somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আপনার ব্রাউজারে কি বাংলা ফন্ট দেখতে পাচ্ছেন?
ইন্টারনেটের সুবিধার কারণে আমাদের লেখালেখি বিষয়ক কৌতুহল ইদানিং দারুণ ভাবে উৎসাহিত। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ওয়েব সাইটও তাদের প্রচারার্থে আমাদের সুযোগ করে দিচ্ছে ফ্রি ব্লগরোল বানানোর। আমরা তাই অনেকেই মহা উৎসাহে নিজেদের সৃষ্টিকর্ম সেই ব্লগরোলে ঢেলে দিয়ে পরিতৃপ্তির মুচকি হাসিতে আত্মপ্রসাদ লাভ করি। কিন্তু অনেকও আবার সেই ব্লগ সাইট বা ব্লগরোলটি নিজের কম্পিউটারে খুলে একটি লাইনও পড়তে পারছেন না। তখন পড়তে হয় নতুন সমস্যায়। বিশেষ করে ভারতীয় ওয়েব সাইটের যারা বাংলা ফন্ট ব্যবহার করেন, তারা কখনো ইউনিকোড সাপোর্ট করে এমন ফন্ট ব্যবহার না করে কোন বিশেষ ফন্ট ব্যবহার করেন আমরা অনেকেই তা জানি না। যে কারণে সেসব ওয়েব সাইটে বা ব্লগে কী লেখা আছে তা পড়তে কিংবা বুঝতে পারি না। যদিও অনেক অ্যাডভান্স ইউজার তা জানেন কিন্তু অতি উৎসাহীদের অনেকেই তা জানেন না। কোনো কোনো সাইটের বাংলা লেখা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্রাউজার সাপোর্ট করে। কোনোটা আবার মজিলা ফায়ারফক্স সাপোর্ট করে। এত ঝামেলায় না গিয়ে তারা Click This Link এখান থেকে ফন্টের কিছু সুবিধা পেতে পারেন। অথবা তাদের কম্পিউটারে একুশে ফন্টপ্যাক ইস্টল করে নিতে পারেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28854725 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28854725 2008-10-14 22:48:27
তসলিমা নাসরীন কী এমন অপরাধী? : কয়েকটি জিজ্ঞাসা আমাদের দেশের মেয়ে প্রাণ নিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের দেশের মেয়ে জন্মভূমি ছেড়ে বাধ্য হচ্ছে পরাশ্রয়ে থাকতে। ঘুরতে হচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। অথচ তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বাংলাদেশে এমন কোনো অপরাধ নেই যে সংঘটিত হয় না। এবং সেই অপরাধগুলোর কিছু কিছু জনসমক্ষে উম্মোচিত হয়। কখনো বা আড়ালেই থাকে অনেক অপরাধ। কিন্তু বিগত সময়ে ধর্মীয় উসকানীমূলক লেখা লেখার অপরাধে তসলিমার বিরুদ্ধে আমাদের ধর্মীয় পুরোহিতরা যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছিলেন, তারউপর কতিপয় হুজুগে বাঙালী তাঁর শিরোচ্ছেদ করার বাসনায় যে ভাবে তৎপর হয়ে উঠেছিলো তা কি শুধুই ধর্ম অবমাননার জন্য? নাকি এর পেছনে ছিলো আরো কিছু স্বার্থান্বেষীর ইন্ধন?

স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশে ১৯৭১এর যুদ্ধাপরাধীরা যেভাবে আস্ফালন করে বেড়াচ্ছে তাদের অপরাধের চাইতে নিশ্চয়ই তসলিমার অপরাধ নিকৃষ্টতম নয়। নিকৃষ্টতম নয়- বাংলাদেশে যারা সন্ত্রাসকে লালন-পালন-প্রশ্রয় যোগান দেওয়ার মত গর্হিত অপরাধ করে চলেছে।

তসলিমা নাসরিনের অপরাধ কি মুক্তিযোদ্ধা আলি আমানকে পদাঘাতের চাইতেও বড়?

মাত্র দু’লাইন কথা লেখার জন্য তাঁকে যেভাবে প্রবাসে প্রবাসে দিন কাটাতে হচ্ছে, তার চেয়ে আরও জঘন্য অপরাধ করেও বাংলাদেশে মানুষ বাস করছে। তাহলে তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সরকারের বাধা কোথায়? একদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আরেক দেশে গিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে, এতে কি বাংলাদেশ সরকার তথা জনগণের ভাবমূর্তি দিনদিন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে?

বাংলাদেশ সরকার যদি বাকস্বাধীনতা আমাদের দিতে না চান, তাহলে আমাদেরও বোধ করি গণতন্ত্র চর্চা ভুলে যাওয়া উচিত। আর গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বাক-স্বাধীনতা। একজন লেখক যদি তাঁর বক্তব্য কারো সম্মুখে তুলে ধরতেই না পারেন, তাহলে মুক্তবুদ্ধির চর্চা কী ভাবে সম্ভব? আর মুক্তবুদ্ধির চর্চা যদি ক্রমাগত বাধাগ্রস্থ হতে থাকে তাহলে দিনদিন মানুষ সেই অন্ধকার যুগেই ক্রমশ পশ্চাদ্ধাবিত হতে বাধ্য হবে না?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28853980 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28853980 2008-10-12 23:36:31
দুর্বিনীত প্রতিবেশ: সম্পূর্ন উপন্যাস এখানে ক্লিক করুন।
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28850757 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28850757 2008-10-04 01:55:15
দুর্বিনীত প্রতিবেশ - ১
রাতের নৈঃশব্দ ভেঙে একটি প্যাঁচা অকস্মাৎ চেঁচিয়ে উঠে ভয়ার্ত স্বরে।আর তখনই কাঁচা ঘুমটা ভেঙে যায় সফুর। তার একটু পরই কারো প্রায় নিঃশব্দে হেঁটে যাওয়ার মত আরেকটি অস্পষ্ট শব্দ টের পায় সে। ঘরের ফাঁক-ফোকর দিয়ে হয়তো চোখ রেখে ভেতরে দেখবার চেষ্টা করছে কেউ। আর সে সময় অযাচিত ভাবেই টিনের গায়ে টিকটিকি বা আরশোলা হেঁটে যাওয়ার মত আঙ্গুলের ঘষ্টানির শব্দ হয়।
মাথার কাছে রাখা হ্যারিকেনের সলতেটা একটু বাড়িয়ে দিয়ে সে মাথা তুলে বলে, ‘ক্যাডা? ক্যাডা ওইহানে?’ সঙ্গে সঙ্গেই একটি ত্রস্ত-ব্যস্ত ধুপ-ধাপ শব্দ উঠে মিলিয়ে গেল। তারপরই কেমন সুনসান নিরবতায় আবার ছেয়ে যায় চারদিক। বুকের কাছে ঘুমন্ত চার বছরের মেয়ে পাতা নড়ে-চড়ে উঠে পাশ ফিরে শোয়। বড় মেয়ে দশ বছরের লতা ঘুম থেকে জেগে উঠে চোখ ডলতে ডলতে বলল, ‘কি হইছে মা?’

সফু ঝামটা মেরে বলল, ‘কিছু না। ঘুমা!’

লতা আবার শুয়ে পড়ে এবং সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ে হয়তো।

সফু হ্যারিকেনের সলতে নামিয়ে আলোর তেজ কমিয়ে দিলে ঘরটা আবার প্রায়ান্ধকারে ছেয়ে যায়। সে ঘুমুতে পারে না। অন্ধকারে চোখ খুলে রাখে। তার স্বামী দাউদ আলি চট্টগ্রামের কোনো একটা জাহাজ ভাঙার ওয়ার্কসপে কাজ করছে দু’বছর হয়ে হয়ে গেল। মাসে দু’মাসে তিন-চারদিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি আসে। বেকার থাকা অবস্থায় যা ধার-দেনা হয়েছিল, তা অল্প অল্প করে শোধ করে শনের কুটির বদলে দো-চালা টিনের ঘর করেছে। আর সেই থেকেই শুরু হয়েছে নানা রকম উৎপাত। বাড়ির লোকজন তাদের এই অবস্থান্তর সহ্য করতে পারছে না। ভাশুর ইদ্রিস আলিও লেগেছে তার পেছনে।

গ্রামে থাকতে দাউদ আলি দিনকামলার কাজ করতো। মানুষের ক্ষেতে জন-মজুরি খাটতো নয়তো মাটি কাটার কাজ করতো। দিন চলতো নিত্য অভাব অনটনের ভেতর দিয়ে। কখনো ভাতের সাথে তরকারি জুটতো কখনো জুটতো না। কাজ না থাকলে এক দুদিন না খেয়ে ঝাড়া উপোসও থাকতে হয়েছে। বাড়ির লোকজন তখন কোনো ঝামেলা করেনি। হয়তো তাদের দুর্দশায় খানিকটা খুশি থাকলেও থাকতে পারে। নইলে তার সুদিন আসবার সাথে সাথেই কেন নিত্য নতুন যন্ত্রণার উদ্ভব হচ্ছে?

শুরুটা অবশ্য শুরু হয়েছিল ভিন্ন একটা কারণ থেকে।

সেদিন কি একটা কাজে যেন ঘোষ বাড়ির অনিতা এসেছিল সফুর কাছে। গ্রামের মানুষের কাছে অনিতার পরিচয়টা খুব একটা ভাল না। কারণ এরই মাঝে তার আটটা বিয়ে হয়ে গেলেও কোনোটাই বেশি দিন টেকেনি। তাছাড়া গঞ্জের সাহা বাবুদের সাথে নাকি তার আলাদা রকম সখ্য। তাদের কারোকারো সঙ্গে নাকি তার শহরেও যাতায়াত আছে। এ সবই জনশ্রুতি। সফু এর সত্য মিথ্যা কোনোটাই জানে না। কিন্তু তবুও এ থেকেই শুরু।
অনিতা চলে যাবার পর সন্ধ্যার একটু আগেই ইদ্রিস আলি পাড়ার দুজন মুরুব্বীকে সঙ্গে নিয়ে এসে সফুকে বলল, ‘দাউদের বউ এদিকে একটু হুইনা যাও!’

সফু ব্যস্ত ছিল রাতের রান্নার আয়োজনে। তবুও চুলোয় হাড়ি চড়িয়েই সে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে মাথায় গায়ে ভাল মত আঁচল জড়িয়ে।

মুরুব্বী দুজনকেই চেনে সফু। একজন ইয়াসিন মোল্লা আর অন্যজন জয়নাল গাজি। দু'জনই গ্রামের মান্যগণ্য লোক।

ইয়াসিন মোল্লা বললেন, ‘মা জননী, হুনলাম ঘোষের বেটি নাহি আইছিল?’

মাথা নিচু করে সফু বলল, ‘জ্বে। আইছিল।’

‘ক্যান? তোমার কাছে তার কামডা কি?’

জয়নাল গাজি খ্যা-খ্যা করে ওঠে।

‘কাম তেমন কিছু না! আমারে কইলো হ্যারে একদিনের লাইগ্যা একটা তোলা কাপড় দিতে পারমু কিনা!’

‘তোমার তোলা কাপড় দিয়া হ্যায় কি করবো?’

‘আমার তোলা কাপড় নাই দেইখ্যা কিছু জিগাই নাই!’

