন তারা। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অখন্ড মুসলিম রাষ্ট্র গঠিত হয় নি, বরং স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে সাথে নিজস্ব জাতিয়তাবোধের উপলব্ধি স্পষ্ট হওয়ায় তারা মুসলিম ভাতৃত্ব স্বীকার করলেও নিজেদের রাষ্ট্রীয় পরিধিতে ইসলামিক জাতিয়তাবোধ নয় বরং অসাম্প্রদায়িক স্বদেশী জাতিয়তাবোধের চর্চায় মনোযোগী ছিলেন।

সে কারণেই যখন পাকিস্তান সরকারী প্রতিনিধি পাঠিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আরব জাতিয়তাবাদ ও তুর্কি জাতীয়তাবাদ জাতীয় স্থানীয় ও অনৈসলামিক জাতিয়তাবাদ পরিত্যাগ করে পাকিস্তানের মডেলে ইসলামী জাতিয়তাবাদ গ্রহনের উপদেশ দিলেন তখন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো রাষ্ট্রই এই মতবাদ গ্রহন করে নি।

সরকারী পর্যায়ে কোনো দেশই এই মোতামারে আলমে ইসলাম সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠায় নি, বরং পাকিস্তানের এই সর্দারিতে বিরক্ত হয়ে তারা পাকিস্তানের প্রতি বিরুপ ধারণাই পোষণ করেছেন।

পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবোধের চর্চাটাও যদি মুসলমি ভাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হতো তাহলেও বাংলাদেশের স্বাধীকারের লড়াই হতো না। বরং লাহোর প্রস্তাবের স্পষ্ট বিরোধি একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিলো। বাংলাদেশের নেতৃবৃন্ধ কখনই বিভাজন চায় নি। বরং তারা স্বাধিকার চেয়েছে।

আয়ুব পতনের আগে বাংলায় তথা পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীকার আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে। ততদিনে পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আইয়ুব লাহোর প্রস্তাবের দু'টি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে স্বাধীকার আন্দোলনরত রাজনৈতিকদের এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আন্দোলনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, যদি পূর্ব পাকিস্তানীরা পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায় তবে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে অস্ত্রের ভাষায় সে বিদ্রোহ দমন করা হবে।

ইয়াহিয়া আয়ুব খানকে সরিয়ে যখন রাষ্ট্রপতি হয়ে নির্বাচন আহ্বান করলেন তারপর পূ্ব পাকিস্তানে সাইক্লোনে নিহত হয় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ, তবে এই ব্যপক মানুষের প্রাণহানী ও সম্পদহানীর তোয়াক্কা না করে পূর্বঘোষিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবং ৬ দফার প্রবক্তা আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের ব্যপক সমর্থন প্রকাশিত হয় এই নির্বাচনে।

আওয়ামী লীগে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি আসনও পায় নি, সত্যিকার অর্থেই প্রাদেশিক একটি দল হয়েও আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। স্বাধীকার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকায় এবং প্রাদেশিক স্বাধীকারের দাবিতে বেলুচ এবং সিন্ধকে সমর্থন করবার জন্য পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে স্বাধীকার ও ফেডারেল রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কোনো সংকট হতো না। এই পরিণতি সম্ভবত পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়াদিতে পশ্চিমা শোষণের চিরস্থায়ী বিলোপ ঘটাতো।

সেটা মেনে না নিয়ে বরং ঔপনিবেশিক শোষণে পূর্বপাকিস্তানকে নিঃস্ব করা এবং বেলুচ সিন্ধ ও ওয়াজিরিস্তানে উদ্ভুত জাতীয়তাবাদীতাকে দমনের জন্য পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালান।

আমরা সাদিয়া( তৎকালীন আস্তমেয়ে)র কল্যানে জানি গোলাম আজম তার জীবনিতে বলেছেন ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ তিনি ঢাকায় কয়েকটি লাশ দেখেছেন, ১৯৭১ এ ঢাকায় গণহত্যা হয় নি। পিতার বীর্যে হয়তো অন্ধ চোখ তার, সুতরাং গুগলের যুগেও পিতার বয়ান আর গোলাম আজমের জীবনি হয়েছে তার স্বাধীনতা সম্পর্কে জানবার একমাত্র গ্রহনযোগ্য উপায়।

যাদের বাবা জামায়াতের নেতা, যারা জন্মসূত্রে ইসলামী জাতিয়তাবাদে বিশ্বাসী, যাদের পিতা-মাতার শীৎকারে এক ওয়াতন এক ভুমি পাকিস্তান আমার জন্মভুমি চিৎকার এখনও ধ্বন্বিত হয় তাদের শিওশব যৌবন সবই পাকিস্তানের লেহনে নষ্ট হয়েছে। তারা হয়তো চোখ খুলে দেখবে না কোনো দিনই।

তবে মুজাহিদের বক্তব্যের প্রতিবাদ না করে পারছি না। ছাত্রমজলিসের কর্মী হিসেবে তারা ৬ দফার পক্ষে মিছিল করেছেন একদা, ২১শে মার্চ পর্যন্ত তারা বাংলার স্বাধীকারের সপক্ষে আওয়ামী লীগ থাকায় তাদের সমর্থন করেছেন, এবং হঠাৎ করেই ২৫শে মার্চের গণহত্যার পরে তারা রাজনৈতিক বিবেচনা কেনো পাকিস্তানবাদী হয়ে উঠলেন?

কেনো তারা এবং তাদের নেতৃবৃন্ধ ১৯৭১ এ যেখানে গনহত্যা চলছে সে মুহূর্তে নির্বাচনে মনোনয়ন নিলেন, কেনো তাদের কেউ কেউ বিনা প্রতিদন্ডিতায় নির্বাচিত হলেও তারা গণহত্যার প্রতিবাদ না করে বরং গণহত্যার সপক্ষে কাজ করে গেলেন। তাদের মুখপত্রে দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা এমনটাই দাবি মুজাহিদের। সাংবাদিকেরা অনেক উল্টা পাল্টা লিখে থাকে।

মুজাহিদ আমাদের সত্য কথা জানান, তিনি জানান কাউকে জবাই করবার জন্য নিশ্চিত ভাবেই তাকে চড় মারতে হয় না। কুয়ায় ঝুলিয়ে অত্যাচারে অজ্ঞান করে ফেলবার জন্য হাতের ব্যবহার করতে হয় না, জনাব কামরুজ্জামান এসে জানান শেরপুরে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে তা ভ্রান্ত-

সামহোয়্যারের শীর্ষে বিশেষ পোষ্টে ঝুলে আছে শর্মীর নাম- সেও ৩ লক্ষ না ৩০ লক্ষ মৃতদেহের বিনিময়ে বাংলা স্বাধীন হয়েছে এই প্রশ্নে বিভ্রান্ত ছিলো। সেও এত দিনের এত তথ্য উপাত্ত জেনেও আত্মীয়তার বন্ধনে লজ্জিত হয় নি? না কি অতীত যা ঘটে গেছে ঘটে গেছে- আপনারা শুধু অতীত নিয়ে মাতামাতি করেন এমন জামায়াতী নেতাদের অনুযোগের মতো তারও বিশ্বাস অতীতে যে হত্যা হয়ে গেছে তার বিচারের প্রয়োজন নেই?

আহ্বান জামায়াতী নেতাদের সন্তান-সন্ততিদের কাছে- যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তাদের ঘৃণা অপরিসীম, তারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত সকল মানুষকে ঘৃণা করে। কিন্তু আপনাদের পিতাদের অনেকেই ৭১এ মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলো। এসবের প্রমাণ ছড়িয়ে আছে সব দিকে, সেসব দেখে তাদের ঘৃণা করুন। শুধু একবার বলুন

"বাবা ১৯৭১ এ তোমার কাজের জন্য তোমাকে বাবা ডাকতে আমার লজ্জা হয়"

দেশের আদালত যে রায়ই দিক না কেনো আপনার বিবেকের রায় যদি এভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠে তাহলেই আপনাদের আমরা পুনরায় কাছে টেনে নিতে পারবো। যার যা কাজ তার প্রাপ্ত সম্মান ও ঘৃণা তাদের দিতে হয়। এটাই সামাজিক বিধি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29127388 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29127388 2010-04-01 19:23:28
বিদায়ী পোষ্ট: সভ্য মানুষের লিখবার মতো পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ এই ব্লগ ২চ. কোন এক শ্রেণীর অনুভূতিকে আঘাত করে, এমন কোন ঘৃণাত্মক পোস্ট অথবা মন্তব্যপূর্ণ পোস্ট আমরা প্রথম পাতায় থেকে সরিয়ে দিতে পারি । ২ছ. প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া কোন পোস্ট দেখবার লিংক সম্বলিত পোস্ট আমরা সরিয়ে দিতে পারি ।

