আস্তিক বনাম নাস্তিক!!! কে বুদ্ধিমান? একটি সরলিকরন!!
০৩ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৪১
![]()
হাজারো বছর ধরে যে একটি বিষয় নিয়ে মানুষে মানুযে মেজর ডিফারেন্স তা হচ্ছে ঈশ্বরে বিশ্বাস আর অবিশ্বাস। ঈশ্বরের বিশ্বাসের সাথে মৃত্যু পরবর্তী হিসাব-নিকেষ টাই প্রধান ইস্যু। ঈশ্বর বিশ্বাসীরা পরকালের দোহাই দিয়ে মুলত সকল বিষয়কে ব্যাখ্যা করে আর অবিশ্বাসীরা এটাকে অমুলক বলে উড়িয়ে দেয়। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাসী। যদিও অনেক সময় ঈশ্বর রিলেটেড অনেক কিছুর লজিকাল উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। তারপরেও আমি ঈশ্বরে বিলিভ করি জাস্ট কিছু সিম্পল বিষয়ে হিসাব মিলিয়ে। যেমন,
যদি সত্যিই ঈশ্বর থাকে, তাহলে মৃত্যুর পর যখন পাপপূন্যের বিচার হবে তখন ঈশ্বরে অবিশ্বাসীদের কোনো রক্ষা নাই। তারা নির্ঘাত নরকযাত্রী। কারন তারা গোটা বিষয়টাকেই অবিশ্বাস করতো। আর বিশ্বাসিদের স্বর্গ-নরক যেকোনো একটিতে যাবার সুযোগ রয়েছে।
আর যদি ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব না থাকে তাহলে, আস্তিক বা নাস্তিক কারো ই হারানোর কিছু নাই।
তাহলে শুধু শুধু নাস্তিক হয়ে একটা অপশন বন্ধ করার কোনো মানে আছে?
মরতে তো হবেই একসময় আর মৃত্যুর পর কি হবে কেউ তো হলফ করে কিছু প্রমাণ করতে পারবে না। তাই আমার মনে হয় নাস্তিকরা আস্তিকদের তুলনায় বোকা।
সায়েম হক বলেছেন:
কোই রে নাস্তিকের দল........
এস্কিমো বলেছেন:
ভালই বলছেন। তবে বোকা শব্দটা আপেক্ষিক - সরাসরি হিসাব করা ঠিক না। নাস্তিকদের হিসাবে হয়তো আস্তিকরাই বোকা।
আপনার বেনিফিট অব ডাউট থিয়োরিটা ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ!
গিফার বলেছেন:
সুন্দর পোস্ট তবে ব্লগে কিন্তু অনেক নাস্তিক আছে এর জন্য সাবধান...
লেখক বলেছেন: হুমম!! তবে নাস্তিকদের জন্য ই পোস্ট টি লেখা ।
সুশীল সমাজ বলেছেন:
শুনেন, আস্তিকতা অবশ্যই ভালো। কিংতু খারাপ হলো আস্তিকতার নাম দিয়ে মানবতা বিরোধি কাজ করা। বুঝছেন ভাইযান?
লেখক বলেছেন: খারাপ বলেন নাই!
আরিফুর রহমান বলেছেন:
সাবধানের কিছু নাই, পোস্ট ঠিক আছে... আস্তিকের কাছ থেকে এই ধরনের সরলীকরনের বেশি কিছু কেউ আশা করে না কিনা!
সুশীল সমাজ বলেছেন:
নাস্তিকতার নামে মানবতা বিরোধি কাজ হইছে এরকম কয়েকটা উদাহরন দেন ভাইজান।
এস্কিমো বলেছেন:
যেই মানবতা বিরোধী কাজ করুক - তাই খারাপ হবে - এখানে আস্তি নাস্তিক বলে পার পাওয়া যাবে না। লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লিংকটি দেবার জন্য! ভলঅ লাগলো কনসেপ্ট হবার জন্য। আপনার পোস্ট টি আগে দেখিনি।
রাঙা মীয়া বলেছেন:
প্রত্যেকের ঈশ্বর বিশ্বাসটা একান্ত ব্যাক্তিগত। এই ব্যাপারটা আসলে তুলনা করাটা ঠিক হল না। আর কাউকে বোকা মনে করাটা ভুল। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের অবস্হান ও সেন্সে সঠিক।
লেখক বলেছেন: তা হয়তো ঠিক! কিন্তু সত্য কখনো দু মুখো হতে পারে না। অবশ্যই একটি পথ সঠিক!
আরিফুর রহমান বলেছেন:
"যদি সত্যিই ঈশ্বর থাকে......"এর মানে হৈলো আপনার 'বিশ্বাস' আসলে পোক্ত না! এইটা তো একধরনের 'সংশয়বাদ' হয়া গেল! তবে সুবিধাবাদী টাইপ!
পরকালের লোভেই তাইলে আপনে এইসব করেন? ইশ্বরের উপ্রে 'বিশ্বাস' কৈরা না!!
এই তাইলে আস্তিকগো অবস্তা!!
লেখক বলেছেন: প্রতিটি বিশ্বাসের বেজটা সংসয় থেকেই শুরু হয়! সংসয় আছে বলেই প্রশ্নের অবতারনা হয় মেন। তখন সত্য মিথ্যা যাতনা তীব্র হয়। আর পরকালের লোভের চেয়ে নরকের যাতনার ভয়টাই মনে হয় বেশি কাজ করে!
