![]() | আর এস এস ফিড |
পোস্ট আর্কাইভ
- আগস্ট,২০১২(২)
- জুলাই,২০১২(৯)
- জুন,২০১২(৩)
- মে,২০১২(২)
- এপ্রিল,২০১২(৫)
- মার্চ,২০১২(৫)
- ফেব্রুয়ারী,২০১২(৬)
- জানুয়ারী,২০১২(৬)
- ডিসেম্বর,২০১১(৬)
- নভেম্বর,২০১১(৪)
- সেপ্টেম্বর,২০১১(৩)
- আগস্ট,২০১১(৬)
- জুলাই,২০১১(৪)
- জুন,২০১১(৩)
- মে,২০১১(৬)
- এপ্রিল,২০১১(৪)
- মার্চ,২০১১(৩)
- ফেব্রুয়ারী,২০১১(২)
- জানুয়ারী,২০১১(১)
- ডিসেম্বর,২০১০(৫)
- নভেম্বর,২০১০(৫)
- অক্টোবর,২০১০(৮)
- সেপ্টেম্বর,২০১০(৯)
- আগস্ট,২০১০(৮)
- জুলাই,২০১০(৪)
- জুন,২০১০(৮)
- মে,২০১০(৩)
- এপ্রিল,২০১০(২১)
- মার্চ,২০১০(৮)
- ফেব্রুয়ারী,২০১০(৯)
- জানুয়ারী,২০১০(১২)
- ডিসেম্বর,২০০৯(১৫)
- নভেম্বর,২০০৯(১৩)
- অক্টোবর,২০০৯(১৫)
- সেপ্টেম্বর,২০০৯(২৬)
- আগস্ট,২০০৯(২২)
- জুলাই,২০০৯(১৪)
- জুন,২০০৯(১৩)
- মে,২০০৯(১১)
- এপ্রিল,২০০৯(১৬)
- মার্চ,২০০৯(২)
আমার লিঙ্কস
আমার বিভাগ
কোন বিভাগ নেই
আমার প্রিয় পোস্ট
- ১৯৮১ সালের ৩০শে মে, একটি নক্ষত্রের ঝরে পরা, শোকে মূহ্যমান জাতি - পর্ব ৩ - রমিত
- শহীদ জিয়ার প্রতি এত আক্রোশের কারণ কি? - ধীবর
- আরিফ জেবতিকের খোলা চিঠির উত্তরে কওমি মাদ্রাসার তরুনের খোলা চিঠি - একজন ঘূণপোকা
- "আমি মেজর জিয়া বলছি" - উত্তাল মার্চ - সপ্তম পর্ব - কান্ডারী অথর্ব
- পৃথিবীর ইতিহাস বদলে দেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন সেই মানুষগুলো - রিয়াজুল ইস্লাম
- পৃথিবীর সকল মরুভূমির ব্যবচ্ছেদ; জানা-অজানা বিষয়গুলো। - ফারজুল আরেফিন
- নতুন পদ্ধতিতে ব্লগ পোষ্টে ছবি আপলোড - অন্যমনস্ক শরৎ
- হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ উৎসর্গ পত্র সমগ্র...... কিছু ছবি এবং পরিশেষে একটি প্রস্তাব - অনিমেষ হৃদয়
- একজন হুমায়ুন আহমেদ এবং আমাদের প্রমানিত ভন্ডামি-নির্লজ্জতা - নাহিয়ান বিন হোসেন
- বাংলা নববর্ষ,বৈশাখের ইতিকথা - টনি
- বিনামূল্যে সংগ্রহে রাখুন অনলাইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও উপযোগী সাইট - রামন
- বন্ধু, কী খবর বল? _ বন্ধুতা নিয়ে যত গান - আহাদিল
- কষ্টে শুকিয়ে যাওয়া এক সাগর - আহমেদ জী এস
- আমার দ্বিবর্ষপূর্তি এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা - দূর্যোধন
- যে ভাবে সামহোয়্যার ইন ব্লগের জন্ম এবং বাংলার প্রতি ভালোবাসা - ভাস্কর চৌধুরী
- গবেষকদের কপালে ঘাম জমানো পৃথিবীর মহারহস্যময় কিছু জায়গা - জেনারেশন সুপারস্টার
- ফেব্রুয়ারি মাসের পাঠোচিত মাইনাচীয় পোষ্ট
- ~মাইনাচ~
- 'এক মুঠো চলচ্ছবি'-র দ্বিতীয় সংখ্যা এখন আপনার হাতের মুঠোয়
- কাউসার রুশো
- প্রিয় ব্লগার বন্ধুদের নিয়ে কিছু কথা- ১
- নীরব 009
- বেহালা (Violin) শেখার হাতেখড়ি - কবির চৌধুরী
যন্ত্র মানবঃ যান্ত্রিকতায় ভুলেছে স্বকীয়তা
০২ রা নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:৫৬ |
যন্ত্র মানবঃ যান্ত্রিকতায় ভুলেছে স্বকীয়তা
সূর্য্যদয়ের আগেই ঘুম ভাঙে এই কর্মব্যস্ত শহরের, ঘুম ভাংগে মহানগর বাসীর। তারপর নিরন্তর ছুটে চলা। মহানগরের দেড় কোটি মানুষ যানজটের মাধ্যমে দিন শুরু করে সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর তীব্র যানজটের ধকল পেরিয়ে ঘরে ফির লোডশেডিংয়ের লোড নিয়ে ঘর্মাক্ত শরীরে বিছানায় নির্ঘুম গড়াগড়ি-তারপর আবার সকাল। গ্রামের কথা নাহয় নাই বলি-এই ঢাকা শহরেও যখন আমরা ছোট ছিলাম তখন দেখতাম পাড়ায় পাড়ায় আনন্দ আর উৎসবের সমারোহ।জনে জনে আত্মার মেলবন্ধন।সকলেই সকলের কুশলাদি বিনিময় করতেন নিয়মিত,আদান-প্রদান করতেন তাদের কুশলাদী। আর এখন পাশের প্রতিবেশী মারা গেলেও দেখার সময় নেই। “আহারে লোকটি ভাল ছিল”-সেই কথাও আমরা উচ্চারণ করতে ভুলে গেছি। আমরা কি তাহলে বাংগালীর সহমর্মিতা আর আতিথিয়েতার অতীত ঐতিহ্য ভুলে যেতে বসেছি? মানুষের ভালোবাসা এখন বন্দি হচ্ছে নাটক সিনেমা গল্প কবিতা আর ইন্টারনেট প্রেমে!