কোন এক শ্রেণী সব সময়ই কোনো এক অদ্ভুত নিয়মে ধর্মীয় বিশ্বাসধারণকারী একটি শ্রেণী, তাদের ধর্মীয় অনুভুতি একটু কিছু হলেই আক্রান্ত হয় এবং আহত হয়ে যায়, ধর্ম এবং কোমল ধর্মানুভুতি সম্পন্ন মানুষের অন্তত তথ্যপ্রযুক্তির উন্মুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় বসবাস করা উচিত নয়, কিংবা যারা নিতান্ত ঠেকায় পড়ে হলেও অতিসুক্ষ্ণ এবং স্পর্শ্বকাতর ধর্মানুভুতি নিজে জীবনযাপন করেন তাদের উচিত ইন্টারনেটে প্রবেশের সাথে সাথে আশে পাশে এম্বুলেন্স রেডি রাখা, যেকোনো মুহূর্তে আহত হয়ে বিদিকিচ্ছিরি একটা ঘটনা ঘটে যেতে পারে-

ইনকিউবিটরে রেখে দেওয়া যেতে পারে ধর্মগ্রন্থকে। কিংবা শুধুমাত্র আস্তিক এবং যেকোনো একটি ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের ব্লগে এক্সেস দেওয়া উচিত, ব্লগের অন্তর্ভুক্তির জায়গায় ধর্মীয় পরিচয় এবং সেখানে আস্তিকতায় টিক দেওয়া বাধ্যতামূলক করে দেওয়া প্রয়োজন।

অত্যাধিক ধর্মপ্রচারের চাপে আমার অবিশ্বাসী মনে আঘাত লাগে, আমার অবিশ্বাসী নাস্তিক্য অনুভুতি আহত হয় কোরানের আয়াতের অত্যাচারে- এই বিবেচনা কোনো পোষ্ট কি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিবেন মাননীয় মডারেটর?

অ:ট: মনির হাসান ব্যাক আপ নিয়ে রাখো পোষ্টের ভবিষ্যতে যা যা পাবে না, সেটা আগেই কপি করে অন্য কোথাও জমা রাখো, এখানে আর কয়দিন পর লাইভ ওয়াজ মেহফিল এবং জঙ্গীবাদি প্রচারণার বাইরে ভালোবাসা এবং এইসব বালছাল ব্যতীত অন্য কোনো লেখা খুঁজে পাবে না।

হ্যাপি ব্লগিং সবাইকে।

http://raselpervez.amarblog.com/

আমার ব্লগে স্বাগতম সবাইকে- যারা এত দিন আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন আমার লেখা, যারা ভালো বলেছেন এবং যারা খারাপ বলেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এখানে আসলে সভ্য মানুষের লেখবার কোনো পরিবেশ নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29056169 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29056169 2009-12-09 20:03:09
ভালোবাসা সর্বগ্রাসী ভালোবাসা সর্বগ্রাসী, অস্তিত্ব গিলে খেতে চায়
ডাঙ্গার প্রাণী ডুবে অগাধ জলে ,প্রেমের বরশী গিলে বৃথা তড়পায়।

০২.

আমি কীটস হলে ভালো হতো, বলতাম "আমার নাম লেখা ছিলো জলে"

আমি হারিয়ে নিজের নাম ঘুরছি শহরে
তুমিহীনা এ নগর পোড়ে বিরহ অঙ্গারে ।

০৩.
তোমার দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?
নিছক আবেগ বক্ষে ধরে
নিকষ কালো অন্ধকারে
একলা একাই দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?

উপড়ে নেওয়া শেকড়ে এখনও লেগে আছে রক্ত আর অশ্রুকণা
সারাদিনের সঞ্চিত খড়কুটোয় এলোমেলো ঘুমায়াছে ক্লান্ত চড়াই
কড়া নেড়ে নেড়ে নিস্তব্ধ মহল্লার সবকটা জানালায় জ্বলে উঠলো আলো,
অসময়ে চলে যাওয়া ভালো।

শিশির দু পায়ে পিষে আমি ফিরে যাই...


০৪.
আমি সমস্ত পৃথিবী পেছনে রেখে বললাম, "আসো।"
তুমি আসলে না
আমার অনেক কিছুই দেওয়ার ছিলো , দেওয়া হলো না।

হাত বাড়ালেই তোমার হাত আর পাবো না হাতে
পথ পেরুনো পথের বাঁকে অন্য কারো অপেক্ষাতে
দিন কাটবে তোমার
তারপরও এই খারাপ লাগার অর্থ বলতে পারো?

ফেরার পথটা সহজ কিন্তু ফেরা সহজ নয়
যাবেই যদি দুরে তবে যেতে কিসের ভয়।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29054944 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29054944 2009-12-07 15:41:04
ভ্রমন
বন্ধুরা সবাই ব্যস্ত, নিজেদের জীবনে স্থিতু, কেউ শহর ছেড়েছে, কেউ আড্ডা ছেড়েছে, পুরোনো লোক ভবনের সামনের চায়ের দোকানে একটু অপেক্ষা করলে হয়তো কিছু পরিচিত মুখ দেখা যেতো, তবে পৌঁছেছি যখন, এই শীতের রাতে কাউকে আশা করাই বৃথা, কালামের চায়ের দোকানের নিভে যাওয়া আঁচে কিছুক্ষণ অতীত সেঁকে নিয়ে বাসায় পৌঁছালাম।

প্রকৃতি বদলে গেছে, বদলে গেছে শীতের ধরণধারণাও, নইলে ঠিক এ সময়ে একটা পাতলা টি শার্ট পড়ে দিনাজপুরের রাস্তায় হাঁটবার কথাও ভাবতে পারতাম না। কিন্তু এখন শহরটা বিশাল একটা বিপনিবিতান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সব মাঠ আর পুকুর ভরাট করে উঠছে শপিং মল, বাহারী নাম, বাহারী অঙ্গসজ্জা, আর আমি নিতান্ত অতিতচারী, এই শাকিলের বাসার সামনের বাগানটা নেই, সেখানে বড় একটা শপিং মল, শান্তনুর বাসার দরজা আর দেখা যায় না, ট্রান্সকমের দখলে আছে সেটা, স্বপনদের বাসায় এখন কিভাবে ঢুকতে হয় আমি জানি না।

ইটভাটার মালিকদের নিয়ে একটা কুসংস্কার আছে, ওরা মায়ের বুকে আগুণ দেয় বলে ওদের সংসারে সব সময়ই আগুণ লেগে থাকে, ওরা কেউই সংসারে সুখী হয় না, সবটা সময় পুড়তে থাকে, এটাই না কি প্রকৃতির অভিশাপ। মাটির বুকে আগুণ লাগলে সেটার আঁচ জমে থাকে অনেকটা সময়, চুলার ভেতরে জমে থাকা কয়লা আর আশের নিকোনো বারান্দায় বসে থাকা মা'কে দেখে বুঝলাম আমাদের সময়ের ঘড়িটা টিকটিক করে অনেকটা পথা পাড়ি দিয়েছে। সে আগুণে নিভে গেলে শীতের রাতে কোনো এক ঘেঁয়ো কুকুর এসে শুয়ে থাকতো রান্না ঘরে, হেইইইইইই, ছিক ছিক, দুর হ মরার কুকুর বলে তাড়িয়ে দিলে চলে যেতো কিন্তু একটু অন্ধকার নামলেই আবার কুকুরটা ঠিকই ভাঙা বেড়ার ফোঁকর গলে ঠিকই এসে শুয়ে পড়তো রান্না ঘরে, নিজেকে তেমন উদ্বাস্তু অনাহূত এবং উপদ্রবের মতো মনে হলো সারাদিন, যেনো শহরটা আমার মুখের উপরে বেশ্যার মতো সাজিয়ে রাখা দোকানের সব সম্ভার সাজিয়ে বলছে ছ্যাঁক ছ্যাঁক, হ্যাট হ্যাট, দুরে যা মরার কুকুর। আমি সেই অনাদর হজম করতে পারলাম না, তাই সারাদিন কাটিয়ে দিলাম ঘরের ভেতর। গলির মাথায় গিয়ে কোনো মতে সিগারেট শেষ করে আবার ঘরে ফিরে আসা।

