বায়তুল মোকাররম মুল মার্কেটের পেছনের দিকে অনেকগুলো দোকান আছে-যারা পাথরে খোদাই করে বিভিন্ন শিলা লিপি, নেম প্লেট,সাইন বোর্ড তৈরী করে। ঐস্থান হেটে আসতেই শ্বেত পাথরে খোদাই করা একটা শিলা লিপি দেখে থমকে দাড়াই।সেল ফোন ক্যামেরায় সেই শিলালিপি/নেম প্লেট’র ছবি তুলে নিয়ে এসেছি-সামুর পাঠকদের সাথে শেয়ার করার জন্য।দেখুনঃ-
বংশ পদমর্যাদার(যদিও বর্তমানে এইসব পদমর্যাদা কেউ পদদলিতও করেনা)পদবীর শেষ অক্ষর(বর্ণমালা)”র” দিয়ে বেশ কিছু বংশ/পদবীর কথা জানা আছে।আমাদের দেশের দক্ষিনাঞ্চলে তালুকদার, হাওলাদার, সর্দার, জমাদ্দার, কারিকর, সরকার পদবীগুলো খুব প্রচলিত।এর মধ্যে সর্দারদের অস্তিত্ব এখনো মিল কারখানার লেবার এবং সদরঘাটের কুলিদের মধ্যে ‘সর্দারী’ প্রথা আছে। কারিকরদের পেশা টিকে আছে নরসিংদি, টাংগাইল সিরাজগঞ্জ এলাকায়।
ঢাকার ইসলামপুরে এখন কয়েকটা পরিবার আছে-যাদের পদবী ‘নফর’ এবং ‘চাকর’।‘নফর’ এবং ‘চাকর’ শব্দগত একই অর্থ বহন করে।ইতিহাসবিদ নাজির আহমেদ তাঁর ঢাকার ইতিহাস বইতে নফর ও চাকর বংশের পরিচিতিতে উল্যেখ করেছেনঃ-নবাব পরিবারের অন্দর মহলে যারা কাজ করতেন তাদেরকে ‘নফর’ এবং অন্দর মহলের বাইরে যারা কাজ করতেন তাদের ‘চাকর’ বলা হত। পেশা একই ধরনের হলেও নফর শ্রেনী চাকর শ্রেনী থেকে একটু উপড়ে ছিল!
উত্তর বংগে সরকার পদবী তুলনা মুলক বেশী দেখেছি।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার দেখেছি তফাদার, তরপফদার, গোলদার(প্রচলিত উচ্চারণ গোলন্দাজ। উল্যেখযোগ্য নাম-প্রয়াত এমপি আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, আমরা মজা করে বলতাম-আলতাফ হোসেন আর্টিলারী), গোলদার।
যশোহর জেলায় আমার পরিচিত একজন ব্যবসায়ী আছেন যার পদবী “মাজমাদার”।এই মাজমাদারের মাজেজা আমি জানিনা।
সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলের কয়েকটি পরিবারের বংশ পরিচয় “চোর”! ভোটার তালিকায় তাদের পেশা “চোর” উল্যেখ করা হয়েছে!
নরসিংদী ব্রাম্মনদিতে অবস্থিত একটি টেক্সটাইল মিলে কর্মরত আছেন দুই ভাই-তাদের পদবী মাতুব্বর।তাদের ‘মাতুব্বরী’ করারমত কোনোই অবস্থা নেই।
বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে বিখ্যাত ছিলেন ইতিহাসখ্যাত “ফকির” পদবীর লোক(সুফী সাধক দরবেশ ফকির মজনু শাহ)।
প্রমিত বাংলা অভিধানে আরো একশ্রেনীর “ফকির” আছে।যারা পেশাদারি টাউট।এরা সহজ সরল মানুষদের ঝাড়-ফুক, তাবিজ-কবচ,যাদু-টোনা করার নামে প্রতারনা করে।আমাদের সামু ব্লগেও একজন “ফকির” আছেন।তিনি অবশ্য সুফি, দরবেশ অর্থে ‘ফকির’ নন।যাদু-টোনা, তাবিজ-কবচ করার ফকিরকিনা তা জানিনা।তবে তিনি সম্পুর্ণই মানষিক খয়রাতী/ভিখারী অর্থে ফকির।
এইসব বংশ পদমর্যাদা সাধারনত বংশপরম্পরায় পেশাভিত্তিক হয়ে থাকে। তাই পদবীর শেষ অক্ষর '“র'” দিয়ে অনেক পদবীর পেশাজিবীরা তাদের পেশা বংশ পদমর্যাদা হিসেবে উল্যেখ করেননা। যেমন-চৌকিদার, দফাদার, হাবিলদার, সুবেদার ইত্যাদি। আবার পেশাভিত্তিক নাহয়েও কেউ কেউ নিজেকে স্বঘোষিত পদবী দ্বারা আখ্যায়িত করেন। যেমন সামহোয়ারইন ব্লগের "“দাঁগ" ”খ্যাত “ঔপন্যাসিক” জিল্লুর ব্রাদার……।।
কিন্তু “মালদার” এবং "ঔপন্যাসিক" পদবী আগে দেখিনি। হয়তো তিনি ধন দৌলতে বড় রকমের ধনী। সেই সুবাদে আজ “মালদার”! কিন্তু "ঔপন্যাসিক"?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



