somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নতুন বছর, ফেসবুক স্ট্যাটাস; অতঃপর.... একটা ধাঁধাঁ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" />
....

....

....

....

....

....

....


একটু আগে আমার প্রোফাইল থেকে স্ট্যাটাস দিসিলাম "Poor Man U. finished the year as a loser! LOL"

একজন কমেন্ট করেছে, "ভাই আমারও" <img src=(" style="border:0;" />
আরেকজন বলল, "আমার ব্যাপারটা আপনি কেমনে বুঝে গেলেন?" /<img src=" style="border:0;" />

অনেক্ষণ চিন্তা করলাম, এরা কি বলে? এরা "ভাই আমারও" আর "আপনি কেমনে জানলেন?" দিয়ে কি বুঝাইসে?? :-*

স্ট্যাটাসটা আবার পড়লাম, প্রচন্ড হাসি পাইল আরেকটা অর্থ বাইর কইরা, "Poor বালক, তোমার বছরটা শেষ হয়েছে একজন Loser হিসেবে!" <img src=" style="border:0;" />

এখনও হাসতেই আছি। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

ধাঁধাঁ: মজার ব্যাপার হল, স্ট্যাটাসটা পুরো ভিন্ন একটা অর্থ বহন করে। বলেনতো কি বুঝাচ্ছে?
[ক্লু: যারা খেলাধুলার খবর রাখেন তাদের জন্য সহজ। <img src=" style="border:0;" /> ]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29513808 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29513808 2012-01-01 00:47:19
oDesk এ সফল হবেন যেভাবে - আমার অভিজ্ঞতা আগলিআগলি এর অনুরোধে আবার পোস্টাইলাম।

...

...

...

...

...

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১১
আমি oDesk এ জয়েন করি ২৩ আগস্ট ২০১১। এখনো একমাস হয়নি। যত ফ্রিল্যান্সিং সাইট আছে তার মধ্যে আমার oDesk ই সেরা মনে হয়েছে। আমি ভার্সিটি ক্লাশ করার পাশাপাশি ইত্যিমধ্যে সপ্তাহে তিন দিন সময় দিয়ে ইতিমধ্যে আয় করেছি $110। যার $40 পেমেন্ট পেয়েছি আজ।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, আপনি ইচ্ছা হলে কাজ করবেন আর আয় করবেন আর ইচ্ছা না হলে করবেন না। এখন অনেকেই তাই ৯টা - ৫টার অফিসের জব ছেড়ে দিয়ে oDesk এর মত সাইটগুলোতে নেমে পড়েছেন। আপনি খুব সহজে সেরকম উদাহরণ দেখতে পাবেন oDesk এর ফেসবুক পেজের ওয়ালে।

যেভাবে শুরু করলাম/আপনাকে যেভাবে করতে হবে-

১. প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করেই নিজের প্রোফাইলটা সুন্দর করে সাজালাম। নিজের অতীতের কাজ এবং সব দক্ষতা (skills) তুলে ধরলাম।
(এখানে একটা বিষয় গুরুত্বপর্ণঃ আমি ফটোগ্রাফি করি, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং করি, প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজও পারি। কিন্তু আমি পড়ছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিন্যান্সে। তাই আমি আমার দক্ষতায় শুধুমাত্র বিজনেস তুলে ধরলাম। কারণ আপনি যদি দেখান যে আপনি অনেক কিছু জানেন, তার মানে আপনি কিছুই জানেন না। যাকে ইংরেজিতে বলে, Jack of all trades মানে কিছুই জানে না যে। শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট দক্ষতার দিকে মনোযোগ দিন। আরেকটা ব্যাপার বলে নিই, আমি বিজনেস দক্ষতা দেখানোর পেছনের কারণ এই জবে পেমেন্ট বেশি।)

২. রেজিস্ট্রেশন করেই বিড করতে যাবেন না, oDesk এর কিছু টেস্ট নিন। যেমন, English spelling test, Vocabulary test, UK english/US english test.. যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনার নিন Adobe Photoshop test, Illustrator test, Autocad test ইত্যাদি। আবার যারা বিজনেজ জবে আগ্রহী, নিতে পারেন Business Planning test, Accounting test ইত্যাদি।
(এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল টেস্টগুলোতে যথাসম্ভব ভাল করার চেষ্টা করুন। টপ ১০% বা ২০% হলে তো কথাই নেই। আমি Spelling test এ ১ম স্থান অর্জন করেছি আর বিজনেস প্লানিং টেস্টে টপ ১০%।)

৩. বিড করার সময় বিডের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল Cover Letter। কিভাবে? শুনে রাখুন, আপনি যদি Cover letter দিয়ে Employer কে সন্তুষ্ট করতে পারেন তো টাকার ব্যাপারটা কোন ব্যাপার না। Employer কে আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চত করুন এবং সম্ভব হলে অতীতের একই ধরণের কাজের নমুনা দিয়ে দিন সাথে।

এক্ষেত্রে মনে রাখবেন,
* Cover letter যেন কখনোই বড় না হয়। সর্বোচ্চ ২০০ শব্দ হতে পারে। কারণ Employer যাতে বিরক্ত না হন পড়তে গিয়ে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
* সবসময় বিড করার সময় গড়ের কাছাকাছি বিড করুন। (সেখানে Applicants এর পাশে কতজন আবেদন করেছে এবং গড় বিড কত সেটা দেখাবে।)

৪. Interview তে যদি সৌভাগ্যক্রমে ডাকে তবে চেষ্টা করুন যথাসম্ভব ভাল English দিয়ে Employer কে সন্তুষ্ট করতে। কারণ আপনি যতই কাজ জানেন সুন্দরভাবে বুঝাতে না পারলে আপনার দক্ষতা বৃথা।

৫. কাজ পেয়ে গেলে Employer এর নির্দেশ অনুসারে কাজ করুন এবং যথা সময়ে তা Submit করার চেষ্টা করুন। কারণ একবার যদি আপনি Employer কে সন্তুষ্ট করতে পারেন তাহলে তার কাছ থেকে একই ধরণের আরো কাজ আপনি ভবিষ্যতে পেয়ে যাবেন। বার বার বিড করে কাজ নেয়ার চেয়ে এভাবে কাজ পাওয়াটাই ভাল না?

সবশেষে, হতাশ হবেন না। এমনও অনেক রেকর্ড আছে যে, অনেক ব্যক্তি ২/৩ বছর বিড করে তারপর কাজ পে‌য়েছেন। কাজ পাওয়াটা যতটা না আপনার দক্ষতার উপর নির্ভর করে তারচেয়েও বেশি করে আপনার দক্ষতাগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরার উপর। উপরের ব্যাপারগুলি মাথায় রাখলে আপনি নিশ্চিত সফল হবেন। ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29512374 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29512374 2011-12-29 20:47:45
বিসিবি প্রধান মোস্তাফা কামালের পদত্যাগ কেন জরুরী?

জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর পাকিস্তানের সাথে টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার এগার বছরেও বাংলাদেশ টিমের পারফরম্যান্স আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইতিমধ্যে ভারত ও ইংল্যান্ড ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সাথে কোন টেস্ট না খেলার ঘোষণা দিয়েছে। একবার টেস্ট স্ট্যাটাস হারাতে বসলে সেটা ফিরিয়ে আনা খুব একটা সহজ কাজ হবে না। অথচ এমতাবস্থায় যেখানে টেস্ট স্ট্যাটাস টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বেশি করে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলার কথা বলা হচ্ছে সেখানে বিসিবি'র উদাসীনতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?

দৃষ্টান্তস্বরূপঃ সবচেয়ে আজব খবর হল, তামিম ইকবাল শেষ ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলেন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে, যার ফলাফল আমরা তার এ বছরের টেস্ট পারফরমেন্সে স্পষ্টতই দেখতে পাই। বিসিবি'র অবশ্য সে ব্যাপারে কোন মাথা ব্যথা নেই। উল্টো বিপিএলের টি-টোয়েন্টি আর ওয়ান্ডে ম্যাচগুলোর উপর জোর দেয়া হচ্ছে বেশি। কারণ উপমহাদেশের অনেক কোম্পানীই এই লিগের ফ্রাঞ্চাইস্ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


এ মূহুর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে সব সমস্যা লক্ষ্যনীয়:

ক্রিকেট টিমকে টেস্ট উপযোগী করতে স্টুয়ার্ট ল' এর ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পুরোটাই বিসিবি'র একক সিদ্ধান্তে হবে। এমনকি সামনে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বাংলাদেশ সফরে পাঁচটি ওয়ানডে ও দু'টি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে। এশিয়া কাপের আগে আর কোন ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ নেই। এমনকি এশিয়া কাপের পরও যদি বিসিবি প্রয়োজন মনে করে তবেই ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের আয়োজন করা হবে।

আমরা দেখেছি কিভাবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ক্যাচ মিসের প্রতিযোগীতায় নেমেছিল। বাংলাদেশের এ বা‌জে ফিল্ডিংয়ের জন্যও বিসিবি দায়ী। ফিল্ডিং কোচ জ্যাসন সুইফ্ট স্পেশালিস্ট পজিশানে ভালো মানের ফিল্ডারদের নিয়ে কাজ করলেও বোর্ডের এবং নির্বাচক কমিটির ঘন ঘন টিম স্কোয়াড পরিবর্তন তার কাজে বড় ধরণের বিপত্তি সৃষ্টি করে। তাকে আবার নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে ফিল্ডিংয়ের কাজ করতে হয়, যেটা মোটেও কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে এক ম্যাচ খারাপ খেললেই কোন খেলোয়াড়কে বাদ দেয়ার প্রবণতা পরিহার করা উচিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে খেলোয়াড়দের খেলানো উচিত, তাদের অভিজ্ঞতার দক্ষতা বাড়ানো উচিত।

দুঃখজনক ব্যাপার হল, খেলোয়াড়রাও ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও তাদের মূল লক্ষ্য ঐ লিগ গুলোই। কারণ এখান থেকেই খেলোয়াড়দের বড় অংকের উপার্জনটা হয়ে যায়।



সাকিব বলেছিলেন, "আমরা পাকিস্তান সিরিজের পর প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল খেলব। কিন্তু আমরা চার দিনের কোন ক্রিকেট খেলব না, যেটাই এই মূহুর্তে আমাদের মূল চিন্তার বিষয়। আমি এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ আমরা সবাই প্রেসক্রিপশন জানি, তারপরও কখনো ঔষধ খাই না।"


এইমাত্র পাওয়া খবরঃ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, একদিন পিছিয়ে ২৯ ডিসেম্বর শুরু হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29509438 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29509438 2011-12-24 22:24:29
একজন গণিমতের মাল সাপ্লাইকারী
মধ্যরাতে আশেপাশের গ্রামে গিয়ে গণিমত ধরে এনে সাহেবদের আপ্যায়ন করতে হত। ভালো গণিমতের মাল পেতে সাহেবরা পা রাখতেন আলী মোকাদ্দমের আখড়ায়। আলী মোকাদ্দমের এ যশ পশ্চিম পাকিস্তান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। একবার তো তিনি সংবাদ পেয়েছিলেন ভারতীয় দালালদের মেরে এ দেশে পাকিস্তানি শাসন রক্ষা করতে পারলে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ফাইভ স্টার হোটেল তার খেদমতে নির্মিত হবে। সে থেকে আলী মোকাদ্দমের রাতের ঘুম হারাম। সাহেবদের খেদমতের গোলাম আলী মোকাদ্দম ইসলাম কায়েম করতে গণিমত ধরে এনে সাহেবদের খুশি করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

শরীর কি আর সাহেবদের একলার? মাঝে মাঝে দু'চারটা গণিমত যে চেখে দেখেননি তা কিন্তু নয়। এমনও তো হয়েছে যে এরপর পাঁচদিন গোসলও করা হয়নি। কিন্তু গোসলতো ফরজ। তাতে কি? ইসলামের জন্য সবই জায়েজ আছে। অবুঝ মেয়েগুলো যদি ধার্মিক হত তাহলে নিজেরাই সাহেবদের খেদমতে হাজির হয়ে যেত। সব মুনাফিক ভারতীয়দের দালাল।

কিন্তু এ কি হল! আরেকটু হলেই তো ইসলাম রক্ষা হয়ে যাচ্ছিল দেশে। হঠাৎ ভারতীয় দালালগুলো ক্ষেপে উঠল। আর কিভাবে যেন একের পর এক সব নিঃশেষ হয়ে গেল। আলী মোকাদ্দম নাম পাল্টিয়ে লুকিয়ে ছিলেন কিছুদিন। কিন্তু না কিছুকাল পরেই আশীর্বাদ হয়ে আসলেন এ দেশেরই সাহসী পুরুষ মুজিব। তিনি সাধারণ ক্ষমা দিয়ে দিলেন। অথচ আলী মোকাদ্দমের ধারণা ছিল ভারতীয় দালালরা এত সহজে হয়ত তাকে ছেড়ে দিবে না। কি ভুলটাই না করেছিলেন আলী মোকাদ্দম এটা ভেবে! মুজিব সাহেব ভালো লোক ছিলেন বৈকি। তারপর কারা যেন মুজিব সাহেবকে হত্যা করল। আলী মোকাদ্দম বুঝলেন, আল্লাহর গজব শুরু হয়ে গেছে। ইসলামের তলে না গিয়ে তিনি হিন্দুদের সাথে রাষ্ট্র কায়েমে নেতৃত্ব দেয়ায় খোদার পক্ষ থেকে গজব পরছে। আবার নতুন করে আলী মোকাদ্দম স্বপ্ন দেখছিলেন এ দেশে ইসলাম কায়েমের।

এরপর জিয়াউর রহমান নামের এ দেশেরই এক সাহেব এসে আলী মোকাদ্দেমসহ আরও অনেক লোকের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিলেন। কিন্তু বড়ই আচানক ব্যাপার হল, সে সময় ভারতীয় দালালদের যুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারসহ বিভিন্ন তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা ভারতীয় দালালরা একের পর এক খুন হচ্ছিল! কাউকে আবার বিনা কারণে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেন স্বয়ং দেশপ্রধানই। আলী মোকাদ্দম এইবার নিশ্চিত হলেন, নাহ্ এ তো পুরাই খোদার গজব! গণিমত সাপ্লাই দিয়ে ইসলাম কায়েম করার লক্ষ্যে যে পূণ্যের কাজ আমি করে এসেছি তার উত্তম জাজা আমি পাবই।

তারপর কত কিছু হয়ে গেল! ভারতীয় দালালদের গুষ্ঠী খোদার গজবে ক্ষমতার লোভে পরে গেল। সেই সুযোগের সদ্ববহার করেছিলেন বলেই না আলী মোকাদ্দম আজ এতো ক্ষমতার অধিকারী। এরপর আলী মোকাদ্দম নিজের দল গঠন করে দেশে ইসলাম কায়েমের পথ উন্মুক্ত করলেন। খুলে ফেললেন শ'খানেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা শিখবে সেই শিক্ষা যা একাত্তরে চর্চা করে আলী মোকাদ্দম আজ খোদার দিদার লাভ করেছেন। এমনই শিক্ষা তাদের শিখানো হবে যাতে করে তারা সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে আলী মোকাদ্দমের মত আল্লাহর মকবুল বান্দাদের গুনকীর্তন আর সেবা করে যাবে, প্রয়োজনে জানও কোরবান দিতে প্রস্তুত থাকবে।

কিন্তু হঠাৎ এটা কি শুরু হইল? ভারতীয় দালালরা স্বাধীনতা লাভের পর পর আলী মোকাদ্দম ঠিক যেভাবে কিছুদিন ভয়ে ভয়ে দিন রাত গুজার করেছিলেন আবার তেমন করে ভয় শুরু হয়ে গেল। নাহ্ এটা খোদার তরফ থেকে একটা পরীক্ষা! কিন্তু তারপরও কেন জানি প্রতি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন আলী মোকাদ্দম। ফাঁসির দড়ি হাতে গণিমতের মালগুলো ধেয়ে আসছে তার দিকে। আর ঘুম ভেঙে গেলে দেখতে পান তার নেংটিখানা পায়ের গোড়ালীতে পড়ে রয়েছে। নাউজুবিল্লাহ্ কি বিপদ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29508683 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29508683 2011-12-23 19:49:55
অচেনা বালিকার সনে প্রেম ছিল কিনা জানি না
একদিন চা খেতে খেতে আলফাজ বলল, চৌধুরী শোন্! কলেজে তো উঠলাম, এবার একটা প্রেম আমি করমুই করমু। বাপ-মা'র ভয়ে তো এতদিন কিছু করতে পারলাম না। এখন বাসা থেকে মোবাইল ফোন যখন পাইসি প্রেমটাও জুত করে করা যাবে, কি বলিস?

