somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ও আমার স্মৃতি

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর প্রথম আলো’য় শ্রদ্ধেয় শিক্ষক রাজীব মীরের লেখা পড়ে (Click This Link) নষ্টালজিক হয়ে পড়লাম। প্রাত্যহিক জীবনের কর্মব্যস্ততায় ভুলেই বসছিলাম আজ (‌৫ নভেম্বর’) আমার চিরদু:খী বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন। এ সমাবর্তনে আমারো অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাইনি। ইচ্ছে করেই যাইনি। যাওয়ার কোনো আগ্রহবোধও করিনি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ঘোষণার পরপরই তড়িঘড়ি করে মূল সনদ তুলে নিয়ে আসি। যেদিন আমার হাতে সনদ এলো, মনে হলো, আমার জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যেহেতু প্রগতিশীল চিন্তা করতাম, টুকটাক লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় জড়িয়ে ছিলাম, তাই সবসময় একটা আতংকের মধ্যে থাকতাম। একদল অসভ্য-বর্বর ছেলে সারাক্ষণ আমাদেরকে চোখে চোখে রাখত। ওদের ছিল শত-সহস্র চক্ষু-কর্ণ। চুন থেকে পান খসলেই মাটি ফুঁড়ে একেকজন উদয় হত। শুরু হতো তালেবানি স্টাইলে শায়েস্তা।
ক্লাস ভর্তি ছাত্রের সামনে ওরা আমার এক সহপাঠীকে মেরে গেল, আমরা কিসসু বলতে পারিনি। আমার দু’জন সহপাঠী ‌বৈধভাবে হলে থাকার’ অপরাধে প্রহৃত হয়েছিল। এখনো তারা ঘুমের মধ্যে ভয়ে লাফিয়ে ওঠে সেই দু:সহ স্মৃতি মনে করে। ভাগ্য জোরে বহুবার মারের হাত থেকে বেঁচেছি। শেষ রক্ষাটা পেয়েছিলাম আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিনে। স্যার, নিশ্চয় মনে আছে, সেদিন আপনারই শার্টের খুটো ধরে বেরিয়ে এসেছিলাম ওই নিন্দিত নরক থেকে।
বড়ো দু:খ হয়; মানুষের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কতো ভালোবাসা থাকে, কতো আবেগ, আমাদের কিসসু নেই। যেন একটা কালো স্যালেট বুকে নিয়ে ঘুরছি। সেখানে একটাও ভালোবাসার আঁচড় নেই। এ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বিকশিত হতে দেয়নি। সেশনজটে ৫ বছরের কোর্স ৮ বছর করেছি ঠিকই, কিন্তু ঋদ্ধ হয়নি। আমাদেরকে বানসাই বানিয়ে রেখেছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা একটা পয়লা বৈশাখ করতে পারিনি সেখানে। আমাদের নবীণবরণের মুখোশ-খেলনাগুলোকে পর্যন্ত তারা মূর্তি বলে পুড়িয়ে দিয়েছিল। নাট্যকলা তো বন্ধই হয়ে গেল।
আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষক ছিলেন নির্দয়। ছাত্রনেতরা বিশুদ্ধ বেনিয়া। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন সিরাজউদ্দোল্লাহ’র নাতি-নাতনি। এরা আমাদের সহায় হয়নি কখনো। আমরাও প্রতিবাদ করিনি। কাপুরুষত্বের পরাকাষ্ঠা ছিলাম। জানতাম শুধু ভেড়ার পালের মতো ট্রেন থেকে নামতে আর উঠতে।
তারপরও কেন জানি ট্রেনের হুইসেল শুনলে এখনো বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। মনে হয় শাটল ট্রেন আমাকে ডাকছে। জোবরার গাঢ় সবুজ পাহাড়গুলো আমাকে ডাকছে। এখনো মাঝে মাঝে অফিস ফেরার পথে গোধূলির ম্লান আলো আমাকে স্মৃতি কাতর করে তুলে। মনে হয় ৫ টা ২০-র ট্রেনে দুলেদুলে ফিরছি। ধনচে গাছগুলো দু’পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে হাতছানি দিচ্ছে।
মাঝে মাঝে ভাবি, আহা কি অানন্দেরই না হতে পারত আমাদের সেই দিনগুলো।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×