somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেলুদার গ্যাংটকে আমি(গ্যাংটক দর্শন)

১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা প্রথমে হোটেল থেকে খবর নিলাম কোথায় গেলে আমরা ভাল জীপ যোগাড় করতে পারব। খবর পেয়ে গেলাম জীপ স্টেশনে , গ্যাংটকে আসোলে জীপ আর ছোট মাইক্রোবাস ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।ওদের আবার প্রত্যেকটা লেন এ বিভক্ত মানে এক লেন এর গাড়ী আরেক লেন এ যেতে পারবে না। যেহেতু শহর টা ছোট তাই এই ধরনের ব্যাবস্হা।আবার প্রত্যেকটা মাইক্রোবাসে ৩ জনের বেশী ওঠা যায়না। তাই আমরা ৩ টি মাইক্রোবাস নিয়ে রওনা হলাম স্টেশনের দিকে, ইচ্ছা ওখান থেকে জীপ নিয়ে সাংগু লেক হয়ে বাবা মন্দির।আমি যে মাইক্রোবাসে উটলাম তার ড্রাইভার এর সাথে একটু কথা বলার ছলে জেনে নিলাম গ্যংটকে সিনেমা,ডিসকো কোথায় আছে। আলাপচারিতার মাধ্যমে জানতে পারলাম সাংগু লেক যাবার পথে একটা আর্মি চেকপোস্ট পরবে ঐ চেকপোস্ট আপনাকে পার হতে হবে ১১:০০ টার মধ্যে তা না হলে আপনি ধুকতে পারবেন না।
যা হোক আমরা পৌছে গেলাম জীপ স্টেশনে ,তারপর ওখান থেকে আমরা সাংগু লেক যাবার জন্য পর্মিসনের ব্যাবষ্হা করলাম ভাই এক এক জনের এক এক কলকাতা স্টাইলের নাম ,কঠিন অবষ্হা নাম মুখস্হ করতে করতে কাহিল।আমরা যখন জীপে উঠি তখন ১০:৪৫ তাই আমি ড্রাইভারকে বললাম "
ভাইসাব উধার তো ১১:০০ কে বাদ আন্দার নাহি যানে ডেতা ।তো হাম লোক কেয়সে যায়েংগে।"

ড্রাইভার বলল " আরে কই বাত নাহি ওর লোক ও তো যা রাহে হে।"

ওর কথায় আসষ্ত হয়ে রওনা হলাম সাংগু লেক।

পাহাড়ের মাঝ দিয়ে চলছে আমাদের জীপ। একপাশে উচু পাহাড় আর আরেক পাশে নিচু খাদ। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে পাহাড়ের চুড়া ঢেকে গেছে মেঘের সাদা চাদরে।

গাড়ী থামলো চেক পোস্টে সময় ১১:৪৫।কিন্তু ততক্ষনে চেক পোস্ট বন্ধ হয়ে গেছে।তাই শত চেষ্টার পরও ঢুকতএ পারলাম না। কারন জানতে চাইলে বলল, ওখান থেকে সাংগু লেক জেতে লাগবে আরও ২ ঘন্টা মানে ২:০০ টা আর ৩:০০ থেকে ওখানে বরফ পড়তে শুরু করে। আর পাহাড়ে যদি বরফে ঢাকে তাহলে যেমন রাষ্তা আটকে যাবে তেমনি ঐ পিচ্ছিল পথ দয়ে আসাটাও রিস্কি। তাই কনো উপায় না পেয়ে আবার ফোরত আসার জন্য রওনা হলাম গ্যাংটক।কিন্তু সবচেয়ে লক্ষনীয় ব্যাপার হলো ড্রাইভার আমাদের সাথে প্রতারনা করল, ও সব যেনেও নিয়ে আসল আর আমরাও তা মুখ বুজে সহ্য করলাম। কিছু করার নাই রে ভাই আমরাই তো
চিটিং করে এখানে আছি।
তাই ফিরে গেলাম গ্যাংটকে।হোটেলে ফিরে এবার হল খাবার পালা ।গেলাম হোটেলের রেস্টুরেন্টে , হোটেকের টপ ফ্লোরে ছিল রেস্টুরেন্টে ওখান থেকে বসে হিমালয় দেখা যায়।বরফে ঢাকা লাজুক হিমালয়।

