somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধুনিশা-১৫

১০ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মামুন ঘরে ঢুকেই কিমিকে বললো, 'তোমার দিদাকে বল আমার কথা!'

'দিদার শরীর ভালো না! তুমি দিদার ঘরে এসো!'

মিজানের মা শুয়েছিলেন। মামুনকে দেখতে পেয়ে শঙ্কিত কন্ঠে বললেন, 'বাবা, কি খবর?'

'একটা খবর পাওয়া গেছে!'

'কি খবর?' বলেই তিনি শোয়া থেকে উঠে বিছানা থেকে নেমে মামুনের পাশে চলে এলেন।

হঠাৎ প্রাণ ফিরে পেলে মানুষ যেমন উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে, কোনো দুর্বলতার লক্ষণ চোখে পড়ে না, তেমনি তিনি মামুনের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

'এমনও তো হতে পারে মিজান ইন্ডিয়াতে আছে। যাওয়ার সময় কোনো কারণে খবর দিতে পারেনি বা সমস্যা হবে ভেবে জানায়নি!'

'কি করে বললি বাপ? আমার মাথায় তো এমন একটা ভাবনা এলো না!'

'ওর কি পাসপোর্ট ছিলো?'

'হ্যাঁ! পিকাডেলি যাওয়ার সময় বানিয়েছিলো!'

'ওটা কি ঘরে আছে?'

'দেখছি!' বলে তিনি ঘরের স্টিলের আলমারিটা খুললেন। কিছুক্ষণ এটা ওটা নেড়েচেড়ে বললেন, 'না নেই!'

'চেকবই?'

তিনি আবার মাথা ঢোকালেন আলমারিতে। 'না নেই!' বলে কেমন ভাবে যেন তাকিয়ে রইলেন মামুনের দিকে।

মামুনের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। 'তাহলে ছেলেটা মিজানই!'

তিনি ছুটে এসে মামুনের কাঁধ ধরে ঝাঁকি দিয়ে বললেন, 'খুলে বল! কিছুই গোপন করবি না!'

নাতাশার কাছ থেকে আর আবিদ মামার কাছ থেকে যা যা শুনেছে সবই বললো মামুন।

তারপর বললো, 'বিকেল চারটার দিকে নাতাশা পিজির গেটে থাকবে। বাকিটা তার কাছ থেকে জানতে পারবো! তার সঙ্গে দেখা করে সন্ধ্যার দিকে আবার আসবো!'

'না! আমি তোর সঙ্গে যাবো! আমাকেও নিয়ে চল!'

মামুন কি করবে ভেবে পায় না। কিন্তু তাও ভাববার সুযোগ সে পায় না। তিনি তাঁর পার্সটা হাতে নিয়ে বললেন, 'চল এখনই!'

ওরা চারটার দিকে পিজির গেটে এসে দাঁড়াতেই দেখতে পেলো হাসপাতালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে নাতাশা। গেটে দাঁড়ানো মিজানকে দেখতে পেতেই তার মুখটা অনাবিল হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো।

মামুন বললো, 'এই মেয়েটাই নাতাশা!'

মামুনকে কথা বলতে দেখেই বুদ্ধিমতী নাতাশা বুঝে ফেললো যে, সঙ্গের এই ভদ্রমহিলাই মিজানের মা। চোহারাও ঠিক মিজানের মতই মনে হচ্ছে তার কাছে। সামনে এসে সালাম দিয়ে বললো, 'ভালো আছেন খালাম্মা?'

তিনি নাতাশাকে প্রায় জড়িয়ে ধরে বললেন, 'কি খবর মা?'

হাসিতে সারামুখ আলো করে সে বললো, 'ভালো!'

যেন হাসির আলোয় মিজানের মায়ের মনের ভেতরকার কষ্টের অন্ধকারকে নিমেষেই দূর করে দিতে চায়। 'কলকাতা ইন্দিরা হাসপাতালে আছে! এই যে হাসপাতালের নাম্বার, মিজানের পাসপোর্ট নাম্বার!' বলে একটা কাগজ মেলে ধরলো সে।

তারপর আবার বললো, 'বাবা কথা বলেছেন। সন্ধে সাতটার দিকে মিজান বাশার স্যারের কাছে আসবে। তখন কথা বলা যাবে!'

রাস্তার উপরই মিজানের মা নাতাশার কপালে চুমু খেলেন। আর আকস্মিক লজ্জায় তার মুখটা কেমন গোলাপী আভায় ছেয়ে গেলো।

তিনি বললেন, 'মারে, কত্ত যে খুশি হয়েছি বোঝাতে পারবো না!'

'আমরা তো একজন মায়ের খুশিই দেখতে চেয়েছি!' নাতাশা তেমন ভাবেই বললো।

তিনি নাতাশার মুখটা তুলে ধরে বললেন, 'আল্লা যেন তোমাদের আজীবন খুশি রাখেন!'

তারপর মামুনকে বললেন, 'আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আয়!'

তারপর নাতাশার দিকে ফিরে বললেন, 'তুমিও চলো!'

'আজ না খালাম্মা! আম্মার শরীরটা ভালো না! আমি না থাকলে তাঁর খাওয়া হবে না!'

'তাহলে বলো, কবে যাবে?'

'যাবো!'

মামুনকে বললেন, 'কবে নিয়ে আসবি?'

'না খালাম্মা, ও আমাকে নিতে হবে না! আমিই সপ্তাহখানেকের ভেতর যাবো!'

'মনে থাকে যেন!'

'থাকবে!' বলে আবার সেই মধুর হাসিটি ছড়ালো নাতাশা।

তারপর একটা রিকশায় চড়ে বললো, 'যাই খালাম্ম! স্লামালেকুম!'

তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন নাতাশার চলে যাওয়ার দিকে। বললেন, 'মামুন, আমার তো এমন একটা মেয়ে থাকতে পারতো! পারতো না? কিন্তু আল্লা তো দিলেন না!'

তারপর একটি দীর্ঘশ্বাস চেপে চোখ মুছলেন।

(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×