অনেকেই অনেক দিন পর শহরে কিংবা গ্রামে ফিরে গিয়ে বাসার বাইরে বের হয় না, অনেকের ভালো লাগে না, হয়তো তাদেরও আমার মতো অনাহুত অনুভুতি বুকে বাজে, মনে হয় এই ভীরে কেউ নেই যাকে নিয়ে একটু অতিতে ভ্রমন করে আসা যায়, যার টানে ঘর ছেড়ে বাইরে যাওয়া যায়।

ফিরে আসবার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলাম, এই অভিশপ্ত শহর ছেড়ে যত দ্রুত যত দুরে সটকে পড়া যায় ততই মঙ্গল, বাসস্টেশনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম, টিকেট পেয়ে মনে হলো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি, কিন্তু সেই বাস আর আসে না। আমি চুপচাপ বসে আছি, বন্ধ থাকা চায়ের দোকানে হেলান দিয়ে বসে আছি, পড়ছি কিন্তু পড়ার চেয়ে বেশী তাকিয়ে আছি রাস্তার দিকে এই বুঝি আমার মুক্তির সংবাদ নিয়ে আসবে ঢাকাগামী বাস।

অনেকটা দেরি করে বাস আসলো, আমি এক ছুটে গিয়ে বাসের সীটে গিয়ে বসে পড়লাম, আমার সামনের সীটে বসে আছে আহ্লাদী এক মেয়ে, ঠোঁট ঝুলিয়ে বসে আছে, বয়েস খুব বেশী হলে ৩০, চোখে সবুজ মাশকারা, মাথার চুল রং করেছে, তার চোখের দিকে তাকালাম, সুবুজ আবরণ সরিয়ে দেখলাম সেখানে কোনো গভীরতা নেই, বরং অগভীর স্রোতস্বীনির মতো সে চোখ কোথাও স্থির নেই, হয়তো তার জীবনেও তেমন স্থিরতা নেই, কে জানে?

একে একে সবাই উঠছে বাসে, আমার সামনের সীটের পুরুষ বেশ গুরুগম্ভীর এবং নিয়মনিষ্ট , অবশ্য গড়পরতা বাঙ্গালীর মতো তাদের শুঁচিবাই আর কর্মোদ্দীপনা বৃহৎ পরিসর ছোঁয় না, এরাই বদলাতে চায়, যেকোনো অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে, সামান্য উলোটপালোট হলে রিকশাওয়ালার গালে চড় মারে, ছিনতাইকারী ধরলে পিটিয়ে খুন করে ফেলা এইসব মানুষেরা আপাতত বাসের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ভীষন ভাবিত, তাই বাসের বাইরেরটা ধো্যা হলো কয়েকবার, ব্যাটা এইখানে ব্রাশ লাগা, এখনও কিন্তু এইখানে ব্রাশ পৌঁছাইলো না, তোরা কি করিস?

বাস ছাড়ার সাথে সাথেই ঠিক আমার পাশের সারিতে বসে থাকা ছোকরার গালে মনে হলো কষে একটা চটকানা লাগাতে পারলে মনটা শান্ত হতো, কোট প্যান্ট পড়া খেলুরে ছোকরা পাশে সবা মেয়েটার সাথে ছোঁক ছোঁক করছে, মেয়েটা বলছে- আমি আপনার সাথে কথাই বলবো না, একটা প্রাণবন্ত সংলাপের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ছোকরা এবং মেয়েটা তার পূর্বপরিচিত, ছোকরার সাথে তার ছেলে, সে ছেলেকে বলছে বাবু তুমি একটু সরে আন্টিকে বসবার জায়গা দাও-
মেয়েটা ছেলেটাকে কোলে নিয়ে বসে থাকলো কিছুক্ষণ, আমার ভেতরের নারীরক্ষক পুরুষের উপস্থিতি ছিলো না নিশ্চিত ভাবেই, কিন্তু ফ্রম হোয়াট আই সি, ইট ইজ লিবোডো ইন একশন।

মনে হচ্ছিলো হারামজাদার গালে কষে একটা চটকানা দিতে পারলে হাতের নিশপিশ ভাবটা একটু কমতো, তার বিনীত বিগলিত কথা শুনে মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে গেলো, এ পারফেক্ট পেইন ইন এ্যাস যাকে বলে, এই জুটি আগামি ৮ ঘন্টা আমার পাশে বসে একই ন্যাকামি করে যাবে, বিষয়টা ঠিক মেনে নেওয়া যায় না।

ঠিক তার পেছনে বসে আছে এক মহিলা, বয়েস সম্ভবত ৪০এর কোঠায়, বেচারা চোখা চোখে তাকিয়ে আছে, কোনো কারণ নেই এমন তাকানোর, তবে ইদানিং মাঝে মাঝেই কেউ কেউ রাস্তায় এভাবে তাকিয়ে থাকে, আমি কোনো মতে রাস্তার পাবলিকের চোখ এড়িয়ে প্যান্টের জিআপর চেক করে দেখি, বোধ হয় খোলা আছে, নইলে এমন দৃষ্টির মাজেজা কি। তবে তার দিকে দ্বিতীয় বার তাকিয়ে অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেলো, হঠাৎ করেই মনে হলো শুধু জিপার চেক না করে যদি কোনো অলৌকিক উপায়ে প্যান্টের উপরে আরও একটা আন্ডারওয়্যার চাপিয়ে দেওয়া যেতো খুব ভালো হতো, সেটা সম্ভব হবে না বুঝতে পেরেই জানালার বাইরের দৃশ্যে মনোযোগী হয়ে উঠলাম।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে নিশ্চিত ভাবেই, ফসলের ক্ষেতের উপরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচুর চাষাবাদ হচ্ছে, দিনাজপুরের লিচু বিখ্যাত হয়ে উঠেছে গত এক দশকে, এবং বাসায় ১০টা লিচু গাছ থাকলে আর সারা বছরের খোরাকি নিয়ে ভাবতে হয়, মানুষ ধান তামাক বাদ দিয়ে লিচু গাছ লাগাচ্ছে ফলসী মাঠে।

সেইসব সারিবাঁধা লিচু গাছের মাঝে অন্য কারো ক্ষেত, লুণ্ঠিত ক্ষেতে অবহেলায় পড়ে আছে কেটে নেওয়া ধানের গোড়া, শীতে জবুথুবু পুকুর আর ফসলশূণ্য মাঠ- এই দৃশ্যপটের বাইরে ভেতরে একই দৃশ্য চলছে-

তুমি বলো, তোমাকে ভালোবাসি বলেই না এত দুর থেকে আসলাম, বিশ্বাস করো আমি যাকে ভালোবাসি তার জন্য একেবারে নিঃস্ব হয়ে যেতে পারি,
আপনের সাথে আমার কোনো কথা নেই, কিন্তু মেয়েটারও গালয় এই আবেগ বাসা বাঁধছে-
ছেলেটা মাকরসার জতো কথার জালে পেচাচ্ছে মেয়েটাকে, ধীরে ধীরে সংলাপ সামনে আগায় আর মেয়েটার প্রতরক্ষাব্যুহ আলগা হয়ে যায়-

এট দ্য এন্ড ইয়োর ইনস্টিঙ্কট ড্রাইভস ইয়্যু, ইট মে ড্রাইভ ইয়্যু নাট, বাট বিলিভ মি, উই আর সিম্পলি যাস্ট এনাদার এনিম্যাল, উইথ মে বি এ ওয়েল প্রোপোরশনেট বডি, এন্ড দ্যাটস অল, দ্যাটস দ্য এ্যডভ্যান্টেজ উই হ্যাভ, অল দ্য স্টোরি রানস তুওয়ার্ডস দ্য সেম এন্ড-

আপনি আমার কথা বলছেন বাসায়?