নগর জীবনের এই ক্রান্তিকাল থেকে কি আমরা ফিরে যেতে পারিনা-সেই হারানো গৌরবের দিনে? যেখানে থাকবে শুধু পারস্পারিক সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ আর পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন। একটি ঘটনার কথা বলি। কিছুদিন পুর্বে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের পানশী রেস্টুরেন্টের সামনে একটি জটলা।এগিয়ে যেতেই দেখি-এক তরুণকে ৩/৪ তরুন কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে লাথি মারছে! তরুণ নিজেকে রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা করছিল। জটলায় দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ এবং তিনজন টহল পুলিশ সেই অমানবিক দৃশ্যটি উপভোগ করছিল। প্রথমে আমি দুই তরুনকে মারা বন্ধ করতে বলি। ছেলে দুটি আমার দিকে ঘাড় বাঁকিয়ে আড় চোখে দেখে-ভাবখানা “ব্যাটা তুই আবার কে”! দুই তরুন আবার চিতকার করে গালাগালি এবং লাথি কষে দিল ছেলেটির কোমড়ে। এবার আমিই ওদেরকে “কিঞ্চিত” শক্তি প্রয়োগে নিবৃত করতে বাধ্য হই।
আমরা এই প্রজন্মকে কি শিক্ষা দিচ্ছি! আমাদের প্রজন্ম কি শিখছে? বড়দের প্রতি সম্মান বোধ কি কমে গেছে। আমাদের শিক্ষার হারতো ঠিকই বাড়ছে কিন্তু আমরা কি এই শিক্ষা শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় আবদ্ধ করে ফেলছিনা? তাহলে পথে অসহায় পথচারীর প্রতি কিম্বা মরে পড়ে থাকা লাশের প্রতি আমরা তাকাইনা কেন? আবার দিন দূপুরে হাজার লোকের সামনে,পুলিশের সামনে রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেও পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করে-আমরা প্রতিবাদটুকুও করিনা।রাজপথে ছিনতাইকারী ছিনিয়ে নেয় সবকিছ-অথচ আমরা নির্বিকার! কোথায় গেল বাঙালির সেই দুঃসাহসীকতা?বাঙালিতো ভীতু নয়, হারবার নয়। আমরা কি যন্ত্র মানবে পরিণত হয়েছি? যান্ত্রিক জীবন কি আমাদের জীবনও যান্ত্রিকতায় রূপ দিচ্ছে?নাকি মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে আমরা সবাই ডিজিটাল হয়ে গিয়েছি? আমরা ভুলে যেতে বসেছি বাঙালি উদ্যোমী দুঃসাহসী বীর জাতি। নগর জীবনের এই যান্ত্রিকতায় আমরা কি হারাতে বসেছি আমাদের স্বকীয়তা? কর্মব্যস্ত এই পৃথিবীতে সবাইকে নিয়মানুবর্তীতার মধ্যেই চলতে হয়। তার মানে এই নয় যে, আমরা যান্ত্রিকতায় নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলবো।
এখন আমাদের নাগরিক জীবন অনেকটাই যান্ত্রিক। যন্ত্রচালিত আমাদের প্রাত্যহিক জীবন। ঘুম থেকে উঠে, কর্ম ব্যস্ততায় শুরু থেকে, রাতে ঘুমোনোর সময় পর্যন্ত নানা যন্ত্রের সান্নিধ্যে কাটে আমাদের এক একটি দিন। বাতি, পাখা থেকে শুরু করে নানা যন্ত্র আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। আর এসব যন্ত্রের আবিষ্কারও হয়েছে আমাদের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবেই, কিন্তু এসব যন্ত্রের চেয়েও যান্ত্রিক আমাদের মানব জীবন। যন্ত্রগুলো ব্যবহার করতে করতে আমরাই এক একটি মনুষ্য আকৃতির যন্ত্র হয়ে গেছি। আমাদের বিবেক-বুদ্ধি-বিচার সব যেনো কম্পিউটারের প্রোগ্রামের মত প্রোগ্রাম করা। স্বার্থ যেখানে সেখানেই আমাদের পথচলা, স্বার্থবিহীন কোন কাজে এমনকি আর্তের সেবায়ও কেউ আর এগিয়ে আসেনা। নিজেদের স্বার্থ-সিদ্ধি হাসিলই আমাদের একমাত্র পাথেয়। ছাত্রদের বন্ধুত্ব নামক পবিত্র সম্পর্কও আজ নোট আদান-প্রদান নির্ভর হয়ে গেছে। সেই পাঠশালার সময়কার অমর বন্ধুত্ব এখন আর চোখে পড়ে না, অথচ সে বন্ধুত্ব ছিলো আত্মার সাথে আত্মার প্রগাঢ় সম্পর্ক। এখন তো বন্ধুত্ব নামক সম্পর্কের আড়ালে, স্মার্টনেসের আড়ালে চলে অর্থ বিত্তের প্রতিযোগিতা। লাল-মুড়ি, চানাচুরের বদলে চলে ফাস্টফুড কালচার। দু’একটি যাও অনাবিল বন্ধুত্ব চোখে পড়ে তাও ঐসব অন্যরকম বন্ধুত্বের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়।