ইদ্রিস আলি বলল, ‘হাচা কইরা কও!’

সফু বলল, ‘হাচা-মিছার কি অইলো?’

ইদ্রিস আলি হঠাৎ ফুঁসে উঠল, ‘আদব-কায়দা কি শিখ নাই? মুরুব্বীগ লগে ক্যামতে কতা কইতে ঘয় বাপ মায়ও শিখায় নাই?’

জয়নাল গাজি বলল, ‘ইদ্রিস মিয়া তুমি থাম তো! পোলাপান মানুষের এত দোষ ধরতে ঘয় না!’

তারপর সফুকে বলল, ‘ঘোষের মাইয়া বহুত খারাপ! তার স্বভাব চরিত্রি ভালা না। হ্যারে তোমার কাছে আর জাগা দিবা না!’

সফু বুঝতে পারে না যে, জায়গা দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে তার কি করার আছে! বলে, ‘একটা মানুষ যদি আৎকা আমার উঠানে আইয়া বয়, আমি তারে ক্যামতে কই যাও?’

জয়নাল গাজি রেগেই ছিল। বলল, ‘তুমি এত কথা কইতাছ ক্যান? আমরা যেইডা কইছি তুমি হেইডা মাইন্য কইরা চলবা!’

সফু মনে মনে শঙ্কিত হয়। এমন দুষ্টচক্র, দুরাত্মা লোকজন সব জায়গায় সব যুগেই ছিল। এরা সমাজের অন্ধকার দিকটাকে বুকে ধরে পাপ আর পঙ্কিলতাকে পুঁজি করে তেলাপোকার মত টিকে আছে সহস্র বছর যাবত। তাদের বিনাশ নাই। ক্ষয় নাই। পতনও নাই। তাই নিজের ঘরে শত্রুর সঙ্গে আপস করে বাস করবার মত মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানায় সফু।

জয়নাল গাজি গজগজ করে ইয়াসিন মোল্লার উদ্দেশ্যে বলে, ‘চলেন চাচা! কামার বাইত্যে কোরান পইড়া কাম নাই। দাউদ আইলেই যা করনের করমু!’

ইদ্রিস আলি বলল, ‘দাউদ আইলে করবেন? তাইলেই হইছে। হেইডা তো বউয়ের গোলাম! আপনের আমার কতায় কোনো দাম দিবো না!’

জয়নাল গাজি চাপা স্বরে ইদ্রিসকে বলল, ‘চ্যাংড়া বয়েস! তা ছাড়া বৈদেশীর একলা বউ। রাইত বিরাইতে একটু নজর রাইখ্যো!’

জয়নাল গাজির কথাগুলো সফু শুনতে পেল না। ব্যাপারটা মিটে গেছে মনে করে সে আবার রান্না ঘরে গিয়ে কাজে মনোযোগ দেয়।

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28846670 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28846670 2008-09-22 23:15:00
POWER-ON Password করণীয় কি? http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28831646 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28831646 2008-08-16 23:32:24 মধুনিশা-২০ (শেষপর্ব)
আজ লিখতে বসে তার হঠাৎ মনে হলো যে, মা নামাজ পড়বেন। তাঁকে ডেকে দেয়া দরকার। কিন্তু মার ঘরের কাছে এসে দেখলো দরজা খোলা। বিছানায় মিঠু ঘুমাচ্ছে। মাকে নামাজের জায়গাটায় দেখা গেল না। তাঁর বাথরুমটাও বাইরে থেকে বন্ধ। মাসুদ অবাক হয়ে গেল। সে কিছুটা ভীত হয়ে কিচেন বারান্দা সবই দেখলো। কিন্তু মাকে দেখতে পেলো না। দুরুদুরু বুকে ড্রয়িংরুমে ঢুকেই বর্ণিল কাগজের বাহার দেখে অবাক হয়ে গেল। দেয়ালের উপর চোখ পড়ার আগেই সোফার উপর মাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে বিস্মিত হবার বদলে ভয় পেলো আরো বেশি। 'মা, মাগো!'

সে এগিয়ে গিয়ে মায়ের পায়ে হাত দেয়।

মা সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠেই বললেন, 'কিরে, কি হয়েছে?'

মার কন্ঠস্বরে ভয় আর উদ্বেগ মিশে থাকে।

'আমার ও তো একই কথা! তুমি এখানে এলে কখন? প্রেশার কি বেড়েছিলো?

দু'তিনদিনের ভেতর প্রেশার চেক করিয়েছিলে?'

একই সঙ্গে অনেকগুলো প্রশ্ন করে উদ্বেগাকূল হয়ে মায়ের প্রশান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো মাসুদ।

'আমার তো মনে হয় প্রেশারটা নেই!'

মাসুদ অবাক হয়ে বলে, 'কি করে বুঝলে?'

'তোর মাথার উপর দেখ!' বলে মৃদু হাসলেন তিনি।

বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে বিস্ময় আর খুশিতে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো সে, 'এটা কোত্থেকে এলো?'

মা রহস্যের জট না খুলে বললেন, 'এভাবে আর কেই বা চমকে দিতে পারে বল?'

মাসুদ কিছু বুঝতে না পেরে মায়ের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে বাবার ছবিটার দিকে তাকালো আরো অবাক হয়ে।

মিঠু কখন উঠে এসেছে ওদের কেউ খেয়াল করে না। মাসুদকে বাবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিঠু বললো, 'তোমার ছবি পেয়েছো ভাইজান?'

'এটা কোথায় পেলি?'

মাসুদ ফিরে তাকায় মিঠুর দিকে।

'তোমার ওই পাসপোর্ট সাইজ থেকে!'

তারপরই বললো, 'ওটা আর ফেরত চেয়ো না!'

'কেন? ওটা তো আমার!'

'হারিয়ে গেছে!'

'কিভাবে?'
'পার্সের ভেতর ছিলো। রিকশা করে আসার সময় ছিনতাই হয়ে গেছে!'

মাসুদ এগিয়ে এসে বোনের চিবুক তুলে বললো, 'ওটার বদলে তুই যা দিয়েছিস তার কোনো বিনিময় হয় না! তবুও বল, কি চাস তুই?'

মিঠু মার দিকে তাকিয়ে বললো, 'মা, কি চাইতে বল?'

'কি চাইবি তুই?'

'বলো না চাইবো কি না!'

মা কিছু বলার আগেই মাসুদ বললো, 'তুই যা চাইবি তাই!'

তারপর আবার বললো, 'অবশ্য আমার সাধ্যে কূলায় এমন!'

মিঠু বললো, 'চাঁদে যাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব হলেও আমাদের পক্ষে অসম্ভব!'

'আরে এত ভাবাভাবির কি হলো? তুই তো সম্ভাব্যটাই চাইবি!'

'তাহলে বল রাগ করবে না!'

'বলিস কি? আজ আমার জন্মদিন! মায়ের প্রেশার নেই! বাবা উপস্থিত! এমন একটি দিনে রাগ করবো ভাবতে পারিস?'

'তাহলে মিতাপুকে বিয়ে কর!'

একটি পাখি উড়তে উড়তে হঠাৎ ভুমিতে আছড়ে পড়লে যতটা না বিস্মিত হয়, তার চেয়েও যেন আরো বেশি বিস্মিত হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল মাসুদ।

মা বললেন, 'খুব ভালো কথা বলেছিস! এবার যদি কিছু একটা হয়! আমি তো বলে বলে হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম!'

মাসুদ মায়ের আর বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে একবার হাসলো শুধু। কিন্তু কিছু বললো না।

তারপর বাবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে একটি দীর্ঘশ্বাস গোপন করলো। যা মিঠু কিংবা মা কারো গোচরে আসে না।

(সমাপ্ত)

পুরো উপন্যাস
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830815 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830815 2008-08-14 14:36:52
মধুনিশা-১৯ আগামীকাল মাসুদের জন্মদিন।

শুতে যাওয়ার আগে মা ছেলের ঘরে কি মনে করে যেন এলেন।

মাকে দেখেই মাসুদ বললো, 'কিছু বলবে মা?'

'কেন? এমনি এমনি কি আসতে পারি না?' বলে হাসলেন তিনি।

মাসুদ উঠে দাঁড়িয়ে বললো, 'আমি কি তাই বলেছি? বস!'

'বসবো না! আমি জানতে এলাম আগামীকাল কত তারিখ?'

ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ রেখে মাসুদ বললো, 'তেইশ তারিখ!'

'কাল তেমন কোনো জরুরী কাজ আছে?'

'আছে মা!' বিপুল উৎসাহ নিয়ে মাসুদ বলতে আরম্ভ করলো, 'অনেক কাজ! একটা রিপোর্টিঙের ব্যাপারে খুব ভোরেই রাজশাহী রওয়ানা করতে হবে! তা ছাড়া...'

তিনি ছেলেকে কথার মাঝ পথেই থামিয়ে দিয়ে বললেন, 'না গেলে চলে না?'

'উপায় নেই! খুবই জরুরী!'

'আমার চেয়েও জরুরী?' বলে তিনি তাকিয়ে থাকলেন মাসুদের মুখের দিকে।

মাসুদ হাসে। বলে, 'এমন কোনো কাজ কি হতে পারে না?'

'পারে! তবে, সেটা অন্যের। আমার ছেলের জন্যে নয়!'

মাসুদ হতাশ কন্ঠে বলে, 'তাহলে চাকরি থাকবে না মা!'

'তাহলে চাকরিটা ছেড়ে দে! অমন ক্রীতদাসের কাজ করতে হবে না!'

মাসুদ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। কিছু বলতে চেয়েও মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বললো না।

'তুই কি বুঝতে পারছিস কিছু?'

'চেষ্টা করছি!'

তারপর মাথা চুলকে সলাজ কন্ঠে বললো, 'বুঝতে পারছি না!'

'কাল বিকেল পাঁচটার আগে বাড়ি থেকে বেরুতে পারবি না!' বলে, ছেলেকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মা নিজের ঘরে চলে গেলেন।

মা চলে গেলে মাসুদ ভাবতে বসলো যে, এমন কী কারণ থাকতে পারে যার জন্যে তাকে পাঁচটা পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে? প্রয়োজনে চাকরিটাই ছেড়ে দিতে হবে? অনেক ভেবেও থই না পেয়ে সে মামুনের ঘরে এলো।

মামুন তাকে দেখে অবাক হয়ে বললো, 'ভাইজান তুমি?'

'তুই কিছু জানিস নাকি?' বলতে বলতে মাসুদ ছোট ভাইয়ের বিছানায় এক পা তুলে বসে।

মামুন আরো অবাক হয়ে তাকালেও কিছু বলতে পারে না। কি বলবে সে? কিছু জানলে তো!

'কাল আমাকে পাঁচটা পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে কেন বুঝতে পারছি না!'

মামুন জানলেও বললো না। মিঠু খুব করে বলেছে যে, ব্যাপারটা মাসুদের মনে না পড়লে যেন কিছুতেই প্রকাশ না হয়!

মাসুদ বললো, 'আচ্ছা, তুই পড়!'

তারপর নিজের ঘরে এসে আরো কিছুক্ষণ ভাবলো। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কিছু ঠিক করতে পারলো না। শেষে মিঠুকে ডেকে চায়ের কথা বলে, দু'কাপ। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পর মিঠু এক কাপ চা নিয়ে এলে মাসুদ বললো, 'তোকে না বললাম দু'কাপের কথা!'

