আমার প্রিয় পোস্ট
- কম সময়ে একসাথে আপলোড করে ব্লগে অনেক অনেক ছবি দেওয়ার অনেকগুলো উপায় (নতুনদের জন্য) - সাইফুলহাসানসিপাত
- বাংলা ব্লগের বিভাজন রেখা : কর্পোরেট বনাম ইনডিপেন্ডেন্ট ব্লগ - মাহবুব মোর্শেদ
- একদিন, দেখে নিও! - সুলতানা শিরীন সাজি
- ব্যাবিলনের শুন্যোদ্যান ( Hanging Garden of Babylon) - বীরেনদ্র
- ব্লগ রাজনীতি ও ব্লগের রাজনীতি - একরামুল হক শামীম
- বেগম আখতার গানের জগতের সম্রাজ্ঞী। - সুরঞ্জনা
- জেগে ওঠো মানুষ, বেঁচে উঠুক তিতাস - অন্যমনস্ক শরৎ
- সামুর বেশকিছু টেকি , টিপস এন্ড ট্রিকস এবং দরকারি পোস্টের সংকলন

- রবিন মিলফোর্ড
- ফিরে দেখা ২০১১ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- আমার ছানা পাখীর লেখা গল্প " মুক্তিযোদ্ধার গল্প" পড়ে আমি নিজেই মুগ্ধ - মেহবুবা
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র : জনপ্রিয় কিছু অনুষ্ঠান ও তাদের নেপথ্যের কুশলীরা - দস্যু রত্নাকর
- ১৯৭১ , জেড ফোর্সের মুক্তিযুদ্ধ : জিয়া-শাফায়াত-মইন-আমিনুলদের যুদ্ধ দিনের গল্প জানুন ছবি আর বর্ননায়........ - দাসত্ব
- স্মৃতির পাতা থেকে........ - নাআমি
- খনা : এক ক্ষণজন্মা কিংবদন্তীর দুঃখগাথা - ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন
- ক্যাট স্টিভেন্স থেকে ইউসুফ ইসলাম - অসম্ভব জনপ্রিয় এক নওমুসলিমের ইতিকথা - কবির চৌধুরী
- ব্যাক্তি নিরাপত্তা ও আমরা কি করবো। - জুন
- জেনে নিন আপনি সামহোয়্যারের কত নাম্বার ব্লগার {(যারা জানেনা তাদের জন্য) সম্পূর্ণ আজাইড়া পোস্ট} - অণুজীব
- দেখা হবে আবার, এই সামহয়্যারইন, এই মায়াবীবৃক্ষের তলায় - সুনীল সমুদ্র
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- ·٠•●♥♫♫♫ "লালন" - পোস্ট সংকলন ♫♫♫·•●♥ ·٠ - কবির চৌধুরী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি - চার্ত্রুজ-বী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি .... ২য় খন্ড - চার্ত্রুজ-বী
- শব্দ কল্প দ্রুম -৩ - বোকা ছেলে
- আজম খানকে নৈবেদ্য - তাঁর কীর্তি সমগ্র - কবির চৌধুরী
- আঁধারপ্রেমী - অনিক
- ২০০ বছরের পরাধীনতা এবং আমাদের তথাকথিত ওয়ার সিমেট্রী: পর্ব - ১ - মিলটন
- ডঃ ইউনুস ও আমার দেখা একটি সিনেমার কাহীনি - মুরশীদ
- মাতৃভাষা আন্দোলনের সেই সব সূর্যসন্তানেরা...... - রেজোওয়ানা
- - হৃদয়ের কথা-নির্মম বাস্তবতা আর রূপকথা - মানবী
শতবর্ষ আগে এলিফ্যান্ট রোড ছিল হাতির চারণভূমি
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
শতবর্ষ আগে এলিফ্যান্ট রোড ছিল হাতির চারণভূমি
