somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ভালোবাসার মিথোলজিঃ
পৃথিবীতে সবচাইতে প্রাচীনতম, সবচাইতে রোমাঞ্চকর,স্বপ্নীল ও ঘোর লাগানো বিষয় হলো ভালোবাসা। ভালোবাসার চাইতে কমন কোনো শব্দ বিশ্ব ইতিহাসে নাই। প্রিয় কবি সুনীল গংগোপধ্যায় বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে ১০৮টি নীল পদ্ম খুজে পেলেও আমি বিশ্ব সংসারে একম কোনো মানুষ খুঁজে পাবোনা-যিনি একবারের জন্য হলেও প্রেমে মজেনি বা ভালোবাসেননি। ভালোবাসাই পৃথিবীর একমাত্র প্ল্যাটফর্ম যেখানে ধনী-গরীব,ছোট-বড়,ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাই একই কাতারে মিশে যায়। ভালোবাসার এমন মহাত্মের রসায়ন বিশ্লেষণ করা যাকঃ-

ভালোবাসা মূলত নর-নারীর একপ্রকার আন্তঃমনো ও আন্তঃযৌনানূভুতির প্রকাশ ও বিকাস। যেসমস্ত গ্রন্থির ক্ষরণ দেহের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ সেই গ্রন্থিগুলোকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলায় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি। এই অন্তঃক্ষরা বা নালীবিহীন গ্রন্থিগুলো দেহের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াগুলোকে সুসংঘবদ্ধভাবে কাজ করায় এবং অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করায়। শরিরবিদরা মানবদেহে ছয়টি অন্তঃক্ষরা না নালীবিহীন গ্রন্থি শনাক্ত করেছেন। সেই ছয়টি গ্রন্থি হচ্ছে- ১। পিটুইটারি গ্রন্থি ২। থাইরয়েড গ্রন্থি ৩। প্যারা থাইরয়েড গ্রন্থি ৪। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি। ৫। অগ্নাশয় গ্রন্থি ৬। যৌন গ্রন্থি। শরিরে যে গ্রন্থিটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাকেইবলে পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থির অবস্থান মধ্য মস্তিস্ক। এর আয়তন একটি মটর দানার মত। এই পিটুইটারি গ্রন্থিই যৌন গ্রন্থির কার্য নিয়ন্ত্রন করে।অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মধ্যে এটা সব চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।মানব আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেই এই গ্রন্থিকে প্রভূ গ্রন্থিও বলা হয়। নারী পুরুষের যৌন হরমোন নিঃসৃত হয় পুরুষ দেহের অন্ডকোষ ও নারী দেহের ডিম্বাশয় থেকে।পুরুষ ও নারীর যৌন হরমোনের মধ্যেও পার্থক্য আছে। পুরুষের যৌন হরমোনের নাম ‘টেস্টোস্টেরন’ আর নারীর যৌন হরমোনের নাম ‘ইস্ট্রোজেন’। এই হরমোন গুলোর প্রভাবেই পুরুষদেহে পুরুষ সুলভ ও নারী দেহে নারী সূলভ বৈশিস্ট ফুটে ওঠে। সেই বাহ্যিক বৈশিস্টের কারনেই মূলত নারী পুরুষ পারস্পরিক সান্নিধ্য কামনা করে-যাকে আমরা ভালোবাসা বলি। পাঠক উপরের অংশটুকু আমি জেনেছিলাম বিশিস্ট মনোবিজ্ঞানী ডা মোহিত কামাল’র একটা লেখায়-কাজেই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

আসলে ভালোবাসার রসায়ন বলে কিচ্ছু নেই। ভালোবাসা সম্পূর্ণটাই অনূভুতির ব্যাপার। মনের দূর্বোধ্য কোণে এর বসবাস। নির্দিস্ট কিছু কথা,নির্দিস্ট ছক, ব্যাখ্যা, ব্যাকরণ দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেনা।অল্প অল্প সত্য, বেশী বেশী মিথ্যায় গঠিত হয় বেশী বেশী ভালোবাসার যুগল। কবি শামসুর রাহমান বলেছেন-"প্রেম কি? এই প্রশ্ন যদি কেউ আমাকে করেন তাহলে আমি সবিনয়ে বলবো-“আমাকে জিজ্ঞেসা করলে আমি জানিনা, জিজ্ঞাসা নাকরলে জানি”"। কবিগুরু তাঁর "মায়ার খেলা" নায়কের মুখে আরো একটু এগিয়ে বলিয়েছেন-"আমি কি যে করেছি পান,কোন মদিরার রসভোর, আমার চোখে শুধু ঘুমঘোর"! অন্যদিকে সেক্সপিয়ার In Mid Summer Night’s Dream কবিতায় লিখেছেন- “The lunatic, the lover and the poet Are of imagination all compact”.

সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সহজাত। তাইতো ইংরেজ কবি কিটস বলেছিলেন-”Truth is beauty,beauty is truth......A thing of beauty is joy for ever”. কিন্তু এই মতের বিপরীতেও কিছু কথা আছে। তাইতো মহাত্মা গান্ধী বলেছেন-“অন্তরের বিশুদ্ধতার মধ্যেই প্রকৃত সৌন্দর্য বিদ্যমান”। একই বিষয়ে এব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন-“"ঈশ্বর সাদামাটা চেহারার লোকদেরই বেশী পছন্দ করেন। সেজন্যই তিনি অধিক সংখক লোকদের চেহারা সাদামাটা বানিয়েই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন"।“
কাজেই ভালোবাসার ক্ষেত্রে চেহারা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোনোক্রমেই তা আবশ্যিক নয়। পাঠক, আপনাদের মধ্যে কারো চেহারা যদি আমারমত হয়-তাহলে আপনার স্যাটিস্ফেকশনের জন্য বলছি-ভালোবাসার জন্য আবশ্যিক হলো সুন্দর একটি মন। মনটা সুন্দর হলেই আপনি ভালোবাসতে পারবেন। মনে রাখবেন-ভালোবাসা যেখানে যত গভীর হয়-সেখানে বাহ্যিক চেহারা ততই গৌণ হয়ে যায়।

পৌরাণিক কাহিনীতে পড়েছিলাম-এক সুদর্শন রাজপূত্র প্রেমে পরে কুতসিত চেহারার এক মেয়ের। তা নিয়ে সবাই যখন রাজপূত্রকে হাসি তাচ্ছিল্য করতো তখন প্রেমিক রাজপূত্র বলেছিল-“আমার চোখ দিয়ে ঐ মেয়েকে দেখুন-তখন বুঝবেন ও কতো সুন্দর”! একারনেই বোধ করি ইরানী একটি প্রবাদ আছে-ভালোবাসার মুখখানিকে চন্দ্রালোকিত রাতে দেখতে হয় অর্ধেক মনের দৃস্টি আর অর্ধেক কল্পনার দৃস্টিতে। তাইতো শেক্সপিয়ার বলেছিলেন”Loves looks not with eyes but with the mind”.

এখন প্রশ্ন হচ্ছে-আমরা কি ধরনের প্রেম প্রত্যাশী? নিষ্কাম প্রেম নাকি কামজ প্রেম? বাস্তবতা জানিনা তবে নিষ্কাম প্রেম মূলত মধ্যযুগীয় সাহিত্যে বেশী প্রধান্য পেয়েছিল। তাইতো চন্ডিদাস একটি পদ লিখেছিলেন-
“"রজকিনী প্রেম নিকষিত হেন,কাম গন্ধ নাহি তায়"”।
লালন সাঁইজী তাঁর গানে বলেছেন-"“প্রেম কর আত্মার সনে, দেশের সনে নহে”"-এইধরনের ভালোবাসাকে বলে ‘প্লেটোনিক লাভ”।

প্লেটোনিক লাভের বিপরীতধর্মী জ্ঞানীগুনী ব্যাক্তিরাও কম যাননা। যেমন আমাদের অকাল প্রয়াত কবি/লেখক অধ্যাপক হুমায়ুন য়াযাদ ‘কামজ প্রেম’র ঘোর সমর্থক। তিনি লিখেছেন-"কোটি বছরের বিশুদ্ধ প্রেমে থেকে একবার একটি পরিপূর্ন সংগম অনেক বেশী সুখকর"”। কবি নির্মলেন্দু গুণ প্লেটোনিক ভালোবাসা বিষয়ে বলেছেন-“"এটি হচ্ছে সুযোগের অভাবে চরিত্রবান ও চরিত্রবতীদের মানষিক যন্ত্রনার প্রতিফল"”!-কথা কিন্তু একটাও মিথ্যা নয়!

প্রেম নিয়ে তর্ক ও বিতর্কের শেষ নেই। পক্ষে বলে যেমন প্রেমিক প্রেমিকার আস্থা ভাজন হওয়ার অনেক সুযোগ আছে-তেমন বিপক্ষে বলেও ছ্যাকা খাওয়া প্রেমিক প্রেমিকার আস্থাভাজন হবারও সুযোগ আছে। আমি কোনো পক্ষে নাইবা বলি। শুধু বলবো-দূনিয়াটা বিশাল একটা প্রেমের ক্ষেত্র। এখানে সবাই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রেমের ফাঁদে বন্দী। প্রেমের বাসভূমে আমরা সবাই প্রেমিক-কেউ জেনে, কেউ নাজেনে।কেউ ভেবে, কেউ নাভেবে।

প্রেমের প্যাচাল শেষ করার আগে দুনিয়ার তাবত প্রেমিক-প্রেমিকাদের উদ্দেশ্যে আধুনিক কবিদের কবি এজরা পাউন্ড এর The Spirit of Romance গ্রন্থের ল্যাটিন কবিতার দুটি লাইনের ইংরেজী অনুবাদ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি-
Let who ever never loved, love tomorrow,
Let who ever has loved, love tomorrow.

একমাত্র ভালোবাসাই পারে পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করতে। ভালোবাসা শুধু একদিনের জন্য নয়।কিন্তু ভালোবাসা দিবসেই আমাদের অংগীকার হোক-আমাদের প্রিয় সামহোয়্যারইনব্লগের সকল ব্লগারগন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ভালোবাসায় এক দৃস্টান্ত স্থাপন করি। ভালোবেসে পৃথিবী থেকে দূরকরি সব অশান্তির জঞ্জাল।

একদিনের ভালোবাসা দিবস নয়- আসুন আমরা সবাই ভালোবাসি বার মাস।

পোস্টে এড করা ছবিটা নিয়েছি ইন্টারনেট থেকে।

এই পোস্টে কিছু টাইপো এবং শব্দগত অসংগতি হয়েছিল-যা সংশোধন/এডিট করেছি ব্লগার শিশিরের শব্দ ও গুপ্তঘাতক007 এর সৌজন্যে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29540202 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29540202 2012-02-13 10:51:49
পথে প্রান্তরে-৭ সাউথ আফ্রিকায় কয়েকদিন-২ সাউথ আফ্রিকায় কয়েকদিন-২

দঃ আফ্রিকায় আমি বছর সাতেক আগেও একবার এসেছিলাম বেশ লম্বা সময়ের জন্য। তখন দঃআফ্রিকার যে জৌলুশ দেখেছিলাম-এখন তার অনেকটাই ম্লাণ মনে হচ্ছে। স্থানীয় বাংলাদেশীরাও আমার ধারনার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেন। কারন শ্বেতাংগদের শাসন ব্যাবস্থায় এবং শ্বেতাংগদের শাসন ব্যাবস্থার পরবর্তী বেশ কয়েক বছর মিশ্র বর্ণের পূর্ব ধারার চলমান ব্যাবস্থা জৌলুশ ছিল।কিন্তু বর্তমান সম্পূর্ণ কালোদের শাসন ব্যাবস্থায় দিনে দিনে সেই জৌলুশ হারিয়ে যাচ্ছে। শ্বেতাংগরা এনি হাউ,এনি কস্ট কালোদের দ্বারা কাজ করিয়ে নিতেন। অন্যদিকে কালোদের শাসন ব্যাবস্থায় কালোদের দ্বারা যথাযথ কাজ করিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা!কালোদের কর্ম বিমূখতা দেখে বিষয়টা আমার কাছে একেবারে অযৌক্তিক মনে হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা-কালোরা কর্ম বিমূখ বলেইতো বাংলাদেশীরা দঃআফ্রিকায় কর্ম চঞ্চল!

দঃ আফ্রিকায় বেশীরভাগ মানুষই ধূমপানে অভ্যস্ত বললে ভুল বলা হবেনা-এমনকি ছোট শিশুরাও ধূমপানে অভস্থ্য। ধূমপানের পাশাপাশি চকলেট বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি প্রবল আকর্ষণ রয়েছে-সেই সংগে কোমল পানীয় ও শুষ্ক খাবার তাদের খুবই প্রিয়। স্থায়ী অধিবাসিগণ সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী আবাসন, ১৮ বছরের নিচে এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সের অধিবাসীরা সরকারী ভাতাসুবিধা ভোগ করেন। অবৈতনিক ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা সর্বত্র চালু রয়েছে। শহর ও গ্রামে একই ধরনের শিক্ষায়তন গড়ে উঠেছে। বাঙালিরা অনুকূল পরিবেশেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কোন কোন শহরে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাঙালিদের কিছুটা প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবসা করতে হলেও কেপটাউনে অধিকাংশ বাঙালি চমত্কার পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে। অবশ্য মাঝে মাঝে কিছু স্থানীয় কালো মানুষ বিদেশীদের ঘর/দোকানে হামলা করে টাকা পয়শা ছিনিয়ে নেয় এমনকি খুন খারাবীও হয়। বেশীরভাগ প্রবাসী বাঙালি মুদি দোকান,ফলের দোকান ও কাপড়ের ব্যবসায় জড়িত। অনেক বাংলাদেশীই বৈবাহিক সূত্রে দঃআফ্রিকার নাগরিকত্ব পেয়ে অন্য প্রবাসীদের থেকে কম যোগ্যতা নিয়েও শুধু “"জামাই” যোগ্যতায়" অনেক বেশী উপার্জন করছেন।এখানে বাংলাদেশীরা "“জামাই” হিসেবে অত্যন্ত বিশ্বস্ততা অর্জন করেছেন"। কাজেই যে কেউ চাইলেই আফ্রিকান মেয়ে বিয়ে করে সেই সুযোগের সদ্বব্যাবহার করতে পারেন।


বাংলাদেশীরা দক্ষিন আফ্রিকায় গিয়ে প্রথম অবস্থায় অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দোকানে চাকরি করে পরবর্তীতে অতি সহজেই দোকানের মালিক হতে পারছেন। অনেকই এককভাবে না পারলেও অংশীদারি ভিত্তিতে দোকানের মালিক। সাধারন ব্যাবসায়ীরা প্রত্যেকেই গড়ে দেড় দুই লক্ষ টাকা এবং সাধারন চাকুরীজিবীরা ৭০/৮০ হাজার টাকা উপার্জন করে থাকেন। অনেক বাংলাদেশীই একাধিক দোকান মালিক এবং উপার্জনও খুব ভাল। চেষ্টা করলে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া সম্ভব। ওয়ার্ক পারমিট পেলে দেশে আসা যাওয়া করা যায়। তবে বেশিরভাগ প্রবাসী “এসআলম” (সাময়িক অনুমোদন)এর মাধ্যমে সে দেশে অবস্থান করছেন। ছয় মাস অন্তর এসআলম নবায়ন করতে হয়। পুলিশী হয়রানি খুব একটা নেই। বরং পুলিশ নানাভাবে প্রবাসীদের সহযোগিতা করে থাকে। ওদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে গাড়ী খুবই প্রয়োজনীয় উপকরণ-যা অনেক বাংলাদেশীদেরই আছে।


মালামালের দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে পোশাকের দাম খুবই বেশি। এক্ষেত্রে দঃ আফ্রিকায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানীর অবারিত সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে দঃ আফ্রিকায় ঔষধ রপ্তানীরও বিরাট সুযোগ রয়েছে এবং ইতোমধ্যেই আমাদের দেশীয় ৪/৫টি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেই সুযোগ গ্রহন করেছে। তাছাড়া ওখানে বিস্তীর্ণ জমি অনাবাদী রয়েছে যা অংশীদ্বারিত্বের ভিত্তিতে চাষাবাদের মাধ্যমে ফসল উত্পাদনের অবারিত সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগটা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নিটোল গ্রুপের মালিক আবদুল মতলুব আহমেদ নেবার জন্য জোহানেসবার্গ,কেপটাউনসহ আরো কয়েকটি শহরে লিয়াজো অফিস খুলেছে। কিন্তু মতলুব আহমেদের মতলব ভালনা। তিনি এই ব্যাবসার আড়ালে ফরেন কারেন্সী পাচারের দূরভিস্বন্ধি করছেন-যা ইতোমধ্যেই সরকারের উর্ধতন মহলে প্রকাশ পেয়েছে।স্বচ্ছতার সাথে দঃ আফ্রিকার সাথে যৌথভাবে কৃষি উতপাদনের ব্যাবসা করতে পারলে বাংলাদেশের বিপূল সংখক অদক্ষা শ্রমিকের কর্ম সংস্থা হতে পারে।

আর্থীক ভাবে বাংলদেশীরা ভাল থাকলেও তাঁদের সমস্যারও অন্ত নেই। প্রথমেই দক্ষিণ আফ্রিকা যাবার ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাংলাদেশে দূতাবাস না থাকার কারণে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে যাওয়া সম্ভব হয় না। এতদিন ভারতের নয়া দিল্লিতে সাউথ আফ্রিকান দূতাবাস থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থা চালু থাকায় কিছু কিছু বৈধ ভিসা পাওয়া সম্ভব হত। দিল্লিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও খরচ কম হওয়ায় সেখানে যাওয়ার সুবিধা ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ অফিশিয়াল কার্যক্রম শ্রীলংকায় স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে নিয়মিত ভিসা প্রাপ্তির সুযোগ যেমন কমে গেছে তেমনি শ্রীলংকা যাওয়া আসাও অনেক বেশী ব্যয়বহুল হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাস খোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।
দঃ আফ্রিকায় সকল ধর্মাবলম্বীদের স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম করার সুযোগ রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যেমন অনেক মন্দির রয়েছে তেমনি গীর্যারও অভাব নেই। আবার মুসলমানদের প্রার্থনার জন্য গড়ে উঠা মসজিদের সংখ্যা একেবারে কম নয়।

দঃ আফ্রিকায় প্রাবাসী বাংলাদেশীদের বৈধ উপায়ে দেশে টাকা পাঠাতে না পারা একটি বড় বিড়ম্বনার বিষয়। হুণ্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কারণে প্রচুর রাজস্ব প্রাপ্তির সুবিধা থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে, আবার হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাই বৈধ উপায়ে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থার জন্য আমাদের সরকারের জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ খুবই প্রয়োজন। অন্যদিকে সাউথ আফ্রিকাতেও থেকেও অবৈধ প্রবাসী বাঙালীরা ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে নগদ টাকা নিয়ে প্রবাসীদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তাই এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস উদ্যোগ গ্রহণ করলে সহজেই বাংলাদেশীদের ব্যাংকিং সুবিধা লাভ সম্ভব। এ সমস্যাদি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্স প্রাপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সবাইকে ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29537055 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29537055 2012-02-08 10:22:55
পথে প্রান্তরে-৬ সাউথ আফ্রিকায় কয়েকদিন-১ সাউথ আফ্রিকায় কয়েকদিন-১

ব্যাবসায়ীক কাজে নভেম্বর মাসে গিয়েছিলাম দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গ ও কেপটাউন শহর। ব্যাবসায়ীক কাজ কিম্বা যেকোনো ধরনের বিদেশ ভ্রমনে আমি স্থানীয় বাংলাদেশী বাঙ্গালীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ কাজে লাগাতে চেস্টা করি। জোহানেসবার্গ ও কেপ্টাউনে গিয়েও সেই সুযোগ আমি যতসামাণ্য কাজে লাগাই। সে সুবাদে প্রবাসী বাঙালিদের সাথে মেশার সুযোগ হয় এবং তাদের সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনা উপলব্ধি করার অভিজ্ঞতা লাভ করি। প্রবাসী বাঙালিগণ আমাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে জানা-অজানা তথ্যাদি শেয়ার করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে।

সাউথ আফ্রিকাতে প্রচুর ভারতীয়দের বসবাস-বলা যায় সাউথ আফ্রিকাতে ছোট্ট একটি ইন্ডিয়া! কিন্তু ওদের ভাবসাব শংকরীয় বৃটিশ! সেই সুবাদে ওরা বৃটিশদের থেকেও একধাপ এগিয়ে! অনেক দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলে প্রথমেই যে প্রশ্নটি ছুঁড়ে দেন- "‘আর ইউ ইন্ডিয়ান"?’-সাউথ আফ্রিকাতেও তার ব্যাতিক্রম নেই। আমি বহুবার এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। কখনও বিব্রতবোধ করিনি।বরং মাথা উঁচিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছি,অব কোর্স নট। বাংলাদেশ ইজ নট ইন্ডিয়া। বাংলাদেশ ইজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যান্ড ইন্ডিভিজুয়াল কান্ট্রি।এবার উল্টো প্রশ্ন কারীর দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছি। দিস ইজ সাউথ আফ্রিকা। দিস ইজ নট ফ্রান্স অর জার্মানি। সো বাংলাদেশ ইজ বাংলাদেশ।

১ম ছবিটি আফ্রিকান অপেক্ষাকৃত গরীব কালো মানুষের জন্য সরকারী আবাসন প্রকল্পঃ আর ২য় ছবিটি আফ্রিকান অপেক্ষাকৃত ধনী কালো মানুষের জন্য সরকারী আবাসন প্রকল্পঃ


উপরের ঘটনাটা ঘটেছিল একটি তূলা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের ইন্ডিয়ান এজেন্টের অফিসে। সমগ্র ইউওরোপ-আমেরিকা জুড়েই বাংলাদেশীদের পরিচালনায় জনপ্রিয় রেস্তোরা ব্যাবসা। বাংলাদেশী বাংগালীদের মালিকানায়,ব্যাপস্থাপনায় পরিচালিত হলেও-রেস্টুরেন্টগুলো পরিচিতি পাচ্ছে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট হিসেবে। কেন আমাদের এ হীনমন্যতা! একইভাবে বিদেশে গিয়ে প্রায়শই অনেকেরমত আমাকেও একটা বিষয় পীড়াদেয়। আমরা অনেকেই ইন্ডিয়া পাকিস্তানীদের সাথে মুখ বেকিয়ে হিন্দি উর্দূতে কথা বলি। আমরা যখন ইউরোপ-আমেরিকা যাই তখন ইংরেজীতে কথা বলা মেনে নেই। কারন ইংরেজী আন্তর্জাতিক ভাষা। কিন্তু কেন আমাকে ইন্ডিয়ানদের সাথে হিন্দীতে,পাকিস্তানীদের সাথে উর্দূতে কথা বলতে হবে!

জোহানেসবার্গের শ্বেতাংগ মালিকানাধীন Raw Cotton Export Trading House’র এক্সপোর্ট ডাইরেক্টর এই ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক আমাকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করলেন,আমি হিন্দি জানি কি না। উত্তরে মাথা নেড়ে জানালাম-জানি না। এবার তিনি অনেকটা বিস্মিত কণ্ঠে বললেন,কেন জানি না? তার কথার ধরনে মনে হলো,হিন্দি ভাষা না জানাটা আমার বিরাট অপরাধ হয়ে গেছে। ভদ্রলোক সরাসরিই বললেন-ভারতীয় উপমহাদেশে থাকেন অথচ হিন্দী জানেননা! আমিও দ্বীগুণ উষ্মা দেখিয়ে বলি-হিন্দী আমার মাতৃ ভাষা নয়,আন্তর্জাতিক ভাষাও নয়। সুতরাং হিন্দী জানাটা আমার জন্য মোটেই জরুরী নয়। আমি পালটা প্রশ্ন করি-“আপনি কি বাংলা জানেন? যদি নাজানেন সেটা আপনার অযোগ্যতা-কারন বাংলা ভাষা ইন্ডিয়ার অন্যতম রাস্ট্রীয় ভাষার মধ্যে একটি”। মিঃ গুরু প্রাসাদ সিংজী হাসলেন না রাগলেন বুঝতে পারিনি-কারন উনার মুখমন্ডল ভর্তি দাড়ি আর মাথার পাগড়ীটা কানবধি ঢাকা! আমি প্রসংগ এড়াতে বললাম-বাদ দেন ওসব, আগে তূলা বেচেন।
্দঃক্ষিন আফ্রিকার একটি তুলা চাষ প্রকল্প-


ইন্ডিয়ান-পাকিস্তানিরা আমাদের সঙ্গে তাদের মাতৃভাষায় কথা বলে। আমরা কেন আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলি না। কেন নিজের ভাষা রেখে আমাকে অন্যের ভাষায় কথা বলতে হবে? মাতৃভাষার জন্য পৃথিবীতে আর কোনো জাতি সংগ্রাম করেনি। ঢেলে দেয়নি বুকের তাজা রক্ত। আজ বাংলাদেশকে,বাংলা ভাষাকে সারা বিশ্বে অগণিত মানুষ গভীর আগ্রহ নিয়ে জানার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন,বাংলা ভাষাকে যেন জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়। একটা জাতির জন্য এটা অনেক বড় অর্জন। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ আমার অহঙ্কার।

দঃ আফ্রিকায় শ্বেতাংগদের রাজনৈতিক শাসন ও শোশনের অবসান হলেও এখনও ৮০ ভাগ ব্যাবসা বানিজ্য নিয়ন্ত্রন শ্বেতাংগদের হাতে। এবং শ্বেতাংগদের মালিকানাধীন বেশীরভাগ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে ইন্ডিয়ানরা আসীন। কোথাও বাংলাদেশীরা উচ্চপদে নেই। প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রথমেই জানান-দক্ষিণ আফ্রিকায় তারা জীবন-যাপন ও ভাল উপার্জন করতে পেরে সুখী। জানতে পারি তাঁদের বিভিন্ন সমস্যাবলি। আমাদেরকে কাছে পেয়ে দেশী ভাইয়েরা অনেক সমস্যার কথা জানান-যদিও আমাদের কিছুই করণীয় নেই। কারন,আমরা যারা অল্প সময়ের জন্য বিদেশে যাই-তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রবাসী ভাইদের থেকে আরো নাজুক অবস্থায় থাকি।তারপরেও আমরা তাদের সুবিধা-অসুবিধা শোনার পাশাপাশি পাহাড়বেষ্টিত শহর দুটি ঘুরে ঘুরে দেখেছি। তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ,বহু স্তরবিশিষ্ট ফ্লাইওভার,পাহাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহর দুটি রাতের বেলা আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। বহু স্তরবিশিষ্ট ফ্লাইওভার ও নানা কৌশলের কারণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন,জানজটমুক্ত চমত্কার শহর। দুটো শহরের মধ্যে আমার বেশী ভালো লেগেছে কেপটাউন। দক্ষিণ আফ্রিকায় শীতকালেও বাংলাদেশ থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা গেল। শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টি বিরল হলেও জোহানেসবার্গ কেপটাউনে তা স্বাভাবিক।

আলাপ প্রসংগেই একজন বাংলাদেশী জানালেন-মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁর দোকান লুট হয়েছে স্থানীয় কালোদের দ্বারা। যা প্রায়শই ঘটে থাকলেও প্রশাসন যথেস্ট নিরাপত্তা দিতে সচেস্ট। বিদেশীদের দোকান/ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে মাঝে মাঝে ডাকাতি এবং হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রবাসীরা চিন্তামুক্ত জীবন-যাপন করে।দঃ আফ্রিকা অনেক ধনী দেশ হলেও ওদেশে কর্মবিমুখ(কর্মহীন নয়) জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক! ওরা কর্ম বিমূখ বলেই আমাদের দেশীয়রা ওদেশে গিয়ে কর্মক্ষম হবার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে দঃ আফ্রিকায় নাগরিক প্রকারভেদ ভিন্ন রকমের। অরিজিনাল কালো আফ্রিকানরা ছাড়াও আছে দখলদার সাদা আফ্রিকান,আরো আছে লক্ষ লক্ষ ইন্ডিয়ান। সংখ্যায় ইন্ডিয়ান আফ্রিকান ২য় স্থানে। অন্যদিকে অরিজিনাল কালো আফ্রিকানদের মধ্যে আছে বৈসম্য মূলক দুই প্রকার কালো। এক কালোরা অত্যন্ত দরিদ্র-যারা সংখ্যা গরিষ্ঠ-যেনো আলোর নিচে অন্ধকার প্রবাদের বাস্তব উদাহরণ। অন্য মুস্টিমেয় কালোরা উচ্চ বিত্ত এবং ক্ষমতার নিয়ন্তক। আসলে দূনিয়া জুড়েই বৈসম্য-যা সৃস্টি কর্তার সৃস্টি বলেই আমার বিশ্বাস।

একটি বেসরকারী অফিস ভবন-


(আগামী পর্বে বাকীটুকু)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29535280 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29535280 2012-02-05 10:18:42
একুশের বিউগল বাজছে-রাজা আসছেন!
সেই ছেলেবেলা থেকেই আমি বাউল গান আর যাত্রার ভক্ত ছিলাম। ছেলেবেলায় যাত্রা দেখে খুব মজা পেতাম। আমার দেখা স্বল্প সংখ্যক যাত্রা পালার সবগুলোই রাজা-রানী নির্ভরছিল। বেশীর ভাগ যাত্রা পালার শুরুটা হতো “রাজা”র আগমণের দৃশ্বে-যা ভিন্নতর ভাল লাগায় আমার মনে দাঁগ কেটে আছে এখনও। যাত্রা শুরু হবার কিছু বৈশিস্ট আছে। যেমন- যাত্রা শুরু হবার আগে যাত্রার কনসার্ট মানে বিউগল বাজানো হয়।যখনই বিউগল বেজে উঠত- তক্ষুণি দেখতাম গ্রীনরুম থেকে উজ্জ্বল পোশাকে সজ্জিত হয়ে উচ্চৈঃস্বরে সংলাপ বলতে বলতে রাজা আসছেন। রাজা আসছেন দ্রুত পদক্ষেপে যাত্রার খোলা মঞ্চে। তখন দর্শকরা স্বমস্বরে বলতেন- " রাজা আসছে, রাজা আসছে"।

এখন আর যাত্রা দেখা হয়না। কিন্তু যাত্রার শুরুতে রাজা আসছে, রাজা আসছে-তেমন একটা অনূভুতি উপলব্ধি করি ফেব্রুয়ারী মাসে। বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারি মাস যখন আসে তখনই সেই যাত্রার বিউগলের শব্দের মত শুনি প্রাণ মন কাঁপানো সেই হৃদয়গ্রাহী গান- "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি"- একই সংগে শুরু হয় বাংগালীর প্রানের স্পন্দন “একুশের বই মেলা”!

