somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

টোকাইয়রে কাম না করলে খাইতাম কেমনেঃ

৩১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টোকাইয়রে কাম না করলে খাইতাম কেমনেঃ

বয়স ৫ থেকে ১২। লোকে বলে টোকাই। যেন জন্মটাই হয়েছে মানুষের উচ্ছিষ্ট আর অবহেলা কুড়িয়ে জীবন ধারণের জন্য। অথচ এবয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা। দিন মজুর বাবা। কেউ ঠেলা চালক, মুটে, রিকশাচালক। মা'য়েরা প্রায় সবাই লোকের বাসায় বুয়ার কাজ করেন।আবার অনেক শিশুর মা-বাবারই কোন হদিস নেই!

পলিথিনের বড়ো বস্তা নিয়ে ওরা বেরিয়ে পরে ধানমন্ডি, কলাবাগান, গ্রীণরোড, নিউ মার্কেট সহ সব এলাকাতেই। সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত ছেড়া কাগজ, ভাঙ্গা বোতল, লোহার টুকরো পরিত্যক্ত টিনের কৌটা, পানি ও সয়াবিন তেলের কনটেইনার ইত্যাদি কুড়িয়ে বেড়ানোর কাজ। এসব কুড়াতে কুড়াতেই ওরা তাকিয়ে দেখে পরিষ্কার পোশাক পরা তাদের সমবয়সীদের কেউ বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। কেউ যাচ্ছে খেলতে। কেউ বা বাবা-মায়ের সঙ্গে বাজারে। বা চকচকে গাড়িতে করেও যায় কেউ কেউ। তারা সযত্নে গা বাঁচিয়ে চলে। টোকাইদের নোংরা শরীরের সঙ্গে তাদের যেন ছোঁয়া না লাগে। প্রথম প্রথম মন খারাপ হলেও পরে সব সরে যায়। সারাদিন আবর্জনা ঘেঁটে যা পাওয়া যায় তা ওরা বিক্রি করে আশেপাশের "ভাংগারির দোকানে"। মিজান, জমির, টিটু, সোহেল, মতিয়া, পিন্টু, আব্বাসরা সবাই আসে এসব দোকানে।

ধানমন্ডি ৮ নম্বর রোডের মসজিদের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং ডাস্টবিনের কাছে ভাষমান ভাংগারির দোকানে ওদের প্রায়ই দেখা মেলে। সকাল-বিকাল হাটাহাটির সময় আমি ওদের সাথে কথা বলি। মতিন জানায়, ওরা ৩/৪ বন্ধু প্রতিদিনই টোকাইয়ের কাজ করে। বিকেলের দিকে বিক্রি করতে নিয়ে আসে কাছের যে কোনো দোকানে।

সুমিয়া আর সিলিকে দেখা গেল-কলাবাগান ১ম লেনের এক ভাংগারির দোকানে। আরো ক'জন সঙ্গীসহ কলাবাগান, লেক সার্কাস এলাকাতেই কাজ করছে ওরা। সুমিয়া জানায়, গত কয়েক মাস ধরে এ কাজ করছে সে। এর আগে বস্তির কাছের একটি মসজিদে আরবি পড়তো। এখন টোকাইয়ের কাজ করছে। সুমিয়া আর লিলি দু'জনই বলে, ইশকুলে যামু-টেহা পামু কই! হেই কাম না করলে খাইতাম কেমনে? নাদিয়া জানায়, স্কুলে যাওয়া তার ভারি ইচ্ছে। কিন্তু যেতে পারে না। সারাদিন টোকাইয়ের কাজ করে যে ২০-৩০ টাকা আয় করে ওরা, তা তাদের সংসার চালানোর জন্য বড় দরকারি। ইচ্ছে থাকলেও অনেক মা বাবাই স্কুলে পাঠাতে পারছে না ছেলে-মেয়েদের।