‘পেন ফ্রেন্ড’তো এখন রূপকথার গল্প! আত্মীয়তার মঝেও আজকাল কৃত্রিমতা, নেই রক্তের সম্পর্ক রক্ষার তাগিদ, নেই কোন আত্মার টান। সব কিছু যেন ঢাকা পড়ে গেছে বিত্তের লালসায়। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক আজকাল রূপ নিয়েছে ব্যবসায়িক স্বার্থে।অথচ কতো শ্রদ্ধা আর মমতা মিশানো ছিলো সে সম্পর্ক।
‘চিঠি দিও প্রতিদিন’-কেউ আর বলেনা আজ। বর্তমান ই-মেইল আর এসএমএস এর যুগে দ্রুত যোগাযোগ হয় কিন্তু সেই হাতে লিখা চিঠির ভালোবাসা স্পর্শ আবেগ অনুভূতি কি পাওয়া যায় ইলেকট্রনিক মাধ্যমে? হাজারো ঝামেলার মাঝে আপন বা প্রিয়জনের চিঠি পাওয়ার যে তীব্র আকাঙ্খা থাকতো, যে পুঞ্জিভূত অনুভূতি থাকতো সেই প্রত্যাশিত চিঠিতে তা আজ আর আমাদের জীবনে নেই। আমরা আজকাল ই-মেইল বা এসএমএস করে দায়সারা ভাবে উত্তর লিখেই দায়িত্ব শেষ করি।কিশোরী প্রেমিকা এখন আর লুকিয়ে সেলাই করেনা সাদা রুমালে রংগীন সূতোয়-“ভুলনা আমায়”, তুলে দেয়না প্রিয় বন্ধুকে।এখন বন্ধুত্ব হয়-তিনশ’ টাকা ফ্লেক্সি করার জন্য। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝেও সেই আগের দিনের মত ভালোবাসা-শ্রদ্ধা বিশ্বাসের যায়গা স্থান করেনিয়েছে ‘নিয়ম রক্ষা’। গ্রামের বাড়ির নারীর টান এখন আর শহুরে যান্ত্রিক অ্যাপার্টমেন্ট আভিজাত্যের কাছে টিকে না, তেমনি টিকে না সন্তানদের কাছে থাকার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আকুতি। সন্তানদের সেই অ্যাপার্টমেন্ট নামক আভিজাত্যের কাছে ঠাই হয়না-বৃদ্ধ মা বাবাদের। তাদের ঠাঁই হয় আগারগাঁওয়ে যান্ত্রিক জীবনের সৃষ্টি ‘বৃদ্ধাশ্রম’ নামক নিস্প্রান ভবন। আমরা আমাদের সন্তানদের প্রকৃত ও নৈতিক শিক্ষা না দিয়ে পাশ্চাত্যের আভিজাত্য সম্পর্কে শিক্ষা দিতে আগ্রহী। নিজস্ব শিল্প সংস্কৃতি ভুলে আমরা পাশ্চাত্য আভিজাত্য, সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরছি। এ সব কিছুর মূলেই যান্ত্রিকতা-কিন্তু যান্ত্রিকতা আমাদের জীবন নয়।জীবন হল আমাদের মনুষত্ব, বিবেক, নৈতিকতা।মানবিক মুল্যবোধের মানুষ আমরা নেই, হয়ে গেছি বিবেক বর্জিত, নৈতিকতাহীন, মনুষ্যত্বহীন মানুষ আকৃতির ‘যন্ত্র মানব’।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ধন্যবাদ কবির চৌধুরী।
মোহাম্মদ লোমান বলেছেন:
প্রিয় কবির ভাই, অত্যন্তু গুরুত্বপূর্ণ আত্ম-সমালোচনা মুলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ এবং প্লাস।আমরা যেন আসলেই যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছি। ভাল সম্পক, ভাল ভাবসাব তো দূরে থাক, এখন নিজ নিজ সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাও অনেকটা দায়। জানি না আমদের মূলে ফেরত আসা হবে কি না আর কখনো।
ভোগ কর, যত পারো, শরীর না পারলে মুখ দিয়ে টিজ করো- এই ভাবেইতো চলছে.....আমাদের মিডিয়া এই সবের সবচেয়ে বড় উস্কানী দাতা, মেয়েকে পন্য বানিয়েছে তারা........এখন তারাই আবার সুশীল ভাব ধরে। ভোগের জন্যই এই উত্তেজনা সর্বত্র । ।
নৈতিকতা,মানবিক মুল্যবোধের , ধর্ম- এই সব বললে এখন বাঁকা চোখে দেখা হয়...........সো এই সমাজের কাছে আর কিবা চাইতে পারি আমরা ।
ভালো থেকো।
নিভৃত নয়ন বলেছেন:
মানবিক মুল্যবোধের মানুষ আমরা নেই, হয়ে গেছি বিবেক বর্জিত, নৈতিকতাহীন, মনুষ্যত্বহীন মানুষ আকৃতির ‘যন্ত্র মানব’।