মেয়েটা জালে আটকা পড়া পোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে থাকে, আর একটার পর একটা কথার জাল গুটিয়ে অবশেষে শিকার ধরা দেয় , কিংবা মেয়েটাও শিকারি হয়ে উঠে, বাঁকা হাসিতে বধ করে ছেলেটাকে-

আমি তো তোমার দেওয়া গান ছাড়া অন্য কিছু শুনি না, মোবাইলে পুরোনো দিনের হিন্দি গান বাজে হঠাৎ হঠাৎ, আর তারা মোবাইলের হের ফোন দুজন দুই কানে দিয়ে একই গান শুনতে শুনতে নিজেদের ভেতরে মগ্ন হয়ে যায়, সন্ধ্যার আবছা অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসে, আমার সামনের সবুজ মাশকারার গালে চকিত চুম্বন করে সরে যায় সম্ভবত তার স্বামী, আমার পেছনের চোখা চোখের মহিলা কাউকে ফোনে ঝাড়ি দেয়, এত প্রশ্ন করে লাভ আছে, বাস দেরীতে ছাড়ছে, বাসায় পৌঁছাতে দেরী হবে,

আমার পাশের ছোকরা আর মেয়ের প্রচুর মিথ্যা বলছে, আর একটু হলেই বাসায় পৌঁছে যাবো আম্মা,
ভাবী আপনাকে আমি কি যে ভালোবাসি, আপনার সাথে দেখা করে যাইতে পারলাম না বুঝলেন তো মাত্র একদিন বাসায় থাকিছি, এই চলে আসতি হলো, পরের বার গেলে দেখা করবানি ।

তুমি জানো না, যদি সময় থাকতো তাইলে তোমারে নিয়ি যাইতাম আমার এক খালার বাসায়, সেই খালা আমারে কি যে আদর করে, বলি বুঝানো যাবি নে, তারা তো তোমায় পালি এক্কেরে মাথায় তুলি রাখতো।
বাদ দেন এইসব কথা আপনি, আপনি আমার কথা কইছেন বাসায়।

মামা আমরা তো পৌঁছায়া গেছি প্রায়, কি যে বলেন না মামা , আপনি আপনার ভাগনিরে চিনেন না, সন্দেহ করেন আমাকে, বললাম তো অফিসে কাজ আছে, আর থাকা গেলো না।

অন্ধকার আরও গভীর হয়, মিথ্যার পরিমাণ বাড়তে থাকে, হঠাৎ করেই ছোকরা বৌকে প্রবোধ দেয়- এইতো আর বেশি সময় নাই, কুষ্টিয়া থেকি বাহির হলাম, এখন যমুনা ব্রীজের উপরে আছি, পৌঁছায়া যাবা নে সময় হলিই-

আরে আরিচা দিয়া আসবো কেনো, একটু ঘুইর‌্যা আইছি বুঝছিস, ঐ রাস্তায় আলি পরে না আরিচা ঘাট পারানোর কথা, রুট চেঞ্জ করিছি, টিকিট কি আর পাওয়া যায়-

আমি অন্ধকারে তাকিয়ে হাসি, অবৈধ প্রেম মানুষকে মিথ্যাবাদী বানিয়ে দেয় এবং মিথ্যার সৌধ গড়ে উঠতে থাকে শহরের আনাচে কানাচে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29053906 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29053906 2009-12-05 15:45:45
লাশের বদলে লাশ
যুদ্ধের কোনো কারণ নেই, এরপরও সংঘাতে লিপ্ত হয় মানুষ, খুব সামান্য বিষয়েই জিঘাংসু হয়ে উঠা মানুষের এই সংঘবদ্ধ চরিত্র ভয়ানক। এই ধারা নতুন কিছু নয়, মারো কিংবা মরো, একসাথে লেপ্টে থাকো, প্রতিহত কর প্রতিকূলত, বেঁচে থাকো, যেকোনো প্রকারে এবং যেকোনো পন্থায়, শুধু নিজের জেনেটিক নক্সা পরে প্রজন্মে পাচার করে দাও, এটাই স্বার্থকতা এটাই জীবনের মোক্ষ।

অবেশেষে যেকোনো গর্ভে নিজের সন্তান উৎপাদন করা এটুকুই জীবনের মৌল উদ্দেশ্য, এর বাইরে মানুষ কিংবা প্রাণীতে ইতর বিশেষ নেই কোনো। গোত্রপতি, দলপতি, সম্রাট, নেতা, নবী, রসুল এবং অন্য সব নেতৃত্ববাচক শব্দ শুধুমাত্র একটা সাধারণ অস্তিত্বের লড়াইয়ে মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়। কোনো নেতার জৌলুসে আচ্ছন্ন হয়ে কিংবা অন্ধ হয়ে মানুষ স্থানীয় বিবাদ আর গোত্রগত সংঘাত ভুলে যায় সাময়িক, তবে তেমন নেতার মৃত্যুর সাথে সাথে পুনরায় পুরোনো মৎস্যনায়।

সভ্যতা খুব বেশী আগাতে পারে নি, সত্য এটাই। আমাদের বাইরে পোশাকে আচারে পরিপাটি হয়ে উঠার বাস্তবতাও আসলে এই স্যকে আড়াল করতে পারে না, আমরা গোত্র-গণ-বর্ণ এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্নতায় বৈরি হয়ে উঠি। যে দিন কোনো একটা জলের ছরার অধিকার নিয়ে দুটি গ্রামে কিংবা দুইটি গোত্রে রক্তাক্ত সংঘাত হয়েছিলো, সেই সংঘাতের ধারাবাহিকতাই বয়ে নিয়ে আসছে রাস্তা দখলের লড়াই, একটা আহত হরিণকে ধাওয়া করা মাংসের লোভ কোনো এক দিন গো্ত্রের বিনাশের কারণ হয়েছিলো, তবুও মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে লড়েছিলো, সামান্য এক টুকরো মাংসের জন্য নয়, হয়তো সেটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিলো না সে মুহূর্তে, মানুষ লড়েছিলো সম্মানের জন্য, গোত্র আর জ্ঞাতিবোধের লড়াইয়ে কোনো কিছুই তেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে না। এমন ১০০ হরিণ হয়তো অনায়াসে মেরে ফেলা যেতো কিন্তু ও হরিণের হৃদপিন্ডে বিঁধে আছে আমার জ্ঞাতির তীর, এ হরিণ আমার, আমি এর দখলীসত্ত্ব চাই-

কি অদ্ভুত বৈরিতা, সংঘাত আর হনন।

রাজধানী হিসেবে ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি হবে। এই দীর্ঘ সময়ে শহরটা ব্যপ্তিতে বেড়েছে, স্থাপত্ব্যকলা বদলেছে, সেই সময়ে যখন শুধু বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে সারিসারি উঁচমহলের বসতভিটা, সম্রাটদের অনুচর এবং সেনাপতিদের সহচর এবং বণিকদের অট্টালিকার বাইরের শহরটুকু একই রকম রঙজ্বলা অস্তিত্ব নিয়ে টিকে ছিলো। উঠানের ফাঁক দিয়ে পায়ে হাঁটা পথ, আর পথের দু'পাশে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তদের কুটির, খড় আর বিচলী ছাওয়া, বেড়ার বাসা। এই ছিলো আমাদের ঢাকা।

যখন শহরটা দৈর্ঘে ছিলো মাত্র ৪ মাইল আর প্রস্থে খুব বেশী হলে ২ মাইল, এই সংক্ষিপ্ত শহরের পশ্চিম সীমানা ছিলো লালবাগ কেল্লা, সেই বুড়িগঙ্গার ধার ঘেঁষেই, হোসেনী দালান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা, এভাবে আগাতে আগাতে লালকুঠির একটু সামনে গিয়েই শেষ, আর এর ভেতরেই নবাবপুর, কাঠের পুল, লোহারপুল, পাগলার পুল, তার আশে পাশে ফুলবাড়িয়া আর নারানদিয়ায় গিয়ে শহরটা হারিয়ে যেতো অন্ধকারে।

সে সময় যখন তেজগাঁও ফরাসীদের সঁপে দিয়ে চলে যাচ্ছে ওলন্ডাজেরা, কিংবা কওরানবাজারে ছোটো একটা হাট জমে উঠছে, সেই দুরের মীরপুরে তখন মাজার সরগরম। আর মাঝের অংশটুকু ডোবানালা, রমনা, পল্টন, শান্তিনগর সিদ্ধেশ্বরী কিংবা সেগুনবাগিচা আর তার সামনে গিয়ে বাজার বাগ, এইসব ছোটোখাটো ব্যতিক্রম বাদ দিলে, তেমন প্রাণের স্পন্দন ছিলো না শহরে।