গিফার বলেছেন:
সাবধানের কিছু নাই, পোস্ট ঠিক আছে... অবশ্যই সাবধান হওয়ার দরকার আছে কে কখন চিক দিয়ে উঠে এটা তোহ বড় সমস্যার ব্যাপার তাই নাহ?
আশাবাদী!! বলেছেন:
হুমমমম সুবিধাবাদী হতে চাইলে কিছু বলার নেই। আমি সংশয়বাদী তাই আমি আমার চান্স নিতে আগ্রহী।
তবে আমি যদি কোন পূন্য করে থাকি সেটার ফল কি ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী বেহেস্তে যাবার কথা। কারন দোযখের শাস্তি সীমিত এবং এরপর অশেষ বেহেস্ত।
তাই আমার ক্ষেত্রেও বেহেস্তর সুখ বরাদ্দ আছে। নিজেকে বোকা মনে হচ্ছে না আর।
রেদওয়ান রনি বলেছেন:
ভাইজান আপনি শুধু একটা অপশন খোলা রাখার জন্য ঈশ্বর বিশ্বাস করেন তাইলে ব্যাপারটা কি সত্যি বিশ্বাস হইলো?
লেখক বলেছেন: বিশ্বাস যখন ভাষায় ব্যাক্ত করা যায় না তখন এভাবে সরলিকরন ব্যাখ্যা ছাড়া উপায় থাকে না। তবে এই সরলিকরন ই যে বিশ্বাসের একমাত্র সম্বল সেটা ঠিক না। এটা একটা নমুনা মাত্র! ধন্যবাদ।
বাফড়া বলেছেন:
এইটারে আস্তিক্যতা / আস্তিকতা না বইলা সুবিধাবাদ বলাই শ্রেয় মনে অইতাছে
লেখক বলেছেন: যা বুঝেন!
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
স্বার্থের সাথে বিশ্বাস-অবিশ্বাসকে মিলিয়ে ফেলা হাস্যকর লাগছে। পরকালের কথা ভেবে না জেনে না বুঝে, শুধু লোভের কারণে একটা অজানা ব্যাপারকে বিশ্বাস করছেন কেমন করে!
কোন কিছু বিশ্বাস করা পূর্বশর্তই হলো তা জানা। জানার পরই কেবল আপনি মানতে পারবেন - এটাই বিশ্বাসের ভিত্তি। ধরা যাক সকালে পেপার পড়ছেন, আপনার ভাতিজা এসে বলল চাচ্চু চাচ্চু, আমাদের মাঠে না একটা হেলিকপ্টার ভেঙ্গে পড়েছে। আপনি তার এ কথা বিশ্বাস করবেন কিনা তা আপনি কিভাবে নির্ধারণ করবেন? সুন্দর হেলিকপ্টারে চড়ার দুর্বল চান্স আছে - তাই বিশ্বাস করবেন যে ওর কথা সত্যি? নাকি মনে করার চেষ্টা করবেন, ভারী কিছু পরার কোন শব্দ পেয়েছিলেন কিনা? অথবা জানালা খুলে একটু উঁকি দিয়ে দেখবেন আসলেই কিছু আছে কিনা?
যদি দেখেন আছে, তাহলে তো সমস্যা মিটে গেল, জানলেন এবার ভাতিজার কথা মানতে বাঁধা নেই, ওটাই বিশ্বাস। যদি দেখলেন কিছুই নেই, সেক্ষেত্রেও কি শুধু অলীক লোভের কারণে বিশ্বাসকরে বসে থাকবেন যে মাঠে হেলিকপ্টার পরেছে?
আস্তিক আর নাস্তিক মানুষেদের একটা ব্যাসিক পার্থক্য হচ্ছে আস্তিকেরা নাস্তিকদের চেয়ে লোভী বেশী।
লেখক বলেছেন: আস্তিকদের লোভী কেনো বলছেন বুঝতে পারছি না। বিপরিত দিকটা কেনো ভাবছেন না? আমি তো স্বরগের প্রাপ্তির চেয়ের নরকের অনল দাহন নিয়ে ভিত বেশি!!
বাফড়া বলেছেন:
বস যদি এইরকম আরো কয়েকটা থিয়োরি দিতে পারেন তাইলে ম্যাকিয়াভেলিরে ছাড়ায়া যাইতে পারবেন
লেখক বলেছেন: ম্যাকিয়াভেলি কি জিনিস?
বাফড়া বলেছেন:
আগের কমেন্ট @ লেখক
লেখক বলেছেন: আপনি ডিপলি ভাবেন দেখবেন হাতের অস্র খুব একটা বেহসি নেই!
