আমার প্রিয় পোস্ট
- কম সময়ে একসাথে আপলোড করে ব্লগে অনেক অনেক ছবি দেওয়ার অনেকগুলো উপায় (নতুনদের জন্য) - সাইফুলহাসানসিপাত
- বাংলা ব্লগের বিভাজন রেখা : কর্পোরেট বনাম ইনডিপেন্ডেন্ট ব্লগ - মাহবুব মোর্শেদ
- একদিন, দেখে নিও! - সুলতানা শিরীন সাজি
- ব্যাবিলনের শুন্যোদ্যান ( Hanging Garden of Babylon) - বীরেনদ্র
- ব্লগ রাজনীতি ও ব্লগের রাজনীতি - একরামুল হক শামীম
- বেগম আখতার গানের জগতের সম্রাজ্ঞী। - সুরঞ্জনা
- জেগে ওঠো মানুষ, বেঁচে উঠুক তিতাস - অন্যমনস্ক শরৎ
- সামুর বেশকিছু টেকি , টিপস এন্ড ট্রিকস এবং দরকারি পোস্টের সংকলন

- রবিন মিলফোর্ড
- ফিরে দেখা ২০১১ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- আমার ছানা পাখীর লেখা গল্প " মুক্তিযোদ্ধার গল্প" পড়ে আমি নিজেই মুগ্ধ - মেহবুবা
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র : জনপ্রিয় কিছু অনুষ্ঠান ও তাদের নেপথ্যের কুশলীরা - দস্যু রত্নাকর
- ১৯৭১ , জেড ফোর্সের মুক্তিযুদ্ধ : জিয়া-শাফায়াত-মইন-আমিনুলদের যুদ্ধ দিনের গল্প জানুন ছবি আর বর্ননায়........ - দাসত্ব
- স্মৃতির পাতা থেকে........ - নাআমি
- খনা : এক ক্ষণজন্মা কিংবদন্তীর দুঃখগাথা - ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন
- ক্যাট স্টিভেন্স থেকে ইউসুফ ইসলাম - অসম্ভব জনপ্রিয় এক নওমুসলিমের ইতিকথা - কবির চৌধুরী
- ব্যাক্তি নিরাপত্তা ও আমরা কি করবো। - জুন
- জেনে নিন আপনি সামহোয়্যারের কত নাম্বার ব্লগার {(যারা জানেনা তাদের জন্য) সম্পূর্ণ আজাইড়া পোস্ট} - অণুজীব
- দেখা হবে আবার, এই সামহয়্যারইন, এই মায়াবীবৃক্ষের তলায় - সুনীল সমুদ্র
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- ·٠•●♥♫♫♫ "লালন" - পোস্ট সংকলন ♫♫♫·•●♥ ·٠ - কবির চৌধুরী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি - চার্ত্রুজ-বী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি .... ২য় খন্ড - চার্ত্রুজ-বী
- শব্দ কল্প দ্রুম -৩ - বোকা ছেলে
- আজম খানকে নৈবেদ্য - তাঁর কীর্তি সমগ্র - কবির চৌধুরী
- আঁধারপ্রেমী - অনিক
- ২০০ বছরের পরাধীনতা এবং আমাদের তথাকথিত ওয়ার সিমেট্রী: পর্ব - ১ - মিলটন
- ডঃ ইউনুস ও আমার দেখা একটি সিনেমার কাহীনি - মুরশীদ
- মাতৃভাষা আন্দোলনের সেই সব সূর্যসন্তানেরা...... - রেজোওয়ানা
- - হৃদয়ের কথা-নির্মম বাস্তবতা আর রূপকথা - মানবী
আদিবাসী বনাম উপজাতি বিতর্কঃ
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৪
আদিবাসী বনাম উপজাতি বিতর্কঃ
আমাদের দেশের একটি মহল দীর্ঘ দিন ধরে "উপজাতি"/ "আদিবাসী", পাহাড়ী-বাংগালী জাতিগোষ্ঠী নিয়ে এক মরন খেলায় মেতেছে। এই ব্লগে "উপজাতি"/ "আদিবাসী", পাহাড়ী-বাংগালী নিয়ে অনেক লেখা পড়েছি। তা দেখে আমি "উপজাতি"/ "আদিবাসী" নিয়ে বিভিন্ন বই পুস্তক ঘাটাঘাটি করেছিলাম এবং বিভিন্ন সময় এই বিষয়ে লেখা বিভিন্ন পত্রিকার কাটিং সংরক্ষণ করে আসছিলাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান অবস্থায় "উপজাতি"/ "আদিবাসী" নিয়ে আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। তাই আমার জানামতে "উপজাতি"/ "আদিবাসী" বিষয়ে কিছু তথ্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম।
১৭৯৮ সালে ইংরেজরা উপজাতি না বলে নেশন লিখতো। ১৮০০ শতকে ইউরোপীয় সমাজবিজ্ঞানীরা উপজাতি শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। উপজাতি শব্দটি বাংলা ভাষায় এসেছে ইংরেজি "ট্রাইবাল" শব্দকে ভিত্তি করে। পশ্চিমের সমাজ-নৃবিজ্ঞানীদের জাতি গবেষণা ও এথনোগ্রাফ রচনার ভেতর দিয়ে "ট্রাইবাল" শব্দটি এই জনপদে হাজির হয়। সাঁওতাল হুলের সময় ব্রিটিশরা বিদ্রোহী সাঁওতালদের "অপরাধী ট্রাইব" হিসেবে আখ্যায়িত করতো। হাজংদের টংক আন্দোলনের সময় "বিধর্মী কমিউনিস্ট" বলে গালি দেয়া হতো। হাতিখেদা আন্দোলনের সময় হাজংদের বলা হতো "রাজা অবাধ্য"। লোধা/শবর আদিবাসীদের সবসময় ব্রিটিশরা বলতো "ক্রিমিনাল ট্রাইব"। ঔপনিবেশিক-বৈষম্যমূলক-কর্তৃত্ববাদী এই অপর করে রাখার "ট্রাইব্যুনাল" শব্দটিই বাংলায় পরবর্তী সময়ে "উপজাতি" হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। আর এই উপজাতি ধারণা বহাল থাকে আমাদের রাষ্ট্রের আইন-নীতিমালা-পাঠ্যপুস্তক রাষ্ট্রীয় প্রচার ও উদ্যোগ উন্নয়নের সব মনস্তত্ত্বে।