শুনে আমি হাসি। তবে অস্বীকার করব না, মনে মনে যে কলেজে উঠার একটা আনন্দ কাজ করছিল সেটা যেন আলফাজের কথায় পূর্ণতা পেল।

একটা বন্ধু সার্কেলের মধ্যে নানান ধরণের বন্ধু থাকে। প্রত্যেকে কিছু কিছু ব্যাপারে ভিন্ন, কিন্তু শেষ কথাটা সবারই একই হয় যেখান থেকে বন্ধুত্ব সম্পর্কটা গড়ে উঠে। গালিব নামের এক বন্ধু ছিল। তার কাছে কম করে হলেও পঞ্চাশটা মেয়ের ফোন নাম্বার থাকত আর তা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন মেয়ের নাম্বারে আপডেট হত। কিন্তু দুঃখের বিষয় বেচারাকে কোনদিন কোন মেয়ের সাথে ডেটিংয়ে যেতে দেখিনি।

একদিন ক্লাশ বিরতি চলছিল। গালিব, আলফাজ আর আমি চায়ের দোকানে সিঙ্গারার সাথে কাপে চুমুক দিতে থাকি। আলফাজ গালিবকে বলে, দোস্ত পাইছিস্ যেমনটা বলসিলাম?

গালিব বলে, তা পাইসি। তয় কোন ছেলের সাথে ফোনে কথা বলে কিনা নিশ্চিত নই। নাম্বারটা নে, কথা বইলা দেখ্।

আমি বুঝতে পেরে হেসে জিজ্ঞাস করি, তা আলফাজ কি বলেছিল রে তোকে, গালিব?

আলফাজ নিজেই বলে, আরে বুঝিসই তো! প্রেম তো করমু একখান, দেইখা শুইনা করা লাগব না? আজকাল অনেক মাইয়্যাই তো হয় রিজেক্টেড নয়ত একাধিক প্রেমিক থাকে।

গালিব মোবাইল ফোনে নাম্বার বের করে এগিয়ে দিয়ে বলে, নে সেভ কর।

আলফাজ বলে, সেভ করব মানে? তুই তো নিশ্চিত না যে মাইয়্যা অন্য পোলার লগে কথা বলে না। এইটা নিমু না। তুই খাঁটি মাইয়্যার নাম্বার দিবি।

গালিব দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কি মনে করে আমার দিকে ফিরে বলে, তুই নিবি? আমি নাম্বারটা সেভ করে নিই। জানি কখনও ফোন করা হবে না, তাও গালিবকে নিরাশ করলাম না।

সপ্তাহ্ খানেক পর কলেজের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বাসায় সময় কাটছিল না। কি মনে হতে মোবাইলটা হাতে নিলাম। কন্টাক্টস্ লিস্টে গালিবের দেয়া নাম্বারটা বের করে দেখতে লাগলাম। এইরে মেয়েটার নাম তো গালিবকে জিজ্ঞাসই করা হয়নি। থাক নাম দিয়ে কি হবে? আমি তো ফোন করব না। ভাবতে ভাবতে একটা মিস্ কল দিয়ে দিলাম নাম্বারে। এটা কি হল? সাথে সাথে মিস্ কল ব্যাক পেলাম। একটু সাহস বাড়ল। আমি মিস্ কল দিই আর সাথে সাথে ব্যাক পাই। এভাবে চলতে থাকল দুইদিন।

একদিন রাত দেড়টার দিকে ফোন পেলাম। রিসিভ করে কথা বললাম। জানতে পারলাম মেয়েটা একটা স্কুলে প‌ড়ে ক্লাশ নাইনে। নাম তিশা। এরপর প্রতিদিনই কথা হতে লাগল। সেই ফোন করত, ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলত। মাঝে মাঝে ভদ্রতার খাতিরে আমাকেও ফোন করতে হয়েছিল।

একদিন বলল, আমাকে কিস্ কর। আমি আকাশ থেকে পরলাম। বলে কি এই মেয়ে! দেখলাম সে সত্যি সত্যি ফোনে কিস্ করতে লাগল। সেদিনের আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না, ফোনে কিস্ করাটা এতটা নোংরা শোনায়।

গালিবকে সব কথা খুলে বললাম। সে হেসে খুন। সে ভাবেনি আমার সাথে এমন কিছু ঘটতে পারে। আর সে কিছুই জানে না মেয়ে সম্পর্কে।

একদিন সকালে ঘুম ভাঙল রিংটোনের শব্দে। তিশার ফোন! রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে বলল, হ্যালো তুমি কে? পুরুষের কন্ঠ! আমার কলজে শুকিয়ে কাঠ। আমি কোনমতে আমার নাম বললাম। তারপর কোথায় পড়ি, কোথায় থাকি তাও জানতে চাইল। আমি নির্দিষ্ট করে না বলে, শুধু কলেজের নাম বললাম। তারপর আমাকে যথারীতি হুমকি দেয়া হল এভাবে, যদি আর কোনদিন আমার বোনের সাথে কথা বলতে দেখি তোমার খবর আছে!
যাইহোক, খুশি লাগল যে অন্ততঃ তুমি করে বলেছে। আমি কিছু বলার আগেই লাইন কেটে গেল।

সেদিন রাতে আবার ফোন আসল। আমি রিসিভ করে বুঝার চেষ্টা করলাম কে কথা বলে নারী নাকি পুরুষ! নাহ্ নারী। তিশা বলল, এই তোমাকে ভাইয়া কি বলেছে? আমি পুরো কথোপকথন বর্ণনা করলাম। সে খুব দুঃখিত হল। বলল, আমার কারণেই তোমার এই অবস্থা তাই না?

এর পর হঠাৎই তার ফোন আসা বন্ধ হয়ে গেল কেন জানি না। আমি ফোন করেও মোবাইল বন্ধ পেলাম।

তিন মাস পর নতুন নাম্বার থেকে ফোন। রিসিভ করতেই মেয়েলী কন্ঠ, হ্যালো আমি তিশা বলতেসি।

আমি যেন তাকে ভুলে গিয়েছি, কোন তিশা?

- তুমি আমাকে চিনতে পারছ না?

- ও হ্যাঁ! তিইইইশা। কোথায় ছিলে এতদিন?

- আর বলো না। আমার মোবাইল ছিল না। বাসা থেকে নিয়ে নিয়েছিল।

- ও আচ্ছা।

- এই আমি এখন কাতালগঞ্জ মোড়ে আছি। তুমি কি আসবা?

- এখনই? আমার বাসা ভর্তি মেহমান। এখন তো যাওয়া যাবে না!

- প্লিজ আসো না। আমি ঘন্টা খানেক থাকব। (পাশে বান্ধবীদের কথা শুনতে পাচ্ছিলাম।)

- শুনো, কোনভাবেই সম্ভব না।

- প্লিজ আসো না একবার। কষ্ট করে আসলে কি হয়?

- বুঝতে চেষ্টা কর একবার, আমার সমস্যা হবে।

- ও আচ্ছা। ঠিক আছে, রাতে কথা হবে। ভালো থেকো।

এরপর আর কোনদিন তার সাথে কথা হয়নি। তার মোবাইল বন্ধ পেতাম। তার ঠিকানা বের করা গেল না। গালিবের কাছ থেকে তার নতুন কোন নাম্বার পাওয়া গেল না। তখন কেমন যেন খারাপ লেগেছিল। পাঁচ মাস পর আমিও নাম্বার পাল্টালাম। একদিন মোবাইল হারিয়ে তার নাম্বার সব হারিয়ে ফেললাম।

ঘটনা পাঁচ বছর আগের। জানি না কে ছিল এই বালিকা? জানার আগেই হারিয়ে গেল। কোনদিন জানতেও পারব না। এখন মনে হয় সবই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্কা মেয়ের পাগলামী। অথবা হয়ত একটা ফালতু মেয়ে ছিল সে। তবুও তার জন্য হৃদয়ের এক কোণে এতটুকু ভালবাসা কি তৈরি হয়েছিল? যার কারণে এখনও মাঝে মাঝে রাত দেড়টার দিকে মনে হয় এই বুঝি তার ফোন আসবে। কিন্তু না, সেটা তো হওয়ার নয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29508024 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29508024 2011-12-22 19:52:25
একাত্তরের পর যত কিংবদন্তী বাংলাদেশী ছবি (ডাউনলোড লিংকসহ) একাত্তরের পর বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত কিংবদন্তী ছবি হয়েছে তার একটা তালিকা করে রাখলাম। যেগুলোর ডাউন্ডলোড লিংক পেয়েছি দিয়ে দিলাম আপনাদের জন্য। দেখা শুরু করে দিন।

জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) - জহির রায়হান (একাত্তরের পরও এ ছবির জনপ্রিয়তার কারণে তালিকায় রাখা হল) (600MB)
Part1 Part2 Part3 Part4 Part5

ওরা এগার জন (১৯৭২) - চাষী নজরুল ইসলাম

তিতাস একটি নদীর নাম** (১৯৭৩) - ঋত্বিক কুমার ঘটক

শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৪) - মোস্তাফিজুর রহমান

বসুন্ধরা (১৯৭৭) - সুভাষ দত্ত

সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭) - আলমগীর কবির

সারেং বউ (১৯৭৮) - আব্দুল্লাহ আল মামুন

গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮) - আমজাদ হোসেন

ডুমুরের ফুল (১৯৭৮) - সুভাষ দত্ত

সূর্যদীঘল বাড়ি (১৯৭৯) - মশিহুদ্দীন শাকের 402MB, 740x574

গুড্ডি (১৯৮০) - সৈয়দ সালাহউদ্দীন

দেবদাস (১৯৮২) - চাষী নজরুল ইসলাম

চাকা (১৯৯৩) - মোর্শেদুল ইসলাম

আগুনের পরশমনি (১৯৯৪) - হুমায়ূন আহমেদ 322MB

নদীর নাম মধুমতি (১৯৯৫) - তানবীর মোকাম্মেল

মুক্তির গান (১৯৯৫) - ক্যাথরিন মাসুদ/তারেক মাসুদ 300MB

দীপু নাম্বার টু (১৯৯৬) - মোরশেদুল ইসলাম 357MB

হঠাৎ বৃষ্টি** (১৯৯৯) - বসু চ্যাটার্জী (490MB)
Part1 Part2 Part3 Part4 Part5

শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯) - হুমায়ূন আহমেদ

কীত্তনখোলা (২০০০) - আবু সায়ীদ 400MB, 640x368

ফুলকুমার (২০০২) - আশিক মোস্তাফা

লালসালু (২০০২) - তানবীর মোকাম্মেল

শ্যামল ছায়া (২০০২) - হুমায়ূন আহমেদ 308MB, 352x288

মাটির ময়না (২০০২) - তারেক মাসুদ/ক্যাথরিন মাসুদ 694MB, 720x372

চন্দ্রকথা (কোন সাল পাইতেছি না) - হুমায়ূন আহমেদ


জয়যাত্রা (২০০৪) - তৌকির আহমেদ (700MB)
Part1 Part2 Part3 Part4

শঙ্খনাদ (২০০৪) - আবু সায়ীদ

ব্যাচেলর (২০০৪) - মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী (376MB)
Part1 Part2 Part3 Part4

নিরন্তর (২০০৬) - আবু সায়ীদ (VCDRip 1.11GB)
Part1 Part2 Part3 Part4 Part5 Part6 Part7

অন্তর্যাত্রা (২০০৬) - তারেক মাসুদ/ক্যাথরিন মাসুদ 700MB, 720x350

স্বপ্নডানায় (২০০৭) - গোলাম রব্বানী বিপ্লব

আহা! (২০০৮) - এনামুল করিম নির্ঝর 270MB

মনপুরা (২০০৯) - গিয়াসউদ্দীন সেলিম (1040x576)
Part1 Part2 Part3 Part4 Part5

জাগো (২০০৯) - খিজির হায়াত খান 700MB, 672x288

বৃত্তের বাইরে (২০০৯) - গোলাম রব্বানী বিপ্লব

থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার (২০১০) - মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী 700MB, 720x528

মনের মানুষ** (২০১০) - গৌতম ঘোষ 850MB, 768x576



গেরিলা (২০১১) - নাসিরউদ্দীন ইউসুফ 700MB, 720x406

আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১) - মোরশেদুল ইসলাম 800MB


**পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনা

- বেশিরভাগ ফাইলই DvDRip
- মিডিয়া ফায়ার পাসওয়ার্ড (প্রয়োজনে): doridro.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29498992 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29498992 2011-12-08 20:48:06
"মা, আমি চলে যাচ্ছি পরীর দেশে...!"
"মা, আমি চলে যাচ্ছি! জান মা, পৃথিবীতে যাওয়ার আগে শুনেছিলাম পৃথিবী অনেক সুন্দর! আসলেই কি সুন্দর মা?? তাহলে কেন মা আমার চলে যেতে হয় পরীর দেশে? পৃথিবীর কুৎসিত রূপ দেখব যদি জানতে পারতাম মা, তাহলে আমি তোমার গর্ভেই পরীর দেশে আসার পথ খুঁজে নিতাম! আমাদের মত খুকিদের বাঁচার জন্য কি একটা সুন্দর পৃথিবী কেউ গড়ে দিতে পারে না মা?"

"বাবা, তোমার কি মনে পড়ে প্রথম যখন আমি তোমার হাত ধরে স্কুলে গিয়েছিলাম? আমি হাটতে পারছিলাম না, তোমাকে বলতেই তুমি পুরো রাস্তা আমাকে কোলে নিয়ে বাসায় এসেছিলে! তোমার কত কষ্টই না হয়েছিল তাই না বাবা? জানো বাবা আমি একলা পথ হাটতে শিখেছিলাম! আমি চেয়েছিলাম তুমি যাতে আমার জন্য এত কষ্ট আর না কর! কিন্তু বাবা ঐ পশুগুলো সেটা চায় নি, তারা জানে না যে তারা তোমাকে কষ্ট দিতে চায়! তারা ভেবেছে আমি এগার বছরের শিশু আমি কিছুই বুঝি না! দেখো বাবা, বাসার কাছেই তো স্কুল ছিল, কিন্তু পশুগুলো আমাকে এ ক'দিনে রাস্তায় কি সব কথা বলেছে, কি আচরণ করেছে তুমি জান না বাবা! আমি তোমাকে, মাকে বলতে পারিনি এত নোংড়া কথা! লজ্জায় ঘৃণায় প্রতি রাতে শুধু কেঁদেছি!"

"তাদের দোষ নেই বাবা, তারা অসুস্থ! তাদের হয়ত ভাল চিকিৎসা দরকার! ছোট হলেও বাবা বুঝেছি, মানুষ খারাপ হতে পারে না, কিন্তু সমাজ অসুস্থ মানুষের জন্ম দেয়! ভবিষ্যতে যাতে কোন বাবার খুকির আর আমার মত কাজ করতে না হয়, সে জন্য অসুস্থ লোকগুলো যাতে সমাজে আর না জন্মে এমন ব্যবস্থা কি তোমরা করতে পারবে না বাবা?"

"আমি চলে যাচ্ছি মা! তুমি আমার কথা মনে করে কেঁদো না কেমন? তুমি আমার জন্য যে নীল জামাটা পরশু কিনে এনেছিলে সেটা তো আমার পরাই হল না মা! দেখ কি কান্ড স্কুলের কারণে সুযোগই পেলাম না, তুমি হয়ত ভেবেছ সেটা আমার পছন্দ হয়নি! বিশ্বাস কর মা এখানে কেউ মিথ্যে বলে না! জামাটা অনেক সুন্দর! তুমি সেটা আনিসাকে দিয়ে দিও! তুমি যখন জামাটা শপিং ব্যাগ থেকে বের করে আমার হাতে দিয়েছিলে মা, তখন সে জামাটার দিকে তাকিয়ে ছিল! আমি বুঝতে পেরেছিলাম মা তার জামাটা অনেক পছন্দ হয়েছে!"

"বাবা, আমি পরীর দেশে চলে গেলাম! এখানে আমার মত কত পরী জান?? সবাই রাগ করে পৃথিবী থেকে চলে এসেছে! অনেক অনেক শিশু পরী, মেয়ে পরী! এখানে আমি অনেক ভাল আছি বাবা! কোন কষ্ট নেই, কোন নোংড়া পশু নেই যে আমাদেরকে থাবা বাড়িয়ে দেবে! আমাদের মত অনেক পরী বাবা পৃথিবীতেও আছে, তারা সুযোগ পায় না আমাদের এখানে আসার! অনেকেই রাস্তাটা চেনে কিন্তু বাবা-মার দিকে তাকিয়েই কষ্ট পায় তাদের ছেড়ে আসতে! বাবা তুমি তাদের খোঁজ নিও! তাদের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে! তাদের না বলা কথাগুলো শোনার চেষ্টা করো! তাহলে আমি ভাল থাকব! আমরা ভাল থাকব!"

