যা হোক আমরা পৌছে গেলাম জীপ স্টেশনে ,তারপর ওখান থেকে আমরা সাংগু লেক যাবার জন্য পর্মিসনের ব্যাবষ্হা করলাম ভাই এক এক জনের এক এক কলকাতা স্টাইলের নাম ,কঠিন অবষ্হা নাম মুখস্হ করতে করতে কাহিল।আমরা যখন জীপে উঠি তখন ১০:৪৫ তাই আমি ড্রাইভারকে বললাম "
ভাইসাব উধার তো ১১:০০ কে বাদ আন্দার নাহি যানে ডেতা ।তো হাম লোক কেয়সে যায়েংগে।"
ড্রাইভার বলল " আরে কই বাত নাহি ওর লোক ও তো যা রাহে হে।"
ওর কথায় আসষ্ত হয়ে রওনা হলাম সাংগু লেক।
পাহাড়ের মাঝ দিয়ে চলছে আমাদের জীপ। একপাশে উচু পাহাড় আর আরেক পাশে নিচু খাদ। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে পাহাড়ের চুড়া ঢেকে গেছে মেঘের সাদা চাদরে।
গাড়ী থামলো চেক পোস্টে সময় ১১:৪৫।কিন্তু ততক্ষনে চেক পোস্ট বন্ধ হয়ে গেছে।তাই শত চেষ্টার পরও ঢুকতএ পারলাম না। কারন জানতে চাইলে বলল, ওখান থেকে সাংগু লেক জেতে লাগবে আরও ২ ঘন্টা মানে ২:০০ টা আর ৩:০০ থেকে ওখানে বরফ পড়তে শুরু করে। আর পাহাড়ে যদি বরফে ঢাকে তাহলে যেমন রাষ্তা আটকে যাবে তেমনি ঐ পিচ্ছিল পথ দয়ে আসাটাও রিস্কি। তাই কনো উপায় না পেয়ে আবার ফোরত আসার জন্য রওনা হলাম গ্যাংটক।কিন্তু সবচেয়ে লক্ষনীয় ব্যাপার হলো ড্রাইভার আমাদের সাথে প্রতারনা করল, ও সব যেনেও নিয়ে আসল আর আমরাও তা মুখ বুজে সহ্য করলাম। কিছু করার নাই রে ভাই আমরাই তো
চিটিং করে এখানে আছি।
তাই ফিরে গেলাম গ্যাংটকে।হোটেলে ফিরে এবার হল খাবার পালা ।গেলাম হোটেলের রেস্টুরেন্টে , হোটেকের টপ ফ্লোরে ছিল রেস্টুরেন্টে ওখান থেকে বসে হিমালয় দেখা যায়।বরফে ঢাকা লাজুক হিমালয়।
কিন্তু সবই নিরামিশ আইটেম। আমি ভাই মাংসাশি প্রানী তৃণোভোজী না। তাই বের হয়ে খোজা শুরু করলাম মাংসাশি রেস্টুরেন্টে।অনেক খোজার পর পেলাম এক বার কাম রেস্টুরেন্টে তাই অন্য উপায় না পেয়ে আমি,বাপ্পী,দিপু আর নিলয় ৪ মাংসাশি প্রানী ঢুকে গেলাম মাংস ভক্ষনে।
আহ মাংস ভক্ষনের পর ফিরে আসলাম হোটেলে।সবাই এবার বসে ঠিক করলাম কে কোথায় যাব ? ঠিক হল টনি আর ন্যান্সী যাবে সপিং এ,আমি,দীপু আর ডোনা যাব সিনামে দেখতে,বাপ্পী,সবুজ,বল্টু,সুমি যাবে ক্যবল কার দিয়ে গ্যাংটক দেখতে আর নিলয় হোটেলে ঘুমাবে।
আমরা ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে গেলাম যে যার মত।প্ল্যান হল আমরা সিনামে দেখার পর যাব ডিসকোতে আর আমাদের সাথে যোগ হবে সবুজ,সুমি,বল্টু আর বাপপী।
হলে পৌছালাম ৫:৪৫ এ টিকেট কেটে ঢুকলাম সিনেমা হলে ছবির নাম
"তারে যামিন পার" অসাধারন ছবি,মনে হয়েছে ক্যামেরার প্রত্যেক টা মুভমেণট কোন একটা অর্থবহন করে।দেখতে চোখে পানি এসে গেল।
আর মনে মনে বলতে লাগলাম "আমির উ র দা বস" এন্ড "দারশিল উ র দা লিটল জিনিয়াস"।সিনেমার ইন্টারভেল এর সময় খেলাম পাকোড়া আর কফি।
সিনেমা সেশে নীচে নেম দেখি ওরা তখনও আসে নাই,। ফেরত গেলাম হোটেলে ওদের কে নিয়ে আসার জন্য ।হোটেলে যাবার পর নিল্য বলল ওরাতো তওদের ঐখানে চলে গেসে আবর দৌড় দিলাম ডিসকো ক্লাবে।
ক্লাবের গেটেই দেখলাম ওদের। ঢুকার জন্য টিকেট কাটতে গেলাম ৩০০ রুপী এক একজনের সাথে ২ পেগ ড্রিংকস ফ্রী আর মেটেদের জন্য এন্ট্রী ও
ফ্রী। ঢুকালম ক্লাবে।
হাই ভলিউমে চলছে ডিজে আর সামনে ড্যান্স ফ্লোরে যা যার মতে নাচতেসে ঐখানে কেউ কাওকে ডিস্টার্ব করে না আর আছে বাউন্সার মানে নিড়াপত্তা কর্মী ।
নাচানাচী শেষ করে যখন বের হলাম তখন রাত ১২:৩০ মানে "Marry Christmas" ।দেখি উৎসব চলছে পুরোদমে। গারীতে গারী তে ছেলে মেয়ে রা ঘুরছে কেউ কেউ রাষ্তায় দিচ্ছে আড্ডা।নিরাপততা নিয়ে কনো
ঝমেলা নাই অবাক হলাম তাই দেখে।
হোটেলে ফিরলাম ১:০০ টায় ।একটু ফ্রেশ হয়ে খেলাম ডিনার চৌমিন।তারপর সব হিসাব নি্যে বসলাম কত খরচ।ও আমাদের এইবারের ট্যুরের হিসাব রক্ষখ হল বাপ্পী। টাই ও সব হিসাব করে কালকের প্ল্যান ।
যাব গুরুডংমার লেক যে টা ১৮০০ ফুট উপোরে লেক যেখানে অক্সিজেন এর খুবই অভাব অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যেতে হবে।কিন্তু টার আগে ৬ ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে পৌছতে হবে লাচুং।
তাই সবাই চলে গেলাম যার যার রুমে আর ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম কালে র ভোরে যাবার জন্য।তখনও হয়ট কেউ ভাবে না কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
চলববে...............।
পরে পর্ব
ফেলুদার গ্যাংটকে আমি( দম বন্ধ হওয়া গুরুডংমার লেক )
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