যুগ-যুগান্তের ইতিহাস ঐতিহ্যের ভাণ্ডার আমাদের এই প্রিয় ঢাকা নগরী। ঢাকার প্রতিটি এলাকায় লুকিয়ে আছে ঐতিহ্যমণ্ডিত নানা স্মৃতি। প্রতিটি গলি থেকে রাজপথের রয়েছে একেক ইতিহাস। এমনিভাবে একেক এলাকা একেক স্মৃতি ধারণ করে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় জেগে আছে ঢাকা শত শত বছর ধরে। তেমনি এক বিখ্যাত এলাকা ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড। অনেকের কাছে যা হাতিরপুল এলাকা নামে পরিচিত।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, পীল অর্থ হাতি আর পীলখানার পুরো শব্দের অর্থ হাতিশালা। বর্তমান পিলখানা বি ডি আর হেডকোয়ার্টার মোঘল পুর্ব আমল থেকেই হাতিশালা ছিল। পিলখানা থেকে মোগল সম্রাটরা বর্তমান হাতিরপুল এরাকায় হাতি চলাচলের জন্য ইস্টার্ন প্লাজা ও পরিবাগের বরাবর একটি বিশাল সেতু বা পাকা পুল নির্মাণ করেন হাতি পারাপারের জন্য, যা পরবর্তীতে হাতিরপুল নামে পরিচিতি লাভ করে। তৎকালীন বৃটিশ সরকারের শেষ সময়ে ঐ স্থানে রেললাইন নির্মাণকালে হাতিরপুলটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। এক সময় এলিফ্যান্ট রোড দিয়ে শত শত হাতির পাল চড়িয়ে বেড়াতেন মাহুতরা। হাতিগুলোকে চারণভূমিতে নিয়ে যাবার জন্য যে রাস্তা ব্যবহার করা হতো, পরবর্তীতে এই রাস্তার নামকরণ করা হয় এলিফ্যান্ট রোড। মূলত ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল পীলখানার অঞ্চল জুড়ে হাতির আবাসভূমি গড়ে তোলা হয়। এক সময় ঢাকায় হাতির আধিক্য ছিল খুবই। সরকারি পীলখানা ঢাকায় থাকার এটাও একটা অন্যতম কারণ। এখানে মোগল পুর্ব আমল থেকেই হাতি লালন-পালন শুরু হয়।
এককালে নদীতে হাতি গোসল কিংবা চড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। প্রখ্যাত লেখক এস এম তাইফুরের লেখা "প্রাচীন ঢাকার ইতিহাস" বই থেকে জানা যায়, ১৮৬৪ সালে লেফটেন্যান্ট গভর্নর চার্লস এলিয়ট ঢাকায় এলে ঢাকা কমিটির সদস্যরা তার নিকট হাতির উৎপাত সম্পর্কে জানান এবং এর প্রতিকার দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর ঢাকার বিস্তীর্ণ রমনা এলাকাকে হাতি চরানোর জন্য নির্দিষ্ট করেন। রমনার আশপাশের কয়েকটি ক্যানেলও সৃষ্টি করা হয় হাতির গোসলের জন্য। এছাড়াও ঢাকার লালবাগের নবাবগঞ্জ এলাকায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে আরেকটি ঘাট তৈরি করা হয় হাতির গোসলের জন্য। যা আজও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে হাতিরঘাট বলে সুপরিচিত। মূলত পীলখানায় বন্য হাতিকে পোষ মানানোর জন্য পাঠানো হতো। পোষ মানার জন্য নির্ধারিত ফিসও জমা দিতে হতো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। মুঘল আমলে শহরের দক্ষিণাংশে ছিল আরো একটি সুবিশাল পীলখানা। সরকারি হাতির পাশাপাশি এখানে বহু জমিদার ভাড়া দিয়ে তাদের হাতি পুষতেন।