ব্রিটিশ আমলে চাকমাদের আমন্ত্রণে বাঙালিরা ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২০ সালের মধ্যে জুম চাষের জন্য প্রথম রাঙ্গামাটি আসে। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ অনুযায়ী শাসিত হয়। ১৭৯৮ সালে একটি সরকারি কাজে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগত ফ্রান্সিস বুকানন সর্বপ্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের ১০ ভাষাভাষী জুম্ম জনগোষ্ঠীর ভাষাগুলোর নমুনা শব্দ সংগ্রহ করেন। তারপর ফেইরি (১৮৪১), হান্টার (১৮৬৮) এবং লেউইন (১৮৬৯) পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকানের কয়েকটি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শব্দ সংগ্রহ করলেও ড. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী ভাষাগুলোর তথ্যাদি সংগ্রহ করে প্রকাশ করেন। লিঙ্গুয়েস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়ায় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী ভাষাগুলোর মধ্যে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষাকে ইন্দো-এরিয়ান এবং অন্য ভাষাগুলোকে তিব্বতি-চীন পরিবারভুক্ত করে শ্রেণীকরণ করেন। তিব্বতি-চীন পরিবারভুক্ত ভাষাগুলোর মধ্যে মারমা ভাষাকে টিবেটো-বর্মি দল; ত্রিপুরা ভাষাকে বোডো দল, লুসাই, পাংখোয়া, বুম খিয়াং, খুমী, ম্রো ও চাক ভাষাসমূহকে কুকি-চীন দলভুক্ত করেন।
ড. গিয়ার্সন চাকমা ভাষাকে ইন্দো-এরিয়ান ভাষাভুক্ত করলেও কারো কারো মতে, এই ভাষা সিনো-টিবেটান অথবা তিব্বতি-বর্মি পরিবারভুক্ত। আবার কারো কারো মতে, এটি প্রাকৃত অহমিয়া, তিব্বতি-বর্মি এবং বাংলা ও অন্যান্য ইন্দো-এরিয়ান ভাষার সংমিশ্রিত একটি ভাষা। বর্তমান চাকমা ভাষার অনেক শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত প্রভৃতি প্রাচীন ইন্দো-এরিয়ান ভাষা এবং বাংলা, অহমিয়া, হিন্দি প্রভৃতি আধুনিক ইন্দো-এরিয়ান ভাষার মিল রয়েছে। আবার অনেক শব্দের সঙ্গে তিব্বতি-বর্মি ও সিনো টিবেটান ভাষার বিশেষ করে টিবেটান, আরাকানি বা বার্মিজ অহমিয়া, থাই, ককবরকে ভাষার মিল দেখা যায়। এ থেকে ধারণা করা হয় যে, ইন্দো-এরিয়ান ভাষার প্রভাবের মূল চাকমা ভাষার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৮৪ সালের জুন মাসে আয়কর অধ্যাদেশের ষষ্ঠ তফসিলের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ৩ পার্বত্য জেলার পাহাড়িদের "আদিবাসী" বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।কিন্তু আগস্ট মাসেই সেই অনুচ্ছেদের "আদিবাসী" শব্দ পরিবর্তন করে "উপজাতি" করে সংযোজন করা হয়। কিন্তু এ অনুচ্ছেদ পুণঃসংযোজন করা হয় ১৯৯৫ সালে।প্রথম পর্যায়ে "আদিবাসী" শব্দটি পার্বত্য চট্টগ্রাম হিলট্রাক্টস রেগুলেশন ১৯৯০ সালের ৪ নম্বর বিধিতে উল্লেখ ছিলনা-কিন্তু পরবর্তীতে কোনো এক সময় "উপজাতি"র স্থানে "আদিবাসী" শব্দ সংযোজন করা হয়। যা কখনোই গেজেট আকারে রাস্ট্রীয় ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০০২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পরিপত্রে একটি প্রকল্প কর্মসূচি সংক্রান্ত নীতিমালায় "আদিবাসী" শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের বিধি ১ শাখা ১৪৩ নম্বর স্মারক অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ১৯৯৮ অনুসারে প্রান্তিক জাতি অধ্যুষিত এ অঞ্চলে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। রাষ্ট্রের সব পাঠ্যপুস্তকে "উপজাতি" শব্দের সঙ্গে কোথাও কোথাও আদিবাসীও যুক্ত করা হয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাপিডিয়াও ঔপনিবেশিক "উপজাতি" শব্দটি রেখেছে। সেখানে সুস্পস্ট ভাবে উল্যেখ করা হয়েছে-"আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী কোনো জাতি সমুহকে যেসমস্ত কারনে "আদিবাসী" অবিহিত করার হয়-সেইসব শর্তসমুহের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাসকারী অধিবাসীরা "আদিবাসী" পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত নয়-বিধায় তাহাদেরকে "উপজাতি" অভিহিত করা যাইতে পারে"। এক্ষেত্রে লক্ষনীয় রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজশাহী-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-নেত্রকোনাতে আদিবাসীদের জন্য যেসব সাংস্কৃতিক একাডেমী করা হয়েছে সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছে, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক/কালচারাল একাডেমি।
সরকারি বিভিন্ন সার্কুলারে এবং আইনগতভাবে বাংলাদেশে "আদিবাসী" শব্দটি স্বীকৃত নয়। এতে রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি নেই। তথাকথিত সুশীল সমাজ এবং গুটিকতক মিডিয়া ভিন্ন উদ্দেশ্যে "আদিবাসী" শব্দটি ব্যবহার করে আসছে।২০০৭ সালে তথাকথিত তত্বাবধায়ক সকারের আমলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করেছিল- "চীন, ভারত উপজাতি জনগোষ্ঠীকে 'আদিবাসী' বলে না। তাহলে আমরা কেন বলব?" আমি মনে করি একটি মীমাংশিত বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতেচেছে। