somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

শতবর্ষ আগে এলিফ্যান্ট রোড ছিল হাতির চারণভূমি

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শতবর্ষ আগে এলিফ্যান্ট রোড ছিল হাতির চারণভূমি

যুগ-যুগান্তের ইতিহাস ঐতিহ্যের ভাণ্ডার আমাদের এই প্রিয় ঢাকা নগরী। ঢাকার প্রতিটি এলাকায় লুকিয়ে আছে ঐতিহ্যমণ্ডিত নানা স্মৃতি। প্রতিটি গলি থেকে রাজপথের রয়েছে একেক ইতিহাস। এমনিভাবে একেক এলাকা একেক স্মৃতি ধারণ করে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় জেগে আছে ঢাকা শত শত বছর ধরে। তেমনি এক বিখ্যাত এলাকা ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড। অনেকের কাছে যা হাতিরপুল এলাকা নামে পরিচিত।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, পীল অর্থ হাতি আর পীলখানার পুরো শব্দের অর্থ হাতিশালা। বর্তমান পিলখানা বি ডি আর হেডকোয়ার্টার মোঘল পুর্ব আমল থেকেই হাতিশালা ছিল। পিলখানা থেকে মোগল সম্রাটরা বর্তমান হাতিরপুল এরাকায় হাতি চলাচলের জন্য ইস্টার্ন প্লাজা ও পরিবাগের বরাবর একটি বিশাল সেতু বা পাকা পুল নির্মাণ করেন হাতি পারাপারের জন্য, যা পরবর্তীতে হাতিরপুল নামে পরিচিতি লাভ করে। তৎকালীন বৃটিশ সরকারের শেষ সময়ে ঐ স্থানে রেললাইন নির্মাণকালে হাতিরপুলটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। এক সময় এলিফ্যান্ট রোড দিয়ে শত শত হাতির পাল চড়িয়ে বেড়াতেন মাহুতরা। হাতিগুলোকে চারণভূমিতে নিয়ে যাবার জন্য যে রাস্তা ব্যবহার করা হতো, পরবর্তীতে এই রাস্তার নামকরণ করা হয় এলিফ্যান্ট রোড। মূলত ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল পীলখানার অঞ্চল জুড়ে হাতির আবাসভূমি গড়ে তোলা হয়। এক সময় ঢাকায় হাতির আধিক্য ছিল খুবই। সরকারি পীলখানা ঢাকায় থাকার এটাও একটা অন্যতম কারণ। এখানে মোগল পুর্ব আমল থেকেই হাতি লালন-পালন শুরু হয়।

এককালে নদীতে হাতি গোসল কিংবা চড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। প্রখ্যাত লেখক এস এম তাইফুরের লেখা "প্রাচীন ঢাকার ইতিহাস" বই থেকে জানা যায়, ১৮৬৪ সালে লেফটেন্যান্ট গভর্নর চার্লস এলিয়ট ঢাকায় এলে ঢাকা কমিটির সদস্যরা তার নিকট হাতির উৎপাত সম্পর্কে জানান এবং এর প্রতিকার দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর ঢাকার বিস্তীর্ণ রমনা এলাকাকে হাতি চরানোর জন্য নির্দিষ্ট করেন। রমনার আশপাশের কয়েকটি ক্যানেলও সৃষ্টি করা হয় হাতির গোসলের জন্য। এছাড়াও ঢাকার লালবাগের নবাবগঞ্জ এলাকায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে আরেকটি ঘাট তৈরি করা হয় হাতির গোসলের জন্য। যা আজও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে হাতিরঘাট বলে সুপরিচিত। মূলত পীলখানায় বন্য হাতিকে পোষ মানানোর জন্য পাঠানো হতো। পোষ মানার জন্য নির্ধারিত ফিসও জমা দিতে হতো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। মুঘল আমলে শহরের দক্ষিণাংশে ছিল আরো একটি সুবিশাল পীলখানা। সরকারি হাতির পাশাপাশি এখানে বহু জমিদার ভাড়া দিয়ে তাদের হাতি পুষতেন।

কিংবদন্তীর লেখক নাজির হোসেনের ঢাকার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৮০০ সালের ঢাকা ছিল মূলত সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঘেরা সুশীতল ছায়ানিবিড় অঞ্চল। আজকের জনবহুল এলিফ্যান্ট রোড এলাকাটি ছিল জনমানবশূন্য বিশাল আকৃতির গাছ-গাছালিতে ঘেরা ছোটখাট বনাঞ্চল। পরবর্তীতে গাছ-পালা কেটে হাতি চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়। এরও বহু পরে এখানে বিচ্ছিন্নভাবে বসতি গড়ে উঠতে থাকে। আজকের চাকচিক্যপূর্ণ যানজটে রুদ্ধ এলিফ্যান্ট রোড দেখলে বিশ্বাস করাই কঠিন যে, আজ থেকে এক-দেড়শশ' বছর আগেও এখানে বনজঙ্গল ছিল। ছিল শত শত হাতির বিচরণ ক্ষেত্র।



(তথ্য সূত্রঃ ঢাকার ইতিহাস, লেখকঃ নাজির হোসেন)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৩
৪১টি মন্তব্য ৪৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×