somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

হারানো দিনের গান, হারানো সুরের বেদনা

০৯ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হারানো সুরের বেদনা

ব্লগে অনেকেই অনেক সুন্দর সুন্দর গান পোস্ট দেন-সেই সংগে লিংক দিয়ে দেন। যাতে করে পাঠক গানের বাণী পড়েই তার প্রিয় গানটি শুনেও তৃপ্ত হতে পারেন। ব্লগার "হ্যামিলনের বাশী ওয়ালা" প্রায় নিয়মিত পুরোনো দিনের কিম্বা বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় গানের পোস্ট দেন। আমি সুযোগ পেলেই সেইসব গান শুণতে চেস্টা করি।সেই পুরোনো দিনের গানের সাথে বর্তমান সময়ের গানের কী অমিল! তা শুধু গানের কথায় নয়, তাল-লয়-ছন্দ সব ক্ষেত্রেই বিষদৃশ্য!

হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা যেসব গানের পোস্ট দেন-সেই গানগুলো অনেকের কাছেই অত্যন্ত প্রিয়, অনেককেই করে নস্টালজিক। এর বিপরীত চিত্রঃ- কিছুদিন পুর্বে ফার্ম গেইট ওভার ব্রীজে উঠেছিলাম। ওখানে ডুয়েট গান বাজচ্ছিল(পুরুষ শিল্পীটির নাম কালাম বয়াতী, আর মহিলা শিল্পীকে বলা হয় "বাউল সম্রাজ্ঞী"(ভাগ্যিস ফেন্সী সম্রাজ্ঞী বলা হয়না), তিনি এখন একজন এম পি) ! পাঠক গানের কথাগুলো লিখতে আমার লজ্জা লাগছে-তবুও লিখতে বাধ্য হচ্ছি-গানের কথা কতটা খারাপ হতে পারে-তা আপনাদের জানানোর জন্যই। ছেলে শিল্পীঃ-"ও ছেমড়ী তোর জাম্বুরা গাছে পাকা জাম্বুরা ঝোলে------(বাকীটুকু লিখলে পি সি অপবিত্র হয়ে যাবে) মেয়ে শিল্পীঃ-"ও ছ্যামড়া তোর পিন্দনের কাপড় রসেতে ভেজে"(বাকীটুকু নাইবা লিখি)।
এগুলো কি ধরনের গান? কারা লেখে এই গান? কারা করেই এই গানে সুর? কারা গায় এই গান? একটা গানের সাথে গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। বুঝিনা এইসব গানের সাথে প্রত্যক্ষ জড়িত এই তিন ধরনের মানুষ কি মানুষের পয়দা! মানুষ হলে এই গান কি করে লিখে? কিকরে গায়! গানের নামে এই অসভ্যতা শুনলেই বন্দুকের(Gun)কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে ক্রস ফায়ারের কথা। এদেরকে কি ক্রস ফায়ারে দেয়া যায়না? আসলে কেনো এমন হয়? কেনো এমন হলো?

গীতিকারদের সৃজনশীলতা কি হারিয়ে গিয়েছে? সুরকারদের সৃজনশীলতা কি শেষ হয়ে গিয়েছে? সুর কি হারায়? শিল্পীরা কি হারায়? সত্যি বলছি-এমন সব প্রশ্ন আমাকে বিচলিত করে ফেলেছে! এই প্রশ্নগুলো আমাকে বার বার আন্দোলিত করে। সুরের ইন্দ্রজাল মানুষকে ভাবনার জোয়ারে ভাসায়, আবেগ ছুঁয়ে যায়। এক সময় সুরের মোহনায় হারিয়ে যেতাম কোনো এক অজানা স্বপ্নের জগতে। সুর শেখাতো কীভাবে ভালোবাসতে হয়। গানের কথা শেখাতো কি ভাবে ভালোবাসতে হয়। গানের সেই চিরন্তন কথা, সেই চেনা সুর এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। চেনা গান অচেনা সুরে রিমিক্স করে গাওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এভাবে চেনা গানের চেনা সুর বাদ দিয়ে অচেনা সুরে গাইলে একদিকে যেমন গান তার মৌলিকত্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে থাকছে না গানের সেই আবেদন। কিছু বিখ্যাত গান গাওয়া হচ্ছে ভিন্ন সুরে। অথচ যাঁর কণ্ঠে ওই গানটি বিখ্যাত হয়েছে, তাঁর অনুমতি পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে না।

এক সময় গান রচনা করা হতো এই ভেবে যে, গানটি যেন তার আবেদন ধরে রাখতে পারে আজীবন। কিন্তু এখনকার গান সৃজনশীল মনোজগতের বিনোদন হিসেবে কাজ করতে অক্ষম। ক্ষণিকের আবেদন আর সাময়িকভাবে সুস্থ মনোজগতে অস্থির চিন্তা-ভাবনা জাগানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। গান কে না ভালোবাসে (?) প্রতিটি মানুষই মনে মনে, অনুচ্চস্বরে কখনো বা উচ্চস্বরে নিজের অজান্তেই গেয়ে ওঠে প্রিয় কোনো গান। আবেগমিশ্রিত মায়াবী সুরের কারণেই গানের প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা আর মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়। কথা, সুর আর কণ্ঠ।। এই তিনের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় চির আবেদনময়ী কোনো গান, যেটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে আজীবন। সে সুর মানুষ কখনো ভোলে না; সে গান কখনো হারিয়ে যায় না। কিন্তু এখনকার গান আগের মতো কেউ আর মনে রাখে না। শুধু তাই নয়, এখনকার গানে স্থান পায় না আর কোনো সর্বহারা মানুষের বেদনার কথা; স্থান পায় না পথশিশু কিংবা ক্ষুধায় কাতর অনাথ শিশুর যন্ত্রণার কথা। মোটামুটি ভাবে বলা যায়-বর্তমানের প্রায় সকল গানই "তুমি-আমি/ ভালোবাসাবাসি"র গান। অথচ বাস্তবে সেই ভালোবাসাবাসিরও কোনো স্থান নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ৮:৩৫
৪২টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×