ভাংগারী ক্রেতা বউ বাজার বস্তির শাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ১৮শ টাকা মাসিক ভাড়ায় এক রুমের কাঁচা ঘরে থাকেন বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে। বউ লোকের বাসায় কাজ করে। সে রাতে ২/১ জনের খাবার নিয়ে আসে। নিজের দৈনিক ১০০ টাকার বেশি রোজগার হয় না। ছেলে মেয়েরা টোকাইয়ের কাজ করে আরো ৩০-৪০ টাকা দেয়। সব মিলিয়ে কষ্টে-সৃষ্টে চলে সংসার। ভালো কিছু ছেলেমেয়েদের মুখে তুলে দেয়ার সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলোয় না। লেখাপড়া করাবেন কি ভাবে। মোমেনা নামে এক বয়স্ক মহিলা টোকাই জানান, দিনমজুর স্বামী আর নিজের ঠোংগা বিক্রির রোজগারে ২ ছেলে মেয়েকে কলাবাগান ২য় লেনের ফ্রী-প্রাইমারী স্কুলে পড়াচ্ছেন। এক ছেলে আগামী বছর হাইস্কুলে যাবে। বড়ো দুটোকে স্কুলে পাঠাতে পারেনি। নিজে লেখাপড়া করেছেন দয়াগঞ্জের এক প্রাইমারী স্কুলে। যে কোনোভাবেই ছোট ২ ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর ইচ্ছে মোমেনার।

কলাবাগান ১ম লেনের কয়েকজন ভাংগারী ব্যবসায়ী জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বোর্ড মিলেই পাঠানো হয় এসব। খুবই সামান্য বিক্রি হয় স্থানীয় কয়েকটি বোর্ড ফ্যাক্টরিতে। রমিজ উদ্দীন নামে এক ভাংগারির দোকানদার জানান, তারা মূলতঃ খুবই কম পুঁজি নিয়েই ব্যবসা করছেন। বাড়তি পুঁজির প্রয়োজন তারা অনেক সময় তাদের মহাজনদের কাছ থেকে অগ্রীম নেন। ক'জন টোকাই জানান, তাদের কোন নগদ পুঁজি নেই। পুঁজি বলতে পলিথিনের বস্তা ও সারাদিনের ঝড় বৃষ্টি, গরম উপেক্ষা করা শারীরিক শ্রম। ২০/২৫ টাকা থেকে কেউ কেউ একশত টাকা পর্যন্ত আয় করছে ওরা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে বৃদ্ধিপায় আয়।

এদের শ্রমে-ঘামে সংগৃহীত উপকরণই রিসাইকিলিং-এর মাধ্যমে ব্যবহৃত হচ্ছে পুনঃ আয়না, বোর্ড, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ রকমারি পণ্য। বোর্ড ও কাগজের মণ্ড তৈরির জন্যে বিবিধ প্রক্রিয়ায় এ সবই একটি পর্যায়ে নিয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঁচামাল হিসেবে। কার্যতঃ কিছুই আজ আর ফেলনা নয়। রুজি-রোজগার, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে শিশু থেকে বয়স্ক নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এ পেশা।

প্রায় সব বস্তিতেই রয়েছে মা-বাবাদের মধ্যে ছেলেমেয়েদের লেখা পড়া করানোর ইচ্ছে। কিন্তু বাধা হয়ে আছে সামর্থ্য। কাজেই ছেলে-মেয়েরা টোকাই হয়েই আছে।

এক অভিভাবক জানালেন অনেক বস্তিতেই রয়েছে এনজিও স্কুল। কিন্তু এই এলাকায় বস্তি নেই বলে এখানে কোন এন জি ও কাজ করেনা-নেই কোন ফ্রি প্রাইমারী স্কুল। এখানে কাছাকাছি এন জি ও স্কুলের নাম "সুরভী"। কিন্তু ওই স্কুলে সবাইকে গণহারে ভর্তি করা হয়না। এরকম আরো স্কুল থাকলে এবং "সুরভী"র মত সুযোগ থাকলে আরো কিছু ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখতে পারতো। প্রাইমারি স্কুল যেগুলো আছে তার বেশিরভাগই বস্তি এলাকা থেকে বেশ দূরে। তাই যাদের "ইচ্ছে এবং সামর্থ্য" মোটামুটি কাছাকাছি, তারাও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে পারছে না। বেশির ভাগ ছেলে-মেয়ে ৭/৮ বছর বয়স হওয়ার সাথে সাথে নেমে পড়ে পলিথিনের বস্তা নিয়ে টোকাইর কাজে। ছেড়া কাগজ আবর্জনা কুড়াতে কুড়াতেই ওরা বড় হয়.........
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর ২:১৩
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×