বাফড়া বলেছেন:
@ হটডগ- গুরু, আপ্নার দরদী বলেই আপ্নেরে সে এই আইডিয়া দিলো। আর আপ্নি হেরে লয়া হাসতাছেন। দুনিয়ায় ক্রিতগ্যতা বইলা কিছু নাই
নেমেসিস বলেছেন:
সামহ্যয়ারিন মজার আরেক্টা নমুনা
একজন ব্লগার বলেছেন:
পুরান জিনিস। এই কথা বইলাই কোন নবী যেন তার গোত্রকে বুঝাইছিলো কথা। সবাই তারেঁ বল্ল- আল্লাহ বলতে কেউ নাই (নাইযুবিল্লাহ), তিনি তাদের বোঝানোর সব চেষ্টা করে যখন হাল ছেড়ে দিতে যাবেন, তখন বলেন- "না থাকলে তো তোমরাও বাইচাঁ গেলা। কিন্তু যদি থাকে? তখন কি করবা?"
লেখক বলেছেন: ব্যাপারটা সামান্য হলেও উই হ্যাভ নো চয়েছ। ভালো করে ভেবে দেখেন!
এস্কিমো বলেছেন:
আস্তিক আর নাস্তিক মানুষেদের একটা ব্যাসিক পার্থক্য হচ্ছে আস্তিকেরা নাস্তিকদের চেয়ে লোভী বেশী। - এই বিষয়টা তো আগে লক্ষ্য করিনি। বেশ মজার তো। ধন্যবাদ @প্রশ্নোত্তর
দস্যু বনহুর বলেছেন:
"আর যদি ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব না থাকে তাহলে, আস্তিক বা নাস্তিক কারো ই হারানোর কিছু নাই " - হারানোর কিছু নাই মানে? এতো রক্তপাত, সময়, শ্রম ও অর্থের অপচয় আপনার কাছে "কিছু না" বলে মনে হয়? লেখক বলেছেন: হারানো বলতে এখানে আমি পরকালের ব্যাপারটাকে মুখ্য ধরেছি!! ওয়ান্স আপনি পরকালে বিশ্বাস করবেন তখন আপনার চিন্তার বাউন্ডারী মৃত্যু পরবর্তী
জীবনকে নিয়ে হবে। এই দুনিয়ার ক্ষুদ্রজীবনের দু:খ, সুখ, পাওয়া না পাওয়া তখন অতি ক্ষুদ্রবলে নেগলিজীবল মনে হবে! জানি না পয়েন্ট টা বুঝাতে পেরেছি কিনা!
হটডগ বলেছেন:
বিশাস না করলে সাস্তি দিব কেন? ইসবরের ঐখানে প্রতিনিয়ত তেল মর্দন লাগে ক্যান? না করলে বিলাই বেজার? হালার পুতেরে তেলের উপর রাকতে হইব? আমারে রহম কর, আমারে ক্ষমা কর, তুমিই দুনিয়ার সব্বো সক্তিমান - এগুলান তেলাতেলি হুনার জন্য হেয় এতটাই পাগল যে না কইলে আমারে আগুনে পুরায়া, সর্প দিয়া দংশন কইরা মারবো? গুস্টি ূি এমন ইসবরের।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্ন গুলো আগোছালো হলেও ভালো প্রশ্ন করেছেন। আসলে সৃষ্ট আর স্রষ্টার রিলেশন কে আপনি ম্যানমেড সফটওয়ার হিসাবে কল্পনা করতে পারেন। ধরেন আপনি সফটওয়ার এর জাস্ট একটি হিুউম্যান ক্যারেক্টার। আপনার বুদ্ধিমত্ত্বা সফটওয়ার ডেভেলপার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ইচ্ছা করলেই যখন তখন আপনি তার দ্বারা ডিলিটেড (মারা যাওয়া) হতে পারেন। হয়তো গড আপনাকে ডিগরি অফ ফ্রিডম একটু বেশি দিয়েছে ফলে আপনি আপনার মনে ভাব প্রকাশ করতে পারেন স্বাধিন ভাবে। আর ঈশ্বরের নিকট এটা হয়তো একটা পরিক্ষা টু চেক হাউ ক্রিয়েশন ওয়ারকস হোয়েন গিভেন দ্যা ১০০% ফ্রিডম অফ চয়েছ। আমরা আমাদের জন্ম মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। অথচ এই দুটাই সবচেয়ে গুরুত্বপুরনো বিষয়ে যেকোনো প্রানীর জন্য। তাহলে আমাদের এত বড়ো বড়ো থিওরী ডেভেলপ করার মানে কি?