পৃথিবী আমারে চাই না বলেছেন:
আমরা মনে হয় সেই প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি যারা দুইটি বিপরীতধর্মী প্রজন্মের চাক্ষুষ সাক্ষি। খুব বেশিদিনের কথা তো নয় যখন ছিল মানুষে মানুষে ছিল পারস্পারিক সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ আর পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন। যখন মানুষ একটা রাস্তার ক্ষুধার্ত কুকুরকেও সামনে পড়লে ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করে তৃপ্ত হত। আমি নিজে দেখেছি আমাদের গ্রামে সামর্থবানদের বাড়িতে থাকতো খানকা ঘর যেখানে রাস্তার পথিকেরা সূর্য ডোবার পূর্বে গন্তব্যে পৌছাতে না পারলে সেখানে রাত্রিযাপন করতো এবং গৃহস্থ পরম আগ্রহে তাকে আপ্যায়ন করাতো।
সৈয়দ মুজতবা আলির দেশে বিদেশে বইতে পড়েছিলাম পেশোয়ার থেকে কান্দাহার পর্যন্ত যেতে মানুষের স্বাভাবাকভাবে লাগতো তিন দিন কিন্তু কোন পথিকই সেই পথ তিন দিনে যেতে পারতো না। রাস্তায় অনেক মানুষই নতুন কোন মানুষকে দেখলে তাকে ধরে নিয়ে যেত এবং এলাকার আরো অনেককে দাওয়াত করে মহা উৎসাহ আয়েজনে তাকে আপ্যায়িত করতো। এভাবে কখনও কখনও কারো পনের দিন পর্যন্ত লেগে যেত গন্তব্যে পৌছুতে।
আর এখন আছে গতি। সেই খানকা ঘর আর নেই। নেই পারস্পারিক সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ আর পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন। আছে বড় বড় দালান কোঠা যেখানে লেখা থাকে অতিথিদের গাড়ি বাইরে রাখুন। হয়তো এটাই এখনকার বাস্তবতা তারপরও ঢাকাতে যখন এইটা একটা বাড়ির গ্যারেজে লেখা দেখেছিলাম তখন বেশ অবাক লেগেছিল আমার কাছে।
কি পেলাম আমরা এই যান্ত্রীক সভ্যতার কাছে ?? কি দিল আমাদের এই রংচটা জিন্সের আধুনিক সভ্যতা ? কি হারালাম তা তো কোথাও লেখা হয় না কিন্তু কি পেলাম তা দেখা যায় প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতায়।
আমার দরকার নেই বিনোদনের জন্য আকাশ সংস্কৃতির ... আকাশকে ফিরে পেতে চাই ঘুড়ি ওড়ানোর অনাবিল আনন্দের জন্য।
শুভ কামনা।
নষ্টালজিয়া বলেছেন:
আমরা এখন যান্ত্রিকতার চার দেয়ালের মাঝে মনটা বিষিয়ে উঠেছে। মন বলছে গ্রাম মাতৃকার সান্নিধ্যে কয়েকটা প্রহর ব্যয় করি আমি। কুয়াশায় ভরা সকালের রাস্তায় হেঁটে সরিষা ক্ষেতের পাশে গিয়ে সুবাসিত নিঃশ্বাসে নিজেকে ভিজিয়ে তুলতে ইচ্ছা করছে। ইচ্ছা করছে শান্ত নদীটির বালুটাকে সাক্ষী রেখে ঝাপিয়ে পড়ি অপার সৌন্দর্যে। কিন্তু হৃদয়ের সকল ব্যাকুলতা উজাড় করেও একটুখানি ফাঁক খুজে পাচ্ছি না আমার মাতৃকাকে দেখার।
ইউনুস খান বলেছেন:
যান্ত্রিক জীবনে চলতে চলতে আমরা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলছি। অনুভূতিগুলো দিনকে দিন ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে। মানবিকতা শব্দটা শৌখিন হয়ে যাচ্ছে। জানিনা এটার পরিণতি কোথায় গিয়ে থামবে?
সত্য কথায় যত দোষ ! বলেছেন:
আমিতো নিজেকে মানুষ ভাবিইনা। নিজেকে দম দেয়া পুতুল মনে করেই "এলাহি ভরসা" চালিয়ে নিচ্ছি......।
শূণ্য উপত্যকা বলেছেন:
নিজেই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছি।সকালে অফিসে যায়। দুপুরে বাসায় কোনদিন খেতে আসি কোনদিন হয় না। সন্ধ্যায় ফিরি। কতক্ষণ জিমে সময় কাটাই। তারপর একটু টিভি দেখি এর পর খাওয়া দাওয়া সেরে ব্লগ তারপর বই পড়া। চারপাশের আর কোন খবর রাখি না। কাউকে ফোন পর্যন্ত করি না। দিনদিন রোবট হয়ে যাচ্ছি।
লুৎফুল কাদের বলেছেন:
সবাই ছুটছে টাকার পিছনে. আপনি কেমন আছেন আন্কেল.
