পারি দাও স্রোত,কঠিন প্রয়াসে অকুতোভয়, এ নিশীথের তীরে, হবে ফের সূর্যোদয় !

আজ বাংলাদেশের রাজধানী ``ঢাকা'' র ৪০০ তম জন্মদিন। ঐতিহাসিক এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই ঢাকা!
১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:০৭
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ অবধি রাজধানী ঢাকার ইতিহাস দীর্ঘ চার শ’ বছরের। এ ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। দীর্ঘ এ সময়ে ঢাকা অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছে।
১৬১০, ১৯০৫, ১৯৪৭ এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালে ঢাকা রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে আজ পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।
এটি পৃথিবীর ঐতিহাসিক শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ঢাকা নামটির কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তবে বিভিন্ন মতামত প্রচলিত রয়েছে। ঢাকা ভাষা- নামে এক ভাষা এ ভূখণ্ডে প্রচলিত ছিল, তা থেকে এর নাম ঢাকা হয়েছে। আরো একটি মত হল- ঢাকা-ঈশ্বরী থেকে ঢাকা নামটি এসেছে। কারো কারো মতে, এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাকগাছ জন্মাত। তা থেকে ঢাকা নামটি এসেছে। এ রকম আরো অনেক মতামত প্রচলিত আছে ঢাকা নামটি নিয়ে।
মুসলিম-পূর্বকালে রাজধানী ঢাকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না। জানা যায়, সুলতানি আমলে এ শহরটি বাংলার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ সালে বাংলা জয়ের জন্য ইসলাম খানকে বাংলার সুবাহ্দার হিসেবে নিযুক্ত করেন।সে তারিখটি ১৬ জুলাই ১৬০৮। সে দিনই ইসলাম খান সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে মর্যাদা দেন।
তিনি ১৬০৯ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে রংপুরের ঘোড়াঘাটে এসে পৌঁছান। ১৬১০ সালের জুন-জুলাই মাসে তিনি ঢাকা এসে পৌঁছান। এ সময়ই তিনি বাংলার রাজধানী পশ্চিম বাংলার রাজমহল থেকে ঢাকায় স্খানান্তর করেন। সম্ভবত ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন ১৬১০ সালের ১৫ জুলাই। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে তিনি ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। প্রশাসনিকভাবে এ নামটি ব্যবহার হলেও লোকমুখে ঢাকা নামটিই প্রচলিত থাকে।
এরপর রাজধানী হিসেবে ঢাকার মর্যাদা এক শ বছরের বেশি সময় অক্ষুণí ছিল। এখানে ছিল প্রশাসনিক সদর দফতর, সুবাহ্দার ও অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাসস্খান। নবাব মুর্শিদকুলী খাঁ ১৭১৭ সালে ঢাকা থেকে বাংলার রাজধানী পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় স্খানান্তর করেন। এ সময় ঢাকা রাজধানীর গুরুত্ব হারিয়ে স্খানীয় এক নায়েব-নাজিমের শাসনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৮৪৩ সাল পর্যন্ত এ ব্যবস্খা প্রচলিত ছিল।
১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি প্রদেশ গঠিত হয়। ঢাকা দ্বিতীয়বারের মতো রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার ফলে ১৯১১ সালে ঢাকা রাজধানীর মর্যাদা হারায়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশের পতন ঘটলে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা পূর্ব পাকিস্তান অংশের রাজধানী হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে ঢাকা চতুর্থবারের মতো রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসনিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কালস্রোতে ঢাকা শহর থেকে নগর, রাজধানী, মহানগর ও বর্তমানে মেগাসিটিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ঢাকাকে একটি আধুনিক মেগাসিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর তার সাথে ঢাকা পা রাখল ৪০০ বছরের জীবনে।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
আরো বয়সী হও ....... কালের বটের মতন, হে ঢাকা।
লেখক বলেছেন: আরো বয়সী হও ঢাকা। ধন্যবাদ।
চুপকথা ... বলেছেন:
শুভ জন্মদিন ঢাকা
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আমিও আপনার সাথে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ঢাকাকে।
চুপকথা ... বলেছেন:
শুভ জন্মদিন ঢাকা
মানবী বলেছেন:
শুভ জন্মদিন প্রিয় শহর।রাজধানী ঢাকা'র ইতিহাস সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ প্রশাসন।
+
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
শুভ জন্মদিন ঢাকা..........আমার খুব প্রিয় শহরের একটি......স্মৃতিময় ঢাকা।এই রকম একটা লেখার অপেক্ষায় ছিলাম।
শুভেচ্ছা আপনাকে সুন্দর উপস্হাপনের জন্য।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সম্প্রতি আপনার লেখা গুলো পাচ্ছিনা।
আশাবাদী!! বলেছেন:
আহহহহহহহহ ভাই আগে আপডেট দিবেন না আগে একবার প্রশ্ন করেছিলাম সঠিক দিন কবে। কেউ জবাব দেয়নি
পেপারে কোথাও আপডেট দেখলাম না তো
ঢাকা নগরীকে শুভেচ্ছা সেই সাথে তোমার দুঃখে দুঃখিত (সেই ঢাকা কি আর আছে)
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
তিলোত্তমা ঢাকাস্মৃতিময় ঢাকা
গতিময় ঢাকা
পুঁতিগন্ধময় ঢাকা
ঐতিহ্যময় ঢাকা
---জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।
কানমলা-০৮ বলেছেন:
ঢাকা.... জন্মদিনের শুভেচ্ছা তোমায়।
েছাটন বলেছেন:
ঢাকার বয়স কলকাতার চেয়েও বেশি, কি আশ্চর্যের ব্যাপার না!

