কিন্তু সবই নিরামিশ আইটেম। আমি ভাই মাংসাশি প্রানী তৃণোভোজী না। তাই বের হয়ে খোজা শুরু করলাম মাংসাশি রেস্টুরেন্টে।অনেক খোজার পর পেলাম এক বার কাম রেস্টুরেন্টে তাই অন্য উপায় না পেয়ে আমি,বাপ্পী,দিপু আর নিলয় ৪ মাংসাশি প্রানী ঢুকে গেলাম মাংস ভক্ষনে।
আহ মাংস ভক্ষনের পর ফিরে আসলাম হোটেলে।সবাই এবার বসে ঠিক করলাম কে কোথায় যাব ? ঠিক হল টনি আর ন্যান্সী যাবে সপিং এ,আমি,দীপু আর ডোনা যাব সিনামে দেখতে,বাপ্পী,সবুজ,বল্টু,সুমি যাবে ক্যবল কার দিয়ে গ্যাংটক দেখতে আর নিলয় হোটেলে ঘুমাবে।

আমরা ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে গেলাম যে যার মত।প্ল্যান হল আমরা সিনামে দেখার পর যাব ডিসকোতে আর আমাদের সাথে যোগ হবে সবুজ,সুমি,বল্টু আর বাপপী।
হলে পৌছালাম ৫:৪৫ এ টিকেট কেটে ঢুকলাম সিনেমা হলে ছবির নাম
"তারে যামিন পার" অসাধারন ছবি,মনে হয়েছে ক্যামেরার প্রত্যেক টা মুভমেণট কোন একটা অর্থবহন করে।দেখতে চোখে পানি এসে গেল।
আর মনে মনে বলতে লাগলাম "আমির উ র দা বস" এন্ড "দারশিল উ র দা লিটল জিনিয়াস"।সিনেমার ইন্টারভেল এর সময় খেলাম পাকোড়া আর কফি।
সিনেমা সেশে নীচে নেম দেখি ওরা তখনও আসে নাই,। ফেরত গেলাম হোটেলে ওদের কে নিয়ে আসার জন্য ।হোটেলে যাবার পর নিল্য বলল ওরাতো তওদের ঐখানে চলে গেসে আবর দৌড় দিলাম ডিসকো ক্লাবে।
ক্লাবের গেটেই দেখলাম ওদের। ঢুকার জন্য টিকেট কাটতে গেলাম ৩০০ রুপী এক একজনের সাথে ২ পেগ ড্রিংকস ফ্রী আর মেটেদের জন্য এন্ট্রী ও
ফ্রী। ঢুকালম ক্লাবে।
হাই ভলিউমে চলছে ডিজে আর সামনে ড্যান্স ফ্লোরে যা যার মতে নাচতেসে ঐখানে কেউ কাওকে ডিস্টার্ব করে না আর আছে বাউন্সার মানে নিড়াপত্তা কর্মী ।
নাচানাচী শেষ করে যখন বের হলাম তখন রাত ১২:৩০ মানে "Marry Christmas" ।দেখি উৎসব চলছে পুরোদমে। গারীতে গারী তে ছেলে মেয়ে রা ঘুরছে কেউ কেউ রাষ্তায় দিচ্ছে আড্ডা।নিরাপততা নিয়ে কনো
ঝমেলা নাই অবাক হলাম তাই দেখে।

হোটেলে ফিরলাম ১:০০ টায় ।একটু ফ্রেশ হয়ে খেলাম ডিনার চৌমিন।তারপর সব হিসাব নি্যে বসলাম কত খরচ।ও আমাদের এইবারের ট্যুরের হিসাব রক্ষখ হল বাপ্পী। টাই ও সব হিসাব করে কালকের প্ল্যান ।

যাব গুরুডংমার লেক যে টা ১৮০০ ফুট উপোরে লেক যেখানে অক্সিজেন এর খুবই অভাব অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যেতে হবে।কিন্তু টার আগে ৬ ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে পৌছতে হবে লাচুং।

তাই সবাই চলে গেলাম যার যার রুমে আর ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম কালে র ভোরে যাবার জন্য।তখনও হয়ট কেউ ভাবে না কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।


চলববে...............।

পরে পর্ব
ফেলুদার গ্যাংটকে আমি( দম বন্ধ হওয়া গুরুডংমার লেক )




সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×