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। চীন, ভারত উপজাতি জনগোষ্ঠীকে কখনো "ইনডিজিনাস" হিসেবে আখ্যায়িত করে না -সেটা ওদের ব্যপার। আমরা জানি-আমাদের দেশে কোনো আদিবাসী নেই-এটাই সত্য। ভারতের সংবিধানের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত উপজাতিদের রক্ষামূলক বেশকিছু বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলো গ্রহণ করেই আমরা উপজাতীয়দের স্বার্থ রক্ষা করতে পারি। কেবল নামটি বর্জন/ গ্রহণের এত কৌতুহল কেন? চীনেও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশ সেটাও অনুসরণ করতে পারে। ফিলিপাইনে "ইনডিজিনাস পিপল" শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়ায়ও আংশিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেপালেও "জনজাতি" শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাহাড়ী-বাংগালী বিতর্কে না গিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি বজায় রেখে প্রকৃত অধিকার কতোটুকু ভোগ করতে পারছে সেটাই বড় কথা। কোনো দ্বিধা দ্বন্দে নাজড়িয়ে এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে উওভয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সকলের কাজ করা উচিত। পশ্চাৎপদ জাতিকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় তার সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনা করার সময় এসেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:২৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রেজোওয়ানা বলেছেন:
শেষ প্যারাটা মোক্ষম লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সুচিন্তিত মতবাদ বলেছেন:
আশা করি আপনার এই পরিশ্রমী পোস্ট পড়ে আদিবাসী/ উপজাতি বিতর্কের অবশান নাহলেও-যারযার সঠিক অবস্থানটা অনুধাবন করতে সক্ষম হবে।
লেখক বলেছেন: আমি শুধু আমার বক্তব্য এবং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ব তুলে ধরেছি। বিবেচনা করবেন পাঠক।
কালপুরুষ বলেছেন:
খুব ভাল লাগলো আপনার লেখা। পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসী এই নিয়ে সকল বিতর্কের অবসান হোক।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে আমারো একই প্রত্যাশা।
ধীবর বলেছেন:
দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশকে আলাদা করা নিমিত্তে যে সব বিদেশিদের দালাল পাহাড়িদের আদিবাসি তকমা লাগিয়ে দেশ বিরোধি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য, জুলভার্ণ ভাইকে অভিনন্দন আর অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: প্রিয় ধীবর ভাই, মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আমি মনে করি পাহাড়ী-বাংগালী বিভেদ রচনা করেগিয়েছেন মানবেন্দ্র লারমা এবং বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রথম দিকে পাহাড়ী বাংগালী দ্বন্দের মুল কারন কিন্তু পাহাড়ী বাংগালী নয়। এই দ্বন্দটা সৃস্টি হয়েছে বিগত কয়েক দশক পুর্বে। এই সমস্যার মুল কারন-আমাদের কতিপয় পরজিবী মার্কা বুদ্ধিজিবী। যারা বিদেশী পয়শায় নিজেরা চলে এবং সাধারন বাংলাদেশীদের মগজ ধোলাই করে। তারা প্রথমেই বাংলাদেশী পাহাড়েদের "আদিবাসী" তকমা এটে দেয়। তারা মোটেই আদিবাসী নয়-তারা "উপজাতি"।
পাহাড়ী/ উপজাতীয়দেরকে "আদিবাসী" আখ্যায়ীত করে তথাকথিত বুদ্ধিজিবীরা বাংলাদেশকে নিয়ে একটা সুদুর প্রশারী ধংশাত্মক পরিকল্পনায় মেতেছে। আদীবাসী আখ্যায়ীত করে জাতিসংঘ "আদীবাসী সংরক্ষিত আইন" এর আওতায় তাদেরকে আলাদা রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি পাইয়েদেবার খেলায় মেতেছে। এই জঘন্য খেলায় ইন্দধন যোগাচ্ছে সি এইচ টি(পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন) নামক একটি এনজিও। যার নেতৃত্বে আছে স্বনামধন্য এডভোকেট সুলতানা কামাল চক্রবর্তী। তার সহযোগী হয়েছেন ব্যারিস্টার কামাল হোসেন তণয়া ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মেজবা কামাল। এই ষড়যন্ত্রের পিছনে আছে আন্তর্জাতিক চক্র। যেমন-এদেরকে ইনদ্ধন যোগাচ্ছে ইউ এন ডি পি, ডাব্লু এফ পি এবং এশিয়ান হিউম্যান সেন্টার ফর রাইটস(দিল্লী)।ভারত সরকার সেই প্রথম থেকেই পার্বত্য উপজাতীয়দের সামারিক, লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এদের সম্মিলিত চেস্টা ক্রমান্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে "কসোভো" স্টাইলে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের ভিতরে একটি ক্ষুদ্র জাতিসত্বাকে স্বাধীন রাস্ট্রে পরিনত করা।
এই মুহুর্তে পাহাড়ী বাংগালী আবার মুখোমুখী হবার কারন আছে। এই উপমাহাদেশের বাংলাদেশ ছাড়া প্রতিটা দেশেই আছে নানান জংগীবাদী সন্ত্রাস। এক মাত্র বাংলাদেশ একটু শান্তিতে থাকবে-তা অন্য কেউ আশা করছেনা। কাজেই এখানে সন্ত্রাসী কাজে, বিশৃংখলা সৃস্টি করতে সেইসব অশান্তির দেশগুলো আগবাড়িয়ে অশান্তিতে উতসাহ যোগাবে-তাতে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই।
ভাঙ্গন বলেছেন:
অনন্য হাতে আবারো যে তথ্যবহুল পোস্টটি লিখলেন সেটার জন্য আপনাকে অবশ্যই অভিনন্দন জানাই।
আদিবাসী আর উপজাতি বির্তকে কী এক প্রয়োজনীয় লিখুনি এটা....!