ফেব্রুয়ারী মানেই একুশ, একুশ মানেই বাংগালীর প্রানের নতুন এক উদ্দীপণা, এক ভিন্নতর শিহরণ! একুশ এলেই মনে হয় ছেলেবেলায় শোনা যাত্রার সেই স্টার্টিং কনসার্ট বাজছে, বিউগল বাজছে। ফেব্রুয়ারী এলেই সত্যি সত্যি রাজা আসেন- একুশের মুকুট মাথায় পরে। সালাম, বরকত, জব্বার- এরা কি আমাদের রাজা নন? ভাষার রাজা,মাতৃ ভাষা রক্ষার সংগ্রামের রাজা। বাংগালী ও বাংলাদেশীদের প্রকৃত রাজা কি তারা নন? যারা এই দেশকে ভালোবেসে বিদেশী ভাষার আক্রমণ থেকে নিজেদের দেশ ও মাতৃভাষাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, রাজপথে নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে পবিত্র ইতিহাস রচনা করেছিলেন-তারাইতো আমাদের প্রকৃত রাজা! এই ভাষার রাজাদের মধ্যে অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। কেউ কেউ এখনও আছেন সেই '৫২-এর ভাষা সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে-তাঁদের জানাই সালাম।

এ কথা স্পষ্টভাবেই বলা যায় যে, একুশে ফেব্রুয়ারিই হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার সমুজ্জ্বল ও সুদৃঢ় সোপান। স্বাধীনতার স্বর্ণতোরণ। বাঙালীর সত্যিকার মন ও মানসকে, চিন্তা ও চেতনাকে জাগরিত করার তুফানী হাওয়ার মাসই হচ্ছে ফেব্রুয়ারী মাস। এই রক্তচ্ছাটা একুশে ফেব্রুয়ারি এসেছিল বলেই আমরা ২৬ মার্চ আমাদের রঞ্জিত স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে পারছি। তাই একুশই হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিউগল। এই বিউগল শুনেই দেশের আপামর কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র জনতা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ প্রান আর মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছিল মহান বিজয়।

আমরা অবশ্যই রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছি। আজ বৃটিশ বেনিয়া নেই। পাকিস্তানী শোসকরাও নেই। লুণ্ঠনকারীরা সব চলে গেছে। এখনতো সব আমরা আমরাই। স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে অবশ্যই আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বিবেকের স্বাধীনতা-আমরা কি পেয়েছি? পৃথিবীতে ভাষার জন্য কোনো জনগোষ্ঠীর আত্মত্যাগের এমন উদাহরণ সত্যিই বিরল। এ আন্দোলন শিক্ষা দেয় অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হতে। এ আন্দোলন প্রেরণা যোগায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বিপ্লবের। এ আন্দোলন শিক্ষাদেয় অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করবার।

ধন, সম্পদ, বিদ্যা, বুদ্ধি -কোন কিছুই শুধু অর্জনের জন্য নয়। গচ্ছিত রাখার জন্যও নয়। বিতরণের জন্য। আমাদের মধ্যে অনেক বুদ্ধিজীবী আছেন। আবার অনেক বুদ্ধির পুঁজিপতিও আছেন। পুঁজিবাদ যেমন আমাদের জন্য ক্ষতিকর, বিদ্যা-বুদ্ধির পুঁজিবাদও তেমনি আমাদের জন্য অনিষ্টকর। সব থেকে বেশী ক্ষতিকর দেশ পরিচালনায় স্বৈরাচারী-স্বেচ্চাচারী মানষিকতা। আমাদের মনে রাখা উচিত-রাস্ট্রীয় শাসন ব্যাবস্থা যেধরনেরই হোক-সেই পদ্ধতি ‘শাসন’ ব্যাবস্থা নাহয়ে যদি ‘নাগরিক সেবা’ ধর্মী নাহয়-অর্থাৎ রাস্ট্র পরিচালনা যারা করবেন তারা যদি নাগরিক কল্যাণমূখী নাহন তাহলে আমরা যেই তিমিরে ছিলাম সেই তিমিরেই থেকে যাব। নেতৃত্ব যদি দেশে ও দেশের মানুষের কল্যাণকামী না হতে পারেন-তাহলে আমরা লক্ষ লক্ষ শহীদের আত্মার সাথে, বেঁচে থাকা ১৬ কোটি মানুষের আশা আকাংখার সাথে বিশ্বাসঘাতকতারই শামিল হবে।

১৯৫২ ভাষা শহীদদের রক্তস্নাত পথ ধরে লক্ষ লক্ষ শহীদের প্রানের বিনিময় আমরা মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব অর্জন করেছি। কিন্তু আমরা কি এই অর্জনের জন্য আমাদের যা যা বর্জন করার কথা ছিল সে সব বর্জন করতে পেরেছি? সত্যিকার শিক্ষা, উন্নত রুচি ও নান্দনিকতার আলোকে আমরা কি নিজেদের আলোকিত করতে পেরেছি? আমরা একত্রিত হচ্ছি। কিন্তু দেশ গড়ার জন্য একতাবদ্ধ কি হতে পারছি, উদার মন নিয়ে কোন মুক্ত সামিয়ানার নিচে? আমরা কি পারছি-আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য,জাতীয় চেতনাবোধে সমুন্নত রেখে নাগরিক কর্তব্য পালন করতে? স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বিবেকের স্বাধীনতা। তবে আমরা কি সবাই আজ সত্যিকার বিবেকবান হয়ে আমাদের রাজনীতিকে, আমাদের অর্থনীতিকে নিজের-নিজের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে সুবিধাভোগের রাজনীতি, লোভ আর লালসার অর্থনীতি দূরে সরিয়ে রেখে পাবার ও প্রত্যাশার সব উলঙ্গ উল্লাসকে পরিহার করে একুশের মহান চেতনায় ও মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র প্রেরণায় জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারছি?

একুশের আন্দোলন এক গৌরবের উপাখ্যান। এর প্রেরণা সৃষ্টি, ধ্বংসের নয়। এর প্রেরণা নিজস্ব সংস্কৃতি ও কৃষ্টির বিকাশের প্রেরণা। এর প্রেরণা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার প্রেরণা। সর্বোপরি একুশের প্রেরণা অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রেরণা। কিন্তু দূর্ভাগ্য! আজও আমাদের প্রেরনা প্রান পায়নি। যার জন্য স্বাধীনতার চল্লিশ বছরেও আমরা স্বাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29533111 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29533111 2012-02-01 09:24:20
ঢাকার ঐতিহ্য ও ঢাকাইয়া খাবারের মেলা
ঢাকার ৪০০ বৎসরপূর্তি উদযাপনের বর্ষব্যাপী বিভিন্ন অনূষ্ঠান শুরু হয়েছিল ২০১০ সনের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকাইয়া খাবারের বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে।২০১১ সনে সমাপনী পর্যায়ের অনূষ্ঠান আবারো ঢাকাইয়া খাবারের মেলা বা উৎসবের আয়োজন করা হয় ২৩ ডিসেম্বর কলাবাগান মাঠে। এই মেলার ইংরেজি নাম ছিল 'টেস্ট অব ঢাকা'।এই অনূষ্ঠানে অনেক বিদেশী দূতাবাস কর্মকর্তা ও বিদেশী মিশনের বহু কর্মকর্তা, ঢাকায় বসবাসরত অনেক বিদেশীরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন এবং ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও মুখরোচক খাবার খেয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। ঢাকা শহরের প্রায় ৫০টি বিখ্যাত খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ মেলায় অংশগ্রহণ করে। তাদের পরিবেশিত খাবারের তালিকায় ছিল- শিরমাল, কাবাব, নানরুটি, তন্দুরি, পোলাও, কোরমা, কোফতা, বিভিন্ন পদের বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি, হাজির মাখন তেহারি, মুস্তাকিম চপ, বাকরখানি, বিউটি লাচ্চি, নানা রকম মিষ্টান্ন ও পিঠা-পায়েস ইত্যাদি। খাবারের পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে ছিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কাওয়ালি, ছাদ পিটানো ও বাউল গানের আসর, চুটকি পরিবেশন প্রভৃতি।

রাজধানী হিসেবে ঢাকার অগ্রযাত্রা শুরু হইয়াছিল মোঘল আমলে ১৬০৮ বা ১৬১০ সালে। মোঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীর তাঁর খেলার সাথী ও প্রখ্যাত সাধক সেলিম চিশতীর নাতি শেখ আলাউদ্দিনকে ইসলাম খাঁ উপাধি দিয়ে বাংলা/বাংগাল প্রদেশের স্থায়ী গভর্নর নিযুক্ত করেন। সেসময় বাংলার রাজধানী আকবর নগর বা রাজমহল হতে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। এ দেশীয় স্বাধীনচেতা শাসক বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁ’র রাজধানী সোনারগাঁয়ের পতনের প্রেক্ষিতে ভূ-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকার ভাগ্য খুলে যায়। যদিও স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের পূর্ণাঙ্গ রাজধানী হিসাবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয়েছে মাত্র চার দশক আগে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। একটি ভূ-অঞ্চল যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মর্যাদা পায়, তখন স্বাভাবিকভাবে তার নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার বিকশিত হয়। আবার সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছু হারিয়েও যায়।

রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্য কেবল খাবার-দাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সে সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কাব্যকলা, নৃত্য-কলা ইত্যাদিও তার অন্তর্ভূক্ত। উল্যেখযোগ্য স্থাপনা ও অন্যান্য ঐতিহ্য স্মারকগুলি জনদাবির প্রেক্ষিতে অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। কিন্তু নগরায়ণ, যুগের নূতন হাওয়া ও অন্যবিধ বাস্তবতার কারণে অনেক কিছু বদলে যাবে তাও সত্য। পুরাতন ঢাকার অনেক বনেদি পরিবার এখন বাস করেন গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মত অভিজাত এলাকায়। তাদের পুরাতন ঢাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মাঝে-মধ্যে টানে বটে, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। উনিশ শতক পর্যন্ত বহু বিদেশী ভাষার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা ঢাকাইয়া ভাষার একটা প্রবহমানতা ছিল। বর্তমানে তা গন্ডিবদ্ধ ও অগতিশীল। তার পরও আমরা মনে করি, পুরাতন ঢাকা-ই ঢাকাইয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক।

শত পরিবর্তনের মাঝেও এই সংস্কৃতির আবেদন আরও বহু যুগ পর্যন্ত থেকে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29526971 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29526971 2012-01-22 11:55:11
প্রসংগ........."ওপেন সিক্রেট"!
......"ওপেন সিক্রেট" নামে গতকাল আমি একটি পোস্ট লিখেছিলাম-যা যথেস্ট পাঠক সমাদৃত হয়েছিল। যদিও সেই পোস্ট কাউকে আহত করার অসত অভিপ্রায় নিয়ে লিখিনি নিতান্তই বাস্তবতার নিরিখে লিখেছিলাম।

যেসব সম্মানীত পাঠক সেই পোস্টে মন্তব্য করে আমাকে বাধিত করেছিলেন তেমন অনেক পাঠকদের অনূরোধে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই পোস্ট ড্রাফট করে নিয়েছি।

সবাইকে ধন্যবাদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29525213 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29525213 2012-01-19 18:31:55
----------‘ওপেন সিক্রেট!’
ইংরেজিতে ‘ওপেন সিক্রেট’ বলতে বোঝায়-এমন কিছু যা নামেমাত্র গোপন কিন্তু প্রকাশ্য-সেটাকেই আমরা বলি- ‘ওপেন সিক্রেট’। বাংলাদেশে ওপেন সিক্রেটের এতটাই ছড়াছড়ি যে, দৈনন্দিন কথাবার্তায়ও প্রায়শ এটির ব্যবহার করতে অভ্যস্থ। বাংলাদেশে ওপেন সিক্রেকেটর সংখ্যা কত তার কোন পরিসংখ্যান জানা নেই। ওপেন সিক্রেট বাংলাদেশে নিঃসন্দেহে অন্যতম জাতীয় সমস্যা। কিন্তু এই সমস্যার কারণ কী? অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দুর্নীতি,অনৈতিকতা,স্বেচ্চাচারিতা,হিংসা,পরশ্রীকাতরতা সর্বপরি মানবিক মুল্যবোধের অবক্ষয় এর প্রাথমিক মূল কারণ।

‘ওপেন সিক্রেট’এর কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক। প্রথমেই বলি-ঘুষ প্রথা। আমরা জানি বেশীরভাগ সেবা প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রাপ্তি সবার মৌলিক অধিকার।কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন-ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া অকল্পনীয়। অথচ ‘ঘুষ’ দেয়া-নেয়া ব্যাক্তি নৈতিকতা,সামাজিকতা বিরুদ্ধই নয়- আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু আমরা বাধ্য হই ঘূষ দিতে। ঘুষ দেনা-নেয়াটা এখন প্রতিষ্ঠিত ওপেন সিক্রেট। দেখুন-রাজধানীতে বিশাল বিশাল ভবন নির্মিত হবারপর মিডিয়া এবং রাজউক সমস্বরে চিৎকার করেন-অমুক ভবনের বৈধ অনূমোদন নেই! যথারিতী "কর্তিপক্ষ যথাযথ ব্যাবস্থা” নেয়ার হুংকার। ভবন মালিক হাইকোর্টে রিট করে-তারপর বহুল আলোচিত 'চেম্বার জজ' সাহেবদের ‘স্টে অর্ডার’ ফ্যাকরায় যথা পূর্বং তথা পরং!

আবার দেখা যায়-কোনো কোনো ফাঁসীর আসামী রাস্ট্রপতির ক্ষমায় 'সাধু পুরুষ' বনে যান, আবার কেউ মামলা হবার আগেই গ্রেফতার রিমান্ড ভোগ করে জানপেহচান! উদাহরণ- আলোচিত মেয়র লোকমান হত্যায় হত্যা মামলার মূল আসামীরা “বাঘাবাঘা গোয়েন্দা”দের নজর এড়িয়ে দুইমাস পর আত্মসমর্পণ করারপর নামকাওয়াস্তে একদিনের রিমাণ্ড নাটক,পরদিনই জামিন মঞ্জুর! অপরদিকে খায়রুল কবীর খোকন সেই মামলার আসামী নাহয়েও দুই পর্বে ৮ দিনের রিমান্ডসহ ১৪দিন হাজতবাস!

কেউ লক্ষ কোটি টাকার রাস্ট্রীয় সম্পদ আত্মস্বাত করেও উপদেস্টা হয়, মন্ত্রী হয়, অন্যদিকে বস্তীর টোকাই বাবুইল্লা/কুদ্দুইচ্চারা রিকশার ঘন্টি চুরি মামলায় জেলের ঘাণী টানে।একজন সিএনজি অটোর ড্রাইভার লাইসেন্স/পার্মিট পায়না-অন্যদিকে কেউ ঘরে বসেই ৫০টা সিএনজির লাইসেন্স বাগায়! একই অবস্থা রিকশার ক্ষেত্রেও। রিকশার পেছনে লাইসেন্সের যে প্লেট দেখা যায় তার ৮০ ভাগই আইনানুগ কর্তৃপক্ষের দেয়া নয়। এই সমস্ত প্লেট নানা ধরনের সমিতির। রিকশা মালিক সমিতি থেকে শুরু করে রিকশা চোর প্রতিরোধ সমিতি পর্যন্ত রিকশার নম্বর প্লেট দিয়ে থাকে। সামুতেই দেখেছি-কেউ মটর বাইকের নম্বর প্লেটে একটি ছাত্র সংগঠেরন নাম লিখেই পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে চলে! আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এইসব বিষয় দেখেও দেখেন না-যা ওপেন সিক্রেট!

এবার দেখুন ছাত্র রাজনীতি। দেশের সকল শিক্ষাংগন এখন সন্ত্রাসের পীঠস্থান। কিন্তু স্বরাস্ট্র মন্ত্রী বলেন- ১০/১২ বছরের মধ্যে দেশে এখন সব চাইতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল! সরাকারী দল সমর্থক সন্ত্রাসী ছাত্রসংগঠন সন্ত্রাসী ভিসির মদদে প্রতিপক্ষকে খুন করলে মামলাও হয়না। কিন্তু দৈবক্রমে একজন ছাত্রলীগ কর্মী মারাগেলেও প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের ‘চিরুনী অভিযান’ চালিয়ে ধরে যতরকম ফৌজদারী মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে রিমান্ডের নামে নাতসী স্টাইলে নির্যাতন, বিনা বিচারে আটকিয়ে রাখে আবার জেল গেইটেই একটারপর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে আবারও জেলে ঢোকানো হয়।

বাংলাদেশে ওপেন সিক্রেটের তালিকা করলে-সেই তালিকা হবে অফুরন্ত। ওপেন সিক্রেট দেখা না গেলেও সেগুলোর উপস্থিতি সম্পর্কে সবাই অবগত। যেমন ধরুন, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি, সরকারি অর্থ লোপাট, পণ্যে ভেজাল, ধর্মের নামে অনাচার, সেকুলারিজম ও অধর্মের নামে বিশেষ একটা ধর্মের প্রতি একশ্রেনীর বিদ্বেশ সৃস্টি, চাঁদাবাজি, আয়কর ফাঁকি,র্যা বের ক্রস ফায়ার/এনকাউন্টার,নব্য সংস্করণ গুপ্ত হত্যা, গুম-সবই ওপেন সিক্রেট। খালেদা জিয়া-শেখ হাসিনা একই মামলার আসামী হয়েও একজন প্রধানমন্ত্রী আর একজন কোর্ট কাচারী করতে করতে হয়রান-এগুলোও ওপেন সিক্রেট! শেখ হাসিনা বংগবন্ধু ফাউন্ডেশনের নামে কোটিকোটি টাকা চাঁদা নিয়ে নির্দোষ কিন্তু খালেদা জিয়া “জিয়া চ্যারিটি ফান্ডে” বিদেশ থেকে ফান্ড নিয়ে এখন মামলায় শাস্তিভোগ করতে চলছেন। সবাই জানে এগুলোর রহস্য প্রকাশ্য, কিন্তু বিশয়টায় গোপনীয়তার একটা ছদ্মাবরণ থাকে। যা সবাই জেনেও প্রকাশ করতে পারেনা-সেটাই ওপেন সিক্রেট!

ওপেন সিক্রেট বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশাল মানচিত্র! এইযে আমরা সামু ব্লগে পাঠক-লেখক হিসেবে জড়িয়ে আছি-এখানেও আছে 'ওপেন সিক্রেট'! ভার্সুয়াল ওপেন প্লাটফর্ম সামুতে ভিন্নমত এবং পথের লেখক,পাঠক ব্লগার থাকবেন-সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে কেউ গালাগালি দিয়ে হয় সুশীল আবার কেউ গালাগালির প্রতিবাদে গালাগাল করে হয় জেনারেল, কমেন্টস ব্যান কিম্বা সামু থেকে আখেরী ব্যান। অথচ এই সামহোয়্যাইনব্লগ প্লাটফর্মেই অসংখ্য ব্লগারদের মানবিক-আর্থীক সহয়তায় আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শ্বাশত, রাহেলা, ব্লগার নীল আকাশের দুঃখ’র মায়ের পাশে দাড়িয়েছিলাম।ব্লগার কবির চৌধূরীর একটি লেখায় ও সামুর বদান্যতায়ই আমরা একজন জীবন্ত কিংবদন্তী সর্ব্জন শ্রদ্ধেয় আযম খানকে সম্মান জানাতে পেরেছিলাম। সামুর কতিপয় তরুন ব্লগারের উদ্যোগেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাধারন মানুষের বিবেক জাগ্রত করতে সহায়ক হয়েছিলাম, একই প্লাটফর্ম থেকে ইভ টিজিং’র বিরুদ্ধে স্বোচ্চারিত হয়েছিল এবং ব্লগার সবাকের একক চেস্টায়ই ইভ টিজিং বিরোধী আন্দোলন সকলের নজর কেড়েছিল।

সামুতে এখন কি সেই আগেরমত পারস্পরিক সহমর্মিতা, শ্রদ্ধাবোধ বজায় আছে? এখন যেপরিবেশ বিরাজ করছে-তাকি আমাদেরকে আত্মীক বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারছে-নাকি সামাজিক, ব্যক্তি বিভেদ আরো প্রকট আকার ধারন করাতে উস্কে দিচ্ছে? সামু কি সকল মত ও পথের ব্লগারদের সুস্থ্য ধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে প্রজন্মের তারুন্যশক্তি বিকশিত করতে ভূমিকা রাখতে পারছে(অবশ্য সামু দাবী করেনি-তারা জ্ঞানদানের স্কুল খুলেছেন)?এটাও ওপেন সিক্রেট-যা সকল জ্ঞানী গুণী পাঠকগনও জানেন, বোঝেন। সামুর সদস্য সংখ্যা এখন এক লক্ষ! এনিয়ে নিয়েও আমরা গর্বিত। প্রসংগত সামুর একজন তরুন ব্লগার-যিনি রম্য লেখায় সকল ব্লগারদের দৃস্টি কেড়েছেন তিনি এক লক্ষ পরিসংখ্যান নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন-“সামুতে যদি রেজিস্টার্ড নিক এক লক্ষ হয়ে থাকে তাহলে সেই একলক্ষকে কত দিয়ে ভাগ করলে সঠিক সদস্য সংখ্যা বের হবে সেটাই প্রশ্ন”!-ইহা ওপেন সিক্রেট।

এই সমস্ত ওপেন সিক্রেট সমাজকে ধংশ করেদিচ্ছে। পরিণামে মানুষের সৎ, সুস্থ, সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা অর্জনের আকাঙক্ষা নষ্ট হয়েযায়। ভাল মানুষগুলোও আস্থাহীনতায় ভুগে মানষিক কস্ট পায়। “ওপেন সিক্রেট” নামক সামাজিক এই অসুস্থ্যতা, অবক্ষয়, দুরাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কী কোন উপায় নেই? আমার ধারনা- সম্ভব। কিন্তু ছোটখাট চিকিৎসা করে এই কঠিন রোগ সারানো যাবে না। এগুলোর উতস বুঝতে হবে। কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং সমস্যা চিনহিত করে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। তাহলে একটা খোলামেলা সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। পারস্পরিক আস্থার মনোভাব সৃষ্টিতে তা সহায়ক হবে। ব্যাক্তি,পরিবার, সমাজ,রাস্ট্রীয় সেক্টরেরমত একই কথা সামুর ক্ষেত্রেও প্রজোয্য।

ব্যাক্তি,পরিবার, সমাজ, রাস্ট্রের সকল ওপেন সিক্রেট এবং তারুন্যের বর্তমান ক্রেজ সামুকেও দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ‘অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ’ থাকে না। বরং সম্ভাব্য প্রলয় তখন আরো বড় আকারে ধ্বংসযজ্ঞ সাধনের শক্তি সঞ্চয় করে। চুপচাপ বসে থাকলে সমস্যা আরো কঠিন রূপ ধারণ করবে। কাজেই এখনই সতর্ক হতে হবে।

আমাদের স্বার্থপর মনোভাব, আত্মকেন্দ্রিক জীবনবোধ, ছলনাময়, আত্মভোলা সামাজিকতা ক্রমেই পারস্পরিক সম্মানবোধ ও ভালোবাসার উপলব্ধি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দূর অজানায়। ফলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাস্ট্রীয় জীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ, হতাশা ও অশান্তির বিষকল্প ছড়াচ্ছে সংক্রামক ব্যাধীরমত! সব ওপেন সিক্রেট একদিনে বিদায় করা যাবে না, এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েও ব্যাক্তি নৈতিক চরিত্রের উতকর্ষতা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তরিকতা, প্রশাসনিক ও কারিগরি নেতৃত্বের নিষ্ঠা ও দক্ষতা আরো বেশী সচেতনতা একত্রিত হলে যে-কোন সমস্যাই আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব। সর্বোপরি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কঠিন সমস্যাগুলোকে দেখেও না দেখার সংস্কৃতি থেকে আমাদের যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসতে হবে। তেমন সুন্দর চেষ্টায় আমরা নিরলস থাকব-সেটাই হোক আমাদের কার্য্যক্রম।

ধন্যবাদ সবাইকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29524465 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29524465 2012-01-18 15:40:47
চিকিতসা সেবায় দেশের ধনাঢ্য ব্যাক্তিত্বদের ভূমিকা
গত বছর দুই দফায় ২৪ দিন স্কয়ার হস্পিটালে থাকতে হয়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর ২০১১ থেকেই শারিরিক কিছু সমস্যা দেখাদেয়। যার জন্য আবার স্কয়ার হাসপাতালে যাই।অনেকগুলো “টেস্ট” করিয়ে অবশেষে হস্পিটাল নিবাসী হই ৫ দিনের জন্য। পূর্বাপর ঐ হস্পিটালে আসা যাওয়ারপথে বেশ কয়েকজন জীর্ণ শীর্ণ, হতদরিদ্র রোগীদের হস্পিটালের গেইটে দাড়াতে দেখি-চিকিতসার আশায়। ঐসব রোগীদের নিশ্চই জানা নেই-স্কয়ার নামক হস্পিটালের "সেবা" সব "সেবা প্রার্থী"র জন্য নয়! কৌতূহল বশতই আমি ঐ রোগীদের প্রতি লক্ষ রাখি। ফলাফল ঐ হতভাগ্য অসুস্থ্যরা হস্পিটালের নিরাপত্তা রক্ষীদের গলাধাক্কায় ১০০ফিট দূরত্বে রোডের উল্টাদিকে দাড়ানোরও সুযোগ পায়না!

এই হস্পিটালে আউটডোর চিকিতসা প্রার্থীদের সর্ব নিম্ন ফিস দিতে হয় ৮০০টাকা(কন্সাল্টেন্সী ফি কিম্বা অন্যান্য খরচাপাতি কেমন-তা না ই বল্লাম)! দেশ বিদেশের বহু নামী হাসপাতাল দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। সর্বত্রই দেখেছি “ইমার্জেন্সী/ফার্স্ট এইড” চিকিতসার জন্য একটা ইউনিট থাকে। যেখানে দূর্ঘটনা জনিত রোগীদের প্রাথমিক চিকিতসা দেয়া হয়-প্রায় বিনে পয়শায়। কিন্তু এই হস্পিটালে বিনে পয়শায় কিছু নেই! এদেশের লক্ষ লক্ষ লোকের পক্ষেই ৮০০ টাকা বাতসরিক চিকিতসা ব্যায়ও সম্ভব হয়না। এমন অনেক রোগীই জানেননা-এই হস্পিটালের বিলাশী,রাক্ষুসী চিকিতসা খরচের কথা। তাই দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে চিকিতসার আশায় আসেন। কিন্তু কি আর্শ্চয্য! একটা সেবা প্রতিষ্ঠানের স্মার্ট নিরাপত্তা রক্ষীদের নূণ্যতম সৌজন্যতা নেই একটা অসুস্থ্য মানুষের প্রতি! দরিদ্র অসুস্থ্য রোগীদের শুধু টাকা নেই বলেই সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াই শেষ কথা নয়-উপরি অপমান গলাধাক্কা!

দেশবাসী জানেন-স্কয়ার হস্পিটালের মালিক দেশের স্বনামধন্য একজন ব্যাবসায়ী-যিনি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আদর্শ স্থানীয় একজন শিল্পপতি আমি নিজে অতি নগণ্য এক মানুষ হয়েও দেশ বরেণ্য এই শিল্পপতিকে অজস্র ব্যাবসায়ীদেরমত আমিও আদর্শ মানি, শ্রদ্ধা আর সম্মানে স্যালুট করি। তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র শিল্পপতি যিনি ব্যাবসায়ীক জীবনে একদিনের জন্যও ব্যাংক লোন ডিফল্ডার নন। ইনিই অন্যতম শিল্পপতি যিনি শ্রমিক বান্ধব হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবে সুনাম অর্জন করেছেন।এই শিল্পপতি প্রায় ২৫ হাজার লোকের কর্ম সংস্থান করেছেন। গত ১০ বছর যাবত দেশের সর্বচ্চ আয়কর প্রদানকারী ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জনের পাশাপাশি প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বৈদেশীক মূদ্রায় রাস্ট্রীয় কোষাগার পূর্ণ করেছেন(সম্প্রতি ভ্যাট ফাঁকির একটা অভিযোগ স্কয়ার গ্রুপ সম্পর্কে আছে)। স্কয়ার গ্রুপের বাতসরিক টার্ণওভার ১০ হাজার কোটি টাকার উর্ধে! এত এত সাফল্যের পরেও জাতীয় ভাবে জনকল্যাণে চ্যারিটিমূলক কোনো প্রতিষ্ঠান করেননি স্কয়ার গ্রুপের মালিক পক্ষ। তারা নাকরেছেন একটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নাকরেছেন দরিদ্র জনগনের জন্য একটি হস্পিটাল।যা কিছু করেছেন-সবই ব্যাবসায়ীক মনোবৃত্তিতে।

দূনিয়ার শীর্ষস্থানীয় দুই ধনী ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট বিভিন্ন দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে অনেক মহতী কার্য্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ধনাঢ্য ব্যাবসায়ী টাটা, বিড়লা গ্রুপসহ অসংখ্য ব্যাবসায়ী জনকল্যাণ তথা মানব সেবায় অসংখ্য স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল গড়ে মানবতা ও মানবিকতায় ইতিহাসে স্থান করে নিচ্ছেন। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, টাটা, বিড়লাদেরমত বিলিওনার আমাদের দেশে নাথাকলেও অন্তত জনা বিশেক ব্যাবসায়ী/শিল্পপতি আছেন-যাদের মিলিয়ন,বিলিয়ন টাকা আছে। প্রতি ডলার সর্বনিম্ন ৮০ টাকা হিসাবেও এক বিলিয়নে ৮০০০ কোটি টাকা হয়। ৮০০০ কোটি টাকার ধনসম্পদ আমাদের দেশের অন্তত ২০ জনের আছে বলে আমার ধারণা। কিন্তু সেই ৮০০০ কোটি টাকার মালিকদের কারোরই তেমনকোনো সামাজিক,মানবিক সেবামূলক অবদান নেই!

হাজী মূহম্মদ মহসীন, অশ্বিনী কুমার দত্ত, ব্রজ মোহন দত্ত, আনন্দ মোহন, ব্রজলাল দত্ত, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর পর পাকিস্তান আমলে আগাখান, আদমজী, দাউদ-ইস্পাহানী, বাওয়ানী ফাউন্ডেশন বিভিন্ন বৃত্তি দিত প্রতিবছর। সেইসব ধানাঢ্য ব্যাক্তিত্বরা বিভিন্ন নামের ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে এসব ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা, সাহিত্য- সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছেন, বৃত্তি দিয়ে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছেন। বাংলাদেশে আগাখান, আদমজী ইস্পাহানী, বাওয়ানীদের প্রতিষ্ঠিত স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল এখনো চলছে। ঐ সময়ে বাঙালিদের মধ্যে আর পি সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী হাসপাতাল/মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দাণবীর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। সেই আমলের শিক্ষানুরাগী করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর করটিয়া সা’দত কলেজ এখনও আমাদের সামনে দৃস্টান্ত হয়ে আছে। স্বাধীনতার পর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে শিল্পপতি জহুরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সর্বজনাব ডাঃ ইব্রাহীম সাহেবের প্রচেস্টায় নির্মিত বাংলাদেশ ডায়বেটিক হাসপাতাল এবং সিরাজগঞ্জে খাজা এনায়েতপুরী হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ছাড়া জাতীয়ভাবে পরিচিত আর কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করারমত নেই। যাও দুএকটি আছে তা সরকারী তথা জনগনের ট্যাক্সের টাকায় গড়া হলেও পিছনে ক্ষমতাকেন্দ্রীক নামকরন ও রাজনৈতিক দূর্বিসন্ধি হাসিলের চেস্টা ভিন্ন অন্যকিছু নয়! প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কয়েক বছর ধরে প্রতিবছর শত কোটি টাকা স্কুল-কলেজের গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তি এবং চিকিতসা সেবায় দিয়ে আসছে। কিন্তু পোশাকশিল্পে হঠাৎ রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া মানুষগুলো এককভাবে বা সামগ্রিকভাবে কোথাও কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করছেন বলে দেখিনি। দেখিনি বেক্সিমকো’র সালমান এফ রহমান,ইউনিক গ্রুপের নূর আলী, যমুনা গ্রুপের নূরুল ইসলাম বাবুল,বসুন্ধরা গ্রুপের শাহ আলম,ট্রান্সকম’র লতিফুর রহমান, ওপেক্স গ্রুপের ক্যাপ্টেন সিনহা,প্রান গ্রুপের মেঃজেঃ আমজাদ খান চৌধূরীসহ এমন আরো অন্তত ২০টি বিখ্যাত গ্রুপের মালিকদের কোনো চ্যারিটি ট্রাস্ট করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেক্টরে জনসেবা করতে!