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বুদ্ধিমানরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে নাঅগ্নি অধিরূঢ় ( Click This Link)
আজ ২৪ জুন ২০০৮ তারিখের টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রফেসর রিচার্ড লীন (Lynn) এর একটি বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে। এর শিরোনাম Intelligent people less likely to believe in God। প্রফেসর লীন মনে করেন ধর্মীয় বিশ্বাস বিংশ শতাব্দীতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। উলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার এমিরেটস অধ্যাপক বলেন -সাধারণত যা মনে করা হয় অর্থাৎ গড় ধারণার চেয়ে বেশিসংখ্যক বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী মানুষ নিজেকে নাস্তিক মনে করেন। এমনকি সাধারণ মানের বুদ্ধিমান মানুষদের মধ্যে ধর্মকে অস্বীকার প্রবণতা পূর্ববর্তী শতকগুলোর তুলনায় গত শতকে অনেক বেড়েছে।
প্রফেসর লীন বুদ্ধির সাথে লিঙ্গ ও জাতিগোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে অসংখ্য বক্তব্য রেখেছেন। একাধিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশাজীবীরা অন্য যে কারও চাইতে ঈশ্বরে কম বিশ্বাস করেন।
এক জরীপে দেখা গেছে রয়াল সোসাইটির ফেলোদের মধ্যে মাত্র ৩.৩% ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। অথচ সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের শতকরা ৬৮.৫ ভাগ মানুষ নিজেকে বিশ্বাসী বলে মনে করে। ৯০ এর দশকে নেয়া আর একটি ভোটে দেখা গেছে আমেরিকার ন্যাশনাল একাডেমী অব সাইন্স এর সদস্যদের মধ্যে মাত্র ৭ জন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে।
প্রফেসর লনি মনে করেন বেশিরভাগ প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তাদের বুদ্ধি যখন বাড়তে থাকে তখন তাদের মনে সন্দেহ ঢুকে যায়। তিনি 'টাইম উচ্চশিক্ষা ম্যাগাজিন'কে বলেন- সাধারণ মানুষের চাইতে তুলনামূলকভাবে কম বুদ্ধিবৃত্তিক পেশাজীবী ঈশ্বরে কেন বিশ্বাস করে? আমার দৃঢ় ধারণা এর কারণ হল আই কিউ। শিক্ষক বা পণ্ডিতদের আই. কিউ. সাধারণ মানুষের চাইতে বেশি থাকে। বিভিন্ন দ্রুত নেয়া জরীপে দেখা গেছে একটু বেশি আই কিউ যাদের, তারা ঈশ্বরের অস্তিত্বে সন্দেহ করেন। তিনি আরও বলেন -গত শতকে মানুষের আরও বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার সাথে সাথে ১৩৭টি উন্নয়নশীল দেশেগুলোতে ঈশ্বরে অবিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রফেসর লীন এর বক্তব্যের সাথে ভিন্নমত পোষনকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়। তারা নিজ অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গী থেকে লীন এর মন্তব্যের সমালোচনা করছেন। লন্ডনের বার্কবিক (Birkbech) কলেজের 'ধর্ম ও তুলনামূলক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক প্রফেসর গর্ড লিনচ বলেন -এটা (লীন এর বক্তব্য) জটিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর প্রতি ততোটা মনোযোগী ছিল না। তিনি আরও বলেন ধর্মীয় বিশ্বাস ও বুদ্ধিবৃত্তিকে এইভাবে সম্পর্কিত করা একটি বিপদজনক প্রবণতাকে উসকে দিতে পারে। সাধারণ মানুষ ধর্মকে আদিম বলে মনে করতে পারে। অথচ বর্তমানে বৈচিত্র্যময়, বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জটিলতা নিয়ে এক কষ্টসাধ্য সমস্যার মধ্যে আছি। তার বক্তব্য (লীনের) আমাদেরকে হয়ত খুব একটা সাহায্য করবে না।
লীডস বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্রিস্টিয় ধর্মতত্ত্ব বিভাগের সিনিয়র লেকচারার বলেন আলোচ্য বক্তব্যটির উপসংহার হল "এটা (লীনের বক্তব্য) ধর্মবিরোধী মানসিকতাসম্পন্ন পশ্চিমা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার এক সামান্য উদাহরণ"।
লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান লেকচারার ড. ডেভিড হার্ডম্যান বলেন আই কিউ এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্কের মধ্যে সত্যিকারের গবেষণা চালানো খুব দুরূহ একটি ব্যাপার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর বিপরীত উদাহরণের সংখ্যা মোটেও কম নয়। দেখা গেছে উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমানরা বেশি সামর্থ্য ও হয়তো বেশি ইচ্ছাশক্তির অধিকারী। তারাও প্রশ্ন করেছে এবং উল্টোপথে ঘুরে এসে বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতকে শক্তিশালী করেছে।
প্রিয় পাঠক আপনি কি মনে করেন? আপনার কি ধারণা? সন্ধ্যা ৭.৩০ এ এই লেখাটি প্রস্তুত করার সময় টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এই খবরটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ২৭৩ জন।
প্রতিক্রিয়াগুলো পড়ুন এখানে (Click This Link)
লেখক বলেছেন: নাস্তিক ভাই,
আমার ব্লগে আসার জন্য ধন্যবাদ। আমার আগের পোস্টে আপনার কমেন্টের জবাব দিবো আশা করি শীঘ্র।
এনিওয়ে, আপনার উপরের কমেন্টে কি আমি কিছু বলবো ? যদি কিছু মনে না করেন একটা জিনিস বলতে চাই, রেফারেন্স টানা একটা খুব ইম্পরটেন্ট বিষয়, ধরেন আপনি কার রেফারেন্সের উপর বেশী আস্থা রাখবেন সেটার কথা বলছি। ইরানিয়ান রিসাচারসরা বের করলো হিটলারের ইহুদি নিধনের হলোকাষ্ট অনেকটাই সাজানো। ডু ইউ বিভিল ইট? ইফ নট দ্যান হোয়াই নট। অথবা টুইন টাওয়ারের ঘটনা। যাহোক প্রাসংগিক কথায় আসি। আপনি হয়তো জানেন আবু জাহেল ছিলো মুহাম্মদ স. সময়কার একজন টপ গ্যানি লোক কিন্তু নবীর দিস্টিতে সে ছিলো নিরবোধদের সরদার। নাউ কোয়েস্চেন হলো মুহাম্মদ (স.) এর মতো একজন লোক কেনো জেনেশুনে তাকে নিরবোধ বল্লো?