জিসান শা ইকরাম বলেছেন:
হ্যা , আমরা যন্ত্র হয়ে গিয়েছি। আমাদের ঢাকা আর আগের সেই ঢাকা নেই। আপনার দেখার দৃষ্টি আছে। তাই দেখছেন এগুলো। তবে বেশি দেখলে কষ্ট বাড়ে। বেদনায় নীল হতে হয়। আমি এসব দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।আমার বন্ধুরা অনেকেই বলে- "জিস, কেন তুই ঢাকা কিছু করলি না ? জায়গা,ফ্লাট কিছুই তোর ঢাকাতে নেই। অথচ যে কোন সময় তা তুই করতে পার"
আমি হেসে উড়িয়ে দেই। ওদেরকে বলিনা- আমি ঢাকাতে থাকতে পারবনা।যা কিছু অন্তর আছে- তা আছে গ্রামে। যেখান হতে আমি আজ এই আমি হয়েছি, ওটা আমার শিকর। ওটা আমার নিজের প্রান।ঢাকা গেলে আমার দম আটকে যায়,কেউ কাউকে ছাড় দেয়না। আমি ওখানে অযোগ্য।
ভাই - ভাবতে ভাল লাগছে, এসব ভাবার এখনো কিছু লোকজন আছেন।
লেখা ভাল লেগেছে- এটা বলতেও কেমন লাগে। মন্তব্যেই ত বলি- কেমন লেগেছে।
শুভ কামনা আপনার জন্য। এই প্রান যেন থাকে সবুজ
আপনি যেখানেই আছেন-নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে সম্মান নিয়ে আছেন-এটাই আপনা সফলতা।
আমিও ফিরে যেতে চাই-গ্রামে। এবং তেমন প্রস্তুতি আমার আছে।
ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।
সুচিন্তিত মতবাদ বলেছেন:
"জটলায় দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ এবং তিনজন টহল পুলিশ সেই অমানবিক দৃশ্যটি উপভোগ করছিল"-আপনার এই লাইনেই আপনার পোস্টের মুল মর্ম লুকিয়ে আছে।বাস্তবতার নিরিখে "মানুষ" এবং "পুলিশ" এর শ্রেনী বিণ্যাশ যথার্থ হয়েছে।খুব খারাপ লাগছে-বাস্তবতার নিরিখে লেখা আপনার এই পরিশ্রমী পোস্ট পড়ার পাঠক সামু ব্লগে নেই। অচথ, "আমি সেইফ হইলাম"-জাতীয় পোস্টেও অসংখ্য প্রসংশা আর মন্তব্যের ছড়াছড়ি দেখে অবাক হই।
সুচিন্তিত, আমার লেখা পাঠকদের জন্যই। আপনারা যদি আমার লেখা নাপড়েন-আমারতো কিছুই করার নেই! যখন দেখি এক শ্রেনীর ব্লগার-একটা গান/কবিতা/গল্প কপি পেস্ট করে অজস্র বাহবা পায়-তখন নিজেকে খুবই অসহায় মনে হয়!
জামিনদার বলেছেন:
একান্তে হাটতে হাটতে হঠাতই আপনার কথা মনে পড়ল প্রিয় জুলবার্ন। আপনার পোস্টগুলো দেখে আমার মনে হচ্ছে আপনার ব্লগ না পড়া মানে আপনার উপর অবিচার করা। আমি এতদিন এই কাজটাই করে এসেছি। আমাকে ক্ষমা করবেন। পোস্টে আপনি যে দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তার ঠিক উল্টোপিঠেই শান্তির বসবাস। কিন্তু আমাদের এই পরিবর্তনটা আসছে ঝড়ের চেয়েও তীব্রগতিতে। ২০০১ এবং ২০১০ এর মধ্যকার পাথ্যর্কের হিসাব করলেই বুঝবেন কতদ্রুত আমরা উন্নতির (?) দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
এই ভাবনার পোস্ট সামনে আরো কামনা করি।
ধন্যবাদ অনেক ভাল থাকবেন।
আমার প্রত্যাশা, পাঠক আমার লেখার ভুল ত্রুটি উল্যেখ করে সমালোচনা করুন। আমি পাঠকদের কাছে অনেক কিছু শিখতে চাই, জানতে চাই।
ধন্যবাদ।
ডেইফ বলেছেন:
আপনার লেখাটা যেন মনের কথাই বলে দিল।ভাল লাগে না আর এই সব শিক্ষিত (!) সমাজের মাঝে থাকতে।
কারও প্রতি কোনো কারও শ্রদ্ধাবোধ নেই, মমতা নেই।
মনে হচ্ছে পুরোটা সমাজই যেন একটি কর্পোরেট কোম্পানী।
সবাই চলছে ছুটে। কিন্তু কই, সব প্রগতিশীল দেশের তো এমন অবস্থা হয়নি।
আমাদের এখনকার গ্রামগুলোও আজ গ্রাম নেই।
ভাল থাকবেন আর এত চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ রইল।
সত্যি বর্তমানে বড়দের প্রতি ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ, সম্মান এবং ছোটদের প্রতি স্নেহবোধও কমেগিয়েছে! অথচ, এমন দুঃসময় আমাদের বাংগালী সমাজে ছিলইনা! এখন "আমরা সবাই রাজা"-বনেগিয়েছ। আমাদের মুল্যবোধ উলটো হয়েগিয়েছে। এখন বেশীর ভাগ মানুষই মনে করেন-কাউকে সম্মান দেখিয়ে নিজের বড়ত্ব কমে যেতে পারে!