কয়েকমাস আগে ব্যাবসায়ীক কাজে গিয়েছিলাম পাকিস্তান। লাহোরেগিয়ে দেখেছিলাম-শওকাত খানম মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার। ক্রিকেটার ইমরান খানের মা শওকাত খানম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর তিনি তৈরি করেন পাকিস্তানের একমাত্র বিশ্বমানের এই ক্যান্সার হাসপাতালটি। আমি নিজে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দেশ বিদেশের অনেক ক্যান্সার হাসপাতাল ও ক্যান্সার চিকিতসকদের সম্পর্কে জানতে কৌতুহলী হই। পাকিস্তান গিয়ে ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত সেই হাসপাতাল সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে।

১৯৮৯ সালে লাহোরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট ম্যাচের পর তিনি দর্শকদের কাছে এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠায় তহবিলের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনে সারা দিয়ে দর্শকগন ইমরানের হাতে তুলেদিয়েছিলেন ২৯,০২,৬০০ রুপি। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি অর্ধশত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করলে নিজের প্রাইজ মানি হিসেবে পাওয়া প্রায় ১ কোটি রুপির সবটাই তিনি এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন। নির্মাণ কাজ শুরু করে অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি পাকিস্তানের ২৭টি শহরে প্রচারাভিযান চালান এবং প্রায় ১২ কোটি রুপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তার এ মহতী কর্মে দরিদ্র থেকে বিত্তশালী প্রায় ১০ লাখ লোক শরিক হন। ১৯৯১ সালের এপ্রিলে এই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয় আর চালু হয় ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে। এক জাহার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এই ক্যান্সার হাসপাতাল। পাকিস্তানের ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই এবং অনেক বিদেশীরাও এখানে ক্যান্সারের সর্বাধুনিক চিকিত্সা পাচ্ছেন। এখানে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের প্রায় ৭৫ ভাগই আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

হাসপাতালের একটি বুকলেট সংগ্রহ করতে যাই-যা বিনে পয়শায় দেয়া হয়। কিন্তু কেউ ঐ বুকলেট নিয়ে যেকোনো পরিমান টাকাদিলে তা মুল্য/দান হিসেবে মানি রিসিট দিয়ে গ্রহন করা হয়। সেই টাকা হাসপাতাল ফান্ডে জমা হয়। আমি ১০০ রুপীদিয়ে বুকলেট নেই(একজন বাংলাদশীর একশত টাকা দানের প্রমান ঐ হাসপাতাল ইতিহাসে লেখা থাকবে)।

বুকলেট পড়ে জানতে পারি-বাতসরিক বুলেটিনের মাধ্যমে এই হাসপাতালের যাবতীয় আয়-ব্যায় অডিট রিপোর্ট সকলের জন্য প্রদর্শিত হয়। ২০১০ সালের হিসাবে দেখা যায়, ঐ বছর হাসপাতালটির চিকিত্সাসেবা, জাকাত, অনুদানসহ বিভিন্ন খাত থেকে আয় হয়েছে ৩০১ কোটি রুপি এবং বেতন ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ২৮৮ কোটি রুপি। ১৫০টি ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্টান্ডার্ড ওয়েল ইকুইপ্ট(পুর্নাংগ) শয্যাসহ মোট ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে ২০১০ সালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭৮৫ জন রোগী। এ সময় বহির্বিভাগে চিকিত্সা নিয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬৫ জন রোগী। এর মধ্যে কেমোথেরাপি নিয়েছেন ২৭,৫৮৮ জন, রেডিয়েশন ট্রিটমেন্ট নিয়েছেন ৪২,৮৮৮ জন, সার্জিক্যাল প্রসিডিওর ৬১০৯ জন। এছাড়া এখানে প্যাথলজি টেস্ট হয়েছে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৭টি এবং ইমেজিং স্টাডিজ ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৭টি। বর্তমানে অ্যানেসথিসিওলজি, ক্লিনিক্যাল রেডিওলজি, মেডিকেল অনকোলজি, ইন্টারন্যাল মেডিসিন,প্যাথলজি, পেডিয়াট্রিক অনকোলজি, ফার্মাসি, রেডিয়েশন অনকোলজি এবং সার্জিক্যাল অনকোলজি সেবা রয়েছে এই হাসপাতালে।
অলাভজনক এ হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিত্সা দেয়া হয়। হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন ৭/ ৮শত রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন মাত্র ৫ রুপীর একটি টিকেট কেটে।

ইমরান খানেরমত আমাদের দেশীয় সেলিব্রিটিরা এবং বিত্তবানেরা যদি মানবকল্যাণে এমন নিবেদিতপ্রাণ হতে পারেন, তবে দেশ ও সমাজের বহু সমস্যাই মোকাবেলা করা যায়। প্রয়োজন শুধু সৎ নেতৃত্বের উদ্যোগ ও আন্তরিকতার। সাধারণ মানুষ যোগ্য নেতৃত্ব পেলেই এগিয়ে আসবেন। আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশেও এ ধরনের সফল অধ্যায় আমরা দেখতে আগ্রহী।

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকায় চিকিতসাধীন। তিনি যে হস্পিটালে চিকিতসাধীন-সেই হস্পিটালও দুইজন দানশীল ব্যাক্তিত্বের দানে প্রতিষ্ঠিত। হুমায়ুন আহমেদ ঘোষনা দিয়েছেন-তিনিও একটি ক্যান্সার হাসপাতাল করতে চান সকলের সহযোগীতায়। আমাদের প্রত্যাশা তিনি অবশ্যই সেই উদ্যোগ নিবেন এবং সফল হবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29522640 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29522640 2012-01-15 09:57:11
আমাদের উতসব ও আমাদের সংগীত
২০১১ ইংরেজী বর্ষের বিদায় এবং ২০১২ ইংরেজী নতুন বছরের আগমন অনেক ঘটা করে আসে।ইংরেজী নব বর্ষের সূচনা রাত বারোটায় আর বাংলা নব বর্ষের সূচনা/উতসব শুরুহয় নতুন সূর্ষের প্রথম আলোতে। বাংলা নব বর্ষের উতসবেরমতই থার্টি ফার্স্ট জানুয়ারী উতসব এখন বাংলাদেশের শহুরে মানুষেরমধ্যে ছড়িয়ে পরেছে।তবে দুটো উতসবেরমধ্যে বিরাট একটা পার্থক রয়েছে। তাহলো-বাংলা নববর্ষের উতসব স্বার্বজনীন বাংগালীদের প্রানের উতসব আর ইংরেজী নতুন বর্ষের উতসব অনেকটাই তারুণ্য নির্ভর এবং নগর কেন্দ্রীক। বাংলা নববর্ষে আমরা শুনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় বিভিন্ন গান। অন্যদিকে ইংরেজী নতুন বর্ষে শুনি বুক কাঁপানো ড্রামের শব্দের সাথে হাই ভল্যুউমের রক/ব্যান্ড সংগীত-যার অনেক লিরিকস আমি বুঝতে/ধরতে পারিনা।।

৩০ তারিখ থেকেই কিছুটা অসুস্থ্যবোধ করছিলাম-তাই ছোট ছেলে এবং আমাদের বিল্ডিং এর অন্যান্য তরুন তরুনীরা উচ্চ ভল্যিউমে গান বাজানো থেকে বিরত ছিল। বিল্ডিং এর পরিবেশ শান্ত থাকলেও আমার বাড়ির সামনেই লেকের এক পাড়ে "পানশী" রেস্টুরেন্ট এবং ওপাড়েই "ডিংগী" রেস্টুরেন্টে ছিল থার্টিফার্স্ট নাইট উদ্বযাপনের বিশাল আয়োজন। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় স্ট্রম সুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য বেশীরভাগ রাস্তার বেহালদশা থাকলেও সব রাস্তা প্রাইভেট গাড়ির জ্যাম এবং সারারাত লোকে লোকারণ্য ছিল ধানমন্ডি লেক।আমাদের বাড়ির সামনেও বিশাল বিশাল গর্ত হাইজাম্প-লং জাম্প করে তরুন তরুনীরা পাড়হয়ে ভীর করেছিল পানশী রেস্ট্রুরেন্টে।

রাত ১২টার সময় শুরু হয় গগণবিদারিত পটকা ফোটানো,সাথে উচ্চ ভল্যিউমে ড্রাম বাদনের তালে তালে উল্লাশ! দড়জা জানালা বন্ধ করেও ড্রাম বাদনের শব্দের সাথে সাথে আমার বুকের কম্পন চলে ভোর পর্যন্ত।একসময় জানালা খুলে উপভোগ করাকেই শ্রেয় মনে করে শুনেছি ওদের মিউজিক। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক/বর্তমান তরুনদের প্রিয় মিউজিক সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই বুঝিনা(আমার অন্যতম প্রিয় ব্লগার কবির চৌধূরী ও আমার ছেলেদের কল্যাণে অনেকগুলো ব্যান্ড সংগীত সম্পর্কে কিছুটা ওয়াকিবহাল হয়েছি)।কিন্তু বুক ধরফর করে-সেটা হাড়েহাড়ে বুঝি!

গানের সাথে আমার একটা আত্মীক যোগ আছে।আমার মা গান পছন্দ করতেন। আব্বা মাকে একটা গ্রামোফোন কিনে দিয়ে ছিলেন।মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামোফোনটা যৌথ পরিবারের যৌথ সম্পদ হয়ে যায়। আমরা সেই গানের যন্ত্রটাকে গ্রামোফোন বললেও আত্মীয় স্বজনেরা ওটাকে বলতেন "কলের গান"”। ঐ যন্ত্রটার কল্যাণেই পরিবারের অনেকেই মোটামুটি গানের ভক্ত বনে গিয়েছিলেন।অন্যদের সাথে ছোটবেলা থেকেই আমিও শুদ্ধ সংগীতের একজন শ্রোতা। গ্রামোফোনের রেকর্ড গান আমাদের শোনা ছিল নিয়মিত বিনোদণ। গ্রামোফোন ও রেডিও থেকেই আমি নামি-দামি অনেক শিল্পীর গান শুনে বড় হয়েছি।আমি যখন শিল্পী সাইগল,বেগম আখতার, শচীণদেব বর্মণ, ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী,ঋতু গুহ,তালাত মাহমুদ,কানন বালা, ইন্দু বালাদের গান, ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, পন্ডিত রবি শংকরের শারদ,বিছমিল্লাহ খাঁর সাঁণাই শুনে অভ্যস্থ তখন আমার অনেক বন্ধুরাই সেইসব শিল্পীদের নাম শোনেনি।কারন, তখন মুসলমান পরিবারে গানের চর্চা খুবই সীমিত ছিল।কিন্তু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংগীত প্রীতি সব সময়ই ছিল-তাই হিন্দু বন্ধুদের অনেকেই সংগীতের সমঝদার ছিলেন।

আমার অনেক বন্ধুই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় ওদের সাথে পুজোর সময় ঢাকেশ্বরী মন্দির, আমাদের পুরনো বাড়ি ওয়ারীসহ পুরনো ঢাকায় বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপে ঘুড়ে বেড়াতাম। তখন মাইকে বাজতো সন্ধ্যা মূখোপধ্যায়, মান্না দে, হেমন্ত মূখোপধ্যায় ও কিশোর কুমারের গান। আরো বাজতো আব্বাস উদ্দীন, আবদুল আলীম, নীনা হামিদ, ফেরদৌসী রহমানের গান। তখন 'আমি মেলা থেকে তাল পাতার এক বাঁশী কিনেছি'/'দাদা পায়ে পড়িরে মেলা থেকে বৌ কিনে দে...' কিম্বা 'লেলে বাবু ছয় আনা, নীলামবালা ছয় আনা' গানগুলো খুব শোনাযেতো উতসব সংগীত হিসেবে। পুঁজার আনন্দের স্মৃতিরমতই কানে ও মনে লেগে থাকতো ঐ গানগুলো।
তখন ধানমন্ডি, কলাবাগান এলাকায় কোনো পুঁজা মন্ডপ হতোনা। এখন বাড়ির সামনেই কলাবাগান মাঠে বিশাল জৌলুশপূর্ণ পুঁজা উদ্বযাপিত হয়। ঢাকা সিটিতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুঁজা হয় ট্রাডিশনাল পুঁজা। সেটাই আসল পূঁজা। এখন কলাবাগান ছাড়াও বনানীতে খুব জৌলুশময় পুজার আয়োজন করা হয়।এই দুই পুঁজায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ঐসব পূঁজায় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল বিখ্যাত সংগীত শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন এবং অনেক সেলিব্রেটিরা উপস্থিত থাকেন দলমত নির্বিশেষে। তারপরেও মনে হয়-পুজোর আনন্দটা প্রাচুর্যে ঢেকে যাচ্ছে। এখন আর পুজোর প্যাণ্ডেলে সেই সব পুরনোদিনের শ্রুতিমধূর গান বাজানো হয় না। যা বাজানো হয় তাকে আর যাই বলা যাক উত্সবের গান বলা যায় না।

আগেই বলেছি-বাধ্য হয়ে জানালা খুলে থার্টি ফার্স্ট নাইট উতসবের গান শুনছিলাম। ইতোমধ্যে হৈ হৈ শব্দ! সিকিউরিটি গার্ড জানালো-কিছু তরুন তরুনী উতসবের আমেজ সামলাতে নাপেরে সদ্য রাস্তা কেটে স্ট্রম সূয়ারেজ লাইন বসানোর ১০/১২ ফুট গভীর বিশাল গর্তে পরেছে<img src=" style="border:0;" />!

ইদানীং কিছু শিল্পী শুধুমাত্র টাকার জন্য যেভাবে কুরুচিপূর্ণ কথায় আর চটুল সুরে গান গাইছেন তা যে আমাদের চারপাশটাকে কী অসহ্য করে তুলছে তা বোধহয় তাদের ধারণায় নেই। আগে কোনো বাচ্চাকে যদি বলা হতো,‘বাবু একটা গান শোনাও তো’। তখন সে যদি কোনো গান নাও জানতো তবে স্কুলে শেখানো "আমার সোনার বাংলা" কিম্বা "আমরা সবাই রাজা-আমাদের এই রাজার রাজত্বে"-গানের দুটো লাইন শুনিয়ে দিতো। কিন্তু এখন পাড়ার মোড়ের দোকান,পুজোর প্যাণ্ডেল,বিয়েবাড়ি, পহেলা বৈশাখ, ইংরেজী নব বর্ষ উতসবে যেধরনের গানশুনি তা প্রকৃতই কি কোনো সংগীত! এখন গান মানেই-সবার হাতে হাতে চায়নীজ সস্তা মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করা গানের তোড়ে ওরা শিখছে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথার গান! কী যে মন খারাপ হয়ে যায়!

থার্টি ফার্স্ট নাইটে কত রকমের গানই যে শুনতে বাধ্য হয়েছিলাম তার ইয়ত্তা নেই। সৌভাগ্য-আমি মাত্র ১/২ গানেরই দুএকটা লাইন বুঝতে পেরেছিলাম।বুঝতে পারা সেই বিখ্যাত গান হলো-......"উলা-লা উ-লা-লা..." এবং “রুপবানে নাচে কোমড় দোলাইয়া......”! সংগীতে এখন আর উত্সবের আনন্দ বাড়ে না,বেড়ে যায় শব্দ দূষণ।

শুধু উত্সবে বলি কেন আমাদের চারপাশে,আমাদের জীবনে সুমধুর বলে যেন আর কিছু থাকছে না,সব কেমন বদলে যাচ্ছে অদ্ভুতভাবে। বদলে যাক,তবে সেই বদলে যাওয়াটা শুভ হোক। মঙ্গলময় পরিবর্তনগুলোই আমাদের কাম্য।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29516685 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29516685 2012-01-05 13:09:00
ইংরেজি বর্ষের ইতিকথা
বাংলাদেশে ইংরেজি,বাংলা ও হিজরী এই তিনটি সনের প্রচলন রয়েছে।যদিও বাংলাদেশে বাংলা সনেরই প্রধান্য হওয়ার কথা কিন্তু আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুবিধার্থে ইংরেজীসন, মাস দিন হিসেব করে আমাদের জীবনাচার।হিজরী সন/মাস শুধু মাত্র মুসলমানদের ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেই আমাদের দেশে ব্যাবহার করা হয়। আমাদেরদেশেও এক সময় শকাব্দের প্রচলন ছিল যা এখন আর নেই, অবশ্য ভারতের পশ্চিম বাংলায় এখনো শকাব্দের প্রচলন বিদ্যমান। ইংরেজী নব বর্ষের আছে বিরাট এক ইতিহাস, যদিও সেই ইতিহাস অত্যন্ত জটিল এবং বিশাল। আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে পাঠকদের সাথে কিছু শেয়ার করতে চাইঃ-

আমরা যে ইংরেজি সন বা খৃস্টাব্দ বলি আসলে এটা হচ্ছে গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার। এটা একটি সৌর সন। নানা পরিবর্তন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন, বিবর্তন এবং যোগ-বিয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষ গণনায় বর্তমান কাঠামো লাভ করে। জানা যায়, মানুষ যেদিন বর্ষ গণনা করতে শিখলো সেদিন চাঁদের হিসাবেই শুরু করে বর্ষ গণনা। চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা দিয়ে ওরা মাসের বিভিন্ন সময়কে চিহ্নিত করতো। চাঁদ ওঠার সময়কে বল হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস। সূর্যের হিসাবে বা সৌর গণনার হিসেব আসে অনেক পরে। সৌর গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, কিন্তু চান্দ্র গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না।
খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রোমান সিনেট। আর বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির নামকরণ করা হয় রোমানদের দেবতা জানুসের নামে। লাতিন শব্দ জানুস, অর্থ দরজা। এই দড়জা মানেই ইংরেজী নতুন বছরের আগমন,ইংরেজী নতুন বছরের শুরু।

খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ চালু হয়। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো, তাকে বলা হয় মেসোপটেমীয় সভ্যতা। বর্তমানের ইরাককে প্রাচীনকালে বলা হতো মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার ৪টা আলাদা আলাদা ভাগ আছে- সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনিয় সভ্যতা, আসিরিয় সভ্যতা ও ক্যালডিয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষ গণনা শুরু হয় ব্যাবিলনিয় সভ্যতায়। কিন্তু তখন বর্তমানের মতো জানুয়ারির ১ তারিখে নতুন বর্ষ গণনা শুরু হতো না। তখন নিউ ইয়ার পালন করা হতো যখনই বসন্তের আগমন হতো।অর্থাৎ শীতকালের রুক্ষতা ঝেড়ে প্রকৃতি যখন গাছে গাছে নতুন করে পাতা গজাতে থাকে, ফুলের কলিরা ফুটতে শুরু করে-তখনই নতুন বর্ষ!

অন্যান্য দেশেরমতই আমাদের দেশেও প্রাথমিক বর্ষ পঞ্জীকায় অল্প পরিসরে সুমের/সুমেয়ী সভ্যতায় পরিলক্ষিত হয়। তবে মিশরীয় সভ্যতাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার চালু করে বলে জানা যায়। প্রাচীন মিশরীয় ক্যালেন্ডার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, খৃস্টপূর্ব ৪৩৬ অব্দ থেকে আনূষ্ঠানিক ভাবে ক্যালেণ্ডার ব্যবহার শুরু হয় । আরো জানা যায়, রোমানরা তাদের প্রথম ক্যালেণ্ডার লাভ করে গ্রীক গনিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিদদের কাছ থেকে। রোমানদের প্রাচীন ক্যালেণ্ডারে মাস ছিল ১০টি এবং তারা বর্ষ গণনা করতো ৩০৪দিনে। মধ্য শীত মৌসুমের ৬০ দিন তারা বর্ষ গণনায় আনতো না। রোমানদের বর্ষ গণনার প্রথম মাস ছিল মার্চ। তখন ১ মার্চ পালিত হতো নববর্ষ উৎসব। শীত মৌসুমে ৬০ দিন বর্ষ গণনায় না আনার কারণে বর্ষ গণনা যে দুটি মাসের ঘাটতি থাকতো তা পূরণ করবার জন্য তাদের অনির্দিষ্ট দিন-মাসের দ্বারস্থ হতে হতো। এই সব নানা জটিলতার কারণে জনসাধারণের মধ্যে তখন ক্যালেণ্ডার ব্যবহার করবার প্রবণতা একেবারেই ছিল না বলে জানা যায়।

রোম উপাখ্যান খ্যাত প্রথম সম্রাট রমুলাসই আনুমানিক ৭৩৮ খৃস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীকালে রোমান সম্রাট নূমা পন্টিলাস ১০ মাসের সঙ্গে আরো দুটো মাস যুক্ত করেন। সে দুটো মাস হচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। তিনি জানুয়ারিকে প্রথম মাস ও ফেব্রুয়ারিকে শেষ মাস হিসাবে যুক্ত করেন। জানুয়ারি মাস ধার্য করা হয় ২৯ দিনে এবং ফেব্রুয়ারি মাস ধার্য করা হয় ২৮ দিন। এ ছাড়াও তিনি মারসিডানাস নামে অতিরিক্ত একটি মাসেরও প্রবর্তন করেন। এই মারসিডানাস মাস গণনা করা হতো ২২ দিনে। এই অতিরিক্ত মাসটি গণনা করা হতো এক বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ ও ২৪ তারিখের মাঝখানে। খৃস্টপূর্ব ৪৩২ অব্দে সম্রাট নূমা কর্তিক প্রবর্তিত মাসের হিসেব পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়।

পরবর্তীকালে রোমানরা চার বছর অন্তর লীপ ইয়ারের হিসেব প্রবর্তন করে। এ হিসেবেও এক বছরের সঙ্গে অন্য বছরের দিন সংখ্যার হেরফের হতে থাকে। চার বছর অন্তর অতিরিক্ত একটি দিন যোগ করলে দেখা যেতো দিনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

রোমান সম্রাট জুলিয়াস সীজার মিশরীয় ক্যালেন্ডার রোমে চালু করেন। তিনি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে খৃস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সেই বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝখানে ৬৭ দিন এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ২৩ দিন এই মোট ৯০ দিন যুক্ত করে ক্যালেণ্ডার সংস্কার করেন। এই ক্যালেন্ডার জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত হয়। এই ক্যালেন্ডারে মার্চ, মে, কুইন্টিলিস ও অক্টোবর দিন সংখ্যা ৩১ দিন, অপরদিকে জানুয়ারি ও সেক্সটিনিস মাসের সঙ্গে দুইদিন যুক্ত করে ৩১ দিন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনেই গণনা হতে থাকে। তবে প্রতি চার বছর অন্তর একদিন যুক্ত করা হয়। জুলিয়াস সীজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম বদলিয়ে রাখা হয় জুলাই।

অন্যদিকে সম্রাট অগাস্টাসের নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম পাল্টিয়ে অগাস্ট করা হয়। মিশরীয়রা সৌর বর্ষ গণনা করতো ৩৬৫ দিনে। কিন্তু জুলিয়াস সীজারের সংস্কারের ফলে তা তিনশ' সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে এসে দাঁড়ায়। এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয় ১৫৮২ সালে।

যীশুখৃস্টের জন্ম বছর থেকে গণনা করে ডাইওনীসিয়াম এক্সিগুয়াস নামক এক খৃস্টান পাদরী ৫৩২ অব্দ থেকে খৃস্টাব্দের সূচনা করেন। ১৫৮২ খৃস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরী জ্যোতির্বিদগণের পরামর্শে জুলিয়ান ক্যালেণ্ডার সংশোধন করেন। তার নির্দেশে ১৫৮২ খৃস্টাব্দের অক্টোবর ১০ দিন বাদ দেয়া হয়, ফলে ঐ বছরের ৫ তারিখকে ১৫ তারিখ করা হয়। পোপ গ্রেগরী ঘোষণা করেন যে, যেসব শত বর্ষীয় অব্দ ৪০০ দ্বারা বিভক্ত হবে সেসব শতবর্ষ লীপ ইয়ার হিসাবে গণ্য হবে। এই গ্রেগরীয়ান ক্যালেণ্ডারই আমাদের দেশে ইংরেজি ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত।

(তথ্য সূত্রঃ- উইকিপিডিয়াঃ ইংলিশ নিউ ইয়ার্স ও হিস্ট্রি অব রোমান ক্যালেন্ডার)

সবাইকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29513965 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29513965 2012-01-01 09:48:32
জুরাং বার্ড পার্কঃ সিংগাপুর জুরাং বার্ড পার্কঃ

ব্যাবসায়ীক কাজে সিংগাপুর এসেছি ৪ দিন হয়ে গেলো। এখানে আসার কারন হলো-একটি ত্রিপক্ষীয়/ত্রিদেশীয় প্রাইভেট বানিজ্যিক আলোচনা এবং চুক্তি সম্পাদন। সিংগাপুর প্রতিনিধি Chan Leong এখানেই আছেন। চায়নার বেজিং থেকে আসবেন ডেনিয়েল শী। সমস্যা হয়েছে ডেনিয়েল’র আসা নিয়ে। গত কয়েকদিন যাবত বেজিং এর আকাশ ধুলো এবং অস্বাভাবিক কুয়াশার কারনে সব ধরনের ফ্লাইট ক্যান্সেল। এমনিতেই বেজিং এর আকাশ ধোঁয়াশে-তার উপর ভয়ংকর কুয়াশায় পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর ধারন করেছে। ফলে গত দুইদিনে বেজিং এয়ারপোর্ট কর্তিপক্ষ পাঁচশটির বেশী ফ্লাইট ক্যান্সেল করতে বাধ্য হয়। ডেনিয়েল পরেছে সেই কূয়াশার ফাঁদে।

সিংগাপুর আমার কাছে ঢাকারমত নিজের করে চেনা জানা সিটি(সিংগাপুর সিটি মানেই সিংগাপুর দেশ)। অসংখ্যবার এখানে এসেছি। এখানে দেখার, বেড়ানোর অবশিস্ট নেই কিছুই। আমি সারাদিন হোটেলে কাটাই। সিংগাপুরের মানুষ খুব ব্যাস্ত। ওদের কর্মচঞ্চলতা ঘড়ির কাটাকে হার মানায়। Chan Leong আমাকে রাত ৮ টার আগে সময় দিতে পারেনা। যদিও ওর অফিসের দড়জা আমার জন্য সর্বক্ষণ খোলা। কিন্তু কতক্ষণ, কতবার, কতদিনইবা অন্যের অফিসেযেয়ে বসে থাকতে ভালো লাগে! Chan Leong এর প্রটোকল অফিসার/সেক্রেটারী Ms Junmei Yao প্রতি দিনই লাঞ্চ/ডিনার টাইম ছাড়াও আমাকে বেড়াতে,রাতে ক্লাবে নিয়ে যেতে আসে-কিন্তু আমি এঞ্জয় করিনা। একাকীত্ব আমার ভাল লাগে।

এক ঘেয়েমী কাটাতে একদিন যাই সিংগাপুরের বিখ্যাত জু্রাং বার্ড পার্ক। এখানেও আমি অসংখ্যবার বেড়িয়েছি। এখানকার অনেক স্টাফও আমার পরিচিত। একাকী ঘুড়ছি। মনোরেল থেকে নেমে একটা সাইন বোর্ডের দিকে চোখ আটকে গেল। ইংরেজী ভাষা ছারাও বাংলায় লেখা-“পাখিদের কোনো খাবার দেবেননা। বিরক্ত করবেননা, আঘাত করবেননা-এদের প্রতি সদয় হোন"”। বাংলায় লেখা এই সাইনবোর্ডটা আগে দেখেছি মনে পরেনা। এক বাংলাদেশী স্টাফ জানালেন-স্যার, শুধু মাত্র বাংলাদেশীরাই নিষেধ সত্বেও পাখিদের খাবার দেয়, খোঁচায়-তাই বাংলায় এই সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে”!

আঁকাবাকা সিড়ি বেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় দাড়ালাম। চারিদিকে নানান বর্নের নানান জাতের পাখিদের কোলাহল।এখানে আমার একটি পূর্ব স্মৃতি আছে।২০০৩/২০০৪ সনে আমি আর আলী হোসেন ভাই(সিংগাপুর প্রবাসী)এখানে বসে গল্প করছিলাম। পাশেই ভিন্নতর পাখির কলরব শুনে এগিয়ে দেখি-ওরা পাখি নয়, দুই তরুনী নিজেদের ভাষায় কথা বলছে। ওদের সুন্দর কন্ঠস্বর/ভাষা বোঝার জন্যই বেহায়ারমত ওদের পিছন ফিরে একটা বেঞ্চীতে বসে কান পাতি। আমি বেশ কিছু চায়নীজ, হংকং, মালয়য়ান(মানে নাক বোঁচাদের ভাষা) ভাষা বুঝি কিন্তু এই দুই মেয়ের কোনো কথাই আমি বুঝতে পারছিনা। ওদের কথা একেবারেই পাখির ডাকের মত!

আমি কৌতুহলী হয়ে তরুনীদের বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করি-তোমরা কোন ভাষায় কথা বলছো?
কিছুটা বিরক্ত হয়েই পালটা প্রশ্ন করে-কেন জানতে চাও?
আমি বললাম-তোমরা দুজনেই খুব সুন্দর,তোমাদের কন্ঠস্বর মিস্টি, ভাষাটাও সুন্দর- তাই তোমাদের ভাষার নাম জানতে চাচ্ছি।

একটি মেয়ে হেসে জবাব দিল-আমরা 'ক্যান্টনিজ' ভাষায় কথা বলছি, এটা আমাদের মাতৃভাষা। আমি জানি ক্যান্টনীজ তাইওয়ানের রাস্ট্রীয় ভাষা। সিংগাপুরে চীনারা নিজেদের মধ্যে প্রধানত ম্যান্ডারিন, ২য়ত হুক্কিয়ান ভাষায় কথা বলে। জানলাম ওরা তাইওয়ান থেকে সিংগাপুর এসেছে বেড়াতে।

আমি বলি-তোমাদের ভাষা, কন্ঠস্বর খুব সুন্দর, পাখিদের মত।
জানাই-আমি বাংলাদেশী, আমার ভাষা বাংলা।
ইংরেজী কম বোঝে-ওরা হাসে!

সৃস্টিকর্তা বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ভাষা দিয়েছেন। পাখিদের ভাষাও কি ভিন্ন......
আমাদের পাশেই একজোড়া চড়ুই ধুমাইয়া প্রেম(?) করছে। তরুণী দুজন দেখে কিচির মিচির করে কিসব বলছে...আর হেসে লুটিয়ে পরছে! আমি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করি। আমার অস্বস্তি দেখে চড়ুই দম্পতি লজ্জা পেয়ে কিম্বা রাগ করে দূরে উড়েযায়।

পৃথিবীতে মানুষের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা,কৃস্টি ও সংস্কৃতি। পাখিদেরও নিজিস্ব ভাষা আছে। বিভিন্ন প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন ভাষা কিনা জানিনা, তবে অবশ্যই ব্যাকরণ থাকার সম্ভাবনা যুক্তি সম্মত। মানুষের ভাষার বর্ণমালা আছে-পাখিদের কোনো বর্ণমালা আছে কিনা তা পাখিরাই জানে। পাখিরাও অন্যসব প্রানীদেরমত, মানুষেরমত প্রজণন কৃয়ায় বংশ বৃদ্ধি করে।কিন্তু একজাতের পাখি সাধারনত অন্যজাতের পাখিদের সাথে সেক্স করেনা। আমার জানার খুব কৌতুহল-মানুষের মধ্যে যেমন লুচ্চা,বদমাইশ, পরিমল জয়ধর টাইপের ধর্ষক আছে? ওদের মধ্যেও কি রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির জন্য পাখিলীগ, পাখিদল, পাখি ইউনিয়ন কিম্বা পাখি শিবির আছে? আমার বিশ্বাস কোনো লীগ-দল-শিবির না থাকলেও অবশ্যই পাখি ইউনিয়ন আছে।

বিশ্ববিখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ডঃ সালিমাত আলীর একটি বইতে পড়েছিলাম- পাখির মধ্যেও লুচ্চা স্বভাবের কিছু পাখি আছে। কিছু পাখিরা য়্যুরোপ আমেরিকান সেক্স কালচারে অভ্যস্থ। অর্থাৎ কিছু পাখির ফ্রী সেক্স স্বভাব আছে, আছে একাধিক গার্লস ফ্রেন্ড-এমনকি একাধিক ‘কেপ্ট’(রক্ষিতা) রাখে আফ্রিকান, এরাবিয়ান রাজা বাদশাদেরমত! আবার কিছু পাখিদের স্বভাব একেবারেই তালেবানী স্বভাবের-অর্থাত প্রচন্ড রক্ষণশীল। বাবুই পাখিরা নাকি খুব স্বামী ভক্ত হয়। লুচ্চা/লুল স্বভাব আছে তেমনই একটি পাখির নাম- Barred Button Quail, বৈজ্ঞানিক নাম Turnix suscitator, বাংলা নাম নাগরবাইট। এদের মা-পাখি স্বভাবে বহুগামী, সামুর পরিভাষায় "লেডি লুল"”। কিন্তু মানুষের এই বিষয়ে বাছবিচার নেই বললেই চলে। এরা সব ধরনের মানব জাতিতো বটেই পশুদের সাথেও সেক্স করে। জানিনা “আশরাফুল মখলুকাত”-সৃ্স্টির সেরা জীব বলেই আমাদের এই বজ্জাতী আধিপত্য/অধিকার কিনা!