আমার কাছে মনেহয় ঈশ্বরে বিশ্বাসের বিষয়টি গতানুগতিক বুদ্ধীমত্তার মাপকাঠিতে যাচাই করলে ভুল হবে। কারন এটা অক্সফোরডের পিএইচডি থিসিসের মতো গভেষণার বিষয় না। এটা ইউনিভারসাল সমাজের সবচেয়ে উচু মানুষের জন্য যেমন সত্য তেমনি লোয়েস্ট ক্যাটাগরির মানুষের জন্য ও সত্য। কারন জন্ম -মিরিত্যু কাউকে রেহাই দেয় না। সো ঘুরে ফিরে এঈ প্রশ্ন সকল মানব মনে জাগে হাজার বা লক্ষ বছর ধরে , হোয়াটস গনা হ্যাপেন ওয়ান্স ঐ ডাই? উত্তর মেলে না। না মিলে বলেই ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে তাও নয়। কিন্ত ঈশ্বর নামক কিছু থাকার সম্ভবনা আরো আবেদনী হয়ে উঠে।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
আপনার কথাগুলো স্ববিরোধী। ঈশ্বরেরই যেখানে অস্তিত্ব থাকবে না সেখানে মৃত্যুর পর ইহকাল-পরকালের কথা আসে কোথ্থেকে? যে আপনি ইশ্বর আছে বইলা মারামারি কাটাকাটি করলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ কইরা উপাসনালয় বানাইলেন, জীবনের অর্ধেকটা সময় ইবাদত বন্দেগী কইরা কাটাইলেন, সেই আপনি যদি মৃত্যুর পর দেখেন ইশ্বর বইলা কিছু নাই, তাইলে ইহজনমে আপনের এতো শ্রম, এতো অর্থ, এতো সময় সব বৃথা হয়া গেল না??? আমি কি আপনাকে বুঝাইতে পারলাম?
লেখক বলেছেন: হ্যা ! ব্রাদার আমি বুঝতে পরেছি হোয়াট ইউ মিন। মারামারি কাটি আর পয়সা খরচ সামহাউ ইউল গো এজ ইট ইজ । ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেও এগুলো মানুষের ক্যারেক্টারে থাকবে আর না করলেও থাকবে। আলটিমেটলি ইউ হ্যাভ নো চয়েছ।
লেখক বলেছেন: কেন ব্রাদার আমি কি ভুল কিছু বল্লাম!
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনার গল্পটি হয়েছে অনেকটা এরকমঃ
এক ব্যক্তি দুটি ছেলেকে কিছু কাজ করতে দিয়ে বললেন- যে ভালো ভাবে করবে- তাকে একটি পুরষ্কার দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করায় উনি এমন একটি জিনিসের নাম বললেন যে, যেটি ছেলে দুটির কেউ কখনো চোখে দেখনি। তো একজন ভাবলো, কাজটি সম্পন্ন করলে তো সেটি পেলেও পেতেও পারি- ভেবে প্রাণান্ত চেষ্টা করে কাজটি সমাধা করতে লাগলো।
লোকটি যে পুরষ্কারের নাম বলেছিল সেটি হলো অশ্ব ডিম্ব।
এবং যে ছেলেটি তা অর্জন করার উদ্দেশ্যে প্রাণান্ত পরিশ্রম করছিল- একসময় সে অপরজনকে মারাত্মক বোকা ভাবতে লাগলো এই যুক্তিতে যে, অশ্ব ডিম্বের ব্যাপারে নিশ্চিৎ না হলেও- এটা পাওয়ার সম্ভাবনা তো পুরষ্কারদাতার শর্ত পালনকারীরই!!
এবং এরকম প্রাণান্ত চেষ্টার কারণে একসময় ছেলেটির মধ্যে এই বিশ্বাসও চলে আসে যে, নিশ্চয়ই অশ্ব ডিম্ব বলে কিছু আছে- এটা দারুণ মোহনীয় বা লোভনীয় ধরণের কিছু একটা হবেই হবে।
লেখক বলেছেন: আমার মনে হচ্ছে আপনি আপন ছারকেলে ঘুরপাক খাচ্ছেন। অশ্বডিম্বের কনছেপ্ট আপনার মাথায় এসেছে কারন আপনি প্রিডিটারমাইন্ড সো কল্ড মোল্লাদের মতো। আপনি সিম্পলিফাইড ওয়েতে ভাবেন দেখবেন সরল ইকুয়েশন বুঝতে অত মস্তিস্ক ঘটানোর দরকার পড়বে না। অশ্বডিম্ব যে অশ্বডিম্ব ই হবে সেটা সিউর হলেন কিভেবে?
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আমি তো স্বরগের প্রাপ্তির চেয়ের নরকের অনল দাহন নিয়ে ভিত বেশি!!