'আমার সময় নেই!'

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে মাসুদ বললো, 'ভাবলাম চা খেতে খেতে তোর কথা শুনবো, তাও হলো না!'

'আমার কাজ আছে!'

'তোর আবার কি কাজ?' চায়ে চুমুক দিতে নিয়ে থেমে যায় মাসুদ।

'কত কাজ আছে!'

আসলে সে রঙিন কাগজ কেটে কেটে মাসুদের জন্য শুভ জন্মদিন কথাটা লিখছে। ঘুমিয়ে পড়ার আগে সেগুলো টেপ দিয়ে ড্রয়িং রুমের দেয়ালে লাগাবে। দিনের বেলা মিতার কাছ থেকে বাবার ছবিটা নিয়ে এসেছে। অনেক কষ্টে দেয়ালে তারকাঁটা বসিয়ে ছবিটা টানানোর জন্যে জায়গা ঠিক করে রেখেছে। এসব কাজের কথা মাসুদকে বলা যাবে না।

কিছুটা দুঃখিত হয়ে মাসুদ বললো, 'তাহলে তো বড় ডিস্টার্বড হলি! আচ্ছা বলতো, আগামীকাল কি বাড়িতে কোনো প্রোগ্রাম আছে? বিশেষ কেউ আসার কথা?'

'মিতা’পা ছাড়া বিশেষ কেউ আসবে শুনিনি। তবে স্পেশাল রান্না হবে! সকালে সবাই একসঙ্গে নাস্তা করবো! দুপুরে এক সঙ্গে পোলাও-কোর্মা আর ঘনদুধের খেঁজুরের গুড়ের পায়েস খাবো। বিকেলে সবাই এক সঙ্গে চায়ের আসর বসাবো!'

মাসুদ অবাক হয়ে বলে, 'হঠাৎ কেন এসব?'

'অনেকদিন তুমি দুপুরে খাবারটা আমাদের সঙ্গে বসে খেতে পারো না। বিকেলটাও তাই। শুক্রবারটাও বাইরে কাটাও। তাই মা ঠিক করলেন যে, আগামীকাল আমাদের যাবতীয় প্রোগ্রাম ক্যান্সেল! ঘর থেকে বেরুনো যাবে না!'

'মা আর দিন পেলেন না! শুক্রবার করলে কী হতো?'

'মার ইচ্ছে!'

'কাজটা যে কত জরুরী, মাকে বোঝাতে পারলাম না!'

'কী আর করবে ভাইজান! মাতৃআজ্ঞা বলে কথা!'

মনে মনে খুবই হতাশা বোধ করে মাসুদ। আর যখনই তার মানসিক অবস্থা এমন হয় তখনই সে বাবার ছবিটা বের করে দেখে। বাবার সঙ্গে কথা বলে। সমস্যার কথা জানায়। আলাপ আলোচনা করে সমাধান খুঁজে বের করে। আর এভাবেই তার মনে পড়ে যায় যে, বাবার ছবিটা ক’দিন আগে মিঠু নিয়েছিলো। কিন্তু ফেরত দেয়নি! সে চায়ে চুমুক দিয়ে বলে, 'বাবার ছবিটা তো আজও দিলি না! দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে! যা, নিয়ে আয়!'

'আজ পাবে না!'

'কেন? আছে তো, নাকি হারিয়ে ফেলেছিস?'

মাসুদের চোখেমুখে সন্দেহ ফুটে উঠলো।

'কাল দেখো! আজ কিছুতেই পাবে না!'

মিঠু তার দৃঢ়তা ব্যক্ত করতে কুন্ঠিত হয় না।

মাসুদ দ্রুত চা শেষ করে কাপটা ফিরিয়ে দিয়ে বলে, 'আচ্ছা যা!'

কাপটা ধূয়ে জায়গা মত উপুড় করে রেখে মিঠু আবার তার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

মা বললেন, 'অত ঝামেলার কি দরকার?'

'আমার কাছে একটুও ঝামেলা মনে হচ্ছে না!'

মিঠুর আয়োজনে মনেমনে তিনি খুশি হলেও বললেন, 'আমরা তো উৎসব করতে যাচ্ছি না!'

'উৎসব না তো কি? জন্মদিনকে উৎসব বলা যায় না?'

মা কিছু বলেন না। শুধু শুধু তর্ক করে মেয়ের মন খারাপ করতে চান না। বললেন, 'আমি শুয়ে পড়ছি! তোর কাজ শেষ হলে লাইট নিভিয়ে দিস!'

'আচ্ছা!'

মিঠু আবার তার কাজে মগ্ন হয়ে গেল।

অনেক রাতে মিঠুর কাজ শেষ হলে মায়ের ঘরের লাইট নিভিয়ে দিয়ে ড্রয়িং রুমে এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় সে।

তারপর রঙিন কাগজের অক্ষরগুলো সাদা দেয়ালের উপর সাজিয়ে চারদিকে বিভিন্ন রকমের ফুলের আকৃতির কাগজগুলোও সেটে দেয়। ঠিক তার উপরেই দেয়ালে লাগানো তারকাঁটায় আটকে দেয় বাবার বড়সড় সাদাকালো ছবিটা।

কিছুটা পিছু সরে গিয়ে তাকিয়ে নিজের কাজে নিজেই মুগ্ধ না হয়ে পারে না সে।

তারপর বাবার ছবিটা হাত দিয়ে ছুঁয়ে ফিসফিস করে বললো, 'বাবা, তোমাকে কাল দেখতে পেয়ে এ বাড়ির সবাই অবাক হয়ে যাবে! ঠিক বলেছি না বাবা?'

বাবার হাসি হাসি মুখটা যেন আরো হাসি হাসি হয়ে উঠলো।

'এবার যাই!'

ছবির ভেতর থেকে যেন বাবা কন্যার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এমন এক প্রশান্তিতেই ভরে উঠলো মিঠুর মন।

কাজ শেষ করে হৃষ্টচিত্তে ঘুমুতে এলে মা বললেন, 'এতক্ষণ ধরে কী করলি?'

'সকালবেলা অবাক হয়ে যাবে!'

'কী করেছিস যে অবাক হয়ে যাবো?'

'সকালেই বুঝতে পারবে!'

ছবির কথাটা আর বললো না সে। শ্রান্ত আর ক্লান্ত শরীর নিয়ে গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে বেশি সময় লাগে না মিঠুর।

মা উঠে ধীরেধীরে ড্রয়িং রুমে গেলেন। অন্ধকারেই হাতড়ে হাতড়ে সুইচ খুঁজে লাইট জ্বালালেন। আর পুরো দেয়ালে-ছাদে রঙিন কাগজের হরেক রকমের নকশার ছড়াছড়ি দেখে অবাক হয়ে গেলেন। মেয়ের হাতের কাজে খুশি হয়ে বলে উঠলেন, 'পাগলী মেয়ে!'

তারপরই হঠাৎ ছবিটার দিকে চোখ পড়তেই ভেতরে ভেতরে কেঁপে উঠলেন যেন। মনে হচ্ছে ছবির অতি পরিচিত আর প্রিয় মানুষটা যেন তাঁর দিকেই তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন।

তাঁর মাথায় এতক্ষণ ঘোমটা ছিলো না। স্বামীর সামনে দীর্ঘকাল মাথায় ঘোমটা দেওয়ার ফলে নিজের অজান্তেই এক হাতে আঁচল টেনে মাথা ঢাকলেন। যেন জ্বলজ্যান্ত মানুষটাই রঙিন কাগজের ফুল-নকশার আড়াল থেকে উঁকি মেরে তাঁকেই দেখছেন।
কতকাল এ মুখটা তিনি দেখতে পান না! আনন্দে মায়ের চোখে পানি এসে যায়।

তিনি এগিয়ে গিয়ে ছবির মুখটাতে হাত বুলিয়ে বলেন, 'তোমার মেয়ের কান্ড দেখেছো? সত্যিই আমাকে অবাক করে দিয়েছে! আমি তো ভাবতেই পারিনি ওদের কাছে তোমার এত বড় ছবি আছে!'

তিনি স্বামীর ছবি দেখতে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন। বিড়বিড় করে এতকাল বুকের ভেতর জমে থাকা সুখ-দুখের সব কথা বলে বলে ক্লান্ত হয়ে সোফায় বসেই ঘুমিয়ে পড়লেন। আর সঙ্গে সঙ্গেই হারিয়ে গেলেন মধুর স্বপ্নে।

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830684 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830684 2008-08-14 03:26:22
মধুনিশা-১৮ মামুন যখন ফৌজিয়াদের বাড়িতে পৌঁছুলো তখন সে ঘুমোচ্ছিলো। খবর পেয়ে ঘুম থেকে উঠে আসার কারণে তার চোখ দু’টো কেমন ফোলা আর মাথার চুলও অবিন্যাস্ত দেখাচ্ছিলো। দেখতেও কেমন যেন সুস্থ মনে হচ্ছিলো না। মামুনের খারাপ লাগলো। কন্ঠে যথাসম্ভব আন্তরিকতা ঢেলে দিয়ে সে বললো, 'অসময়ে ডিস্টার্ব করলাম! সরি!'

'কোনো খবর পেয়েছো?' বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো ফৌজিয়া।

'পেয়েছি!' বলে হাসলো মামুন। 'এখন সব খবরই আমার ঝুলিতে!'

ফৌজিয়াকে বিস্মিত দেখালো কিছুটা। মিজান নিখোঁজ হওয়ার খবর জানার পর এ পর্যন্ত তার মুখে হাসি দেখেনি সে। তাই মনে মনে যেন অন্ধকারের ভেতর কিছুটা হলেও আশার বিজলি চমকাতে দেখলো।

'কোনটা বলবো, তোমরা গোপনে যেটা করলে সেটা? নাকি কিছু না জেনেই নিজকে বলির পাঁঠা বানালাম সেটা?'

'আগে বল মিজান কোথায় আছে?'

'যেখানেই থাকুক, ভালো আছে! আজ রাত সাড়ে ন’টায় তোমাকে ফোন করবে জানিয়েছে! তখনই না হয়...'

কথা শেষ না করে আবার হাসলো মিজান।

'সত্যি বলছো?'
ফৌজিয়াকে কেমন বিভ্রান্ত দেখায়।

'সত্যি!'

'তিন সত্যি কর!'

'তিন সত্যি নয়, হাজার সত্যি বলছি!'

'ওফ! কী ভয়টাই না পেয়েছিলাম!' বলে, হাত-পা ছেড়ে দেয়ার মত সোফায় এলিয়ে পড়লো ফৌজিয়া।

'কেন? বিধবা হওয়ার ভয়, নাকি কুমারী মায়ের কলঙ্ক জুটবে সেই ভয়?'

'বালাই ষাট!' বলেই সাবধান হয়ে গেল ফৌজিয়া। মুখ বিকৃত করে আবার বললো, 'অন্ধকারের ঢিল সব সময় জায়গা মত লাগে না!'

'দিনের আলোতে ঢিল! তাও আবার ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে!'

ফৌজিয়ার মুখ আরক্ত হয়ে উঠলো। 'কে বললো?'

'কথা গোপন থাকে নাকি? অঙ্কুরের বয়স দু'মাস! তাও জানি!'