যে সময় ফুলবাড়িয়ায় গণিকার মেলা, সেখানেই মৌজ ফুর্তি করতে আসে বাইরের মানুষ, শহরে অনেক আমোদের বন্দোবস্ত আছে, ১ রুপিয়া দিলে সুন্দরী মাগি মিলতে পারে। সে সময়েই মহল্লা গড়ে উঠলো, ঢাকা আবাসিক হয়ে উঠছে, এবং স্থানীয় সমাজ গড়ে উঠছে, পেশাজীবি কলোনীতে নিজস্ব প্রয়োজনেই ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষেরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করলো, সে সময়ে ঢাকায় সর্দারদের প্রয়োজন ছিলো। যখন সলিমুল্লাহ নওয়াব আব্দুল গনির সুপূত্র এবং মুসলিম লীগের অন্যতম উদ্যোক্তা, পিতা আহসান উল্লাহর কাছ থেকে ঢাকার নবাবি পেলেন, সে সময়ের ঢাকা সামান্য বেড়েছে কলেবরে। শহরটা একটু ছড়িয়েছে, ওয়ারী আর সায়েদাবাদ ঢুকেছে শরের ভেতরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিধি যতটুকু সে অংশটুকু জুড়ে নবাব বাগান, শাহবাগ আর রমনার পাশ ছাড়িয়ে সিদ্ধেশ্বরীর বাগানে তখন মা আনন্দময়ীর আশ্রম, শান্তিনগর তখন সৈনিকদের কুচকাওয়াজে ব্যতিব্যস্ত, সেই সময়েই পিলখানায় যাওয়ার জন্য একটা রাস্তা ছিলো , সিদ্ধেশ্বরী হয়ে পিলখানা যাওয়ার রাস্তাটা ছিলো বর্তমানের রমনা থানা আর ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের মাঝ দিয়ে, এলিফ্যন্ট রোড।

সে সময়ে ঢাকায় মহল্লা ছিলো ১০০ টা। ১০০টা মহল্লার ১০০ সর্দার, তাদের কাজ ছিলো নবাবকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় করে দেওয়া, স্থানীয় মহল্লার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আন্তঃমহল্লা সংঘাতে অভিভাবকত্ব করা এবং প্রয়োজনে নির্দেশ দেওয়া। সর্দারদের নিজস্ব বোঝাপড়া ভালো ছিলো, কারণ সাংস্কৃতিক দাঙ্গার সময়েও ঢাকায় রক্তপাত হয় নি তেমন, যেমনটা হয়েছে পাকিস্তানের সময়ে কিংবা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রতিক্রিয়ায়।

তবুও রক্তগরম যুবকেরা কোনো না কোনো সময়ে ভিন মহল্লায় আইয়াশি কিংবা রং দেখাতে গিয়ে পাল্টা বাড়ি খেয়ে আসতো, কখন রক্তপাতের ঘটনা ঘটতো, এবং সর্দার মহল্লার সম্মান রক্ষায় সমঝোতায় যেতো প্রয়োজনে আক্রমণের নির্দেশ দিতো। একেবারে আদিম সমাজ, চোখের বদলে চোখ, লাশের বদলে লাশ- যে কয়টা লাশ পড়বে মহল্লায় অন্য মহল্লায় ঠিক সে কটাই লাশ পড়া চাই।

তবে আমি নিশ্চিত জানি, সমাজ বদলায় না, খুব বেশী বদলায় না, মাঝে সময় গিয়েছে ১০০ বছর, তবুও ঢাকার মহল্লার চরিত্র বদলায় নি, এখনও সর্দার রয়েছে মহল্লায়, নিজ গুনে কিংবা বিচক্ষনতার নির্বাচিত সর্দারগণ এবং তাদের বংশধরেরা এখনও জীবিত- মহল্লার মানুষ এখনও একই রকম ভাবেই মেনে নেয়, মহল্লার জন্য যেকোনো সময় যেকোনো মায়ের কোল খালি হতে পারে, মহল্লার গৌরবের জন্য এমন কি প্রাণ খোঁয়ানোও বড় সম্মানের, এলাকায় সম্মান বাড়ে, আর এভাবেই গড়ে উঠে অস্বীকৃতির সংস্কৃতি, কোনো মৃত্যুই তখন খুব বড় কোনো শোক সংবাদ নয়,

কি কইলি, কয়টা ফেলাইছে উরা, ৩টা? কুন মহল্লার পুলা আছিলো, কইতে পারবি? আইচ্ছা যা ঠিক আছে আমি দেখুম নে।
ঐ শুন, গিয়া গুইন্যা গুইন্যা ৩টা ফেলায়া আইবি, আমার মহল্লায় আয়া রংবাজি কইরা যাইবো এমুন বান্দির পুত কইত্তন আইলো? কইলাম তো বাকিটা আমি দেখুম নে।

এই সংস্কৃতির কোনো সংবাদই জানতো না হয়তো ছেলেটা, কিংবা ঢাকার এই মহল্লা সংস্কৃতির কোনো ধারণাই তার নেই, এই সর্দার প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে তাও ৬০ বছর, তবুও অতীতের সংস্কৃতির দায় বহন করে যায় মানুষ। এবং ছেলেটার ঠোঁটের দু পাশ দিয়ে পড়িয়ে পড়া রক্তে কামড় বসানো পিঁপড়ারাও জানতো না এই মানুষের সামজ তাদের সমাজের মতোই খুব বেশি বদলায় নি।

তাই দরজার আড়াল থেকে লাশটা তুলে কোনো জায়গায় ফেলে আসবার সময়ও সমস্ত মহল্লার কেউই জানে না কিভাবে খুন হলো ছেলেটা, কাউকে না কাউকে পিটি্যে তার পাঁজরের হাড় ভাঙতে হয়েছে, কারো না কারো কানে পৌঁছেছিলো সেই আর্তনাদ কিংবা গোঙানী, মৃত্যু খুব সহজ বিষয় নয়, একটা দীর্ঘ সময় ধরে পিটিয়ে খুন করা ছেলেটা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হলো কোনো এক বাসার পেছনের দরজায় আর সে লাশটার ঠিকানা করতে ছুটে গেলো আরও কয়েকজন।

এরা সবাই সমাজ কর্মী, মহল্লার প্রয়োজনে , ভিন মহল্লার লাশটাকে কোথাও ফেলে আসলো, আর পড়ে থাকা ছেলেটার নিস্প্রাণ দেহ, তার ঠোঁটের পাশে জমে থাকা রক্ত আর সেই রক্ত আর লালায় আটকা পড়া পিঁপড়ারাও জানতো না, আমাদের ঢাকা শহরের মহল্লাগুলোর সংস্কৃতি বদলায় নি। এখানে এখনও লাশের বদলে লাশ আর দাঁতের বদলে দাঁত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29051557 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29051557 2009-11-30 15:26:02
সংস্কৃতির বিপদ
মৃতের সৎকার মৃতের জন্য নয় মোটেও, বরং সেটা জীবিতের প্রয়োজনে, তাকে মাটি চাপা দেওয়া, তাকে পুড়িয়ে ফেলা কিংবা নির্জন কোনো ভাগাড়ে ফেলে আসা এই সব কর্মসূচিই জীবিত মানুষের নিরাপত্তার প্রয়োজনে, কোনো সৎকার প্রক্রিয়াই আসলে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার সুবিধা ও সুযোগের বাইরের কিছু না।

পার্সিয়ানরা নিজের মৃতদেহকে টাওয়ার অফ সাইলেন্সে রেখে আসে, এটার সপক্ষে তাদেরও যুক্তি আছে, মৃতদেহকে বিনস্ট না করে পশুপাখীদের ভক্ষণের জন্য রেখে আসা, আরও ৫০০০ বছর অতীতে গেলে দেখা যাবে এই সংকার প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছে এমন এক সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে গোরখোদার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না।
যেহেতু গোরখোদার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না, সুতরাং এই মৃতদেহ পচে জীবিত মানুষকে অসুস্থ এবং জীবানুআক্রান্ত করবার আগেই তাকে সমাজ থেকে দুরে কোথাও ফেলে আসাটাই মূল সৎকার ছিলো। এই সৎকারের প্রক্রিয়া থেকেই একটা লোকাচারের সূচনা এবং সেটা পরবর্তীতে যখন পার্সিয়ান কিংবা অগ্নিউপাসকেরা ক্ষমতায় আসলো তখন সবার ভেতরে প্রচলিত হলো।

মরুভুমিতে এমন কোনো সুবিধা ছিলো না, কিংবা এত কাঠখড় ছিলো না, সুতরাং সেখানে একমাত্র বিদ্যমান ব্যবস্থা মৃতদেহকে বালির নীচে দাফন করে দেওয়া, সেটাও স্থানীয় সংস্কৃতি নির্মাণ করেছে, সেটাও সেই সংস্কৃতিচর্চাকারী মানুষেরাই নির্ধারণ করেছে, তাদের নিজেদের নিরাপদ রাখবার অন্য কোনো বিকল্প ছিলো না। সেটা আমরা ধর্মসূত্রে ধর্মীয় আচার হিসেবে অনুসরণ করছি,