গ্রামের অবস্থা কিন্তু আরো খারাপ। আমি নিজ চোখে দেখেছি-গ্রামের সম্মানিত মানুষটির বখে যাওয়া ছেলেটি বারকয়েক এস এস সি ফেল করে এখন ইউনিয়ন/ থানা পর্যায়ের ছাত্র লীগ কিম্বা ছাত্র দলের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক হয়ে বাড়ি বাড়ি পাঁচ ব্যাটারী টর্চ লাইট হাতে, শীত গ্রীষ্ম সকল সিজনে গলায় রংগীন মাফলার পেছিয়ে বেপরোয়া আচরণ করতে! তারা কাউকে সম্মান্তো করেইনা-পারলে একজন সম্মানেত মানুষকে অসম্মান করে নিজেকে বিখ্যাত করার চেস্টায় রত!
সুন্দর মন্তব্যের জন্য আবারো ধন্যবাদ জানাই।
সারথী মন বলেছেন:
"কিশোরী প্রেমিকা এখন আর লুকিয়ে সেলাই করেনা সাদা রুমালে রংগীন সূতোয়-“ভুলনা আমায়”, তুলে দেয়না প্রিয় বন্ধুকে।এখন বন্ধুত্ব হয়-তিনশ’ টাকা ফ্লেক্সি করার জন্য।"- সত্য যে এমন বাস্তব হতে পারে তা আপনার এই লেখাটা নাপড়লে বুঝতামনা।
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন:
ভাল মানুষের দাম নাই। পারষ্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস সবাইকে দিন দিন স্বার্থপর, যান্ত্রিক করে তুলছে।দারিদ্র্য এবং অপ্রতুল সম্পদ মূল কারণ বলে মনে হয়। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি সুবিধা দিতে রাজি না।
হ্যা, ঠিকই বলেছেন-এসবের জন্য দারিদ্রতা, সম্পদের অপ্রতুলতা মুল কারন। এর সাথে যোগ হয়েছে-মেধা, যোগ্যতা, পরশ্রম ভিন্ন যেনোতেনো ভাবে শর্টকাট সম্পদশালী হওয়ার সীমাহীন লোভ-লালশা।
ধন্যবাদ আপনাকে।
রাজসোহান বলেছেন:
তবে এই যন্ত্র জীবন ছাড়া এক মুহুর্তও চলতে পারবো না !
হুপফূলফরইভার বলেছেন:
নগর জীবন একি রকম একি ধারায় চলে যায়~
ইচ্ছে করেও পারিনা লুকোতে~ তবে সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে মাঝেই ডুবে যাই কোন এক অজানার পথে~ কোন এক অচেনা গায়ে~
লালসালু বলেছেন:
দাও ফিরিয়ে সেই অরন্য
চেম্বার জজ বলেছেন:
কঠিন বাস্তবতায় বর্তমান এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি আমরা! অসাধারন উপস্থাপন!!!
লুকোচুরি বলেছেন:
এসবের জন্য দারিদ্রতা, সম্পদের অপ্রতুলতা মুল কারন। এর সাথে যোগ হয়েছে-মেধা, যোগ্যতা, পরশ্রম ভিন্ন যেনোতেনো ভাবে শর্টকাট সম্পদশালী হওয়ার সীমাহীন লোভ-লালশা।
সুবিদ্ বলেছেন:
আমার কিন্তু ভাইয়া উল্টোটা মনে হয়, এখন স্বকীয়তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে যন্ত্র!আমি যখন ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হই, তখন টাঙ্গাইল থেকে রংপুর (১৯৯৪) যেতে পুরো একদিন লাগতো, বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পরে সময় কমে এলো ঘন্টা পাঁচেকে। কিন্তু তখনো সেভাবে টেলিযোগাযোগটা ভালো ছিলনা, কলেজে পোঁছে চিঠি লিখতে হতো, সেই চিঠি বাসায় আসতে আসতে দিন তিনেক, অথচ এখন? ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন...
এখন অনেক সাহিত্যিক কম্পিউটারে লিখছেন, হুমায়ুন আজাদ চেয়েছিলেন কম্পিউটারকে তাঁর একটি বই উৎসর্গ করতে! ঝামেলা অনেক কমে গেছে না এসব কারনে?
দৃষ্টিপাত-এ যাযাবর বলেছিলেন, "বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ"--এই কথাকে আমি সমর্থন করিনা, তেমনি দ্বিমত আপনার মূল্যায়নের সাথেও।
আরো কিছু বলতে চাইছিলাম, কিন্তু দৌড়াতে হবে এখনি...