কিংবদন্তীর লেখক নাজির হোসেনের ঢাকার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৮০০ সালের ঢাকা ছিল মূলত সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঘেরা সুশীতল ছায়ানিবিড় অঞ্চল। আজকের জনবহুল এলিফ্যান্ট রোড এলাকাটি ছিল জনমানবশূন্য বিশাল আকৃতির গাছ-গাছালিতে ঘেরা ছোটখাট বনাঞ্চল। পরবর্তীতে গাছ-পালা কেটে হাতি চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়। এরও বহু পরে এখানে বিচ্ছিন্নভাবে বসতি গড়ে উঠতে থাকে। আজকের চাকচিক্যপূর্ণ যানজটে রুদ্ধ এলিফ্যান্ট রোড দেখলে বিশ্বাস করাই কঠিন যে, আজ থেকে এক-দেড়শশ' বছর আগেও এখানে বনজঙ্গল ছিল। ছিল শত শত হাতির বিচরণ ক্ষেত্র।
(তথ্য সূত্রঃ ঢাকার ইতিহাস, লেখকঃ নাজির হোসেন)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৪৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সেজুঁতি বড়ূয়া বলেছেন:
আপনার পোস্টগুলোর একটা স্পেশালিটি আছে। তাহলো-আপনার লেখা পড়া মানেই অনেক তথ্য উপাথ্য জানা, অনেক কিছু শেখা!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মামুনুর রহমান খাঁন বলেছেন:
ভাল লাগল। পারলে কিছু ছবি দিয়েন
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমার পোস্ট মুলতই পড়ার জন্য।
আমার কাছে সংগৃহীত পুরনো ঢাকার সাদা কালো ছবির একটা ফোল্ডার আছে। কিন্তু ছবিগুলো এড করতে পারছিনা।
যীশূ বলেছেন:
এ কারনেই হাতি নিয়া ঢাকার অনেক জায়গার নামই আছে।
লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন।
মুছাব্বির বলেছেন:
নামের ইতিহাস জানানোর জন্য ধন্যবাদ। ভাবতাছি আরো ১০০ বছর পরে এলিফ্যান্ট রোদের নাম কি হতে পারে।
লেখক বলেছেন: হয়ত চকবাজার/ধোলাইখাল জাতীয় কোন যায়গার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে এলিফ্যান্ট রোড!
মুছাব্বির বলেছেন:
*রোডের
লেখক বলেছেন: বুঝেনিয়েছিলাম-আপনার টাইপো হয়েছিল।
মেঘ দূত বলেছেন:
ভাল লাগল
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার লেখাটা ইতোমধ্যেই আমি দেখে এসেছি। অসাধারন চমতকার পোস্ট! লেখাটাকে আরো বেশী অর্থবহ করেছে বিরল ছবিগুলোর সংযোজন!!!
আপনার দেয়া সব ছবিগুলোই আমার কাছে আছে। আমাকে ছবিগুলো দিয়েছিলেন প্রফেসর ফ্রান্সিস রোজারিও।
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
হাতিরপুল-এলিফ্যান্ট রোড নামগুলো শুনলেই এর সংগে হাতির সংযুক্তির ব্যাপারটা জানতে কৌতূহল জাগত, আপনার লেখাটি পড়ে প্রকৃত ইতিহাস জানলাম।।।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হিমু।
হ্যা, নামের সাথে কিছু কিছু বাস্তবতা মিশে আছে। যেমন ঘোড়া শালে মোঘলদের ঘোড়া রাখা হত। হাতি বান্দায় হাতি বেঁধে রাখা হতো। কিন্তু ঘোড়া মারায় কোন ঘোড়া মারা হয়েছিল কিনা তা স্থানীয় লোকেরা জানেনা!
