মধুনিশা-১৮
১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:০৬
মামুন যখন ফৌজিয়াদের বাড়িতে পৌঁছুলো তখন সে ঘুমোচ্ছিলো। খবর পেয়ে ঘুম থেকে উঠে আসার কারণে তার চোখ দু’টো কেমন ফোলা আর মাথার চুলও অবিন্যাস্ত দেখাচ্ছিলো। দেখতেও কেমন যেন সুস্থ মনে হচ্ছিলো না। মামুনের খারাপ লাগলো। কন্ঠে যথাসম্ভব আন্তরিকতা ঢেলে দিয়ে সে বললো, 'অসময়ে ডিস্টার্ব করলাম! সরি!'
'কোনো খবর পেয়েছো?' বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো ফৌজিয়া।
'পেয়েছি!' বলে হাসলো মামুন। 'এখন সব খবরই আমার ঝুলিতে!'
ফৌজিয়াকে বিস্মিত দেখালো কিছুটা। মিজান নিখোঁজ হওয়ার খবর জানার পর এ পর্যন্ত তার মুখে হাসি দেখেনি সে। তাই মনে মনে যেন অন্ধকারের ভেতর কিছুটা হলেও আশার বিজলি চমকাতে দেখলো।
'কোনটা বলবো, তোমরা গোপনে যেটা করলে সেটা? নাকি কিছু না জেনেই নিজকে বলির পাঁঠা বানালাম সেটা?'
'আগে বল মিজান কোথায় আছে?'
'যেখানেই থাকুক, ভালো আছে! আজ রাত সাড়ে ন’টায় তোমাকে ফোন করবে জানিয়েছে! তখনই না হয়...'
কথা শেষ না করে আবার হাসলো মিজান।
'সত্যি বলছো?'
ফৌজিয়াকে কেমন বিভ্রান্ত দেখায়।
'সত্যি!'
'তিন সত্যি কর!'
'তিন সত্যি নয়, হাজার সত্যি বলছি!'
'ওফ! কী ভয়টাই না পেয়েছিলাম!' বলে, হাত-পা ছেড়ে দেয়ার মত সোফায় এলিয়ে পড়লো ফৌজিয়া।
'কেন? বিধবা হওয়ার ভয়, নাকি কুমারী মায়ের কলঙ্ক জুটবে সেই ভয়?'
'বালাই ষাট!' বলেই সাবধান হয়ে গেল ফৌজিয়া। মুখ বিকৃত করে আবার বললো, 'অন্ধকারের ঢিল সব সময় জায়গা মত লাগে না!'
'দিনের আলোতে ঢিল! তাও আবার ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে!'
ফৌজিয়ার মুখ আরক্ত হয়ে উঠলো। 'কে বললো?'
'কথা গোপন থাকে নাকি? অঙ্কুরের বয়স দু'মাস! তাও জানি!'
এবার ফৌজিয়ার মুখটা হয় দেখার মত। সরাসরি তাকাতে পারে না মামুনের দিকে। মুখে যেন কেউ টেপ মেরে দিয়েছে।
নড়ে চড়ে বসে মামুন আবার বললো, 'লজ্জার কিছু নেই! তবে আমাকে না জানিয়ে তোমরা পাপ করেছো! তাই হয়তো বিধাতা কিছুটা মানসিক শাস্তি দিলেন! পরের বারের জন্য হয়তো আরো বড় কোনো শাস্তি অপেক্ষা করছে!'
ফৌজিয়া সঙ্গে সঙ্গেই মাথা তুলে বললো, 'প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজি আছি!'
'আগে চায়ের ব্যবস্থা কর, পথ বাতলে দিচ্ছি! কিন্তু বিনা দোষে আমাকে কেন বলি হতে হলো?'
'তোমার বন্ধুর দোষ!' বলে হেসে উঠলো ফৌজিয়া। 'চিঠিগুলো ওই লিখেছে। আমার ভূমিকা ছিলো পিওনের!'
'ঠিক আছে! ক্ষমা করে দিলাম! তবে কাজটা কিন্তু শাপে বর হয়েছে!'
'কেন? আমরা ঢাকাবাসীর র্যালিতে ওকে দেখে মোহিনী বলেছিলে না? তাই না আমরা সাহস পেয়ে কাজে নেমে পড়লাম! তবে আগে নাতাশার মতটাও জেনে নিয়েছিলাম! মেয়েটা কিন্তু সত্যি ভালো!'
'ভালো খারাপের কথা বলছি না, আসলে আরো আগেই ওর প্রেমে পড়া উচিত ছিলো!'
ফৌজিয়া ভ্রু নাচিয়ে বললো, 'খাঁটি প্রেমিকের কথাই!'
'মজার কথা কি জানো?'
ফৌজিয়া তার কৌতুহলী চোখ বিছিয়ে দেয় মামুনের মুখের উপর।
'আমরা প্রায়ই অজ্ঞাত কুচক্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছি! তাদের জন্য মঙ্গল কামনা করেছি!'
'বিধাতা কবুলও করেছেন!'
নিজের মাথার এলোচুলে একহাত ডুবিয়ে দিয়ে বলে ফৌজিয়া।
'বিধাতা খারাপ কিছুটাও হয়তো রেখেছেন!'
'এমন কথা মনে হলো কেন তোমার?'
'মিজানের মা তোমাকে এক্ষুনিধরে নিয়ে যেতে বলেছেন!'
হঠাৎ ফ্যাকাসে মুখে ফৌজিয়া বললো, 'কেন?'
তার মধ্যে কিছুটা ভয় ফুটে উঠলো যেন। 'আমার কথা জানলেন কিভাবে?'
'অনুমান করে নিয়েছেন। কারণ যে মেয়ে মিজানের জন্য এতটা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে, তাদের মাঝে কোনো একটা জটিল ব্যাপার না থেকে পারে না! আমার মনে হয় তোমাকে ইন্টারোগেট করে সেটাই আবিষ্কার করতে চান!'
মামুনের মনে হলো ফৌজিয়ার ভেতরে ভেতরে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছে এবং ধীরে ধীরে বাড়ছে সেটা।
(চলবে...)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাহিত্য, উপন্যাস ;
চাঙ্কু বলেছেন:
ভাল লাগচে । চলুক


















