somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

পাসপোর্ট অফিসের অভিজ্ঞতা-২

২৬ শে মে, ২০১১ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাসপোর্ট অফিসের অভিজ্ঞতা-২

মানুষ মাত্রই কম বেশী আশাবাদী।একটি সুন্দর প্রত্যাশার অপমৃত্যু খুবই হতাশা জনক–যদি সেই প্রত্যাশাটা হয় ন্যায্য নাগরিক অধিকার থেকে কর্তিপক্ষের পরিকল্পিত বঞ্চনার।ভনিতা নাকরেই বলছি-
একটি স্পেশালাইজড টেক্সটাইল/স্পীনিং মিল BMRE (Balancing, Modernisation, Renovation and Expansion) করা হয়েছে জার্মানীর অত্যাধুনিক টেক্সটাইল মেশিনারীজে।মেশিনারীজ সরবরাহকারী জার্মান প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি মোতাবেক পর্যায়ক্রমে BMRE করার সময় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষনের তিনটি ধাপছিল।প্রথম ধাপে মেশিনারিজ সরবরাহের পুর্বে পাঁচজন ইঞ্জিনিয়ার/টেকনিশিয়ান জার্মানী যায় ২০ দিনের একটি প্রশিক্ষন নিতে।প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদেরই চার জন দেশে ফিরে জার্মান টেকনোলজিস্টদের সাথে BMRE/Instolation কাজে অংশ নিয়েছিলেন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যেখানে যাদের জন্য প্রযোজ্য তারা বাংলাদেশেই জার্মান প্রশিক্ষিকদের নিকট একমাসের প্রশিক্ষন নিয়েছিলেন।

তৃতীয় ধাপে প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরের পাঁচজন সিনিয়র অফিসার উচ্চতর প্রশিক্ষনের জন্য যাবেন জার্মানী।এই পাঁচজনের মধ্যে একজন ইতোপুর্বে টেক্সটাইল মেশিনারীজ বিষয়ে প্রশিক্ষন নিয়েছিলেন কোরিয়া, চীন এবং জার্মানীতে।বাকী চার জন এই প্রথম বিদেশে যাবেন-যাদের নতুন পাসপোর্ট করতে হবে।কোম্পানীর জনসংযোগ অফিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চারজন পাসপোর্ট প্রার্থী নিয়ে ১৮ মে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যায়।এবারও যথা নিয়মে সুশৃংখল লাইনে দাড়ালো।প্রসংগত একজন কর্তব্যরত সেনা সদস্য একসাথে চারনের পাসপোর্ট করানো এবং জার্মানীতে প্রশিক্ষনে যাবার কথা জেনেনেন।সব পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ছবিতোলার জন্য তারিখ নির্ধারন করা হলো ২০ দিন পর-অর্থাত জুন মাসের ৫ তারিখ।আরো জানানো হলো-যেদিন ছবিতোলা হবে সেই দিনেই পাসপোর্ট প্রাপ্তির সম্ভাব্য তারিখ দেয়াহবে।

বিষয়টা অফিসে জানানো হলো। আমি খুবই হতাশ হলাম। কারন, যে তারিখে ছবিতোলার দিন ধার্য্য করাহয়েছে-সেই তারিখ ছবিতোলার পর পুলিশ ভেরীভিকেশন হয়ে পাসপোর্ট পাবার সম্ভাব্য সময়ের আগেই ৭ জুন চুক্তিমোতাবেক ওদের জার্মানীতে পৌঁছতে হবে! এক্ষেত্রে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে নাপারায় আমাদের কিছুটা গাফেলতি ছিল।কারন,আমরা প্রথম ধাপে যেই অফিসারদের জার্মানীতে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠিয়েছিলাম সেই দল থেকে একজন প্রশিক্ষনার্থী পালিয়ে গিয়ে আমাদেরকে বিপদ্গ্রস্থ্য করেছিল(ঐ প্রার্থীকে আমরা নিরুপায় হয়ে নিয়োগ দিয়েছিলাম আমাদের ফাইনান্সিং ব্যাংকের এমডি’র অনুরোধে-যিনি তাঁর নিকট আত্মীয়)।যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে এসেছিল তাদের একজন ইতোমধ্যে আমাদের সাথে চুক্তি ভংগকরে দেশের বৃহত্তম একটি টেক্সটাইল/স্পীনং মিলে উচ্চবেতনের লোভে চলে গিয়েছে-যদিও তার সাথে আমাদের চুক্তিছিল আগামী পাঁচ বছর আমাদের মিলেই জব করবে।তাই এবার বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বস্ত এবং কোম্পানীর জন্য লং রান সার্ভিসের নিশ্চয়তায় নির্ভরযোগ্য অফিসার বাছাই করতে যথেস্ট সময় নস্ট হয়েছিল।যাই হোক, আমি পাসপোর্ট অফিসের সেই উপ পরিচালক সাহেবের সাথে ফোনে কথাবলি।তিনি জানালেন-তাঁরপক্ষে কোনো হেল্প করা সম্ভব নয়-কারন সার্বিক ব্যাবস্থাপনা সেনা সদস্যরাই করেন।

সিদ্ধান্ত হলো বেশী ফি দিয়ে ‘অতিব জরুরী’ ভিত্তিতে পাসপোর্ট নেয়া হবে।সেজন্য টাকার পরিমান বাড়িয়ে আবার ট্রেজারী চালান বানাতে হবে সোনালী ব্যাংকের নির্দিস্ট শাখা থেকে।অর্থাত পরেরদিন।

আগামীদিনের প্রস্তুতি নিয়ে যখন সবাই চলে আসছিলেন-তখন লাইন থেকে নিরাপত্তার দ্বায়িত্বরত একজন পুলিশ সদস্য পিছনে পিছনে এসে দলনেতাকে(জনসংযোগ অফিসারকে)আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন-সাধারন ফি দিয়েই ১০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়ার ব্যাবস্থা করেদিবে।বিনিময়ে প্রতিটা পাসপোর্টে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দিতে হবে……

১০ দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।এই ঘটনার শেষ হয়েছিল-৭ দিনের মাথায় ওদের সকলের পাসপোর্ট হাতে পেয়ে………

পাসপোর্ট অফিসের অভিজ্ঞতা এখানেই শেষ।

ধন্যবাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১।

(ঘটনাটা প্রথম পর্বেই পাঠকদের জানাতে পারতাম-কিন্তু নিশ্চিত পাসপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এবং বিষয়টা আগেই প্রকাশ করতে চাইনি-নতুন কোনো আইনী{বে}হ্যাপার ভয়ে। কে জানে হয়ত ঐ ঘুষখোড় বেটাও সামুর ব্লগার!)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:৫৯
২০টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×