বিভিন্ন কারনে মাথায় সব আজগুবি চিন্তা ভর করছে। কি করব, কিভাবে কি করব ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা।
গতকাল বনানীর এক ইউনিভার্সিটির সামনে একজন ভেলপুরি বিক্রেতাকে প্রশ্ন করলাম তার মাসিক আয় কত? উত্তর ৭০০০/=। বিশ্বাস হতে চাইল না। আরো বলল, এটা নাকি তার ব্যবসা না, এক চটপটিওয়ালার ব্যবসা যে তাকে মাসিক সাত হাজার টাকা বেতন দেয়। তার মানে লাভ আরো বেশি! খারাপ না, চিন্তা করছি আগামীকাল থেকেই বসে যাব কি-না!
এরপর মনে হল খুব কাছ থেকে দেখা পরিচিত এক মানুষের কথা। সতলোকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। প্রথম দিকে তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু পরে গত সরকারের সময় সে শিবিরে যোগ দেয়।একমাসের মাঝে তার হাতে নতুন মোবাইল, আরো জানতে পারলাম-মাসিক ৬০০০ টাকা করে পান, সাথে রয়েছে মোবাইল খরচ এবং অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ২০০০ টাকা।তাছাড়া চাকরী'র নিশ্চয়তা সহ আরো সুবিধা তো রয়েছেই। শুনলাম দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই এই অবস্থা। কিছু জায়গায় যেখানে দাপট বেশি, সেখানে স্যালারীও (!) আরো বেশি।
কোথা থেকে আসে এত টাকা?
সরকারী ফান্ডের টাকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে ওরা আস্তে আস্তে।
সারাদেশে গত সরকারের সময় জামাত তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। সরকারের যে মন্ত্রণালয় দুটির কাজ একদম গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকাতেও আছে সেগুলো হল - শিক্ষা আর কৃষি। শিক্ষার কারবার নিয়ে আরেকদিন বলব।
প্রথমে কৃষি'র মন্ত্রণালয় নিয়ে বলি। নিজামী মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এর সমস্ত জায়গায় জামাতকরণ করে গেছে। খামারবাড়ীর এমন কোন পোস্ট নেই যেখানে সে জামাত বসায়নি। এমনকি কৃষি অধিদপ্তরের ডিজি পদে যখন এক নন-জামাতিকে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করা হল, তখন সে তাকে সহ লিস্টের আরও ৩ জনকে বাদ দিয়ে জামাতীকে নিয়োগ দিল। কৃষি'র সব জায়গায় জামাতকরণ শেষ করার পর সে শিল্পতে গেল।
নিজামীর মন্ত্রণালয় যখন পরিবর্তন করা হয়, তখন তার সাথে আরো অনেক দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীর মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু নিজামী নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলে তার মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে। কারন? কারন কৃষিতে সে তার পছন্দের লোক বসিয়ে গিয়েছিল।
কোথায় নেই এদের নেটওয়ার্ক। একটি উদাহরণ দেই। পূর্বের প্রায় প্রতিটি তত্তাবধায়ক সরকারের ভিতর অন্য ধর্মের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এবার না থাকলেও জামাতের প্রতিনিধি রয়েছে কয়েকজন।
গত সরকার নামেই ছিল বিএনপি,কাজে আসলে জামাত - কথাটি সবাই জানলেও এর ব্যাপকতা জানেন না অনেকেই। কিন্তু আমি জানি, জানি অনেক কিছুই যা শেয়ার করব আপনাদের সাথে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জামাতের নেটওয়ার্ক নিয়ে আরো জানা-অজানা কিছু তথ্য নিয়ে লিখব সামনে। অতটা গোছালো লেখা হবে না বলে এবং আগেই ক্ষমা চাইছি।
তবে লিখব না, যদি পেইড ব্লগাররা আমাকে একটু সাহায্য করেন।আমাকে জানান- কিভাবে পেইড ব্লগার হতে হয়। কারন চিন্তা করে দেখলাম, ভেলপুরী ব্যবসা'র চেয়ে লিখে টাকা পাওয়া অনেক সোজা। সারাদিন বসে বসে শুধু লিখব, আর টাকা আসবে। আমারে আর পায় কে? টাকার দরকার খুব বেশি ভাই জীবনে, আদর্শ দিয়ে কি হয় কন? এই যে আপনারা এত গালি খেয়েও টাকার জন্য কি না করছেন, এসি রুমে বসে লিখছেন,খাচ্ছেন,টাকা পাচ্ছেন। তার বিনিময়ে ভার্চুয়াল কিছু গালি খেলে সমস্যা কি? ভাই আমি রিয়েলি হইতে চাইতেছি। বিশ্বাস করেন।
ও ভাই পেইড ব্লগাররা করেন না একটু সাহায্য?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


