somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ঢাকাবাসীর ঈদ উৎসব

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকাবাসীর ঈদ উৎসব

ঢাকা যেমন চারশত বছরে ধীরে ধীরে বদলে গেছে তেমন এর অধিবাসীদের ঈদ উদযাপনের বিষয়টিও পরিবর্তিত হয়েছে। সময় আর রাজনৈতিক নানান পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এ বদলে যাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে গিয়েছে। ঢাকার ঈদ উৎসবের অগ্রভাগ জুড়েই আছেন শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের সংশ্লিষ্টরা। বলা যায়, তাদের উৎসাহে উৎসবে পরিণত হতো ঈদের দিনগুলো। সে সময়ে ঢাকাবাসীরা ঈদের কেনাকাটা সারতেন বাদশাহী বাজারে (বর্তমান চকবাজার)। মোগল রাজধানী হিসেবে ঢাকা সবেমাত্র তৈরি হচ্ছে। ফলে ঈদের জামাত পড়ার জন্য তখনোও তেমন কোন ঈদগাহ গড়ে ওঠেনি। ঢাকাবাসীরা তখন হয়তো কোন খোলা প্রান্তরে ঈদের নামাজটা আদায় করে নিতেন। ১৫২৯-১৬৫০ খৃষ্টাব্দের দিকে ঢাকায় অভিজাতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময়ে মোগলদের দ্বারা জমজমাট হয়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। অনুমান করা যায় ঈদ উৎসবগুলোর ব্যাপকতাও সে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল। ঈদগাহবিহীন ঈদ জামাত বেশিদিন চলেনি কারণ বছর ত্রিশেক পরেই ঢাকার ধানমন্ডিতে তৈরি করা হয়েছিল ঈদগাহ। ঢাকার অভিজাত শ্রেণীর মুসলমানরা এই ঈদগাহতে যেতেন ঈদের নামাজ পড়তে। তবে সাধারণ নগরবাসীরা এতে প্রবেশ করার তেমন একটা সুযোগ পেতেন না। কখনো শাসকরা নতুন কোন রাজ্য জয় করলে ঈদ উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত হত বাড়তি আনন্দ।

১৭০২ খৃষ্টাব্দে মুর্শিদকুলি খান (করতলব খান) তার দেওয়ানি বিভাগ মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। এর কিছুদিন পর মোগল সুবে বাংলার রাজধানী একেবারে পরিবর্তন করে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানেই। ফলে ঢাকার গুরুত্ব কমে যায়। তারপর ঢাকার ওপর মূল ধাক্কা এসে লাগে ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দের ঐতিহাসিক সেই ক্ষমতার পালাবদলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে মোগল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার রাজস্ব সংগ্রহের ভার পায়। ইংরেজদের রাজস্ব আদায় হতো কঠিন হাতে। ফলে পূর্ববঙ্গে প্রায়শই দুর্ভিক্ষ দেখা দিতো। ফলে সহজেই অনুমান করা যায় ঢাকাবাসীর ঈদ উদযাপন বিষয়টি সে সময় কেমন হত। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা সেখানে উৎসবের কথা বলাই বাহুল্য।

ঊনিশ শতকের প্রথম থেকে ঢাকার ধ্বংস শুরু হয়। পুরনো মোগল স্থাপনা, ইউরোপীয় বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সংকুচিত হতে থাকে এর সীমানা। যাদের ঢাকা ত্যাগ করার সুযোগ ছিল তারা ঢাকা ত্যাগ করে চলে যান অন্যত্র। ফলে জনসংখ্যাও কমতে থাকে। ঢাকায় এ অবস্থাতেও এর জনসংখ্যা ছিল তিন লাখের মতো। পড়তি ঢাকার জৌলুস ধরার চেষ্টা করা হত ঈদ ও মুহররমের মিছিলের মাধ্যমে। এই মিছিলগুলোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ঢাকার নায়েব নাজিমরা। নায়েব নাজিমরা নিজেদের শৌর্য বীর্য দেখানোর জন্য এসব মিছিলগুলোর ছবি এঁকে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাই সে সময়ের ঈদ উদযাপনের কিছুটা চিত্র আমরা পাই। ইংরেজদের শাসনকার্যে সুবিধার জন্য যেসব শ্রেণী গ্রামের জীবন থেকে উঠে এসে শিক্ষাকে উপজীব্য করে শহর জীবন বেছে নিয়েছিলেন, তাদের সংস্কৃতিটা যোগ হয়েছিল ঢাকায় ঈদ উৎসবের সাথে। যেমন আমরা বলতে পারি ঘরের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পিঠা, সেমাই, ঈদের দিন মেলার আয়োজন ইত্যাদি। ঊনিশ শতকের শেষের দিকে ঢাকার মুসলমানরা (তখন সম্ভবত প্রায় সব শ্রেণীর মুসলমারা এক সঙ্গেই যোগ দিতেন) ধানমন্ডির সেই মোঘল ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে যেতেন।

ঢাকাবাসীদের ঈদসহ বড় বড় উৎসবগুলোতে প্রধান খাদ্য হয়ে ওঠেছিল মোঘল ঘরানার খাবারসমূহ। এক কথায় বলতে গেলে এইসব খাবারই হয়েছিল ঈদের আনন্দের অংশবিশেষ। গত শতাব্দীর ত্রিশ দশকে এসে ঢাকাবাসীর ঈদে কিছু বিভিন্নতা, নতুন কিছু বিনোদনের সংযোজন ঘটে। ততোদিনে ঢাকা জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে, "টকি" সিনেমা এসেছে, এসেছে রেডিও, ধানমন্ডির ময়দানে নির্মিত হয়ে গেছে এ্যারোপ্লেন নামার জন্য এ্যারোফিল্ড। ঢাকায় তখন মহল্লাভিত্তিক জীবন-যাপন ছিল। এই জীবন-যাপন ঈদের আনন্দের মাত্রায় যোগ যোগ করতো বাড়তি আনন্দের। ঢাকার বিস্তৃতির সাথে সাথে সেই আবেগেরও মৃত্যু ঘটেছে। ঢাকায় এখন এক কোটির অধিক মানুষের বসবাস। ঢাকাবাসীদের এখনো বড় একটা অংশ ঈদ এলে ছুটে যায় গ্রামে। ফলে ঢাকা হয়ে পড়ে কিছুদিনের জন্য ফাঁকা, পরিবেশ দূষণ মুক্ত। আধুনিক প্রযুক্তি যুগে উৎসবের আনন্দের মাত্রাটুকুর শেষ নেই। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন থিম পার্কে বেড়াতে যাবার আনন্দ; ব্যস্ত নাগরিক জীবনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসে আরো নিকটে। আত্মীয়স্বজন অথবা বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে সশরীরে যেতে না পারলেও ক্ষতি নেই- আছে সেলুলার ফোন। সেই ফোনেই হয়ে যায় শুভেচ্ছা বিনিময়। পরিবর্তন আসছে; আসতে বাধ্য।



সহায়ক তথ্য সুত্রঃ ঢাকার ইতিহাস,
লেখকঃ নাজির হোসেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর ২:২৫
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×