মূল খবরঃ বখাটেরা উত্ত্যক্ত করার কারণে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক শিশুর আত্মহত্যা! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29416598 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29416598 2011-07-20 18:00:25
আরো কিছু পরিমল (গল্প, তবে রম্যও হতে পারে)
অফিসে পৌঁছে লিফটে উঠব, লিফটের দরজায় আমাকে ধাক্কা দিয়ে এক তরুণী লিফটে উঠে গেল। কাপড়ের অবস্থা দেখে মনে হল নতুন মডেল হওয়ার ধান্ধায় আছেন। সেইরকম "সেডাকটিভ" দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। প্রকাশভঙ্গিটা এমনই, যেন লিফটে আমার আগে যাওয়াটা তার অধিকার। লিফট ক্যাপাসিটি না থাকায় আমি বাইরে দাঁড়িয়ে রইলাম। লিফট উঠে গেল। দশতলায় উঠার বিকল্প লিফটও নেই।

আমার রেজাল্ট ভাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইকোনমিক্সে মাস্টার্স। ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকে বসলাম। আমার সামনে তিনজন বসে আছেন, বার চোখ নিয়ে। মানে তিনজনই কানা। একজন চুপচাপ বসে আছেন। আর দাঁড়িওয়ালা লোকটা আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছেন। মনে হয় আমার সাথে তার মেয়ে বিয়ে দিবেন। না হলে "আপনার বাবার কি পরিমান সম্পত্তি আছে?" এ ধরণের প্রশ্ন কেউ করে?? বলে রাখা ভাল এখানে সাধারণ জ্ঞান জিজ্ঞাস করা হচ্ছে না। কোম্পানী সম্পর্কে কি জানি আর আমার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রশ্নই করছে বেশি। আমি যতটুকু পারি আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিয়ে গেলাম। তৃতীয়জন আমার সার্টিফিকেটগুলো নাড়ছেন আর একটু পর পর চশমার উপর দিয়ে আমাকে দেখছেন আর হাসছেন। ভাবটা এমন যেন তিনি সার্টিফিকেটে বড় কোন কৌতুক খুঁজে পেয়েছেন। আমিও হেসে দিই। কারণ ইন্টারভিউ বোর্ডে হাসি ধরে রাখা আর কোন মেয়ের মন জয় করার জন্য যে কোন কিছু করা সমান।

ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর মনে হল এবার চাকরিটা হবেই। এ অবশ্য নতুন কিছু না। প্রতিবার ইন্টারভিউ দেয়ার পর এমন হয়। যাইহোক, মেয়েটার সাথে পরিচয় হয়ে গেল। নিজে থেকেই কথা বলল। জানলাম, তার রেজাল্ট খুব বেশি ভাল না। ভার্সিটি জীবনে এমন মেয়ে থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করেছি। কারণ এরা রূপ দেখিয়ে অনেক কিছু আদায় করে নিতে জানে। জিজ্ঞাস করল, আমাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে কি প্রশ্ন করা হয়েছে। লিফটে এমন আচরণের পর আমার কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার চিন্তা! আমি একটু ভাব নিয়ে বললাম, নিষেধ করা হয়েছে বের হয়ে কাউকে যাতে কিছু না বলা হয়। মেয়ে বোধহয় বিশ্বাস করল না। আমার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকল। আমি খবরের কাগজে চোখ রাখলাম।

গল্প এখানেই শেষ। চাকরীটা হয়নি। আবার হতাশ হলাম দারুনভাবে। হতাশ বেশি হওয়ার কারণ চাকরীটা পেয়েছে ঐ তরুণী। আফসুস! শোনার পর ইন্টারভিউ বোর্ডের তিনজনের কথা মনে করি আর মনে মনে বলি "পরিমল" "পরিমল" "পরিমল"।

(গল্পটা একটু এডিট করে রিপোস্ট দেয়া হয়েছে।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29412377 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29412377 2011-07-13 20:00:16
গন্তব্য মরিশাস (রম্য)
সন্ধ্যা হয়ে গেল। সবাই সমুদ্রের সৌন্দর্য দর্শনে ব্যস্ত। আমি ও মতলব মিয়া রাতে খাওয়ার পর ডেকে বসে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম। মতলব মিয়ার একটি বাজে অভ্যাস আছে বলে আমার মনে হয়েছে। তিনি সাধারণ-স্বাভাবিক একটি কথাকে চেঁচিয়ে বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি প্রতিটি কথাতেই আমার কানে তালা লাগিয়ে দিচ্ছেন। সম্ভবত শুটিংয়ে অ্যাকশন আর কাট বলে চিৎকার করতে করতে এ অভ্যাসটি হয়েছে।

সকাল সকাল ঘুম ভাঙল। ডেকে এসে দাঁড়ালাম। কেমন যেন ছিমছাম; অন্য রকম লাগছে। পথ ভুল হয়নি তো? আমার সহকারী দৌড়ে এলেন, কেমন যেন উত্তেজিত। বললেন, 'ক্যাপ্টেন, সর্বনাশ! আমরা মনে হয় ভুল পথে এসেছি। দেখুন সামনে অতিকায় কী যেন একটা দেখা যাচ্ছে।' দুরবিন বাড়িয়ে দিলেন আমার দিকে। আমি দুরবিন চোখে দিয়ে ভড়কে গেলাম! সত্যিই তো, কালো কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। আগে যখন এসেছিলাম, তখন তো তেমন কিছু দেখিনি। যদি দ্বীপ হয়ে থাকে, তবে আমরা ভুল পথে এসেছি। হ্যাঁ, সত্যিই দ্বীপ। এটি আবার কোন দ্বীপ? আমি হতবাক হলাম দ্বীপটির তীরে একটি লোককে দেখে। আরে এটা তো সভ্য মানুষ! এখানে মানুষ আছে? তাও সভ্য! সহকারীকে বললাম, 'জাহাজ ভেড়াও।' জাহাজ ভেড়ানোর পর লোকটি জাহাজে উঠে এল। শ্বেতাঙ্গ। জাহাজের সবাই আগ্রহ নিয়ে তাঁর কথা শুনল। তিনি যা বললেন তা হলো- তিনি আমেরিকার নাগরিক। একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব। টুইন টাওয়ার ধ্বংসসংক্রান্ত কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করার অপরাধে তাঁকে এই দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। আমি একটু অবাক হলাম! তিনি জানালেন, খুব কষ্টে আছেন এখানে। কিছুদিনের খাদ্য দেওয়া হয়েছিল, তা অনেক আগেই শেষ। মতলব মিয়া চেঁচিয়ে উঠলেন, 'আপনি কিছু ভাববেন না। আপনাকে নিয়ে একটি ছবি বানাব। নাম হবে মি. ডামবেল কেন নির্বাসিত।' নির্বাসিত লোকটির নাম মি. ডামবেল। মতলব মিয়ার কথায় তিনি বিরক্ত হলেন; বললেন, 'তাড়াতাড়ি জাহাজ ছাড়ুন! না হলে কপালে দুঃখ আছে। এখানে অসভ্য, বর্বর একটা জংলি জাতি বাস করে। জাহাজ দেখলে আক্রমণ করে বসবে।' আমি পুলকিত হলাম মনে মনে। বললাম, 'আমি জাতিটা না দেখে যাচ্ছি না। এত কাছে এসে আমাদের পূর্বপুরুষদের না দেখে চলে যাব? তাহলে ভ্রমণ করার উদ্দেশ্য কী!' মতলব মিয়া আমার সঙ্গে একমত। মি. ডামবেল বললেন, 'ঠিক আছে; তবে একটি শর্তে। সবাই চুপচাপ থাকবেন। ওরা টের পেলে কিন্তু রক্ষা নেই।' আমরা মেনে নিলাম।

মি. ডামবেল, আমি আর মতলব মিয়া রওনা দিলাম। পাহাড় বেয়ে চূড়ায় উঠে উপত্যকার দিকে তাকাতেই আমি হতভম্ব! কয়েক শ জংলি, প্রায় উলঙ্গ। সাত-আটজনকে হাত বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর অন্য সবাই একে একে লাইন ধরে এসে পাছায় লাথি মারছে। মি. ডামবেলকে জিজ্ঞাস করতেই তিনি বললেন, 'আপনারা আসার আগে পাশের অন্য একটি ছোট দ্বীপের আরেকটি জংলি জাতি এই দ্বীপ দখল করতে আক্রমণ চালায়। এই জাতির যারা ওই জাতিকে সহায়তা করেছে, তাদের যুদ্ধ শেষ হতে না হতেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।' আমার মনে পড়ল শব্দটি 'যুদ্ধাপরাধী'। হায়রে! এই ন্যাংটো, বর্বর, অসভ্য জংলিও যুদ্ধাপরাধীকে শাস্তি দিতে দেরি করে না। আর আমাদের দেশের মানুষ! সভ্য হয়েও আমরা বিচার এখনো করতেই পারিনি। আমার কিঞ্চিত মন খারাপ হল। মি. ডামবেল চুপিচুপি বললেন, 'এরা অদ্ভুত! অপরাধীকে যথাযথ শাস্তি দিতে কুন্ঠাবোধ করে না।' এবার মতলব মিয়া নিজেকে সংযত রাখতে পারলেন না। বলেই বসলেন, 'ইয়েস! এটি নিয়ে আমি ছবি বানাব, ইয়েস!' আমরা থ, জংলিরা চিৎকার শুনে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বল্লম নিয়ে আমাদের তাড়া করল। আমরা কেউ কারো দিকে খেয়াল না করে দিলাম প্রাণপণে দৌড়।

আমি আর মি. ডামবেল জাহাজে পৌঁছালাম। মতলব মিয়ার ছায়াও দেখতে পেলাম না। জংলিদের ভয়ে জাহাজ ছেড়ে দিলাম আমরা। হারিয়ে গেলেন বিশিষ্ট কাটপিস চলচ্চিত্রকার মতলব মিয়া।

(রম্য ভ্রমণকাহিনীটি রস+আলো, ৩০ জুন ২০০৮ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29406616 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29406616 2011-07-03 19:22:41
হেলায় পড়ে থাকা প্রতিভাবান ও মেধাবীদের গল্প (প্রথম পার্ট) এক.

১৮ এপ্রিল। বিকাল পাঁচটা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরছিলাম। ক্লাশ শেষ হয়েছিল দুপুরের দিকেই। আড্ডা দিতে দিতে বিকেল হল। টিএসসি থেকে রিক্সা নিলাম। আমি আর আমার বন্ধু সামি। দু'জনের বাসা কাছে হওয়ায় একসাথে যাওয়া হয়। রিক্সা নিয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। রিক্সাওয়ালা বাংলা একাডেমির দিকে হাত তুলে জিজ্ঞেস করে, "মামা এই মেলা কতদিন চলবে?"

আমরা আসলে জানি না বাংলা একাডেমীতে কি মেলা হচ্ছে। এখনতো এপ্রিল। ফেব্রুয়ারি না। তবে কিছু একটা হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম। জানি না দেখে আমরা দু'জনেই চুপ করে রইলাম।

এরপর রিক্সাওয়ালা আবার বলল, "মামা, আমার এখান থেকে একটা বই কেনার শখ। আমি পহেলা বৈশাখের সময় বাড়িতে ছিলাম বই কিনতে পারি নাই। তবে বৈশাখ নিয়া একটা কবিতা লিখছি।"

আমি বুঝতে পারলাম না কি বলব! কি বলে এই লোক? সামি আমার দিকে তাকিয়ে লোকটা না শোনে মত শব্দহীন হাসতে লাগল। একটু পর লোকটা কবিতার মত কি যেন অনবরত আওড়ে যাচ্ছিল আর আমরা তার পিছে বসাতে কথাগুলো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।

সামি পল্টন নেমে গেল। আমি আরাম করে রিক্সার মাঝখানে বসলাম আরামবাগ যাব বলে।

ঠিক নামার কিছুক্ষণ আগে রিক্সাওয়ালা আমাকে জিজ্ঞাস করলেন, "মামা শুনবেন আমার লেখা কবিতা?"
আমি হেসে বললাম, হ্যাঁ শোনান।

তিনি কবিতাটা আবৃত্তি করে শুনালেন। অপূর্ব! আমি নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে একটা রিক্সাওয়ালা এত ভাল আবৃত্তি পারে। আর কবিতার লাইনগুলোও ছিল অসাধারণ!

তার কবিতার দুইটা কথা মনে আছে শুধু, যা সে কবিতা আবৃত্তি করার সময় আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনেছি,
একটা হল - "আমি ক্ষুধার্ত গোলাপের মত ডেকেছি তোমায়",
আরেকটা হল - "সূর্য মলিন হয় তোমার ছায়ায়..."
এ দুইটা লাইন শুনে আমি তাকে বাহবা দিয়ে বলেছিলাম, "আপনিতো অনেক সুন্দর লিখেন!"

তিনি হাসলেন। এরপর বললেন, "মামা, আমি টিএসসিতে আবৃত্তির একটা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম, কিন্তু উচ্চারণে একটু সমস্যা ছিল তাই বাদ পড়ে গেছি।"

শুনে খারাপ লাগল। এরপর রিক্সা থেকে নেমে তাকে অনেক উৎসাহ দিলাম। বললাম, "আপনার মধ্যে যে প্রতিভা আছে তা নষ্ট হতে দিবেন না। চালিয়ে যান। লিখতে থাকুন। মনে রাখবেন, অনেক কবির জীবদ্দশায় তাদের লেখা প্রকাশিত হয়নি। চিন্তা করবেন না। লিখতে থাকুন।" কথাটা শুনে তিনি খুশি হলেন।

পরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম এটা নিয়ে। আতিক নামের একজন বলেছিলেন যে, একজন রিক্সাওয়ালা আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, তার নাম রাজ্জাক। যিনি অনেক ভাল আবৃত্তি পারেন। আতিক নাকি টিএসসির ঐ প্রতিযোগিতায় দর্শক হিসেবে ছিলেন এবং উনার আবৃত্তি শুনেছেন। আতিক আরো বলল, প্রতিযোগিতার বাইরেও রাজ্জাকের সাথে তার কথা হয়েছে কয়েকবার এবং আতিক তার নাম মনে রেখেছে দেখে তিনি নাকি অনেক খুশি হয়েছিলেন।


দুই.

ফয়সাল খন্দকার রুবেল নামের একজন বলছিলেন, একদিন তিনি একজন রিক্সাওয়ালার দেখা পেয়েছিলেন। যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ফার্স্ট ক্লাশ পেয়েছিলেন। পরে তিনি নাকি একটি কলেজের প্রভাষক ছিলেন কিছুদিন। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে উনার কাঁধে অপরাধের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হলে তিনি পালিয়ে বেড়ান এবং রিক্সাওয়ালার বেশ ধারণ করেন। খুব খারাপ লাগল শুনে।


এরকম আরো কিছু অজানা প্রতিভাবান মানুষের কথা নিয়ে এই পোস্ট চালিয়ে যেতে চাইছি। তাই পোস্টের শুরুতে "প্রথম পার্ট" লেভেল দিয়েছি।

বাকীগুলো নিয়ে আসছি শীঘ্রই...
হেলায় পড়ে থাকা প্রতিভাবান ও মেধাবীদের গল্প (দ্বিতীয় পার্ট)
হেলায় পড়ে থাকা প্রতিভাবান ও মেধাবীদের গল্প (তৃতীয় পার্ট)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29394334 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29394334 2011-06-10 11:09:27
ভূমিকম্প রম্য
২০০৫ সালের ডিসেম্বর। তখন এসএসসি পরীক্ষার পূর্বে টেস্ট পরীক্ষা দিতেছিলাম। আমার পরদিন গণিত পরীক্ষা ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই অংক করতেছিলাম। ঘুম থেকে উঠার পর বাথরুম হয়নি। দুইটা বজ্রগুনন করতে গিয়ে চাপল বাথরুম। অংক ফেলে রেখেই বাথরুমে ছুটলাম। কত আরাম করে কাম সারতেছিলাম, তখন অংকের চিন্তা বাদ। এমনিতে অংক করতে গেলেই আমার মাথা ঘুরায়। ক্লাশ নাইনের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংকে তিন পাইছিলাম। এরপর অংকের স্যার বলেছিল, "রোল সাতে কেমনে তিন পায়? তোর রোলের চেয়েও তো কম মার্কস।"

যাই হোক, কাম সারতেছিলাম আরামে বইসা। হঠাৎ শুরু হইল দোলা। আমি দুলতাছি। বসে বসেই দুলতাছি। বালতিতে রাখা আধা বালতি পানি উপচে পড়া শুরু করছে! খাইছে! কি করি? মাত্র কাম শুরু করলাম। বাইরে থেকে আম্মু দিতেছে দরজায় নক, "ঐ তাড়াতাড়ি বাইর হ। আমরা নিচে যাইতেছি। ভূমিকম্প হইতেছে।"
ওটা ছিল সুনামি। তখনো নাম জানতাম না। এটা হওয়ার পর আবহাওয়াবিদরা নাম দিছিল সুনামি। আমি দুলতেছিলাম আর টেনশন হইতেছিল। মনে হইতেছিল চলন্ত নৌকায় কাম সারতাছি! সে থেকে হইছে এক অভ্যাস বাথরুমে গেলেই দ্রুত কাম সারার ট্রাই করি।