ডঃ সালিম’র সেই বইতেই পড়েছিলাম-যখন শত শত পাখি কোনো স্থানে একসাথে নিরবে বসে থাকে তখন বুঝতে হবে-ওদের স্বজনের "স্বাভাবিক “মহাপ্রয়াণ"” হয়েছে। যদি পাখিদের কারো অপমৃত্যু হয়,মানে-লোভী শিকারির শিকার, ক্ষমতা লিপ্সু জান্তার ব্রাশ ফায়ার, মানুষরুপী আজ্রাইলের ক্রস ফায়ার, এনকাউন্টার কিম্বা ইলেক্ট্রিক শকে হয় তাহলে পাখিরা অনেকক্ষণ চেচামেচি করে প্রতিবাদ জানাতে থাকে।।

"যার যে স্বভাব, তার তা"-ফিরে যাই জুরাং বার্ড পার্কে।
প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এই পার্কটি খুব ভাল লাগবে। চারিদিকে ছোট ছোট উচু নিচু পাহাড়-পাহাড়ে দাড়ালেই দেখবেন সমুদ্র। অজস্র গাছপালা আর পুরো এলাকাটা জুড়েই মাথার অনেক উপড়ে স্টিল নেট, যাতে পাখিরা উড়ে যেতে নাপারে। পাখিরা উড়ে বেড়ায় এই নির্দিস্ট কিন্তু বিশাল এলাকায়। প্রতিটি গাছেই আছে পাখির বাসা,পাখিদের খাবারের স্থান। সব পাখিদের পরিচর্যাকারী বাংলাদেশী শিক্ষিত মার্জিত তরুণেরা। এখানে উত্তর মেরুর পেংগুইন পাখি থেকে শুরু করে মরুভূমির আবাবিল পাখিসহ ১১ হাজার প্রজাতির কয়েক লক্ষ পাখি আছে। পেংগুইন পাখিদের জন্য মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমানের বিরাট কাঁচ ঘেরা একটি বাসস্থান করা হয়েছে। সেখানেই বরফের উপড় কিম্বা হীম শীতল পানিতে পেংগুইন খেলা করে। পেংগুইন পাখিগুলো যথারিতী মুজিব কোট পরা!

ছুটির দিনে প্রচন্ড ভীড় হয়। তখন পার্কের পাখিদের লাইভ শো হয়। গ্যালারীতে একসংগে হাজার দেড়েক দর্শক বসে প্রতিটা শো দেখতে পারে। প্রশিক্ষিত পাখিরা নানান খেলা দেখায়, কথা বলে। প্রশিক্ষক যা করতে বলে-একান্ত অনূগত হয়ে পাখিরা তাই করে, তাই বলে! কিছু কিছু পাখি একেবারেই মানুষেরমত ম্যান্ডারিন, জাপানীজ, ইংলিশ, ফ্রেঞ্জ ভাষায় মাইক্রোফোনের সামনে গান গায়, প্রশ্নের উত্তর দেয়!

পাঠক, আপনারা অনেকেই সিংগাপুর গিয়ে জু্রাং বার্ড পার্ক দেখেছেন, যারা দেখেননি তাঁরা সময় করে দেখবেন-হয়ত আমারমত ইচ্ছে হবে অন্তত কিছু সময়ের জন্য নিজেকে পাখি ভাবতে।

গুভ কামনা

(একটু ফান করার জন্য কিছু শব্দ ব্যাবহার করেছি-আশা করি কেউ ভুল ব্যাখ্যা করবেননা)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29507815 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29507815 2011-12-22 12:59:56
দেখে এলাম- চারু মজুমদারের বাড়ি চারু মজুমদারের বাড়ি

স্বাধীনতার পর আমার এক মামা(ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা, মুক্তিযোদ্ধা)সিরাজ শিকদারের রাজনীতির সাথে ওতপ্রেত ভাবে জড়িয়ে পরেন এবং এক পর্যায়ে রক্ষীবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রান হারান। সেই মামার সাথে আমার সুন্দর সম্পর্ক ছিল। তিনি বলতেন-শ্রেনী শক্তির বিরুদ্ধে কিভাবে লড়াই করে দেশে সুসম সম্পদ বন্টনের মাধ্যমে ধনী দরিদ্রের ব্যাবধান ঘুঁচিয়ে সমতার ভিত্তিতে নতুন একটা বাংলাদেশ গড়বেন।মামার কাছেই আমি প্রথম জানি চেগুয়েভারা-ফিদেল কাস্ট্রো-চারু মজুমদার-কানু স্যাণ্যালদের কথা। আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘটনা-সেই মামার মাধ্যমেই একবার সিরাজ শিকদারকে স্বচক্ষে দেখা। তখন চারু মজুমদার জীবিত নেই-কিন্তু মামার কাছে চারু মজুমদার সম্পর্কে জেনে আমিও চারু মজুমদারের ভক্ত হয়ে যাই। মামা নিহত হবার পর, সিরাজ শিকদার হত্যার পরে আমার মনোজগতে সিরাজ শিকদার-চারু মজুমদারদের প্রতি সম্মানবোধ আরো বেশী বদ্ধমূল হয়। আশাছিল-যদি কোনো দিন সম্ভব হয় চারু মজুমদারেরমত কোনো বিপ্লবীর সাথে দেখা করবো। অনেক চেস্টার পরেও আর কোনো বিপ্লবীকে দেখার স্বাধ আমার পূর্ণ হয়নি। কিন্তু মাওবাদী নেতা প্রয়াত চারু মজুমদারের বাড়িটি দেখার সুযোগ আমার হয়েছে।

বাংলাদেশ- ভারতের প্রথম সীমান্ত হাট শুরু হলো ২৩ জুলাই ২০১১ইং । কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা ও ভারতের কালাইরচর সীমান্তের এপারে বালিয়ামারী সীমান্তে এই হাট উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান এবং ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মা। সেই অনূষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টর থেকে ২৫০ জনের ব্যাবসায়ীক প্রতিনিধি দল আমন্ত্রীত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। আমিও সেই প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলাম। এই উপলক্ষে ভারতীয় বানিজ্য মন্ত্রী ও বেজ্ঞল চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রীজ, অল ইন্ডিয়া চেম্বার্স ফেডারেশন সম্মিলিত ভাবে বাংলাদেশ ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি দল থেকে যারা আমদানী ও রপ্তানী উভয় সেক্টরের এসোশিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করেন-তেমন ৩৪ জন ব্যাবসায়ীদের গ্রুপ ভিসায় দার্জিলিং ভ্রমনের ব্যাবস্থা করেন। আমি অনেকবার দার্জিলিং গিয়েছি তাই আমি মূল প্রগ্রামে নাগিয়ে নকশাল বাড়ি দেখার অনূরোধ জানাই। আমার সাথে আরো ৩ জন ব্যাবসায়ী একই ইচ্ছা প্রকাশ করলে "বেংগল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রীজ"-এর প্রেসিডেন্ট মুচকুন্ড সিনহালিয়া এবং "অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অব চেম্বার্স এন্ড কমার্স" প্রেসিডেন্ট রহিত মহাজনের প্রচেস্টায় আমাদের অনূরোধ রক্ষা করা হয়। আমারা ৪ বাংলাদেশীর সহযাত্রী হন- ভারতীয় একজন প্রটোকল অফিসার।

আমাদের নিয়ে টাটা সুমো জীপ গাড়িটি পাহাড়ি উচু নীচু পথ পেরিয়ে জলপাইগুড়ি পাড় হয়ে পৌঁছে মহকুমা শহর শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ির কথা পরে বলবো। একটি হোটেলে খেয়ে আরো ঘন্টা খানেক পর পৌঁছি- বিখ্যাত নকশালবাড়ি! ছোট্ট জীর্ণ একটি টিনশেড ঘর, চারু মজুমদারের বাড়ি। বাড়িতে শুধু একজন কেয়ার টেকার আছেন-যার বেতন ভাতা দেয় রাজ্য সরকার। ঘরটা খুলে দেখালেন। বেশ কয়েকটা ছবিতে চারু মজুমদার, কাণু সান্যালসহ আরো অনেকে। একটা ছবিতে আর এক কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ প্রয়াত জয় প্রকাশ নারায়ন।

ভারতবর্ষ-কাঁপানো মাওবাদী আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার একদা-অখ্যাত গ্রাম নকশালবাড়ি।সেখান থেকেই তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতে। এখনো মাওবাদী আন্দোলন চলছে বিশাল ভারতের ১২টি রাজ্যে। মাওবাদীরা জঙ্গলমহলসহ ভারতের বেশ কিছু এলাকায় নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিলেও উৎসভূমি নকশালবাড়িতে তার ছায়াটিও নেই। সেই বিপ্লবের গৌরব হারিয়ে নকশালবাড়ি এখন পশ্চিমবঙ্গের আর দশটি মফস্বলী জনপদেরই একটি। অন্যত্র যা-ই ঘটুক, নকশালবাড়ি গ্রামে চারু মজুমদারের বিতর্কিত আদর্শের ঝান্ডা তুলে ধরার মানুষ এখন নেই বললেই চলে। নেপালের সীমান্তঘেঁষা এই জনপদেই ষাটের দশকের শেষ দিকে ভারতের প্রথম সশস্ত্র কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন বিপ্লবী চারু মজুমদার।

নকশালবাড়ির আদি বাসিন্দা মূলত রাজবংশীরা। ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলে চা-বাগান তৈরির হিড়িক পড়ে। এলাকার জোতদারেরা চা-বাগানে কাজ করার জন্য নিয়ে আসে সাঁওতালিদের। বিহার, ওডিশা ও মধ্য প্রদেশ, পাশের দেশ নেপাল থেকেও আসে শ্রমিক। বাগান মালিকরা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করত শ্রমিকদের। বঞ্চিত শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে দার্জিলিং থেকে নকশালবাড়িতে চলে আসেন চারু মজুমদার। সংগঠিত করেন সশস্ত্র বিপ্লব। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সে-তুংয়ের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তিনি ১৯৬৭ সালে শুরু করেন সংগ্রাম। সে বছরের ২৪ মে আদিবাসীদের নিয়ে জমি দখলের সংগ্রামের সূচনা করেন। চারু মজুমদারের বিপ্লবের এই তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী দীক্ষিত হন বিপ্লবের মন্ত্রে। পশ্চিমবঙ্গের পথে পথে আওয়াজ ওঠে—‘লাঙল যার, জমি তার’, ‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’, ‘নকশালবাড়ির পথ বিপ্লবের পথ’, ‘একটি স্ফুলিঙ্গই দাবানল সৃষ্টি করে’- ইত্যাদি।

শিলিগুড়িতে চারু মজুমদারের একটি কাঠের বাড়ি আছে।এই বাড়িতেই থাকেন তাঁর দুই মেয়ে অনিতা মজুমদার, মধুমিতা মজুমদার ও একমাত্র ছেলে অভিজিৎ মজুমদার। সঙ্গে থাকেন চারু মজুমদারের ছোট বোন। ছেলে অভিজিৎ মজুমদার একটি বেসরকারী কলেজের শিক্ষক। তাঁর সঙ্গে কথা হয় শিলিগুড়িতেই। তাঁদের আদিবাড়ি ছিল রাজশাহীতে। একপর্যায়ে পূর্বপুরুষেরা চলে আসেন শিলিগুড়ি। ডিএল রায় রোডের এই বাড়িটি চারু বাবুই করেছিলেন।

আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা চারু মজুমদারকে ১৯৭২ সালের ১৪ আগস্ট পুলিশ কলকাতার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। বিচারাধীন অবস্থায় ১৯৭২ সালের ২৮ আগস্ট কলকাতার পিজি হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে সরকারি ভাষ্য।কিন্তু অভিজিত জানালেন-"বাবা পিজি হাসপাতালে মারা যাননি। তাঁকে লালবাজার পুলিশ লকআপে পিটিয়ে মেরেছে। তার পর পিজি হাসপাতালের গল্প ফেঁদেছে।"চারু মজুমদারের আদর্শকে হঠকারিতা বলে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। কিন্তু তাতে সেই আদর্শ ভারতের দিকে দিকে ছড়িয়ে যাওয়া থেমে থাকেনি।

অভিজিৎকে প্রশ্ন করি-নকশালবাদ আজ কেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় নকশালবাড়ি থেকে নির্বাসিত? আদর্শ ধরে রাখায় চারু মজুমদারের উত্তরসূরিদের ব্যর্থতাকে তিনি কীভাবে ব্যাখ্যা করেন?

অভিজিৎ বলেন-"রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে আমাদের নেতৃত্ব বিচ্ছিন্ন। দলীয় কাঠামো ভেঙে গিয়েছে। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্যই রাস্ট্রীয় হত্যার শিকার। অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলে পুরে রাখা হয়। ফলে আমাদের রাজনীতি হোঁচট খায়।"
পিতার আদর্শ থেকে নিজে এখনো বিচ্যুত হননি অভিজিৎ। তিনি সিপিআইয়ের (লিবারেশন) কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কমিটির সদস্য এবং দার্জিলিং জেলা কমিটির সম্পাদক।

নকশালের আরেক বড় বিপ্লবী নেতা কানু সান্যালও এখন বেঁচে নেই। রোগে ভুগে ২০১০ সনের ২৩ মার্চ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে তিনি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। নকশালবাড়ি থেকে ফেরার পথে যাই কানু সান্যালের বাড়ি শিবদালা গ্রামে। তাঁর বাড়িতে মাটির দেয়াল আর টিনের ছাউনির একটি ঘর। এ বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছিল কানু সান্যালের।

নিমানূযায়ী এখানে যেকোনো বিদেশীরা এলেই স্থানীয় থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হয়। এখানকার থানার নাম- নকশালবাড়ি থানা। সাথে সরকারি প্রটোকল থাকলেও থানায় হাজিরা দিতেই হবে। থানায় পূলিশ অফিসার আমার আগমন হেতু যেনে-সন্ধিগ্ধ চোখে কয়েকবার আমাকে দেখলেন! আমি ড্যাম কেয়ার ভাব দেখিয়ে কথা বলি পুলিশ অফিসারের সাথে। পুলিশ অফিসার প্রসুন খেরা জানালেন- নকশালবাড়ি এখন সম্পূর্ণ শান্ত। শিবদালা গ্রামে গুটিকয়েক সমর্থক থাকলেও তারা সক্রিয় নেই। ফলে এখানে নকশালবাড়ির আন্দোলন নিভেই গেছে।

নাইবা থাকুন আমার স্বপ্নের বীর কমরেড চারু মজুমদার, নাইবা থাকুক তাঁর আদর্শের সৈনিক। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে একজন সাধারন মানুষ, চারু মজুমদারের একজন ভক্ত তাঁকে সম্মান জানাতে এসেছি বাংলাদেশ থেকে-এটা আমার অহংকার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29505417 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29505417 2011-12-18 19:51:05
পথে প্রান্তরে-৪ গাঁজা গাঁজা

আমার এক সিনিয়র বন্ধু নন্দ (নামটি সংকলিত)। ওদের ফ্যামিলী ব্যাকগ্রাউন্ড অত্যন্ত রিচ। বাবা সচিব এবং মা-ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবশর নিয়েছেন বিংশ শতাবদীর নব্বই দশকে। নন্দ’র মা সচিব হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিক সাফল্যে/রেকর্ডের অধিকারী। নন্দরা দুই ভাই-বোন। ছোট বোনটির বিয়ের পর থেকেই আমেরিকা প্রবাসী। ঢাকার অভিযাত এলাকায় নিজস্ব বাড়িতে বাস করেন। নন্দ ছাত্র জীবনেই নেশায় আশক্ত। ঢাবি’তে নন্দ আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। অনার্স শেষ নাকরেই পড়া লেখা বন্ধ। একই এলাকায় থাকা হলেও ওদের বাড়িতে যাতায়ত নেই গত ১৫/১৬ বছর। হঠাত ওর সাথে দেখা স্কয়ার হাসপাতালে। জীর্ণ শীর্ণ, কংকালসার ভগ্ন স্বাস্থ্য-দেখতে অনেকটা ভেসে থাকা মরা মাছ। অথচ এই নন্দ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের মধ্যে ঈর্ষনীয় স্মার্ট ও সুদর্শন ছিল। ওকে কথা দেই-একদিন ওদের বাড়ি যাবো।

ছাত্র জীবনে নন্দদের বাড়িতে আমাদের নিয়মিত আড্ডা হতো। আমার জানামতে ঐ সময়ে ধানমন্ডি এলাকায় একামাত্র নন্দদের বাড়িতেই বিলিয়ার্ড ও স্নুকার খেলার অত্যাধুনিক সুব্যাবস্থা ছিল। নন্দ’র আব্বা প্রয়াত, আম্মাও বার্ধক্য ও মানষিক অসুস্থ্যতায় সারাদিন নিজ রুমেই স্বেচ্ছা বন্ধী। নন্দ’র একাধিক বিয়ে টেকেনি। ৪/৫ জন কাজের লোক, নিকট আত্মীয় নিয়েই নন্দদের জীবন। পুরনো ভৃত্য মজিদ এখন পৌঢ়ত্বের শেষ সীমানায়। নন্দ কথা বলে জড়িয়ে জড়িয়ে-যা নতুন কোনো আগন্তুক না বুঝলেও মজিদ বোঝে।

নন্দ’র কাছে বসে থাকতে থাকতেই ওর চিকিতসক এলেন। এই চিকিতসক দেশের প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ-লেখালেখির কারনেও যিনি আমাদের অনেকেরই পরিচিত।একই এলাকায় বাসিন্দা হিসেবে আমারও পরিচিত। তাঁর কাছেই নন্দ’র বিভিষিকাময় জীবনের বর্তমান এবং ভবিষ্যত জেনে কস্ট পাওয়া ভিন্ন কিছুই করতে পারিনি। নন্দকে ধরে ধরে আমরা ওদের বাড়ির ছাদে যাই-যেখানে আমাদের কৈশোর আর যৌবনের অনেক সময় আড্ডায় মেতে থাকতাম। এখন আর সেই ছাঁদটা আগেরমত নেই। ছাঁদে অনেক গাছপালা-যা দেখে আমার ভালো লাগল। নানান জাতের গাছ দেখতে দেখতে কিছু গাছের প্রতি আমার দৃস্টি আটকে গেল। দেখতে অনেকটা বড় গাঁদা ফুল গাছের মতো, কিন্তু ওগুলো গাঁদা ফুল গাছ নয়-সুন্দর এই গাছ একটি মাদকদ্রব্যের গাছ। যার নাম গাঁজা। দৃশ্যগতভাবে গাঁজাগাছ ও গাঁদা ফুলগাছ সহজে আলাদা করা যায়না।

বন্ধু নন্দের কথা নাবলে মণোরোগ বিশেষজ্ঞের নিকট থেকে গাঁজা গাছ ও গাঁজা সম্পর্কে অনেক তথ্য জেনেছি-যা পাঠকদের সাথে শেয়ার করছিঃ- গাঁজাগাছের বৈজ্ঞানিক নাম Cannabis indica/ Cannabis sativa,বোটানিক্যাল নাম CanabisSativa Linn গোত্র হলো Urticacea. প্রাচীন কাল থেকে গাঁজা সারা দুনিয়ায় একটি বহুল ব্যবহৃত মাদক। কম মুল্য এবং সহজলভ্যতার কারনে নিম্ন আয়ের নেশাখোরদের মাঝে অত্যন্ত আদরনীয়। গাজা গাছের নির্জাসই মুলত নেশার বস্তু হিসেবে কার্যকর, যার নাম ক্যানাবিনল। ক্যানাবিডিয়ল এবং ক্যানাবিনলিক এসিডও এর কার্যকর উপাদান।

গাঁজাগাছের স্ত্রী-পুরুষ আছেদুটিতেই ফুল হয়। তবে পুরুষ-গাছের মাদক ক্ষমতা নেই/<img src=" style="border:0;" />। স্ত্রী-গাছের পুষ্পমঞ্জুরি শুকিয়ে গাঁজা তৈরি হয়। এই গাছের কাণ্ড থেকে যে আঠালো রস বের হয় তা শুকালে হয় চরস। এক চরস খোড়ের কাছে শুনেছিলাম-চরস দুর্গন্ধময় নোংরা কাঁথা গায়ে জড়িয়ে খেতে হয়, তাতে চরসের নেশা ভাল জমে<img src=" style="border:0;" />!।স্ত্রী গাঁজাগাছের পাতাকে বলে ভাং। এই পাতা দুধে জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় ভাঙের শরবত, অন্য নাম সিদ্ধির শরবত। এই শরবত ভয়ংকর এক হেলুসিনেটিং ড্রাগ। আমাদের বন্ধু সিদ্দিকী অভিজ্ঞতা<img src=" style="border:0;" /> অর্জনের জন্য একবার ভাঙের শরবত খেয়ে ২৪ ঘণ্টা প্রায় অচেতন হয়ে পড়ে ছিল। তখন নাকি ওর মনে হচ্ছিল-"ওর দুটি হাত ক্রমাগত লম্বা হচ্ছে। জানালা দিয়ে সেই হাত বের হয়ে আকাশের দিকে চলে যাচ্ছে-তারা ধরতে যাচ্ছে কিন্তু একটুর জন্য ধরতে পারছেনা"<img src=(" style="border:0;" />।

গাঁজাগাছের ফুল, ফল, পাতা এবং গা থেকে বের হওয়া নির্যাস ক্যানাবিনয়েডস। ক্যানাবিনল, ক্যানাবিডিওল, ক্যানাবিডিন। নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ (Alkaloids)ও প্রচুর আছে-এসব জটিল যৌগের কারণেই মাদকতা।

গাঁজা ভিন্ন ভিন্ন নামে বিভিন্ন দেশে এর বিস্তার। গাঁজা গাছের পাতা এবং ডাল উপমহাদেশে গাঁজা নামে পরিচিত একই জিনিস পশ্চিমা দেশ গুলোতে মারিজুয়ানা বা মারিহুয়ানা নামে পরিচিত। গাছের পাতা বা ডালের আঠালো কষ দিয়ে তৈরী চরস নামের জিনিসটিই পশ্চিমা দেশের হাশিশ। দেশে ভাং, সিদ্ধি, পাট্টিসহ নানা নামে পরিচিত এই বিষাক্ত জিনিষটি।

নিয়মিত গাঁজা সেবনের কারনে দৃষ্টিভ্রম, বাচালতা, মাংশপেশীর অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন, দিকভ্রান্ত হওয়া, মাথা ঘুরা, ক্ষুধা লাগা, গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে যাওয়া,সময়জ্ঞান হারানো,প্রলাপ বকা, বিকারগ্রস্থ্য এমনকি মানুষ হত্যাকরার ইচ্ছাও হতে পারে। অনেক সময় হাত পা’র অবশ, ঝি ঝি ধরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া থেকে শ্বাস কষ্ট হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। নিয়মিত গাঁজা সেবনে Ganja-psychosis হয়। এতে চোখে রক্তজমে চোখ লাল হয়ে যায়, ক্ষুধামন্দা, নির্জিবতা, শরীরের মাংস-পেশী শুকিয়ে যাওয়া, অত্যাধিক দুর্বলতা, হাত-পা কাঁপতে থাকা, পুরুষত্বহীনতা থেকে শুরু করে পুরোপুরি মানসিক রোগী হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

এতদিন জানতাম গাঁজা সহজলভ্যএবং সস্তা হওয়ায় সমাজের অশিক্ষিত, সিমিত আয়ের জনগোষ্ঠির মধ্যেই বেশী প্রচলিত। কিন্তু এখন এর প্রচলন সমাজের উঁচুস্তরেও বিষেশভাবে একশ্রেনীর উচ্চবিত্তবানদের সন্তানদের মধ্যেও এর ব্যাপক প্রচলন- যার প্রত্যক্ষ প্রমান বন্ধু নন্দ!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29501323 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29501323 2011-12-12 13:58:21
পথে প্রান্তরে-৩ যোগ্যতা প্রত্যাশা প্রাপ্তি ও বাস্তবতা যোগ্যতা প্রত্যাশা প্রাপ্তি ও বাস্তবতা

ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে কয়েকজন লোক নিয়োগের একটা বিজ্ঞাপন দেয়ায় ৩টি পদে ১২ জন লোক নিয়োগের বিজ্ঞাপনে ২৭৬ জন চাকুরী প্রত্যাশী এপ্লাই করেন। একটা পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল কমার্স গ্রাজুয়েট।ঐ পদে একজন প্রার্থীর চাকরীর জন্য একজন সংসদ সদস্য সুপারিশ করেছেন। যেহেতু এমপি সাহেব আমার পরিচিত তাই ইন্টারভিউ গৃহিতা ইডি সাহেবকে প্রার্থী সম্পর্কে জানিয়েছিলাম। ইডি(অবঃ ব্রীগেডিয়ার জেনারেল) সাহেব কৌশলে জেনে নিলেন প্রার্থী এমপি সাহেবের ভাগ্নী জামাই। ইডি সাহেব চাকুরী প্রার্থী জামাই শশুর বাড়ি থেকে কি কি যৌতুক পেয়েছেন-তাও জেনে নিতে বাদ রাখেননি! তার পরিধেয় স্যুট-টাই শশুর, হাতের ঘড়ি মামা শশুর থেকে পেয়েছেন। মোটর সাইকেল দেওয়ার কথা-কিন্তু শশুর তালবাহানা করছেন-ইত্যাদি!
যাইহোক অনেক ছাড়দিয়ে প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়। সমস্যা হয়েছে চাকুরী দেবারপর। তিনি অন্য অফিসারদের সাথে ওয়ার্কস স্টেশনে বসতে চাননা। তিনি আলাদা একটি রুম চান।এমপি সাহেবের একটি ভিজিটিং কার্ড নিয়ে আমার সাথে দেখা করে বলেন-“"স্যার, --- মামা“(এমপি সাহেব) বলেছেন-আমাকে একটা আলাদা রুমের ব্যাবস্থা করে দিতে।"
আমি বলি-"ওয়ার্ক স্টেশনে বসে যারা কাজ করছেন তাঁরা সবাই শিক্ষায়, যোগ্যতায়, পদে তোমার থেকে অনেক বেশী এগিয়ে, তাঁদেরতো কারো সমস্যা হচ্ছেনা-তোমার সমস্যা হচ্ছে কেন?"
এমপি'র ভাগ্নে জামাইর উত্তরঃ "স্যার,আমি --- কলেজের -- -- ছাত্র নেতা এবং জিএস ছিলাম। এখানে আমার বন্ধু বান্ধব এসে অন্যদের সাথে কাজ করতে দেখলে ওরা আমার চাকরিটা ছোট মনে করবে"”।

হা হতোম্মী! কি জবাব দেবো আমি!!!

১৫ বছর আগে আমি নিজ চোখে দেখেছি-উত্তর কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাস্তায় বসে জুতা সেলাই করে। প্রতিবেশীদেশে কলেজ ছাত্রটি খুব সকালে বাড়িরকাছে আবাসিক হোটেলে হোম মেড নাস্তা সরবরাহ করে,কলেজ শেষে রাতে রাস্তার পাশে ফল, ফলের জুস বানিয়ে বিক্রি করে। চীন-জাপানের মানুষের চিন্তার মধ্যে সামান্যতম ঠুনকো আভিজাত্য নেই, টাকার জন্য সৎপথে যে কোন কাজ তারা করতে পারে। একটি পড়ুয়া ছাত্র যদি ইলেক্ট্রিক,সেনিটেশনে দক্ষ হয়, ঘড়ি-মোবাইল-টিভি-ফ্রিজ মেরামতে দক্ষ হয়, সে সব কাজ করে আয় করতে পারে, সংসারের অভাব লাঘব করতে পারে, তাতে দোষ কী?

খরচের রাস্তা তো আধুনিক যুগে ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। রিকশাওয়ালাও ট্যাকে মোবাইল গুঁজে রিকশা চালায়। তার বাড়িতেও ডিশ লাইন আছে। তারাও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে-এর খরচ নেই? মোবাইলে তো রাক্ষসের খরচ। আয় বুঝে ব্যয় করার এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে দূরে থাকার, সঞ্চয় মনোবৃত্তি গড়ে তোলার, কুঅভ্যাস থেকে দূরে থাকার প্রবণতা জীবনের শুরুতেই তৈরি হওয়া উচিত। দুর্ভাগ্য, তা হয়নি। এ জন্য আমাদের দারিদ্র্য ঘোচে না। আমরা পেশাকে ঘৃণা করি, অভাব ঢেকে রাখি, ভদ্র আবরণে চুরি করি, ঋণ করে ঘি খাই, দেনার দায়ে জর্জরিত হই, শ্বশুরের ঘাড়ে চড়ে আরামে খেতে চাই, যৌতুক নিয়ে মাদকাসক্ত হতে লজ্জাবোধ করি না। তবুও ঠুনকো ভদ্রলোকী ত্যাগ করে, কাজ করে সৎপথে জীবিকা উপার্জন করতে চাই না। এই মানসিকতা পরিহার করা একান্ত প্রয়োজন।

আমাদের দেশের লোকজন এতই সাহেব, তারা জমিদার বাবুদেরকেও হার মানিয়েছে বাবুগিরিতে; কথায় কথায় রিকশায় চাপে। একটা হালকা বোঝা বাসায় নেয়ার জন্যও হন্যে হয়ে কুলি খোঁজে। আধপেটা খেয়েও কাজের লোক খোঁজে।

আমাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে,সরকার চাকরি দেবে; দয়া করে এই আশা নিয়ে সন্তানকে হাঁড়ির চাল, ক্ষেতের ধান-পাট, হালের গরু বিক্রি করে পড়াবেন না। শিক্ষা ও বেঁচে থাকা- জীবিকার হাতিয়ার, এটা মাথায় রেখে সন্তানকে প্রয়োজনমাফিক শিক্ষাদান করবেন। কোন অবস্থাতেই আপনি নিম্ন আয়ের মধ্যবিত্ত হয়ে আপনার সন্তানকে আয়েশি, অলস, অদক্ষ বাবু-ভদ্রলোক বানাবেন না। শেষে ঐ অদক্ষ সন্তান আপনার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

আমার খুব "অপছন্দের" লোক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর 'সুন্দর হে সুন্দর' গল্প গ্রন্থের একটি গল্পে লিখেছিলেন- 'ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর টাকার জন্য কুলিগিরি করেননি, 'ভদ্রলোকের মুখে চপেটাঘাত করার জন্য কুলিগিরি করতেন"-কথাটা আমার ভালো লেগেছে।
“চরমপত্র” খ্যাত এম, আর, আখতার মুকুল তার জীবন স্মৃতি চারনে লিখেছিলেন-"আমি বেকার জীবনে চুরি ব্যতীত এমন কোন কাজ নেই, যা করিনি"
পল্লী কবি জসীমউদ্দীন কলকাতায় যেয়ে হকারগিরি করেছেন, অর্থাৎ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পত্রিকা বিক্রি করেছেন।

এত কথা বললাম, দৃষ্টান্তগুলো টানলাম এ কারণে যেন আমাদের দেশের উঠতি প্রজন্ম অনেকেই সরাসরি অফিসের বড় সাহেব হতে চান। বাস্তবতা উপলব্ধি করে তাদের মূল্যবোধের পরিবর্তন হওয়া দরকার। ঠুনকো আভিজাত্যবোধ, সংকোচ, লজ্জা, সংস্কার, বাবুগিরি, অন্তঃসারশূন্য ভদ্রলোকী চিন্তা-চেতনায় প্রশ্রয় পেলে বাস্তব জীবনে সৎভাবে বাঁচার উপায় থাকবে না। বাস্তবের সঙ্গে লড়াই করতে হলে লেফাফাদুরস্ত সংস্কার ঝেড়ে ফেলে যে কোন সৎ কাজে আগ্রহী থাকতে হবে, শ্রমের বিনিময়ে টাকা উপার্জন করতে হবে।

এক সময় সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েট ইউনিয়নে একটা শ্লোগান উঠেছিল-"সাধ্য অনুসারে শ্রম দাও, প্রয়োজন অনুসারে ভোগ কর।" পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র থাক বা না থাক, এই শ্লোগনটির মূল্য আছে। এখনো সমাজতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী লেখক-সাহিত্যিকরা শ্রমকে মূল্য দিয়ে থাকেন, পরনির্ভরতাকে ঘৃণা করেন। সমাজতন্ত্রিরা বলেন, "যার যার বিপ্লব তা তাকেই করতে হয়"। সমাজতন্ত্রের সাফাই গাইছি না।কিন্তু রাষ্ট্রীয় মনোপলিও কাম্য নয়। আমরা উদার গণতন্ত্র এবং ওয়েলফেয়ার স্টেটের স্বপ্ন দেখি। বিশ্বাস করি মিশ্র নীতিতে। যে সব নীতি রাষ্ট্রের জন্য, ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর, তা সংস্কারমুক্ত দৃষ্টিতে গ্রহণ করা উচিত।

রাষ্ট্রের বা সরকারের একটি মৌলিক দায়িত্ব কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। রাশিয়া সরকার প্রথমদিকে সে দেশের নাগরিকদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, কর্মের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো সৃষ্টি হয়নি।“ঘরে ঘরে চাকুরী দেয়া”র কথা স্রেফ চাপাবাজী। তাই বলেতো আমরা আমাদের সন্তানদের ভবঘুরে, অলস, অদক্ষ, হতাশাগ্রস্ত, নেশাগ্রস্ত করে তুলতে পারি না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে, সমস্ত ভদ্রলোকী আবরণ খুলে ফেলে, টাকার বিনিময়ে যে কোন সৎ কাজ করার মনোবৃত্তি থাকতে হবে।

অনেকের ধারণা, নেতাজী সুভাস বসু কেবলই ইংরেজ বিরোধী কথাবার্তা বলেছেন। কিন্তু নেতাজীর 'তরুণের স্বপ্ন' বইটি পড়ে বুঝতে পারা যায় যে, তিনি পরাধীন ভারতের তরুণদের দেশপ্রেমিক হওয়ার উপায় হিসাবে কর্মজীবী হবার প্রেরণা দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এবং মহাত্মাগান্ধী আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন তাদের লেখায়। মহাত্মাজীর 'আমার স্বপ্নের ভারত' এবং রবীন্দ্রনাথের 'পল্লী চিন্তা' বইয়ে রয়েছে সেই প্রেরণা।

কাজেই আমাদের শিক্ষত তরুন কর্মজীবি বন্ধুদের সহকর্কীদের সাথে কাজ করার মানষিকতা থাকতে হবে।কাজ করে নিজের যোগ্যতায় নিজের অবস্থান গড়েনিতে হএ। ছাত্র জীবন কিম্বা পারিবারিক জীবনে তাদের কার কি পজিশন ছিল-সেটা কোনো চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিবেজ্য নয়-সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29498813 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29498813 2011-12-08 15:03:58
পথে প্রান্তরে-২ আমাদের নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানীক শিক্ষা আমাদের নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানীক শিক্ষা

ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফিরবো-দফায় দফায় জানাচ্ছে, ট্রেন ৪০ মিঃ, আবার ৩০ মিঃ, আবার এক ঘন্টা(আসলে অনির্দিস্ট সময়) জন্য লেট। বসে আছি ওয়েটিং রুমে-ইতোমধ্যেই ৩/৪টা খবরের কাগজ মুখস্ত করে ফেলেছি। ফেরিওয়ালা বিভিন্ন রকমের শিশুতোষ বই বিক্রি করছিল।আমি কৌতুহলী হয়ে কয়েকটি বই হাতে নিয়ে দেখলাম- বইগুলো দামী কাগজে উন্নত লেমিনেশন করা, উন্নত বাঁধাই। ফেরিওয়ালাকে অপেক্ষা নাকরিয়ে আমি বিভিন্ন রকমের ৫টি বই কিনি এবং ২০/২৫ মিনিটের মধ্যেই ৫ টি বই পড়া শেষ করি।

ঐ বইগুলো কেনো শিশুতোষ বই কিম্বা ঐ বইগুলো পড়ে শিশুরা কি শিক্ষা লাভকরবে-সে বিষয় কিছু লিখতে চাইনা। শুধু আমাদের ছেলেবেলার আর বর্তমান শিশুদের বইয়ের গুণগত ফারাকটাই আলোচনা করতে চাই। এখনকার বইগুলোর সাথে আমাদের সময়য়ের প্রাথমিক নৈতিক শিক্ষার কোনো মিল নেই! ছেলে বেলায় আমরা শ্রদ্ধেয় পন্ডিত রামেন্দ্র সুন্দর বসাক(স্মৃতি বিভ্রাট হলে- নামটা রাম সুন্দর বসাকও হতে পারে) লিখিত "বাল্যশিক্ষা" নামক একটি বই পড়েছিলাম-যে বইয়ে অনেক নীতিকথা ছিল। যখন আমাদের অক্ষর জ্ঞানও শিখা হতোনা-তখনই সেই বাল্য শিক্ষা বইটি আমাদের বড় ভাই-বোন, অবিভাব্কগন অনেক যত্ন নিয়ে আমাদের মুখস্ত করাতেন-সেই নীতিকথা আমাদের ঠোঠস্থ্য-কন্ঠস্থ্য মুখস্ত করা বাধ্যতামুলকই ছিলনা, সেই নীতিকথা আমরা পারিবারিক জীবনে পরিবারের সদস্যদের সাথে কতটা প্রয়োগ করছি-তারও পরীক্ষা দিতে হতো!