এবার ফৌজিয়ার মুখটা হয় দেখার মত। সরাসরি তাকাতে পারে না মামুনের দিকে। মুখে যেন কেউ টেপ মেরে দিয়েছে।

নড়ে চড়ে বসে মামুন আবার বললো, 'লজ্জার কিছু নেই! তবে আমাকে না জানিয়ে তোমরা পাপ করেছো! তাই হয়তো বিধাতা কিছুটা মানসিক শাস্তি দিলেন! পরের বারের জন্য হয়তো আরো বড় কোনো শাস্তি অপেক্ষা করছে!'

ফৌজিয়া সঙ্গে সঙ্গেই মাথা তুলে বললো, 'প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজি আছি!'

'আগে চায়ের ব্যবস্থা কর, পথ বাতলে দিচ্ছি! কিন্তু বিনা দোষে আমাকে কেন বলি হতে হলো?'

'তোমার বন্ধুর দোষ!' বলে হেসে উঠলো ফৌজিয়া। 'চিঠিগুলো ওই লিখেছে। আমার ভূমিকা ছিলো পিওনের!'

'ঠিক আছে! ক্ষমা করে দিলাম! তবে কাজটা কিন্তু শাপে বর হয়েছে!'

'কেন? আমরা ঢাকাবাসীর র‌্যালিতে ওকে দেখে মোহিনী বলেছিলে না? তাই না আমরা সাহস পেয়ে কাজে নেমে পড়লাম! তবে আগে নাতাশার মতটাও জেনে নিয়েছিলাম! মেয়েটা কিন্তু সত্যি ভালো!'

'ভালো খারাপের কথা বলছি না, আসলে আরো আগেই ওর প্রেমে পড়া উচিত ছিলো!'

ফৌজিয়া ভ্রু নাচিয়ে বললো, 'খাঁটি প্রেমিকের কথাই!'

'মজার কথা কি জানো?'

ফৌজিয়া তার কৌতুহলী চোখ বিছিয়ে দেয় মামুনের মুখের উপর।

'আমরা প্রায়ই অজ্ঞাত কুচক্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছি! তাদের জন্য মঙ্গল কামনা করেছি!'

'বিধাতা কবুলও করেছেন!'
নিজের মাথার এলোচুলে একহাত ডুবিয়ে দিয়ে বলে ফৌজিয়া।

'বিধাতা খারাপ কিছুটাও হয়তো রেখেছেন!'

'এমন কথা মনে হলো কেন তোমার?'

'মিজানের মা তোমাকে এক্ষুনিধরে নিয়ে যেতে বলেছেন!'

হঠাৎ ফ্যাকাসে মুখে ফৌজিয়া বললো, 'কেন?'

তার মধ্যে কিছুটা ভয় ফুটে উঠলো যেন। 'আমার কথা জানলেন কিভাবে?'

'অনুমান করে নিয়েছেন। কারণ যে মেয়ে মিজানের জন্য এতটা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে, তাদের মাঝে কোনো একটা জটিল ব্যাপার না থেকে পারে না! আমার মনে হয় তোমাকে ইন্টারোগেট করে সেটাই আবিষ্কার করতে চান!'

মামুনের মনে হলো ফৌজিয়ার ভেতরে ভেতরে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছে এবং ধীরে ধীরে বাড়ছে সেটা।

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830458 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830458 2008-08-13 16:06:15
মধুনিশা-১৭
মাসুদকে অফিসেই পাওয়া গেলো। মিতা কিছু বলার আগেই মাসুদ জানতে চাইলো, 'কে বলছেন?'

'আমি মিতা। রুমির বোন!'

'কবিতাটা দেখেছেন?'

'নামটা ভুল ছাপা হয়েছে!'

'ভুল নয় তো! আরো সুন্দর করে দিলাম!' বলে হাসলো সে।

তারপর আবার বললো, 'যেগুলো মার্ক করে দিয়েছি, সেগুলো সুন্দর করে কাগজের এক পৃষ্ঠায় কপি করে দিয়ে যাবেন! এখন রাখি! অন্য সময় কথা বলবো!'

মিতা কিছুই বলতে পারে না। হঠাৎ একরাশ লজ্জা এসে তার কন্ঠ চেপে ধরেছে যেন। আর কেমন আড়ষ্টের মত রিসিভার রেখে দিয়ে অনেকটা পালিয়েই আসে। ঘরে এসে ভেতরে ভেতরে কেমন কুঁকড়ে গিয়ে ভাবলো, ব্যাপারটা মোটেও ঠিক হয়নি। এমন সাধারণ একটা ব্যাপার কেন জিজ্ঞেস করতে গেলো? মাসুদ নিশ্চয়ই এখন তাকে হ্যাংলা আর বেহায়া ভাবতে শুরু করেছে। হয়তো ভেবেছে যে, তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার একটা অজুহাত বের করে নিয়েছে! ছি ছি! মিঠুকে যদি কথাগুলো বলে দেয়?

পরদিন মিঠুর সামনে সহজ হতে পারবে না ভেবে কলেজেই গেলো না সে। কেমন একটা আড়ষ্টতা তাকে গৃহবন্দী করে রাখে। মিঠু এলে তাকে বলে দিলো যে, শরীর ভালো না। মিঠু দ্বিরুক্তি না করেই ফিরে গিয়েছিলো।

একাএকা কলেজে যেতে এখন ভালো লাগে না মিঠুর। অফ পিরিয়ডে মিতার কাছাকাছি না থাকলে নিজকে কেমন যেন অসহায় আর দুর্বল মনে হয়। তাই সে আজ তেমন সহজ হতে পারলো না।

ছুটির সময় লিজা তাকে ডেকে বললো, 'মিঠু, দাঁড়া!'

লিজা কাছে এসে চোখ নাচিয়ে বললো, 'চিঠি নিবি?'

মিঠুও তেমনি চোখ নাচিয়ে বললো, 'কার?'

'কার আবার? যে পাগলটা তোকে ভালোবাসে!'

অন্যান্য দিনগুলোর মত বিরক্ত হয় না মিঠু। চিঠিটা হাতে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়েও ফেলে না। এমনকি পড়েও না। বলে, 'ও আসলে পাগল না, আস্ত একটা ছাগল!'

'ছাগল না বলে সাধক বলতে পারিস! যেভাবে লেগে আছে! তোকে জয় করতে পারলে ওরও সিদ্ধি লাভ হয়!'

কথা শুনে হেসে ফেললো মিঠু।

লিজা বললো, 'ওই দেখ, তোর ছাগলটা এদিকেই তাকিয়ে আছে!'

মিঠু সেদিকে আড় চোখে একবার তাকালো। তারপর চিঠিটা উঁচু করে ধরে একটানে ছিঁড়ে ফেললো। ছিঁড়ে আরো কুটি কুটি করে বাতাসে ছড়িয়ে দিলো।

'আজও ছিড়ে ফেললি?'

লিজার কন্ঠে আশাহতের সুর বাজে।

'ও আগে যোগ্য হয়ে উঠুক! মুখে মনের কথা জানাতে শিখুক! তারপর ভেবে দেখবো!'

মিঠুর ধারণা, ছেলেটি লিজার ভাই! কোনো কারণে ব্যাপারটা সে গোপন করছে। না হলে নিজে কারো সঙ্গে প্রেম করে না অথচ অন্যের চিঠি দু’দিন পরপর কেন নিয়ে আসবে?

'আসলে কি বলতে চাচ্ছিস বুঝতে পারছি না!'

'তোর বুঝে কাজ নেই! ছেলেরা হবে পুরুষের মতই। সাহসী আর মার্জিত! মেয়েদের মত পুতুপুতু কেন?'

'তাহলে আমি কি বলে দেবো যে, তুইও কিছুটা ভালোবাসিস?'

'তোর চালাকির দরকার নেই! আমারটা আমাকেই দেখতে দে!'

রিকশায় উঠবার সময় আবার আড় চোখে তাকালে মিঠু দেখতে পায় ছেলেটি কেমন ক্যাবলার মত তার দিকে তাকিয়ে আছে।

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830126 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28830126 2008-08-12 16:07:59
মধুনিশা-১৬
সকাল বেলা অফিসে যাবার সময় মিঠুকে ডাকলো মাসুদ।

কলেজে যাওয়ার জন্যে তৈরী হচ্ছিলো মিঠু। মাসুদের ডাক শুনে বেরিয়ে এসে বললো, 'ডাকছিলে ভাইজান?'

'মার কাছে টাকা চেয়েছিলি?'

'হ্যাঁ!'

'টাকার কি দরকার পড়লো?'

'আছে! পার্সোনাল!'

মাসুদ মিঠুর দিকে তাকিয়ে একবার হাসলো। কিন্তু কি বুঝে হাসলো কে জানে।

ওয়ালেট বের করে মিটুকে টাকা দিয়ে বললো, 'ওই মেয়েটাকে বলিস পত্রিকাটা দেখতে। আজ তার কোনো লেখা থাকতে পারে!'

মাসুদ বেরিয়ে যেতেই মাকে বললো, 'মা, মিতাপার কাছ থেকে আসছি!'

'মা অবাক হয়ে বললেন, 'তুই না কলেজে যাচ্ছিলি?'

'যাবো আর আসবো!'

মিঠু দ্রুত পায়ে গিয়ে মিতাকে বললো, 'আজকের বাংলাদেশ গেজেট দেখেছো?'

'সকালে পড়লাম তো!' মিতা অবাক হয়ে তাকায় মিঠুর দিকে। 'কেন?'

'তোমার লেখা বেরোয়নি?'

'না। আমার নাম তো দেখলাম না!'

মিঠু হেসে উঠলো। 'তুমি নিজের নাম দেখে লেখা খুঁজবে না তোমার লেখা খুঁজবে?'

মিতা বললো, 'এখন আর চান্স নেই! ফুপা পড়ছেন!'

'আমি এতক্ষণ বসে থাকবো নাকি?'

মিতা যেন বিরক্ত হয়। 'বসলে অসুবিধাটা কোথায়? আমি তো প্রতিদিন তোদের বাসায় গিয়ে বসে থাকি একা একা!'

'তুমি তো এমনি এমনিই যাও না! কলেজে যাওয়ার সময় যাও!'

'তবুও!'

'তবুও কি?'

'যে কারণেই হোক, যাই তো?'

'আচ্ছা, ভাইজানকে তোমার কেমন লাগে?'

কথাটা আচমকাই যেন বলে ফেললো মিঠু। আর তা শুনে মিতার বুকটা কেমন ধড়াস করে উঠলো। লজ্জা পেলে তার কান লাল হয়ে যায়। ব্যাপারটা মিঠুর চোখে পড়ে কিনা কে জানে! সে দু’হাতে কানের পেছনে চুল গোছানোর ছুতোয় কান দু'টো আড়াল করে। মিঠুটা কি টের পেয়ে গেল? বেশ চালাক তো!

'কি ভাবছো?'

মিতার পরিবর্তনটা তার চোখে পড়লো। 'বল না!'

'তুই এলি, তোকে কি খেতে দেই বলতো?'

'আমি কিছু খাবো না!'

'তোকে তো পান্তা ভাত খেতে বলিনি!'

মিতা ঘরের ভেতর চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর পত্রিকাটা হাতে করে এসে বললো, 'নিয়ে এলাম!'

