আমার প্রিয় পোস্ট

দুদু মিয়ার সেইরূপ দেখে যখন আমি শুধু ছোট্ট একটি চিৎকার দিয়েছিলাম

২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩০

শেয়ার করুন:                   Facebook

দুদু মিয়া ছিল আমাদের দাদুবাড়ীর একমাত্র গোয়ালা যে সব গরু গাভী সামলাত । এখনো সে বেঁচে আছে , সামনের সারির কোন দাঁত দেখা না গেলেও সেই কাঠামো ঠিক আগের মতই আছে , আর দেখা যায় সেই খাড়া খাড়া সাদা সিল্কি চুল যা এখনো তেল চকচকে । আর বয়স !! সর্বনিম্নে ৭০ !!

তখন আমি খুব ছোট ছিলাম , দাদু বাড়ীতে যেতাম বছরে দুই তিনবার । এখনো সেই ঘরগুলো রয়েছে ঠিক আগের মতই , সেই আমগাছ যার পাশে একটি গোয়াল , এখনো সেখানে দুটি গরু বাঁধা থাকে । আর সেই সময়ে আমার ঐ যায়গায় যাবার মূল আকর্ষন ছিল দুদুমিয়ার চমৎকার একটি হুক্কা । কয়লা আর কাঁচা তামাক আর পানির মধ্য দিয়ে ফিল্টার হয়ে অদ্ভুত মাদকতার সেই গন্ধ ।
দুদুমিয়ার কাজগুলো সুন্দর ছিল , ছোট্ট বাটিতে সরিষার খাঁটি তেল দিয়ে গাভীর ওলানে সুন্দর করে মাখিয়ে দিত প্রথমে , এরপর বাছুর কে দিয়ে একটু শুরু করত দুধ খাওয়ানো , তারপরেই সে দু হাত দিয়ে অসাধারন দক্ষতায় দুধ দোয়াত । বাসার চাহিদা পুরোটাই মিটে যেত তাতে । আমিও শিখেছিলাম এই শিল্প তার কাছ থেকে । দুদু মিয়ার নামের সাথে কাজের এই মিল দেখে তখন অবাক হতাম , এটা আসলেও তার নাম কিনা তা নিয়েও হয়ত ভাবতাম !!

তো ঘরের দুপাশে তখনো ছিল বড় দুটো পুকুর আর তখন পুকুর পাড়ে ছিল একটা বিশাল তেঁতুল গাছ । আমার ফুপু আর ফুফাত বোনদের সেখানে প্রায়শই দেখা যেত । আর বারীর এক্কেবারে পেছনে নিজস্ব বন থাকায় সবরকমের ফলের গাছ ছিল । টিনশেড ঘরের মাথায় ছিল আমগাছ যা এখনো আছে ।

সেইসময়ের যতটুকু খেয়াল আছে তা হল ঈদ এর দুদিন আগের ঘটনা , বাসায় সবার আশা শুরু হয়েছিল কেবল । রান্নাঘরে দাদীমা , ছোট ফুপু আর আম্মু ছিল । আমি ঘরে বিছানায় বসে কি যেন দেখছিলাম তা খেয়াল নেই । তবে ঘরে আলোর আধিক্য ছিল ভালোমতই । জানালাময় ঘর ।
রাতের বেলায় কি আর করার থাকতে পারে !! হঠাৎ বন এর দিকের জানালায় একটা মাথা দেখে চমকে উঠেছিলাম , পুরো দুদুমিয়ার মত , কিন্তু এখনো খেয়াল আছে তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিল কেন যেন , আমি তীব্র চিৎকার দিতে গিয়ে অবাক হয়েছিলাম যা দেখে তা হল অস্বাভাবিক দ্রুততায় সে প্রায় ১২ ফুট দূরের জানালায় চলে গিয়েছিল , এই হতভম্ব অবস্থায় ছোট্ট একটি চিৎকার দিয়েছিয়াম , আর ফুপু এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল দৌড়ে এসে ।

বড় হয়েও মাঝে মাঝে ভাবতাম এসব এর যৌক্তিকতা নিয়ে , ছোটবেলার অবচেতন মন , নাকি দুদুমিয়ার অস্তিত্ব , নাকি গল্পের বই এর রূপকথার মত কোন কিছুর সাথে সময়কে কিছুক্ষণের জন্যে গুলিয়ে ফেলা , অথবা পুরোটাই কল্পনাপ্রসূত !!!