জীবন ও জগত সম্পর্কে প্রায়োগিক জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি ব্যক্তি মানুষের নৈতিক উত্কর্ষ সাধনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। শিক্ষার সাথে নৈতিক জ্ঞান ও মূল্যবোধের যোগসূত্র যে রয়েছে সেটা কোনো নূতন কথা নয়। কথাটা পুরানো হলেও এই আধুনিককালেও তা উচ্চারিত হয় নানান উপলক্ষে।যেমন, আমি শিশু বয়সে মিশনারী স্কুলে পড়েছি। সেখানে ক্লাশ শুরুর পূর্বে বাইবেল থেকে কিছু নীতিকথা, খৃস্টীয় রিতীতে শপথ পাঠ সকল ছাত্রদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। “"ধর্মের বানী সর্বত্রই শান্তির"”-নীতিতে আমরা ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের ছাত্ররা সেই নীতি বাক্য নিজ নিজ ধর্মীয় অনূশাসনে পালন করতে সচেস্ট ছিলাম।

নৈতিকতা কিংবা মূল্যবোধের বিষয়টা আপেক্ষিক। আবার নৈতিকতা ও মূল্যবোধ-এই দুইয়ের মধ্যেও ব্যবধান রয়েছে। ইংরেজি 'ভেল্যুজ' এবং 'মরালিটি'- এক নয়। নৈতিকতার বিষয়টি শাশ্বত হলেও মূল্যবোধ একেক জাতির একেক রকম। মহান ভাষা আন্দোলন কিংবা মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মধ্যে যে মূল্যবোধের জন্ম দিয়েছে,অন্য কোনো জাতির মূল্যবোধের সাথে তা তুলনীয় নয়। পক্ষান্তরে,মিথ্যা বর্জনীয়,সদা সত্য কথা বলিবে,সকল মানুষকে ভালোবাসিবে,কেহ কাহারও উপর জুলুম করিবে না,অপরের সম্পদ হরণ করিবে না,নির্দয় হইবে না,কর্তব্য-কর্মে অবহেলা করিবে না-এইগুলো নৈতিক শিক্ষা। এই নৈতিক শিক্ষা চিরন্তন,দেশ-কালভেদে এসবের প্রভেদ দেখা যায় না। মিথ্যা বলা দুনিয়ার কোথাও কোনো ধর্মেই নৈতিকতাসম্মত নয়।

তবে দেশ ও কালভেদে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রভেদ রয়েছে। এক দেশে যা গর্হিত আরেক দেশে তা স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হওয়া বিচিত্র নয়।প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নীতি-মূল্যবোধে বিরাট ব্যবধান। বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে গুরুজনের সম্মুখে কেউ সিগারেট ফুঁকলে তাকে বে-আদব বলতে খুব কম লোকই দ্বিধা করেন। আবার চল্লিশ-পঞ্চাশ বত্সর আগে এদেশের পল্লী সমাজে নিরক্ষর-হতদরিদ্র শ্রেণীর অনেক পরিবারে পিতা-পুত্রকে একসঙ্গে,এক বৈঠকে বসে হুঁকায় দম দিয়ে ধূম্র কুন্ডলী পাকাতে দেখা যেতো-তাতে কেউ কিছু মনে করতনা।

আধুনিককালের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রধান লক্ষ্যই হল-ব্যক্তিকে কোনো না কোনো কাজের জন্য বিশেষভাবে যোগ্য করে তোলা। সে বিবেচনায় নৈতিক শিক্ষার বিষয়টিকে অনেকেই শিক্ষা হতে আলাদা করে দেখতে চান। তারা এমনও বলেন যে,বিশ্বায়নের এই যুগে-এই বিশ্ব পল্লীতে এক দেশ হতে অন্য দেশে লোকের যাতায়াত বাড়ছে, প্রতিনিয়ত পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষের সাথে অন্য প্রান্তের মানুষের যোগাযোগ ও ইন্টারেকশান হচ্ছে।এ বাস্তবতায় প্রায়োগিক শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষার শর্ত পূরণ সহজ নয়। তার মানে এই নয় যে,তারা নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেন।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-মানুষের নৈতিক শিক্ষার প্রথম ও প্রধান পাঠশালা হল পরিবার। পরিবারে যেমন নীতি-নৈতিকতার চর্চা হয়,পরিবারের ছেলে-মেয়েরা তেমনই নিজের জীবন অনুসরণ করে।
তাই বলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নৈতিক বিষয়গুলি বর্জিত হবে-তেমনটি কাম্য হতে পারে না। শিক্ষা বলতে ব্যক্তির কর্মদক্ষতাই কেবল নয়,তার মানসিক উত্কর্ষ সাধনও বুঝায়। বিশেষ করে প্রাথমিক হতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাক্রমে নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত এবং বাস্তবেও তার প্রতিফলন বাঞ্ছনীয়। মানবিক গুণাবলীর যথার্থ বিকাশ না ঘটলে ব্যক্তির অর্জিত প্রায়োগিক শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে না। তার মেধা ও দক্ষতার সদ্ব্যবহারও তাতে বাধাগ্রস্ত হয়। কাজেই পরিবারে এবং শিক্ষাঙ্গনে ছেলে-মেয়েদের নৈতিক শিক্ষার অনুশীলন অপরিহার্য। যার জন্য প্রয়োজন শিশুতোষ বইগুলোতে নৈতিক শিক্ষার জন্য শিক্ষনীয় কিছু সংযোজন করা। নৈতিকতা দৃঢ় নাহলে কোনো শিক্ষায়ই সুশিক্ষিত হওয়া সম্ভব নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29496841 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29496841 2011-12-05 14:55:46
পথে প্রান্তরে-১ আমাদের বদ মানষিকতা আমাদের বদ মানষিকতা

কোন্ জাতি কতটা সভ্য তা তাদের সংস্কৃতি থেকে বোঝা যায়। সংস্কৃতি মানুষের অভ্যাস, চিন্তাধারা, আচার-আচরণ ইত্যাদিকে ধারণ করে। যে জাতির আচার-আচরণ সংযত ও বিনীত সে জাতি সকলের কাছে সম্মানীয়। মানুষ শিক্ষা গ্রহণের সংস্কৃতির মাধ্যমে তার মন্দ আচরণগুলোকে পরিবর্তন করে সভ্যতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে। ভালো জিনিসগুলোকে নিজের মধ্যে ধারণ করেছে। সভ্যতার সেই হাজার বছরের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের অতীতও গৌরবের। আমরা আমাদের মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছি। প্রতিনিয়ত আমরা ভালোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখনও কিছু কিছু তুচ্ছ আচরণ আমাদের মধ্যে দেখা যায়, যা কিনা জাতি হিসেবে অন্যদের কাছে আমাদের মাথা হেঁট করে দেয়। একটু সচেতন হলেই আমরা আমাদের এসব খারাপ আচরণ পরিত্যাগ করতে পারি।

যেসব হীন তুচ্ছ আচরণ আমাদের সমাজে বিরাজমান, তার মধ্যে একটি হলো টাকা/ নোটের ওপর লেখা। আমাদেরদেশে কেউ কেউ টাকার ওপর অকথা-কুকথা লিখে, নাম-ঠিকানা লিখে চিঠি দেয়ার, ফোন করার অনুরোধ জানায়!তাতে কেউ সফল হয় কিনা জানিনা-কিন্তু তাতে সামাজিক বিড়ম্বনা বাড়ে, আমাদের অজ্ঞতা ও অসচেতন তা প্রমাণিত হয়। নোট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষিত-অশিক্ষিত অনেকের মাঝেই এই অসচেতনতা লক্ষ করা যায়। টাকা মুচড়িয়ে কান খোঁচানো, ভাঁজ করে ট্যাবলেট বানানো,নোটের উপর বিভিন্ন রঙের কালিতে লেখালেখিকে আমরা কিছুই মনে করি না। নোটের উপর লেখালেখিতে ব্যাংকারর্সরাও কম যাননা। মাছের বাজারে গেলে তো টাকার স্বাভাবিক অবস্থার দফা-রফা হয়ে যায়। নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা নোট আমাদের দেশে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, নোংরা নোটগুলো বিভিন্ন হাতে যাওয়া-আসার ফলে অসুখ-বিসুখ ছড়ায় যাতে শিশুদের আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়াও পাবলিক টয়লেট/বাথরুম, লঞ্চ-বাস-ট্রেনের সিটে, স্কুল-কলেজের বাথরুমে আজেবাজে কথা লেখার কুঅভ্যাস থাকায় পরিবারে ও সমাজে অনেক সময় আমাদেরকে লজ্জার মধ্যে পড়তে হয়।

সব পুর্ব অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে এবার এমিরেটস ফ্লাইটে এক “বিদ্যার্থীর বিদ্যার কুচর্চা” দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমাদের ফ্লাইট রুট লন্ডন-দুবাই-ঢাকা। আমি কখনও জার্ণীতে ঘুমাইনা-তা যত লম্বা জার্ণীই হোক।লন্ডন হয়ে আমরা দুবাই এয়ারপোর্টে আ্দেমার ৫০ মিঃ যাত্রা বিরতি দিয়ে ঢাকার পথে ঘন্টাখানেক আকাশে ওড়ারপর আমার দুই সারি সামনের সীটের এক বৃটিশ(হোয়াইট) যাত্রী ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে এয়ার হোস্টেসের মাধ্যম সিনিয়র পার্সারকে কল দেন। কি যেনো বলেছেন-আমি পিছন থেকে বুঝতে পারিনি-কিন্তু যাত্রীকে খুবই বিরক্ত এবং পার্সার বারবার স্যরি বলার দৃশ্যটা বুঝতে পেরেছিলাম। দুই বৃটিশ ভদ্র লোকের সাথে আরো বিভিন্ন বয়সের ১৯/২০ জন ইয়াং লেডি টীম। ওদের গন্তব্য ঢাকা হয়ে নেপালের কাঠমুন্ডু ।পরে জেনেছি-ওরা ইউকে মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব এর সদস্য।

পার্সার এবং ফ্লাইট সিকিউরিটি সার্জেন্ট(সার্জেন্ট য়্যাট আর্মস) ক্যামেরা নিয়ে ওয়াশরুম ২/৩ বার ভিজিট করে আবার চীপ পার্সার বৃটিশ যাত্রীর নিকট স্যরি বলেন। পার্সার চলে যাবারপর জার্মান ফ্লাইট ক্যাপ্টেন এসে সেই যাত্রীসহ সকল যাত্রীদের কাছে স্যরি বলেন-কেউ একজন ওয়াশরুমে নোংরা কিছু লেখার জন্য। আমরা এতক্ষনে বুঝতে পারি-বিষয়টা কি!

ক্যাপ্টেন এর নির্দেশে ফ্লাইট সিকিউরিটি সার্জেন্ট য়্যাট আর্মস এনাউন্স করেন-যিনি ওয়াশরুমে নোংরা কিছু লেখার জন্য দায়ী ১০ মিনিটের মধ্যে দাঁড়িয়ে স্যরি বলার জন্য। আমি পার্সারকে জানতে চাই-কী সমস্যা? পার্সার জানালেন-“ Some one perverted passenger invited sexy girls with drawing his and opposit organ along with describing his performance on the toilet’s wall by marker pen. We already spot him who did this nasty work”(হুবহু পার্সারের বক্তব্যটাই লিখলাম). আমার পাশের সীটে আমার কলেজ পড়ুয়া ছেলে ঘুমাচ্ছে।

আমরা যখন হীথ্রো থেকে দূবাই ফ্লাই করি-তখন ১৫/২০ টি সীট খালি ছিল, দূবাইতে দেড়শতাধিক যাত্রী ডিপার্সার হয়-যাদের বেশীর ভাগই ইয়োরোপীয়ান ও এরাবিয়ান। দুবাই থেকে এরাইভেল প্যাসেঞ্জার সবাই বাংলাদেশী। এবার কোনো সীট খালিছিলনা-যা আমি লক্ষ করেছি।

কেউ স্যরি বলেনি। মিনিট পনেরোর মাথায় সার্জেন্ট য়্যাট আর্মস আমার ডান সারির একজন ইয়াং যাত্রীকে দাড়াতে বলেন। তখন আমি বুঝিনি-কি ভাবে ঐ যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়েছিল।পরে জানতে পারি-“অপরাধী তার অপরাধের পদচিনহ রেখে যায়”-এই সত্য এখানেও কথিত অপরাধী প্রতিষ্ঠিত করে যায় নিজ ইমেইল আইডি লিখে!

এমিরেটস কর্তিপক্ষ ঐ যাত্রীকে পুলিশে দেবার সিদ্ধান্ত নিলে যাত্রীটি সকলের সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করে বাকী ৪ ঘন্টার জার্ণী চাদর মুড়ি দিয়ে কাটিয়েছিলেন! যাত্রীটির বাড়ি দেশের পূর্বাঞ্চলীয় একটি জেলায়। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং জয়েন্ট সিটিজেনশীপ ক্যারীয়ার।
যেহেতু সকল যাত্রীদের পার্সোনাল কন্ট্রাক্ট ইনফর্মেশন প্যাসেঞ্জার লিস্টে চীফ পার্সারের নিকট থাকে-সেখান থেকেই সার্জেন্ট য়্যাট আর্মস অসভ্য যাত্রীর ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত ফাইন্ড আউট করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29494099 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29494099 2011-12-01 12:15:27
লন্ডনঃ স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভংগের উপখ্যান-২ প্রথম পর্বের লিংকঃ Click This Link
বাংলাদেশী মধ্যবিত্ত তরুণদের কাছে ইউরোপ,আমেরিকা যাওয়াটা সবসময়ই এক সোনার হরিণ। এই হরিণের পেছনে কম-বেশি ছোটেননি কিম্বা আশা করেননি এমন তরুণ পাওয়া মুশকিল। সবার কাছেই এ এক স্বপ্নের সুন্দর ঠিকানা। তরুণদের বদ্ধমূল ধারণা ইউরোপের লন্ডন অথবা আমেরিকার কোনো স্টেটস-এ একবার যেতে পারলে শুধু অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা পূরণই নয় সামাজিক স্ট্যাটাসেরও কয়েকধাপ বেড়ে যায়। বরাবরই তাই ইউরোপ-আমেরিকাতে যাওয়ার জন্যে আমাদের মধ্যবিত্ত তরুণদের দৌড়ঝাঁপ লক্ষণীয়। অভিভাবকমহলেও এ নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ নেই।

আমরা দেখছি প্রতিবছর অসংখ্য তরুণ স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,ইউরোপীয়ান ইউনিয়নভূক্ত কোনো দেশে কিম্বা ইংল্যান্ড লেখাপড়া করতে যাচ্ছে। গত কয়েকবছরে স্পেশাল স্টুডেন্ট ভিসার বদৌলতে প্রায় তিনলক্ষ তরুণ শিক্ষার্থী লন্ডন,উত্তর লন্ডন,বার্মিংহাম,লিডস,ব্রিস্টল,ম্যানচেস্টার শহরে গেছে। এসব শহরের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে গেলেও বেশিরভাগ তরুণ যে তাদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে পারেনি এটাই সত্য। অনেকে আবার স্টুডেন্ট ভিসা নিলেও আগে থেকেই মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করে যান লেখাপড়া নয় চাকরি। বলা যায়,তুলনামূলক যারা মেধাবী এবং দেশে যাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা রয়েছে তারাই কেবল সত্যিকার অর্থে উচ্চশিক্ষা নিতে সচেষ্ট থাকেন। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যে হাজার হাজার তরুণ লেখাপড়া করার নামে স্টুডেন্ট ভিসা নিলেও তাদের লেখাপড়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদের মূল লক্ষ্য চাকরি-বাকরি করে ইংল্যান্ড আসার খরচ উঠানো এবং সেই সাথে রোজগার করা। বলা যায়,এই ঝোঁক বা ইচ্ছেটা বাংলাদেশের কম মেধাবী তরুণদের জন্যে মহা এক সর্বনাশ ডেকে এনেছে। অনেক তরুণ এই ভেবেও লন্ডন পাড়ি জমিয়েছেন যে কোনো মতো স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যেতে পারলেই হলো। পরে কিছু না কিছু তো একটা হবে। অনেকেই ধার-দেনা করে বা জমি বন্ধক রেখে স্টুডেন্ট ভিসার জোরে সত্যিই লন্ডনে গিয়ে উঠলেও এখন হা-পিত্যেশ ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না।

বিভিন্ন রেস্তোরায়,মসজিদে অনেকজন ছাত্রের সাথে কথা বলেছি। সকল শিক্ষার্থীদেরই একই সমস্যা-আর্থীক অনটন! তাদের থাকার যায়গা নেই,কাজ নেই-হাতে টাকা নেই। এমন দুজন শিক্ষার্থীর দেখা পেয়েছি-যারা একটা স্যান্ডউইস দুজনে ভাগ করে খেয়ে ২৪ ঘন্টা পার করে দিয়েছে-কিন্তু জানেনা কাল কি ভাবে চলবে! বলা যায়-বেশীর ভাগ ছাত্ররাই প্রতারিত হয়েছে-বিভিন্ন কন্সাল্টেন্সী ফার্ম কর্তিক। সেই প্রতারণার সাথে রাস্ট্রীয় সংশ্লিস্টতা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারন,এখানে অনেক ছাত্রদেরকেই ভর্তি করা হয়েছে-“ভাষা শিক্ষা কোর্স”,“সেক্রেটারিয়েল কোর্স” কিম্বা সাধারন মানের ট্রেড কোর্সে! কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা ১০০ ভাগ বিশ্বাস করে,কিম্বা “কোনো কন্সাল্টেন্সী ফি দেয়া লাগবেনা”-তেমন লোভে চাহিদামতো সকল ডকুমেন্টস কন্সাল্টেন্ট ফার্মগুলতে দিয়েই নিজেরা ণির্ভার থেকেছে। শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ভিসা পেয়েই খুশীতে ডুগডুগি বাজিয়ে লন্ডন চলে গিয়েছিল।

গত কয়েক বছর পূর্বে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার সময় বৃটিশ সরকার সেদেশে অর্থের বিনিময় উপমহাদেশ এবং এশিয়ার অনুন্যত দেশগুলো থেকে দশ লক্ষ ছাত্রদের ১/২ বছরের টিউশন ফি এডভান্স নিয়ে যেনোতেনো প্রকার “আর্থীক স্বচ্ছলতা সনদ”এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকেও তিন লক্ষাধিক ছাত্র ভর্তি করিয়েছিল। তখন বাংলাদেশে বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী “ছাত্র ভিসা” ব্যবস্থা সহজতর করে মূলত বৃটিশ সরকারের অণুগত ভৃত্বের দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনিয়া স্বার্থে,কিন্তু ক্ষতি করে গিয়েছেন-বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাঁদের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। অন্যদিকে একই কুকর্মের জন্য আনোয়ার চৌধুরী আমাদের দেশীয় এক শ্রেনীর বেউকুব মানুষের কাছে বাহবা কুড়িয়েছিলেন। ঐ সব ভিসার পূর্ব শর্তইছিল-উক্ত প্রগ্রামে ভিসা পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাকালীন সময় কোনো কাজ করার সুযোগ পাবেনা,যে বিষয়ে পড়ার জন্য অনুমোদন পেয়েছে সেই বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেনা এবং কোনো অবস্থাতেই শিক্ষা শেষে বৃটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদনই করতে পারবেনা। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের দেশীয় অসাধু কন্সাল্টেন্সী ফার্মগুলো উক্ত দুইটি গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্ট শিক্ষার্থীদের জানায়নি, কিম্বা কোনো কোনো শিক্ষার্থী বিষয়টা জেনেও মনে করেছিল-একবার লন্ডন যেতে পারলেই সব পাওয়া সম্ভব হবে।

সব থেকে বিস্ময়কর ব্যপার-বৃটেনে ভর্তি হওয়া ৯০ ভাগ স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় বৃটিশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উচ্চ শিক্ষা ক্যাটাগরীর এফিলিয়েটেড নয়। ঐ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের দেশীয় সোডা/কোডা,অতীশ,শান্তা,গ্রীন,ইউবট নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের হুবহু মিল-যা মূলত একধরনের কোচিং সেন্টার! ঐসব প্রতিষ্ঠানের না আছে কোনো ক্যাম্পাস,নাআছে শিক্ষক! যার মালিকানা মূলত উপমহাদেশ,হংকং এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের প্রতারক চক্র। ছাত্র ভর্তি করাতে পারলেই সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই দেশীয় এজেন্টরা মোটা অংকের কমিশন পেয়ে যেতো। আমি দুটো তথাকথিত “বিশ্ববিদ্যালয়” দেখেছি-যার একটা মূলত “অনুবাদ কেন্দ্র” আর একটা “ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র”! অথচ ওদের ওয়েবসাইটের বাগড়ম্বরতা দেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাতো বটেই আমাদের মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীও ভিমড়ী খাবেন! এমন অনেক শিক্ষার্থীদের দেখা পেয়েছি-যাদের একাডেমিক রেজাল্ট নিয়ে ঢাকার নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ কিম্বা দনিয়া ডিগ্রী কলেজেও ভর্তি হতে পারতোনা! অথচ তারা লন্ডন এসেছে উচ্চ শিক্ষার্থে!

পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট পড়ে কৌতুহলী হয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে বুঝেছি বাংলাদেশের ঢাকাসহ বড় বড় নগরীতে গজিয়ে ওঠা স্টুডেন্টস কনসালটেন্ট ফার্ম,এজেন্টরাই লন্ডনের শিক্ষার্থী পাঠাতে মূল ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন মন ভোলানো শ্লোগান দিয়ে এরা শিক্ষার্থীদের কাছে টেনে নিম্নমানের কলেজ,টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে দিচ্ছে। এসব কনসালটেন্ট ফার্ম এবং এজেন্টরা স্টুডেন্টদের থেকে ভর্তি এবং ভিসা প্রসেসিং বাবদ নগদ অর্থ না নিলেও তারা অন্য পন্থায় টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকে ঐসব কলেজের বেনামী মালিক হয়ে পুরো টিউশনি ফি-ই হজম করে ফেলছে। সে যাই হোক,লন্ডনে তরুণ শিক্ষার্থীদের জীবন-যাপন যে কতোটা বিপর্যস্ত তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। আমাদের সংশ্লিস্ট সকলের উচিত এ বিষয়গুলো একটু ভেবে দেখা।

আবার ফিরে আসি সেই পুরনো কথায়। লন্ডনে যারা পুরনো বা যারা সেটেল্ড তাদের যাপিতজীবন অন্যরকম। তারা অবশ্যই গতিময়,সহনশীল এবং পরোপকারীও বটে। নিজ দেশের তরুণদের বিপদে তারা অনেকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তেমনই বেশ ক’জনকে দেখেছি নিজ চোখে। আমার সিলেটি এক বন্ধুর ছোট ভাই-রুমন,বৈবাহিক সূত্রে বর্তমানে বৃটিশ নাগরিক। শুধু মাত্র কঠোর পরিশ্রমের ফলে ১০ বছরেই এখন প্রতিষ্ঠিত। লিমোজিন চালানোই মূল পেশা সেই সংগে বাড়ি/ফ্ল্যাট কেনা বেচার ব্রোকারী করে। যার আশ্রয়ে এখন ৬ জন দূর্ভাগা ছাত্র!

তেমনই আরো ক'একজন এর মধ্যে স্বপন কুমার সাহা। স্বউদ্যোগে লন্ডনের সুইনডোন সিটিতে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করে চমৎকার একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। স্বপনের কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং দেশপ্রেমবোধ এতোটাই প্রখর -যে কাউকে তা মুগ্ধ করবে।অনেক ঝুকি নিয়েও স্বপন কুমার এখন অন্তত ২৫ জন দূর্ভাগা ছাত্রের অন্য সংস্থান করছেন। ডাঃ ফজল মাহামুদ তেমন আর একজন ব্যবসায়ী। যিনি তার “নিউকম(ইউকে)লিঃ” নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন(যদিও তাঁর ব্যাবসায়ীক সুনাম থেকে দূর্ণামই বেশী)। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংগালী,বৃটিশ-ইন্ডিয়ান অনেক লোকের চাকুরীর সংস্থান করেছেন।কিন্তু ডাঃ মাহমুদ সম্পর্কেও অনেক ছাত্রদের অভিযোগ- তিনিও দেশ থেকে ছাত্র আমদানী করেন এবং এখানে এসে সেই ছাত্রদেরমধ্যে অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন।এই অভিযোগে লন্ডনে ডাঃ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। আবার বুবুর ছেলেবেলার সই ইভানা বুজী যিনি ৩৮ বছর ইস্ট লন্ডনে বসবাস করছেন,শিক্ষকতা পেশা থেকে অবশর নিয়ে তিনিও অনেক বাঙালি স্টুডেন্টকে থাকতে দিয়েছেন নিতান্তই মায়ার কারণে।

রুমন,ডাঃ মাহামুদ, ইভানা বুজী এবং স্বপনের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ আমার মাঝে আন্দোলিত হলেও তরুণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘশ্বাস আমি ভুলে যাইনি। সত্যিই লন্ডন আমাদের কাছে এক স্বপ্নের শহর। কিন্তু যাবার আগে অবশ্যই আমাদের অনেক কিছু ভাবার,অনেক বেশী করে জানার ও বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। তানাহলে স্বপ্ন ভংগ অনিবার্য্য!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29491395 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29491395 2011-11-27 11:19:36
লন্ডনঃ স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভংগের উপখ্যান-১
ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেল শহরে আমার থাকা হয়েছিল ১৯৮৪-১৯৮৮ সন পর্যন্ত। তারপরেও বহুবার বিভিন্ন কারনে ইংল্যান্ড যাওয়া হয়েছে। কাজেই ইংল্যান্ডের সাথে আমার যোগসূত্র বহুদিনের। এখনও সময় সুযোগ পেলেই ইংল্যান্ড যাই। দুইমাস আগে ব্যবসায়ীক কাজে লন্ডন গিয়েছিলাম। এ সফর ছিল মাত্র ৬ দিনের।সাথেছিল ছোট ছেলে। এই ৬ দিনেই ছোট ছেলেকে লন্ডনের চারপাশ মোটামুটি দেখানোর সুযোগ হয়েছে। লন্ডনে ঘুরতে গিয়ে অনেক পরিচিত মুখ যেমন পেয়েছি তেমন অনেক নতুন মুখের সাথেও পরিচিত হয়েছি। পরিচিত বন্ধুবান্ধব,সজ্জনসহ কারো কারো বাড়িতেও গিয়েছি। দেখেছি তাদের বাস্তবতার নিরিখে সুশৃঙ্খল গোছানো জীবন। অনেকদিন ধরে নিকটজন যারা ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন তাদের আন্তরিকতা,স্নিগ্ধ ভালোবাসায় মুগ্ধ না হয়ে পারিনি(এই ট্রিপেই ৮ দিনের আমেরিকা সফরে ওখানকার প্রবাসী বাংগালীদের এমন আন্তরিকতা আমি কম অনুভব করেছি)।

এবারের ভ্রমনে আমার ব্যবসায়ীক কাজ ছিল মূলত ম্যাঞ্চেস্টার ও লন্ডনেই। আমি আমার ব্যবসায়ীক কাজ শেষে প্রতিদিন পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাত করেছি,অনেক নতুন বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করেছি,রাত জেগে আড্ডা দিয়েছি। অন্যদিকে ইংলিশ ফুটবলের ভক্ত আমার ছোট ছেলে ম্যান সিটি,ম্যান ইউ ও চেলসিয়ার কোনো খেলা দেখার জন্য মূখিয়ে থাকলেও-দূর্ভাগ্য জনকভাবে ঐ সময় ওদের কোনো খেলা না থাকায় খেলা দেখতে নাপারলেও আমার বুজী, বুজীর বর ও ছেলে-মেয়েদের সাথে(বুজীর বর বৃটিশ,সন্তান দুজনও বাংগালীদেরমতো নাহলেও স্বভাবে, অতিথিপরায়নায় মায়েরমতো বাংগালীয়ানা) এবং অন্য পরিচিতজনদের সাথে চেলসিয়া ও ম্যানসিটির অনূশীলন দেখার সুযোগপেয়েছে। সৌভাগ্যবশত ওর কয়েকজন প্রিয় খেলোয়ারদের অটোগ্রাফ ও ফটোগ্রাফও নিতে পেরেছিল!