তারপর দু’টো মিমি চকলেট বাড়িয়ে ধরে বললো, 'নে, ধর!'

'ওগুলো আনতে গেলে কেন?'

'তুই কি ভেবেছিস এগুলো আনতে বাজারে গেছি?'

'তা বলছি না!'

'তাহলে খেতে খেতে আমার লেখা খুঁজে বের করে দে!'

মিঠু পত্রিকাটা খুলে সাহিত্যের পাতাটা উল্টিয়ে দেখলো কবিতা বেশি নেই। মাত্র চারটা। দ্বিতীয়টাই মিতার। মধুনিশা শিরোনামের উপর তর্জনী রেখে বললো, 'এই তো তোমার কবিতা! মধুনিশা তোমার লেখা না?'

'কই দেখি!'

মিতা লেখাটা পড়ে বললো, 'লেখাটা তো আমারই! কিন্তু অন্যের নামে ছেপে দিয়েছে!' তার মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

নিজের লেখা অন্যের নামে ছাপা হলে কার না খারাপ লাগবে! মিতার ও খারাপ লাগছিলো। কিন্তু খারাপ লাগার পরিমাণটা যেন কিছুটা বেশিই।

আসল ব্যাপারটা মিঠু জানলেও বললো না। জিজ্ঞেস করলো, 'তোমার নাম মনোয়ারা বেগম না?'

'কিন্তু এখানে তো মিতা মনোয়ারা!'

'তোমার নাম তো মিতাও! ডাক নামটা আগে দিয়ে বেগমটা ছেঁটে দিলেই হয়ে গেলো!'

'এ নাম কোথাও লিখিনি!'

মিঠু জোর দিয়ে বললো, 'কবিতা যেহেতু তোমার, নামটাও তোমার না হয়ে যায় না!'

তবুও সন্দেহ দূর হয় না মিতার।

মিঠু বললো, 'তাহলে ভাইজানকে ফোন করে জিজ্ঞেস করো না কেন?' সে হাসতে থাকে।

মিতার হাসি আসে না। রাগত কন্ঠে বললো, 'ঠিক আছে, তোর ভাইজানকেই জিজ্ঞেস করবো!'

'এখন ফোন করবে? নাকি ঘরে গিয়ে বলবে?'

মিতা কেমন যেন চোখ পাকিয়ে তাকায় মিঠুর দিকে।

মিঠু তা দেখে বললো, 'কলেজে যাবে তো?'

'যাবো!'

'তাহলে তৈরী হয়ে এসো!'

মিঠু দেরি না করে বেরিয়ে পড়ে।

ক্লাস করার সময়গুলোতে সারাক্ষণই ছটফট করলো মিঠু। কখন ছুটি হবে। শেষটায় তার প্রতীক্ষার ঘন্টা যখন বাজলো, তখন কলেজ থেকে ফেরার পথে মিতাকে বললো, 'মৌচাক যাচ্ছি, তুমি যাবে?'

'মৌচাক কেন?'

'বাবার ছবিটা আনবো!'

মিতা কিছু বললো না। কবি হিসেবে তার নামের ব্যাপারটা নিয়ে তখনও ভাবছিলো।

'তোমাকে একটা রিকোয়েস্ট করি?'

'ঢঙ আর কি!'

'ব্যাপারটা সিরিয়াস!'

'বল!'

'বাবার ছবিটা তোমার কাছে রাখবে? সপ্তাহ খানেক!'

'আমার কাছে কেন?'

'কাজটার কথা এখনই বাড়ির কাউকে জানাতে চাচ্ছি না!'

মিঠুর এমন গোপনীয়তার বিষয়টা বুঝতে না পেরে মিতা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলো।

'তুমি কেন বুঝতে পারছো না!'

'না বুঝিয়ে বললে বুঝতে পারবো কিভাবে?'

'ওহ! তুমি যে কী! শোনো! কদিন আগে ভাইজানের কাছ থেকে বাবার একমাত্র পাসপোর্ট সাইজ ছবিটা নিয়ে সমরীতার স্টুডিও থেকে এনলার্জ করিয়েছি! ভেবেছিলাম সবাইকে চমকে দেবো! কিন্তু ছবিটা আমার ব্যাগে ছিলো। রিকশা করে ফিরে আসার সময় ব্যাগ আর হাতঘড়িটা ছিনতাই হয়ে যায়। এখন ভাবছি যে, ভাইজান ছবিটা ফেরত চাইলে কি বলবো?'

মিতা অবাক হয়ে বললো, 'ছিনতাইর ঘটনা বাড়িতে জানে না?'

'না!'

'গোপন করাটা কি ঠিক হলো?'

'ও ঘটনা বললে হয়তো বাইরেই বেরুতে দেবে না! মাকে তো চেনো না! পারলে আবার আমাদের তিনজনকে পেটের ভেতর ফেরত নিয়ে নিতেন!'

মিতা অকস্মাৎ হেসে উঠে বললো, 'আচ্ছা দিস!'

'মাত্র একটা সপ্তাহ! পরের সপ্তাহের তেইশ তারিখ ভাইজানের জন্মদিন! সেদিনই ছবিটা দেয়ালে টানাবো! ভালো হবে না?'

মিঠু মতামতের জন্য তাকিয়ে থাকে মিতার মুখের দিকে।

মিতা কিছুক্ষণ পর মাথা দুলিয়ে বললো, 'আইডিয়াটা মন্দ না!'

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829581 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829581 2008-08-11 04:02:14
মধুনিশা-১৫
'দিদার শরীর ভালো না! তুমি দিদার ঘরে এসো!'

মিজানের মা শুয়েছিলেন। মামুনকে দেখতে পেয়ে শঙ্কিত কন্ঠে বললেন, 'বাবা, কি খবর?'

'একটা খবর পাওয়া গেছে!'

'কি খবর?' বলেই তিনি শোয়া থেকে উঠে বিছানা থেকে নেমে মামুনের পাশে চলে এলেন।

হঠাৎ প্রাণ ফিরে পেলে মানুষ যেমন উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে, কোনো দুর্বলতার লক্ষণ চোখে পড়ে না, তেমনি তিনি মামুনের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

'এমনও তো হতে পারে মিজান ইন্ডিয়াতে আছে। যাওয়ার সময় কোনো কারণে খবর দিতে পারেনি বা সমস্যা হবে ভেবে জানায়নি!'

'কি করে বললি বাপ? আমার মাথায় তো এমন একটা ভাবনা এলো না!'

'ওর কি পাসপোর্ট ছিলো?'

'হ্যাঁ! পিকাডেলি যাওয়ার সময় বানিয়েছিলো!'

'ওটা কি ঘরে আছে?'

'দেখছি!' বলে তিনি ঘরের স্টিলের আলমারিটা খুললেন। কিছুক্ষণ এটা ওটা নেড়েচেড়ে বললেন, 'না নেই!'

'চেকবই?'

তিনি আবার মাথা ঢোকালেন আলমারিতে। 'না নেই!' বলে কেমন ভাবে যেন তাকিয়ে রইলেন মামুনের দিকে।

মামুনের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। 'তাহলে ছেলেটা মিজানই!'

তিনি ছুটে এসে মামুনের কাঁধ ধরে ঝাঁকি দিয়ে বললেন, 'খুলে বল! কিছুই গোপন করবি না!'

নাতাশার কাছ থেকে আর আবিদ মামার কাছ থেকে যা যা শুনেছে সবই বললো মামুন।

তারপর বললো, 'বিকেল চারটার দিকে নাতাশা পিজির গেটে থাকবে। বাকিটা তার কাছ থেকে জানতে পারবো! তার সঙ্গে দেখা করে সন্ধ্যার দিকে আবার আসবো!'

'না! আমি তোর সঙ্গে যাবো! আমাকেও নিয়ে চল!'

মামুন কি করবে ভেবে পায় না। কিন্তু তাও ভাববার সুযোগ সে পায় না। তিনি তাঁর পার্সটা হাতে নিয়ে বললেন, 'চল এখনই!'

ওরা চারটার দিকে পিজির গেটে এসে দাঁড়াতেই দেখতে পেলো হাসপাতালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে নাতাশা। গেটে দাঁড়ানো মিজানকে দেখতে পেতেই তার মুখটা অনাবিল হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো।

মামুন বললো, 'এই মেয়েটাই নাতাশা!'

মামুনকে কথা বলতে দেখেই বুদ্ধিমতী নাতাশা বুঝে ফেললো যে, সঙ্গের এই ভদ্রমহিলাই মিজানের মা। চোহারাও ঠিক মিজানের মতই মনে হচ্ছে তার কাছে। সামনে এসে সালাম দিয়ে বললো, 'ভালো আছেন খালাম্মা?'

তিনি নাতাশাকে প্রায় জড়িয়ে ধরে বললেন, 'কি খবর মা?'

হাসিতে সারামুখ আলো করে সে বললো, 'ভালো!'

যেন হাসির আলোয় মিজানের মায়ের মনের ভেতরকার কষ্টের অন্ধকারকে নিমেষেই দূর করে দিতে চায়। 'কলকাতা ইন্দিরা হাসপাতালে আছে! এই যে হাসপাতালের নাম্বার, মিজানের পাসপোর্ট নাম্বার!' বলে একটা কাগজ মেলে ধরলো সে।

তারপর আবার বললো, 'বাবা কথা বলেছেন। সন্ধে সাতটার দিকে মিজান বাশার স্যারের কাছে আসবে। তখন কথা বলা যাবে!'

রাস্তার উপরই মিজানের মা নাতাশার কপালে চুমু খেলেন। আর আকস্মিক লজ্জায় তার মুখটা কেমন গোলাপী আভায় ছেয়ে গেলো।

তিনি বললেন, 'মারে, কত্ত যে খুশি হয়েছি বোঝাতে পারবো না!'

'আমরা তো একজন মায়ের খুশিই দেখতে চেয়েছি!' নাতাশা তেমন ভাবেই বললো।

তিনি নাতাশার মুখটা তুলে ধরে বললেন, 'আল্লা যেন তোমাদের আজীবন খুশি রাখেন!'

তারপর মামুনকে বললেন, 'আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আয়!'

তারপর নাতাশার দিকে ফিরে বললেন, 'তুমিও চলো!'

'আজ না খালাম্মা! আম্মার শরীরটা ভালো না! আমি না থাকলে তাঁর খাওয়া হবে না!'

'তাহলে বলো, কবে যাবে?'

'যাবো!'

মামুনকে বললেন, 'কবে নিয়ে আসবি?'

'না খালাম্মা, ও আমাকে নিতে হবে না! আমিই সপ্তাহখানেকের ভেতর যাবো!'

'মনে থাকে যেন!'

'থাকবে!' বলে আবার সেই মধুর হাসিটি ছড়ালো নাতাশা।

তারপর একটা রিকশায় চড়ে বললো, 'যাই খালাম্ম! স্লামালেকুম!'

তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন নাতাশার চলে যাওয়ার দিকে। বললেন, 'মামুন, আমার তো এমন একটা মেয়ে থাকতে পারতো! পারতো না? কিন্তু আল্লা তো দিলেন না!'