তবে স্পষ্ট খেয়াল আছে সমসাময়িক কিছু ঘটনার জন্যে যে , জানালার পাশে বাঁশের একটা বেড়া ছিল , জানালা থেকে তা লক্ষ্য করেছিলাম ।
এবং দুদুমিয়া হওয়া একরকম অসম্ভব কারণ তার উচ্চতা ছিল অনেক কম । সেই পর্যায়ে মাথা নিতে হলে দুইফুট উঁচু কিছু নিয়েই তবে পারত , আর তার যে দ্রুততা ছিল !!! এক্কেবারে অসম্ভব !!! আর ঘরে যেহেতু দুদুমিয়ার অবাধ যাতায়াত কোন কারণেই সে সেইদিকে যাবার লোক নয় ।
সেকেন্ডের ব্যাবধানের এই দৃশ্যটি এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে , শুধু কল্পনা হলে হয়ত আজও মনে থাকার কথা না , কিন্তু কোন এক কারণে সেই মুহূর্তগুলো স্মৃতির পটে দাগ কেটে গিয়েছে নিজস্ব নিয়মেই ।

দুদুমিয়ার গোয়ালঘর

 

প্রকাশ করা হয়েছে: স্মৃতি কথা  বিভাগে ।

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ১৭৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩১
comment by: রাতমজুর বলেছেন: হুম
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩২

লেখক বলেছেন: বেশ বেশ

২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৪
comment by: অ্যালন বলেছেন:
তাইলে কি ছিলো ওইটা..বুত নিহি..:|
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫২

লেখক বলেছেন: জানার তো কোন ক্লু নেই আর :|

৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪২
comment by: সব যদি আজ বদলে যেত বলেছেন: চা খাইতে খাইতে এইসব গল্প শুনতে ভালো লাগে।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন: দুধ চা কিন্তু ;)

৪. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৯
comment by: লুনা ফিরোজ বলেছেন: :-/

হয়তো কোন প্রাণি ছিল, ভুল তো হতেই পারে। মধ্য রাতের হরর পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!!
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: প্রাণী তো বটেই , কিন্তু মনুষ্য আকৃতির তা । বিড়াল বা বাঁদর হওয়াও সম্ভব না , বিড়াল এর লেঞ্জা আছে দাঁড়ি নাই , আর মুখ টা মানুষের মতই , আর সে যায়গায় এই দুটো প্রাণীর থাকা সম্ভব নয় কারণ , ১ একটারও শুধু মাথা আর গলা দেখিয়ে থাকার স্থান পর্যাপ্ত পরিমানে নেই টিনের শব্দে বোঝা যেত সব , ২ কোন কালেই সেখানে বাঁদর ছিলনা এখনো নেই ।

আর এটা তেমন ভয়ের কিছুই না , শুধু একটা অভিজ্ঞতা মাত্র ।

৫. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৪
comment by: আবু সালেহ বলেছেন:
হি হি হি
ভয় পাই নাই...
৬. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১২
comment by: মইন বলেছেন: হুমমম
৭. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৮
comment by: অ্যালন বলেছেন:
এখন বুচ্তে পার্সি ওইটা কি ছিলো..
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৩

লেখক বলেছেন: হায় হায় , আমি এতদিনেও বুঝতে পারলাম না আপনি কেম্নে বুঝলেন :|

৮. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১০
comment by: অ্যালন বলেছেন: হ..ওইডা মা মোন্শা আছিলো..সাপ্ধান কৈলাম আবার আইবো..:|
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৩

লেখক বলেছেন: =p~ যা কইলেন মশাই , তবে আবার আসলে সানন্দে চুমা দিবো , যা আছে কপালে

৯. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:১৮
comment by: অপ্‌সরা বলেছেন: ছোট বেলায় এমন অনেক কিছুতে আমিও ভয় পেতাম। এখন আর পাইনা।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৬

লেখক বলেছেন: বেশ ভাল রে , দুর্ধর্ষ সখিনা এর মত সাহসী অপ্‌সরা ;)

১০. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩৫
comment by: তানজু রাহমান বলেছেন: আসলেই ভয় পেলাম। দুদুমিয়ার ফটো নাই?! তার সাদা সিল্কি চুল দেখতে চাই!
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৪

লেখক বলেছেন: এই ঈদ এ আনব রে , এই লোক টা আসলেও জোস একটা লোক , দেখে নিস তখন :)

১১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩০
comment by: মমমম১২ বলেছেন: কত বড় ছিলেন তখন?
হঠাৎ করে ঘুমিয়ে গিয়ে দেখা স্বপ্ন নয় তো?
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৮

লেখক বলেছেন: অন্তত এটুকু বলা যায় পুরো সজ্ঞানে ছিলাম ।

১২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৬
comment by: অক্ষর বলেছেন: দুদু ওখন কৈ?
২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৫৫

লেখক বলেছেন: দুদু !! ওহ দুদুমিয়া তার গ্রামেই আছে

 

 


স্রষ্টার অসীম সৃষ্টির মাঝে আমিও একজন এবং আমিও স্রষ্টা আমার নিজস্ব সৃষ্টিসমূহের
iblish@live.com
http://iblish-is-alive.blogspot.com/
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৬৭৬৭