আমার কাছে মনে হয়-লন্ডনের উন্নয়ন থেমে আছে বহুদিন যাবত।একথা বলার কারন হলো-২০ বছর পুর্বে যেসব বাড়ি,অফিস যেমন করে খুঁজে পেতাম এখনও সেই একই ভাবে সব বাড়ি,অফিস সহসাই খুঁজে পাই, নতুন স্থাপনা তেমন দেখা যায়না। অথচ আমাদের ঢাকা শহরে কলাবাগান,মোহাম্মদপূর কিম্বা উত্তরাসহ যেকোনো এলাকায় তিনমাস পর গিয়েই আর পুরনো লোকেশন খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়না-নতুন নতুন স্থাপনার কারনে।আমাদের দেশেরমতো এমন দ্রুত পরিবর্তন অন্য কোনো দেশে দেখতে পাইনা বললেই ঠিক বলা হবে।

লন্ডনে প্রচুর বাঙালী বসবাস করে। এদিক-ওদিক বাঙালী পাড়াও আছে। অনেক জায়গাতে এখন নেতৃত্বেও বাঙালীরা। দেখেছি পুরো লন্ডনে তার আশেপাশে বাঙালিরা কীভাবে বসবাস এবং জীবন-যাপন করছে। অনেকেই লন্ডনে যেমন ভালো চাকরি করছেন,অনেকেই ভাল ব্যবসা করছেন। এসব দেখে নিজের বেশ ভালো লেগেছে -এই ভেবে যে আমাদের তরুণরা সেদেশে বসে নেই। সবাই যে-যার মতো জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ। আমরা সবাই জানি আমাদের চেয়ে অনেক অনেক ফাস্ট লন্ডন, আমেরিকা,ইউরোপের লাইফ। অনেকেই বলেন সময়ের সাথে ছকে বাঁধা সবার জীবন। আসলেই তাই- যেখানে সেকেন্ড,মিনিট সময় ধরে দ্রুত চলতে হয়। সময়ের হেরফের করার সুযোগ কম,হেরফের হলেই খেসারত দিতে হয় তাকে। মনে হয় পুরো শহরের মানুষকে কোন একটি অদৃশ্য শক্তি পরিচালনা করছে। দেখেছি রাস্তায় সময়মতো গাড়ি,সময়মতো ট্রেন,সময়মতো অফিস-আদালত আবার ক্যাফে-রেস্টুরেন্টে হৈ-হুল্লা ও খাবার-দাবার। সময়ের সাথে সবকিছুর যোগসূত্র। সময়কে ধরেই প্রতিটি মানুষের জীবনকর্ম নিখুঁতভাবে বিস্তৃত।

এসব দেখে মনে হয় আমাদের দেশে সব উল্টো। মনে হয় আমাদের দেশের মানুষের হাতে প্রচুর সময়। সাতসকালে কতো না মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা সময় অপচয় করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চা পান করে। সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে আয়েশে ধোঁয়া ছোঁড়ে।অসংখ্য নিস্কর্মা মানুষদের রাস্তার ফুটপাতে কিম্বা রিকশা ভ্যানের উপর লুডু কিম্বা নূড়ি পাথর/ইটের টুকরাদিয়ে কোনো একধরনের খেলা ঘন্টারপর ঘন্টা দাঁড়িয়ে দেখে সময় নস্ট করতে দেখি। এরাই রাস্তার পাশে ভন্ড প্রতারক ক্যানভাসারের “পান্ডার তেল” কিম্বা “ধন্বনন্তরী ঔষধ” বিক্রির ক্যানভাস শোনে!এমনকি বান্দরের খেলা দেখে অবাক বিস্ময়ে! আবার এই লোকেরাই গাড়ির জন্যে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। কোথাও যেতে সিএনজি চালকদের কোমলকণ্ঠে পা পর্যন্ত ধরার উপক্রম হয়। এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারব্রিগেড বা অন্যকোন জরুরী সার্ভিসের পরিবহনকে সামনের গাড়ীচালক কোন তোয়াক্কা করে না, দেয় না কোন সাইড। তাতে কোন মুমূর্ষু রোগী থাকুক বা আগুন নিভানোর গাড়ী থাকুক তাতে কারো কিছু আসে-যায় না। আর লন্ডন-একবারেই ব্যতিক্রম। এসব উদ্ভট অবিশ্বাস্য কোনো অত্যাচার নেই। মনে হয় সবকিছু নিজস্ব নিয়মে চলছে। আর সবকিছু সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার রয়েছে প্রতিটি মানুষের।

তবে এতোকিছুর পরেই এই লন্ডন আমাকে খানিকটা বেদনাহত করেছে। লন্ডনের রাস্তায়, রেস্তরায় দেখেছি আমাদের একশ্রেণীর তরুণদের দীর্ঘশ্বাস। যে তরুণরা লুকিয়ে লুকিয়ে চোখের পানি ফেলছে। যে তরুণরা কোনো উপায়ান্তর খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকেই লন্ডন ছেড়ে ইউরোপের এদেশ-ওদেশে যাওয়ার জন্যে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। এই তরুণরা সবাই স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে লন্ডনসহ আশেপাশের শহরে গিয়েছে। একরকম স্বপ্ন নিয়েই তারা লন্ডনে পাড়ি জমালেও সেই স্বপ্নে কালো মেঘের ছায়া জমতে সময় লাগেনি। তরুণদের অনেকের স্বপ্নই তাই ফিকে হয়ে গেছে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে। অনেকেই এখন বুঝতে পারছে না তারা কী করবে। বেকার অবস্থায় বিভিন্ন ডরমেটরিতে গাদাগাদি করে শুয়ে থাকা,কেউ কেউ চুপিচুপি দূরে কোথাও চাকরি করা আর রাত হলে একটি বার্গার অথবা স্যান্ডউইচ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়া,আগামী সেমিস্টারে কলেজের টিউশন ফি দিতে না পারলে কি হবে-এসব বিবিধ চিন্তা নিয়ে কষ্টের জীবনে পরিণত হয়েছে এই স্বপ্ন বিলাসী তরুণদের।

(আগামী পর্বে বাকীটুকু)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29490110 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29490110 2011-11-25 12:00:27
ঢাকা-কলকাতা ভ্রমনের তিক্ত অভিজ্ঞতা
আমাদের বড় ছেলে এসএসসি সমমান পর্যন্ত দিল্লির অদূরে নৈনিতাল কনভেন্ট স্কুলের ছাত্রছিল। ঐ স্কুলের দ্বিশত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্বযাপন উপলক্ষে স্কুলের প্রাক্তন স্টুডেন্ট এবং অবিভাবকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল-যার জন্য ছেলে ছুটি নেয়। সিদ্ধান্ত নিলাম এই সুযোগে আমরা ভারতে যাব এবং সম্ভব অনেকের সাথে দেখা সাক্ষাত করবো। আমরা ভারতে গিয়েছিলাম-কিন্তু ঢাকা কলকাতা আসা যাওয়ার বিড়ম্বনার কথা পাঠকদের সাথে শেয়ার করতেই এই লেখা।

ভিসা সমস্যার কথা বলি। যথা নিয়মে প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস সহ ভারতীয় দুতাবাসে অন লাইনে আবেদন করি।সকল ফরমালিটিজ সম্পন্ন হলে আমাদের পাসপোর্ট/ভিসা ডেলিভারী টোকেন দেয়া হয়। কলকাতা-দিল্লি-নৈনিতালস্থ বন্ধুদের জানিয়েদেই-আমাদের ভারতে যাওয়ার সেডিউল। নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্টে হাতে পেয়ে আক্কেল গুড়ুম! আমাদের ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় কোনো কারন নাদেখিয়েই!

আমার পাসপোর্টে আমেরিকা-বৃটিশ, চায়নীজ, সিংগাপুরের মাল্টিপল ভিসা আছে। গত একবছরে চায়না, জার্মানী, সিংগাপুর ভ্রমন করেছি এবং মাত্র দুই মাস পূর্বে আমেরিকা-ইংল্যান্ড এবং একমাস আগে উজবেকিস্তান, সাউথ আফ্রিকা বেড়িয়ে এসেছি। গত ৩০ বছরে আমি অন্তত ৫০ বার ইন্ডিয়া ভিজিট করেছি। আমার স্ত্রী বছর কয়েক আগে ৩/৪ মাসের জন্য একাধিকবার দিল্লি ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে পড়িয়েছেন, একাধিকবার ভারতসহ ইয়োরোপের অনেকদেশ ভ্রমন করেছেন। আমার বড় ছেলে চাকুরীর সুবাদে বর্তমানে বৃটিশ, হল্যান্ড ও হংকং এর মাল্টিপল ভিসার অধিকারী। আমাদের ছোট ছেলেও বহুবার আমেরিকা-ইংল্যান্ড,জার্মানী, মালয়েশিয়া, চায়না, হংকং ভ্রমন করেছে-যার প্রমান সংযুক্ত পাসপোর্টেই আছে।

ইন্ডিয়া আমাকে যেতেই হবে-তা নয়। কিন্তু কোনো কারন নাদেখিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়া খুবই অপমান জনক! বাধ্য হয়ে আমি আমার ব্যাবসায়ীক পরিচয়ে ভারতীয় দূতাবাসের কমার্স সেক্রেটারীর সাথে দেখা করে বিস্তারিত জানাই। তিনি পূনরায় যথা নিয়মে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমাদিয়ে তাকে টোকেন নম্বর জানাতে বলেন। আমরা তাই করি। আবারো ফ্যাসাদ! নির্দিস্ট দিনে দু’জন ভিসা পাই,ছোট ছেলের পাসপোর্ট ২ দিন পর আর বড় ছেলের পাসপোর্ট আরো ৪ দিন পর দেয়া হবে জানিয়ে ডেলিভারী টোকেনে তারিখ পূণঃনির্ধারন করে দেয়া হয়! উল্লেখ্য, দুনিয়া ব্যাপী আমরা চারজনই 'ডাবল এন্ট্রি ভিসা' পেলেও ভারতীয় দূতাবাস আমাদের ৩ জনকে দেয় 'সিংগেল এন্ট্রি ভিসা'!

এবার শুরু হোক ভ্রমন কাহিনীঃ-

ব্যাবসায়ীক জীবনে সব সময়ই ভারত যাতায়াত করেছি বিমান পথে। ছোট ছেলের ইচ্ছায় এবার সিদ্ধান্ত নেই ট্রেনে কোলকাতা পর্যন্ত যাবো-এবং কোলকাতায় একদিন যাত্রা বিরতি দিয়ে পর দিন '‘রাজধানী এক্সপ্রেস'’এ দিল্লি যাবো। সেমতেই কলকাতার বন্ধু মিঃ মুন্ড্রা কলকাতা-দিল্লিতে হোটেল, ট্রেন রিজার্ভেশন করে রাখেন। ইচ্ছেছিল দিল্লি থেকে বাই এয়ার ঢাকা ফিরবো। কিন্তু বাই এয়ার ফিরে আসার আশা বাতিল হয়ে যায় ‘সিংগেল এন্ট্রি’ ভিসার জন্য।

২০০৮ সনের ৮ এপ্রিল "‘মৈত্রী এক্সপ্রেস"’ নামে ঢাকার সঙ্গে কলকাতার সরাসরি ট্রেন চালু হয়। আগেই জানতাম ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ ছাড়ে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে। বুকিং দেয়ার জন্যে যাত্রার ৫ দিন আগেই লোক পাঠাই স্টেশনে কিন্তু ৩ দিনের বেশী আগাম বুকিং দেয়ার কোনো সিস্টেম নেই মৈত্রী এক্সপ্রেসে। তাও আবার টিকিট কাটতে হবে কমলাপুর থেকে। কমলাপুর স্টেশনের এক কোণে পাওয়া যায় ‘"আন্তর্জাতিক টিকেট কাউন্টার" নামক কাঁচা হাতে বল পেনে বাংলায় সাদা কাগজে লেখা সাইন বোর্ড। কাউন্টার থেকে জানানো হয়-টিকেট ক্রয়ের জন্যে অবশ্যই আগাম প্রয়োজন ভারতীয় ভিসার। শুধু পাসপোর্ট-ভিসাই যথেষ্ট নয়,টিকেট ক্রয়ের জন্যে নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে যাত্রীকে স্বয়ং।

অবশেষে ফর্ম পূরণ করে যাত্রীপ্রতি ১৯১০/- টাকায় প্রথম শ্রেনীর টিকেট কিনি। যেহেতু অজ্ঞাত কারনে বড় ছেলের ভিসা পাবো যাত্রার দিন-তাই ওর পাসপোর্ট নম্বরের ভিত্তিতে আরেকটি টিকেট ইস্যু করার জন্য অনূরোধ জানাই। কিন্তু কঠোর আইনে’র কারণে কিছুতেই টিকেট ইস্যু করতে রাজি হলেন না ইস্যু ক্লার্ক মহোদয়,যদিও ইস্যুকৃত টিকেটের কোথাও ভিসা নম্বর কিংবা এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য নেই। যাত্রার দিন বিকেল সাড়ে চারটায় পাওয়া গেলো বড় ছেলের ভিসাসহ পাসপোর্ট। কিন্তু কমলাপুরের ‘আন্তর্জাতিক টিকেট কাউন্টার’ বন্ধ হওয়ার সময় হচ্ছে ‘বিকেল ৫টা’। যানজটপূর্ণ ঢাকার গুলশান ভারতীয় দূতাবাস থেকে কমলাপুরে ৩০ মিনিটে পৌঁছানো অসম্ভব। অতএব একই পরিবারের ৪ যাত্রীর ৩ জন ট্রেনে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। ‘"যাত্রী-অবান্ধব"’ নীতিমালার কারণে বড় ছেলে বিমানে কলকাতা যায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করে।

সকাল ৭:১৫ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও ৭:৪৫ মিনিটে যাত্রা করলো। কারণ ৭:১৫ হচ্ছে কমলাপুরের টাইম,মানে ট্রেন ঢাকা ক্যান্ট. থেকে ছাড়লেও সময় দেখানো হয়েছে কমলাপুর থেকে ছাড়ার! অবশেষে ২৩৬ আসনের ট্রেনটি মাত্র ৬০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করলো কলকাতার উদ্দেশ্যে। ১০ মিনিট চলার পর টঙ্গীর কাছে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ হিসেবে গার্ড জানালেন ‘'নোয়াখালী লোকাল’'কে পাস দিতে ‘মৈত্রী’ ট্রেনটি দাঁড়িয়ে আছে। মানে আন্তর্জাতিক একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে,লোকাল একটি ট্রেনকে ‘অগ্রাধিকার’ দিতে। পথে পথে নানা স্থানে আরো বেশ ক’বার ট্রেনটি থামে একই কারণে। ঈশ্বরদি গিয়ে ১০-১৫ মিনিট থেমে থাকে ট্রেনটি "‘তেল/পানি"’ নেয়ার জন্যে,যদিও সেখান থেকে কোনো যাত্রী উঠতে কিংবা নামতে দেয়া হয় না। অবশেষে দর্শনা পৌঁছলে সকল যাত্রীকে সঙ্গে থাকা সব মালপত্র নিয়ে নামতে হয় কাস্টম চেকিংয়ের জন্যে,যদিও ট্রেনে ওঠার আগেই মালপত্র স্কানিং করে ট্রেনে তোলা হয়েছিল। ট্রেনটি প্লাটফর্মের চেয়ে বেশ উঁচু হওয়ার কারণে যাত্রীদের নিজ উদ্যোগে মালপত্র নিয়ে কাস্টম হলে গিয়ে ‘চেকিং’ করিয়ে আবার ট্রেনে ওঠা খুবই বিরক্তিকর ও ঝামেলাপূর্ণ।
বাংলাদেশ বিড়ম্বনা পর্বের পর শুরু হয় ভারত বিড়ম্বনা পর্ব। ট্রেনটি বিশাল খাঁচার ভেতর দিয়ে ভারত তথা ‘"গেদে"’ স্টেশনে প্রবেশ করে। গেদে-তে ইমিগ্রেশন শেষে সব যাত্রীকে ভারতীয় কাস্টমের কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়,জবাব দিতে হয় নানাবিধ প্রশ্নের। পরীক্ষা পাসের পর সব যাত্রীদের গেদের একটি কক্ষে যুক্তিহীন কারণে গাদাগাদি করে ২ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ট্রেনটি 'ছাড়ার ‘টাইম'’ হওয়ার জন্যে-অথচ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনেই আমরা উঠে আড়ামে অপেক্ষা করতে পারতাম। ইমিগ্রেশন-কাস্টম শেষ হলেও কোনো যাত্রীই ‘গেদে’ থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যেতে পারে না-সেই যাত্রীর গন্তব্য গেদে কিংবা এর কাছাকাছি হলেও,তাকে কমপক্ষে ১১৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কলকাতা চিত্পুর স্টেশনে নেমে আবার ফিরে আসতে হয় অন্য উপায়ে!

দিল্লি থেকে আবার ফিরে আসি কলকাতা। কলকাতা থেকে ট্রেনে ঢাকা ফেরার টিকেট কিনতে যাই ‘"ফেয়ারলি প্যালেস/হাউস"’। কাউন্টারের ভদ্রমহিলা ডাউশ সাইজের ইংরেজি-হিন্দি বাই ল্যাঙ্গুয়াল ফর্ম পূরণ করতে বলেন যথারীতি প্যাসেঞ্জারের স্বাক্ষরসহ। ৪টি ফরম পূরণ করে যাত্রীর স্বাক্ষর হোটেল থেকে করিয়ে পাসপোর্টসহ জমা দিলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়,টিকেট ক্রয়ের জন্যে ৪ যাত্রীর সশরীরে উপস্থিতি কিংবা ‘'লেটার অব অথরিটি' লাগবে টিকেট কেনার জন্যে,মানে কলকাতার “"হয়রানী কুআইন”" ঢাকার চেয়ে এক ডিগ্রি ওপরে। একটি কুপে ৪-৬টি সিট থাকলেও,হয়রানিমূলকভাবে ৪টি সিট দেয়া হয় দুটো বগীর ৩টি কুপে! অনেকক্ষণ খ্যাচাখ্যেচি করেও টিকেট চেঞ্জ করে একত্রে বসার টিকেট পাইনি।

ঢাকা থেকে প্রথম শ্রেনীর ভাড়া ১৯১০/- টাকা হলেও,ভারতীয় মুদ্রায় ভাড়া নেয়া হয় ৮৬৮ টাকা,যা বাংলাদেশি ১১০০/- টাকারমত। একই ট্রেনে দু’দেশে দু’ রকম ভাড়া! ৭টা ১০-এ ‘ডিপারচার’ টাইম থাকাতে সাড়ে ছয়টায় কলকাতা স্টেশনে পৌঁছে ট্রেন কোথায় জানতে চাইলে ট্রেনের এক পাতি কর্তা আঙুল উঁচিয়ে দেখায়- প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের ট্রেনকে,যদিও প্রবেশ মুখেই প্লাটফরম খালি। যাত্রীরা তাদের ভারী লাগেজপত্র নিজে কিম্বা মাস্তান কূলিদের দ্বারা নিতে বাধ্য ১ কিঃমিঃ দূরের ঢাকাগামী ট্রেনের উদ্দেশে। স্কানিং ও সিকিউরিটি চেক শেষে মালপত্রসহ ট্রেনে ওঠার পর প্যাসেঞ্জার লিস্ট দেখি- ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা মাত্র ৪৫ জন! আমরা শুয়ে বসে সেই ‘গেদে’ পৌঁছে পরতে হয় আরেক পরীক্ষায়। বড় ছেলে বিমানে গিয়ে ট্রেনে আমাদের সহযাত্রী হওয়াতে ‘গেদে’র ইমিগ্রেশন অফিসার এটিকে ‘মারাত্মক অনিয়ম’ হিসেবে গণ্য করলেন-যদিও ওর ডাবল এন্ট্রি ভিসা। ইমিগ্রেশন অফিসারটি অনেক্ষণ ছোটাছুটি, কাঁইকুঁই করে সুবিধা করতে নাপেরে অন্যদিকে তাকিয়ে সীল মেরে পাসপোর্ট ফেরত দেয়। আবার গেদে স্টেশনে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা। এভাবে বিড়ম্বনার ক্রমানুসারে গেদে,দর্শনা,ঈশ্বরদির পর ‘আন্তর্জাতিক ট্রেনটি’র যাত্রীরা রাতের ‘ভুতুড়ে’ অন্ধকারে’(লোডশেডিং) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছেন।

আমি মনেকরি-এই মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ‘যাত্রীবান্ধব’ করা কোনো কঠিন কাজ না। টিকেট বিক্রির জন্যে পাসপোর্ট-ভিসার বাধ্যবাধকতা সম্পুর্ণ অযৌক্তিক। কোনো যাত্রী যদি টিকেট ক্রয়ের পর ভিসা জটিলতায় না যেতে পারে সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট টাকা কেটে রেখে বাকি টাকা ফেরত দিলেই আগাম টিকেট দেয়া যৌক্তিক। তা ছাড়া ‘ওপেন টিকেট’ কিংবা যাত্রার পূর্ব মূহূর্তে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে তাত্ক্ষণিক টিকেট ইস্যু করা খুবই সহজ। স্কানিং করে মালপত্র তোলার পর তা চেকিং-এর নামে পুনরায় দর্শনা বা গেদে-তে নামানোর যৌক্তিকতা কী? প্রয়োজনে বিমানের মতো যাত্রীদের ‘লাগেজ’ টোকেন দিয়ে আলাদা করে ‘গুডস ভ্যানে’ রাখা যেতে পারে। ইচ্ছে থাকলে সহজেই হতে পারে ট্রেনের ভেতরে ‘চলমান ইমিগ্রেশন’ ও চেকিং। আর ইমিগ্রেশন যেহেতু বাংলাদেশে ও ভারতের শেষ স্টেশন অর্থাত দর্শনা ও গেদে-তে হচ্ছে,তাহলে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল,ঈশ্বরদি থেকে যাত্রী উঠলে কিংবা টাঙ্গাইল-ঈশ্বরদির যাত্রীকে ঢাকা স্টেশনে এনে পুনরায় ঈশ্বরদি পাঠানো কোন্ যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য? বরং ঈশ্বরদি, সিরাজগঞ্জের যাত্রীদের ঢাকা পর্যন্ত টেনে নাএনে পথেই ওদের ড্রপ করার উদ্যোগ নিলে যাত্রী বান্ধব হবে। একই যুক্তি ভারতের বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীদের জন্যেও।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29487491 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29487491 2011-11-21 14:07:55
সাইবার ক্রাইম? নাকি সত্যানুসন্ধান?
গত ০৭/১১/২০০১১ইং তারিখে নিজ নিজ ইমেইল খুলে চমকে উঠলেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কর্মীরা। একটি বার্তা। পাঠানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির টপ ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সবাইকে। প্রেরকের নাম: Independent WatchDog
বার্তায় ঢাকা ক্লাবে ঈদের আগের রাতে ককটেল পার্টি, ম্যানেজিং এডিটর সামসুর রহমান মোমেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রধান মাহবুব আর ভারতীয় নাগরিক বিশ্বজিত বর্কাতিয়া সম্পর্কে নানা ধরণের মন্তব্য করা হয়েছে। ইংরেজী ভাষায় পাঠানো এই বার্তা যদি সত্যি হয় তাহলে তা সত্যিই খুব দু:খজনক। যদি এই বার্তা কারো ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য করা হয় তাহলে তার তদন্ত হওয়া উচিত। আর সত্য হলে দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। তবে, সে রাতের পার্টিতে উপস্থিত কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তাটির পক্ষে অবস্থান নিলেও চাকরী হারানোর ভয়ে মুখ খুলছেন না।
সামহোয়্যারইনব্লগের পাঠকদের জন্য বার্তাটি হুবহু তুলে দিলাম।

Dear Sir,

The Vodka-Beer Party *at Dhaka Club hosted by *Shamchu Mia (ME) and Mahbub Bhuya* (HR) could not repair the relationship amongst ITV employees.

The story is really interesting since, we had lavish drinks and luscious dance party at Dhaka Club. True example of our Bengali-Muslim culture right before the holy Eid.We are happy to let you know that your Independent Television has caught the incurable disease *"MOMEN-MAHBUB FOBIA" *.

Finally we could successfully place our two best Meer-Zafors in your TV Channel Independent Television. The two apparent loyal dogs (Mahbub and Momen) have created the fobia in the minds of your Independent Employee and they are no longer as strong as they were before.

Momen's unprofessional behaviour with colleagues and HR Head Mahbub's rudeness have created a new example of your Corporate Culture. Now you can do anything and keep your job and career as long as you are in the good books of Momen and Mahbub.

You do not have to do any work in Independent Television.
The new CNE, Khaled Moinuddin, a young dynamic person is doing excellent since he did his show at Narayanganj. Khaled is undoubtedly a talent and deserve the position of Executive Editor/ Managing Editor. *Mr. Borkataky*, an independent Head, enjoying our anchors both day and night.
Being an Indian, he has the fruits ... Shamchu and Mahbub gets 2nd hands. Another dependency of Independent to the Indians.

We guarantee, in next three months, we will smash your dreams in ITV, if you kindly allow our *Meer-Zafors* in your home, ITV.

Sincerely,

Independent WatchDog

Dhaka
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29484464 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29484464 2011-11-16 16:41:32
বাবা আদম মসজিদ
মধ্যযুগে বাংলার রাজধানী গৌড় থেকে অনেক দূরে ছিল আধুনিক মুন্সিগঞ্জ জেলা। জেলার প্রাচীন হিন্দু বসতি রামপাল উপজেলায় মধ্যযুগীয় মুসলিম ঐতিহ্যের একমাত্র প্রতিনিধি বাবা আদম মসজিদ। মসজিদটি পরবর্তী সময়ে সংস্কার করা হলেও এর আদিরূপ উত্তমভাবেই সংরক্ষিত হয়েছে বলে ধারণা হয়। স্থানীয় সুফি বাবা আদমের নামানুসারে মসজিদটি বাবা আদম মসজিদ নামে পরিচয় লাভ করে। জনশ্রুতি মতে, সুফি বাবা আদম মসজিদের পাশে একটি অতি সাধারণ সমাধিতে শায়িত রয়েছেন। মসজিদটি প্রাথমিক ইসলামী যুগের ছয় গম্বুজ মসজিদের প্রতিনিধিত্ব করে। জেলার মীর কাদিম থেকে প্রায় এক মাইল দক্ষিণে ও বল্লালবাড়ি থেকে প্রায় এক মাইল উত্তর-পশ্চিমে মসজিদটি অবস্থিত।

সাধারণ আয়তাকার মসজিদটি অভ্যন্তরভাগে ৬.৬৪ মিটার * ১০.২৩ মিটার পরিমাপের। মসজিদের চারপাশের দেয়ালগুলো ১.৮৫ মিটার প্রশস্ত। ইমারতের চারকোণে চারটি অষ্টকোণা টারেট রয়েছে। এগুলো রীতিবদ্ধভাবে কার্ণিশের সীমাতেই সমাপ্ত। এখানে পূর্বদেয়ালের তিনটি প্রবেশপথ ব্যতীত অপর কোন প্রবেশপথ নেই। মসজিদের মেঝে ভূমি থেকে কিছুটা উপরে। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের সাথে তিনধাপের একটি সিঁড়ি দিয়ে ভূমি থেকে মেঝেতে প্রবেশ করা যায়। পূর্ব দেয়ালের তিনটি প্রবেশপথ বরাবর ছন্দায়িতভাবে কিবলা দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে পূর্ব ও পশ্চিম কোণা চাপিয়ে সমান্তরালভাবে চারটি কুলুঙ্গি রয়েছে। ইমারত অভ্যন্তরে গ্রানাইট পাথরে নির্মিত দু’টি স্তম্ভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্তম্ভ দু’টি মেঝে থেকে চার ফুট পর্যন্ত অষ্টকোণাকার এরপরে ষোল কোণা। এ দু’টি স্তম্ভ ও চারপাশের দেয়ালের ওপর মসজিদের ছয়টি গম্বুজ সংস্থাপিত। গম্বুজগুলো সুলতানী আমলের সাধারণ ক্ষুদ্রায়তনের ও অনুচ্চ। গম্বুজ শীর্ষে তিন স্তরের একটি ক্ষুদ্র নির্মাণ দেখা যায়। কালের যাত্রায় মসজিদের কয়েকটি গম্বুজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর তা নতুন করে নির্মাণ করে। মসজিদের কার্নিশগুলো দু’ধারে কিছুটা বক্র হয়ে নেমে গেছে।

এক সময় মসজিদটি টেরাকোটার চমৎকার অলঙ্করণ সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কারে এর অনেক নকশা হারিয়ে গেছে বলে জানা যায়। ইমারতের সমগ্র কার্নিশে ব্যান্ডের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খোপ নকশা স্থান পেয়েছে। চারকোণার টারেটগুলোর নিম্নাংশ কেন্দ্র করে দেয়ালে ব্যান্ড ও খোপ নকশা রয়েছে। মসজিদের পূর্ব ফাসাদে প্রবেশপথের শীর্ষে খোপ নকশা ও ইট খোদাই নকশা স্থান পেয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের দু’পাশে টেরাকোটার ছন্দায়িত চিত্রফলক দেখা যায়। মসজিদের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের শীর্ষে সংস্থাপিত একটি শিলালিপি অনুসারে ১৪৮৩-৮৪ সালে সুলতান জালালউদ্দিন ফতেহ শাহুর আমলে মালিক কাফুর নির্মাণ করেন। মসজিদের পাশেই ২৫ ফুট বাহুবিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইটে নির্মিত ঢিবি বাবা আদমের মাজার বলে কথিত। এ মসজিদ ও মাজার নিয়ে নানারকম জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

জানা যায়, বাবা আদম রাজা বল্লাল সেনের রাজত্বকালে (১১৫৮-৭৯) বিক্রমপুরে ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন। কোন এক পর্বে বাবা আদমের জবাইকৃত গরুর মাংসের একটি টুকরা চিল রাজবাড়িতে ফেলে দিলে গরু জবাই বিরোধী রাজা ক্রোধান্বিত হয়ে স্বসৈন্যে ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযানে আসেন। তিনি বুকের মধ্যে কাপড়ের নিচে একটি কবুতর নিয়ে নেন। যদি তিনি যুদ্ধে পরাজিত হন তবে কবুতরটি রাজবাড়িতে এসে সংবাদ দিবে, আর অন্তঃপুরীর নারীরা ম্লেচ্ছদের হাত হতে ইজ্জত বাঁচানোর জন্য রাজবাড়ির নিকটস্থ কুন্ডের আগুনের মধ্যে আত্মাহুতি দিবে। রাজা দরবেশের নিকটে এসে দেখলেন, তিনি গভীর তপস্যায় মগ্ন। রাজা তরবারির এক আঘাতে দরবেশের ভবলীলা সাঙ্গ করলেন। তিনি মনের আনন্দে দরবেশের রক্ত শরীর থেকে পরিষ্কার করার জন্য নিকটবর্তী নদীতে নামলেন। এ সময় তার বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা কবুতরটি হঠাৎ ছাড়া পেয়ে রাজবাড়িতে উড়ে যায়। রাজা কবুতরের পিছনে পিছনে সবেগে দৌড়িয়েও কবুতরটির নিকটে আসতে পারেননি। রাজবাড়িতে এসে রাজা তার পরিবারের কাউকে অবশিষ্ট পাননি। তারা সবাই আগুনে আত্মাহুতি দিয়েছে। মনের দুঃখে রাজাও তাদের অনুসরণ করলেন। ফলে সেখানে মুসলমান রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

রাজা বল্লাল সেন ১১৭৯ সালে মারা গেলে তার পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১২০৬ সাল পর্যন্ত বিক্রমপুর অঞ্চলে রাজত্ব করেন। এরপরে লক্ষ্মণ সেনের একপুত্র বিশ্বরূপ সেন ১২২০ সাল পর্যন্ত ও আর এক পুত্র কেশব সেন ১২২৩ সাল পর্যন্ত বিক্রমপুরে রাজত্ব করেছিলেন বলে শিলালিপিতে প্রমাণ পাওয়া যায়। লক্ষ্মণ সেন অবশ্য ১২০৫ সালে গৌড়ের সিংহাসন হারিয়েছিলেন। ১২৪৫ সাল পর্যন্ত সেন বংশীয় নৃপতিগণ বিক্রমপুরে রাজত্ব করেছিলেন বলে মিনহাজ ‘তবাকাত-ই-নাসিরি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাই এতসব নির্ভরযোগ্য প্রমাণের পর রাজা বল্লাল সেনের সময় বিক্রমপুরে বাবা আদমের আবির্ভাব ও বল্লাল সেনের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কিত কাহিনী প্রমাণ করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।