========>>>>>>>>>>
ভাই, জানেন বোধ হয় বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর জন্য রাতে অনেক বাবামাই ভুতের - দৈত্য- দানবের ভয় দেখায় (না ঘুমালে বাইরে রাতে ভুত ঘুরে বেড়াচ্ছে, এসে ধরবে... এই টাইপের!!)। বাচ্চারা ভয়ে জড়োশড়ো মায়ের হয়ে কোল ঘেষে শুয়ে- চোখ বন্ধ করে ফেলে, ঘুম আসুক আর না আসে।
এরপরে যখন একটু বড় হয়- অনেকের কাছে শুনে যে, এ ধরণের ভূত-দৈত্য-দানব বলে কিছু নেই- তখনও তার ভয় পুরো কাটে না। মায়ের সাথে বা বাবা-ভাই-বোনের সাথে হয়তো সহজেই শুতে পারে, কিন্তু একা থাকলে- বা অন্য সকলে ঘুমিয়ে পড়া অবস্থায় একা জেগে থাকলে বুক দুরু দুরু করে কাপতে থাকে- ভয়ে আগের মত চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে; একবার সাহস আনার চেস্টা করে এভাবে যে "নাহ এসব দৈত্য দানব বলে কিছুই নেই"- পরক্ষণেই আবার ভাবে- "যদি কিছু একটা এরকম থেকেই থাকে"!!!
----------->>>>>>>
শুনেন, এমন বালকসুলভ ভয় অথবা লোভ এই দুই দিয়ে আর কতদিন মিথ্যার পেছনে ছুটবেন, অন্যকেও ছুটাবেন???
লেখক বলেছেন: আপনি একটা ভুল করছেন ভয় কে কেন্দ্র করে কথা বলে। মিরিত্যু ভু আর ভুত পেতনির ভয় কে এক করে ফেলে। আপনি কি একটা বিষয় খেয়াল করে না, যে আপনি যখন অসুস্থ হন (ধরে নেন মরাত্বক অসুখ) তখন আপনার মনে কি ভয় জন্মে না? সেটা কিসের ভয়? সেটা কি রিয়েল ভয় নাকি সাজানো নাটক? আমার তো মনে হয় এটা মানুষের সহজাত একটি প্রবৃত্তি হুইচ নো ওয়ান ক্যান এভয়েড। আপনি হিসটোরিক্যাল গ্রেট নাস্তিকদের কথা বাদ দেন। সদ্য প্রয়াত দেশীয় নাস্তিকদের কথা ধরুন, ( হুমায়ুন আজাদ, শামসুর রাহমান) এরা মিরিত্যু সয্যায় দেখেন দেশবাসীর কাছে দোয়া চায়? প্রশ্ন হলো দোয়া ফর হোয়াট এর টু হুম এন্ড হোয়াই? তাদের ভয়ের কারন কি?
আপনি হয়তো দুএকজন সাহসি কমরেড দের নাম বলবেন (যেমন করনেল তাহের) যারা নিশ্চিত মিরিত্যু জেনেও কোনো ভয় পায় না বলে ভাব দেখিয়েছে। তাদের ইমোশনের প্রেজেন্টেশনের পিছনে লান্ছনা বা আনজাস্টিফাইট সমাজের ধিক্কার হয়তো ক্ষনিকের জন্য মিরিত্যু ভয়কে জয় করতে সাহাজ্য করেছে। কিন্তু ইু নেভার নো ডিডথি অর দে রিয়েলি নেভার গট ফ্রাইটেনড!
লেখক বলেছেন: আপনি ভুল করছেন!
আরিফুর রহমান বলেছেন:
হুমায়ুন আজাদ দোয়া চাইসিলো?
লেখক বলেছেন: মৌলি আজাদ মারফত সেরকম খবর ই এসেছিলো প্রত্রিকার পাতায়!
আরিফুর রহমান বলেছেন:
হাহাহাহ, কোন পত্রিকা?
লেখক বলেছেন: ত্বদানিন্দন একটি জাতীয় পত্রিকা....যেটি আমি পড়েছি। তবে সবগুলো ন্যাশনাল পত্রিকায়ই আসা টাও অস্বাভাবিক নয়।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনি তো দেখলাম- নরকের আগুনরে ভয় পান কইলেন!!!
মরণরে ভয় পান- এ পর্যন্ত থাকলে তাও এককথা ছিল!!!!
সেটা নরকের ভয়ের চেয়ে বেটার- অনেকেই পায়।
লেখক বলেছেন: আপনাকে একটু রাগ রাগ মনে হচ্ছে আজকে। এনিওয়ে পরে কথা হবে। আজকে গেলাম!
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
হু আ এর বড় ঘাটতি আমার মনে হইছে- বাড়িটাকে সাইজ করতে পারেনি। (অনেকেই অবশ্য আমার সাথে দ্বিমত করেছিল- তাদের মত, হু আ এর স্ত্রী-সন্তান কিরকম হবে না হবে সেটার উপর কোন চাপাচাপি হু আ করতে পারে কি?)
হু আ মরণের পর মৌলি ও তার মায়ের আচরণে যথেস্ট বিরক্ত ছিলাম। জুনায়েদের কথা শুনে সেসময়ের কথা মনে পড়ে গেল!!!
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
কিন্তু, কোন নাস্তিকের আস্তিক মেয়ে যদি দোয়া চায় সেটাকে কি নাস্তিকের আস্তিক হওয়া প্রমাণে যথেস্ট???