লেখক বলেছেন: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
অনেক তথ্য পাওয়া গেল। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাকিব।
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন:
ক্ষুদ্রজাতিসত্তাগুলো কিন্তু কখনোই তাদেরকে সামষ্টিকভাবে "উপজাতি" বা "আদিবাসী" বলা হোক বলে কখনো দাবী করেনি। এ শব্দগুলো বাঙালী ভিন্ন অন্যদের তৈরী করা নয়, এগুলো বাংলা ভাষাতেই সৃস্ট হয়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কখন কবে কিভাবে বাংলাভাষায় এসব শব্দবন্ধ প্রবেশ করল সেটার ব্যাখ্যা হয়তো ভাষাবিজ্ঞানীরা ভাল বলতে পারবেন। আদিবাসী অভিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এনজিওদের ভুমিকার সাথে দাতা-সংস্থা এবং আর্থিক যোগাযোগের বিষয়টি একেবারে ফেলে দেবার নয়। এটা প্রকৃতপক্ষে দুর্বলকে শোষনের জন্য রাস্ট্র, শাসকগোস্ঠি বা সুবিধাভোগী শ্রেনীর চাপিয়ে দেয়া অভিধা, দুর্বলদের একটা ক্যাটাগরিতে নিয়ে ফেলতে পারলে শোষনপ্রক্রিয়াটা আরো সহজতর হয়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোকে কোন ধরনের সামস্টিক বিশেষনে আখ্যায়িত করার পক্ষপাতি নই। উপজাতি বা আদিবাসী বা এধরনের শাব্দিক ব্যঞ্জনায় কিন্তু একটি জাতির, সেটি যতই ক্ষুদ্র এবং রাস্ট্রীয় বিবেচনায় গুরুত্বহীন হোক না কেন, জাতিগত পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য আড়ালে পড়ে যায়। একজন চাকমা, একজন খাসিয়া, একজন বম, একজন মণিপুরী সকলেরই ভিন্ন জাতিগত পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা সংখ্যায় ক্ষুদ্র পারে, কিন্তু সবাই বাঙালী জাতির মতোই স্বতন্ত্র জাতিসত্তা।
লেখক বলেছেন: মিঃ কুঙ্গ থাঙ, আপনার মন্তব্য আর আমার পোস্টের বিষয় বস্তুর সাথে পার্থক্যটা কোথায়? আমিতো মনে করি-আপনার বিরাট মন্তব্যটাই আমার পোস্টের বিষয় বস্তু।
ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: পড়া এবং মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
মিথুন-১ বলেছেন:
@ প্রিয় লেখক ধেবর ভাইয়ের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই-"দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশকে আলাদা করা নিমিত্তে যে সব বিদেশিদের দালাল পাহাড়িদের আদিবাসি তকমা লাগিয়ে দেশ বিরোধি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য, জুলভার্ণ ভাইকে অভিনন্দন আর অসংখ্য ধন্যবাদ। "
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মিথুন-১
বাতাসের রূপকথা বলেছেন:
Aborigin (আদিবাসী) are the people of first kind in any place such as Red Indian in USA, Aborigin in Australia. I don't think people in Ctg. Hill Tracts and other tribal parts of Bangldesh have the history like this. In this case they are justified to be named tribal. But there should be "কোনো দ্বিধা দ্বন্দে নাজড়িয়ে এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে উওভয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সকলের কাজ করা উচিত। পশ্চাৎপদ জাতিকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় তার সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনা করার সময় এসেছে।" Some peoples are trying to implement Indira doctrine of India regarding our hill tracts area.Thank you for your valuable information.
লেখক বলেছেন: খুব সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
লুকোচুরি বলেছেন:
অনেক তথ্যবহুল পোস্ট।
লেখক বলেছেন: সব সময় সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
আমি যা কিছু লিখি-তাতে যথা সম্ভব তথ্য উপাত্ত রাখতে চেস্টা করি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
তথ্যবহুল পোস্ট! যে শব্দেই তাদের চয়িত করা হোক না, তারা প্রশ্নাতীতভাবে এদেশের নাগরিক! কিন্তু বাঙ্গালীর শব্দের অর্থের অপ প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত! সংখ্যালুঘুর মত এসব শব্দের সংকীর্ণ ব্যবহার করা হয়! সরকার তার ব্যর্থতা লুকানোর জন্যই এধরনের অন্যায্য ও অসাংবিধানিক চুক্তি করে! অথচ সরকার শুধুমাত্র নাম বদলের নামে শত-হাজার কোটি টাকা অপচয় করছে, যে অর্থ এসব দূর্গম ও পার্বত্য অন্ঞ্চলে ব্যয় করলে, ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরন দিলে এ ধরনের সমস্যার সুযোগ কমে যেত! এছাড়াও সীমান্তবর্তী স্ট্র্যাটেজিক অন্ঞ্চল হিসেবে সরকার সেখানকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারে!
লেখক বলেছেন: পাহাড়ীদের নিয়ে অমন দ্বিধা বিভক্তির সাথে শু্টো!(দেশদ্রহী টাউট/গুন্ডা) নামধারীদের সাথে প্রথম আলো এবং চ্যানেল আই সরাসরি জড়িত-তা ওদের সংবাদ পরিবেশনা দেখলেই সচেতন মানুষ বুঝতে পারেন। পাহাঈদের হাতে ওখানে এখন নির্মম ভাবে মারা যাচ্ছে, গুম হচ্ছে বাংগালীরা, ধন সম্পদ পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংগালীদের-কিন্তু উল্যেখিত দুই জ্ঞান পাপীর সংবাদ দেখে মনে হবে সপুর্ণ উলটো!
আপনার গুরুত্বপুর্ণ মন্তব্যের সাথে সম্পুর্ণ এক মত।
আমি বীরবল বলেছেন:
ভাল লাগলো আপনার লেখা। পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসী এই নিয়ে সকল বিতর্কের অবসান হোক।
লেখক বলেছেন: সহমত।
জ্বীন বলেছেন:
তথ্যবহুল পোস্ট ।সেনাবাহিনী প্রত্যাহারে ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে !!
নাকি এরকম ঘটনা ঘটানোর জন্য ই্চ্ছা করেই সেনাবাহিনী সরানো হয়েছে ?
"উপজাতি" ও "বাংলাভাষী অভিবাসী "- ২ দিকেই দুস্ট চক্র আছে ।
লেখক বলেছেন: সেনাবাহিনী প্রত্যাহারে ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে !!