অঃটঃ ২/১ দিনের মধ্যেই তোমার সাথে ফোনে কথা হবে।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
মুখে মুখে শুনেছিলাম এমন কিছু গল্প........সত্যি ইতিহাসটা জানা হলো।
অনেক শুভকামনা ভাইয়া।
লেখক বলেছেন: তোমার এবং তোমাদের জন্যও অনেক শুভ কামনা বুবু।
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন:
আপনার এই লেখায় হাতিরপুল ও এলিফ্যান্ট রোড়ের প্রকৃত ইতিহাস জানা গেলো। চমৎকার একটা পোষ্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: পড়া এবং মন্তব্য করার জন্য তোমাকেও ধন্যবাদ আপু।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
তবে মুখে মুখে প্রচলিত ছিল ধানমন্ডী ধানের জন্য পিলখানা হাতিরপুল হাতির জন্য গুলশান বনানী ঘন বন ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি।
সঠিক ইতিহাস জানলাম ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধানমন্ডিতে কিন্তু সত্যি সত্যি ধান ক্ষেত ছিল। আমার শিশু বয়সে দেখেছি ডি আই টি নির্ধারিত ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বাইরে এখন যেখানে লালমাটিয়া, পিসি কালচার, ফিজিকাল কলেজ এলাকা সেখানে ঘন জংগল, ধান ক্ষেত।
শুভ কামনা।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
আমি স্বার্থপর বলেছেন:
হাতি মরলেও লাখ টাকা আর মরলে???
লেখক বলেছেন: বোধকরি মন্তব্য লেখায় আপনার টাইপো হয়েছে। আপনি লিখতে চেয়েছিলেন-"হাতি বাঁচলেও লাখ টাকা, মরলেও লাখ টাকা"!
লুকোচুরি বলেছেন:
এত দিন শুধু হাতির পুল, এলিফ্যান্ট রোড নাম শুনেছিলাম-আজ আপনার পোস্ট পড়ে এর প্রকৃত ইতিহাস জানলাম। অনেক ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি মদন বলেছেন:
নাইস লেখা। ভাইজা ঢাকার পূরান কিছু ছবির লিংক যদি দিতে পারেন ।
লেখক বলেছেন: আমি লিংক দিতে পারিনা। আপনার ই-মেইল এড্রেস জানালে ছবিগুলো সেন্ড করতে পারি।
স্পর্শহীন কিছুদিন বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম। দারুন লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
দাদুকে নিয়ে কাল এলিফ্যান্ট রোড গিয়েছিলাম। যখন বললাম, শ খানেক বছর আগে এই জায়গায় শিয়াল চরত, দাদু তো বিস্ময়ে হা হয়ে গেলো!হাতি চরত বললে আজ কি প্রতিক্রিয়া হবে কে জানে
লেখক বলেছেন: আজ দাদু টাশকী খাবে!
আমিতো শিশু বয়সে নীল ক্ষেত, ধানমন্ডি, ক্যান্টন্মেন্ট এলাকায় শিয়াল দেখেছি।
ম্যাক্স পেইন বলেছেন:
সেই!!!!
লেখক বলেছেন: আপনার প্রফাইলের ছবিটা চেঞ্জ করলেন কেন? আগেরটাই তো বেশ ছিল!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
টি_মৃদুল বলেছেন:
ভালো লাগলো
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: রামপুরা নিয়ে আলাদা একটা পোস্ট দেবো-ঢাকার ইতিহাসের আলোকে। এখন যদি বিষয়টা আলোচনা করি-তাহলে আর পোস্টের প্রয়োজনীয়তা থাকবেনা!
