somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ঢাকার ঐতিহ্য ও ঢাকাইয়া খাবারের মেলা

২২ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকার ঐতিহ্য ও ঢাকাইয়া খাবারের মেলা

ঢাকার ৪০০ বৎসরপূর্তি উদযাপনের বর্ষব্যাপী বিভিন্ন অনূষ্ঠান শুরু হয়েছিল ২০১০ সনের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকাইয়া খাবারের বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে।২০১১ সনে সমাপনী পর্যায়ের অনূষ্ঠান আবারো ঢাকাইয়া খাবারের মেলা বা উৎসবের আয়োজন করা হয় ২৩ ডিসেম্বর কলাবাগান মাঠে। এই মেলার ইংরেজি নাম ছিল 'টেস্ট অব ঢাকা'।এই অনূষ্ঠানে অনেক বিদেশী দূতাবাস কর্মকর্তা ও বিদেশী মিশনের বহু কর্মকর্তা, ঢাকায় বসবাসরত অনেক বিদেশীরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন এবং ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও মুখরোচক খাবার খেয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। ঢাকা শহরের প্রায় ৫০টি বিখ্যাত খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ মেলায় অংশগ্রহণ করে। তাদের পরিবেশিত খাবারের তালিকায় ছিল- শিরমাল, কাবাব, নানরুটি, তন্দুরি, পোলাও, কোরমা, কোফতা, বিভিন্ন পদের বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি, হাজির মাখন তেহারি, মুস্তাকিম চপ, বাকরখানি, বিউটি লাচ্চি, নানা রকম মিষ্টান্ন ও পিঠা-পায়েস ইত্যাদি। খাবারের পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে ছিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কাওয়ালি, ছাদ পিটানো ও বাউল গানের আসর, চুটকি পরিবেশন প্রভৃতি।

রাজধানী হিসেবে ঢাকার অগ্রযাত্রা শুরু হইয়াছিল মোঘল আমলে ১৬০৮ বা ১৬১০ সালে। মোঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীর তাঁর খেলার সাথী ও প্রখ্যাত সাধক সেলিম চিশতীর নাতি শেখ আলাউদ্দিনকে ইসলাম খাঁ উপাধি দিয়ে বাংলা/বাংগাল প্রদেশের স্থায়ী গভর্নর নিযুক্ত করেন। সেসময় বাংলার রাজধানী আকবর নগর বা রাজমহল হতে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। এ দেশীয় স্বাধীনচেতা শাসক বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁ’র রাজধানী সোনারগাঁয়ের পতনের প্রেক্ষিতে ভূ-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকার ভাগ্য খুলে যায়। যদিও স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের পূর্ণাঙ্গ রাজধানী হিসাবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয়েছে মাত্র চার দশক আগে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। একটি ভূ-অঞ্চল যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মর্যাদা পায়, তখন স্বাভাবিকভাবে তার নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার বিকশিত হয়। আবার সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছু হারিয়েও যায়।

রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্য কেবল খাবার-দাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সে সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কাব্যকলা, নৃত্য-কলা ইত্যাদিও তার অন্তর্ভূক্ত। উল্যেখযোগ্য স্থাপনা ও অন্যান্য ঐতিহ্য স্মারকগুলি জনদাবির প্রেক্ষিতে অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। কিন্তু নগরায়ণ, যুগের নূতন হাওয়া ও অন্যবিধ বাস্তবতার কারণে অনেক কিছু বদলে যাবে তাও সত্য। পুরাতন ঢাকার অনেক বনেদি পরিবার এখন বাস করেন গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মত অভিজাত এলাকায়। তাদের পুরাতন ঢাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মাঝে-মধ্যে টানে বটে, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। উনিশ শতক পর্যন্ত বহু বিদেশী ভাষার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা ঢাকাইয়া ভাষার একটা প্রবহমানতা ছিল। বর্তমানে তা গন্ডিবদ্ধ ও অগতিশীল। তার পরও আমরা মনে করি, পুরাতন ঢাকা-ই ঢাকাইয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক।

শত পরিবর্তনের মাঝেও এই সংস্কৃতির আবেদন আরও বহু যুগ পর্যন্ত থেকে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৯
৩৭টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×