আরেকবার ২০০৭ সালের ঘটনা। দুপুরবেলা। কাউরে না জানায়া হঠাৎ শুরু হইল ভূমিকম্প।

আমি মাত্র কলেজ থিকা আসলাম। আমরা থাকতাম পাঁচতলা বাসার একদম উপরের তলায়। মানে পাঁচতলায়। আমাদের উপরে ছাদ সেটা তো বুঝতেই পারতেছেন। নিচে নামতে নামতে অনেক কিছু হইয়া যাইতে পারে ভেবে, আমরা পাঁচতলায় বাসা নেয়ার সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, ভূমিকম্প হলে ছাদে উঠে মোটা কোন পিলার দেখে দাঁড়িয়ে যাব। এতে বিল্ডিং ধ্বসে পড়লেও বড় পিলার আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা সম্ভব অথবা অন্তত বিল্ডিংয়ের নিচে চাপা পড়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এ ধরণের একটা ধারণা ছিল। জানি না ব্যাপারটা কতটুকু ঠিক।

তো আমরা সবাই দুপুরব‌েলা ভূমিকম্প টের পেয়ে ছাদে উঠা শুরু করলাম। আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকত এক দম্পতি। যাদের দুইটা পুত্র সন্তান ছিল তাদের বয়স ছিল তখন একজনের ১৬ এর মত, অন্যজনের ১৩। ছাদে উঠে দেখলাম দরজা ছাদের ভিতর থেকে বন্ধ। জোরে জোরে দুই তিন বার ধাক্কা দিলাম। দেখলাম পাশের বাসার আন্টি দরজা খুলে দিল। কি ব্যাপার দরজা বন্ধ ছিল ক্যান? ঐ দুই ছেলে আর তার মা আগেই উঠে এসেছে আর দুইটা ছেলেই দেখলাম নেংটো। আমাকে দেখে দু'জনেই মায়ের পেছনে লুকাইল। কি ব্যাপার? ভূমিকম্প দেখে কি কাপড় চোপড় ফালাইয়া দৌড় মারল নাকি?? জিজ্ঞেস করে জানা গেল, দু'জনেই গোসল করতে ঢুকেছিল। তাদের মা জোড় করে ধরে নিয়ে আসছে। কাপড় পরারও সময় দেয় নাই। আর ছাদে উঠে দরজা লাগায়া দিছে যাতে কেউ না আসে।

পরে চিন্তা করলাম। আল্লাহ্ বাঁচাইছে যে, আন্টির দুইটা কন্যা সন্তান না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29393700 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29393700 2011-06-09 01:52:33
আমেরিকার টনসিল নয়, অন্য কারো (কাল্পনিক ফান গল্প)
কান্নার আওয়াজটা আসছে ড্রয়িং রুমের দিক থেকে। আবিদ হাসান একা মানুষ, সাত বছর ধরে ব্যাচেলর থাকেন। বয়স পয়ত্রিশের মত। বিয়ে করেন নি এখনো। মনের মত মেয়ে না পেলে বিয়ে করবেন না প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। মেয়ে পেয়েছিলেন অবশ্য, কিন্তু বিবাহিত। শহরের নামকরা নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ। শহরে খ্যাতিও আছে বেশ। বাসায় মাঝে মধ্যে বন্ধুরা আসে। কিন্তু আজ তিনি একা। তাহলে কান্না করে কে? ভুতের ভয় নেই। তিনি বন্ধু আর পরিচিত রোগীদের কাছে ভুত নিয়ে সবসময় কৌতুক করেন, অনেক বন্ধুকে ভুতের ভয় দেখিয়ে মজা নেন।

ঘটনা কি? কান্নার আওয়াজ কোত্থেকে আসছে? ড্রয়িং রুমের দিক থেকে আলো আসছে। টিভি চলছে নাতো??

আবিদ হাসান রুমের বাতি জ্বালিয়ে আস্তে আস্তে হেটে যান ড্রয়িং রু‌মের দিকে। গিয়ে যা দেখেন তাতে তার শরীর অবশ হয়ে যায়! মূর্তির মত কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। বুঝতে পারেন না কি করবেন। পাগড়ী পরা এক লোক সোফায় বসে মাথা নিচু করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। গায়ে আলখেল্লা জাতীয় কিছু পরে আছে। চেহারা দেখা যাচ্ছে না। ভয়ে আবিদ হাসানের চোখে পানি চলে আসে। ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না এমন লোকও মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তে ঈশ্বরের নাম নেয়। সে কিছুক্ষণ দোয়া দরুদ পড়ে বুকে ফু দেয় সতর্কভাবে যাতে লোকটি টের না পায়।

জড়ানো গলায় কোনমতে বলেন, এই যে শুনুন! আপনি কে?

লোকটি কান্না থামিয়ে চুপ করে থাকে। মাথা তুলে না। একটু পর প্রশ্ন করে, আপনি কি ডাক্তার আবিদ হাসান?

"জ্বি, কিন্তু আপনি কে? আপনি এখানে কি করে আসলেন? কি চান আমার কাছে?"

লোকটি এবার স্বাভাবিক হয়ে বলে, "সব বলছি, বসুন! তবে আগে আমাকে এক গ্লাস গরম পানি দিন, গলাব্যথা ঠান্ডা পানি খেতে পারি না। সমুদ্রের নোনা পানি খেতে খেতে ঠান্ডায় গলা বসে গেছে।"

আবিদ হাসান কিছু বুঝতে পারেন না চুপ করে রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ান। তার ভয় কেটে গেছে। ভুত-প্রেতে তার কখনোই বিশ্বাস ছিল না। নিশ্চয়ই লোকটি বিপদে পড়ে তার কাছে এসেছে। তবে এসেছে কি করে সেটাই প্রশ্ন।

গরম পানি হাতে আবিদ হাসান ড্রয়িং রুমে ঢুকে পাগড়ীওয়ালার সামনে গ্লাসটি শব্দ করে রাখেন যাতে লোকটি টের পায়। লোকটি এবার মাথা তুলে। মুখ ভর্তি দাঁড়ি একেবারে পেট পর্যন্ত চলে এসেছে। বাম চোখে বিশাল কালো ক্ষত। ক্ষতটা বেশি দিনের না। বোধহয় বাম চোখে দেখে না। প্রথম দেখাতে ভয় লাগে। বাচ্চারা দেখলে ভয় পাবে। তবে অমায়িক চেহারা। পুরোপুরি ধার্মিক। চেহারাটা তো চেনা চেনা লাগছে। কোথায় যেন দেখেছি, ডাক্তার আবিদ হাসানের মনে হল।

"আপনাকে চেনা চেনা লাগছে।", আবিদ হাসান আগ্রহের সুরে বললেন।

লোকটি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। হাসি থামেই না! কোনমতে হাসি থামিয়ে বলে, "আমার জীবদ্দশায় আমি এ একটা জিনিস চাইনি যে, মানুষ আমাকে চিনুক। কিন্তু এখন চাই।" বলে আবার হাসে।

"আপনি উসামা না? উসামা বিন লাদেন!" কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন ডাক্তার আবিদ হাসান।

পাগড়ীওয়ালা গরম পানি মুখে দেয়, "ইশ্ পানিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে।"

"আপনি তো মারা গেছেন!"

"সবাই সেটাই জানে, আমিও সেটাই বিশ্বাস করি।" গ্লাসের পানি ডান হাতের তালুয় নিয়ে বাম চোখে লাগাতে লাগাতে বলে উসামা।

"আপনি এখানে কি করে এলেন? আর কাঁদছিলেনই বা কেন?"

"আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না, তবে দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তর আমি একটু পরে দিব। একটা ব্যাপার কি জানেন ডাক্তার? আমার যোগ্য কোন শিষ্য আমি রেখে যেতে পারি নি। এটা আমার ব্যর্থতা বলতে পারেন।"

"তার মানে আপনি এখনো মনে করেন যে, আপনি যা করে এসেছেন তা ঠিক করেছেন?"

"ডাক্তার, আপনি বাংলাদেশের নাগরিক। ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ এবং বিপক্ষের মানুষরা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে। রাজাকার আল-বদররা এখনো বিশ্বাস করে তারা যা করেছে তা সঠিক। তারা মনে করত, এ দেশ যদি পাকিস্তান হয় তবেই তারা ইসলাম কায়েম করতে পারবে। অথচ তারাও ভুল ছিল। তারা মাটি, মানবতা ভুলে, এমনকি ধর্মকেও অমান্য করে আবার শুধু ধর্মের দোহাই দিয়ে এ দেশকে পাকিস্তান বানাতে মরিয়া হয়েছিল। এ দেশ কি এখন ইসলামী রাষ্ট্র না?"

"কিন্তু আপনিও তো ধর্মের দোহাই দিয়ে সন্ত্রাসবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন! সেটাকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?"

উসামা আবার হাসলেন। এবার হাসতে হাসতে হঠাৎই থেমে গিয়ে বললেন, "আপনি কি টুইন টাওয়ার ধ্বংসের কথা বলবেন? আত্মঘাতি বোমা হামলার কথা বলবেন? শুনুন, আমার অবস্থান থেকে এ ছাড়া কোন উপায় কারো কাছেই থাকবে না। আমি এসব শিখেছি সোভিয়েতকে কাবু করার জন্য। কিন্তু এগুলো আমাকে প্রয়োগ করতে হয়েছে আমেরিকাকে কাবু করার চেষ্টার কৌশল হিসেবে। টুইন টাওয়ার ধ্বংস নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। শুধু এটাই বলব, বিবিসি আর সিএনএন দেখে বাস্তবতার কাছাকাছি যেতে চাওয়া এ যুগের বোকাদের কাজ।"

ডাক্তার এবার বলে ফেললেন, "তারপরও আপনি আত্মসমর্পণ করতে পারতেন।"

ওসামা পাগড়ীটা খুলে টেবিলের উপর রাখলেন। মাথায় ক্ষতের দাগ, কয়েক জায়গায় চুল উঠে গেছে। "আমি কাপুরুষ নই। মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত আমি হার মানিনি। একরোখা আমেরিকার পতন চেয়েছিলাম পুরো বিশ্ববাসীকে সুখে রাখার জন্য। আমি সাদ্দাম হোসেন নই যে আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিতে পারবে। এখনো তারা আমার মৃত্যুর ছবি প্রকাশ করতে পারেনি। আমি নিজেই মাঝে মাঝে সন্দীহান হই এই ভেবে যে, আমি এখনো মরিনি।"

"বুঝলাম। কিন্তু আপনি আমার কাছে কি চান?"

ওসামা ডাক্তার আবিদ হাসানের চোখের দিকে তাকালেন, "ডাক্তার আপনিই পারবেন আমার কাজটা করে দিতে।"

ডাক্তার আবিদ হাসান চমকে উঠেন, "বলেন কি? আ-আ-আ-আমি?? কি বলছেন? এ অসম্ভব!"

"আপনি শহরের নামকরা নাক কান গলার ডাক্তার, আমার টনসিল বেড়েছে কিছুই খেতে প%]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392986 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392986 2011-06-07 17:12:09
পলায়ন বিদ্যা ও একটি ঘটনা : সামুর কোচিং সেন্টার থেকে <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" />
আমাদের দেশে বিশেষতঃ গ্রামাঞ্চলে এই ধরণের এক বিদ্যা প্রচলিত রহিয়াছে। শহরের মেয়েরাও ইদানীং কম যান না (তাহাদিগের পলায়নকে পলায়ন কহেন কিনা আমার জানা নাই)।



যাই হোক, আমার খালাতো বোনের চাচাতো বোন গত ২৩ মে অচেনা এক নোয়াখালী (নিউখেলি) পোলার সাথে পলায়ন করিয়াছে।

গোপনসূত্রে খবর পাওয়া গিয়াছে যে, একদা তাহারা মিস কল মিস কল খেলিতে খেলিতে আর মোবাইল নামক আধুনিক যন্ত্রের সহায়তায় ফুসুর ফুসুর গুসুর গুসুর করিয়া প্রেম প্রেম খেলায় মাতিয়া উঠেন। একদা নোয়াখালীর সেই পোলার মনে ইচ্ছা জাগিল যে প্রেমিকার বদনখানি দেখিবেন। তাই তিনি তাহার পরিচিত এক কুরিয়ার সার্ভিসের ঠিকানা দিয়া দিলেন আর কহিলেন একখানা ছবি যেন অতিসত্বর পাঠান। আমার খালাতো বোনের চাচাতো বোন তাহার চমৎকার একখানা ছবি পাঠাইলেন।

এদিকে ছবিখানা পাইয়া, বোনটি অতিব সুন্দরী হওয়ায় নোয়াখালীর সুন্দর(?) পোলা আর নিজের ছবি পাঠাইলেন না। উল্টা মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলিয়া নানুর বাড়ি যাওয়ার নাম করিয়া পরিবার থেকে দূরে আসিতে কহিলেন। আমার সরলমনা আত্মীয়টি তাহার এক বান্ধবীর সহিত প্রেমিকের সান্নিধ্য পাওয়ার লাগিয়া যাত্রা করিলেন।

দুই দিন পর মাইয়ার পিতা মহোদয় মেয়ের খোঁজ লইবার লাগিয়া তাহার নানুবাড়ি যোগাযোগ করিলে জানিতে পারেন মাইয়্যা ঐ খানে যান নাই। হন্তদন্ত হইয়া তিনি সমস্ত আত্মীয় বাড়ি খোঁজ করিলেন, কিন্তু আচানক ব্যাপার কোথাও মাইয়্যার টিকিটি পর্যন্ত খুঁজিয়া পাইলেন না।

ঘটনার ৭ দিন পর পর্যন্ত এই ঘটনা মাইয়্যার পিতা মাতা সমাজ-রাষ্ট্র হইতে গোপন রাখিলেন, হাজার হোক মাইয়্যা বইলা কথা। মাইয়্যার আম্মাজান অধিক শোকে পাথর হইলেন।

হঠাৎ কি মনে করিয়া তিনি একদিন আহাজারি করিয়া সারা বাড়ি এক করিলেন। সকলেই পরি মরি করিয়া ছুটিয়া আসিয়া জিজ্ঞাসিলেন ঘটনা কি! এইবার মাইয়্যার পিতা মুখ খুলিলেন যে, সপ্তাহখানেক ধরিয়া মাইয়্যা নিখোঁজ রহিয়াছে। এরপর সালিশ বসিল। মাইয়্যার সাথে যে বান্ধবী ছিল তাহার পিতাও সালিশে অংশ নিয়া অভিযোগ করিলেন যে, সবই ঐ মাইয়ার দোষ। আমার মাইয়্যাডারে না যানি কই নিয়া থুইছে! সালিশে মাইয়্যার আরো বান্ধবীদের জবানবন্দি তুলে ধরা হইল যে, মাইয়্যা এক নোয়াখালী পোলার লগে মোবাইলে আলাপ করিতেন। ইহা শুনিয়া রাষ্ট্র মাথায় উঠিল। কেননা, চট্টগ্রামের লোকজন চট্টগ্রামের ব্যতিত অন্য কোথাও মাইয়্যা বিয়া দেন না আবার পোলার লিগা চট্টগ্রামের বাহির হইতে বউও আনেন না।

যাইহোক, একদিন মাইয়্যার বাপে খবর পাইলেন যে এক মাইয়্যাকে আরেকটা গ্রামে দেখা গেছে যে কিনা একা থাকে, যার শারীরিক গঠন হুবহু ঐ মাইয়্যার সাথে মিইল্যা যায়। ইহা শুনিয়া মাইয়্যার আম্মাজানসহ পিতা মহোদয় ছুটিলেন ঐ গ্রামের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ভাগ্য অতিব খারাপ ঐ দিন তাহার দরজায় তালা দেখিতে পাইলেন। কিছুদিন পর আবার যাইয়া দেখিলেন এক মাইয়্যা ঘর ঝাড়ু করিতেছে, যিনি তাহাদিগের মাইয়্যা নহে। দেখিয়া তাহাদের আশায় গুড়ে বালি।

এখনো পর্যন্ত ঐ মাইয়্যা পলাতক রহিয়াছে। যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি খোঁজ দিবার পারেন, তাহাকে পুরষ্কৃত করা হইবে।

যোগাযোগঃ
আব্দুশ শুক্কুর
মাইয়্যার পিতা মহোদয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392700 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392700 2011-06-07 00:54:14
একজোড়া চোখের জন্য (ছোট গল্প)
হসপিটালের ভিতরে ঢুকলাম। বিশাল হসপিটাল। রিসেপশনে একজন অল্পবয়স্কা তরুণী বসে আছে। তার কাছে গিয়ে ডাক্তারের নাম বলতেই ডিরেকশান দিয়ে দিলেন। বললেন, 'দু'তলায়'। দু'তলায় গিয়ে দেখলাম রীতিমত মানুষের বাজার। এত মানুষ যে একসাথে অসুস্থ হয় তা ভাবা মুশকিল। এর মধ্যে রোগীর স্বজনের সংখ্যাই বেশি হবে।

আমার আগে থেকে টোকেন নেয়া ছিল। টেলিফোনে টোকেন নেয়ার সুবিধা আছে। টোকেন নম্বর তের। ছট্ করে গিয়ে মনিটরে দেখে এলাম এখনো দুই নম্বর চলছে। কোথাও এতটুকু বসার জায়গা নেই। একজন লোক উঠে যেতেই দেরি না করে সেখানটায় বসে পড়লাম।

আচ্ছা, সবক্ষেত্রেই কি আনলাকি থার্টিন ব্যাপারটা আছে। এই যেমন আজ আমার টোকেন নাম্বার তের। তার মানে কি এই যে, ডাক্তার আমার ভুল চিকিৎসা করবেন?