আপনাকে আরো কিছু দিন কৌতুহল তাড়িত করে রাখলাম!(ইমো হইবে)
লেখক বলেছেন: ইমন জুবায়ের চমতকার লিখেন। উনি আমার ব্লগাত্মীয়!!!(ইমো হইবে)
- স্বাধীনতার আগে কিন্তু এখানে একটা পূল ছিল রেললাইনের উপর দিয়ে, অনেকটা উড়াল পূল বা ফ্লাইওভারের মতো। হাতিরপূল বাজারের কাছে যে চৌরাস্তা সেখানে ছিল এর অবস্থান। ফুলবাড়িয়া থেকে রেললাইন এসে কাটাবন হয়ে এরপর সোনারগাও হোটেলের সামনে দিয়ে চলে গিয়েছিল তেজগাও রেলষ্টেশনে। আর পূলটি ছিল পরীবাগ - ভূতের গলী বরাবর অংশে। আমরা এটাকেই জানতাম হাতিরপূল হিসেবে। ছোটবেলায় বহুবার এটার উপর দিয়ে ভূতের গলিতে ছোটকাক্কার বাসায় বেড়াতে গেছি।
কমলাপূরে রেলষ্টেশন হওয়ার পর ফুলবাড়িয়া ষ্টেশন আস্তে ধীরে পরিত্যক্ত হয়। আমি যখনকার কথা বলছি সেসময় কয়লার ইঞ্জিন দিয়ে মালবাহী ট্রেন শান্টিং করা হতো এই লাইনে। ঠিক কবে এই পূলটি ভেঙ্গে ফেলা হয় আমার জানা নেই, তবে শুনেছিলাম স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গোলার আঘাতে এটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।
পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: রঞ্জু ভাই, আপনিও কিন্তু ইতিহাসের একটা ভগনাংশ! কারন, আপনি স্বচক্ষে দেখেছেন হাতির পুলের খন্ডিত ইতিহাস! আমিও কিন্তু আপনার মত অতটুকু দেখেছিলাম।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ধীবর বলেছেন:
ডিজুস আর হিংলিশের কল্যাণে নতুন প্রজন্ম যখন নিজেদের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে, তখন নাজির হোসেন আর জুলভার্ন ভাইয়ের যৌথ প্রয়াসে সেই বিস্মৃতায় ধাক্কাটা ভালোই পড়বে। এ রকম আরো শত শত নাজির বা জুলভার্ণকে আমাদের চাই। সেটা যদি হয় নতুন প্রজন্মের মধ্যে থেকে তাহলে তো আরো ভালো হয়। এমন কি ১৯৭৫ থেকে আশি পচাশি সাল পর্যন্তও ঢাবি, নিউমার্কেট আজিম্পুর, এলিফেন্ট রোড, ইস্কাটন, মগবাজার, ধানমন্ডি, বনানি, ইত্যাদি এলাকায় যান চলাচল এমনই সীমিত ছিল যে, প্রতিটি এলাকাকেই খুব বনেদি মনে হতো। চলাচল কম, সারা শব্দ কম, মনে হতো যেন মানুষই নেই। আর ধানমন্ডি ২ নং থেকে শুরু করে ২৭ নং পর্যন্ত, সাতমসজিদ সড়কে দুর্ঘটনার আশংকা ছাড়াই, সাইকেল চালানো শেখায় কোন অসুবিধা ছিল না। এসবই এখন গ্রিক উপকথার মতই গল্প। ধন্যবাদ জুলভার্ন ভাই। আপনার লেখা পড়ে সব সময় উপলব্ধি হয়, আরো কত কিছু জানার বাকি আছে আমার। জুলভার্ন ভাই কি একটু কস্ট করে, আপনার সংগৃহিত ছবিগুলি আমাকে মেইল করতে পারেন?
মামুনুর রহমান ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ, ঢাকার ইতিহাসের অমুল্য ছবিগুলি শেয়ার করার জন্য। এই ছবিগুলি দেখলে মনে হয়, আহা যদি টাইম মেশিনটা থাকতো তবে কিছুদিনের জন্য হলেও সে সময়টা ঘুড়ে আসা যেত। শুনেছি আমার দাদার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কেটেছে লালবাগ এলাকায়। তাই ঐ এলাকার পুরানো ছবি দেখলে মনে হয় নিশ্চই এই পথে এই প্রান্তরের কোন না কোন অংশে আমার দাদার পদধুলি অবশ্যই পড়েছে। ভাবতে বসে যাই, কেমন কেটেছিল তার দিন গুলো?