এখানে কাঠ এবং জলের অভাব ছিলো না, এমন কি কবরখোদারও তেমন সমস্যা নেই, সুতরাং এখানের আদিবাসিরা এই তিন প্রক্রিয়ায় শবদেহের সৎকার করে, আগুণে পুড়ানো এবং ভস্মাবশেষ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ভাবনাগুলো সামাজিক সংস্কৃতিকে মাহত্ব্য দেওয়ার ধারণায় নির্মীত।

যদি এমন প্রমাণিত হয় মৃতভক্ষণ করলে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব কিংবা অমরত্ব পাওয়া সম্ভব এবং যদি এটা বিজ্ঞান প্রমাণ না করেও গণমাধ্যম প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তুমি আমি সমস্ত সমাজ মৃতদের টেবিলে সাজিয়ে খেয়ে ফেলবো কাঁটা চামচ দিয়ে। তখন সেটাই সংস্কৃতি এবং সৎকাররীতি হবে।

এবং এখন যতটাই অবাস্তব এবং ঘৃণ্য মনে হোক না কেনো যদি সমাজের অধিকাংশই এটার চর্চা শুরু করে তবে আমরাও প্রিয়জনের মৃতশবের উপরে ছুড়ির আঁচর টানতে দ্বিধাবোধ করবো না। বরং তখন আমাদের দৈনিকের সাপ্লিমেন্টারিতে আমরা মৃত দেহ রান্না করবার হাজার উপায়ের সন্ধান পাবো, হয়তো মুচমুচে অন্ডকোষ ভাজা, প্রিয়জনের কিডনি কিভাবে পরিবেশন করবেন খাওয়ার টেবিলে- এসব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ব্যতিব্যস্ত সময় কাটাবে। হয়তো শরীরের কোন অংশ কিভাবে খেলে অতিথিরা আনন্দিত হবে এ নিয়ে টেলিভিশনে টক শো হবে। এটার বাণিজ্যিক দিকটা খতিয়ে দেখে, হয়তো প্রাণ কিংবা রাঁধুনি এসব রান্নার জন্য বিশেষ মসলার প্যাকেটের বন্দোবস্ত করবে।
মানুষের সংস্কৃতি খুব দ্রুতই পরিবর্তিত করা যায়- এবং যেকোনো জিনিষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব এর প্রসারকে নিয়ন্ত্রন করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29050029 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29050029 2009-11-26 16:09:28
ইশ্বর হত্যার কৌশল ধর্মের সাম্ভাব্য ভবিষ্যত , আলোচনা অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছে, অনেক রকম অনুমাণ এসেছে, বিতর্ক হয়েছে এবং সে বিতর্কে যারা অংশগ্রহন করেছে তাদের সবাই নিজের অবস্থান থেকেই সাম্ভাব্য ভবিষ্যতবানী করেছে।

সেখানে আলোচনার একটা অংশ ছিলো ধর্মের উৎপত্তি এবং বিকাশ। ধর্ম সামাজিক সংস্কৃতির সুসংবদ্ধ রূপ অথবা ধর্ম অলৌকিক কোনো ঐশী অনুপ্রেরণা? ধর্ম কি সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভুত হয়, সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলো কেমন থাকে। নাস্তিকের ধর্মকথার অবস্থানটুকু আমার অবস্থানের অনেক কাছাকাছি। কিঞ্চিৎ দ্বিমত আছে হয়তো তবে সেগুলো বাদ দিলে নাস্তিকের ধর্মকথার যৌক্তিক অবস্থানটুকুকে মেনে নিতে হচ্ছে।

সত্য এক এবং অভিন্ন নয়, বরং সত্য সবসময়ই ব্যক্তিনির্ভর একটি প্রপঞ্চ। সত্যের সাথে ব্যক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যক্তি যতটুকু গ্রহন করতে পারে সেটুকুই সে ব্যক্তির জন্য সত্য। আমি গত কয়েকদিন ঠিক ঘুমাতে পারছি না, শরীর ঘুম চাইছে, কিন্তু নির্দিষ্ট একটা সময়েই আমাকে উঠতে হয়, সুতরাং আমি যখন ঘড়ির এলার্ম শুনে সচেতন হই তখনও আমার মস্তিস্ক ঘুমের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে না, খানিকটা সময় লাগে সচেতন হতে।

তবে সেই আধোঘুম এবং আধোজাগরণের সময়টুকুতেও মস্তিস্ক সচল থাকে। ঘুমের অবশিষ্ঠাংশ তখনও মস্তিস্কের নিউরণে লেগে থাকে বলেই গতকাল হঠাৎ করেই অদ্ভুত একটা দৃশ্যের মুখোমুখী হলাম। হঠাৎ করেই আমার ঘরের দেয়াল সরে গেলো অনেক দুরে, অসংখ্য মানুষের আনাগোনা দেখলাম সেখানে। আমি সচেতন এবং অসচেতন, একই সাথে আমি দেয়াল এবং সেই দেয়াল ভেদ করে চলাচল করা মানুষগুলোকে দেখছি, তাদের চেহারা স্পষ্ট হচ্ছে না আমার কাছে।

কিছু সময় পর এই ঘোর কেটে গেলো, আমি পরিপূর্ণ সজাগ হয়ে উঠলাম এবং বিছানা না ছেড়েই ভাবতে বসলাম এটা কি অতিলৌকিক কোনো নিদর্শন, আমার কি এখন স্বপ্নে পাওয়া মহৌষধের বিপনন শুরু করা প্রয়োজন? কিংবা আমার কি এখনও কোনো দরগা শরীফ খুলে দেওয়ানবাগী হুজুরের ব্যবসায় হানা দেওয়া প্রয়োজন? সৌভাগ্যবশত আমি এমন অলৌকিকত্ব বিশ্বাস করি না এবং আমি এটার কার্যকরণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত না হলেও কিঞ্চিৎ পড়াশোনার সুবাদে জানি আমাদের দৃশ্যগুলো বাস্তব নয় মোটেও। আমাদের দৃশ্যমান জগত অনেকটা মস্তিস্কের প্রতিক্রিয়া, সেখানেই যাবতীয় তথ্যগুলো বিশ্লেষিত হয় এবং সেই বিশ্লেষিত তথ্যগুলো যখন আমাদের সচেতন মস্তিস্কে চলে আসে, এইসব ইলেক্ট্রোলাইটস আমাদের যে অনুরণন দেয় আমরা সেটাকেই বাস্তব দৃশ্য হিসেবে প্রত্যক্ষ করি।

মস্তিস্ক বেশ জটিল একটা প্রত্যঙ্গ এবং সেই প্রত্যঙ্গ এত দ্রুত এইসব অনুসিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে আমাদের কিঞ্চিৎ দৃষ্টিভ্রম হলেও সেটা আমাদের ইলেক্ট্রোলাইটস ইমব্যলেন্সের কারণে ঘটলো না কি আমাদের দর্শণের উদ্দীপনা তৈরি করে মস্তিস্কের যে অংশ সেখানের কোনো ত্রুটির জন্য ঘটলো এটা নির্ধারণ করা প্রায় দুসাধ্য কোনো রকম পরীক্ষানিরীক্ষা না করে।

আমাদের যাবতীয় রুপ রস গন্ধ স্পর্শ্ব-স্বাদ এবং অন্য সব অনুভবও আসলে এমনই অভিজ্ঞতার আলোকেই নির্মিত হয়। আমাদের প্রতিটা ইন্দ্রিয়ই কিছুটা হলেও মস্তিস্কে তার ছাপ রাখে, আমাদের প্রতিটা গন্ধকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে হয়, আমাদের যেকোনো অনুভব এবং অনুভুতি আসলে পূর্ববর্তি কোনো ক্রিয়ার পুনরূৎপাদন প্রকল্প, কোনো রকম পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে আমাদের নিজস্ব বিশ্লেষণী শক্তি পরাজিত হয়। সেটা সুর কিংবা রূপ কিংবা গন্ধ যাই হোক না কেনো, আমরা যদি সেটাকে কিংবা সেটার জন্য উদ্ভুত মস্তিস্কের সিগন্যালকে সংজ্ঞায়িত না করি তবে সেটা আমাদের অপরিচিত। আমরা গোলাপ আর হাস্নুহেনার গন্ধকে আলাদা করতে পারি, কাঁঠালচাপার গন্ধের সাথে কামিনী ফুলের গন্ধকরে গুলিয়ে ফেলি না, কাছাকাছি যেকোনো উদ্দীপনাই আমাদের এদের সংজ্ঞার সাথে পরিচিত করে দেয়, সুতরাং আমরা তুলনা করি, এবং যেটার তুলনা অধিকতর কাছাকাছি হয় আমরা সেটাকেই নির্দিষ্ট ধরে নেই। স্বাদের ক্ষেত্রেও একই রকম বক্তব্য দেওয়া যাবে, এমন কি আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যেকোনো অনুভবকেই আমরা এমন ভাবেই সংজ্ঞায়িত করেছি আশৈশব, সুতরাং আমাদের ভবিষ্যত অভিজ্ঞতা মূলত এইসব পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে নতুন সংবেদনকে আলাদা করতে শেখার কৌশল। আমরা যতদ্রুত এই কৌশল আয়ত্ব করতে পারি আমরা তত বেশী স্মার্ট।