সময় কাটানোর জন্যে সবাই কিছু একটা করছে। পত্রিকা পড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। আমার মুখোমুখি সিঁড়ির কাছে এক ভদ্রলোক ব্যাগ থেকে পড়ার জন্য পত্রিকা বের করলেন। সাথে সাথে পাশের কয়েকজন বললেন, ‘আঙ্কেল, অমুক পাতাটা দেখতে পারি?’ তিনি যে পাতাটা পড়ছিলেন ওটা বাদে বাকী পাতাগুলো অন্যেরা নিয়ে নিলেন। ভদ্রলোকের চেহারায় রীতিমত বিরক্তি। তারপরও সমস্যা ছিল না। ভদ্রলোকের দু’পাশ থেকে দু’জন তাঁর মুখের সামনে হেলে তাঁর হাতের পাতাটাও যে পড়ছেন। এ জায়গায় আমার খুব হাসি পেয়ে গেল। আমার পাশে বসে আছেন গোঁফওয়ালা মাথায় হ্যাট পরা মাঝবয়সী এক লোক। তিনি আমার হাসি শুনে ট্যারা চোখে তাকালেন। আমি সহজ হওয়ার জন্য তাঁকে জিজ্ঞাস করলাম, আপনার টোকেন নম্বর কত? তিনি এমনভাবে তাকালেন যেন এ ধরণের প্রশ্ন তিনি জীবনে শুনেননি। মানব চরিত্র বুঝা মুশকিল। ভদ্রলোক আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন না।

আমার মুখোমুখি দু’জন মেয়ে বসে আছে। তাদের একজন শাড়ি পরা। এতক্ষণ তাদের চেহারা খেয়াল করিনি। মেয়েগুলো নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। এমনভাবে কথা বলছে যেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু। কাছে গিয়ে শুনলে দেখা যাবে কসমেটিক্স অথবা টিভির সিরিয়াল। এদের একজনকে চেনা মনে হল। আরে তাইতো এ যে শিমু। ছোট খালার মেয়ে।

আমি ডাকলাম, ‘এই শিমু!’
দু’জনেই তাকাল একসাথে। আমি এগিয়ে গেলাম।
‘কিরে তুই এখানে? কেন এসেছিস্?’
‘ও আমার বান্ধবী পারুল। আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকে। আমরা ওর বাবাকে নিয়ে এসেছি।’
এতক্ষণে মেয়েটিকে ভাল করে দেখলাম। হালকা নীল পাড়ের কাল একটা শাড়ি পড়েছে। চেহারায় এত ঔজ্জ্বল্য আমি আর দেখিনি। চোখগুলো কেমন অসহায়। যেন ভরসা খুঁজে বেড়াচ্ছে কিন্তু পাচ্ছে না।
‘তোমাদের ভার্সিটিতেই তো পড়ে। কখনো দেখনি?’
‘কই নাতো!’
আমি পারুলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে তোমার বাবার?
চোখ নামিয়ে বলল, হার্ট অ্যাটাক।
আমি খুব অস্বস্তিবোধ করলাম। কি বলব ভেবে পেলাম না, ‘কিভাবে হল?’
পারুল বলল, ‘ডাক্তার বলেছেন সিগারেট থেকে।’
বুকের ভিতর ধুক করে উঠল। ডাক্তারের কথাগুলো আমার মনে পড়ল। গত সপ্তাহে ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনি যে হারে ধূমপান করেছেন। আপনি যে বেঁচে আছেন এটাই এখন সৌভাগ্যের ব্যাপার। আপনি আপাতত এই ঔষুধগুলো খান। আর আগামী সপ্তাহে আসুন। ভাল না লাগলে কিছু টেস্ট দিয়ে দেব।’
‘উনি কি খুব বেশি ধূমপান করতেন?’ আমি মূর্তের মত জিজ্ঞাস করলাম।
‘হ্যাঁ খুবই। আমরা নিষেধ করলে শুনতেন না।’ বলতে বলতে মেয়েটা কেঁদে ফেলল।
‘আরে কিছুই হবে না। উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন। চিন্তা করো না।’ শান্ত্বনার সুরে বললাম। ‘উনি কত নম্বর কেবিনে আছেন?’ শিমুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাস করলাম। যদিও আমি একজন অপরিচিত লোক হয়ে তাকে দেখতে যেতে পারি না। তার স্বজনরা নিশ্চয়ই ভিতরে আছেন।
শিমু হাত দিয়ে দেখিয়ে দিল, ‘এইতো ২০৫ নম্বরে। তুমি এখানে কেন এসেছ, সাদি ভাই?’
‘তেমন কিছু না, একটু চেকআপ করানো এই আর কি! ঐ যে আমার সিরিয়াল এসে গেছে। বাসায় যাস্। একেবারে ভুলেই গেছিস।’
‘যাব। তুমিও এসো।’
পারুলের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘আসি।’

ডাক্তার একগাদা টেস্ট দিলেন। কোনটাই বাদ রাখলেন না। টেস্টগুলো করাতেও একগাদা টাকা খরচ হল। বাবা নিজেও সিগারেট খান। তারপরও তিনি আমার উপর খুব রেগে আছেন। সিগারেট খেয়ে খেয়ে অসুখ বাঁধিয়ে এতগুলো টাকা খরচ হল। মা তার একমাত্র ছেলের জন্য খুব কাঁদলেন।




****************
বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছে। বর্ষার প্রথম বৃষ্টি। বৃষ্টির মধ্যেই অনেকদিন পর ভার্সিটিতে গেলাম। ক্লাস ছিল না। লাইব্রেরীতে কিছু রেফারেন্স বই দেখতে হবে। লাইব্রেরি থেকে বেরুতে বেরুতে চারটা বেজে গেল। বৃষ্টি আগের মত বিড়াল কুকুরে পড়েই যাচ্ছে। থামার কোন লক্ষণ নেই। বৃষ্টির মধ্যে একটা রিকশাও পাওয়া গেল না। হাটতে হাটতে টিএসসি পর্যন্ত চলে এলাম। ভিজে নেয়ে একাকার। শরীর একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেছে। প্রচন্ড ক্ষিদে পেটে কিন্তু অন্য কিছু খেতে ইচ্ছে করল না। হাকিম চত্বরে ঢুকে এক কাপ চা খেলাম। অন্য সময় এখানকার চাটা আমার অত ভাল লাগে না। আজ আশ্চর্য রকমের ভাল হয়েছে চাটা।

হাকিম চত্বর থেকে বের হয়ে ভিজতে লাগলাম। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ভিজতে একটুও খারাপ লাগছে না। আমার পাশে একটা কাকও আমার মত ভিজছে। পালকগুলো ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। কাকটাকে অন্যরকম দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে অন্য কোন পাখি। প্রথম দেখলে যে কেউ অন্য কোন পাখি ভেবে ভুল করতে পারে। আচ্ছা, কাকেরা কি বর্ষা বুঝে? বর্ষার প্রথম বৃষ্টি বুঝে? বোধহয় বুঝে….. ‘সাদি ভাই!’ একটা মেয়েলী কন্ঠ আমার নাম ধরে ডাকল।
কন্ঠের উৎস আবিষ্কার করলাম একটা রিকশা। রিকশার প্লাস্টিকের পর্দা তুলে মেয়েটি বলছে, ‘কি ব্যাপার এভাবে বৃষ্টিতে ভিজছেন কেন?’
রিকশার কাছাকাছি গিয়ে দেখলাম পারুল। ঐদিন শিমুর সাথে হসপিটালে দেখেছিলাম। গভীর চোখজোড়া দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আজ কপালে কাল একটা টিপ পড়েছে। টিপটা না থাকলে বোধহয় এই বর্ষায় তাকে মানাতই না। বললাম, ‘কি করব রিকশা পাচ্ছিলাম না।’
‘আমি বাসায় যাচ্ছি। কলাবাগান। আপনি কোনদিকে যাবেন?’
‘ধানমন্ডি।’
‘ও তাহলে উঠুন। আপনাকে নামিয়ে দেব। শুধু শুধু ভিজবেন না।’
আমি রিকশায় উঠলাম। মাঝে মাঝে কিছু কিছু ব্যাপার নাটকীয় হয়। এই বৃষ্টির মূহুর্ত্যে কোন মেয়ে একটা স্বল্প পরিচয়ের ছেলেকে তার রিকশায় উঠার আমন্ত্রণ জানাবে এটা কেউ আশা করতে পারে না।
‘তোমার বাবা কেমন আছেন?’
‘এখন অনেকটা সুস্থ। তবে ডাক্তার বলেছেন সপ্তাহখানেক হসপিটালে থাকতে হতে পারে।’ একটুক্ষণ থেমে পারুল আবার বলল, ‘আপনি একটা সত্যি কথা বলবেন?’
‘কি সত্যি কথা?’
‘আপনি ঐদিন হসপিটালে কেন গিয়েছিলেন?’
এবার বোধহয় আর লুকাতে পারলাম না। বললাম, ‘সে তেমন কিছু না। হার্টের সমস্যা ছিল। সেরে গেছে।’
‘সত্যি বলছেন?’ চোখে চোখ রেখে পারুল বলল।
এই মেয়ে এমনভাবে কথা বলছে যেন আমি তার অনেক পরিচিত। বুকের কাছটায় খচ্ করে লাগে। আমি চোখ নামিয়ে নিলাম। বললাম, হ্যাঁ সত্যি বলছি।
রিকশা কাটাবন পর্যন্ত চলে এসেছে। পারুল বলল, ‘আপনি কবিতা লেখেন তাই না?’
তার কথা শুনে বুঝতে পারলাম শিমু আমার সম্পর্কে পারুলকে এসব কথা বলেছে। বললাম, ‘কে বলেছে? শিমু? তেমন কিছু না। এই একটু একটু চেষ্টা করি আর কি।’
‘হ্যাঁ শিমু বলেছে। আপনি কিন্তু অনেক ভাল লেখেন। আমি আপনার কবিতা পত্রিকায় পড়েছি। তখন অবশ্য আপনাকে চিনতাম না।’ একটুক্ষণ থেমে পারুল আবার বলল, ‘আপনি কি এখন বাসায় যাবেন?’
‘হ্যাঁ বাসায় যাবো।’
‘আচ্ছা আপনার কি এখন বাসায় না গেলে খুব সমস্যা হবে? আমার প্রচন্ড ক্ষিদে পেয়েছে। চলুন এখানটায় কিছু খাই।’
আমি হেসে বললাম, ‘সত্যি বলতে কি তোমাকে এ কথাটাই আমি বলতে চাচ্ছিলাম। আমার পেটে শকুন ঢুকেছে।’
পারুল হাসতে হাসতে বলল, ‘চলুন তবে।’

রিকশা থামালাম সায়েন্সল্যাব-এ। তখনও তুমুল বৃষ্টি। এভাবে যদি কালও বৃষ্টি হয় ঢাকা শহর তলিয়ে যাবে। আমরা একটা দেশী রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। এ দোকানে খুব ভাল পেয়াজি আর সিঙ্গারা হয়।

পারুল আজ পরেছে একটা পাতা রঙের গাঢ় সবুজ শাড়ি। শাড়ি ছাড়া এ মেয়েকে অন্য কোন কাপড়ে এত ভাল লাগবে এটা বিশ্বাস করা যায় না। নারী পুরুষের মধ্যে ভাল লাগার ব্যাপারগুলি সৃষ্টি হয় অন্যরকম কিছু বিষয় থেকে। পারুল কি শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পরে না? অবশ্যই পরে। তবে এই বয়সের মেয়েরা উপলক্ষ ছাড়া শাড়ি বলতে গেলে পরেই না। কিন্তু পারুল যে পড়ে। তার শাড়ি পড়ার এই ব্যাপারটাই বোধহয় আমাকে এত বেশি আকৃষ্ট করছে।

দোকানের ভিতর গান বাজছে। আশ্চর্য এসব দোকানে রবীন্দ্র সংগীত বাজবে এটা অবিশ্বাস্য। “এমন দিনে তারে বলা যায়… এমন ঘন ঘোর বরিষায়… এমন দিনে মন খোলা যায়… এমন মেঘস্বরে বাদল ঝড় ঝরে তপন হীন ঘন তমশায়… এমন দিনে তারে বলা যায়…”

পেয়াজি আর সিঙ্গারা চলে এসেছে। পারুলের হাতে তুলে দিলাম। হাত সরিয়ে আনতেই তার হাতের সাথে একটুখানি লেগে গেল। মনে হল বিদ্যুতের শক্ খেলাম। ক্ষিদে পেটে খাবারের কথাই ভুলে গেছি। পারুল বলল, ‘কি ব্যাপার খাচ্ছেন না কেন?’
আমি বললাম, ‘ও হ্যাঁ খাচ্ছি। তুমি নাও।’

খেতে খেতে পারুলের দিকে তাকালাম। সে এতক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি তাকাতেই চোখ ফিরিয়ে নিল। আমি বললাম, ‘আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে পারুল।’
পারুল আমার চোখে চোখ রাখল। এদিকে দোকানের সিডিতে বাজছে “এমন দিনে তারে বলা যায়… এমন ঘন ঘোর বরিষায়… এমন দিনে মন খোলা যায়…”




******************
আজ রোববার। টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে বাবার সাথে ডাক্তার কবির হোসেনের কাছে যাওয়ার দিন। এই শরীরে কি বয়ে বেড়াচ্ছি জানি না। আমি আমার রুমে চুপচাপ শুয়ে আছি চোখ বন্ধ করে। দরজায় নক। দরজা খোলা। ফিরে দেখি শিমু। হাসি হাসি মুখে রুমে ঢুকে একটা চেয়ার টেনে বসল।
‘কি ভাইয়া ঘুমুচ্ছ নাকি?’
আমি বিছানা থেকে উঠতে উঠতে বললাম, ‘আরে না এমনি শুয়ে আছি। ভাল লাগছে না। কবে এসেছিস্?’
‘একটু আগে। ভাল লাগবার তো কথা না।’ এটা বলে শিমু মুখ চেপে হাসতে লাগল।
‘মানে কি?’
‘মানে কিছুই না। পারুল একটা মেসেজ দিয়েছে।’
শিমুর মুখে পারুলের কথা শুনে খুব লজ্জা লাগল। জিজ্ঞাস না করেও পারলাম না, ‘কি মেসেজ?’
‘বলছি বলছি। এত অধৈর্য হচ্ছ কেন?’ এটা বলে আবার মুখ চেপে হাসতে লাগল।
‘আমি কেন অধৈর্য হব?’ আমি অস্বস্তি কাটানোর চেষ্টা করলাম।
‘তুমিই ভাল জান। শোন আগামীকাল আমরা সাতজন বন্ধু-বান্ধব মিলে বান্দরবান যাচ্ছি। তিন দিনের ট্রিপ।’ শিমু দুষ্টুমি করে কথার ধরণ পাল্টাল। হাসতে হাসতে বলল, ‘পারুল ম্যাডামের খুব ইচ্ছা আপনিও যেন সেখানে যান। তিনি আপনার জন্য অপেক্ষা করবেন। সকাল নয়টায় চট্টগ্রামের ট্রেন। তারপর চট্টগ্রাম থেকে বাস।’

শিমু চলে যাওয়ার পর আবার শুয়ে পড়লাম। নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হল। হয়ত আমি এসবের যোগ্য নই। আমার বোধহয় সময় শেষ হয়ে এসেছে। জানি না আমার পৃথিবী আর কদিনের।