লেখক বলেছেন: সত্যি বলছি- প্রিয় লেখক ধীবর ভাইয়ের একটা কমেন্টসের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি! আপনার প্রতিটা মন্তব্য একটা গুরুত্বপুর্ণ পোস্ট হবার দাবী রাখে। আমি ধানমন্ডি এলাকায় থাকি-এক সময় ধানমন্ডি এলাকা ছিল 'সাইলেন্ট জোন'। এখন ঐ এলাকাকে 'নয়েজ জোন' বললে ভুল বলা হবেনা। অন্যান্য এলাকার অবস্থাতো তথৈবচঃ!
ছবুগুলো আমি আপনাকে সেন্দ করছি।
ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: ধীবর ভাই, আপনাকে ছবি সেন্ড করেছি।
মুরুববী বলেছেন:
অসম্ভব ভালো লিখেছেন। বহুদিন পরে একটা ভালো লেখা পড়লাম। অত্যান্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়ঊপযোগী লেখা।একেবারে সমস্যার মূলে হাত দিয়েছেন। লেখকের বক্তবের সাথে পুরোপুরি একমত। লেখাটিকে স্টিকি করা হোক
লেখক বলেছেন: 'মুরুব্বী' আমার জন্য দোয়া করবেন-যেনো সুস্থ্য থাকি এবং আপনাদের জন্য আরো লিখতে পারি।
কালপুরুষ বলেছেন:
খুব ভাল লাগলো আপনার লেখা। এই লেখকের সম্ভবত আরো একটা বই আছে রমনা পার্ক নিয়ে। বইটার নাম "রমনীয় রমনা"। আপনার কাছে কি বইটা আছে? থাকলে জানাবেন। আপনার এই ব্যতিক্রমীধর্মী লেখা অব্যাহত থাকুক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বাদসা ভাই।
হ্যা, নাজির হোসেন সাহেবের "রমনীয় রমনা" নামক আর একটা বই আছে, যা আমার সংগ্রহেও আছে। অবশ্যই 'ফেরত যোগ্য' হিসেবে পড়ার জন্য নিতে পারেন!
রাজীব বলেছেন:
হাতিরপুলের ইতিহাস জানার ইচ্ছা ছিল, জানা হলো। তবে এলিফেন্টরোড মানুষ ভুলে যেতে বসেছে। এলিফেন্টরোড বললে সবাই নিউ এলিফেন্টরোড (যা এখন কুদরত-ই-খুদা রোড) মনে করে।
লেখক বলেছেন: প্রকৃত এলিফ্যান্ট রোড কিন্তু মগবাজার রেল গেইটের পুর্ব পাশের রোড। যা এখনো আছে একই নামে। ১৯৫২ সনে হাতির পুল-কাঁটাবন ক্রসিং থেকে সাইন্স ল্যাব পর্যন্ত রোডের নাম করন করা হয় নিউ এলিফ্যান্ট রোড। যা বররমানে কুদরত-ই-খুদা সড়ক নামে অভিহিত।
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন:
সেজুঁতি বড়ূয়া বলেছেন: আপনার পোস্টগুলোর একটা স্পেশালিটি আছে। তাহলো-আপনার লেখা পড়া মানেই অনেক তথ্য উপাথ্য জানা, অনেক কিছু শেখা!
সত্যিই অনেক কিছুই শিখলাম।
লেখক বলেছেন: আপনাদের এমন এপ্রিসিয়েশন আমাকে ভালো কিছু লিখতে প্রেরণা যোগাবে।
তানভীর আহমেদ সজীব বলেছেন:
আরেকটি দুর্দান্ত তথ্যসমৃদ্ধ পোষ্ট। প্লাসায়িতমাহুতটুলিতে সেই সব হাতির মাহুতরা থাকতো নিশ্চয়ই
ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: হ্যা সজীব, তুমি ঠিক বলেছো-মাহুত টুলীতে পিলখানার যত্ত হাতি তাদের মাহুতরা থাকত।
তোমাকে ফোনে পাচ্ছিনা। একটা কল করবে?
