মধুনিশা-১৭

১২ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

ছবি নিয়ে ঘরে ফিরে এলেও মিতার মনের অস্থিরতা কমে না। কবিতাটা ঘিরে মনের ভেতর একটি অশুভ ভাবনা জট পাকাতে আরম্ভ করলো। জীবনের প্রথম লেখাটাই যদি অন্যের নামে ছাপা হয়ে যায় তো এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কি হতে পারে? শেষটায় পাশের বাড়ি থেকে দি বাংলাদেশ গেজেট অফিসে ফোন করে সে।

মাসুদকে অফিসেই পাওয়া গেলো। মিতা কিছু বলার আগেই মাসুদ জানতে চাইলো, 'কে বলছেন?'

'আমি মিতা। রুমির বোন!'

'কবিতাটা দেখেছেন?'

'নামটা ভুল ছাপা হয়েছে!'

'ভুল নয় তো! আরো সুন্দর করে দিলাম!' বলে হাসলো সে।

তারপর আবার বললো, 'যেগুলো মার্ক করে দিয়েছি, সেগুলো সুন্দর করে কাগজের এক পৃষ্ঠায় কপি করে দিয়ে যাবেন! এখন রাখি! অন্য সময় কথা বলবো!'

মিতা কিছুই বলতে পারে না। হঠাৎ একরাশ লজ্জা এসে তার কন্ঠ চেপে ধরেছে যেন। আর কেমন আড়ষ্টের মত রিসিভার রেখে দিয়ে অনেকটা পালিয়েই আসে। ঘরে এসে ভেতরে ভেতরে কেমন কুঁকড়ে গিয়ে ভাবলো, ব্যাপারটা মোটেও ঠিক হয়নি। এমন সাধারণ একটা ব্যাপার কেন জিজ্ঞেস করতে গেলো? মাসুদ নিশ্চয়ই এখন তাকে হ্যাংলা আর বেহায়া ভাবতে শুরু করেছে। হয়তো ভেবেছে যে, তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার একটা অজুহাত বের করে নিয়েছে! ছি ছি! মিঠুকে যদি কথাগুলো বলে দেয়?

পরদিন মিঠুর সামনে সহজ হতে পারবে না ভেবে কলেজেই গেলো না সে। কেমন একটা আড়ষ্টতা তাকে গৃহবন্দী করে রাখে। মিঠু এলে তাকে বলে দিলো যে, শরীর ভালো না। মিঠু দ্বিরুক্তি না করেই ফিরে গিয়েছিলো।

একাএকা কলেজে যেতে এখন ভালো লাগে না মিঠুর। অফ পিরিয়ডে মিতার কাছাকাছি না থাকলে নিজকে কেমন যেন অসহায় আর দুর্বল মনে হয়। তাই সে আজ তেমন সহজ হতে পারলো না।

ছুটির সময় লিজা তাকে ডেকে বললো, 'মিঠু, দাঁড়া!'

লিজা কাছে এসে চোখ নাচিয়ে বললো, 'চিঠি নিবি?'

মিঠুও তেমনি চোখ নাচিয়ে বললো, 'কার?'

'কার আবার? যে পাগলটা তোকে ভালোবাসে!'

অন্যান্য দিনগুলোর মত বিরক্ত হয় না মিঠু। চিঠিটা হাতে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়েও ফেলে না। এমনকি পড়েও না। বলে, 'ও আসলে পাগল না, আস্ত একটা ছাগল!'

'ছাগল না বলে সাধক বলতে পারিস! যেভাবে লেগে আছে! তোকে জয় করতে পারলে ওরও সিদ্ধি লাভ হয়!'

কথা শুনে হেসে ফেললো মিঠু।

লিজা বললো, 'ওই দেখ, তোর ছাগলটা এদিকেই তাকিয়ে আছে!'

মিঠু সেদিকে আড় চোখে একবার তাকালো। তারপর চিঠিটা উঁচু করে ধরে একটানে ছিঁড়ে ফেললো। ছিঁড়ে আরো কুটি কুটি করে বাতাসে ছড়িয়ে দিলো।

'আজও ছিড়ে ফেললি?'

লিজার কন্ঠে আশাহতের সুর বাজে।

'ও আগে যোগ্য হয়ে উঠুক! মুখে মনের কথা জানাতে শিখুক! তারপর ভেবে দেখবো!'

মিঠুর ধারণা, ছেলেটি লিজার ভাই! কোনো কারণে ব্যাপারটা সে গোপন করছে। না হলে নিজে কারো সঙ্গে প্রেম করে না অথচ অন্যের চিঠি দু’দিন পরপর কেন নিয়ে আসবে?

'আসলে কি বলতে চাচ্ছিস বুঝতে পারছি না!'

'তোর বুঝে কাজ নেই! ছেলেরা হবে পুরুষের মতই। সাহসী আর মার্জিত! মেয়েদের মত পুতুপুতু কেন?'

'তাহলে আমি কি বলে দেবো যে, তুইও কিছুটা ভালোবাসিস?'

'তোর চালাকির দরকার নেই! আমারটা আমাকেই দেখতে দে!'

রিকশায় উঠবার সময় আবার আড় চোখে তাকালে মিঠু দেখতে পায় ছেলেটি কেমন ক্যাবলার মত তার দিকে তাকিয়ে আছে।

(চলবে...)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাহিত্যউপন্যাস ;

 

  • ০ টি মন্তব্য
  • ৭৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

 

 


আমি জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধের উত্তাপে ভালোবাসতে শিখেছি দেশকে। দেশের মানুষকে। তাই রাজাকারদের ঘৃণা করতে শিখেছি শৈশব থেকেই।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৮০৯৬