আরিফুর রহমান বলেছেন:
দোয়াটা যদি মৌলি চায় আর সে আস্তিক হয় তাতে হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কে কিভাবে "মিরিত্যু সয্যায় দেখেন দেশবাসীর কাছে দোয়া চায়"বলা যায়?
ব্যাপারটা মিথ্যাচার হয়ে গেল না?
লেখক বলেছেন: আইদার ওয়ে পসিবিলিটি লে'স অন!
আলোচনাটা ভালই লাগলো। দেখি লেখক কতদুর নিয়ে যেতে পারে। তবে মনে হয় না বেশীদুর নিয়ে যেতে পারবে। কারণ নাস্তিকরা যখন দেখে যুক্তিতে পারছে না তখন তারা পরিবেশকে উত্তপ্ত করে আলোচনা আসর নষ্ট করতে উদ্যোত হয়। যেমনটি করার চেষ্টা করছে এই ব্লগে নাস্তিতে মৌলবাদী সরদার আরিফ। ওর এই উক্তি দেখলে তাই অনুমান করা যায়।
আরিফুর রহমান বলেছেন: ত্বদানিন্দন ???? নাকি তদানিন্তন
ও বরাবরই এধরনের চেষ্টা করে আসছে কারণ আলোচনার প্রবাহ ধারাটা অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্যে। আশাকরি লেখক সতর্কের সাথে আলোচনা এগিয়ে নেবেন।
আলোচনায় আমারও অংশ গ্রহনের ইচ্ছা আছে। অপাতত পছন্দের পোস্টে রাখলাম। পড়ে অংশগ্রহন করবো।
নাধ কেমন আছেন? আপনার কাছ থেকে আমার পত্রের উত্তর কিন্তু এখনও পেলাম না। আপনার উত্তরে অপেক্ষা করছি। আর আশাকরি এখানেও যুক্তিযুক্ত বিতর্কের দ্বারা লেখককে বুঝাতে সক্ষম হবেন যে নাস্তিকরাই আস্তিকের চেয়ে জ্ঞানী।
লেখক বলেছেন: আমি ছাত্র তবে গনিতের না।
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন:
নাস্তিকরা কখনই আস্তিকদের ধর্ম পালনের বিরোধীতা করেছে বলে জানা নেই। যদি বিরোধীতা করেই থাকে তা হচ্ছে ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে অযাচিত সুবিধা নেয়ার প্রয়াসকে।আপনার অংকের হিসাব খুব ভালো। ভালো সুদী কারবারী হতে পারবেন।
লেখক বলেছেন: আস্তিকতা সিম্পলি ইনক্লাইনড টু বি মোর একসেপ্টেবল ফর ছাম আনএভয়েডেবল রিজন! দ্যাটস ইট!!
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
ধন্যবাদ আস্তিকতার পক্ষে আপনার অবস্থানের জন্য। কিন্তু আপনি আস্তিকতাকে এতটা হালকা ভাবে দেখছেন কেন? একক ইশ্বরের অস্তিত্ব ছাড়া তো এই বিশ্ব জগতের সৃস্টি রহস্যই সমাধান করা যায় না। এ'ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আছে এখানে - Click This Linkপড়বেন আশা করি।
তবে সংক্ষেপে সৃস্টি রহস্যের ব্যাপারে কথা হচ্ছে - একটা মৌলিক বিষয় আমরা জানি এবং মানি - কার্যকারণ ছাড়া এই জগতে কিছুই ঘটে না। আমার টেবিলের উপর রাখা কলমটা শতভাগ নিশ্চয়তার সাথে প্রমান করে যে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একটি কলম ফ্যাক্টরী আছে। এখন এই সুত্রকে যদি আমরা বর্ধিত করতে চাই তাহলে এভাবে চিন্তা করতে পারি - ক যদি একটি বস্তু হয় যার অস্তিত্বের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত তাহলে এটাও নিশ্চিত যে খ এমন একটি কিছু(হতে পারে বস্তু, শক্তি, প্রকৃয়া) আছে যা ক এর বর্তমান অবস্থার জন্য দ্বায়ী, বা খ হচ্ছে ক এর স্রস্টা। যেমন কলম ফ্যাক্টরী কলমের স্রস্টা। এখন যেহেতু খ এর অস্তিত্ব প্রমানিত সুতরাং সেই একই সুত্র অনুসারে গ এমনকিছু আছে যা খ এর স্রস্টা। এভাবে অগ্রসর হতে থাকলে একটি অসীম চক্র পাওয়া যাবে - যার সমাধান বিজ্ঞানের পক্ষে সম্ভব নয়। বিজ্ঞান যখনই বিগব্যাংকে বিশ্ব সৃস্টির কারণ বলে প্রমান করেছে তখনই প্রশ্ন তৈরী হয়ে গেছে বিগব্যাংএর স্রস্টা কে? সুতরাং বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হোক - এই স্রস্টা কে? প্রশ্নের সম্পুর্ন উত্তর সে কখনই দিতে পারবে না - সে যে কোন একটা পর্যায়ে এসে বলতে বাধ্য হবে যে "আমি জানি না"।
