অপুষ্টির আগ্রাসী থাবায় বিপন্ন মানুষ............................
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২২
ত্রিশ বছর আগে রোমে বিশ্বখাদ্য সম্মেলনে বিশ্ব সম্প্রদায় এক দশকের মধ্যে অনাহার ও অপুষ্টি অবসানের লক্ষ্যে অঙ্গীকার গ্রহণ করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে লাগাতার অপুষ্টি কবলিত লোকের সংখ্যা ১৯৬৯ সালে যেখানে ছিল ৩৬ শতাংশ ১৯৯০ সালে তা ২০ শতাংশে নেমে এলেও বর্তমানে প্রায় ৯০ কোটি লোক অথবা প্রতি সাত জনে একজন এখনো ক্রমাগত অপুষ্টির শিকার। অব সাহারা আফিন্সকা এবং কিছুটা পরিমাণে দক্ষিণ এশিয়ায় এই অবস্খার তেমন কোনো পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধরন এই পরিস্খিতির অবনতি ঘটিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে আমদানির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেই কারণে সারাবিশ্বের উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য অপ্রত্যাশিতভাবে হন্সাস পাচ্ছে এবং খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাচ্ছে। জোরালো চাহিদা এবং সেই সঙ্গে অপ্রতুল সরবরাহ মূল্যকে রেকর্ড পর্যায়ে তুলে দিচ্ছে এবং স্বল্প আয়ের ও খাদ্য ঘাটতির দেশগুলোর ক্রয়ক্ষমতা তাদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনছে। দীর্ঘমেয়াদে সব দেশই এসব সুবিধা পেলেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা, সংরক্ষণবাদ ও বাজারের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ অপসারণ করে সামঞ্জস্য বিধানের উদ্যোগ স্বল্প মেয়াদে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
বিশ্ব খাদ্য শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে এমন কিছু নীতি ও কার্যক্রম উদ্ভাবন করা যেগুলো অনাহার ও অপুষ্টি দূর করবে এবং সকলের জন্য একটি স্খায়ী খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্খা করবে। সকল পক্ষ কর্তৃক একটি নীতি সম্পর্কিত বিবৃতি স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা অনুমোদনের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে। ‘এফএও'র সদস্য দেশগুলো একমত হয়েছে যে, শীর্ষ সম্মেলনের কর্মপরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব সুফল বয়ে আনবে এবং এর জন্য দেশগুলো এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহি করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার সকল দিক পর্যালোচনা করে দেখার মতো একটি আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে ঐ শীর্ষ সম্মেলনের থাকবে। শীর্ষ সম্মেলন আঞ্চলিক অবস্খার কথা বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিকভাবে অনাহার ও অপুষ্টির সমস্যার মূল কারণ নিরসনের চেষ্টা করবে।
শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে ‘এফএও' দেশ ও অঞ্চলগুলোকে তাদের পরিপ্রেক্ষিত ও নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরে পত্র প্রণয়নের আহ্বান জানায়। আঞ্চলিক পত্রগুলো শীর্ষ সম্মেলনের সচিবালয়ে পেশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পত্রটির শিরোনাম হলো ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদান।” যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, পররাষ্ট্র দফতর ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্খার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্খাকে নিয়ে গঠিত একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ এই পত্রটি প্রণয়ন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পত্রে দেশে-বিদেশে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণগুলো যথা- যুদ্ধ ও বেসামরিক সংঘাত, অনুপযুক্ত জাতীয় নীতি, গবেষণা ও প্রযুক্তির অপর্যাপ্ত উন্নয়ন, হস্তান্তর ও অভিযোজন, বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা, পরিবেশের অধোগতি, দারিদ্র্য, জনসংখ্যার বৃদ্ধি, নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য ও দুর্বল স্বাস্খ্য এগুলো দেশগুলোর নিজেদের এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উভয়েরই সমাধান করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পত্র ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্খাসমূহ ও কানাডার সরকারি সংস্খাসমূহ সম্মিলিতভাবে একটি পত্র প্রণয়ন করে। এটির শিরোনাম হলো “খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্খিতি ও সমস্যাসমূহ উত্তর আমেরিকার পরিপ্রেক্ষিতে।” ইস্ট লানসিং-এ মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একটি ফোরামে বেসরকারি খাত, বেসরকারি সংস্খা ও আন্তর্জাতিক সংস্খার প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদদের বৈঠকের পর এই পত্রটি চূড়াত করা হয়। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে দেশগুলোকে সহায়তার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিরাট স্বার্থ রয়েছে। উভয় দেশই প্রধান খাদ্য উৎপাদন ও রফতানিকারী এবং একই সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ খাদ্য সাহায্য প্রদানকারী দেশ।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