সেনাবাহিনী প্রত্যাহার দেশের বিরুদ্ধে একটা সুদুরপ্রশারী পরিকল্পনা মাত্র।দেশের অখন্ডতা বিনস্ট করার একটা ষড়যন্ত্রের সুচনা।
মিলটন বলেছেন:
এই "আদিবাসী" "উপজাতি" শব্দদুটির গুটিচালাচালিতে হয়ত কতিপয় বুদ্ধিজীবির পকেট ভরছে সাথে পেটও মোটা হচ্ছে। মাঝখান থেকে পুরো জাতিকে একটা ইয়েস/নো পজিশনে রেখেছে। এই বিতর্কের অবসান হোক। এবং সবাইকে তার নিজস্ব প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া হউক।আর আপনার লেখার শেষ অংশটিই কিন্তু অনেক কিছুই বলে দেয়। অতিগুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষন।
লেখক বলেছেন: তুমি-আমি কিম্বা আমরা কতিপয় দেশের অতি সাধারন মানুষ-যারা দেশে মাতৃকার জন্য ডাই হার্ট, তারা সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবো ইনশ আলাহ। মীর জাফর আর ঘষেটী বেগমরা হয়ত সাময়ীকভাবে জয়ী হচ্ছে-কিন্তু কালের বিচারে ওরা সবাই আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
হতাশ হইওনা।
নেভার সে ডাই...............
সুবিদ্ বলেছেন:
ভাইয়া আমি কয়েকবার পড়লাম এইসময়ে প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে.......ভালো লেগেছে, এতখানি কষ্ট করে লেখাটা দাঁড় করিয়েছেন......এরকম ধৈর্য আমারএকদমই নেই
ওরা উপজাতি তো বটেই......এইটা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই.......কিন্তু কেন তাদের আদিবাসি বলা যাবেনা এটাই বুঝতে পারছিনা.......
-"আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী কোনো জাতি সমুহকে যেসমস্ত কারনে "আদিবাসী" অবিহিত করার হয়-সেইসব শর্তসমুহের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাসকারী অধিবাসীরা "আদিবাসী" পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত নয়-বিধায় তাহাদেরকে "উপজাতি" অভিহিত করা যাইতে পারে"।
এইখানে কী সেইসব কারন---তাও একটু কষ্ট করে শেয়ার করুন........
আরেকটা কথাঃ কাপ্তাই বাঁধের ও তৎপরবর্তী পুনর্বাসনের ফাঁকিও কিন্তু একটা বড় কারন তাদের বিদ্বেষের.......শেখ মুজিবের বাঙ্গালি হতে বলাটা তাদের আঘাত বা ক্ষেপিয়ে দিয়েছে বটেই.......কিন্তু সেটেলার স্থাপনটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই.......
লেখক বলেছেন: প্রিয় সুবিদ, আদিবাসী তারাই যাদের মুল বসতি একটা নির্দিস্ট এলাকায়-যেখানে কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। যেমন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীরা। অস্ট্রিলিয়ান আদিবাসীরাই অস্ট্রিলিয়া ভুখন্ডের মুল মালিক। ওরা মাইগ্রেট নয়। আমাদের দেশের উপজাতীয়রা মাইগ্রেটেড। ওরা একসময় প্রাচীন আরাকান/ বার্মা অঞ্চলে বাসকরত। সেখানে চুরি ডাকাতি, খুন, দস্যুতার অপরাধে ওখান থেকে তাদের বিতাড়িত করা হয়। ওরা পালিয়ে এসে এদেশের পাহাড় জংগলে বসত গড়ে।ওরা এদেশের পার্বত্যাঞ্চলে আসার পুর্বেও এখানে জন বসতি ছিল। কাজেই ওরা বহিরাগত-আদিবাসী নয়। তখন মানুষ কম ছিল বিধায় এখানকার মানুষ সমতল ভুমিতেই বাস করত। কিন্তু বহিরাগতরা যেহেতু পেশাদারী অপরাধী চিল তাই তারা তাদের নিরাপত্তার জন্যই উঁচু পাহাড়ে বাস করতে শুরু করে। আস্তে আস্তে বহিরাগতরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়। পুর্বে বসবাসরত সমতল ভুমির মানুষ উন্নত জীবন যাপনের আশায় শহর/গঞ্জ এলাকায় চলে আসে।
অস্ট্রেলিয়াতেও এখন যেসব সাদারা বাস করে "অস্ট্রেলিয়ান' বনেগিয়েছে-তারা কিন্তু আদি অস্ট্রেলিয়ান নয়। তারাও এক সময় বীন দেশী ছিল। খুন, ডাকাতি, দস্যুতা অপরাধে বৃটিশরা ওদেরকে দুর্গম অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসন দিয়েছিল। এখন সেইসব ডাকাতরাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে, শিক্ষা দীক্ষায় উন্নতি করে দেশ শাসন করছে।
জাতিসংঘ সনদ মোতাবেক "আদিবাসী" হবার একটা সুবিধা আছে। তাহলো "আদিবাসীর ভুমি অধিকার সংরক্ষণ"! আমাদের পাহাড়ী উপজাতীয়রাও "আদিবাসী" হয়ে সেই সুযোগ নিয়ে সমতল বাসীদের উচ্ছেদ করতে চায়। আদিবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য জাতিসংঘ যে কোন সময় আদিবাসীদের, মানবাধিকার সংগঠনের ডাকে/ আহবানে নিরপেক্ষ(জাতিসংঘের তত্বাবধানে) প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে তাদের স্বায়ত্ব শাসন/ স্বাধীনতা ঘোষনা দিতে পারে। যেমন করেছে "কসোভো"তে। কসোভো একটি খৃস্টান অধ্যুসিত ছোট্ট ভুখন্ড। শুধু মাত্র খৃস্টান স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জন্যই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চাপে পরে জাতিসংঘ কর্তিক বাধ্যতামুলক "কসোভো" স্বাধীনতা পেয়েছে-যা এখনো বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অনেক মুসলমান অধ্যুসিত রাস্ট্র স্বীকৃতি পায়নি। ওদেরকে স্বীকৃতি দেবার জন্য আমেরিকা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে আসছে। এদেশীয় কিছু স্বার্থান্বেশী শুশীলদের সহযোগীতায় আনর্জাতিক জায়ানবাদ শক্তি অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়েও ঠিক একই কায়দায় এগিয়ে যাচ্ছে। যার পরিনতি হবে বাংলাদেশের ভিতরে আর একটা "কসোভো"! কসোভো স্বাধীনতা পেয়েছে শুধু মাত্র খৃস্টান অধ্যসুত বলেই।
কসোভোর থেকে হাজার হাজার গুণ বেশী রাস্ট্রীয় দাবী নিয়ে যুগের পর যুগ যুগ ধরে ন্যায্য আন্দোলন করে আসছে প্যালেস্টাইন, কাশ্মীর, চেচনিয়া, মিন্দানাও সহ আরো অনেক ভুখন্ড। যাদের রয়েছে আলাদা জাতিসত্বা, সামাজিক, রাজনৈতিক কালচার। তাঁদের স্বাধীনতার বিষয় জাতিসংঘ এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠন সমুহ শুধু নীরব ভুমিকাই নিচ্ছেনা-বরং সেই সব জাতিসত্বাকে নির্মুল করতে বড় ভুমিকা রাখছে।
তোমার মন্তব্যের শেষ প্যারার সাথে সম্পুর্ণ একমত।
লুৎফুল কাদের বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ আন্কেল সুন্দর তথ্যবহুল লেখার জন্য এবং ধীবরের সাথে একমত.