ধর্মালোচনায় এটার উপস্থিতি আদতে শুধুমাত্র সত্যের অনন্যতার বুঝানোর জন্য, প্রতিটা একক মানুষের মস্তিস্ক একই রকম ভাবে উদ্দীপ্ত হয় না। বরং একই গন্ধে প্রত্যেকের শরীর ভিন্ন ভাবে সাড়া দেয়, তারা প্রত্যেকেই একই উদ্দীপনার মুখোমুখী হচ্ছে এবং আলাদা আলাদা রাসায়নিক উদ্দীপনা পাচ্ছে, এভাবেই মানুষ এবং মানুষের ভেতরে তফাত তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

তাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা এবং সত্য চুড়ান্ত বিবেচনায় ব্যক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তির ধারণ ক্ষমতার উপরে নির্ভর করবে সত্যের স্বরূপ। সত্যের একটা মাত্র মুখোশ নেই বরং সত্য বহুরুপী, আমার কাছে যা সত্য সেটা অন্য সবার কাছে সত্য নয়, ব্যক্তিগত জীবনচর্চা, ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ব্যক্তিগত অনুভবের জায়গা থেকে আমি যেসবকে অবশ্যপালনীয় ভাবি, যেসবকে বাস্তব মেনে নেই এবং যেসবকে আমার নিয়ন্ত্রনের বাইরের কিছু ধরে নেই সেটা অন্য একজনের সাথে আমার পার্থক্য নির্ধারণ করে এবং একই সাথে সেটাই তার সত্যের সাথে আমার সত্যের পার্থক্য নির্ধারণ করে দেয়। সুতরাং সত্য বিষয় অনপেক্ষ কিছু নয়, ব্যক্তিঅনপেক্ষ কিছু নয়, বরং এইসবের সাথে ব্যক্তি এবং ব্যক্তিগত জীবনচর্চা জড়িত।

প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রযুক্তির বিশ্লেষণের তথ্য দিয়ে হয়তো কিছুটা আন্দাজ করা যাবে আধুনিক সময়ের সাথে অতীতের পার্থক্য এবং সেই সাথে আমাদের অনুভবের বিবর্তনটুকুও ধারণ করা যাবে। নির্দিষ্ট এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা কম্পিউটারের হার্ডওয়ার সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান রাখে, তাদের আমরা একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীবদ্ধ করি, এর সাথে একদল মানুষ আছে যারা হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সম্পর্কগুলো সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী, তাদের আমরা শ্রেণীবদ্ধ করে বলতে পারি এটা "খ" শ্রেণীর। তৃতীয় একদল মানুষ আছে যাদের অভিজ্ঞতা সফটওয়্যার নির্মাণের, প্রতিটাই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, প্রাযুক্তিক প্রক্রিয়া এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাই করে একটা সিদ্ধান্ত ও বিশ্লেষণের জায়গা এই তিন শ্রেণীর মানুষের আছে-

এই তিন শ্রেণীর মানুষের বাইরে বিশাল এক ভোক্তা সমাজ রয়েছে, যাদের এতকিছু জানবার প্রয়োজন নেই, ছবি দেখে চিহ্ন দেখে যারা এইসব ব্যবহার করছে নিজের জীবনের প্রয়োজনে। এবং এটার জটিলতা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। এই ব্যবহারজীবি মানুষের কাছে যদি এই তথ্যটুকু না থাকে যে পৃথিবীর কোনো কোনো মানুষ এগুলোর কার্যাবলী নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা রাখে তবে তার কাছে এটা অলৌকিক একটা যন্ত্র- কিন্তু এটা নির্ধারিত কিছু নিয়মাবলী দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়।
টেলিভিশনের মতো প্রযুক্তিও কোনো কোনো মানুষের কাছে অলৌকিক মনে হতে পারে, রেডিও কিংবা মোবাইল ফোনও অনেকের কাছে অলৌকিক কিছু, কারণ এইসবের কার্যকরণ আমরা নিজস্ব বিশ্লেষণী ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্ধারণ করতে পারছি না।

একই ভাবে একজন সফটওয়্যার নির্মাতা শুধুমাত্র তার ক্ষেত্রে অত্যাধিক অভিজ্ঞ হলেও ম্যাশিন ল্যাঙ্গুয়েজের সহায়তা ছাড়া তার এতসব কার্যক্রম কোনো অর্থই বহন করবে না। কারণ ম্যাশিন শব্দ বুঝে না, শব্দের আড়ালে থাকা নির্দেশনাগুলো যেভাবে কাজ করতে বলবে তারা সেভাবেই কাজ করবে।

শিক্ষাও এমনই একটা ব্যবহার্য বিষয়, সে ব্যবহার্য বিষয় কিভাবে আত্মস্ত করবে সেটা ব্যক্তির নিজের ধারণ ক্ষমতার উপরে নির্ভর করে। একজন নিউরোবিজ্ঞানী জানেন আমাদের চারপাশের জগত আমাদের মস্তিস্কে সে রাসায়নিক উদ্দীপনা নির্মাণ করে আমাদের বিশ্ব সেটুকুই, সেই রাসায়নিক উদ্দীপনার বাইরে বিশ্বের কোনো অস্তিত্ব নেই, আমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই, আমি স্বপ্নে যেসব অনুভব পাই, সেসব স্বাদ কিংবা স্পর্শ্বে আল্পুত হই সেসব যদি সে বস্তুর উপস্থিতিব্যতিরকেই আমার মস্তিস্ক উৎপাদন করতে পারে তবে আমরা সেই অনুভবটুকু পাবো, সেই দৃশ্যের উপস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত হবো। আমি স্বপ্নে যে নারীকে দেখে প্রবল আশ্লেষে আলিঙ্গন করে তৃপ্ত হচ্ছি সে নারির কোনো শরীরি অস্তিত্ব নেই, সে বসবাস করছে আমার মস্তিস্কের রাসায়নিক কার্যকলাপে, সুতরাং আমার কাছে স্বপ্ন, মস্তিস্ক, জাগরণ এবং অসচেতনতাগুলো মূলত এভাবেই নির্ধারিত হয়ে যায়- আমি সচেতন অবস্থায়, জাগ্রত অবস্থায় এইসব রাসায়নিক কার্যকলাপগুলোকে পরিচিত দৃশ্যের সাথে একিভূত করে নিজের পরিপাশ্বিকের সাথে মিলিয়ে একটা আকার দিতে পারি- হয়তো চাইলে সেসবকে পরিবর্তিত করতে পারি, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই এটা নিশ্চিত করে না আমি জাগ্রত- বরং আমাদের অন্যসবাই একই রকম অবাস্তব হলেও রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াগুলোর বিন্দুমাত্র অদল-বদল হবে না।

এরপরও আমি নিজেকে সজাগ এবং অসচেতন পর্যায়ে বিভক্ত করবার মতো একটা পরিস্থিতি নির্ধারণ করেছি, কারণ আমি নিজের অবস্থান থেকে নিজের সুপ্তি এবং জাগ্রত অবস্থাকে আলাদা করবার নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটার ধরে নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি।

১০০০০ বছর আগের একজন মানুষের কাছে এই তথ্যগুলো অবান্তর, আমাদের প্রাযুক্তিক উন্নতি তখনও সে পর্যায়ে পৌঁছায় নি যে সে নিজের সুপ্তি এবং জাগ্রত অবস্থা, নিজের মস্তিস্কের রাসায়নিক উদ্দীপনার সাথে দৃশ্য এবং অদৃশ্যকে আলাদা করতে পারবে। সুতরাং তাদের কাছে সকল দৃশ্যই বাস্তব, সকল রাসায়নিক উদ্দীপনাই একই রকম বাস্তব তাদের কাছে, তারা নিজের অভিজ্ঞতার বাইরে যেতে পারে নি, এবং নিজের বিশ্লেষণী ক্ষমতার চুড়ান্ত ব্যবহার করেও তাদের সে পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই কারণ এইসব তথ্য না থাকলে তারা সে পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না।