তারপর একটি দীর্ঘশ্বাস চেপে চোখ মুছলেন।

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829365 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829365 2008-08-10 15:30:31
গোপনে মাইনাস প্রদান চারিত্রিক দুর্বলতা কোনো পোস্টে প্লাস বা মাইনাস দিলে দাতার নাম প্রকাশ হয় না। চেহারা প্রকাশ হয়ে যেতে পারে ভেবেই চোরেরা বেশির ভাগই রাতের অন্ধকারে চুরিতে নামে। তেমনি গোপনে অনেকেই প্লাস দেন। গোপনে প্লাস দেওয়াটা মনে করি মহনুভবতা। কিন্তু মাইনাস? এই ব্লগসাইটে কেন এর প্রবর্তন? কারণ কোনো লেখা আপত্তিকর হলে তার রেটিং হবে মাইনাস। সেক্ষেত্রে অনেকের পোস্টেই দেখেছি জোরালো প্রতিবাদের সঙ্গে মাইনাস ঘোষনা।

সম্প্র্রতি আমার একটি পোস্টে নিশ্চুপ একটি মাইনাস পড়ে থাকতে দেখেছি। হয়তো অনেক পাঠকই দেখে থাকবেন। কিন্তু এটা তো কোনো যৌক্তিক কাজ হলো না! পাঠকের ভালো না লাগলে অবশ্যই সেই ভালো না লাগার কথাটি বলার তার অধিকার রয়েছে। সে ক্ষেত্রে চুপিসারে মাইনাস দিয়ে যাওয়া এ কেমন প্রতিবাদ?

আমি মনে করি (অনেকেই মনে করেন হয়তো।) সাহসী মানুষ প্রকাশ্যেই প্রতিবাদ করে। গোপনে মাইনাস দেওয়ার নাম প্রতিবাদ নয়। এটি চারিত্রিক দুর্বলতারই পরিচায়ক। আর যারা নিজকে আড়াল করে মাইনাস দিয়ে যান তাদের কর্মকান্ডকে চৌর্যবৃত্তির সঙ্গেই তুলনা চলে। আশা করি সা.ইনের সব ব্লগার গোপনে মাইনাস প্রদানকারীকে এখন থেকে চোর, সিঁধেলচোর ইত্যাদি গোপন দুষ্কৃতিকারীর নামে অভিহিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তা ছাড়া সা.ইন কর্তৃপক্ষ প্লাস-মাইনাস ব্যাপারটি সম্পূর্ণ উঠিয়ে দিতে পারেন। কিংবা মন্তব্যর ক্ষেত্রেই প্লাস-মাইনাস প্রযোজ্য হবে এমন সিস্টেম করা যায়। কেন না কোনো পাঠক কেন মাইনাস দিয়েছে তা লেখকের জানবার অধিকার নিশ্চয়ই আছে বলে মনে করি। সেই সঙ্গে মাইনাস দেওয়ার কারণটাও পাঠক হিসেবে উল্লেখ করা সুশীলতারই পরিচায়ক বলেই বিবেচ্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829102 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829102 2008-08-09 17:56:53
মধুনিশা-১৪
ওরা ফিরে আসার সময় বিজন ওদের পেছন থেকে ডেকে ফেরালো। বললো, 'মিজানের ভিডিও ক্যামেরাটা আমার বাসায় আছে। পারলে ওটা নিয়ে মিজানের বাড়িতে পৌঁছে দিও!'

মামুন ভাবলো যে, ক্যামেরা কোনো ব্যাপার নয়। মিজানই হচ্ছে আসল।

জেলখানা থেকে বেরিয়ে ফৌজিয়া যেন ভেঙে পড়লো। এ পর্যন্ত তাকে খুবই আগ্রহী দেখাচ্ছিলো। কিন্তু এখান থেকে নিরাশ হওয়ার পর যেন নিজকে আর সামাল দিতে পারলো না। মামুনের একটা হাত ধরে বললো, 'মামুন!'

তারপরই কিছু বলার আগেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো। ওড়নার প্রান্ত দিয়ে চোখ চেপে বললো, 'আমার কি হবে? আল্লা না করুক, ওর যদি একটা কিছু হয়ে যায় তো আমার মরণ ছাড়া পথ নেই!'

মামুন অবাক হয়ে বললো, 'এ কথা বলছো কেন?'

নাক টেনে ফৌজিয়া বললো, 'সময় করে কাল একবার বাসায় এসো, সব বলবো!'

পরদিন য়্যুনিভার্সিটি লাইব্রেরির সিঁড়িতে চুপচাপ বসেছিলো মামুন। যদিও তার কোলে অ্যাটোমিক ফিজিক্স বইটা খোলা ছিলো, তবুও তাতে তার মনোযোগ ছিলো না। মনটা খুবই খারাপ হয়ে আছে! মিজানটার হলো কি? শুধু এ ভাবনাটাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো মনের ভেতর।

নাতাশা এসে তার পাশে বসলেও তার মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। সে ফিরে তাকাবে বলে নাতাশা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও মামুন একই ভাবে বসে থাকে।

পাশ থেকে নিচু স্বরে নাতাশা বললো, 'কী হয়েছে তোমার?'

সম্বিত ফিরে পেয়ে মামুন বললো, 'তোমাকেই হয়তো মনে মনে আশা করছি!'

'কোনো খারাপ খবর?'

'না!'

'তাহলে তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? মিজানের বউ কিছু বলেছে?'

মামুন অবাক হয়ে বললো, 'মিজানের বউ? কী বলছো?'

'গতকাল দেখলাম ফৌজিয়ার সঙ্গে বেবিটেক্সিতে উঠতে!'

'মিজানের বউ ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না!'

'আমি তো ভেবেছি মিজান তোমাকে বলেছে!'

মামুন আরো অবাক হয়ে বলে, 'এমন কিছু তো আমাকে বলেনি!'

'কী আশ্চর্য! ওদের বিয়ে হয়েছে আজ তিন মাস। ফৌজিয়ার পেটে বাচ্চার বয়স দু'মাস! তুমি কি কিছুই জানো না?'

মামুন হতাশ ভাবে মাথা দোলায়।

'ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের প্রায় সবাই জানে কথাটা!'

মামুনের কাছে এতক্ষণে পরিষ্কার হয় ফৌজিয়া গতকাল কেন বলেছিলো ও কথা!

'আসলে ও অনেক কিছুই বলে না! যদিও সবাই জানে আমিই তার ঘনি' বন্ধু, তবুও দেখ আমি বলতে গেলে কিছুই জানি না। এই দেখ না, চারদিন ধরে ওর কোনো খোঁজ-খবর নেই। বাসায় তো ওর মা-ভাই-ভাবি সবাই পাগল-পাগল হয়ে আছে। আন্টিতো সারাক্ষণই কাঁদছেন!'

'খোঁজ-খবর, থানা-পুলিশ-হাসপাতাল সব হয়েছে?'

'সব শেষ। আজ পত্রিকায় ওর ছবি সহ বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে!'

নাতাশা হঠাৎ ভ্র“ কুঁচকে বললো, 'আচ্ছা, কতদিন বললে, চারদিন না?'

'হ্যাঁ!'

নাতাশা হঠাৎ উঠে বললো, 'চলো তো!'

মামুন সঙ্গে সঙ্গে উঠে বললো, 'তুমি কিছু জানো?'

'খোঁজ নিয়ে দেখি!'

'ঢাকার কোথাও বাদ রাখিনি!'

'আমার সঙ্গে এসো!' বলে, মামুনের একটা হাত ধরে টানে সে।

মামুনের মনে হলো, এমন আন্তরিকতার ছোঁয়া বাইরের কারু কাছে সে এর আগে পায়নি। এতে আন্তরিকতা যেমন আছে, আছে তেমনি ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসও। এমনটি না হলে কেউ কারো সমস্যার সঙ্গে নিজকে এভাবে হঠাৎ জড়িয়ে ফেলতে পারে না!

রাস্তায় নেমেও মামুনের হাত ছাড়ে না নাতাশা। কিংবা হাত ধরে রাখার ব্যাপারটা ভুলে গেছে। যেতে যেতে বললো, 'ক্যান্টিনে গিয়ে বলবো!'

কিন্তু ক্যান্টিনে ঢুকার আগে আবার বলে উঠলো, 'তুমি বললে চারদিন! শুনেছি পাঁচদিন আগে ফিলজফির বাশার স্যার হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী মিলে স্যারকে পিজিতে নিয়ে যায়। ওখান থেকে পরদিন তাঁকে পাঠানো হয় কোলকাতায়। সঙ্গে আমাদের কোনো একজন ছাত্র আছে। প্লেনের টিকেট, টাকা-পয়সা ওই ছাত্রটাই ম্যানেজ করেছে!'

মামুন বিস্মিত হয়ে বললো, 'তুমি বলছো ওই ছাত্রটা মিজান?'

নাতাশা হাসলো। 'বিচিত্র কি? আমি আশা করছি ছাত্রটা আর কেউ না হয়ে মিজানই হোক!'

ক্যান্টিনে ঢুকে এদিক ওদিক তাকায় নাতাশা। হয়তো কাউকে খুঁজে না পেয়ে বললো, 'আমাদের কিছুক্ষণ বসতে হবে! যার কাছে শুনেছি, সে আসেনি!'

মামুন অস্থির হয়ে বললো, 'সে যে এখানেই আসবে কি করে বুঝলে?'

'আমার চাচির ছোট ভাই। ফিলজফিতে পড়ে। ফাইনাল ইয়ারে। প্রতি ঘন্টায় তার এখানে এসে এককাপ করে চা খাওয়া চাই!'

মামুন বললো, 'কখন আসবে?'

নাতাশা বললো, 'আমরা চা খেতে খেতে অপেক্ষা করি! সেটাই ভালো হবে!'

তারপর সে উঠে গিয়ে দু'কাপ চা নিয়ে ফিরে এসে মামুনের সামনে একটা কাপ রেখে বললো, 'আগেই খারাপটা ভাবতে নেই! আশাবাদী থাকলে খুব খারাপ ব্যাপারটাও অনেক সময় ততটা খারাপ হয় না!'

'ছাত্রটি স্যারের কেউ?'

'না। এমন কি সেই ডিপার্টমেন্টেরও না!'

'স্যারের বাড়িতে খবর দেয়া হয়নি? বউ-ছেলে-মেয়েদের কেউ সঙ্গে যেতে পারতো!'

'স্যারের কেউ নেই! একা থাকেন। ঘরে একজন কাজের লোক ছাড়া কেউ নেই!'

কথা শেষ না হতেই দরজার দিকে হাত তুলে নাতাশা কাউকে ডাকতে লাগলো।

মামুন দেখলো পঞ্জাবি পরা ঘন চাপদাড়িঅলা একজন। মাথা ভর্তি ঝাঁকড়া চুল। এদিকেই আসছে। হাতে একটা মোটা চুরুট।

নাতাশা বললো, 'আবিদ মামা, তোমার জন্যেই বসে আছি!'

আবিদ মামা পাশে বসেই বললেন, 'তোর মিশন সফল হয় নাই?'

'আরেকটা নতুন শুরু করেছি!'

'কোনটা?'

'তোমার স্যারের সঙ্গে যে ছেলেটি গেছে, সে কোন ডিপার্টমেন্টের? নাম কি?'

'কেন, তোকে বলিনি?' বলে আবিদ মামা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলেন নাতাশার দিকে।

নাতাশা অবাক হয়ে বললো, 'কখন বললে? তুমি তো আসছি বলেই চলে গেলে!'