রাত্রি শেষে স্বপ্নপুরীর দরজা বন্ধ করে যন্ত্রের ডানায় ভর করে আমার সকাল আসে। জানালা দিয়ে সূর্য্যের আলো উঁকি দিয়ে বলে-বিছানার মায়া ছেড়ে উঠে আয়, তোর জন্য অপেক্ষা করছে ব্যস্ত দিনের কর্মস্রোত। আয়েশী ঘুমকে বিদায় দিয়ে বিছানা ছাড়ি, আর শুরু হয় কর্মস্রোতে ডুবে যাওযা তরীকে ভাসিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। তৈরী হয়ে অফিসের জন্য বের হই, যাদের নিজস্ব পরিবহন নেই তারা নগর জীবনের নিত্যবিরড়ম্বনায় ভরা বাস বা সি,এন,জি ধরার যুদ্ধ জয় করে ছুটেচলে অফিসে। গাড়ীর হর্ন, এলোমেলো চলাচল রিক্সার টুনটুন, রাস্তার ফুটপাতে কন্সট্রাকশন সরঞ্জামের স্তুপ আর ইটভাংগা যন্ত্রদানবের কান ফাঁটানো চিৎকারে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে পৌছে অফিসে। অফিসে পৌঁছে চায়ের টেবিলে বসে কলিগদের সাথে আলাপনে নিঃস্বঙ্গতার ক্লান্তি ঝড়ে, আর গরম চায়ে উঠে অপ্রাপ্তির ধোঁয়া। চা শেষ হতে না হতেই হাতছানি দিয়ে ডাকে যন্ত্রবন্ধু কম্পিউটার। প্রবেশ করি যন্ত্রে ঘেরা দায়িত্বের বাগানে। জল দেই, পরিচর্যা করি প্রজেক্ট নামের বৃক্ষের। সরকারি অফিসের পিওন থেকে বড় কর্তাকে টাকা খাওয়ায়ে,সরকার দলীয় ফান্ডে ডোনেশনের নামে সম্ভাব্য লাভের টাকার তিন চতুরাংশ ‘ফিসবিল্লহা’ দিয়ে কখনো ফোটে সাফল্যের ফুল, কখনো হয় ভুল। ফুল, ভুল আর বৃক্ষের সওয়ারী নিয়ে দিবস গাড়ীর চাকা ঘুরতে ঘুরতে এসে পৌঁছায় সন্ধ্যার তীরে। অফিস থেকে দৌড়ে বের হয়ে বাস ধরার যুদ্ধে আবার অবতীর্ণ হতেহয়।
ক্লান্ত শরিরে বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবি-কতদিন কবিতা পড়ি না, কতদিন রাতের আকাশে তারাদের মাঝে হারিয়ে যাই না। আজ অবশ্যই বাসায় ফিরে কবিতা পড়বো। বাসায় ফেরা হয় কিন্তু আমার কবিতা পড়া হয় না। রাতের সিঁড়িতে বসে আকাশের দিকে চেয়ে দেখি সময়ের পাখি উড়ে যাচ্ছে ঠোঁটে নিয়ে একটি গান-‘সখি বয়ে গেল বেলা…’-কিন্তু আমার ক্লান্তির বেলা শেষ হয়ে যায়না।তারপরও যাই ঘুমুতে, শুয়ে শুয়ে ভাবি এখন আমার কাজ নেই, তাই তো কবি গুরুর গানটি গেয়ে উঠি মনে মনে, ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা, মনে মনে পারুল বনের চম্পাকে মোর হয় জানা’।লোডশেডিং নামের ডিজিটাল অশান্তি নিয়েও ঢলে পড়ি নিদ্রার কোলে, পারুল বনের চম্পাকে আর জানা হয় না।
যান্ত্রিকতার চার দেয়ালের মাঝে মনটা বিষিয়ে উঠেছে। মন বলছে গ্রাম মাতৃকার সান্নিধ্যে কয়েকটা প্রহর ব্যয় করি আমি। কুয়াশায় ভরা সকালের রাস্তায় হেঁটে সরিষা ক্ষেতের পাশে গিয়ে সুবাসিত নিঃশ্বাসে নিজেকে ভিজিয়ে তুলতে ইচ্ছা করছে। ইচ্ছা করছে শান্ত নদীটির বালুটাকে সাক্ষী রেখে ঝাপিয়ে পড়ি অপার সৌন্দর্যে। কিন্তু হৃদয়ের সকল ব্যাকুলতা উজাড় করেও একটুখানি ফাঁক খুজে পাচ্ছি না আমার প্রকৃতি মাতৃকাকে দেখার।
সুবিদ্ বলেছেন:
ভাইয়া আমি হয়তো অকারন বিরক্তির কারন হচ্ছি আপনার,আবার অটতা গুছিয়ে কিছু লিখতেও পারিনা, তবুও দু'টো কথা বলি:আসলে যান্ত্রিক জীবনটাকেই আমরা ভালোবেসে ফেলেছি, মাঝে মাঝে যে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে ওটা আমাদের ক্রমাগত হিপোক্রেসির একটা by-product. কারন অলসতাকে উপভোগ করি আমরা সবচেয়ে বেশি। আমরা ঐ অলসতাকে ফিল করি আসলে। সেই সাথে আমরা ঠিকই জানি যে আমরা বহুদুর থেকে ফেলে আসা সেইসব সবুজে ঘেরা দিনগুলোতে আর ফিরে যাবোনা।
আজকে কি মহৎ সাহিত্য হচ্ছেনা, অসাধারন গান/কবিতার কি খুব বেশি আকাল পড়েছে? হ্যাঁ, ভেজালের ভিড়ে ওসবের প্রান ওষ্ঠাগত হয়তো তবে মানহীনতা সর্বত্র/সর্বকালেই বিরাজমান। আপনি যখন গাড়ি করে যান হয়তো তাতেই সব পছন্দের গান শুনছেন, আমার মতোন যারা বাসে চড়ে তাদের অনেকেই হয়তো কানে 'বিচি' গুঁজে নেয়।
ঈশ্বরচন্দ্রকে অসুস্থ মায়ের পাশে যাওয়ার জন্য নদী সাঁতরাতে হয়েছিল। আমি কি চাইব আজ সেটা করতে?
আসলে যন্ত্র আমাদের আবেগকে একটা ছকের ভেতরে এনেছে, সংহত করেছে...