কিন্তু ঠিক এই সময়ে যখন কোনো অলৌকিক দৃশ্য দেখে কোনো নিউরোবিজ্ঞানী পূজা অর্চনা শুরু করেন তখন তাকে কোন শ্রেণীতে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়, তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় জানেন এইসব বাস্তবতা এবং অবাস্তবতার জগতটুকুর তফাত, কিন্তু তিনি এটা স্বীকার করতে চাইছেন না। তার শিক্ষা তাকে প্রতারিত করছে কিংবা তিনি তার অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করে অন্য একটা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।

সেখানেই ব্যবহারউপযোগী শিক্ষা চলে আসছে, শিক্ষার ব্যবহার কে কিভাবে করছে তার উপরে নির্ভর করে , এবং সেটা আমি তুমি সে কিংবা সমাজ নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। সুতরাং সমাজে সবাই শিক্ষিত ও প্রযুক্তি নির্ভার হয়ে উঠলেই ধর্মের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে না।

ধর্ম মানুষকে একটা আশ্রয় দেয়, একটা নিরাপত্তার আশ্বাস দেয় এবং একই সাথে জীবনের দুর্বলতা এবং দুঃসহ মুহূর্তগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগায়- এই অলৌকিক বিশ্বাসটুকুর যথার্থতা কিংবা অযথার্ততা আমাদের যৌক্তিক আলোচনায় নির্ধারণ করা যাবে না। বরং এটা মানসিক অনুভবের জায়গা।

আমাদের মানসিক অনুভব অনেক সময়ই আমাদের মস্তিস্কের রাসায়নিক নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রন করে, এবং সে অনুযায়ী শরীরকে চালিত করে। যে মানুষটি সন্তান হারিয়ে ধর্মের কাছে আশ্রয় খুঁজছে সে তার নিজের দুঃসহ অভিজ্ঞতাকে ভুলতে এমন একটা প্রক্রিয়াকে বেছে নিয়েছে, সেটার হয়তো কোনো যৌক্তিকতা নেই, তার সন্তান বেহেশতে কোনো কোনো নারীর আশ্রয়ে অতি নিরাপদে বেঁচে আছে এবং ভবিষ্যতে মৃত্যুর পরে তার সাথে সে সন্তানের মিলন হবে এই অবান্তর ভাবনাটুকু আমার অবস্থান থেকে যতটা অযৌক্তিক মনে হোক না কেনো, সেটাই তার বাণনচার অবলম্বন এবং কোনো যৌক্তিক আলোচনায় তার এই অনুভুতিকে আহত করা মূলত তাকে হত্যা করববার একটা অপচেষ্টা।

আমাদের সংস্কৃতি আমাদের বেড়ে উঠবার ধরণের উপরে নির্ভরশীল এবং আমাদের শব্দচয়ন এবং আমাদের নির্ধারিত সংজ্ঞাগুলোও আমরা আমাদের প্রচলিত ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা দিয়েই নির্দিষ্ট করি, অপ্রকাশিতব্য যে কোনো অনুভবই আমাদের অলৌকিকত্বের আস্বাদ দেয়- কারণ আমরা আমাদের নির্ধারিত শিক্ষায় সেগুলোকে যথাযথ উপস্থাপন করতে পারি না।

একই রকম সংস্কৃতি চর্চার অতীত রয়েছে ১০০০০ বছর আগের মানুষেরও। তারাও তার পরিপার্শ্বকে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছে, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোকে নিজের মতো ব্যখ্যা করতে চেয়েছে, সে কাজে তারা কতটুকু সফল হয়েছে সেটা নিয়ে বিতর্ক না করে বরং সেটার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

নিজের অভিজ্ঞতায় তারা যা কিছু জেনেছে তার কিছু অংশ তারা নিয়ন্ত্রন করতে পারতো এবং অধিকারংশই তার নিয়ন্ত্রনের বাইরের জগত, সুতরাং তার নিজের নিয়ন্ত্রন অযোগ্য যেকোনো কিছুই সে আদতে অলৌকিক কোনো সত্ত্বার কাছে সচেতন ভাবেই দায়িত্ব নিয়ে ছেড়ে দিতো এবং নিজের সংক্ষিপ্ত আচরণে সেটাকে নিয়ন্ত্রনের প্রচেষ্টা করতো। এভাবেই একটা সমাজবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিলো অতীতে।

যেকোনো গোষ্ঠীবদ্ধতা একটা নির্দিষ্ট অবস্থানের মানুষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে, সমাজের কাঠামো ঠিক করে দেয় ঠিক কোন মানুষগুলো অন্য সব মানুষের চেয়ে বেশী পক্ষপাতিত্ব পাবে এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় কারা প্রাধান্য পাবে। এই সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় যাদের মতামতের গ্রহনযোগ্যতা বেশী তারাই সমাজে সুবিধাভোগী হয়ে যায় এবং এর বাইরের সবাই পক্ষাপাতিত্ববিহীন সামাজিক জীব হয়ে বেঁচে থাকে, একই সাথে একটা সংকীর্ণ অংশ থাকে যাবতীয় সুবিধাবঞ্চিত, তাদের সিদ্ধান্ত চাওয়া পাওয়া কোনো ভাবেই সমাজকে বদলায় না।

সুবিধাভোগী এবং সুবিধাবঞ্চিতদের ভেতরে শ্রেণীঘৃণা বাড়তে থাকে , বাড়তে থাকে প্রতিযোগিতা এবং অর্থনীতি ক্রমশ প্রসারিত হয়। কোন সমাজের মানুষ কতটুকু ধারণ করতে পারবে তা ঠিক করে মূলত সেই সমাজের সাথে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্য সকল সমাজের সম্পর্ক। তারা যতবেশী সমাজের সংস্পর্শে আসব তাদের সিদ্ধান্ত ও সমাজব্যবস্থা তত বিবর্তিত এবং ততই উন্নত হয়ে উঠবে। তাদের বিশ্লেষণীক্ষমতা বাড়বে, তাদের সিদ্ধান্তগ্রহন এবং তাদের আচরণে এটার প্রভাব পড়বে।

এভাবে একটা সমাগ্রীক নৈতিকতাবোধও জন্ম নিবে কোনো এক পর্যায়ে, এবং সেই নৈতিকতাবোধটুকু চর্চিত হবে, ক্ষমতাচর্চার জন্য ক্ষমতাচর্চার প্রতিরোধ করতে পারে এমন যেকোনো আচরণই নৈতিকতাবিবর্জিত গণ্য হবে, একই সাথে নৈতিকতাবোধটুকু সামাজিক স্থিরতার একটা শর্তও ধারণ করবে কারণ সমাজ স্থির না হলে ক্ষমতার চর্চা এবং অর্থনৈতিক বিকাশ সম্ভব হবে না।


বিকাশের একটা পর্যায়ে সম্ভবত ধর্মের উৎপত্তি এবং সেটা মূলত ক্ষমতাচর্চাকারীদের হাতেই সম্পন্ন হয়েছে, একই সাথে সুবিধাবঞ্চিতের পরিমাণ বাড়লে তারাও নিজেদের মতো বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে এবং সেই বিদ্রোহকে কার্যকর করবার জন্য তাদেরও প্রচলিত সামাজিক নৈতিকতার বাইরে গিয়ে, সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার বাইরে গিয়ে বিকল্প অনুসন্ধান করতে হয়েছে। এই ভাবেই ধর্ম বিবর্তিত হয়েছে, এবং ধারাবাহিক বিবর্তনে সেটা বর্তমানের অবস্থায় পৌঁছেছে।
ক্ষমতার চর্চা এবং সামাজিক পক্ষপাতিত্ববিহীন কোনো একটা আদর্শ সমাজ কল্পনা করা যায়, তেমন কোনো আদর্শ সমাজে হয়তো সামাজিক নৈতিকতাবোধগুলো ভিন্ন ভাবে চর্চিত হবে। সেখানের নতুন বাগবিধিতে হয়তো এইসব অবোধ্য অনুভবের পরিচায়ক কোনো শব্দ থাকবে না। এবং শব্দ না থাকলে এই জাতীয় ভাবনাও থাকবে না। ইশ্বরকে হত্যা করবার সবচেয়ে সহজ এবং সরল প্রকল্প হতে পারে অভিধান থেকে ইশ্বর এবং ইশ্বরের সমার্থক সকল শব্দ মুছে ফেলে একটা বিশাল অঞ্চলের মানুষকে সেই অভিধানের শব্দে দীক্ষিত করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29049633 http://www.somewhereinblog.net/blog/jontronablog/29049633 2009-11-25 21:21:32