somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

পাসপোর্ট অফিসের অভিজ্ঞতা-১

২২ শে মে, ২০১১ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাসপোর্ট অফিসের অভিজ্ঞতা-১

বছর বত্রিশ/তেত্রিশ আগে যখন প্রথম পাসপোর্ট করিয়েছিলাম-তখন অনেক হ্যাপা পোহাতে হয়েছিল।পেয়েছিলাম বেশুমার যন্ত্রনা।ঘুষ দেবার পরেও তোষামোদ করে পেয়েছিলাম প্রথম পাসপোর্ট।স্টুডেন্ট পেশা বদল করে যখন সার্ভিস পেশা করতে হয়েছিল-তখনও ভোগান্তি কম হয়নি।ব্যাবসায়ীক জীবনে অন্তত ৫ বার নতুন পাসপোর্ট করতে হয়েছে,নবায়ণ করতে একাধিকবার কিন্তু ব্যাক্তিগতভাবে আর কোনোদিন পাসপোর্ট অফিস মাড়াইনি।কাজটি অনৈতিক হলেও দালালের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়েছি-বিনা হ্যাপায়।একই প্রক্রিয়ায় স্ত্রীর জন্য একাধিকবার এবং সন্তানদের জন্যও একই পদ্ধতিতে কাজ সমাধা করতে বাধ্য হয়েছি।এখন পরিবারের সকলের নতুন এম আর পি পাসপোর্ট নিতে হচ্ছে।

আমি নিজেই দেখেছি জার্মানী, ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজ্যারল্যান্ড প্রভৃতি নরডিক দেশের সরকারি দপ্তর থেকে সরকারি কাজ সম্পাদন বা ফাইল নিষ্পত্তির বিষয়টি টেলিফোন, ইমেইল বা অন্যভাবে জানানো হয় ক্লায়েন্টকে, এমনকি মামলার ফলাফল বা পরবর্তী তারিখও বাদি-বিবাদিকে জানানো হয় উল্লেখিত পদ্ধতিতে। একবার পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে জেনেছিলাম, লন্ডনে হাসপাতাল থেকে প্রেরিত অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক জ্যামে পড়লে ঐ হাসপাতাল থেকেই রোগীকে তাড়াতাড়ি আনার জন্যে পুনরায় পাঠানো হয় 'হেলিকপ্টার অ্যাম্বুলেন্স', যা আমাদের দেশে কল্পনাও করা যায় না। আমরা যারা বিদেশে গিয়েছি কিংবা শুনেছি এইসব 'গল্প' তাদের মনে সব সময় প্রবল কষ্ট ছিল কিন্তু আশাও ছিল 'এমন সার্ভিস' আমাদের দেশের অফিসগুলোতেও হবে!

আশার কথা বাস্তবায়িত হচ্ছে! তেমনটি হয়েছে আমাদের ঢাকার আগারগাঁয়ের পাসপোর্ট অফিসে। গত ২ মার্চ ঠিকই আমার মোবাইলে চলে এসেছে পাসপোর্ট তৈরি এবং গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে এসএমএস ঐ পাসপোর্ট অফিস থেকে! যদিও বাংলাদেশের সরকারি দফতরগুলোর সেবা তথা বেহাল দশা আমরা সবাই কমবেশি জানি। ডাকঘরে কিংবা আদালতে গেলে অনেক কর্মচারী মুখ তুলে মানুষের দিকে তাকায় না, কথার উত্তর দেয় না, সেবা প্রদান করা তো দূরের কথা। রাষ্ট্রয়াত্ত কয়েকটি ব্যাংকের সেবা এবংবাংলাদেশস্থ্য স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেও বর্ণিত দফতরের অনুরূপ আচরণ লক্ষনীয়। পাসপোর্টের ফি কিংবা চালানের মাধ্যমে সরকারি টাকা জমা দিতে গেলে দেখা যায়, ঐসব ব্যাংকের কর্মচারীদের আচরণ নিতান্তই গর্হিত। যারা বৃটিশ শাসন থেকে পাকিস্তানী এবং বর্তমান স্বাধীন দেশেও নানাভাবে আমলা, পেটি-আমলা তথা দাপ্তরিক শোষণের শিকার হচ্ছেন নানাভাবে প্রতিনিয়ত পদে পদে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের নানা স্বপ্নগাথা শোনালেও প্রায় সব সরকারি দফতরে এখনো অ্যানালগি সিস্টেম ও চিন্তা-চেতনা বহাল তবিয়তে বিদ্যমান। দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলো, বিশেষ করে ঢাকার আগারগাঁয়ের পাসপোর্ট দপ্তরের কুখ্যাতি কমবেশি সবার জানা ছিল। দালালদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ সেখানে ছিল নিতান্তই অসহায়! অতিরিক্ত খরচাপাতি ছাড়া সাধারণ নিয়মে পাসপোর্ট পাওয়া ছিল অনেকটা স্বপ্নের মতো, দেশের সাধারন অসহায় মানুষের কাছে।