'হবে হয়তো!' বলে, চুরুটে টান দিলেন তিনি।

মামুন ব্যাস্ত ভাবে বলে উঠলো, 'ছেলেটা কোন ডিপার্টমেন্টের? কোন ইয়ারের?'

'ফিজিক্স সেকেন্ড ইয়ার!'

'নামটা প্লিজ!'

অতি আগ্রহে মামুন আবিদ মামার একটা হাত চেপে ধরে।

নিজের মাথায় টোকা দিতে দিতে ঘনঘন চুরুটে টান দিয়ে বিশ্রী গন্ধে চারদিক কলুষিত করে আবিদ মামা বললেন, 'আজান না সাজান, পরিষ্কার মনে নেই!'

'নাকি মিজান? ঠিক করে বলো!' নাতাশা বললো।

'হতে পারে! খেয়াল নেই!'

তারপরই নাতাশার সামনে থেকে চায়ের কাপটা তুলে নিয়ে বললেন, 'চা নিয়েই বসে আছিস দেখছি!'

প্রায় ঠান্ডা চা'টা দু'তিন চুমুকে সাপটে দিয়ে বললেন, 'চলি!'

মামুন মনেমনে বললো, ওহ খোদা! ছেলেটা যেন মিজানই হয়!

তারপর অস্থিরভাবে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে পড়লো মামুন। পেছন পেছন নাতাশাও ছুটতে ছুটতে এলো।

মামুন হঠাৎ বললো, 'আমার ক্লাসে আজান-সাজান দূরের কথা, নিজাম বা আজিম নামেরও কেউ নেই! ছেলেটা মিজান না হয়েই পারে না! আচ্ছা বলো তো কিভাবে কনফার্ম হতে পারি?'

মিজানের এই ছেলেমানুষীটুকু খুবই ভালো লাগছিলো নাতাশার। হাসি মুখে বললো, 'আগে খোঁজ নাও মিজানের পাসপোর্ট আছে কি না! থাকলে সেটা ঘরে আছে কি না! ওদের টেলিফোন আছে তো?'

'লাইন নষ্ট!'

'তা ছাড়া কোন হাসপাতালে পেশেন্ট আছে সেটা জেনে নিয়ে যোগাযোগ করতে পারো!'

তারপর কি ভেবে নিয়ে সে আবার বললো, 'বাবা পিজির কার্ডিওলজিস্ট। তাঁর কাছ থেকেই জেনে নেবো!'

'তাহলে চল, এখনি যাই!'

'তুমি যাও মিজানের বাড়িতে। আমি বাবার কাছে গিয়ে খোঁজ নেই! বিকেল চারটায় পিজির গেটেই থাকবো! তুমি এসো!'

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829024 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28829024 2008-08-09 14:15:33
মধুনিশা-১৩
য়্যুনিভার্সিটি বাস থেকে নামতেই ছুটে এলো ফৌজিয়া। 'মামুন!'

ফৌজিয়ার উদভ্রান্ত চেহারা দেখে থমকে যায় মামুন।

তারপর বললো, 'কোথাও গিয়ে বসি। তারপর খুলে বলো!'

মামুনের নরম কথায় ফৌজিয়ার অন্তর্গত কান্না উথলে উঠলেও কাঁদতে পারে না সে। শুধু একটা বোবা যন্ত্রণা পাক খেয়ে গলা দিয়ে উপরে উঠে আসতে চাচ্ছে।

মামুন অপেক্ষা করে ফৌজিয়ার কান্না দমনের প্রচেষ্টা দেখে। দেখে একজন সংযত নারীর আত্মপীড়ন।

কিছুক্ষণ পর নিজকে সামলে নিয়ে ফৌজিয়া বললো, 'মিজানকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না!'

কথাটা শুনে ভীষন ভাবে চমকে উঠে মামুন। মাত্র কয়েকদিন আগেই না দেখে এলো তাকে! আর এরই মাঝে এত কিছু হয়ে গেলো?

মামুনের হতবিহ্বলতা দেখে ফৌজিয়া আবার বললো, 'তুমি জান না কিছু?'

'কি করে? আমাকে তো কিছু জানায়নি!'

'সত্যি জান না?'

মামুন মাথা নাড়াতেই ফৌজিয়ার চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে।

মামুন কোনো সান্ত্বনা দেয় না তাকে। অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর বললো, 'চোখ মোছো! ব্যাপারটা কবে থেকে জানতে পারলে?'

ফৌজিয়া চোখ মুছে বললো, 'সেদিন ক্লাস করে আর বাড়ি ফেরেনি!'

'তাই তো ভাবি, ও ক্লাসে আসছে না কেন? কিন্তু তুমি জানলে কিভাবে?'

'কাল গিয়েছিলাম! আমাকে দেখে মিজানের আম্মা জিজ্ঞেস করলেন মিজানের কথা। আমি বললাম, ও তো দুুদিন ধরে ক্লাস করছে না! অমনি তিনি কাঁদতে আরম্ভ করলেন। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন যে, এমন কোনো জায়গা বাদ রাখিনি যে মিজানের খোঁজ করিনি! আমাকে না বলে তো কোথাও যাবার ছেলে নয়!'

'থানায় খোঁজ নিয়েছে?'

'জিজ্ঞেস করিনি!'

মামুন বিরক্ত হয়ে বললো, 'তুমিও জিজ্ঞেস করোনি?'

ফৌজিয়া কাতর হয়ে বলে, 'আমি কিরবো? তিনি তো শুধুই কাঁদেন! এমন অবস্থায় কিছু জিজ্ঞেস করা যায়?'

'ওর ভাই-ভাবি কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারতে!'

'ওর কোনো ভাই-ভাবির সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আর ওদের কেউ জানলে অবশ্যই বলতো!'

'ঠিক আছে, আমিই যাচ্ছি!'

মামুন যেতে উদ্যত হলে ফৌজিয়া বললো, 'আমিও যাবো!'

'খামোখা গিয়ে কি করবে তুমি?'

'তবুও যাবো!'

'ঠিক আছে!'

আফতাব বললো, 'কোথায় যাস? ক্লাস করবি না?'

'না!'

আফতাব কিছু বুঝতে না পেরে কেমন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো। ব্যাপারটা দেখে মামুন বললো, 'একটা জরুরি কাজে মিজানদের বাড়ি যাচ্ছি!'

আফতাব কিছু বললো না।

ফৌজিয়া বললো, 'বেবিট্যাক্সিতে চলো! সময় কম লাগবে!'

'আমার কাছে অত টাকা হবে না!'

'আমার কাছে আছে!'

মামুন কোনো মন্তব্য করে না।

মিজানদের বাড়ি আসতেই ওরা মিজানের মায়ের মুখোমুখি হয়। তাঁর চোখ দুটো ফুলে আছে। বোঝাই যাচ্ছে কান্না তাঁর থামেনি। চোখের ভেতরের সাদা অংশগুলো কেমন লাল লাল হয়ে আছে।

ফৌজিয়া বললো, 'মিজানের কোনো খোঁজ পাওয়া গেছে?'

'না, মা!' বলে তিনি আঁচলে দু'চোখ চেপে ধরলেন।

'থানায় জানিয়েছেন?'

জানতে চাইলো মামুন।

'ওরা এখনো কিছু জানতে পারেনি!'

'পত্রিকায় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দিলে মনে হয় ভালো হতো!'

'আজ ছবি নিয়ে গেছে!'

তারপর 'কী আর হবে!' বলে তিনি অঝোরে কাঁদতে লাগলেন।

মামুন বললো, 'আন্টি, আপনি কাঁদবেন না! মিজান ঠিকই ফিরে আসবে!'

কিন্তু তিনি থামলেন না। আরো শব্দ করে কেঁদে উঠলেন। 'আমার মন বলছে অন্য কথা!'

'দিদা তুমি আবার কান্না শুরু করলে?' বলে, কিমি এসে তাঁর গা ঘেঁষে দাঁড়ালো।

পর্দার আড়াল থেকে কোনো নারী কন্ঠ কিমিকে ডাকতেই সে ভেতরে চলে গিয়েও আবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে আসে।

তারপর ফৌজিয়ার কাছে গিয়ে বললো, 'আম্মু তোমাকে ডাকছে!'

ফৌজিয়া ভেতরের দিকে চলে গেলে মামুন বললো, 'আন্টি, আপনাদের এমন কোনো আত্মীয় আছে, যারা ঢাকা থেকে অনেক দূরে আছে?'

আন্টি চোখ মুছতে মুছতে বললেন, 'না। সব আত্মীয় ঢাকাতেই! দূরের যারা, সবাই বাংলাদেশের বাইরে!

'মিজান যেদিন যায়, সেদিন ওর সঙ্গে টাকা-পয়সা বেশি ছিলো?'

'না। তবে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলেছে কিনা জানি না!'

মামুন কিছুটা হতাশার সুরে বললো, 'কোথায় যেতে পারে, আমার মাথায় কিছু আসছে না!

ওর অন্যান্য বন্ধুদের জিজ্ঞেস করে দেখি। আপনি টেনশন করবেন না! এক্ষুনি যাচ্ছি! ফৌজিয়া কোথায়?'

'দেখছি, তুমি বস!'

তিনি চলে গেলে মামুন ভীষন একা হয়ে পড়ে। মনে হয় সে এখানে যুগযুগ ধরে বসে আছে।

কিছুক্ষণ পর ফৌজিয়া এসে বললো, 'আমাকে কি দরকার?'

'এখনই বেরুতে হবে!'

'খালাম্মা বলছিলেন একটু দেরি করতে!'

'সময় নেই! দেরি হলে সবাইকে পাওয়া যাবে না!'

সঙ্গে সঙ্গেই ফৌজিয়া বলে, 'চলো!'

বেরিয়ে এসে ওরা বেবিট্যাক্সি বা মিশুক কোনোটাই পায় না। বাধ্য হয়েই তাদেরকে রিকশায় চড়তে হয়। রিকশা ঘুরে পাটুয়াটুলী পার হতেই মামুন বললো, 'মিজানের বন্ধুদের সবাইকে চেনো?'

ফৌজিয়ার মুখে অন্ধকার ঘনায়। 'সবাইকে না, দু'চারজনকে চিনি!'

'তাদের কাছে কিছু জানা যেতে পারে!'

'ওরা তোমার মত অতটা ক্লোজ না!'

ফৌজিয়ার কন্ঠর নিরুত্তাপ শোনায়।

'সব সময় দেখে বোঝা যায় না! ওর একটা গাঁজাখোর বন্ধু আছে! তার সঙ্গেও কোনো ভেজাল হতে পারে!'

ফৌজিয়া শঙ্কিত কন্ঠে বললো, 'কে সেটা?'

'আমি জানি না! অনেক চাপাচাপি করেও নাম বের করতে পারিনি!'

ভার্সিটিতে এসে পাগলের মত বিভিন্নজনকে খুঁজে বেড়ালো ওরা। কিন্তু মিজানের কোনো হদিস বের করতে পারলো না। তবে সেই বন্ধুটার নাম জানা গেলো বিজন। মাস্টার্সের ছাত্র। বর্তমানে জেলে আছে।

মামুন ঠিক করলো যে, সে জেলখানায় যাবে বিজনের সঙ্গে দেখা করতে।

তারপর ফৌজিয়াকে বললো, 'পঞ্চাশটা টাকা দাও তো!'

