লোকটাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগলো কিন্তু চিনতে পারলাম না। বেশ বড় জায়গায় আমরা সব বাংগালী বাংলাদেশিরা সুতরাং কথা বুঝতে কোনই সমস্যা হচ্ছে না। হটাৎ দেখলাম প্রেসিডেন্ট জিয়া বেশ হন্তদন্ত হয়ে হেটে যাচ্ছেন, পিছু নিলাম। জিয়া থামলেন কর্ণেল তাহেরের সামনে, বেশ তরল কন্ঠে কাকুতি করতে লাগলেন। মূল বিষয়বস্তু কর্ণেল তাহের তার ফাসির ব্যপারে যেন ভূল না বুঝেন, এই ব্যপারে ফেরেস্তাদের যেনো কিছু না বলেন। কর্ণেল তাহের অবশ্য মাথার লাল ফেটি লুকাতেই বেশি ব্যস্ত, শুনলাম লাল ফেটি ওয়ালাদের বাই রোডে হাবিয়া পাঠানো হচ্ছে। কোথা থেকে মওলানা ভাসানি এসে হাজির, খুক খুক করে কাসির সাথে বেশ রাগী রাগী গলায় বললেন শুনছিলাম সবার এক সাথে বিচার হইব এখন দেখি শুধু বাংগালী গো আলাদা রাখছে। দু চারটা পাক সেনারে এই সুজোগে মাইর দেওন যাইত। দু চার জন মুক্তিযোদ্ধারে দেখলাম বেশ মারমুখি ভন্গিতে পাক সেনাদের জন্য বরাদ্দ জায়গার দিকে ছুটে যাচ্ছেন। অবশ্য সব ফেরেস্তারা বিচার হবে বিচার হবে বলে তাদের শান্ত করছে। কোথা থেকে গুরুগম্ভির কন্ঠে আওয়াজ এলো অল্পখনের মধ্যেই বিচার শুরু হবে। আমার জানটা ধুক ধুক করে উঠল। আমার পাশের লোকটা বেশ নির্বিকার ভাবে বসে আছে, জিগ্গেস করালম আংকেল ভয় লাগছে না। জবাবে না সূচক মাথা নেড়ে বললেন পৃথিবীতেই ত দোযখে ছিলাম এর চেয়ে আর খারাপ কি হবে।
মানে আপনি দোযখের ভয় করছেন না কে ভাই আপনি?
আমি পরমানু বিগ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়া। এমন সময় বেশ হৈ চৈ দেখলাম, সিরাজ শিকদার আর তার বাহিনী বেশ তৎপর হয়ে কাওকে খুজছে। আমি ওয়াজেদ মিয়ার দিকে জিগ্গাসু দৃষ্টিতে তাকালাম, উনি হাসলেন। বললেন ওরা বন্গবন্ধুরে খুজছেন, তাদের মৃত্যর বিচার চাইবে। কিন্তু খুজে পাবে না।
আমি বললাম কেনো? উনি শুধু আন্গুল তুলে দেখালেন। ঠিক তখনি ধরতে পারলাম, বন্গবন্ধু মোছ কামিয়ে ফেলছেন গা ঢাকা দিতে। এইজন্য এত পরিচিত লাগছিলো। এমন সময় র্যবের পোষাকে কেও একজন আমার কলার ধরল, তুই এখানে কেনো? তোর ত পৃথিবীতে থাকার কথা। আমি প্রানপনে পালাতে চাই, চিৎকার করে বলতে থাকি ক্রসফায়ার ক্রসফায়ার।
এমন সময় ভেন্গে যায় ঘুমটা, দেখি মাটিতে শুয়ে গোন্গাচ্ছি। পাশের মেসমেম্বার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, মৃগি ব্যরাম আছে আপনার?
আমি খাতা বালিশ নিয়ে আবার বিছানায় উঠি, আহ কি শান্তি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

