পারি দাও স্রোত,কঠিন প্রয়াসে অকুতোভয়, এ নিশীথের তীরে, হবে ফের সূর্যোদয় !

কন্যা সন্তান কি অভিশাপ সমাজের সভ্যতার স্থলন গিয়ে কোথায় ঠেকবে?
১৪ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ২:৩৪
কণ্য সন্তান জন্ম দেয়ার কারনে কুমিল্লার গৃহবধূ ফাহমিদা ফাতেমা শিউলি কে প্রান দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশের সভ্যতার পরিচয় তুলে ধরেছে। সম্প্রতি কুমিল্লার নোয়াদ্দা গ্রামে বর্বরতম ঘটনাটি ঘটে। গর্ভাবস্থায় ৯ মাসের মাথায় আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে কন্যা সন্তান এর পরিচয় পাবার পর স্বামী স্কুল শিক্ষক মোজাম্মেল হক স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য। আর রাজি না হওয়ায় স্বামীর হাতে নির্যাতনের নতি স্বীকার করে চলে যান পরপারে। কণ্যা সন্তান যেন এক আতঙ্কের পরিচয়! সভ্যতার চরম শিখরে গিয়েও মানুষ রয়ে গেছে অজ্ঞাতসারে ।
একটি সন্তান ঘরে আনন্দের উৎস বলে যেখানে বিবেচ্য হবার কথা। কিন্তু তা না হয়ে কন্যা সন্তানকে অভিশাপ স্বরুপ দেখাচ্ছে।
এই অবস্থা শুধু বাংলা দেশে নয়। ভারত এবং চীনে এই অবস্থা আরো বেশী। ভারতের ঝাড়খন্ডের শান্তি রানী স্বামীর চাপে ৫ বার গর্ভপাত করেছেন। কারন তার পূর্বে আরো ২ টা কন্যাসন্তান রয়েছে। হরিয়ানা প্রদেশেও লক্ষীরানী নামের এক গৃহবধূ কণ্যা সন্তানের ভ্রুণ নষ্ট করার মত ঘৃণ্য কাজও করেছেন স্বামীর চাপে। বাংলাদেশে ভ্রুন নষ্ট করার প্রচলন না হলেও ভারত ও চীনে এর সর্বাধিক প্রয়োগ দেখা যায়।
এখন ভারতে কোন কোন প্রদেশে বিয়ে করার জন্য কন্যা সন্তান অন্য অঞ্চল থেকে আনা হচ্ছে। এবং আশংকার কথা হল কন্যা বিক্রয়ের হাট ও বসছে। যাকে স্থানীয় ভাবে করোজ বলা হচ্ছে। তবে আরো নির্মম বেপার হল এসব হাটে মেয়েদের কে কয়েকদফায় বিক্রয় করা হয়। এসব হাট বসছে দিল্লির অদুরেই। তবে চীন রয়েছে ভয়াবহ সংকটে। এক সন্তান নীতির কারনে ২০২০ এর মাঝে চীনে ৩ কোটি বিয়ের উপযুক্ত মানুষ বিয়ে করার জন্য কনে পাচ্ছেনা। বিভিন্ন স্থান থেকে কনে আমদানী শুরু করেছে চীন। অধিকাংশ মেয়ে ভ্রুণ নষ্ট করার কারনে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বলা বাহুল্য যৌতুকের কারনে আর উত্তরাধিকারের কথা বলে পুত্র সন্তানকে যেভাবে গ্রহন করা হচ্ছে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?
অথচ আজকে পুরুষের পাশাপাশি সমাজে নারী তার স্থান সমূহ পাকাপোক্তভাবে গড়ে নিচ্ছে। বদল হচ্ছে অবস্থার। নারী সমাজের জন্য এক অপরিহার্য্য অংশ । এটা বুঝলে তবেই সত্যিকারের মুক্তি আসবে নারী সমাজের । বন্ধ হবে নারী নির্যাতন।
শফিকুল বলেছেন:
এরা নরকের কিট , এদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল বলেছেন।
পথিক মানিক বলেছেন:
এখনি রুখতে হবে এদের। এমন যেন আর না ঘটে। জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে প্রতিটি গ্রামে । তবেই বোধ হয় সম্ভব রোখা.......লেখক বলেছেন: thanks for your comments
ইমরান মামা বলেছেন:
পরিবর্তনটা একেবারে সংস্কৃতি থেকে শুরু করে আইন ও প্রয়োগকারী সংস্থা পর্যন্ত দরকার। দরকার এ ব্যাপারে প্রচুর প্রচারণা। পাঠ্যবইয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা । আরো অনেক কিছু।
লেখক বলেছেন: জ্বি আরো অনেক কিছুই পরিবর্তন দরকার। ধণ্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আসলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি শিখাচ্ছে আমাদের? এইটাও এখন প্রশানবিদ্ধ!ধন্যবাদ। ভাল বলেছেন।
িদদারুল আলম বাননা বলেছেন:
ধন্যবাদ গুরত্বপুর্ন বিষয় টি তুলে ধরার জন্য।আসলে এসবের মুলে কিন্তু অশিক্ষা ও দারিদ্রতাই দায়ী বলে আমি মনে করি।
লেখক বলেছেন: দারিদ্রতার চেয়ে অশিক্ষাই বেশী দায়ী। ধন্যবাদ।
ঘাসফুল বলেছেন:
আহারে, খুব কষ্ট পাইলাম----
লেখক বলেছেন: কষ্ট পাইলেই কি সব সমাধান হয়? ভাল বলেছেন।
ঘাসফুল বলেছেন:
আমগো সচেতনতা না বাড়লে কেমনে কি অইবো কন। শুদু শিক্কিত অইলেই চলতোনা- মানুষের মতন মানুষ অইতে অইবো-এটলিষ্ট চিষ্টা করতে অইবো।
কানমলা-০৮ বলেছেন:
আগে নিজে সচেতন হোন। তারপর....

















