আমরা নিজেরাই নিজেদের পরিবেশকে বাস এর অযোগ্য করে তুলছি
০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২০
বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব পরিবেশ সমস্যায় জর্জরিত। পরিবেশের নানা দূষণের কারণে আজ বিশ্বের জীব প্রজাতিগুলো হুমকির সম্মুখীন। বিশেষ করে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে মানুষের ভাবনাটা একটু বেশি। কারণ ক্রমাগত পৃথিবী উত্তপ্ত হচ্ছে। ফলে অচিরেই বিলুপ্তির বা ধ্বংসের মুখে পড়বে পৃথিবীর অধিকাংশ জীব। আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের অভিমত, গত আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তাদের মতে, একুশ শতকের শেষের দিকে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৪ থেকে ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদি পৃথিবীর তাপমাত্রা ২.৫ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় তাহলে বিশ্বের ২ কোটি মানুষ ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। ৩০০ কোটির অধিক মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হবে এবং খাদ্যাভাবের কারণে আরো ৫ কোটি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাজান রেইন ফরেস্টের অধিকাংশ এলাকা। যদি তাপমাত্রা ১.৬ থেকে ১.৭ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় তাহলে বিশ্বের সমস্ত প্রবাল শৈল ক্ষয়ে যাবে এবং বিশ্বের ৯ থেকে ১৬ ভাগ প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন হবে। তাপমাত্রা যদি ১.৯ থেকে ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় হবে রেইন ফরেস্টের ৪৭ ভাগ জীব ও উদ্ভিদ বিলুপ্তি হয়ে যাবে। ধ্বংসের মুখে পড়বে ১৪ ভাগ সরীসৃপ, ১৮ ভাগ উভচর, ১০ ভাগ পাখি ও ১৫ ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী।
নামিবিয়া, সাউথ আফিন্সকা ও নর্দান অস্ট্রেলিয়ার ৪১ থেকে ৫১ ভাগ স্খানীয় গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ৮ থেকে ২০ শতাংশ দাবানল বেড়ে যাবে। উত্তর আমেরিকার মিঠা পানির ২৫ ভাগ মাছ, ২৭ ভাগ শ্যামন মাছ এবং ৪০ ভাগ পর্বতশৃঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দক্ষিণ আফিন্সকার ২৪ থেকে ৫৯ ভাগ স্তন্যপায়ী, ২৮ থেকে ৪০ ভাগ পাখি এবং ২১ থেকে ৪৫ ভাগ সরীসৃপ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাপমাত্রা যদি ২.৬ থেকে ৩.১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় তাহলে বিশ্বের ২১ ভাগ থেকে ৫২ ভাগ জীব প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়বে। আর্কটিক অঞ্চলের ৬২ ভাগ বরফ গলে যাবে, যার ফলে মেরুভালুকরা বিলুপ্তির সম্মুখীন হবে। ইউরোপের ৪ থেকে ২১ ভাগ বৃক্ষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার ২১ থেকে ৩৬ ভাগ প্রজাপতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অবশিষ্ট প্রবালশৈলগুলো ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং সেইসাথে অ্যালপাইন প্রজাপতিগুলোর বিলুপ্ত হবার ঝুঁকি বাড়বে। তাপমাত্রা যদি ৩.৩ থেকে ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় তাহলে সমগ্র বিশ্বে ফাইটোপ্লাঙ্কটনের উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে যাবে। নর্দান ফরেস্টের বিশেষ করে চীনের বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং খুব অল্পসংখ্যক প্রাণী ও উদ্ভিদ পৃথিবীর বুকে টিকে থাকবে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলেই এসব ঘটবে। পৃথিবী যতই উত্তপ্ত হবে ততই আমরা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তের দিকে চলে যাবো। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে ক্রমানðয়ে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্খান সর্বাগ্রে। আমাদের দেশের যে হারে বন ধ্বংস হচ্ছে তাতে অচিরেই আমরা বিপর্যয়ের মুখে পড়বো। কেননা বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই অক্সাইড শোষণ করার প্রধান উপাদান হচ্ছে বৃক্ষ সম্পদ। বৃক্ষ সম্পদ ধ্বংসের ফলে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঝড়, জলোচ্ছðাস বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে যাবে। ফলে বাংলাদেশের ১৮ শতাংশ জমি সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে। সুন্দরবনসহ অনেক উপকূলীয় দ্বীপ তলিয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য মূলত মানুষই দায়ী। তাই সুন্দর এ পৃথিবীকে জীবের বাসযোগ্য করে রাখতে হলে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, বিজ্ঞানী, জনগণকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে পৃথিবী ও পৃথিবীর জীব প্রজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