লেখক বলেছেন: এই পোস্ট লেখার পিছনে তোমার উতসাহ এবং প্রেরণার কথা স্বীকার করছি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেহরাব শাহরিয়ার।
সুবিদ্ বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাইয়া......বিশদ ব্যাখ্যার জন্যএকটা 'সম্পূরক'
আলোচ্য আদিবাসিরা যে সময়ে বিতাড়িত হয়ে এসেছিল, তখন কি আরাকান/বার্মা/পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা রাষ্ট্রীয় ভূ-খন্ড হিসেবে চিহ্নিত ছিল?
ওরা সবাই নিশ্চয়ই বদমাশ ছিলনা??? যখন তাড়ানো হয়েছে, তখন অনেক সাধারন উপজাতিরাও নিশ্চয়ই তার ভেতরে পড়েছে......শাসকশ্রেনীতো যুগে যুগে একইরকম থাকে........
আর এখন যে বাঙ্গালিরা সেখানে সেটেলার হয়েছেন বা রাষ্ট্রযন্ত্র সেটেলার বানিয়েছে, তারা তো অনেক পরে সেখানে গিয়েছে.......এবং বহুদিন যাবত বসবাসরত উপজাতিদের একঅর্থে অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকায় তাড়িয়ে দিয়ে নিজেরা ভোগদখল করছে.......
লেখক বলেছেন: না তখন হয়ত ঐসব দেশ বর্তমান নামে অভিহিতছিলনা। কিন্তু নামতো নিশ্চই একটা ছিল। যেমন এক সময় থাইল্যান্ডের নাম ছিল শ্যাম, ইরান- পারস্য, গ্রীস-মেসোপটমেয়া ইত্যাদি নামগুলো উদাহরন দেয়া যেতে পারে।এমন কি আমাদের এই বাংলাদেশের নামও বাংলাদেশ ছিলনা।
যাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল-তারা অবশ্যই সকলেই খারাপ মানুষ ছিলনা, থাকতে পারেনা। অল্প খারাপের সাথে সব সময়ই সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারন ভালোরা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যুদ্ধের নিয়মই হলো সাধারন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া। তখনো তাই হয়েছিল বলেই আমার ধারনা। এখন খারাপ মানুষ নির্ধারন করাটাও হলো দৃস্টি ভংগীর ব্যাপার। যেমন আমেরিকানদের কাছে ইজরাইলীরা সব চাইতে ভাল, মুসলমানদের কাছে ইজরাইলীরা সব থেকে খারাপ। বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতাকামী যেসব ভারতীয়দের আন্দামান-নিকোবরে জোড় পুর্বক নির্বাসন দেয়া হতো-সেই সব স্বাধীনতাকামীরা আমাদের কাছে বীর, বেনিয়া বৃটিশদের কাছে বিদ্রোহী! মুক্তি যোদ্ধারা আমাদের চির জীবনের জাতীয় বীর, পাকিদের কাছে ছিল শত্রু। এমন করে যার জোড়/ শক্তি আছে-সেইই নির্ধারন করে প্রতিপক্ষ কি ভাবে অভিহিত হবে।
যাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেল করা হয়ছে-রাস্ট্রীয় ভারসাম্য বজায় রাখতেই সংবিধান অনুযায়ী তা করা হয়েছিল। রস্ট্রের যেকোন যায়গায় যে কোনো নাগরিকের বসবাস, জীবিকা নির্বাহ করার বিধান আছে।একজন পাহাড়ী সন্ত্রাসী সন্তু লারমা গং বাংলাদেশের যেকোনো যায়গায় বসতি স্থাপন করতে পারবেন। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারন মানুষের কথা নাহয় বাদই দিলাম-এদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী কেউই পাহাড়ী এলাকায় এক খন্ড জমি কিনে বাস করতে পারবেনা-এটা কি কোনো সভ্য জগতের আইন হতে পারে!
উপজাতীয়দের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় তাড়িয়ে দেয়া হয়নি-ওরা পাহাড়ে বাস করতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সেই যুগ যুগ ধরেই। একজন পাহাড়ী প্রকৃতিগত ভাবেই পাহাড় থেকে তার আহার যোগাতে সক্ষম। কিন্তু একজন সমান্তরালবাসীর আহার যোগাতে হয় সমভুমিতে।
আমি মনে করি-পাহাড় এবং সমতল ভুমি উভউ স্থানেই পাহাড়ী-সমতল্বাসীর সমান অধিকার হতে হবে। কারো জন্য "বিশেষ" কোনো সুবিধা সংবিধান সম্মত নয়।
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন:
চমৎকার তথ্যবহুল পোস্ট। প্রিয়তে রেখে দিলাম।
এই ব্লগে কিছু আওয়ামী পা-চাটা সুশীলের যন্ত্রণায় টেকা যাচ্ছে না।
আর কিছু নিক আছে যেগুলো শুধু ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করার জন্য উদয় হয়।
খেয়াল করে দেখবেন, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই ঐ নিকগুলো হিংস্র জানোয়ারের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এরাই আবার ব্লগে মানবতা নিয়ে বুলি কপচায়।
লেখক বলেছেন: ওদের জন্য করুণা করা ছারা আর কিছুই করার নেই ভাইয়া। ওরা নিছক করুণা পাবারই যোগ্য।
এলাকা ভিত্তিক শাসকগোষ্ঠীর চামচারা নতুন এক উপদ্রব শুরু করেছে। কোন কোন বাসা/বাড়িতে "দৈনিক আমার দেশ" পত্রিকা রাখা হয়-তার একটা লিস্ট করেছে পেশীশক্তি। হকারকে ধমকাচ্ছে, শাসাচ্ছে -আমার দেশ বিক্রি করার জন্য! কোথাও কোথাও পাঠকের অবস্থান বুঝে চোখ রাংগাচ্ছে! ভাবতে পারেন ফ্যাসিবাদ কতটা পাগলা কুত্তার রুপ ধারন করছে!