এখন যদি আমরা এই সৃস্টি রহস্যের সমাধান করতে চাই তাহলে উপায় কি? উপায় একটাই - এই অসীম চক্রের শেষে এমন একজনকে মেনে নেয়া যার আর কোন স্রস্টা নেই - তাহলে এই চক্র সেখানে থেমে যাবে এবং আমরা বলতে পারব সৃস্টির সুচনা তিনিই করেছেন। এখন প্রশ্ন হতে পারে এই জগতের কোন কিছু যখন স্রস্টা ছাড়া সৃস্ট হতে পারে না তখন সেই স্রস্টা কিভাবে স্রস্টা ছাড়া সৃস্ট হবেন? উত্তর হচ্ছে - তিনি এই বিশ্বজগতের অংশ নন - এই চতুর্মাতৃক বিশ্বজগতের বাইরে বলেই তাঁর পক্ষে স্রস্টা ছাড়া থাকা সম্ভব।
সুতরাং স্রস্টার অস্তিত্ব ছাড়া সৃস্টি রহস্যের সমাধান সম্ভব নয়। আপনি যদি সৃস্টি রহস্যের সমাধান না চান - তাহরে এটা বলতে পারেন যে "আমি যেহেতু এই অসীম চক্রের সমাধান করতে পারছি না সেহেতু আমি জানি না স্রস্টা আছে কি নেই"। কিন্তু আপনি সমাধান করতে পারছেন না বলেই যে স্রস্টা নাই তা নিশ্চিত করে কখনই বলতে পারবেন না। অথচ আমাদের নাস্তিক বন্ধুরা সেটাই বলে। সৃস্টি রহস্য সমাধানের ক্ষেত্রে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার না করে, কোনরুপ বৈজ্ঞানিক প্রমান ছাড়াই "স্রস্টা নাই", এই বিশ্বজগত এমনি এমনি তৈরী হয়েছে, মানুষের জীবনের কোন লক্ষ নাই, এমনি এমনি জন্ম-আর মৃত্যুর পরই সব শেষ - এধরনের অযৌক্তিক বিশ্বাস নিয়ে নিজেদের খুব বুদ্ধিমান বলে দ্বাবি করা কতটুকু যৌক্তিক সেটাই বড় প্রশ্ন।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
+
সিন-লাম-মীম বলেছেন:
আস্তিক আর নাস্তিক মানুষেদের একটা ব্যাসিক পার্থক্য হচ্ছে আস্তিকেরা নাস্তিকদের চেয়ে লোভী বেশী।
মোহাম্মদ আসিফ উল হক বলেছেন:
কাঙ্গাল মুরশিদের কমেন্টকে প্লাস।
সুশীল সুমন বলেছেন:
স্বর্গ ও নরক একটি সন্দেহবোধক ধারনা। এদুটি জিনিস থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। এই সম্পর্কে মোটামুটি তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ১. স্বর্গ ও নরক রয়েছে যথাক্রমে ধর্মবিশ্বাসী ও তাতে অবিশ্বাসীদের জন্যে। অবশ্য ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে যারা পাপী তারা নরকে গেলেও শাস্তি ভোগের পর স্বর্গে ফিরে আসবে। এবং তাতে অনন্ত কাল থাকবে। পক্ষান্তরে ধর্মে অবিশ্বাসীরা চরিত্রবান ও মানবতার সেবক হলেও নরকে যাবে এবং তাতে অনন্ত কাল থাকবে।
২. স্বর্গ ও নরক বলে কিছুই নেই।শুধু মাত্র লোকদেরকে অন্যায় থেকে ফেরানোর জন্যে এটি পাতা হয়েছে।
৩. পাপ পূণ্যের জন্যে রয়েছে জম্মান্তরের ব্যবস্থা, স্বর্গ নরক নয়।
প্রথম দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়েই আমি বলতে চাই, যদি স্বর্গ নরক থাকে,তবে স্বর্গে শুধু চরিত্রবান ও মানবসেবাকারীরাই যাওয়ার কথা, হোক সে ধর্মে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী। তেমনি নরকে শুধু চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুরাই যাবার কথা। হোক সে ধর্মে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী। কেননা স্রষ্টা নিশ্চয়ই এমন সংকীর্ণমনা নন যে কেউ তাকে না মানলে বা তার পুজো না করলে তিনি তাকে নরকে ভরে দেবেন। তিনি নিশ্চয় মানুষের ভালো চান। এবং মানুষকে ভালো দেখতে চান। তাই মনে হয় ধার্মিক চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুদেরকে স্রষ্টা বেশি শাস্তি দিবেন। যেহেতু তারা স্রষ্টার পরিচয় ও আদেশ জেনেও এবং তা মানার অঙ্গীকার করেও অপরাধ করেছে। এরুপ অপরাধ অবশ্যই তাদের চেয়ে জঘন্য যারা স্রষ্টার অস্তিত্বকে সঠিক মনে না করার কারনে এরুপ কোন দায়বোধ অনুভব করার কথা নয়। সুতরাং ধর্মে অবিশ্বাসের চেয়ে বিশ্বাসই বেশি ভাল কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুরাই অধিক নিকৃষ্ট। আর চরিত্রবান ও মানবতার সেবকরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। ধর্মে বিশ্বাসী হোক অথবা না হোক।
কারন ধর্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে নৈতিকতার বিকাশ সাধন।

