প্রিয় সুবিদ,
গত কয়েক দিন যাবত খুব বেশী ব্যাস্ত সময় কাটিয়েছি-যার কারনে তোমার সুন্দর মন্তব্যের জবার দিতে দেরী হয়েগেল।
আমি মোটেই বিরক্ত হচ্ছিনা ভাইয়া,আমার লেখাতো তোমাদের জন্যই।তোমরা পড়ে আলোচনা সমালোচনা করো বলেই আমি অনেক কিছু জানতে পারি, শিখতে পারি।তোমরা যত বেশী ‘পয়েন্ট আউট’ করো-ততই আমার লেখার স্বার্থকতা খুঁজে পাই। প্রকৃত পক্ষেই আমাই আমার লেখার তেমন “পাঠক” চাই-যারা লেখা পড়ে মন্তব্য করবেন। আমার মোটেই ভালো লাগেনা-যে সব পাঠক না পড়েই “ভালো লাগা রেখে গেলাম” কিম্বা বিজ্ঞের মত “হুম” অথবা একটা “ইমো” দিয়ে, রেটিং করে যাওয়া।
আমার ধারনা,প্রকৃতি হাচ্ছে-“জাতিস্বত্বা”র মত।তুমি তোমার দেশ বদলাতে পারো, ধর্ম বদলাতে পারো-কিন্তু তোমার জাতিস্বত্বা তথা নৃতাত্বিক পরিচয় বদালাতে পারবেনা।মানুষ মুলতই প্রকৃতির সন্তান।জীবন বেড়েচলে প্রাকৃতিক নিয়মে।আমরা শুধু স্থান-কাল পরিবর্তন করে নিজেকে সময়, পরিস্থিতি আর স্থানের সাথে মানিয়ে নেই। ‘মানিয়ে নেয়া’ আর ‘মেনে নেয়ায়’ বিরাট তফাত রয়েছে-সেই তফাত মস্তাত্বিক তফাত।
যন্ত্রটাকে তথা যান্ত্রিকতাকে আমরা ভালোবেসে ফেলেছি-যা মিথ্যা নয়।প্রাকৃতি আর প্রকৃতির(ন্যাচারাল) প্রতি ভালোবাসা অন্তরের উপলব্ধি, আর যন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা আরোপিত।একটার উতপত্তি মনণে আর একটার প্রয়োগ হয় অভ্যাসে।আমরা অভ্যাসে এবং জীবন ও জিবীকার প্রয়োজনে যান্ত্রিকতাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।তুমি যেটাকে হিপোক্রেসির by-product বলেছো-তা কিছুটা সত্য হলেও মনে রাখতে হবে “অরিজিনাল” থেকেই যা তৈরী হয়-তাই by-product..কাজেই প্রডাক্টের চাইতে কখনোই বাই প্রডাক্ট আসল হতে পারেনা। হয়ত বাই প্রডাক্ট আরো বেশী দেখতে সুন্দর হবে-কিন্তু অরিজিনালিটি থাকবেনা।
আমিও অস্বীকার করবোনা-এখনো বিস্তর মহান সাহিত্য, গান, কবিতা মুভি সৃস্টি হচ্ছে-যা যান্ত্রিকতার মিশ্রনে।কিন্তু আজ থেকে অনেক বছর পুর্বে যখন যান্ত্রিকতা এতোটা আগ্রাসী হয়ে মানবমনে সংক্রমিত হয়নি-তখনি কিন্তু পৃথিবীর বেশীর ভাগ সভ্যতা, বেশীর ভাগ মনণশীলতার সৃস্টি হয়েছিল।মোজার্ট, বিটোফোন, বিছমিল্লাহ খা’র সাঁনাই,ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা’র সৃস্টিশীলতা কি আমরা খুব বেশী খুঁজে পাই বর্তমান যান্ত্রিকতায়?হ্যা, আমি যখন আমার ফ্যাক্টরী নরসিংদিতে(দুই ঘন্টার জার্ণী)যাওয়া আসা করি-তখন কানে গুজে দেই এখনকার সব বিখ্যাত সংগীত।কিন্তু যেদিন আরো একটু আয়েশী জীবন উপভোগ করার সুযোগ পাই-সেদিন আমি খুঁজে নেই আব্বাস উদ্দীন, আবাদুল আলীম, রাধা রমন, সাইগল, শচীন কর্তা, কানন বালাদের ঐতিহাসিক সৃস্টিকে।
না আমিও চাইনা বিদ্যা সাগরেরমত নদী সাতরিয়ে অসুস্থ্য মাকে দেখতে, আমিও চাইবো হাওয়াই জাহাজে করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অসুস্থ্য মায়ের পাশে দাড়াতে।কিন্তু মায়ের হাতের লেখা একটি চিঠির পরিবর্তে আমি বর্তমান মায়ের পাঠানো একটি এস এম এস পেয়ে কখনোই সেই হাতের লেখা চিঠির স্বাদ পাবোনা-সেই চিঠির স্বাদ, আবেগ শুধুই মনস্তাত্বিক, মোটেই বৈষইয়ীক নয়।নিশ্চই তুমিও তা অস্বীকার করবেনা।
হয়ত এইসব কারনেই আমরা কিছু সময়য়ের জন্য হলেও আমাদের অতীতে ফিরে যাই।তারপরেও আমরা যান্ত্রিকতা মেনে নিয়েছি, যান্ত্রিকতায় অভ্যস্ত্য হয়েগিয়েছি।এই যান্ত্রিকতাই আমাদের জীবন, আমাদের ভবিষ্যত।
নিরন্তর শুভ কামনা।
তীর জোক বলেছেন:
অপনার পোস্টে তথাকথিত নাস্তিকদের দেখি না।তারাই নাকি সবচেয়ে সচেতন নাগরিক, সত্যান্বেষী?
সব ভন্ড, আফসুস।
ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...













আপনার মন্তব্য লিখতে লগইন করুন ।