সুবিদ্ বলেছেন:
আবারো ধন্যবাদ বিস্তারিত লেখার জন্য......অবশ্যই দেশের যে কেউ যে কোন স্থানে যাবার অধিকার রাখেন......কিন্তু নিশ্চয়ই সেটা অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে নয়.....একজনকে জোর করে উৎখাত করে সেখানে গিয়ে আসন গাঁড়া নয়......
আমাদের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে চলাচলের যে অধিকার তা কিন্তু Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the public interest ......
আমি ঠিক জানিনা, যে শান্তিচুক্তির নিয়ে এই কথাটা (জমি কেনা) তোলা হয়, তা সংসদে অবিকল পাশ হয়েছে কিনা......এক্ষেত্রে ৪২ অনুচ্ছেদে কিন্তু Subject to any reasonable restrictions imposed by law......
এসব কারনেই হয়তো শান্তিচুক্তির বিরোধিতাকারীরা বাইরেই শুধু সংবিধান সংবিধান রব তুলে থাকেন, আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে যাননা.....আমাদের ভন্ডামির তো কোন শেষ নেই.....
এ প্রসঙ্গে বললে হয়তো অত্যুক্তি হবেনা যে, শান্তিচুক্তির আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি প্রায় নিষিদ্ধ এলাকা ছিল.....সেখানে বদলি হওয়াটা ছিল চরম শাস্তি.....এখন সেই অবস্থার নিশ্চয়ই যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, তাই না!!
আর সন্তু লারমা কেন শুধুমাত্র সন্ত্রাসী হবেন?? উনি ঢা.বি. থেকে লেখাপড়া করে কেন পাহাড়ের ঐ অনিশ্চিত জীবন বেছে নিলেন, সেটা কি আমরা কিছুটা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পারিনা.......আর এতই যে সন্ত্রাসী, তার সাথেই কেন সব সরকার তাহলে পার্বত্য এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলে......
লেখক বলেছেন: পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কাউকেই জোড় করে উতখাত কেউ কোনো দিন করেনি।
শান্তি চুক্তির বিরোধীরা দেশের স্বেয়াধীনতা-=স্বার্বভৌমত্বের প্রতি কমিটেড-তাই তাঁরা দেশ মাতৃকার জন্য এটা নাকারার মত স্বার্থপর কোনোদিন হবেনা।
শত রুপা বলেছেন:
পাহাড়ী-বাংগালী বিতর্কে না গিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি বজায় রেখে প্রকৃত অধিকার কতোটুকু ভোগ করতে পারছে সেটাই বড় কথা। কোনো দ্বিধা দ্বন্দে নাজড়িয়ে এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে উওভয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সকলের কাজ করা উচিত। পশ্চাৎপদ জাতিকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় তার সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনা করার সময় এসেছে।
লেখক বলেছেন: সহমত।
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন:
"লেখক বলেছেন: মিঃ কুঙ্গ থাঙ, আপনার মন্তব্য আর আমার পোস্টের বিষয় বস্তুর সাথে পার্থক্যটা কোথায়? আমিতো মনে করি-আপনার বিরাট মন্তব্যটাই আমার পোস্টের বিষয় বস্তু।"আপনার লেখা এবং মন্তব্যের টোন দেখে তো সেটা মনে হলো না। চুরি ডাকাতি, খুন, দস্যুতার যে বনোয়াট কথাগুলো লিখলেন তার ভিত্তি কি? রেফারেন্স দিতে পারবেন?
'উপজাতি' এবং 'আদিবাসী' বলে কোন শব্দ চাকমা, ককবরক, মান্দি বা মণিপুরী ভাষায় নাই - দুটোই বাঙালীদের দেয়া বাঙালীভিন্ন অপরাপর জাতিদের দেয়া নাম, বাঙালীভিন্ন অপরাপর জাতিদের কাছে কোন তাৎপর্য বহন করেনা। ইচ্ছা করলে আপনারা আমাদের উপজাতি/আদিবাসী কেন ইচ্ছামত পরবাসী বা উপবাসীও ডাকতে পারেন হু কেয়ার্স? যে অর্থে এবং ব্যাখ্যায় সংখ্যালঘু জাতিগুলোকে উপজাতি বলছেন সেই একই যুক্তিতে বাঙালীরাও উপজাতি।
লেখক বলেছেন: সত্য অত্যন্ত নির্মম। সেই বাস্তব সত্য লেখা নিয়ে কোথাকার কে কি বললো, মন্তব্য করলো-"হু কেয়ার্স?"
লেখক বলেছেন: একই প্রজাতির হলেও তুমি বুদ্ধি বিবেচনায় অনেক বেশী এগিয়ে।
মানবী বলেছেন:
অনেক কষ্ট করেছেন তথ্যগুলো সংগ্রহে বুঝতে পারছি।যে নামেই যাকে ডাকা হোক, শেষ পর্যন্ততো আমরা সবাই বাংলাদেশী।
ধন্যবাদ জুল ভার্ন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কস্ট করে পড়ার জন্য।
জ্বী, যে নামেই ডাকা হোক-আমরা বাংলাদেশী। আমরা সবাই যেনো যারযার অবস্থান থেকে দেশের অখন্ডতার প্রশ্নে একমত থাকি।
বিভিন্ন সরকারের ভুল পদক্ষেপের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের আজ এ দু:সহ অবস্থান। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সংখ্যাগুরু বাঙালীদের আরো উদার হতে হবে।
আমাদের নিশ্চিত করতে হবে অধিকারের সমবন্টন ।
লেখক বলেছেন: আমারও প্রত্যাশা-আমাদের নিশ্চিত করতে হবে অধিকারের সমবন্টন ।
সাকিরা জাননাত বলেছেন:
সময়োপযোগী খুব সুন্দর একটি পোষ্ট।পাহাড়ি, বাঙ্গালি নিয়ে সকল বিতর্কের অবসান হোক।
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে সকল নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করতে হবে সম অধিকার। বন্ধ করতে হবে প্রতিবেশী দেশের উস্কানীতে বাংগালী উচ্ছেদ, নির্যাতন, হত্যা। তাহলেই পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
অনেক শুভকামনা ভাইয়া............