মূলত শিলালিপি সূত্রে নিশ্চিত যে, আলোচ্য মসজিদটি উল্লেখিত জনশ্রুতিতে তিন শতাধিক বছর পরে নির্মিত হয়েছে। মসজিদে প্রাপ্ত শিলালিপিতে বাবা আদম শহীদের কোন উল্লেখ নেই, উল্লেখ নেই কোন মাজারেরও। শুধু জনশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই এই কল্পকাহিনী যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রয়েছে। জনশ্রুতি যাই থাক, তার গুরুত্ব যতটুকুই হোক কিন্তু বাংলার মুসলিম ধর্মীয় ইমারত হিসেবে এ মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম।


(আমার এই লেখাটি ইতিপূর্বে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়েছিল। ইত্তেফাকের শব্দ রীতিমত লিখেছিলাম-যা এখানেও পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং পরিমার্জন করা হয়নি)

***ব্যস্ততার জন্য পাঠকদের মন্তব্যের জবাব যথা সময়ে দিতে পারবোনা-তাই কোনো মন্তব্য নিচ্ছিনা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29447545 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29447545 2011-09-13 20:56:23
রেল জাদুঘরঃ নিসর্গ আর ইতিহাস একসাথে
রেলওয়ে জাদুঘর। শুনতেই চমক লাগে। তাও গোটা দেশে একটি। কি কি আছে রেলওয়ে জাদুঘরে ! যেহেতু রেলওয়ে জাদুঘর, সেহেতু রেল সংশ্লিষ্ট বিষয়টিই এখানে ঠাঁই পাবে-এটাই স্বাভাবিক। রেলের যান্ত্রিক বিবর্তন, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এর রূপান্তর- সবকিছু এক সাথে চোখের সামনে উপস্থিত হয় চার দেয়ালে ঘেরা ছোট্ট এই জাদুঘরে।

নগরীর পাহাড়তলী থানার রেলওয়ে ওয়ার্কশপের কাছেই রেলওয়ে জাদুঘরের অবস্থান। দক্ষিণমুখী এক ব্যতিক্রমী নকশার কাঠের বাংলোয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এই জাদুঘর। জাদুঘরের মূল গ্যালারিতে ঢুকতেই ফটকের ওপর ড্রাগন খোদিত কাঠের গেটে ইংরেজি হরফে লেখা আছে বাংলোর নির্মাণ কাল। ১৮৯৪ সালে এ বাংলো নির্মাণ করা হয়। ধারণা করা হয়, এখানে রেলওয়ে ভবনগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে পুরানো। এই দ্বিতল ভবনটির চতুর্পার্শ্বের পরিবেশও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

রেলওয়ে জাদুঘরে রেলের যন্ত্রপাতি ৪ ভাগে ভাগ করে রাখা হয়েছে। চারটি বিভাগে যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার মধ্যে বাম দিকের গ্যালারিতে আছে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে (এবিআর), ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে, ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন মনোগ্রাম। একই সাথে রোলিং স্টাকে ব্যবহৃত কালার শেড, ইঞ্জিনের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও প্রতিরোধক ডিভাইস, ওভার স্পিড ট্রিপ ডিভাইস গভর্নর, ইঞ্জিন গভর্নর ইত্যাদি। রেলের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মধ্যে, ফুট প্যাডেল, ডেডম্যান লোকোমোটিভ সেফটি ডিভাইস, ডেডম্যান, এলার্ম বেল স্পিডোমিটার, ডেডম্যানলিলিপুট ডায়নামো, বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্প যেমন- রিনিং ল্যাম্প, ঝাড়বাতি, ফ্যান্সি লাইট, গেইট ল্যাম্প, টেবিল ল্যাম্প, টেইল ল্যাম্প, সাইড ল্যাম্প, হ্যান্ডমিনাল ল্যাম্প। সংরক্ষণ করা হয়েছে রেলওয়ে গার্ডদের লুপস্টিক, ডেটিং মেশিন, পিতলের ব্যাজ, স্টেশন মাস্টার ক্যাপ, গার্ডবোট, উভেন পার, বক কংক্রিট পার, হ্যামার, রেলগেজ এমজি, বারক্রো, বারক্রো সুইং, বোর্ড লেবেল, বিভিন্ন পিচ পেট, বারকো পেইন রাউন্ড, স্পেশাল বিটার, হ্যামার, হ্যান্ড সিগনাল ফ্ল্যাগ, ফ্লেকসো মিটার, রক ব্যালাস্ট ইত্যাদি ।

পয়েন্ট টাইমিং মিটার, মোর্স কি উইথ সাউন্ডার, আর্ক লিভার, কন্ট্রোল কি, কি বক্স, সিগনাল আর্ম, টুলবক্স, টেবলেট, কয়েকধরনের সিগনাল রিভার্সার ,পয়েন্ট মেশিন, বিভিন্ন ধরনের এনালগ টেলিফোন, রোডল টেলিফোন ,রেডিও ট্রান্সমিটার, রেডিও রিসিভার ইত্যাদি সংকেত বিভাগে সংরক্ষিত যন্ত্রপাতি।

প্রকৌশল ও ট্রাফিক বিভাগে আছে-ভেনসোমিটার, থার্মোমিটার, মেজারিং ক্যান,স্প্যানার সিঙ্গেল, অ্যাডেড বারটমি, মনোরেল হুইল বোরো প্যাকিং লেভেল, প্যান পুলার, ক্যান-এ-বাউল ইত্যাদি।

এখানে ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে আছে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক তথ্য। ৩০ মে রাতে সেনা অভ্যূত্থান ঘটানোর আগে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সব ধরনের টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা। তখন রেলওয়ের রেডিও ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে এই খবর ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। যে রেডিও ট্রান্সমিটারের সাহায্যে এই খবর প্রেরণ করা হয়েছিল তাও এ জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জানা গেছে ১৯৩০ সালের যুববিদ্রোহে রেলওয়ের যে ইংরেজ পুলিশ কর্মচারীদের ব্যারাকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার অভিযান চালিয়েছিল তার কিছু নমুনা সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও তা এখনও পর্যন্ত জাদুঘরে রাখা যায়নি। চট্টগ্রাম রেলওয়ে জাদুঘরে দৈনিক ৭০/৮০ জন দর্শনার্থীর আগমন ঘটে ।

এখানে সংরক্ষিত রেলের যাবতীয় যন্ত্রপাতির কাজ সম্পর্কেও বর্ণনা দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে জাদুঘরটি খোলা থাকে। সব দর্শনার্থীর জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত।

জাদুঘরের ভিতরের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। দক্ষিণমুখী এ জাদুঘরটি একটি অনুচ্চ পাহড়ের উপর অবস্থিত। লম্বা সিঁড়ি বেয়ে উঠলে ভাঙ্গাচোরা গেটের অবয়বে দুটি পিলার। একটি পিলারে একটি বাঘের ভাস্কর্য। তারপর ছোট আঙ্গিনা অতিক্রম করেই জাদুঘরের ফটক । ঢুকলে হাতের বামে কর্তব্যরত কর্মচারী। ডান পাশে একটি রেলের মডেল। আর সামনের রুম থেকে জাদুঘরের প্রদর্শনের জন্য রাখা জিনিসপত্র। সামান্য ইতিহাসও আছে রেলওয়ের মনোগ্রামে। অর্থাৎ ব্রিটিশদের সময় থেকে বাংলাদেশ সময় পর্যন্ত রেলওয়ের বিভিন্ন মনোগ্রাম। তবে এখনও পর্যন্ত গাইড রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি।

জাদুঘরের মনোরম নৈসর্গিক দৃশ্য
বিস্তৃত খালি জায়গাও আছে। নগরী থেকে পাহাড়তলির পথও কম নয়। তাছাড়া এ জাদুঘর এখনও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এক চক্করেই জাদুঘর দেখা শেষ। তাই জাদুঘরের বাইরে খালি জায়গায় মনোরম একটি পার্কও গড়ে তোলা যায়। তাতে দর্শকের পাওনাটা ভারি হবে। অন্যদিকে নগরী থেকে সম্পূর্ণ কোলাহলমুক্ত পরিবেশে চমৎকার পার্কও গড়ে তোলা যেতে পারে। এ ব্যাপারে রেলওয়ের এডিশনাল চীফ ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী আকন্দ(প্রকল্প) বলেন ,পার্ক গড়ে তুলতে পারলে দর্শনার্থীদের বিনোদনের সুযোগটা বাড়ত। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের কারণে জাদুঘরটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন যাতে আরও পরিকল্পিতভাবে জাদুঘরকে সাজানো যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29445954 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29445954 2011-09-10 21:35:11
উল্লুক বনাম সৃস্টির শ্রেষ্ঠ জীব আশরাফুল মকলুকাত!
গত ২৩/৮/২০১১ ইং মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাসান মাহমুদের পক্ষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান "বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ) বিল-২০১১" সংসদে ২য় বার উত্থাপন করেন। ইতিপূর্বে উত্থাপিত বিলটি সম্পর্কে প্রতিবেদন চেয়ে তা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। সংসদীয় কমিটি এই বিল পর্যালোচনা করে ইতিবাচক সম্মতি প্রদান করে। ফলে এখন বিলটি আইনী মর্যাদা পেতে আর কোনো অসুবিধা নেই।

এই বিলের উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে-বাঘ বা হাতি মারলে ১২ বছর কারাদণ্ড এবং এই শাস্তির সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে চিতা বাঘ, লাম চিতা, উল্লুক, সাম্বার হরিণ, কুমির, ঘড়িয়াল বা ডলফিন মারলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা অর্থাৎ উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। পাখি বা পরিযায়ী পাখি মারলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড দেওয়া হবে।

সংসদে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে দেশ থেকে গন্ডার, বুনো মহিষ, বারসিঙ্গা, নীলগাই, বন ছাগলসহ অনেক প্রজাতি হারিয়ে গেছে। এইউসিএনের রেড ডেটা বুক (২০০০) অনুসারেও আট প্রজাতির উভচর, ৫৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪১ প্রজাতির পাখি ও ৪০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী বিপদাপন্ন ও বিলুপ্ত প্রায়।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, যেকোনো সরকারি বনভূমিকে ইকোপার্ক, সাফারি পার্ক ও উদ্ভিদ উদ্যান বা ক্ষেত্র, বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষনা করা যাবে। এ ছাড়া সরকারি বন, সরকারি ভূমি, জলাভূমি বা যে কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা যাবে। অভয়ারণ্যে কেউ চাষাবাদ, শিল্প কারখানা স্থাপন, উদ্ভিদ আহরণ ও ধবংস করতে পারবে না। করলে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হবে।

লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি কারও কাছ থেকে বন্য প্রাণী, বন্য প্রাণীর কোন অংশ, মাংস, ট্রফি বা কোনো দ্রব্য কিনলে সর্বোচ্চ এক বছর রাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।

এবার দেখাযাক গাড়ি চাপাদিয়ে মানুষ মারলে কি শাস্তি হয়ঃ বাংলাদেশ পেনাল কোড ৩০৪, সেকশন-১(সংশোধিত), ১৯৮৮ অনুযায়ী গাড়ি চাপায় মানুষ মারাহলে গাড়ির চালকের সর্বচ্চ তিন বছরের কারাদন্ড! উল্লেখ্য যে, ১৯৮৮ সনের পূর্বে বাংলাদেশ পেনাল কোড ৩০৪,মূল অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী গাড়ি চাপা/দূর্ঘটনায় সর্বচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ড/যাবতজীবন এবং ১৪ ও ৭ বছরের শাস্তির বিধান ছিল। কিন্তু তখন বর্তমান নৌ পরিবহন মন্ত্রী ঘাতক ড্রাইভার্স সমিতির নেতা হিসেবে সর্বচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল দাবীকরে অনির্দিস্টকাল পরিবহন ধর্মঘট(হরতাল) করে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থা বন্ধ করেছিলেন। তখন এরশাদ সরকার বাধ্য হয়েছিলেন বিদ্যমান আইনটি পাশ করতে!

সার সংক্ষেপঃ একটি উল্লুক মারলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানার দণ্ড দেওয়া হবে। একটি উল্লুকের জীবনের চাইতেও মানুষের জীবনের মূল্য কম! মানুষ মারলে ৩ বছরের জেল! অর্থাৎ টাকার মানে একটি উল্লুক থেকেও মানুষের জীবনের মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা কম!

হায় সেলুকাস! সত্যজিত রায়ের বিখ্যাত চলচিত্র হীরক রাজার দেশেও কি এমন কোনো কুআইন ছিল?

জয় বাবা ফেলুনাথ!!!


(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১১)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29442802 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29442802 2011-09-04 12:56:28
ঈদ বিষাদঃ
ঈদ আমার কাছে খুব আনন্দের বিষয় নয়। আমি যখন শিশু-কিশোর ছিলাম, তখনকার ঈদটা ছিল একেবারেই তিক্ততা পূর্ণ। আমার মনে আছে, ঈদের কয়েকদিন পুর্বেই যেখানে আমার দুই স্টেপ ব্রাদার এবং অন্যান্য কাজীনেরা ঈদের নতুন কাপড়, জুতার ভালো-মন্দ নিয়ে কম্পেয়ার করতো-তখন পর্যন্ত আমরা দুই ভা ই বোন জানতেই পারতামনা আমাদের দুজনের জন্য আব্বা কি কাপড় চোপড় পাঠিয়েছেন(আমার আব্বা চাকুরী সূত্রে পঃ পাকিস্তানে থাকতেন। আমাদের বাড়ীতে থাকতেন স্টেপ মাদারের স্বপরিবার একবোন এবং আমার স্টেপ মাদারের আগের ঘরের দুই সন্তান-যারা আমার থেকে ১২ এবং ১০ বছরের বড। আমার বুবু আমার থেকে ৭ বছরের বড়। ঐ খালাই মুলত আমাদের স্থানীয় অবিভাবকের নামে আমাদের দুই ভাই বোনের উপর নির্যাতন করত)! ঈদের দিন খুব সকালে স্টেপ ব্রাদার্স-কাজীনেরা মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক আচকান পরে সেজেগুজে ঈদগাহে চলে যেত-তারপর আমার আর বুবুর জন্য আব্বার পাঠানো নতুন কাপড় দেয়া হতো! সেই শিশু বয়সেই আমি কস্টে-ক্ষোভে ঈদের নতুন কাপড় পড়তামনা। আমি ছেলে বেলা থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি কিন্তু আমি ঈদের নামাজ পড়তামনা কিম্বা কদাচীত ঈদগাহে যেতাম একা- এবং পুরনো কাপড় পরেই। ঈদের নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরতাম অনেক দেরি করে-কারন আমার বাড়ি ফেরার কোনোই তাগিদ ছিলনা। বাড়িতে ফিরলেই দেখতাম স্টেপ ব্রাদার্সদের খাওয়ার জন্য জোরাজুরি। এটা খাও, ওটা খাও বলে জোর করে খাওয়ানো হতো।তখন আমি আর বুবু ক্ষুধা নিয়ে অপেক্ষা করতাম-কখন আমাদের খাবার দেয়া হবে। আমার সামান্য জ্ঞান হওয়া অবধি আমি কোনোদিন ঈদ/কোরবানীর কোনো খাবার খাইনি!

এমনি করতে করতেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলো। ২৫ মার্চের কালো রাতেই ঢাবির ইংরেজী অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আমার ছোট মামা (সেজান) ততকালীণ ইকবাল হলে আরো অনেকের সাথে শহীদ হন। পরের দিন আমার বড় মামা ঢাকা জেলা মুখ্য হাকিম(দায়রা জজ) ইকবাল হলে সেজান মামাকে খুঁজতেগিয়ে শহিদ হন! স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগেই আমার দুই স্টেপ ব্রাদার তারা ৭ মার্চ বংগবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনের পর অন্য সব ছাত্র যুবকদেরমত আমাদের এলাকায় বন্ধুদের নিয়ে পাক বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে দল গঠন করে এবং ঘরে ঘরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়েছিল। ২৬ মার্চ আমাদের ঢাকার বাড়ি পাক বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এমন এক পরিস্থিতিতে আমার বুবু বড় মামার ঝিগাতলার বাডিতে, আমি তখন ঝিনেদাহ ক্যাডেট কলেজে, আমাদের পরিবার(সদ্য পাকিস্তান ফেরত স্টেপ মাদার, ব্রাদার্স,তাদের খালাসহ আরো অনেকে) প্রথমে কেরানীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর হয়ে বরিশাল,সেখান থেকে মঠবাড়িয়া-বামনা এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।নিরাপত্তার জন্য ক্যাডেট কলেজ থেকে সকল ক্যাডেটদের ছুটি দেয়াহলে-আমি প্রথমে বাগেরহাট, চিতলমারী হয়ে ঢাকা ফিরে নিজ পরিবার কিম্বা আত্মীয় স্বজন কাউকে নাপেয়ে কুমিল্লা,চাঁদপুর,বরিশাল হয়ে মঠবাড়িয়া-বামনা পৌঁছি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। ঐ এলাকা আমার দাদা বাড়ি-যেখানে আমাদের বেশ কিছু ল্যান্ড প্রপার্টিসহ অন্য সম্পত্তি আছে। যা দেখাশোনা করতেন মূলত দুরসম্পর্কের আত্মীয় এবং পেশাদার কেয়ার টেকার।

মুক্তি যুদ্ধের শুরুতেই ততকালীন পটুয়াখালী জেলার বামনা থানার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্যাপ্টেন শাজাহান ওমর(বীর উত্তম, যিনি আমার ছোট চাচার সহকর্মী এবং আমি তাঁকে চাচা ডাকি), ক্যাপ্টেন মেহেদী আলী ইমাম(বীর বিক্রম) এর নেতৃত্বে স্থাপিত হয় মুক্তি যুদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্প। মালিকানা সূত্রে এলাকায় আমাদের প্রতিপত্তি ভালই! ইতোমধ্যেই আমার এক স্টেপ ব্রাদার যিনি মাত্র কিছুদিন পূর্বেই ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে পাশ করে সেনা অফিসার হিসেবে রিক্রুট হয়ে পাকিস্তানের মিলিটারী একাডেমী কাকুল যাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন-তিনি এবং তার ছোট ভাই যিনি ক্যাডেট কলেজ থেকে সবে এসএসসি পাশ করেছেন-তিনিও মুক্তিযুদ্ধে যোগদিয়েছেন। ১২ বছরের আমিও ক্যাপ্টেন শাজাহান ওমরের খুব স্নেহভাজন হিসেবে বিভিন্ন জনের কাছে তথ্য পৌঁছানোর কাজে নিয়োজিত হয়ে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছেও পরিচিত হয়েযাই।

আমাদের প্রপার্টির অন্যতম কেয়ারটেকার চাচার একপুত্র আবদুস সালাম তখন স্থানীয় স্কুলের অস্টম শ্রেনীর ছাত্র। আবদুস সালাম নিজেকে কেয়ার টেকার পুত্র মনে নাকরে-আমাদের সকল প্রপার্টি ওর আব্বার মনে করতো এবং আমাদের সাথে প্রভূ সুলভ আচরণ করতো! স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে আমাদের গ্রামের বাড়ির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন বাবা/চাচারা শুধুই জমি বর্গা দেয়া এবং কিছু ওয়াকফ সম্পত্তির বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিল। বিপদেপরে আমরা স্বপরিবারে গ্রামে গিয়েছি-তা কেয়ার টেকার এবং অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্টরা মনেমনে ভালোচোখে দেখেনি।

গ্রামে গিয়ে কেয়ার টেকার পূত্র আবদুস সালাম আমার সব থেকে প্রিয় বন্ধু হয়ে যায়। সে আমার স্বার্বক্ষণিক বন্ধু। সালামের একটা সুপিরিয়র কমপ্লেক্স ছিল-সে ক্লাস এইটে পড়ে! উপরন্তু দ্রুত গাছে চড়তে পারে, খরস্রোতা নদি সাতরে পার হতে পারে, নদিতে ডুব দিয়ে বড়বড় মাছ ধরতে পারে, নৌকা চালাতে পারে, দুর্দান্ত হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা খেলতে পারে,এমনকি পাঞ্জায় আমাকে হারিয়ে দেয়! প্রসংগ-অপ্রসংগে সালাম আমাকে অবজ্ঞাও করে এবং কিছু জিজ্ঞেস করলেই আমাকে বলবে-“তুমি বুঝবানা-ক্লাশ এইটে উঠলে বুঝবা”! আমি যখন তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র তখন একবার গ্রামের বাড়িতে আমার নির্বাসন হয়েছিল। সেই সময়ও সালাম আমাকে অবিভাবক সুলভ সুরে বলতো-“তুমি বুঝবানা-ক্লাশ ফোরে পড়লে বুঝবা। তখন সালাম ক্লাশ ফোরে পড়ত। সালাম নিজ এলাকার বাইরেই ২/৩ থানা এলাকার পথঘাট চিনে। ক্যাপ্টেন শাজাহান ওমর, ক্যাপ্টেন মেহেদী ইমাম এর বিভিন্ন ইনফর্মেশন বাহক আমি এবং আমার পথ প্রদর্শক আবদুস সালাম।

ইতোমধ্যে আমার এক চাচা এবং চাচাত ভাইও পাকিস্তানী হানাদারদের হাতে শহীদ হন। আমাদের পরিবারের মামা, চাচা এবং কাজীনেরা যাদের যুদ্ধে যাবারমত বয়স-তারা সবাই মুক্তি যুদ্ধে যোগ দেন। জুন মাসে মেজর জলিল(বীর উত্তম) বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের মুক্তি যুদ্ধের দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন-যা পরবর্তীতে ৯ নম্বর সেক্টর হয় এবং বামনা থানাধীন বুকাবুনিয়া নামক প্রত্যন্ত অঞ্চলকে মুক্তি যুদ্ধের সাব সেক্টর হেড কোয়ার্টার হিসেবে সমস্ত কার্য্যক্রম পরিচালনা করতেন। আমার স্টেপ ব্রাদারসহ আমাদের পরিবারের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিতে ভারতে চলে যান। তখন আমাদের কেয়ার টেকার, আমার বন্ধু আবদুস সালামের আব্বা পাকিস্তানী সেনাদের কাছে আমাদের পরিবারের অবস্থান জানিয়ে দেয়! হঠাত করেই পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোশর রাজাকার আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় একই সাথে বরিশাল শহরের বাড়িও জ্বালিয়ে দেয়। বাড়িতে অবস্থানরত ৪ জন তরুন মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মম ভাবে হত্যা করে। আমাদের পরিবার আবার নতুন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। কিছুদিনের মধ্যেই মুক্তি যোদ্ধারা সালামের আব্বা অর্থাৎ আমাদের কেয়ার টেকারকে হত্যাকরে ওদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। ক্যাপ্টেন শাজাহান ওমর আমার বন্ধু আব্দুস সালামকেও মেরে ফেলার নির্দেশ দেন! কিন্তু সালামের পিতা খারাপ হলেও সালাম কোনো দোষ করেনি বলেই আমি ক্যাপ্টেন শাজাহান ওমরকে অনুরোধ করি-সালামকে হত্যা নাকরার জন্য। ওমর চাচা আমার কথা রেখেছিলেন। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের বাকীটা সময় “রাজাকার পুত্র” সালামকে অনেক শারিরিক নির্যাতন এবং অবহেলায় মুক্তি যোদ্ধাদের ফুট ফরমাশ করেই কাটাতে হয়েছিল।

নভেম্বর মাসে আমি ঢাকা চলে আসি। উঠি পুরনো ঢাকায় আমাদের আর এক মামা(শিল্পী হায়দার হোসেনের আব্বা)র বাসায়। বুবু তখনও বড় মামীদের সাথে।

স্বাধীনতার পর ২/৩ বারের বেশী আমার গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে আমাদের গ্রামের সেই হলতা নদি, মঠবাড়িয়া-বামনা, বিষখালী, বরিশাল-কীর্তনখোলা নদির আমুল পরিবর্তন হয়েছে।আমার স্ত্রী এবং ছেলেরা প্রায়ই আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি দেখার বায়না করত। আমার বড় ছেলে যখন এইসএসসি পাশ করে-তখন ওদের নিয়ে স্বপরিবারে গ্রামের বাড়ি যাই ঈদ করতে। মঠবাড়িয়া-বামনাতে আমার দাদার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। উত্তরাধিকার সূত্রে আমিও সেই ট্রাস্টির একজন মোতওয়াল্লী।

ছেলেদের নিয়ে মঠবাড়িয়া থানা শহরের ঈদ্গাহ থেকে ঈদের নামাজ পরে ফিরছি। গ্রামেও ঈদগায়ের পাশে সারিবদ্ধ ভিক্ষুক। আমরা সাধ্যমত সকল ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দিচ্ছি। হঠাত চলত শক্তিহীন পংগু বৃদ্ধ এক ভিক্ষুকের হাতে টাকা দিতেই চমকে উঠলাম-কেমন যেনো মুখটা চেনা চেনা লাগছে! আমি থমকে দাড়াই। কে এই ভিক্ষুক? আমাদের বর্তমান কেয়ার টেকার বললেন-“স্যার, এই লোক আপনাদের একসময়ের কেয়ার টেকার মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুস সালাম, ওর বাপে রাজাকার আছিল, আপনাদের বাড়িঘর জ্বালাইয়া দিছিল.........”!

কস্টে আমার বুক ভেংগে যাচ্ছে-আমার কিশোর বয়সের বন্ধু আবদুস সালাম। যাকে নিয়ে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আর্মস এম্যুনেশন পৌঁছে দিয়েছিলাম-রাজাপুর, বেতাগী ও বাখেরগঞ্জ এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে......! যার কাছে আমি পাঞ্জায় হেরে যেতাম! আমি সালামের কাছে জানতে চাইলাম-সালাম, আমাকে চিনতে পারছো? কি করে তোমার এমন অবস্থা হলো? সালাম আমার চোখের দিকে একবারও তাকালোনা!

জানলাম-মুক্তি যুদ্ধেরপর সংসারের বড় ছেলে হিসেবে ওদের সংসারের হাল ধরতে বেছে নেয়-দিন মজুরের কাজ। তারমধ্যে অন্যতম কাজছিল-অন্যের নারিকেল-সুপারী গাছ থেকে নারিকেল-সুপারী পেরেদিয়ে মজুরী নেয়া। তেমনই একটি গাছ থেকে সুপারী পারতেগিয়ে গাছ থেকে পরে মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায়। টাকার অভাবে চিকিতসা হয়নি। তখন থেকে সালাম পংগু-ভিক্ষাই একমাত্র পেশা!
আমার জীবনের ঈদ আবারও বিষাদ হয়ে গেলো!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29441505 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29441505 2011-08-31 21:28:41
জাতীয় শোক দিবস ও এটিএন নিউজ এর হিং টিং ছট! ১৩ই আগস্ট মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর নিহত: শোকের মাঝেই এটিএননিউজ-এ ১৫ই আগষ্টে জাতীয় শোক দিবসে জন্মৎসব পালন করলেন এক সাংবাদিক

ডেটলাইন ১৫ই আগস্ট
স্থান: এটিএননিউজ এর নিউজরুম
সময়: বিকেল বেলা
সূত্র: এটিএন নিউজ এর কয়েকজন দেশপ্রেমী সাংবাদিক

বেসরকারী স্যাটেলাইট চ্যানেলে এটিএন নিউজরুমে হেপী বার্থ ডে ---- -- নামাংকিত একটা কেক আনা হলো। দু'একজন জুনিয়র সংবাদকর্মী ছাড়া সবাই হাসিখুশি। কে বলবে, মাত্র দুদিন আগেই এই প্রতিষ্ঠানের সিইও মিশুক মুনীর নিহত হয়েছেন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।

১৫ই আগস্ট সকালে শহীদ মিনারে নিহত তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানায় শোকার্ত মানুষ। আর বিকেলে এটিএন নিউজ এ জন্মদিনের পাটি করেন প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ কর্মী। পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের কর্মকর্তাগণ। বিস্তারিত পরে বলছি। ছবি সংযুক্ত করা হলো। ছবির বর্ণনাও পরে করছি







"কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো" শ্লোগানে জাতির জনকের ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী "জাতীয় শোক দিবস" শোকার্ত জাতি এদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছিলো জাতির জনককে। আর বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বরাবরের মতোই পালন করেন তার জন্মদিন- যা বেশীরভাগ সাধারন মানুষ, সুশীলকুল(?) এবং ৯৫ ভাগ সাংবাদিকদের কাছে নিন্দনীয়।





ডেটলাইন ১৫ই আগস্ট
স্থান: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার: তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে শোকার্ত মানুষের শেষ শ্রদ্ধা
সময়: সকাল বেলা

সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের গভীর শ্রদ্ধা আর ফুলেল ভালবাসায় চিরবিদায় নিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং বিশিষ্ট চিত্রগ্রাহক ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশফাক মুনীর মিশুক। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো শোকাকুল মানুষ বললেন-"এভাবে চলে যেতে নেই"



কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাদের মরদেহ রাখা হয়। এ সময় রাজধানীর সকল স্তরের মানুষ জাতির এই দুই কৃতী সন্তানের কফিনে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে তাদের শেষ বিদায় জানান। এ সময় শহীদ মিনার চত্বরে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। নাগরিক শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রাঙ্গণে নিহতদের স্মরণে খোলা হয় শোকবই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে ফুল দিয়ে এই দুই গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী পরিষদের অনেক সদস্য, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন, ঢাবি'র ভাইস চ্যাঞ্চেলর সহ সকল স্তরের অগনিত শোকার্ত মানুষ। এর আগে সকাল দশটায় রাজধানীর কাওরান বাজারে এটিএন নিউজ কার্যালয়ের সামনে মিশুক মুনীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এটিএন নিউজের কর্মী ছাড়াও অসংখ্য মানুষ ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মুল ঘটনা: জন্মদিনের পাটি
ডেটলাইন ১৫ই আগস্ট
স্থান: এটিএননিউজ এর নিউজরুম

মরচুয়ারির হিমঘরে শুয়ে আছেন এটিএন নিউজ এর প্রধান নির্বাহী সদ্য অকাল প্রয়াত মিশুক মুনীর আর দেশ বরেণ্য চলচিত্রকার তারেক মাসুদ। এটিএন নিউজ এর নিউজরুমে আনা হলো একটি কেক। সেদিন ছিলো তাদেরই এক নারী কমীর জন্মদিন। (১৫ই আগষ্ট!!)

পুরো অনুষ্ঠানটি ভিডিও করা হলো। ছবি তোলা হলো বিভিন্ন ভংগীমায়। সবার হই হল্লার মাঝেই কাটা হলো কেক। এর আগে জন্মদিনের শুভেচ্ছা কাগজে লিখে পাঠ করলেন এক সংবাদ পাঠক। (ছবি সংযুক্ত)।



এই পাঠকের নাম মাহমুদুল হাসান। তার পারিবারিক এক পরিচয়ও রয়েছে। জনাব হাসানের আপন মামার নাম আবদুল মাজেদ। নামটা কি চেনা চেনা লাগছে? জি, ঠিকই চিনেছেন! Captain আবদুল মাজেদ এর কথাই বলছি! জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনী Captain আবদুল মাজেদ এর ভাগ্নে মাহমুদুল পাঠ করলেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা। হাততালি আর "হেপী বার্থ ডে টু ইউ ----- ---" উল্লাশে প্রকম্পিত করলেন এটিএন নিউজ এর সিনিয়র সাংবাদিক প্রণব সাহা (কালো টি শার্ট), প্রভাষ আমিন(বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ) এবং এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ বংগবন্ধু, শেখ হাসিনা পরিবারের একনিষ্ঠ খেদমতগার, প্রয়াত মিশুক মুনিরের স্নেহ ধন্য মুন্নী সাহাও! পাঠক, মুন্নী সাহাকে চিনতে কি আরো বয়ানের দরকার আছে?





