আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, প্রবীণ পার্লামেন্টেরিয়ান তোফায়েল আহমেদ দেশের পূঁজি বাজার নিয়ে গতকাল সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ও দিক নির্দেশনা পূর্বক বক্তব্য দেবার পরদিনই আজ শেয়ার বাজার উর্ধ্বমূখী। দেশের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন দরপতনের ঘটনায় জাতীয় সংসদে গতকাল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ক্ষমতাসীন মহাজোটের সিনিয়র সদস্যরা। সংসদের প্রবীন সাংসদ রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম পূঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতির অবতারণা করে বলেন, সারাদেশে পুঁজিবাজার নিয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। আমরা যারা বিবেকবান মানুষ তারা এই ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারি না। পুঁজি হারিয়ে যে যুবরাজ আত্মহত্যা করেছে, টিভিতে তার চার বছরের কন্যা মনীষা ও স্ত্রীর কান্না দেখে আমিও চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। যে শেয়ারবাজারের পয়েণ্ট ৮ হাজারের উপরে ছিল সেটি কেন হঠাত্ ৩ হাজারে নেমে এলো? কি কারণে ২০০৯-১০ সালে নানা সুযোগ-সুবিধার কথা বলে ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসা হলো? আবার একপর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন তাদেরকে মুনাফা তুলে নিতে বললো? এমন বুহু প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছেন তারা।
ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তদন্তে যারা অপরাধী চিহ্নিত হলো আমরা তাদের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নিলাম না? তাহলে এই তদন্ত কমিটি কেন করা হয়েছিল? এ সময় সংসদে উপস্থিত রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে উদ্দেশ করে তোফায়েল বলেন, ‘তিনি মন্ত্রী হওয়ার আগে শেয়ারবাজার সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘শুঁটকির বাজারে বিড়াল পাহারাদার।’ আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র সদস্য আরও বলেন, আমরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নই। এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই কেন? তারা কেন একেকবার একেক কথা বলেন? সর্বশেষ আজ (সোমবার) মতিঝিলে পুলিশ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের নির্যাতন করা হয়েছে। এভাবে পুলিশ দিয়ে কেন তাদের আন্দোলন-সংগ্রাম বন্ধ করা হচ্ছে? তারা কি কথাও বলতে পারবে না? এই অবস্থায় আমরা নীরব থাকতে পারি না। অবিলম্বে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে জনগণের কাছে একদিন আমাদের কৈফিয়ত দিতে হবে। জনগণ এখন আমাদের বিচার করার সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে ভোটের দিন জনগণ সুযোগ পাবে, সেদিন জনগণ আমাদের বিচার করবে।
ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট প্রসঙ্গে জাসদ সভাপতি বলেন, এই রিপোর্টে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর দাবি করছি। অন্যথায় পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে না। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তসমূহ কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে তা জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই চক্রান্তকারী কারা তাদের খুঁজে বের করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যদি সরকারের ভেতরেও থাকে তাহলে তাদের সরকার থেকে বের করে দিন।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, পুঁজিবাজার আজ সর্বনিম্ন পর্যায়ে। মতিঝিলে তিনজন একত্র হলেই পুলিশ তাড়া করে। সাংবাদিকরাও তা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। এভাবে পুলিশ দিয়ে তাড়া করে শেয়ারবাজার রক্ষা করা যাবে না। আজকে শুধু জাতীয়ভাবেই নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও আমাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ পাচ্ছে। টাইম ম্যাগাজিনে আমাদের পুঁজিবাজারের দেউলিয়াত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মহাজোটের এই নেতা বলেন, সম্প্রতি ব্যাংকিং নিয়েও জনগণের মাঝে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা টাকা পাচ্ছেন না। সাধারণ গ্রাহকরাও বলছেন টাকা পেতে তাদের দেরি হচ্ছে। মেনন বলেন, পুঁজিবাজারসহ সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে একদিন এই সংসদে আলোচনা হওয়া জরুরি।
মানুষ তার আশার সমান বড়, বিগত ১ বছর যাবৎ পূঁজিবাজারে সীমাহীন ধ্বসের পরেও গতকাল সংসদে এ নিয়ে সরকারী দলের আত্মসমালোচনার পরদিনই আজ বাজার উর্ধ্বমূখী। মানুষ আবার আশায় বুক বাধছে। মনে করছে এবার তাদেরে দূর্ভোগের নিশির অবসান হবে। তাই ফিরে এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আমরা আশাকরর তাদের এই বিশ্বাস আর যেন ভংগ করা না হয়।
এই ইস্যুতে পয়েণ্ট অব অর্ডারে স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম বলেন, পুঁজিবাজার অর্থনীতির মেরুদণ্ড। অর্থনীতির যে ভঙ্গুর অবস্থা তা শুরু হয় পুুঁজিবাজারের পতন থেকে। মিডিয়া ও আমরা বার বার হুঁশিয়ার করলেও অর্থমন্ত্রী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও তিনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন। অর্থমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, তদন্তে যাদের নাম এসেছে তাদের নাম প্রকাশ করা যাবে না। এছাড়াও শেয়ারবাজারের নাজুক অবস্থা নিয়ে পয়েণ্ট অব অর্ডারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের খান টিপু সুলতান।
মন্দের ভালো এই যে দুইজন দূর্ভাগা বিনিয়োগ কারির আত্মহনন আমাদের সাংসদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং তাদের অভাগা সন্তানদের করুণ আকুতি তাদের চোঁখে পানি নিয়ে এসেছে। এতে প্রতিয়মান হয় পৃথিবী থেকে এখনও মানবতা পরসহিষ্ণুতা নির্বাসত হয় নি। এখনও যদি পূঁজিবাজারের অগনিত বিনিয়োগকারীদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয় তাতে করে শেষ রক্ষা হলেও হতে পারে। তা না হলে জনাব তোফায়েল আহমদ সাহেবের ভাষায় "তা না হলে জনগণের কাছে একদিন আমাদের কৈফিয়ত দিতে হবে। জনগণ এখন আমাদের বিচার করার সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে ভোটের দিন জনগণ সুযোগ পাবে, সেদিন জনগণ আমাদের বিচার করবে।"
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