আমি আর বাবা ডাক্তার কবির হোসেনের রুমে বসে আছি। আমাদের বিপরীত পাশে বসে ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে রিপোর্ট দেখছেন। রিপোর্ট দেখা শেষ করে তিনি আমাদের দিকে তাকালেন।
বাবা বললেন, ‘কি ব্যাপার?’
‘আপনার ছেলে এ যাত্রায় বেঁচে গেছে। যা অনুমান করেছিলাম তা কিছুই হয়নি। রিপোর্ট একদম পরিষ্কার।’ ডাক্তার দ্রুত বলে গেলেন।
আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পারুলের কথা মনে পড়ল। ইচ্ছে করছিল এক্ষুণি তার সাথে দেখা করি।
বাবা চোখ থেকে চশমা খুলতে খুলতে বললেন, ‘আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেব, ডাক্তার সাহেব।’
‘আমাকে ধন্যবাদ দেয়ার তো কিছু দেখছি না। আপনার ছেলে শেষ মূহুর্ত্যে হলেও সিগারেটটা ছাড়তে পেরেছে বলেই বেঁচে গেছে। একটা ব্যাপার কি জানেন? আমাদের দেশে যারা ধূমপায়ী তারা এটার ব্যাড এফেক্ট জেনেই ধূমপান করে। যদিও তাদের দশ ভাগই কোন না কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।’
এটা শুনে বাবা একটু নড়েচড়ে বসলেন।
ডাক্তার আমার দিকে তাকালেন। ‘আপনাকে আগে যে ঔষধ দিয়েছি তা টানা দু’মাস চালিয়ে নিতে হবে। এর সাথে আরো একটা ঔষধ লিখে দিচ্ছি।’ এই বলে তিনি প্রেসক্রিপশন নোটবুকটা টেনে নিলেন।



রাতে ব্যাগ ঘুচিয়ে ফেললাম। খুব ভালো ঘুম হল। সকালে ঘর থেকে বেরুতেই সাড়ে আটটা বেজে গেল। ট্রেন ধরা মুশকিল হয়ে যাবে ভেবে খুব টেনশন হচ্ছিল। স্টেশনে পৌঁছে দেখি নয়টা পাঁচ বাজে। তড়িঘড়ি করে ফ্ল্যাটফর্মে ঢুকে গেলাম। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। চলতে শুরু করেছে। গতি বাড়ছে। আমি ফ্ল্যাটফর্ম ধরে দৌড়াতে লাগলাম। দেখলাম ট্রেনের একটি জানালায় এক জোড়া চোখ, সে চোখে ভরসা হারানো দৃষ্টি। আমি দৌড়াতে দৌড়াতে ট্রেনের একটা দরজা ধরে উঠে গেলাম। সে সময় মনে হল সে চোখ জোড়া ভরসা খুঁজে পেয়েছে।

(লেখাটি প্রকাশিত হয়েছেঃ ফেসবুক গ্রুপ "বাংলা কবিতা গল্প উপন্যাস" (বর্তমান নাম ইচ্ছে দেয়াল ) ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম সাহিত্য বিষয়ক ই-বুক প্রকাশ করে। যার উদ্যোক্তা ছিল বন্ধু রায়হান, রনি পারভেজ এবং সাথে ছিলাম আমি।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392687 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392687 2011-06-07 00:20:26
এ যুগের মেয়ের গল্প (ভুল বুঝা মেয়েদের গল্প)


এটা আমাদেরই সমাজে বেড়ে উঠা এক শ্রেণীর মেয়েদের গল্প। যাদের সাথে মিলে যাবে, তাদের ভুল শুধরাবার সময় এখনই। আমাদের বাবা-মায়ের চেয়ে আপন পৃথিবীতে কিছুই নেই। বলা হয়, পৃথিবীতে একটা দিনই আছে যেদিন আমাদের বাবা-মা হাসে আর সন্তান কান্না করে, সেটা হল সন্তানের জন্মলগ্নে।


*********************

শিউলি (ছদ্মনাম) ক্লাশ নাইনে উঠেছে। আগের স্কুল থেকে এসএসসি তে ভাল করা যাবে না এই ধারণা থেকে তার বাবা-মায়ের ইচ্ছায় সে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। নতুন স্কুল নতুন নতুন বন্ধু। বয়ঃসন্ধিকাল। পৃথিবীর অনেক কিছুই নতুন করে শিখছে সে প্রতিদিন।

শিউলির একমাত্র ভাই তারেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। কিছুদিন পর চাকরীতে জয়েন করবে। শিউলির মনে হয় একারণই্ বাবা-মা ভাইয়াকে একটু বেশি যত্ন করে।

আরেক বোন চম্পার বয়স পাঁচ। ঠিক এ বছরই তাকে স্কুলে ভর্তি করা হবে। ভাই, দুই বোন আর বাবা মায়ের সংসার অনেক ভালই চলছে। কিন্তু ইদানিং শিউলির মনে হচ্ছে তার বাবা-মা তাকে একটুও পছন্দ করে না। সে যাই করে তা তার বাবা-মায়ের ভাল লাগে না। তার ভাইয়ের সাথে খুনসুটি সারাদিন লেগেই আছে। সে ভাইয়ের উপরে কখনো কোন কিছুতে অধিকার পায় না। ভাইয়া গায়ে হাত তুলে, বকা দেয়। তার বাবা সারাদিন অফিস করে। শুধু রাতেই বাসায় থাকে আর সে সময় কিছু না কিছু নিয়ে বকা ঝকা করে, তার মা তাকে সারাদিনই এটা ওটা নিয়ে বকা দেয়। সারাদিন চিৎকার চেচামেচি করে কাজ শিখ্ কাজ শিখ্ । মেয়ে হয়ে জন্মেছিস আজ বাদে কাল বিয়ে হবে। কাজ না শিখে শ্বশুর বাড়িতে গেলে আমার বদনাম হবে। সবাই বলবে কি মেয়ে বানিয়েছিস্ যে একটা কাজও পারে না। শিউলির রাগ হয়, মেয়ে হয়ে জন্মানো কি তবে পাপ?

শিউলি ভাত খেয়ে উঠেছে তো তার মা বলে, "কি মেয়ে হয়েছিস্ নিজের খাবারের প্লেটটা পর্যন্ত একটু ধুয়ে রাখতে পারিস্ না।"

শিউলির হয়ত গোসল করতে দেরি হচ্ছে, বাথরুমের দরজায় ধাক্কা "এতক্ষণ কি গোসল করছিস? খাবার ঠান্ডা হলে কে গরম করে দেবে শুনি? নিজে তো একটা কাজ করিস না চাল চলন নবাবের মেয়ের মত। এক্ষুনি বের হ।"

শিউলি হয়ত পড়তে পড়তে একটু মোবাইলটা নিয়েছে (এখন "ফেসবুক মোবাইল" এর অন্যতম কারণ), তার মা দেখে ফেলে আর বলে, "তোকে দিয়ে তো পড়ালেখা হবে না। কতবার বলেছি এতটুকু মেয়েকে মোবাইল দিও না। দেখ মেয়ের কান্ড। তোকে আরেকবার পড়ার সময় মোবাইল টিপতে দেখলে মোবাইল নিয়ে নিব খবরদার।"

শিউলির ইচ্ছে করে রাত নয়টায় একটু সিরিয়াল দেখবে, তার বান্ধবীরা সিরিয়ালের নায়ক-নায়িকা নিয়ে কত গল্প করে, কিন্তু সে কিছু্ই বলতে পারে না শুধু চুপ করে শুনে। কারণ সে সিরিয়াল দেখার সুযোগ পায় না। তার সিরিয়াল দেখার সময় তার বাবা খবর দেখবে নয়ত তার ভাইয়া খেলা দেখবে। পরদিন যখন আবার একই পর্ব দেখায় তখন তার স্কুল থাকে। সাধনার জামাই আলেখের কি হল সে জানতে পারে না, জানতে পারে না পরের পর্বে রাগিনীর কি হয়। তার বান্ধবীরা অবাক হয়। সে নিজেকে ব্যাকডেটেড ভাবা শুরু করে। তার মতে, তার বাবা-মাই এর কারণ।

এসব কারণে শিউলির মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে ফ্যানের সাথে ঝুলে পরতে। তার একটা গোপন ইচ্ছাও আছে। সে এটা কখনো কারো সাথে শেয়ার করে না। সেটা হল, সুন্দর কোন ছেলে দেখে প্রেম করা যে তাকে তার বাবা-মায়ের দেয়া কষ্ট ভুলিয়ে দেবে। তাকে অনেক বেশি ভালবাসবে আর তাকে তার বাবা-মা থেকে অনেক দুরে কোথাও নিয়ে পালিয়ে যাবে।

*********************

এ ধরণের ঘটনা এযুগের মেয়েদের জন্য কমন। অসংখ্য মেয়ে বয়ঃসন্ধিকালে এমন মন মানসিকতা নিয়ে বড় হয়। সে সময় বুঝারও সুযোগ থাকে না যে আসলে বাবা-মা কখনো সন্তানকে অপছন্দ করতে পারে না। আর সেটা না বুঝার কারণেই শিউলির মত মেয়েরা স্বল্পপরিচয়া ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যায়। ছেলে যদি সৎ নিষ্ঠাবান হয় তো শিউলির কপাল খুলে যায়। আর লম্পট হলে শিউলির মত মেয়েরা হারিয়ে যায়।

*********************

দুই বছর পরের ঘটনা। বাবা-মা মেয়েকে অনেক বেশি পছন্দ করা শুরু করে। মা শিউলিকে খাওয়ার জন্য বকাবকি করে। মা সব সময় মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।
শিউলি বিরক্ত হয়, "কি মা আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?"
- "দুইদিন পর তোকে তোর বাবার বন্ধুর ভাগ্নে আবির দেখতে আসবে। কেমন লাগবে তাই দেখছি?"
- "মা তোমরা যা শুরু করেছ, মনে হচ্ছে আমি চিড়িয়া আর তোমরা আমাকে বিক্রির জন্য উঠে পড়ে লেগেছ।"

বিয়ে ঠিক হওয়ার পরও অনেক মেয়ে বুঝতে পারে না। ভাবে বাবা-মা আমাকে বিদায় করতে পারলেই মনে হয় বাঁচে। আমি বোঝা হয়ে গেছি। আমাকে খাওয়াতে তাদের কষ্ট হচ্ছে। অথচ বাবা-মা জানে এত ভাল পাত্র হাতছাড়া করা উচিত হবে না। আমার মেয়ে এর ঘরে গেলে সুখী হবে। ছেলের পয়সা আছে, মেয়ে যখন যা চাইবে তাই পাবে। ছেলের চরিত্র ভাল। এরকম ভাল চরিত্র নাও পাওয়া যেতে পারে।

এই মেয়েরা ঠিক বিয়ের পরই মা-বাবার প্রতি গভীর আন্তরিকতা অনুভব করে। সবকিছুই বুঝতে পারে। তখন দেখা যায়, বাবা-মায়ের প্রতি ছেলেরা একটু অবহেলা করছে এটা দেখে মেয়ে তার ভাইদের ফোন করে বলে বাবা-মা যেন কষ্ট না পায়। বাবা-মাকে দেখার জন্য যেতে চাওয়ায় মেয়ের শ্বাশুরীর কাছে ছোট হতে হয় তাকে কতবার।

*********************

উৎসর্গঃ যে সব মেয়েরা বাবা-মাকে ভুল বুঝে আসছেন তাদের প্রতি।


(এ ঘটনা বর্ণনার মূল অনুপ্রেরণা আমার দুই মেয়ে বন্ধু, যারা মনে করে তাদের বাবা-মা তাদের একটুও পছন্দ করে না। একজন মনে করে তার প্রেমিক তাকে তার বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি ভালবাসে। আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম আর বলেছিলাম, বাবা-মায়ের সাথে প্রেমিকের তুলনা চলে না।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392623 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29392623 2011-06-06 22:03:00
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল পরিস্থিতি : সময়ের আহবান [রিপোস্ট] বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এই প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হলের সংখ্যা ১৭ টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নেই ৩টি হল নির্মিত হয়। এ পর্যন্ত মোট হলের সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে ৪টি ছাত্রী হল এবং ১২টি ছাত্রদের হল এবং ১টি ইন্টারন্যাশনাল (বিদেশী শিক্ষাথীদের) হল।

হল প্রতিষ্ঠা (সংক্ষেপে):::
জগন্নাথ হল (১৯২১)
সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হল (১৯২১)
শহীদুল্লাহ্ হল (১৯২১)
ফজলুল হক মুসলিম হল (১৯৪০)
জহুরুল হক হল (১৯৫৭
রোকেয়া হল (১৯৬৩)
স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল (১৯৬৬)
সূর্যসেন হল (১৯৬৬)
হাজ্বী মোহাম্মদ মহসিন হল (১৯৬৭)
শামসুন্নাহার হল (১৯৭১)
কবি জসিমউদ্দিন হল (১৯৭৬)
স্যার এ. এফ. রহমান হল (১৯৭৭)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (১৯৮৮)
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল (১৯৮৮)
বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল (১৯৮৯)
বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল (১৯৮৯)
অমর একুশে হল (২০০১)

তথ্যচিত্র:::
# জগন্নাথ হল (১৯২১) শুধুমাত্র অমুসলিম ছাত্রদের হল। এ হলটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় হল।
# শহীদুল্লাহ হল (১৯২১), ফজলুল হক মুসলিম হল (১৯৪০) এবং অমর একুশে হল (২০০১) এ ৩টি হল বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রদের জন্য।
# রোকেয়া হল (১৯৬৩), শামসুন্নাহার হল (১৯৭১), বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল (১৯৮৯) এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল (১৯৮৯) হল ৪টি সকল অনুষদের ছাত্রীদের হল।
# স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল (১৯৬৬) শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশিদের হল।

প্রতি বছর ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকার বাসনা সবারই থাকে হলের মজার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আশায় এবং আবাসিক সংকট কাটানোর জন্য। কিন্তু একি! সব আশায় গুড়ে বালি। যারা হলে উঠে তাদের বেশিরভাগ ছাত্রই কিছুদিন পর হল ত্যাগ করে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে। তাছাড়া পড়ালেখার ভোগান্তি তো আছেই!

হলের রুমগুলোর মধ্যে ১০/১২ টি রুম থাকে রাজনৈতিক। ১ম/২য় বর্ষের ছাত্ররা বৈধভাবে হলে সিট পায় না। ৩য় বর্ষ থেকে হলে আবেদনের প্রেক্ষিতে সিট পাওয়া যায় যা অরাজনৈতিক। কিন্তু ১ম / ২য় বর্ষের কোন ছাত্র যদি হলে উঠে তাকে আশ্রয় নিতে হয় কোন দলের হয়ে। অর্থাৎ হলে সিট পাওয়ার বিনিময়ে সে ঐ দলের হয়ে কাজ করবে। এভাবে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দল বড় করে আর কমিটিতে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেয়।

নোংরা রাজনীতি:::
পূর্বকথাঃ দেশের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ। রাজনীতি প্রত্যেকটা দেশের প্রধান ইস্যু। সুস্থ রাজনীতি যে কোন দেশের জন্যই মঙ্গলজনক। দেশের নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় রাজনীতির অন্তরালে।

নোংরা রাজনীতিঃ রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর ব্যক্তিবর্গ যখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করে। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে অন্যের ক্ষতি করতে কুন্ঠাবোধ করে না তখন রাজনীতি নোংরামীতে রূপ নেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল পরিস্থিতিঃ
এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।
হল দখলঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো এমনিতেই ছাত্রসংখ্যার তুলনায় অনেক ছোট। প্রতি বছর ভর্তি হওয়া প্রায় ৫,০০০ শিক্ষার্থীকে আবাস সুবিধা দেওয়ার মত ক্ষমতা হলগুলোর নেই। এর মধ্যে নতুন ছাত্রদের হলে সিট দেওয়ার বদৌলতে চলে হলের রমরমা রাজনীতি।
প্রত্যেকটি হলে ২/৩ টি করে রাজনৈতিক দল থাকে। যারা সরকার দলীয় হয়ে থাকে। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এ সকল দলও পরিবর্তিত হয়। তখন সরকার দলীয়রা হলগুলো দখল করে নির্দ্বিধায়। যেমন, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০০৮ হল থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরদের তাড়িয়ে হল দখল করে ছাত্রলীগ। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরও ৭ বছর আগে এভাবে হল দখল করে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করে।

কী চলে হলগুলোতে???
প্রতিবছর হল কমিটি গঠণ করা হয় সরকার দলীয়দের মধ্য থেকে। প্রতিটি হল থেকে একজন সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি হলের ২/৩টি দলের মধ্যে যে কোন একটি দল থেকে সভাপতি এবং অন্য একটি দল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।
হল কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্যে হলের এসব দল তাদের দল বড় করার চেষ্টার প্রেক্ষিতে অনেক কর্মকান্ড করে থাকে।

শো ডাউনঃ দল নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে ক্যাম্পাসে ঘুড়াঘুড়ি, মৌন মিছিল করা যাতে অন্যান্য দল ও কেন্দ্রীয় ব্যক্তিবর্গ দেখতে পায় দল কতটা বড়সড়।

‌গেস্টরুমঃ হলের গেস্টরুমগুলোতে সবাইকে হাজিরা দিতে হয় সপ্তাহে ৩/৬ দিন। হলভেদে বেশি বা কম হয়ে থাকে। এই সময় নেতা পা তুলে গেস্টরুমের সোফায় বসে থাকেন আর সবাই হাত মিলিয়ে কুশল জিজ্ঞাসা করেন। তারপর নেতা সবার কুশল জিজ্ঞাসা করেন, সবাই উপস্থিত আছে কিনা পরখ করে দেখেন। মাঝে মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা(?)ও চলে গান কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে।

র‌্যাগিং: ১ম বর্ষের ছাত্রদের উপর সিনিয়রদের র‌্যাগিং চলে নিয়মিত। কোন কারণে যদি সালাম না দেয় তবে চড়, থাবর আর বিভিন্ন রকমারী শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

মিছিলঃ বিভিন্ন কারণে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য মিছিলে অংশ নিতে হলের ছাত্ররা বাধ্য।

এসব মিছিলে বাধ্য হয়ে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্ররা পরীক্ষা, সেমিনার, প্রেজেন্টেশন সহ অনেক একাডেমিক বিষয়ে অংশ নিতে পারে না। ক্লাশের কথা দূরে থাক!