ফৌজিয়া মামুনকে আশ্বস্ত করে বলে, 'আমি তো সঙ্গে আছি! তুমি ভেবো না!'

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28828588 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28828588 2008-08-08 01:32:57
মধুনিশা-১২
মামুন বলে, 'এভাবে বোবার মত বসে থেকে কোন মজাটা তুই পাস?'

'কোনোটাই না।'

তারপর আবার বলে, 'আচ্ছা তুমি আজকাল থাকো কোথায়? রাত ছাড়া তোমাকে পাওয়াই যায় না!'

'কেন? তোর মাথায় গাট্টা পড়ে না বলে খারাপ লাগে? নাকি অন্য কোনো গন্ডগোল পাকিয়েছিস?' বলে, মিটিমিটি হাসতে থাকে মামুন।

'তোমার শুধু ফাজলামো কথা!' রেগে উঠলো মিঠু। 'আমি তেমন কিছু বলেছি নাকি?'

'তাহলে কি বলবি?'

মিঠু হঠাৎ আনমনা হয়ে যায় যেন।

তারপর কেমন উদাস কন্ঠে বলে, 'আচ্ছা, বাবার কথা কি মনে আছে তোমার?'

'হঠাৎ এ কথা কেন?'

মামুন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে বোনের দিকে।

'বলো না, মনে আছে কি না!'

'মনে থাকলে কি হবে? আর না থাকলেই বা কি হবে?'

'কথা প্যাঁচাচ্ছো কেন? আচ্ছা, তোমাকে কিছুই বলতে হবে না!' বলে মিঠু উঠে পড়ে।

মামুন দু'হাত তুলে থামানোর ভঙ্গি করে বললো, 'আচ্ছা, আর প্যাঁচাবো না! কি বলছিলি বল!'

'বাবা দেখতে কেমন ছিলেন?'

'পরিষ্কার মনে নেই।'

'বাবাকে দেখনি?'

'যতটুকু দেখেছি মনে থাকার মত নয়!'

'যদ্দুর মনে আছে তাই বল!'

মামুন যেন ভাবনায় পড়ে যায়। মিঠুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেও সে বুঝতে পারে যে, তার দৃষ্টি সুদূর কোনো এক অতীতের গহ্বরে হামাগুড়ি দিয়ে ফিরছে। যেখান থেকে সম্ভবত: বাবার স্মৃতি হাতড়ে নিয়ে ফিরে আসবে।

বেশ কিছুক্ষণ পর মামুন বললো, 'আর ছ'সাত বছর পর ভাইজানের চেহারা দেখতে যেমন হবে বাবাকে অনেকটা তেমনই দেখেছি!'

'বাবার কোনো ছবিটবি নেই?'

'এখন আর নেই!'

মামুনের একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে।

'কেন নেই?'

মিঠুর কন্ঠেও জেদ।

'হারিয়ে গেছে। পুরোনো সুটকেসটার ভেতর একটা পাসপোর্ট সাইজ ফোটো দেখেছিলাম। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি!'

মিঠুর মনে হলো যে, ওই ছবিটাই মাসুদের কাছে ছিলো। স¤প্রতি যা সত্যি সত্যিই হারিয়ে গেছে।

'মিঠু! মিঠু!'

মাসুদের কন্ঠস্বরে নিজের নাম শুনতে পেয়ে মিঠু উঠে গেল।

বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে মিতার ডায়রিটাই দেখছিলো মাসুদ। মিঠুকে দেখতে পেয়েই বললো, 'মা কি শুয়ে পড়েছে?'

'মনে হয় না!'

'জেগে থাকলে ফ্লাক্স থেকে একটু চা নিয়ে আয়!'

মিঠু চলে গেল। সে জানে যে মায়ের ফ্লাক্সে আজকাল চা থাকে না। রাতের বেলা তিনি এখন এক কাপ চা-ও খান না। সে কথা মাসুদ জানে না।

মিতার লেখা কবিতাগুলো পড়তে ভালোই লাগছিলো মাসুদের। একটু উৎসাহ পেলে মেয়েটা আরো ভালো করতে পারবে।

রান্নাঘরে গিয়ে চুলো জ্বালিয়ে কেটলিতে গরম পানি বসিয়ে দিয়ে একটা কাপে দুধ-চিনি ঢেলে সে ফিরে আসে মায়ের কাছে। মা বসে বসে চোখ বুঁজে তসবি-দানা জপছিলেন। তাই সে কিছু না বলেই রান্নাঘরে ফিরে এলো। পানি ফুটতে আরম্ভ করলে চা বানিয়ে ফের মাসুদের ঘরে যায় সে।

মাসুদের সামনে চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে মিঠু বললো, 'চা করেই নিয়ে এলাম!'

'তুই আবার ঝামেলা করতে গেলি কেন?'

'খারাপ লাগেনি তাই!'

'গুড!'

'মিতাপার কবিতা কেমন দেখলে?'

'চমৎকার!'

'হিংসে হয় না?'

'তা তো একটু হয়ই!'

তারপর একটি কবিতা দেখিয়ে মাসুদ বললো, 'এটা পড়ে দেখ, আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে! সামনের সপ্তাহেই ছেপে দেবো!'

কবিতাটা পড়ে মিঠু বললো, 'কেমন যেন কান্না আর হাসি পাশাপাশি। রেল লাইনের মত!'
'ভালো বলেছিস!'

তারপর নিজেই কবিতাটির একটি কপি করলো। মিতার মনোয়ারা বেগম এর বেগম ছেটে দিয়ে সামনে দিয়ে মিতা বসিয়ে দিলে নামটা দাঁড়ালো মিতা মনোয়ারা।

মিঠু বললো, 'এটা কি ভালো হবে?'

'হবে। এ নামের একজনই হবে। কবি সাহিত্যিকদের নাম কিছুটা আনকমন থাকলেই ভালো!'

ডায়রিটা মিঠুকে ফেরত দিয়ে মাসুদ আবার বললো, 'যেগুলোতে টিক মার্ক দিয়ে দিয়েছি, সেগুলো যেন কাগজের একপৃষ্ঠায় সুন্দর করে লিখে দেয়!'

'লেখাগুলো ছাপা হবে তো?'

'যেদিন হবে তোকে জানাবো!'

মিঠু ডায়রি নিয়ে চলে গেলে মাসুদ সদ্য কপি করা মিতার কবিতাটা ব্যাগের ভেতর রেখে দেয়। সকালে যাওয়ার সময় ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28828378 http://www.somewhereinblog.net/blog/juliansiddiqi/28828378 2008-08-07 14:44:00
মধুনিশা-১১
লিজা বললো, 'কিরে হারামজাদা, চোখে দেখিস না যখন সানগ্লাস পড়িস কেন?'

আফসানা এগিয়ে এসে যুবকের চোখ থেকে সানগ্লাসটা খুলে নিয়ে বললো, 'কালো কাচের জন্য দেখতে পায়নি!'

আশপাশ থেকে কয়েকজন অতি উৎসাহী যুবক এগিয়ে এসে বললো, 'ছেড়ে দেন ম্যাডাম, সাইজ করে দেই!'

ওরা এতক্ষণে খেয়াল করলো ওদের ঘিরে থাকা ভিড়টাকে।

আফসানা বললো, 'পাবলিকের হাতে সাইজ হওয়ার আগেই পালান। ভদ্রলোকের মত পথ চলতে শিখবেন!'

যুবক টলতে টলতে উঠে দাঁড়ালো।

তারপর ভিড় ঠেলে বেরিয়েই এক ছুটে রাস্তা পেরিয়ে জনারণ্যে মিশে গেল। পেছন থেকে কয়েকজন বলে উঠলো, ধর ধর!

ব্যাপারটা এতই দ্রুত ঘটলো যে, মিতা কিছুই বুঝতে পারছিলো না। সে কেমন বোকার মত তাকিয়ে থাকলো লিজার দিকে। কোনো মেয়ে কোনো ছেলেকে খোলা রাস্তার উপর মারছে দৃশ্যটা যেমন অভিনব, তেমনই অবিশ্বাস্যও। এমন দৃশ্য সিনেমার বাইরে এই প্রথম তার চোখের সামনে ঘটতে দেখলো।

লিজা বললো, 'ভয় নেই আপা! আমি মার্শাল লিজা। অমন পাঁচ-সাতজনের হাড্ডি ভাঙা আমার কাছে কাঠি ভাঙার মতই সহজ!'

মিতা লিজার কথার আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারে না।

কিছুক্ষণ পরই কলরব করতে করতে দলটা মার্কেটের ভেতর ঢুকে গেল।

হঠাৎ মিতা বললো, 'আফসানা, চশমাটা রেখেই দিলে?'

আফসানা জিভে কামড় দিয়ে বললো, 'উত্তেজনার বশে হাতেই রয়ে গেছে!' চশমাটা সে ছুঁড়ে দিলো একটা ওয়েস্টবাস্কেটে। আর সঙ্গে সঙ্গেই একটা ছোট ছেলে তা তুলে নিলো।

লিজা বললো, 'বিক্রি করলে বিশ-পঁচিশ টাকা পাওয়া যেতো!'

'লুটের জিনিসের প্রতি লোভ থাকতে নেই!'

তাদের চলার সময় আশপাশের দোকানে বসা লোকজন বলতে লাগলো, 'আসেন আপা, কি লাগবো? বিদেশী স্যাম্পল আছে। থাইল্যান্ডের মালও দিতে পারমু!' ইত্যাদি।

ওরা এ দোকান সে দোকান ঘুরে অনেক কিছুই নেড়েচেড়ে দেখলো। কিন্তু কিনলো না কিছুই। তবে, একটি সুন্দর কলম দেখে পছন্দ হয়ে যাওয়াতে কিনে ফেললো মিতা।

আফসানা বললো, 'এটা কি করলে? আমাদের তো কিছু কিনবার কথা ছিলো না!'

মিতা হাসলো। 'অনেক কিছু করার কথা না থাকলেও হয়ে যায়। এই যেমন, তোমরা রাস্তা-ঘাটে মারামারি করবে আগে থেকে প্ল্যান করা ছিলো না!'

লিজা বললো, 'মিতা'পা কি আমাদের বখাটে ভাবছেন?'

'আরে না! সব কিছু যে প্ল্যান মাফিক হয় না তা বোঝাতেই কথাটা বললাম!'

ওরা মার্কেট থেকে বেরিয়ে সিনেমা হলে এসে দেখলো খুবই ভীড়। লোকজন গিজগিজ করছে। টিকেট ব্ল্যাকাররা দু’হাতে টিকেট উঁচিয়ে ধরে বিভিন্ন রকমের দাম বলে চ্যাঁচাচ্ছে।

আফসানা বললো, 'ব্ল্যাকে টিকেট কিনলে অনেক দাম পড়ে যাবে!'

লিজা বললো, 'ব্ল্যাকে কেন? লেডিজ কাউন্টার আছে কিসের জন্য?'

'কাউন্টারের দিকে যাবো কিভাবে?'

'এগিয়ে যাও! এমনিই পথ পেয়ে যাবে!'

লিজা আগে বাড়লো। ''ভাইয়া, একটু সরেন তো প্লিজ!'

সত্যি সত্যিই ফাঁকা হয়ে গেল।

আসলে মানুষ