ত্রিশোনকু বলেছেন:
১৯৬২/৬৩ তে বাবার হাত ধরে, বুয়েট (আহসানউল্লাহ ইনজিনিয়ারিং কলেজ) ক্যাম্পাস থেকে রেস কোর্স-রমনায় হাঁটতে গিয়ে বহুবার শুনেছি, বাবার মুখ থেকে এরকম কিছু। কিন্তু তথ্যসূত্র, উপাত্ত জানতাম না।বহুদিন পর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়াতে, গোছানো অবস্থায় পরিবেশন করতে ও সুত্র সরবরাহ করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বুমবুম বলেছেন:
Deer Park of Nawab of Dhaka – 1875 (A place at Shahbag where perhaps present day’s Ramna Park Located ) লেখক বলেছেন: চমতকার নস্টালজিক ছবি!
লেখক বলেছেন: আমি ছবি পাঠাচ্ছি।
আমি মদন বলেছেন:
কই ভাই দেন না ত ?
লেখক বলেছেন: গতকাল দুপুর একটার পর আমি আর লগ ইন করিনি-তাই আপনাদের মন্তব্যের রিপ্লাই দিতে দেরী হল।
সরি।
যারা যারা ছবি চেয়েছেন তাদের ছবি আজ সেন্ড করব।
লেখক বলেছেন: আশা করি ছবিগুলো পেয়েছেন।
আজনবী বলেছেন:
আপনি কেমন আছেন? অনেক ভাল লাগল আপনার লেখা, এলিফ্যান্ট রোডের ইতিহাস কিছুটা আগেও জানতাম।
ব্যস্ততার জন্য ব্লগে সময়দিতে পারি না, তাই ভাল ভাল লেখাও মিস করি। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আমি আগের মতই আছি বলা যাবেনা। বরং আগের চাইতে কিছুটা খারাপ।
সময় সুযোগ পেলে এসো।
ভালো থেকো।
অনেক ধন্যবাদ বিস্তারিত জানানোর জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামসীর।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
আমি একটা নামের কারন জানি, "ছাগলনাইয়া"। দেশ বিভাগের আগে নোয়াখালীতে নির্মম একটা দাংগা হ্য়। দাংগা থামাতে মোহনলাল করম চাঁদ গান্ধী নোয়াখালীতে আসেন। এখন যেটা ছাগলনাইয়া সেখানে আসলে স্থানীয় মুসলমানেরা তাঁর নিত্য সংগী ছাগলটাকে চুরি করে খেয়ে ফেলে।
লেখক বলেছেন: নোয়াখালীর দাংগার বিষয়টা জানি, গান্ধীজি এসেছিলেন তাও জানি, কিন্তু ছাগলনাইয়ার বিষয়টা জানিনা।
সত্যি নাকি মজা করছেন?
ত্রিশোনকু বলেছেন:
না না মজা করছিনা। প্রথমে শুনি ১৯৬৭/৬৮ তে একজন নোয়াখালীর প্রকৌশলীর কাছ থেকে। পড়ে কর্মস্থলে এই একই ঘটনা একাধিক ব্যক্তির মুখে শুনেছি।তবে ঘটনাটা যে মজার তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ বিষয়টা কনফার্ম করার জন্য।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
ছাগলনাইয়ার ব্যাপারটা সঠিক। অঞ্চলে লোকশ্রুতি আছে।========================
বিষয়গুলো জানতাম না, অনুমাননির্ভর ছিল। আপনাকে ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আশরাফ।
নির্বাসিত পথিক বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