সারকথাঃ
সরকারের কাছে জানতে চাই। এসব নোংরা রাজনীতির মাধ্যমে দেশে অযোগ্য নেতা তুলে আনা কি এতটাই জরুরী যে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীগুলোর পড়ালেখা বাদ দিতে হবে???]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29326938 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29326938 2011-02-15 01:26:36
ভারত দাবী করছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তিন পণ্যের স্বত্বঃ ভারতকে রুখে দিন
এবার ঐতিহ্যবাহী তিন বাংলাদেশী পণ্যকে বিশ্ব দরবারে নিজেদের পণ্য বলে দাবি করেছে ভারত।

বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রেড রিলেটেড আসপেক্ট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটসের (টিআরএআইপিআর) কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি, নকশিকাঁথা এবং রাজশাহীর বিখ্যাত ফজলি আমকে তাদের নিজস্ব পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। গত নভেম্বরে জিআইএ’র কাছে এ তালিকা জমা দেয় ভারত।
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র এবং শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক তাগাদা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এ যাবত্।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারতের এ জালিয়াতির কারণে এসব পণ্যের স্বত্ব দাবি করতে পারবে না বাংলাদেশ। ফলে বঞ্চিত হবে বিশাল অংকের রফতানি আয় থেকে। তারা বলেন, নিজেদের পণ্য এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা সচেতন না হলে অন্যরা তা দখল করে নেবেই।


জানা গেছে, ডব্লিটিও’র ভৌগোলিক সূচক আইন (জিআইএ) ১৯৯৯ এর ২২, ২৩ এবং ২৪ ধারার ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট অনুযায়ী সকল দেশ নিজেদের বিখ্যাত এবং বিশেষ ঐতিহ্যবাহী পণ্য সংরক্ষণের অধিকার রাখে। তবে স্বত্ব সংরক্ষণের জন্য জিআইএ’র তালিকাভুক্তির প্রয়োজন হয়। ভারত এ সুযোগে তাদের ১১৪টি পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশী এ তিন পণ্যকে নিজেদের পণ্যর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেয়।


বাংলাদেশী এ তিন পণ্যের মধ্যে রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত জামদানি শাড়ি, হস্তশিল্পের মধ্যে নকশিকাঁথা এবং রাজশাহীর সুস্বাদু ফজলি আম।
সূত্র জানায়, অন্ধ্র প্রদেশে নামমাত্র কিছু জামদানি শাড়ি, বাংলাদেশের নকল করে পশ্চিমবঙ্গের যত্সামান্য নকশিকাঁথা এবং মালদহের আমকে নিজেদের ফজলি আম বলে চালিয়ে দিয়েছে ভারত।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের পণ্য সংরক্ষণ এবং রাইট টু ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টির দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। বাংলাদেশী উল্লিখিত তিন পণ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে গত নভেম্বরে জিআইএ ভারত তাদের তালিকা জমা দিলেও এ বিষয়ে আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ কদর এবং চাহিদার কারণে রফতানিপণ্য হিসেবে বাংলাদেশের এ তিন পণ্যের স্বত্ব থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করার জন্য ভারত এ কারসাজি করছে। তারা বলেন, পৃথিবীবিখ্যাত মসলিনের অনুসরণে ঐতিহ্যবাহী জামদানি বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও হয় না। এমনকি ভারতও বাংলাদেশ থেকে জামদানি শাড়ি আমদানি করে থাকে। তাদের আশঙ্কা, ভারতের এ কারসাজির ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজার থেকে নিজেদের স্বত্ব হারাবে বাংলাদেশ। ফলে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা দেকে বঞ্চিত হবে দেশ।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান এ প্রসঙ্গে বলেন, নিজেদের পণ্য এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা সচেতন না হলে অন্যরা দখল করে নেবেই। আমরা কেবল আবেগি কথায় ব্যস্ত। সে কারণে আমাদের পণ্য নিয়ে অন্যরা ফায়দা লুটবে। আমি জানি না ভারত এ ধরনের অনৈতিক কাজ আদৌ করেছে কিনা। আম বলতে তারা কোন আমকে বুঝিয়েছি। তবে এর আগে আমাদের নিমের স্বত্ব আমরা হারিয়েছি আমেরিকার কাছে। জাপানের কাছে হারিয়েছি কারীর স্বত্ব। আমরা যদি নিজেদের পণ্য সংরক্ষণে সচেতন না হই তাহলে অন্যরা সুযোগ নেবেই। এভাবে দু’দিন পরে আমরা আমাদের পাট হারাবো, ইলিশও হারাবো।

ফেসবুক গ্রুপ

সূত্র: দৈনিক আমার দেশ (পত্রিকাটা বিতর্কিত, এই খবরটা না)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29231758 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29231758 2010-08-29 14:49:50
Stellarium সফট্‌ওয়্যারে ঈদ-উল-আজহার চাঁদ ও তারিখ (সচিত্র) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> Stellarium হল মহাকাশের উপর তৈরী একটা সফটওয়্যার যার মাধ্যমে যে কোন তারিখে মহাকাশের সকল নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহের অবস্থান দেখা যায়। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্প্রতি আমি আসন্ন ঈদ-উল-আজহার তারিখ বের করি।
আসুন দেখে নিই কিভাবে -

১৮ নভেম্বর
সফটওয়্যারটিতে দেখা যাচ্ছে যে, ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাংলাদেশের পশ্চিমাকাশে চাঁদ দেখা গেলেও তা এতটাই ক্ষীণ যে সূর্যের আলো সে সময় চাঁদের অবয়ব ঢেকে দেয়। নিচে দেখুন -


সন্ধ্যা ০৬:৩০ এর দিকে দেখা যাচ্ছে চাঁদ আরো নিচের দিকে নেমে এসেছে। এবং সূর্যের আলো থাকার কারণে ক্ষীণ এই চাঁদের অবয়ব দেখা যাবে না।


সন্ধ্যা ০৭:০০ টার চিত্র দেখুন নিচে। তখন চাঁদ একেবারেই ঢলে পড়বে বলে আর দেখতে পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। /<img src=" style="border:0;" />



১৯ নভেম্বর
এবার দেখি ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭ টার চিত্র। নিচের চিত্রে দেখা যাচ্ছে চাঁদ অনেকটা স্পষ্ট এবং আগের দিনের চাইতে কিছুটা বড় যার ফলে ঐ দিন চাঁদ দেখা যাবে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকেই। <img src=" style="border:0;" />


ঐ সময় পশ্চিমাকাশে চাঁদের অবস্থানটা দেখুন -



২০ নভেম্বর
নিচের চিত্রটা ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭ টার। এখানে চাঁদ আরো স্পষ্ট। বুঝা যাচ্ছে এর আগের দিন চাঁদ দেখা গেছে।



২৯ নভেম্বর
তাহলে এই তথ্যের আলোকে যদি আগামী ১৯ নভেম্বর চাঁদ দেখা যায় ঈদ-উল-আজহা হবে ২৯ নভেম্বর। নিচে দেখুন ঈদের দিনের সকালের সূর্য।


বিঃ দ্রঃ এই সফটওয়্যারে যা দেখবেন সবই ভার্চুয়াল। মনে করবেন না আপনার জন্য টেলিস্কোপ/ক্যামেরা বসিয়ে রাখা হয়েছে। আপনি অতীত বর্তমান ভবিষ্যতের যে কোন সময়ের নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহের অবস্থান দেখতে পাবেন এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে। তার মানে? হ্যা গত ২২ জুলাই ঘটে যাওয়া পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ যেমনি দেখতে পাবেন, তেমনি দেখতে পারবেন আগামী ১০৫ বছর পরের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। যেটা আপনার পক্ষে দেখা নিতান্তই অসম্ভব। আবার ফিরে গিয়ে দেখতে পাবেন গত ১৯৯৫ সালের সূর্যগ্রহণটিও। <img src=" style="border:0;" />

সফটওয়্যারটির সাইজ ৪০ মেগাবাইট। চমৎকার থ্রিডি এ সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করুন নিচের লিংক থেকে।
Stellarium 10.2 ওয়েব সাইট থেকে ডাউনলোড করুন
সরাসরি উইন্ডোজে ডাউনলোড লিংক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29042646 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29042646 2009-11-13 01:28:40
নাসার অভিযান: অর্থনৈতিক ভাবনা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_18.gif" width="23" height="22" alt=":|" style="border:0;" />

আগে খবরগুলো পড়ুন।

খবর ০১
নাসা এবং ইউরোপের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র ইসা মঙ্গল গ্রহে যৌথভাবে গবেষণা ও মিশন চালানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত রোববার ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মহাকাশ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মঙ্গল গ্রহে যৌথ গবেষণা চালানোর অনেক দিনের প্রচেষ্টা বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।
এই যৌথ গবেষণা শুরু হবে ২০১৬ সালে, ইউরোপভিত্তিক একটি মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে পাঠানোর মাধ্যমে। ২০১৮ সালে সেটি মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ গবেষণার লক্ষ্য হলো, মঙ্গল-পৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদান পৃথিবীতে নিয়ে আসা।
ওয়াশিংটনে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন নর্থ আমেরিকান স্পেস এজেন্সিজের (নাসা) প্রধান প্রশাসক চার্লস বোল্ডেন ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সিজের (ইসা) মহাপরিচালক জিন জ্যাকুয়েস ডরডেইন।
মঙ্গল গ্রহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এই যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বেশ কিছুদিন আগে। তখন প্রাথমিক আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে, কোন উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ উদ্যোগকে সফল করবে। উদ্যোগটিতে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল তহবিল। কারণ, এর আগে মঙ্গল গ্রহসংক্রান্ত আরও অনেক গবেষণা কেবল তহবিলসংকটের কারণেই থমকে গেছে। ওয়াশিংটনে নাসা ও ইসার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মঙ্গল গ্রহে যৌথ গবেষণার স্বপ্ন পূরণের প্রথম পদক্ষেপ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একমত হয় যে সব ধরনের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের মাধ্যমে তহবিলসংকট সহজেই কাটিয়ে ওঠা যাবে এবং মঙ্গল গ্রহ নিয়ে একটি সফল গবেষণা চালানোও যাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এরই মধ্যে এ অভিযানের জন্য ৮৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি তহবিল গঠন করেছে। শিগগির এই তহবিলের পরিমাণ এক বিলিয়ন ইউরোতে উত্তীর্ণ করার ব্যাপারে সম্ভব সবকিছুই করতে রাজি আছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
নাসা আগামী ২০১৬ সালের মঙ্গল গ্রহ অভিযানে একটি উৎক্ষেপণযোগ্য রকেট প্রদান করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ আছে। বিবিসি।

সূত্রঃ প্রথম আলো, ১১ নভেম্বর ২০০৯

খবর ০২
২০১১ সালে নাসা ফের একটি অভিযানের জন্য তৈরী হচ্ছে৷ এই অভিযানে চাঁদের আবহাওয়া সম্বন্ধে আরও জানার চেষ্টা করা হবে ও তাঁর সঙ্গে চাঁদের মাটির প্রকৃতি সম্বন্ধেও খোঁজ নেওয়া হবে৷
নাসার অনুসারে লুনার অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ডাস্ট এনভায়রমেন্ট এক্সপ্লোর চাঁদের তল ও মাটির প্রকৃতি সম্বন্ধে বিস্তৃত খোঁজ খবর নেবে৷ নাসার থেকে জানানো হয়েছে এই অভিযান কম খরচের হবে৷
যে অন্তরিক্ষ অভিযান পাঠানো হবে তার খরচ ধরা হয়েছে ৮ কোটি ডলার৷ এলএডিইই নামে অন্তরিক্ষযানটা চাঁদে পৌঁছাতে সময় নেবে চার মাস ও এক মাস ধরে এটি চাঁদের পরীক্ষা করবে৷

এবার মূল কথায় আসা যাক!
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিভিন্ন গ্রহে ও মহাকাশ গবেষণার জন্য প্রতিটি অভিযানে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় তা নিতান্তই বিলাসিতার। শুধুমাত্র উপরের দু'টি অভিযানেই নাসার খরচ বাংলাদেশী টাকায় নিচে হিসাব দেয়া হল -

অভিযান ০১
আজ ইউরোর মূল্যঃ ১ ইউরো = ৯৬.১৬৩৬ টাকা
তাহলে,
১,০০০,০০০,০০০ ইউরো = ৳ ৯৬১৬,৩৬,০০,০০০ টাকা।

অভিযান ০২
আজ মার্কিন ডলারের মূল্যঃ ১ মার্কিন ডলার = ৬৮.৪০ টাকা
তাহলে,
৮,০০,০০,০০০ মার্কিন ডলার = ৳ ৫৪৭,২০,০০,০০০ টাকা।

ভেবে দেখুন, যদি কোন কারণে নাসার এসব অভিযান সফল না হয় (যেভাবে অতীতে সফল হয়নি) তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে।

নাসার কিন্তু আয়ের পথও আছে, নমুনা দেখুন
নাসার তিনটি নভোযান আর কখনো মহাকাশে যাবে না, পাঠাবে না কোনো সংকেত কিংবা বার্তা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে বয়ে নিয়ে যাবে না কোনো সরঞ্জাম। তারা নিশ্চল হয়ে থাকবে জাদুঘর বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তবে ইচ্ছা করলে কোনো ব্যক্তিও কিনতে পারবে এ নভোযানগুলো। এ জন্য তাকে গুনতে হবে চার কোটি ২০ লাখ ডলার।



মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা তাদের ব্যবহূত ওই তিনটি নভোযান বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। সেগুলো ৩০ বছর ধরে মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহূত হয়েছে। ২০১০ সালে এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আগ্রহী ক্রেতাদের এগুলো কেনার জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তিনটি নভোযানের জন্য যে দাম হাঁকা হয়েছে, সেই চার কোটি ২০ লাখ ডলারের মধ্যে ৬০ লাখ ডলার খরচ হবে কেবল এগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে।

তিনটি নভোযানের একটি এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের স্িনথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের জন্য বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। নাসা নির্মিত সবচেয়ে জটিল নভোযান এটি। রকেটের মতো করে মহাকাশে উড্ডয়নের পর এটি উড়োজাহাজের মতো করে পৃথিবীতে ফিরে আসত।

তথ্যসূত্রঃ
* গুগল
* হাঁসাড়া.কম
* বিনিময় হার - দৈনিক প্রথম আলো]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29041497 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29041497 2009-11-11 02:32:18
বাউন্ডুলে - ০১

মুক্ত হতে চেয়েছিলাম

অবশেষে মুক্তি পেলাম।
বাউল আমি ছন্নছাড়া
আমায় বেঁধে রাখবে বলে
কত আয়োজন, কত অজুহাত!
পারবে না ঠিক জানতাম,
এমন করে একটা সময়
তোমায় গুরু মানতাম।
ঢাল তলোয়ার, লাঠি
যুদ্ধ হবেই হবে বলেছিলে
পরক্ষণে বিদায় দিতে
লক্ষ্মী বধু সেজেছিলে।
পেরেছ কি?
পারবে না ঠিক জানতাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29041237 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29041237 2009-11-10 19:13:43
নীল কাব্য ০১

স্বপ্নের যুক্তিহীন বায়না

অনেকদূর যাওয়ার ছিল
অনেক স্বপ্নের বহর সাজানো ছিল,
স্বপ্নগুলোর অতিষ্ঠ করা বায়না ছিল।
আজ সব মিথ্যে তবে!

তোমাদের নজরকাড়া ভূবনের
অসহায় এক বাসিন্দা
স্বপ্ন বুনতে আসিনি;
স্বপ্নরাই বুনে যায় আমার হয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29041031 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29041031 2009-11-10 12:45:59
আপনার ব্লগের দাম কত?? (দেখুন কার ব্লগ বেশি দামী!!) সামু ব্লগে কার ব্লগ সবচেয়ে দামী পরীক্ষাটা হয়ে যাক!