অনেক সুন্দর আর তথ্যবহুল পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন........ভাইয়া।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ।
মুখ ও মুখোশ বলেছেন:
খুব ভাল লাগলো আপনার বিশ্লেষনী লেখা। আপনার প্রচুর খাটা খাটুনি নিয়ে এই লেখায় পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসী বিতর্কের যদি সামান্য অবসান হয় তবেই স্বার্থক। পাহাড়ি উপজাতীয়দেরকে আদিবাসী তকমা দিয়ে বাংলাদেশের এই মুল্যবান অঞ্চলকে আলাদা করার জন্যে উপনেবেশিক শক্তি আমাদের দেশের কিছু দালাল শ্রেণীর চাটুকারদের যোগসাজসে তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নের চক্রান্ত চালাচ্ছে। আর সেটাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্যে ভারতীয় 'র' কাজ করে যাচ্ছে। আর এরই ফসল বিডিআর বিদ্রোহ এবং পাহাড়ের সংঘর্ষ একই সুত্রে গাথা কি না , ইতিহাসই একদিন বলে দিবে।
ভাল থাকবেন ভাইয়া।
লেখক বলেছেন: পাহাড়ীদের নিয়ে সত্য কথা বললেই এক শ্রেনীর ব্লগার যারা মুলত পাক হানাদারদের দোশর রাজা ত্রিদিব রায়ের উত্তরসুরী বার্কিং শুরু করে।তাদেখে কামনা করি-আর একবার মুক্তুযুদ্ধ হোক ঐসব উত্তরসুরীদের বাংলার মাটি থেকে চিরতরে নিশ্চিনহ করার জন্য।
দেশ সঠিক ভাবে ঠিকে থাকবে তখনই যখন সকল নাগরিক মিলে থাকবে।
অফটপিকঃ কেমন আছেন জুল ভার্ন ভাই। এখন স্বাস্থ্য কেমন যাচ্ছে?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কামাল ভাই।
আমার শরির মোটেই ভাল যাচ্ছেনা। একটার পর একটা সমস্যা লেগেই আছে। আমি দেশে থাকা অবস্থায় এই প্রথম বই মেলা মিস করেছি অসুস্থ্যতার জন্য!
২ তারিখ সিংগাপুর যাচ্ছি চিকিতসার জন্য। এবারে কেমোথেরাপী নিতে হবে। ৫ সাইকেলের একটা কেমোথেরাপী।
আমার জন্য দোয়া করবেন।
আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
লেখক বলেছেন: হ্যা ভাইয়া, আমিও অন্তর থেকে কামনা করি পাহাড়ী-বাংগালী বিতর্ক, পাহাড়ী-বাংগালীর হানাহানির শেষ হোক। আমরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক। পারস্পরিক বিশ্বাস আর শ্রদ্ধায় সবাই মিলেমিশে আমাদের দেশকে গড়েতুলি অনেক সুন্দর করে।
নিরন্তর শুভ কামনা।
উসীমজদ্দীন বলেছেন:
চমৎকার পোষ্ট। তথ্যবহুল।পড়ে ভাল লাগল।আমরা শান্তি চাই, বিতর্ক চাই না। উপজাতিদের অধিকার নিশ্চিত হোক। শুধুমাত্র উপজাতি নয় এ অঞ্চলে বসবাসকারী সকলের জন্য কিছু কিছু অতিরিক্ত সুযোগ দেয়া প্রয়োজন এখানকার ভূপ্রকৃতিগত কারনে। তেমনটা কিন্তু হচ্ছেও যেমন- শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্যই ১৯৭৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয়। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কাজ করছে, যার চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা। তিন পার্বত্য জেলায় জেলা পরিষদও উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করছে। ইউএনডিপি,এডিবি সরাসরি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে শুধুমাত্র উপজাতিদের জন্য। তাছাড়া ইউএসএইড, এ্যাকশন এইড,মানুষের জন্য, সেভ দি চিলড্রেন এর মত অনেক বৃহৎ দাতা সংস্থা স্থানীয় এনজিওগুলোকে কোটি কোটি টাকা ডোনেট করছে শুধুমাত্র উপজাতিদের উন্নয়নের জন্য। এবং কাজগুলো করতে গিয়ে ওভারল্যাপিংয়ের ঘটনাও ঘটছে,সংস্থাগুলোর মাঝে মনোমালিন্য হচ্ছে। শান্তিচুক্তির পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন খাতে (সরকারী ও বেসরকারী পর্য়েয়ে) হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং বর্তমানেও তা চলমান। কিন্তু আদৌ কি উন্নয়ন হচ্ছে?
লেখক বলেছেন: পার্বত্য চট্টগ্রামে যে পরিমান উন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে(ইউএনডিপি,এডিবি,ইউএসএইড, এ্যাকশন এইড,মানুষের জন্য, সেভ দি চিলড্রেন ইত্যাদির মাধ্যমে) তা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো যায়গা থেকে অনেক অনেক বেশী। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো ওখানে একক ভাবে শুধুমাত্র পাহাড়ীদেরই সাহায্য সহযোগীতা করে যাচ্ছে! আপনি দেখবেন-পাহাড়ীদের উন্নত জীবন মান বাংগালীদের তুলনা ৯০ঃ১০! তারপরেও বাংগালীদের কোনো হিংসা নেই। তারা শুধু বাঁচতে চায়। আর পাহাড়ীরা বিশেষ করে চাকমারা অন্য পাহাড়ীদেরবাংগালীদের বিরুদ্ধে উস্কেদিয়ে অরাজকতা সৃস্টি করেই চলছে। বিদেশী প্রভুদের টাকায়, অস্রে, উস্কানীতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মুল ভু-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার নীলনকশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে! পার্বত্য পাহাড়ীরাতো উন্নয়নে জীবনেও সন্তুস্ট হবেনা-ওরা চায় বিচ্ছিন্ন হতে। ওদের আন্দোলনের মুখ্য উদ্দ্যেশ্য বিচ্ছিন্নতাবাদ।
অনেক সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি সবসময় ন্যায় এর সাথে থাকবেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