এইরকম চিন্তা নিয়েই ভয়ে ভয়ে সম্প্রতি হাজির হলাম ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে স্ত্রী ও দুই পুত্রের পুরনো পাসপোর্টের বদলে নতুন মেশিন রিডাবল পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্যে, যদিও ইন্টারনেট থেকে 'এমআরপি' ফরম ডাউনলোড ও তথ্যাদি জেনে আগেই সবকিছু নিয়ে গিয়েছিলাম সঙ্গে করে। ওখানে গিয়েই সেনাবাহিনীর সদস্যদের নানাবিধ শৃঙ্খলা, নিয়ম কানুন, লাইন ইত্যাদি দেখে কিছুটা অবাক হলাম। নিয়মানুসারে চেকিংয়ের জন্যে ঢোকানো হলো ৩ নম্বর গেট দিয়ে। পথেই বিভিন্ন টেবিল পেতে বসেছেন সেনা সদস্যরা। তাঁরা প্রাথমিক চেক করে পাঠালেন ভেতরে অন্য কাউন্টারে। সেখান থেকে আবার চেক করে সব ঠিক থাকার পর দেয়া হলো সিরিয়াল নম্বর। পাঠানো হলো পাশের তৃতীয় তলায়। উপ-পরিচালকের সংশ্লিষ্ঠ ফরমে স্বাক্ষরের পর ছবি, হাতের ছাপ নেয়ার জন্যে পাঠানো হলো পাঁচ তলায়। পঞ্চম তলায় সেনা সদস্যরা সিরিয়াল অনুসারে বসতে দিলেন অপেক্ষাগারে এবং নির্দিষ্ট কাউন্টারে পাঠালেন ক্রমানুসারে। ছবি তুললেন, বায়ো মেট্রিক তথ্যাদি নিলেন কম্পিউটারে অল্প সময়ের ভেতরেই।এট্রির পর তথ্যাদির সঠিকতা যাচাই করতে দিলেন পাসপোর্ট প্রার্থীকে। সব 'ওকে' হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হলো 'প্রিন্টিং ডেলিভারি স্নিপ', যাতে বায়ো এনরোলমেন্টের তারিখ ও সময়, কাউন্টার আইডি, এনরোলড আইডি, সম্ভাব্য প্রদানের তারিখ ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মুদ্রিত।

খুব কম সময়ে ও নির্বিঘ্নে সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে বাইরে বের হয়ে শুনি- মাইকে বলা হচ্ছে পাসপোর্ট ডেলিভারি প্রদানের বিভিন্ন নিয়ম কানুন ও পদ্ধতি। বেশ কটি ব্যানার, বোর্ড ও বড় কাগজে ফরম পূরণ, ব্যাংকে টাকা জমা, দালাল বিষয়ে সতর্কীকরণ, হয়রানির প্রতিকার, সমস্যার সমাধান, নতুন পাসপোর্ট গ্রহণের নিয়মাবলি খুব সহজ ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। সমস্যা হলে সমাধানের জন্যে নির্দিষ্ট নম্বরে কিংবা 'এমআরপি-স্পেস-আইডি নম্বর লিখে ৬৯৬৯ নম্বরে 'এসএমএস' করে জমাকৃত নতুন পাসপোর্টের 'ট্রাকিং' করা যাবে, তাও বড় বড় অক্ষরে সহজ বাংলায় লিখে দেয়া হয়েছে। আবার আবেদনে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে 'এসএমএস' করে তৈরিকৃত পাসপোর্টের খবরও প্রদান করা হচ্ছে বলে মাইকে জানানো হচ্ছে বার বার।

যদিও পাসপোর্ট দেয়ার সম্ভাব্য তারিখ দেয়া ছিল ৫ মার্চ ২০১১ কিন্তু ২ মার্চ ২০১১ তারিখ এসএমএস পেলাম যে, আমাদের পাসপোর্ট তৈরি(উল্লেখ্য,যাদের পুরনো রেগুলার/ভ্যালীড পাসপোর্ট বদলে নতুন পাসপোর্ট নিচ্ছেন এবং পাসপোর্টে স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তণ হয়নি-তাদের জরুরী পাসপোর্ট নিতে পুলিশ ভেরীভিকেশন দরকার হয়না, ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা নতুন পাসপোর্ট পেতে পারেন)। ৩ মার্চ ২০১১ পাসপোর্ট অফিসে তাৎক্ষণিক চারজনের নির্ভুল, নিখুঁত মেশিন রিডাবল পাসপোর্ট পেয়ে সত্যিই মনে হলো সেনা সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত একখণ্ড সৎ কর্মে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ দেখে এলাম।সেনাবাহিনী পরিচালিত কাংখীত বাংলাদেশ খুঁজে পেলাম ২০১১ সালের পাসপোর্ট অফিসে। ধন্যবাদ সেনা সদস্যদের।

এই অফিস হয়তো আমাদের নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যার সঙ্গে পুরনো পাসপোর্ট অফিসের কোনো তুলনাই চলে না। আমাদের সরকারি অন্য অফিসগুলোও অনুকরণ ও অনুসরণ করতে পারে ঢাকার পাসপোর্ট অফিস ও এর কার্যক্রম। এই রকম সেবা কি আমাদের এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো, কাস্টমস, আয়কর অফিস, সচিবালয়ের সেকশন অফিসারের দপ্তর, আমদানী-রপ্তানী নিয়ন্ত্রকের অফিস, ডাকঘর,কোর্ট পেশকারের দফতর, রেজিস্ট্রেশন, ভূমি অফিস, থানা-পুলিশ এবং জনগণের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সম্পৃক্ত দফতরগুলোতে দেয়া যায়?

(এই বিশয়ে আরো একটি ছোট পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ১০:০২
৩৫টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×