নিচের লিংকে গিয়ে আপনার ব্লগ এড্রেস দিন। তারপর দেখুন আপনার ব্লগ এর মূল্য কত??

ব্লগ/সাইট মূল্য

আপনার ব্লগের ভিজিট এর পরিসংখ্যানে এটি একটি মূল্য দেখায়।

* দয়া করে মন্তব্য লিখুন আপনার ব্লগ কত যায়!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29040837 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29040837 2009-11-10 01:32:40
Internet download manager সফটওয়ারটির ফ্রি ডাউনলোড লিংক চাই!!! হেল্পান প্লিজ!!! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif" width="23" height="22" alt=":(" style="border:0;" />
নেটে খুঁজে কোথাও ডাউনলোডের ভাল লিংক পাইলাম না। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29040476 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29040476 2009-11-09 14:20:59
গ্রামের শৈশব : অভিজ্ঞতা ও গুরুত্ব
বয়স তখন সবে ৬/৭, গ্রামের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে মরতে বসেছিলাম। পরদিন এক জেঠাতো ভাই জোর করে ধরে সাঁতার শেখাতে নিয়ে গেলেন। আমিতো ভয়ে পরি মরি অবস্থা। এখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যখন বন্ধুদের দেখি সাঁতার শেখার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিং পুলে লাইন দিয়েছে, বুঝতে পারি আমার সাঁতার শেখাটা স্বার্থক হয়েছে।

সাইকেল শিখতে গেলে গ্রামই দরকার এটা ঠিক না। তবে অল্প বয়সে গ্রামের সেই দস্যিপনার মধ্য দিয়ে, বিকেলে আম্মুকে ফাঁকি দিয়ে সাইকেল চালানোর মধ্যে দিয়ে যে কী মজা পেতাম তা ভাষায় বুঝানো কঠিন। তাও নিজের সাইকেল না, টাকা জমিয়ে ঘন্টায় ১০ টাকা করে সাইকেল ভাড়া নিতাম।
আমার এক ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে যে কিনা আমারই বয়সী, তার সাথে একদিন তার নানু বাড়ি গিয়েছিলাম। ছোট একটা নদীর পার ধরে যেতে হয়। তার কথায় সায় দিয়ে সেদিন ওখানে এক দোকান থেকে সাইকেল ভাড়া করে নদীর পাড় ধরে সাইকেল চালিয়েছিলাম। ওই বয়সে কী করে যে একটা সদ্য সাইকেল শেখা ছেলে নদীর পাড় ধরে সাইকেল চালিয়েছি তা চিন্তা করলে এখন কলজে শুকিয়ে যায়।

গ্রামের আরেকটা জিনিস মজা লাগত সেটা হল মাছ ধরা। গ্রামের পুকুর থেকে পানি ফেলে অনেক মাছ পাওয়া যেত। এত এত ধরণের মাছ একসাথে এম্নিতে কখনও দেখা যায় না। তবে আমাদের গ্রামে দেখতাম লোকেরা নিজেরা মাছ ধরত না, পেশাদার জেলেরা বিরাট বিরাট জাল এনে পুকুরে ফেলত।

আমাদের বাড়িটার পাশেই একটা জঙ্গল টাইপ জায়গা ছিল। এখনও আছে। জায়গাটা গাছ-পালা লতা-পাতায় ভর্তি। প্রথম দিকে জঙ্গলে ঢুকার মত কোন পথ ছিল না। পরে পথ করে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে একটা সরু রাস্তা তৈরী করা হয়, যেটা কিনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সহজ রাস্তা হয়ে যায়। এই রাস্তায় সহজে আসা যাওয়া করার জন্য কত বার একা একা হেঁটেছি আর ঝোপ ঝাড়ের সামান্য নড়া চড়ায় কতইনা শিহরিত হয়েছি! সে অনুভুতি কি শহরে পাওয়া সম্ভব?

বড়দের কাছ থেকে অনেক গল্প শুনতাম সেই সময় যার বেশির ভাগই ছিল ভুতুড়ে। যেমন লাশ জিন্দা হয়েছে, জঙ্গলে কিছু একটা দেখা গেছে এই টাইপ গল্প। ঐ বয়সের একটা ছেলের এ ধরণের গল্প শুনলে অনুভুতি কি হয় বুঝতেই পারছেন। যে ছেলে সারাটা দিন দস্যিপনা করত সে ছেলেটাই রাতে একা একা এক রুম থেকে অন্য রুমে যেতে ভয় পেত।



আমাদের গ্রামে খেলার জন্য বাচ্চাদের একটা বিশেষ জায়গা ছিল। যা এখন পানিতে ভর্তি। বিশেষ জায়গা বলছি কারণ এটাকে আমরাই বিশেষ বানিয়ে নিয়েছি। ঐ জায়গায় একটা হিজল গাছ আছে যা কিনা কিছুটা বাঁকা। ঐ গাছের সাথে দড়ি টানিয়ে দোলনা বানিয়েছিলাম আমরা। তাই ঐ জায়গাটাতে বাচ্চারা জমে যেত। ওটা ছিল মূলত একটা কচুক্ষেত। শীতকালে কচু থাকত না, পুরা ক্ষেতটাই শুকনা থাকত বলে সমস্যা হত না। যখন কচু থাকত ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসার সময় কচুর গায়ে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠতাম। কারণ কচুর গা পেঁচিয়ে থাকত এক ধরণের সাপ। দেখতে হুবহু কচুর মতই রঙ।

৮/৯ বছর বয়সের কথা। বর্ষার দিনে ফসল কাটা ক্ষেতে কাদা জমে থাকত, ওরই মধ্যে ফুটবল নিয়ে নেমে যেতাম। ছুটির দিনে কখনও স্কুল ফাঁকি দিয়ে ওই কাদা পানিতে সকাল থেকে দুপুর অবদি ফুটবল খেলতাম। মাঝে মাঝে খেলার মধ্যেই টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ত। অসাধারণ অনুভুতি। জানি না হয়ত এখন ওভাবে খেললে অত দারুন অনুভুতি হবে না। দুপুরে কাদা শরীরে যখন ঘরে ফিরতাম আম্মু বকত। মজার ব্যাপার হল, শরীর ধুয়ে গোসল করে আসার পর মনে হত হাড়ির ভাত সব শেষ করতে পারব। এতটাই ক্ষিদে লেগে যেত।



আরও কত মজাই না করতাম শৈশবে। এই যে এত এত মজার অনুভুতি, এ সব কি এখনকার শহরে বেড়ে উঠা ছেলে মেয়েরা পাচ্ছে? তারা হয়ত বইয়ে পড়ছে। আর পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু অনুভুতিগুলো তো পাওয়া সম্ভব নয়।

আমার গ্রাম তোমাকে অনেক মিস্ করি! মানুষের জীবনের সুন্দর সময়গুলো এত তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায় কেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29040016 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29040016 2009-11-08 19:25:58
মজার কিছু ছবি : তাক লাগিয়ে দেবে!!!
দেখুনতো চেষ্টা করে... <img src=" style="border:0;" />


কোথায় বের করতে পারবেন??? :


দেখতে পাচ্ছেন কিছু????? <img src=" style="border:0;" />


এটা অনেকে আগেও দেখেছেন........ঠিক তো????]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29039052 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29039052 2009-11-07 02:40:15
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল পরিস্থিতি : সময়ের আহবান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এই প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হলের সংখ্যা ১৭ টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নেই ৩টি হল নির্মিত হয়। এ পর্যন্ত মোট হলের সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে ৪টি ছাত্রী হল এবং ১২টি ছাত্রদের হল এবং ১টি ইন্টারন্যাশনাল (বিদেশী শিক্ষাথীদের) হল।

হল প্রতিষ্ঠা (সংক্ষেপে):::
জগন্নাথ হল (১৯২১)
সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হল (১৯২১)
শহীদুল্লাহ্ হল (১৯২১)
ফজলুল হক মুসলিম হল (১৯৪০)
জহুরুল হক হল (১৯৫৭
রোকেয়া হল (১৯৬৩)
স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল (১৯৬৬)
সূর্যসেন হল (১৯৬৬)
হাজ্বী মোহাম্মদ মহসিন হল (১৯৬৭)
শামসুন্নাহার হল (১৯৭১)
কবি জসিমউদ্দিন হল (১৯৭৬)
স্যার এ. এফ. রহমান হল (১৯৭৭)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (১৯৮৮)
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল (১৯৮৮)
বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল (১৯৮৯)
বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল (১৯৮৯)
অমর একুশে হল (২০০১)

তথ্যচিত্র:::
# জগন্নাথ হল (১৯২১) শুধুমাত্র অমুসলিম ছাত্রদের হল। এ হলটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় হল।
# শহীদুল্লাহ হল (১৯২১), ফজলুল হক মুসলিম হল (১৯৪০) এবং অমর একুশে হল (২০০১) এ ৩টি হল বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রদের জন্য।
# রোকেয়া হল (১৯৬৩), শামসুন্নাহার হল (১৯৭১), বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল (১৯৮৯) এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল (১৯৮৯) হল ৪টি সকল অনুষদের ছাত্রীদের হল।
# স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল (১৯৬৬) শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশিদের হল।

প্রতি বছর ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকার বাসনা সবারই থাকে হলের মজার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আশায় এবং আবাসিক সংকট কাটানোর জন্য। কিন্তু একি! সব আশায় গুড়ে বালি। যারা হলে উঠে তাদের বেশিরভাগ ছাত্রই কিছুদিন পর হল ত্যাগ করে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে। তাছাড়া পড়ালেখার ভোগান্তি তো আছেই!

হলের রুমগুলোর মধ্যে ১০/১২ টি রুম থাকে রাজনৈতিক। ১ম/২য় বর্ষের ছাত্ররা বৈধভাবে হলে সিট পায় না। ৩য় বর্ষ থেকে হলে আবেদনের প্রেক্ষিতে সিট পাওয়া যায় যা অরাজনৈতিক। কিন্তু ১ম / ২য় বর্ষের কোন ছাত্র যদি হলে উঠে তাকে আশ্রয় নিতে হয় কোন দলের হয়ে। অর্থাৎ হলে সিট পাওয়ার বিনিময়ে সে ঐ দলের হয়ে কাজ করবে। এভাবে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দল বড় করে আর কমিটিতে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেয়।

নোংরা রাজনীতি:::
পূর্বকথাঃ দেশের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ। রাজনীতি প্রত্যেকটা দেশের প্রধান ইস্যু। সুস্থ রাজনীতি যে কোন দেশের জন্যই মঙ্গলজনক। দেশের নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় রাজনীতির অন্তরালে।

নোংরা রাজনীতিঃ রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর ব্যক্তিবর্গ যখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করে। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে অন্যের ক্ষতি করতে কুন্ঠাবোধ করে না তখন রাজনীতি নোংরামীতে রূপ নেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল পরিস্থিতিঃ
এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।
হল দখলঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো এমনিতেই ছাত্রসংখ্যার তুলনায় অনেক ছোট। প্রতি বছর ভর্তি হওয়া প্রায় ৫,০০০ শিক্ষার্থীকে আবাস সুবিধা দেওয়ার মত ক্ষমতা হলগুলোর নেই। এর মধ্যে নতুন ছাত্রদের হলে সিট দেওয়ার বদৌলতে চলে হলের রমরমা রাজনীতি।
প্রত্যেকটি হলে ২/৩ টি করে রাজনৈতিক দল থাকে। যারা সরকার দলীয় হয়ে থাকে। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এ সকল দলও পরিবর্তিত হয়। তখন সরকার দলীয়রা হলগুলো দখল করে নির্দ্বিধায়। যেমন, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০০৮ হল থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরদের তাড়িয়ে হল দখল করে ছাত্রলীগ। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরও ৭ বছর আগে এভাবে হল দখল করে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করে।

কী চলে হলগুলোতে???
প্রতিবছর হল কমিটি গঠণ করা হয় সরকার দলীয়দের মধ্য থেকে। প্রতিটি হল থেকে একজন সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি হলের ২/৩টি দলের মধ্যে যে কোন একটি দল থেকে সভাপতি এবং অন্য একটি দল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।
হল কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্যে হলের এসব দল তাদের দল বড় করার চেষ্টার প্রেক্ষিতে অনেক কর্মকান্ড করে থাকে।

শো ডাউনঃ দল নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে ক্যাম্পাসে ঘুড়াঘুড়ি, মৌন মিছিল করা যাতে অন্যান্য দল ও কেন্দ্রীয় ব্যক্তিবর্গ দেখতে পায় দল কতটা বড়সড়।

গেস্টরুমঃ হলের গেস্টরুমগুলোতে সবাইকে হাজিরা দিতে হয় সপ্তাহে ৩/৬ দিন। হলভেদে বেশি বা কম হয়ে থাকে। এই সময় নেতা পা তুলে গেস্টরুমের সোফায় বসে থাকেন আর সবাই হাত মিলিয়ে কুশল জিজ্ঞাসা করেন। তারপর নেতা সবার কুশল জিজ্ঞাসা করেন, সবাই উপস্থিত আছে কিনা পরখ করে দেখেন। মাঝে মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা(?)ও চলে গান কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে।

র‌্যাগিং: ১ম বর্ষের ছাত্রদের উপর সিনিয়রদের র‌্যাগিং চলে নিয়মিত। কোন কারণে যদি সালাম না দেয় তবে চড়, থাবর আর বিভিন্ন রকমারী শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

মিছিলঃ বিভিন্ন কারণে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য মিছিলে অংশ নিতে হলের ছাত্ররা বাধ্য।

এসব মিছিলে বাধ্য হয়ে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্ররা পরীক্ষা, সেমিনার, প্রেজেন্টেশন সহ অনেক একাডেমিক বিষয়ে অংশ নিতে পারে না। ক্লাশের কথা দূরে থাক!

সারকথাঃ
সরকারের কাছে জানতে চাই। এসব নোংরা রাজনীতির মাধ্যমে দেশে অযোগ্য নেতা তুলে আনা কি এতটাই জরুরী যে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীগুলোর পড়ালেখা বাদ দিতে হবে???]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29038680 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29038680 2009-11-06 13:47:32
একগুচ্ছ প্রেমফুল আর তুই!!! নতুন করে পেয়েছি তোমাকে
আবার পেয়েছি,
আপন করে নেয়ার সময় এসেছে আজ।
রাতের মত অন্ধকার নিস্তব্ধ তোমার ছায়া
আগলে রেখেছি এতদিন,
তোমার চঞ্চলতা বুঝিনি।


একটা সময় বলতিরে তুই
আমায় ছাড়া চলবে না,
ভালবাসি এই কথাটা
দ্বিতীয়বার বলবি না।


একটা বকুল ফুলের মালা
এক জোড়া দুল
মালাটা শুকিয়ে গেছে,
একটা দুল হারিয়ে ফেলেছি অগোচরে।
কিন্তু তোর শোক এখনও আগলে রেখেছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29038414 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29038414 2009-11-06 00:06:38
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ!!!! দ্বিতীয় বার পরীক্ষার সুযোগ!!!

গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইউনিটে গড়ে ২৫,০০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল। এবার তার সংখ্যা কিছুটা কমে যেতে পারে ভূয়া ফরম বিক্রি ও কয়েকটি ইউনিটে ভর্তির শর্ত কড়াকড়ি করার কারণে।

যাইহোক, আমার নিজস্ব মত হবে যদি এই ভর্তি প্রক্রিয়াটাকে আরো অনেক সহজ করতে হয়, তবে কর্তৃপক্ষের উচিত হবে দ্বিতীয় বার পরীক্ষার সুযোগ না রাখা। যেটা দেখা যায়, গত বার সর্বসাকুল্যে অর্ধেকের ও বেশি দ্বিতীয় বার পরীক্ষা দিয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এতে যেমনি করে প্রথম বার পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি ভর্তি প্রক্রিয়াটাও জটিল হচ্ছে। বুয়েটের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ তুলে দিতে কর্তৃপক্ষের সমস্যা কোথায়?????]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29038349 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29038349 2009-11-05 22:32:53
আজও বাংলাদেশ জিতবে!!!
আজ জিতলে বাংলাদেশ ২-১ এ সিরিজে এগিয়ে যাবে।

সাবাস বাংলাদেশ!!!! <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29035415 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29035415 2009-10-31 20:28:58
সাকিব, রাজ্জাক ও বাংলাদেশ :: সাবাশ বাংলাদেশ
রাজ্জাকের ৫ উইকেট, সাকিবের ৬৮ বলের ঝড়ুয়া সেঞ্ঝুরীর বদৌলতে ৭ উইকেটে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ই প্রমাণ করে, আমরাও পারি।

সাবাস বাংলাদেশ। জেগে উঠ বার বার!!!!!!!!!!! <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29034262 http://www.somewhereinblog.net/blog/jslovelu/29034262 2009-10-29 21:46:49