মিশুক মুনীর নিহত হবার পর টিভিতে দেখেছি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন তারা। কান্নার কতরকম পোজ, একশন-রিএকশন, অভিব্যাক্তি থাকতে পারে-তা বিভিন্ন ভিয্যুয়াল মিডিয়ার কল্যাণে পাঠক-দর্শক নিশ্চই বহুদিন মনে রাখবেন! অথচ ১৫ই আগস্ট সকালে মিশুক মুনীরের দেহ মরচুয়ারিতে রেখে বিকেলেই এটিএন নিউজ এর নিউজরুমে এমন পার্টি দেখে হতবাক। প্রতিষ্ঠানটির অনেকেই! তখন নিরবে, লজ্জায় আর প্রতিবাদে নিউজরুম ছেড়ে চলে যান অনেকেই। সব থেকে মজার ব্যাপারছিল-আলোচ্য বিখ্যাত সাংবাদিক সহমর্মীর জন্মৎসবে এসেছিলেন শোকের প্রতীক কালো ড্রেসে। কারন একটুপরেই তিনি জাতীয় শোক দিবসে "কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো" কয়েকজন সেলিব্রেটিদের নিয়ে লাইভ টক শো করবেন এবং তিনি তা করেছিলেন। এই সেই মুন্নী সাহা যিনি একটু আগেই জন্মৎসব পালন করে এসে লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি স্বভাবমতো কেঁদেছিলেন, বিরোধীদলীয় নেতার জন্মৎসব নিয়ে যথারিতী ঘৃণা-উষ্মাও প্রকাশ করতে ভুল করেননি।

পাঠক আজ আর নয়-এ কাহানী বহুত লম্বী হ্যায়!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29438321 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29438321 2011-08-25 14:47:44
আমরা বেঁচে আছি কীভাবে?
গত কয়েক মাস থেকে প্রচন্ড ব্যাবসায়ীক ব্যাস্ততা। এমনকি রমজান মাসটাও কাটছে প্রচন্ড ব্যাস্ততার মধ্যে। সকাল সাতটায় কর্ম দিবস শুরু আর শেষ হতে কখনও কখনও রাত তিনটা হয়ে যায়-তবুও কাজ শেষ হয়না! এই কয়মাসে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম,কক্সবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, ময়মনসিংহ, বগুরা, রাজশাহী, রংপুর কতবার গিয়েছি তার হিসেব নেই। জয়েনভেঞ্চারে ১০০ ভাগ রপ্তানীমুখি একটি শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত করতেই এই পরিশ্রম। আমাদের সংগী সব সময়ই আমেরিকান, জার্মানী, তাইওয়ান, কোরিয়া ও চীনা ব্যাবসায়ী ক্রেতা প্রতিনিধি দল তথা আমার বিজনেস পার্টনার(ইন্ডাস্ট্রিয়াল/ফিনান্সিয়াল ইনভেস্টর এন্ড বায়ার)।এই লেখায় সারা দেশের বেহাল অবস্থার মাঝেও ক্ষমতাসীনদের পদলেহনকারী কতিপয় সুশীল নামক দেশী ভারতীয় দালালদের কোরাস "বাংলাদেশ অচিরেই সিংগাপু/সুইজারল্যান্ড এর মতো উন্নত হবে"-সে বিষয়ে কিছু লিখছিনা-শুধু বাংলাদেশের সব কিছুতেই ভেজালের মহোতসবের কথাই লিখছি।

আমার এই শিল্প কারখানার প্রয়োজনীয় একদশমাংশ দেশীয় কাঁচামাল যোগান দেয় মুলত পুরনো ঢাকা এবং বুড়িগংগার অপর তীরের নির্দিস্ট ব্যাবসায়ীরা। যার কারনে বিদেশী বায়ারদের সন্তুস্টি এবং জার্মান কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট টিম'র জন্য প্রায়শই তাদের নিয়ে পুরনো ঢাকা এবং কেরানীগঞ্জ-কামরাংগীরচড় এলাকায় যেতে হয়েছে। সেই সূত্রেই পুরনো ঢাকার ব্যাবসায়ীদের কল্যাণে/ সৌজন্যে কয়েক দিন বিদেশে মেহমানদের নিয়ে ইফতারীও খেতে হয়েছে।

মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহের প্রথমটি হলো খাদ্য। ন্যাচারাল প্রডাক্ট হিসেবে মাছ-মাংস, ডিম, মুরগি, শাক-সবজি, ফল-মূল, যার মান নিয়ে আগে কোনোদিন কারো চিন্তা করতে হতো না,কিন্তু এগুলো নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি ভয়ে তটস্থ থাকতে হয়। বিষাক্ত কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করে উৎপাদন, বিষাক্ত পানিতে মাছ চাষ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হাঁস-মুরগি-গবাদিপশু ইত্যাদি পালন ও উৎপাদন, তাজা রাখার জন্য ফরমালিন ও রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োগ এবং ওজন বাড়ানো ও ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য এগুলোতে বিভিন্ন ওষুধ ও বিষাক্ত রং রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার রীতিমত ভয়াবহ। সব ধরনের তৈরি খাবারের বেলায়তো অবস্থা আরো শোচনীয়। কারণ, অধিকাংশ হোটেল, রেস্তোরাঁ, বা বেকারি-ফাস্ট ফুডের দোকানেই রয়েছে সস্তা নকল-ভেজাল-দূষণযুক্ত উপকরণের ব্যবহার। এছাড়াও রয়েছে পচা-বাসি এবং অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশে, অস্বাস্থ্যকর বাসনপত্রে, দূষিত পানিতে, অস্বাস্থ্যকর হাতে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করার ঝুঁকি ও প্রবণতা। জীবন ধারণের জন্য একান্ত বাধ্য হয়ে প্রতিনিয়ত আমরা অনেকটা জেনেশুনেই খেয়ে চলেছি এসব খাবার। তৈরি খাবার হোক আর নিজে রান্না করে হোক-কোনোকিছুই এখন আর নিশ্চিন্তে খাওয়া যায় না।

রোজার মাসে ইফরাতী বানিজ্যে সব সময়ই চকবাজার সবথেকে বেশী মিডিয়া কভারেজ পেয়ে থাকে-এবারেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। মিডিয়ার কিছু উঠতি অর্বাচীন সাংবাদিক চকবাজারের ইফতারীকে এমন ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরে-যা দেখে মনে হতে পারে চকবাজারের ইফতারী নাখেলে রোজাটাই বিফলে কিম্বা জনমটাই বিফলে গেল! কিন্তু যেকোনো সচেতন মানুষ চকবাজারের বড় বাপের পোলায় খায়, আজগুবী নামের বিভিন্ন প্রকার কাবাব, শরবতের নামে নোংরা দুষিত ইফতারী নামের বিষের উতপাদন এবং পরিবেশন প্রকৃয়া দেখে বমি নাকরে স্বাভাবিক থাকতে পারবেনা। আমি ইফতারীর বিষয়টা বিস্তারিত বলে কাউকে আহত করতে চাইনা। আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই-আমার চায়না ভ্রমন পোস্টের একটি পর্বে সর্বভূক চায়নীজদের খাদ্য প্রসংগে লিখেছিলাম-
"যাহার দুইটি পাখা আছে-তাহাই চিনারা খায় কিন্তু তারা উড়োজাহাজ খায়না। যাহার চারটি পা আছে-তাহাই চিনারা খায় কিন্তু তাহারা টেবিল খায়না!"
অত্যন্ত লজ্জার কথা, খুব বেশী কস্টের কথা চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারী "বড় বাপের পোলায় খায়" সহ অন্যান্য নোংরা ইফতারীর বেশীরভাগই আমিতো দুরের কথা- সর্বভূক চায়নীজরাও খেতে পারেনি!

প্রিয় পাঠক, ব্যাক্তিগত ভাবে আমি নিজেই পুরনো ঢাকার অনেক খাবারের ভক্ত। তারপরেও আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ-মিডিয়ার প্রচারনায় "বড় বাপের পোলায় খায়" নামক ঐ কুখাদ্য কেউ গলঃধারন করবেননা।

সভ্য সমাজে খাদ্যে ভেজাল অকল্পনীয়। কিন্তু আমাদের দেশে এটি নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে,কোথায় ভেজাল নেই তা নিয়ে এখন গবেষণা করা দরকার। অনেকে ভেজাল খাদ্যের ভয়ে মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত। জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও চলছে ভেজাল। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক-দেশে সরকার,পুলিশ প্রশাসন,আইন আদালত থাকা সত্ত্বেও ভেজালের দৌরাত্ম্য কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? কেন এই রোজার মাসেও চলছে ভেজালকারীদের দাপট?এ প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, খাদ্যে ভেজালের অপরাধে দেশে কঠিন শাস্তিযোগ্য আইন থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই। এ অবস্থাই ভেজালকারীদের উত্সাহিত করছে।

কী খাবো? নিরাপদ কোনো খাবার আদৌ কি আছে? মাছেও ফরমালিন, দুধেও ফরমালিন, ফলমূলে কার্বাইডসহ নানা বিষাক্ত কেমিক্যাল,সবজিতে রাসায়নিক কীটনাশক,জিলাপি-চানাচুরে মবিল,বিস্কুট,আইসক্রিম, কোল্ডড্রিংস,জুস,সেমাই,আচার,নুডুলস এবং মিষ্টিতে টেক্সটাইল ও লেদার রং, মুড়িতে ইউরিয়া-হাইড্রোজ,পানিতে আর্সেনিক,ক্যাডমিয়াম,লেড,ইকোলাই। ভেজাল খাবার জাতিকে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, নতুন প্রজন্মকে মেধাহীন পঙ্গু জীবনের মতো এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় শুধু নয়, সারা দেশের মানুষের কাছে এখন একটি বড় প্রশ্ন-কী খাচ্ছি আমরা? নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভেজাল ও নকল পণ্য। নকলের দাপটে এখন আসল পণ্য চেনাই দায় হয়ে পড়েছে।

কেউ একজনকে খুন করলে প্রচলিত আইনে তার এজন্য ফাঁসি হতে পারে। অথচ যারা নকল-ভেজাল-দূষণযুক্ত পানি, খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ তৈরি করে কোটি কোটি লোকের জীবন ও জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে, তাদের কি শুধু জরিমানা বা জেলই যথেষ্ট? এক্ষেত্রে বিচার করে ফাঁসি দেবার আইন করতে অসুবিধা কোথায়? কোনো বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন দলমত বা ব্যক্তি কি এরকম একটি ভালো কাজের বিরোধিতা করবে? আর করলেইবা বৃহত্তর স্বার্থে তা শুনতে হবে কেন? হয়ত আপনাদের মনে আছে-আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ড. মাহাথির মোহম্মদ ঢাকায় এসে বলেছিলেন, "দেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে অপ্রিয় সঠিক কাজটিই করতে হবে"।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29434432 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29434432 2011-08-18 16:16:39
প্রসংগঃ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী
প্রতিবছরই এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রায় সকল পত্রিকায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবীদের পরিচয় তুলেধরা হয়। সেই পরিচিতিতে আমরা এমন অনেক মেধাবীদের মুখ দেখে আপ্লুত হই-যারা আর্থীক জীবন সংগ্রামে পরাজিত হয়েও স্কুল-কলেজ জীবনের পরীক্ষায় জয়ীহয়ে আবারো উচ্চশিক্ষা জীবনের এক অনিশ্চিত আশংকায় পতিত হয়!

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।সেই দারিদ্রসীমায় বাসকরা প্রত্যেক মা-বাবাও আশা করে তার সন্তান স্কুলে যাক, লেখাপড়া শিখে বড় হোক। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে শিশু বয়সেই তাদেরকে শিশুশ্রমে বাধ্য হতে হয়। তারপরেও অনেক দরিদ্র সন্তান পড়া লেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষায় শিক্ষা গ্রহনে সচেস্ট থাকে। স্কুলে শিক্ষকের অপ্রতুলতা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিক্ষকের দ্বারা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিশেষভাবে খোঁজখবর নেয়াও সম্ভব হয় না। অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা কোন কোন বিষয় ঠিকভাবে বুঝতে পারে না বিধায় প্রাইভেট কোচিং/টিউটরের প্রয়োজন বোধ করে, কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে অনেকের পক্ষেই সেই প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না। আবার অনেক পিতামাতা নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিতহেতু বাড়িতে সন্তানদের বিষয়ভিত্তিক কোন সমস্যার সমাধান করতে পারেন না। ফলে অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা কোনরকমে না বুঝে, অস্পষ্টতার মধ্যে থেকে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যায়। এসব কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে, স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ফলশ্রুতিতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ে। তারপরেও অনেকেই শুধু মনের জোড় আর গড গিফটেড মেধার জোড়ে ভালো ফলাফল করে আমাদেরকে চমকে দেয়!

গণসাক্ষরতা অভিযান-এর গবেষণা (সূত্র: প্রথম আলো) থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রায় অর্ধেক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়েই ঝরে পড়ে। যে সকল শিশু মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি হয় তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ এই স্তরেই ঝরে পড়ে। এর অর্থ, ২০১০ সালে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ১০০টি শিশুর মধ্যে ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেবে মাত্র ২০ জন। এরপর উচ্চশিক্ষার জগতে প্রবেশ করে মাত্র ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও গণসাক্ষরতা অভিযানের আর এক গবেষণায় দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেনীতে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ ঝরে যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে।

বর্তমান সময়ে অনেক উন্নত দেশেও সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং জাতিসত্ত্বাভেদে শিক্ষাগত বৈষম্য বিদ্যমান। এই বৈষম্য কোটি কোটি গরীব ছেলেমেয়ের সম্ভাবনাময় জীবনকে স্থিমিত করে দিচ্ছে। এটি সমাজে তাদের নাগরিক অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ডকেও নানাভাবে ব্যাহত করছে। আমার ধারনা-এই শিক্ষাগত বৈষম্যের তিনটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণ, যেসব ছেলেমেয়েরা স্বল্পআয়ের অবস্থানে বসবাস করে তারা উচ্চআয়ের এলাকায় বসবাসরত ছেলেমেয়েদের তুলনায় অধিক বাঁধার সম্মুখীন হয়। এসব বাঁধার মধ্যে আছে, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসুবিধা, পুষ্টি, গৃহায়ন এবং মানসম্মত প্রাক-বিদ্যালয় ব্যবস্থা।

দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান অবকাঠামোগত অবস্থা ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত ও বিশেষ চাহিদা মেটানোর জন্য অপ্রতুল। বিদ্যালয়গুলোতে পেছনে পড়ে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো সময় বরাদ্দ নেই। সেই সাথে উপযোগী মানসম্মত শিক্ষকদেরও অভাব রয়েছে। এ ছাড়াও এই সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েদের দিকে বিশেষ নজর দিলে এরা যে অন্যান্য সুবিধাপ্রাপ্ত ছেলেমেয়েদের মতো ভাল করতে পারে, এমন ধারণাও শিক্ষকদের মধ্যে অনুপস্থিত।

তৃতীয়ত, সমাজে প্রচলিত বিশ্বাস শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদেরকে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং এতদ সঙ্গে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে। তাই দারিদ্র্য, যেটার কারণে ছাত্রছাত্রীরা শ্রেণীকক্ষে মনোযোগ দিতে পারে না, তা নিরসনের জন্য বিনিয়োগ যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মাধ্যমিক স্তর একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই স্তরে শিক্ষার্থীর ঝরেপড়ার ঝুকি থাকে সবচেয়ে বেশি এবং এই ঝরেপড়ার অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তিপ্রাপ্ত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার শতভাগ নিশ্চিত করাসহ সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে যা করণীয়ঃ

১। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
২। বিদ্যালয়ে আন্তঃপরীক্ষায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শতভাগ নিশ্চিত করা।
৩। শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে সমাজের শিক্ষিত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছাসেবামুলক কাজে উদ্বুদ্ধ ও সম্পৃক্ত করা।
৪। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা।
৫। শিক্ষার্থীর সহায়তাকারীদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
৬। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রদানে সকল বিদ্যালয়কে বাধ্য করা।

হাজারো সমস্যাপীড়িত আমাদের এই দেশ। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষা এই অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন মেটাতেই হিমসীম খেতে হয় আমাদের দেশের অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের পিতামাতার। এই সকল সমাস্যায় যখন তারা হাবুডুবু খায় তখন তারা ভাবতেই পারে না সন্তানের শিক্ষার কথা। আর এভাবেই সময় গড়িয়ে যায় এবং হতভাগ্য শিশুটি একইভাবে পূর্ব পুরুষের দারিদ্রকে লালন করে চলে। আমার ধারনা, সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েদেরকে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া হলে, তারা এটাকে কাজে লাগিয়ে পরিপূর্ণভাবে উৎকর্ষতা লাভ করতে পারে।

এই সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনে হাসি ফোটানোর জন্য আমাদের একটু ক্ষুদ্র সহযোগিতাই যথেষ্ট। আমরা প্রত্যেকে যদি স্বামর্থানূযায়ী এলাকা ভিত্তিক অন্তত একজন মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক মেধাবী শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিই তাহলে তার জীবনটা হতে পারে সম্ভাবনাময়। আমাদের এই সামান্য আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা যেমন সমাজের জন্য একটা বড় কাজ করতে পারি। তেমনি গড়ে তুলতে পারি আত্মত্যাগী কিছু মানুষ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29432011 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29432011 2011-08-14 20:02:10
কেরুকেটঃ বাংলাদেশের টাইগার বাহিনীর আজকের অর্জন
জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ৫ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তথা কথিত "টাইগার" কেরুকেটারদের কৃতিত্বের নমুনাঃ

পাকনা কথা বলায় জুড়িহীন অহংকারী তামিমুল ১৮ বলে করিয়াসেন-৪

আই সি এল খ্যাত স্বার্থপর শাহরিয়ার নাফিসুল, যিনি নাকি জিম্বাবুয়ানদের আতংক সেই তিনি করিয়াসেন-২৯ বলে ১৪

কলংকিত ফুল আশরাফুল ৭ বল হাকিয়ে ২ করিয়াসেন!

ভীমরুল খ্যাত মাসলম্যান ইমরুল করিয়াসেন-২৭ বলে ১১

ইদানীং তিনি মুই কি হনুরে খ্যাত সাকিবুল যিনি টাইগারদের ন্যাতাও বটেক! তিনি করিয়াসেন-৬৩ বলে ৫৩ রান। ছোট্ট ধন্যবাদ প্রাপ্য।

সদ্য বিবাহিত মাহমুদুল করিয়াসেন-১৫ বলে ৫ রান

চরম হতাশার মাঝেও সদা হাস্যময় মুশফিক অত্যন্ত ধৈর্য্যের সাথে খেলে ৯১ বলে ৫৯ রান করেছেন। অভিনন্দন মুশফিক।

সরওয়ার্দ্দী শুভমুল করেছেন- ২৫ বলে ২০ রান।

রাজ্জাকুল ৩ বল খেয়ে কিছুই করতে পারেননি।

তরুন টাইগার সাইফুল ১১ বলে ৮ রান করেছেন।

রুবেল করেছেন ২ রান কিন্তু তাঁকে আউট করা সম্ভব হয়নাই।
সবাই মিলে যা করেছেন তাহার যোগফল-১৮৪

নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলায় ৯ বল বাকী থাকলেও বাকী ৯ বল খেলার জন্য অবশিস্ট কোনো টাইগার নাথাকায় ৯ বল হাতে রেখেই বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করতে বাধ্য হয় এবং খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় টাইগার পিলেহারেরা আর কোনো রান করে দেশের ভাবমুর্তি আরো বৃদ্ধি করার সুযোগ নাপেয়ে অত্যন্ত বেদনাহত। কৃকেট বোদ্ধাদের ধারনা, আই সি সি যদি শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য স্পেশাল নিয়ম করে বাংলাদেশের স্টান্ডবাই টাইগার, কোচ, ম্যানেজার এবং দলের সাথে যাওয়া অন্যান্যদের খেলার সুযোগ "দান" করিতেন-তাহলে ৫০ ওভারের বাকী বলগুলো ত্যানারা খেলে আজ ফাটাইয়া ফালাইতেন! উল্লেখ্য যে-নামে "অল আউট" করা হলেও প্রকৃতপক্ষে অন্যান্য দেশের মতই জিম্বাবুয়ানরাও শত চেস্টা করেও একজন টাইগার ব্যাটসম্যানকে আউট করতে ব্যার্থ হয়। তবে আমাদের তামিমুলের চোখে "সাধারন" মানের বোলার সেই ব্রায়ান ভিটরী ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তামিমুলকে একটি কানমলা দিয়েদিয়েছেন।

ক্যামেরায় দেখিয়েছে-অন্যতম টাইগার নির্বাচক টাইগারকুল শিরোমনি হাবা খ্যাত হাবিবুল হাসতেই আছেন!

বোর্ড সভাপতি শেয়ার বাজার লুটেরা কানা কামাইল্যার কাছে একটাই প্রশ্ন আপনি কখন পদত্যাগ করে কৃকেটকে রাহুমুক্ত করবেন?

(কৃকেট সংক্রান্ত এই মহতি পোস্ট খানা আমাদের কৃকেট ক্রেজী ব্লগার এ টি এম মোস্তফা কামাল ভাইকে উতসর্গ করিলাম)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29430615 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29430615 2011-08-12 17:06:19
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং নির্ভিক সাংবাদিক আবু সুফিয়ান
দেশজুড়ে যখন "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই" মানবিক আন্দোলনে সকল দেশপ্রেমিক জনতা একাত্মতা প্রকাশ করে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখার অপেক্ষায়-ঠিক তখন একজন বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীর যুদ্ধাপরাধের বিষয় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রতিবদেন প্রকাশ করে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম বিভাগের প্রধান) নির্ভিক সাংবাদিক আবু সুফিয়ানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বানিজ উপদেস্টা সাল্মান এফ রহমান এই সকারেরই একজন হয়ে একজন যুদ্ধাপরাধীর পক্ষনিয়ে এই সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন! অথচ তারই মালিকানাধীন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এ সংক্রান্ত বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রচারের দায়ভার চাপানো হয়েছে সাংবাদিক আবু সুফিয়ানের ওপর।

বর্তমান সরকারের সময় যে কয়টি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন পেয়েছে-তার মধ্যে অন্যতম প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও প্রধানমন্ত্রীর বানিজ্য উপদেস্টা সালমান এফ রহমানের ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন। ভারতীয় এনডিটিভি’র কারিগরী সহায়তা ও প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণে গড়া ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন গত ২৭ জুলাই আনূষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে। উদ্বোধনী দিনে বস্তুনিষ্ঠ এবং সময়োপযোগী রিপোর্ট উপস্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছিল। প্রথম বুলেটিনে একমাত্র স্পেশাল রিপোর্ট চট্টগ্রামে যুদ্ধাপরাধের সংশ্লিষ্ট অপরাধে বিচারাধীন একজন রাজনীতিবিদের উপর একটি বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট প্রচারিত হয়। রিপোর্টটি আবু সুফিয়ানের নির্দেশনা, পরিকল্পনা তত্বাবধানে করা হয়েছিল। রিপোর্টটিতে ভয়েস দিয়েছিলো ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে আসা অন্য এক রিপোর্টার। সেই রিপোর্টার এর পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। রিপোর্টে বলা হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল এর প্রধান আবদুল হান্নান এর সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।
রিপোর্ট প্রচারিত হবার পর সকল শ্রেনীর দর্শক শ্রোতার অকুন্ঠ প্রশংসা কুড়ায়।

উল্লেখ্য যে, সালমান এফ রহমান যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর নিকট আত্মীয়। অনুষ্ঠান প্রচারিত হবার পর ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অখুশী হন বলে জানা গেছে। রিপোর্টটি কিভাবে অন এয়ার হলো, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীন তদন্ত করা হয় বলেও প্রতিষ্ঠানটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে। গোপনে চলা এ তদন্ত যাতে বাইরে প্রকাশ না হয়ে পড়ে তার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করে কর্তৃপক্ষ।

রিপোর্টটি কিভাবে প্রচার হলো, তা খতিয়ে দেখতে টেলিভিশন এর ইনপুট এবং আউটপুট ডেস্ক এর কর্তাদের সাথেও কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। কিন্তু, সবাই নিজেদের দায় এড়িয়ে গিয়ে দোষ চাপান আবু সুফিয়ান এবং তার ক্রাইম রিপোর্টারস টিম এর ওপর।

সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের পরথেকেই আবু সুফিয়ানকে বাধ্যতামূলক ছুটি/স্বেচ্চায় চাকুরী থেকে পদত্যাগ করার সব চেস্টা চালানো হয়েছিল। সেই পদক্ষেপে গত ২রা আগস্ট এবং ৩রা আগস্ট আবু সুফিয়ানকে ডেকে পদত্যাগ করার চাপ দেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শামসুর রহমান মোমেন। এমনকি তাকে হুমকিও দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক সূত্র। আবু সুফিয়ান রাজি না হলে, অবশেষে আজ ৪ঠা আগস্ট আবু সুফিয়ানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে, বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে অন্যসব কারণ দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, সাংবাদিক আবু সুফিয়ান ইতিপুর্বে বেসরকারী টিভি চ্যাণেল বাংলাভিশনে থাকাকালীণ বহুল আলোচিত আর্থ ফাউন্ডেশন নামক ভুয়া এনজিও’র হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্ণীতি ও আত্মসাতের বিষয় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচিত হয়েছিলেন। কারন তখন আর্থ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন নিজেকে ততকালীণ সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদ এবং বর্তমান সরকারের অনেক সহযোগী শিল্পী সাহিত্যিক, সচিব এবং বর্তমানে শাসকদলের অন্তত চারজন ক্ষমতাধর এমপি/মন্ত্রী জড়িত ছিলেন-তাদের সংশ্লিষ্ঠতার কথাও জীবনের ঝুকি নিয়ে অত্যন্ত সাহসের সাথে তুলে ধরেছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে আরো তিনজন রিপোর্টার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী করেন। সেই রিপোর্টের জন্য তিনি অর্জন করেন ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার। এছাড়াও তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মানিক মিয়া স্মৃতি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারও অর্জন করেন।

সামহোয়্যারইন ব্লগের একঝাক তরুন ব্লগার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে স্বোচ্চার হয়ে ব্যানার, ফেস্টুন এবং গণস্বাক্ষর সংগ্রহসহ ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে সকল মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা অর্জন করেছিল এবং সামহোয়্যারইনব্লগ কর্তিপক্ষ সেই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে স্থায়ীভাবে রঙিন প্রচ্ছদ ব্যানার/লোগো লাগিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ শহীদ আর নির্যাতিত জাতির বীর সন্তানদের সম্মানীত করেছে।

আসুন আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে স্বোচ্চার আমাদের একজন সহযোদ্ধা তরুন সাংবাদিক আবু সুফিয়ানের প্রতি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের অন্যায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীতে অবিচল থাকি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29425424 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29425424 2011-08-04 15:16:12
নিরাপদ জীবন চাই
বিজ্ঞানীদেরমতে পৃথিবীর বয়স ৫০০ কোটি বছর আর মানুষের বয়স ১০ লাখ বছর পার হয়ে মানুষ আজ সমাজবদ্ধ জীব। এখন মানুষ আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নতির শিখরে। এত উন্নতির পাশাপাশি যখন মানুষের বর্বরোচিত ঘটনা দেখি তখন ব্যথা পাই, বিস্মিত হই এই ভেবে যে, কেন এই মানবিক অবক্ষয়? কী কারণে এত বর্বরোচিত ঘটনা ঘটানো সম্ভব মানুষের দ্বারা? সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা যাক।

গত ২৬ জানুয়ারি সাভারের একটি ইটভাটা থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়, কাজ করানোর পরে শিকল দিয়ে যাদের বেঁধে রাখা হতো, তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তাদের ভালোভাবে খেতে পর্যন্ত দেয়া হতো না। উদ্ধারকারীদের মধ্যে আট বছর থেকে ৫০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছে। উত্তরাঞ্চল, সাতক্ষীরা ও খুলনা, ঝালকাঠী, পার্বত্যাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দালালেরা এদের এনে ঐ ইটের ভাটায় বিক্রি করে দেয়। ৮ জানুয়ারি কামরাঙ্গীরচর খুনিরা আবুল কাশেমকে খুন করেছে। আবুল কাশেমের বাবা ইসহাক মোললাকেও ২০০১ সালে খুন করা হয়। বাবার খুনের বিচার হয়নি, তাই পিতার মতো জীবন দিতে হলো আবুল কাশেমকে। ৮ জানুয়ারি দিনে দুপুরে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় এক বাসায় ঢুকে বিভূতিভূষণ রঞ্জনকে হত্যার চেষ্টাকালে তাঁর শিশুপুত্র শুভ দেখে ফেললে তাকে হত্যা করা হয়। ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। পিতা বেঁচে যান। মাত্র কয়েকদিন আগে পবিত্র শব ই বরাতের রাতে ঢাকার আমিন বাজারে ৬ জন কলেজ ছাত্রকে নির্মম ভাবে প্রান দিতে হয়েছে গ্রাম্বাসীদের হাতে।

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন 'অধিকার' ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে এক রিপোর্টে জানিয়েছে, দেশে ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। এর সঙ্গে বাড়তি যগ হয়েছে গুম ও মানুষকে নিখোঁজ করার প্রবণতা। ২০১০ সালে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতেই ১৪৭ জন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়, ক্রসফায়ারে ১১২ জন, ২৬ জনকে নির্যাতন, ১২ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৬৮ জন র‍্যাবের হাতে, ৪৩ জন পুলিশে হাতে এবং র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৪ জন নিহত হয়েছে। গত বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৩৪ জন নিহত, আহত হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৮ জন। গণপিটুনিতে ১৯৪ জন নিহত। হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড?

পত্রিকায় পড়েছি- উখিয়া থানার পুলিশ পায়ে শিকল বেড়ি পরানো অবস্থায় রিমা নামের এক কাজের মেয়েকে উদ্ধার করেছে। পালং ইউনিয়নে হরিণনামা গ্রামের হতদরিদ্র নজির আহমেদের কন্যা রিমা আক্তার কাজল (১২)। পালং ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়া গ্রামের এক বাড়িতে কাজ করতো সে। কাজের চাপ সইতে না পেরে কিশোরী বাড়িতে চলে যায়। পরে তাকে গৃহকর্তা আবার বুঝিয়ে নিয়ে এসে কেয়ারটেকারকে দিয়ে রিমার পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। এ ব্যাপারে রিমার মা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ১৯ এপ্রিল উপজেলার হাসাডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোসলেম গাইনের পুত্র সাইফুল ইসলাম একই উপজেলার আটমাইল দেনার গ্রামের নওশের বিশ্বাসের কন্যা রুকসানা খাতুনকে পছন্দ করে বিয়ে করে। সন্তানসম্ভবা হলে তাকে সন্তান নষ্ট করতে চাপ দিতে থাকে এবং তাকে বলা হয় সন্তান না নষ্ট করলে এক লাখ টাকা এনে দিতে হবে। এ ঘটনার পরে কৌশলে তার সন্তান নষ্ট করা হয়। সন্তান নষ্ট হওয়ার পরে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। পর পর দুটি ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে এ দুটি ঘটনা ঘটেছে। এর চেয়েও চরম ৯ ফেব্রুয়ারি শরিয়তপুরের নরিয়া উপজেলার চামটা গ্রামের হেনার ঘটনা। হেনা (১৪)-কে দোররা মেরে হত্যা করেছে ফতোয়াপ্রদানকারীরা। হেনা ধর্ষিত হওয়ার পর তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হলো, তারা তাকে দাররা মেরে শেষপর্যন্ত মেরেই ফেললো। দর্শকরা শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলোথ কেউ নিরাপরাধ এই কিশোরীর প্রতি এই অবিচারের প্রতিবাদ পর্যন্ত করলো না। চারদিকে এ ধরনের ঘটনা আমাদের মনে আতঙ্কই বাড়ায় না এসব মানুষের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়, যা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা হয়ে কাজ করে।

দেশ জুড়ে ক্ষমতাসীন দলের পান্ডাদের হাতে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান দেয়ার কোনোই দরকার নেই-যা দেশের মানুষ প্রতিদিনই মিডিয়ার কল্যাণে জানছে এবং দেখছে। তবে বর্তমানে নতুন মাত্রা পেয়েছে দেশের সর্বত্রই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নামধারী কিছু অমানুষের অকথ্য অসভ্যতামীর বিষয়।

সন্ত্রাস, নির্মমতা আর অমানবিকতার শেষ সংযোজন মহামান্য রাস্ট্রপতির "মহানূভবতা"য় খুনীদের সাত খুন মাপের মহতসব! অন্যায়কারীরা যুগে যুগে তাদের কালো হাত প্রসারিত করে রাখে, যার মুষ্ঠিতে আবদ্ধ হয়ে নিরীহ মানুষের জীবন, মান-সম্মান ধুলায় মিলিয়ে যাচ্ছে। যার খবর ক'টিইবা প্রচারিত/প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। আমরা এ সমাজে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অস্বাভাবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই, সমাজ তথা পরিবারে সুষ্ঠু স্বাভাবিক অবস্থায় বাঁচতে চাই। রাস্ট্র যন্ত্রের ছত্রছায়ায় খুনীদের আশ্রয় প্রস্রয় দেয়ার "ঘৃনিত মহানূভবতা" থেকে রক্ষা চাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29420310 http://www.somewhereinblog.net/blog/jullvern/29420310 2011-07-26 18:07:08